সতেজ থাকুন দিনভর

সতেজ থাকুন দিনভর

 

গরমের মধ্যে একেবারে সতেজ থাকতে চান? কিংবা গরমে ত্বককে কুল বা ঠাণ্ডা রাখতে চান? এজন্য যা করবেন তা হলো—
* পানির মধ্যে চন্দন পাউডার মিশিয়ে ওই পানি গরম করে নিন। গোসলের পানির মধ্যে ওই পানি মিশিয়ে গোসল করুন। এতে আপনার মধ্যে দিনভর সতেজ ভাব বজায় থাকবে।
* গরমে ক্লিনজিং মিল্ক ব্যবহার না করে এস্ট্রিজেন ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর হয়ে যাবে।
* সুতি কাপড়ের মধ্যে বরফের টুকরো নিয়ে সারা মুখে মালিশ করুন। এরপর ৫ মিনিট বাতাসে মুখটা শুকিয়ে নিন। ঘাড়ের পেছনেও বরফের টুকরো দিয়ে মালিশ করুন।
 * ত্বকে স্কিন টোনার লাগান। এতে ত্বকের রোম ছিদ্র বন্ধ হয়ে যাবে। বেশি ঘাম হবে না।

Advertisements

উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে ভুল ধারণা ও সঠিক তথ্য

উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে ভুল ধারণা ও সঠিক তথ্য

ভ্রান্ত ধারণা ১ : ঘাড়ে ব্যথা মানেই উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ।
সঠিক তথ্য : ঘাড়ের ব্যথা থাকলেই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত এমন ধারণা ঠিক নয়। ঘাড়ে ব্যথা হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। খুব কম ক্ষেত্রেই উচ্চ রক্তচাপে ঘাড়ে ব্যথা হয়ে থাকে।
ভ্রান্ত ধারণা ২ : একবার উচ্চ রক্তচাপ মানেই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়া।
সঠিক তথ্য : একবার উচ্চ রক্তচাপ পাওয়া মানেই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত এটা ঠিক নয়। সুস্থ ও স্বাভাবিক রক্ত চাপের কারও কারও হঠাত্ কখনও উচ্চ রক্তচাপ পাওয়া যেতে পারে। সুস্থ অবস্থায় পরপর তিন দিন উচ্চ রক্তচাপ থাকলেই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ধরে নেয়া হয়।
ভ্রান্ত ধারণা ৩ : কাঁচা লবণ খেলে উচ্চ রক্তচাপ হয় তবে লবণ ভেজে খেলে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
সঠিক তথ্য : এটা একেবারেই ভ্রান্ত ধারণা। কাঁচা লবণ এবং ভাজা লবণের মধ্যে গুণগত কোনো পার্থক্য নেই। দুটোই উচ্চ রক্তচাপে সমান ক্ষতিকর।
ভ্রান্ত ধারণা ৪ : উচ্চ রক্তচাপ শুধু সমাজের উচ্চবিত্তদেরই হয়ে থাকে।
সঠিক তথ্য : এই ধারণাটি মোটেও ঠিক নয়। উচ্চ রক্তচাপে উচ্চবিত্ত, নিম্নবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত সবার আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সমান।
ভ্রান্ত ধারণা ৫ : উচ্চ রক্তচাপ বেশি বয়সের অসুখ অর্থাত্ বয়স্করাই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হন।
সঠিক তথ্য : যে কোনো বয়সের নরনারীই জীবনের যে কোনো সময়ে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে বিভিন্ন কারণে ৪০ ঊর্ধ্ব বয়সের নর-নারীর উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
ভ্রান্ত ধারণা ৬ : যাদের গায়ের রং ফর্সা (সাদা চামড়া) শুধু তারাই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হন।
সঠিক তথ্য : একথা মোটেই ঠিক নয়। উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে গায়ের রঙ, বয়স, লিঙ্গভেদ, ধর্ম, গোত্র, জাতীয়তা ইত্যাদির কোনোই সম্পর্ক নেই।
ভ্রান্ত ধারণা ৭ : খুব বেশি স্বাস্থ্যবান কিংবা অতিশয় মোটা মানুষেরাই উচ্চ রক্তচাপে ভুগে থাকেন।
সঠিক তথ্য : শুধু মোটা বা স্বাস্থ্যবান মানুষেরাই উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন এমনটি ভাবার কোনোই কারণ নেই। যে কোনো স্বাস্থের মানুষই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে স্বাস্থ্যবান বা মোটা মানুষের উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
ভ্রান্ত ধারষা ৮ : বেশি বেশি খাবার খেলেই বিশেষ করে চর্বিজাতীয় খাবার বেশি বেশি খেলে উচ্চ রক্তচাপ হয়।
সঠিক তথ্য : এ ধারণাটি সব সময় ঠিক নয়। বেশি বেশি খাবার খাওয়ার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। তবে চর্বিজাতীয় খাবার বেশি বেশি খাওয়া হলে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ভ্রান্ত ধারণা ৯ : যদি কেউ ৫৫ কিংবা ৬০ বছর বয়সেও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত না হন তবে তার বাকি জীবনে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার কোনোই আশঙ্কা নেই।
সঠিক তথ্য : এ ধারণাটিও ঠিক নয়। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, যে কোনো বয়সের নর-নারী জীবনের যে কোনো সময়ে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হতে পারেন। কাজেই ৫০ কিংবা ৬০ বছর পেরোলেই ভাববেন না আপনি উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিমুক্ত। বরং উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকুন।
ভ্রান্ত ধারণা ১০ : উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যাক্তির রক্তে চর্বির (কোলেস্টেরল) মাত্রা সব সময় বেশি থাকে।
সঠিক তথ্য : এটা একেবারেই ভিত্তিহীন ধারণা। উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত কারও কারও রক্তে চর্বি বা কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকতে পারে। তবে এটা সবসময় সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
ভ্রান্ত ধারণা ১১ : কেবল ডায়াস্টোলিক (নিচের) রক্তচাপ বাড়লেই ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে হয়, সিস্টোলিক (উপরের) রক্তচাপ বেশি হলেও কোনো ক্ষতি নেই।
সঠিক তথ্য : এটা একেবারেই ঠিক নয়। চিকিত্সা বিজ্ঞানে সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক দুটো রক্তচাপেরই সমান গুরুত্ব রয়েছে। তবে সাম্প্র্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্কদের বেলায় উচ্চ সিস্টোলিক রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত কম বয়স্কদের উচ্চ ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভ্রান্ত ধারণা ১২ : দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কোনো সম্পর্ক নেই। সুষম খাদ্য তালিকা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। চিকিত্সকরা অযথাই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
সঠিক তথ্য : মনে রাখবেন, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্য তালিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সুষম খাদ্যাভ্যাস শুধু উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেই সাহায্য করে না, বরং ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। মোটকথা, একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকা ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকর।
ভ্রান্ত ধারণা ১৩ : ওষুধের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে আর চিকিত্সকের কাছে পরামর্শের জন্য যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
সঠিক তথ্য : ওষুধের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উচ্চ রক্তচাপের জটিলতাগুলো শুরুতেই শনাক্ত করতে এবং এর যথাযথ ব্যাবস্থা নিতে অবশ্যই নিয়মিত তিন মাস পরপর চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হয়।

কিডনি রোগ শুরুতে শনাক্ত হলে প্রতিরোধ সম্ভব

কিডনি রোগ শুরুতে শনাক্ত হলে প্রতিরোধ সম্ভব

কিডনি যখন নিজস্ব কোনো রোগে আক্রান্ত হয় অথবা অন্য কোনো রোগে কিডনি আক্রান্ত হয়, যার ফলে কিডনির কার্যকারিতা ৩ মাস বা ততোধিক সময় পর্যন্ত লোপ পেয়ে থাকে তখন তাকে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ বলা হয়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে যদি কিডনি রোগ ছাড়াও কিডনির কার্যকারিতা লোপ পায় তাহলেও তাকে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ বলা যেতে পারে। যেমন—ক্রনিক নেফ্রাইটিস কিডনির ফিল্টারকে আক্রমণ করে ক্রমান্বয়ে কিডনির কার্যকারিতা কমিয়ে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ হতে পারে। তেমনি ডায়াবেটিস বা উচ্চরক্তচাপ কিডনি রোগ না হওয়া সত্ত্বেও কিডনির ফিল্টার/ছাকনি ধ্বংস করতে পারে। আবার কারও যদি জন্মগতভাবে কিডনির কার্যকারিতা কম থাকে অথবা কিডনির আকার ছোট বা বেশি বড় থাকে তাহলেও দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ হতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ কী?
মানুষ জন্মগ্রহণ করার ৬ সপ্তাহের মধ্যেই কিডনির ছাকনি বা ফিল্টার মেমব্রেন পুরোপুরি তৈরি হয়ে যায়। অর্থাত্ কিডনি পুরোদমে কাজ শুরু করতে পারে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির প্রতিটি কিডনিতে প্রায় ১০-১২ লাখ ছাকনি রয়েছে এবং প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ১৭০ লিটার রক্ত পরিশোধন করে। এই পরিশোধিত রক্তের মধ্যে ১-৩ লিটার শরীরের বর্জ্য পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়া হয়। সুতরাং কোনো কারণবশত যদি এ ধরনের ফিল্টার বাধাপ্রাপ্ত হয় তখন দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ হতে পারে।
কিডনির কার্যকারিতা যাচাই করার জন্য রক্তে ক্রিয়েটিনিন নামক জৈব পদার্থ পরিমাপ করা হয়, যার মাধ্যমে কিডনি কতটুকু কাজ করছে তা বোঝা যায়। দুঃখজনক বিষয় হলো, এই জৈব পদার্থটি ৫০ শতাংশ কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার পরই শরীরে বাড়তে পারে। একজন সুস্থ পুরুষ লোকের শরীরে ক্রিয়েটিনিন ১.৪ মিলিগ্রাম এবং মহিলা ১.৩ মিলিগ্রাম হিসেবে স্বাভাবিক ধরা হয়। এর বেশি মাত্রায় ক্রিয়েটিনিন ৩ মাস বা ততোধিক কাল স্থায়ী থাকলে তখন তাকে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের জটিলতা
দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের সবচেয়ে অসুবিধা হলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ ধরনের রোগীদের কোনো উপসর্গ হয় না। ফলে বছরের পর বছর এরা চিকিত্সকের শরণাপন্ন হয় না। যখন তাদের উপসর্গ দেখা দেয় তখন তাদের কিডনির কার্যকারিতা ৭৫ শতাংশ লোপ পায়। তখন ওষুধের মাধ্যমে চিকিত্সা করে পরিপূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। ফলে কিডনি যখন ক্রমান্বয়ে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে তখন তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে যদি দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ নিরূপণ করা যেত তাহলে চিকিত্সার মাধ্যমে এই রোগগুলোকে আংশিক বা পরিপূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব হতো। সুতরাং কোনো রোগী দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে ভুগছে কিনা, এটা জানার ব্যাপারে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

দরকার নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা
— যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক লোকের কিংবা যাদের বয়স ৪০ বছরের ওপর তাদের উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক, তার রক্তচাপ নিয়মিত পরিমাপ করা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন নির্গত হচ্ছে কিনা তা জানা এবং ডায়াবেটিস আছে কিনা তা নিরূপণ করা প্রয়োজন।
— উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে বছরে অন্তত একবার প্রস্রাবে অ্যালবুমিন ও মাইক্রো অ্যালবুমিন যাচ্ছে কিনা এবং রক্তে ক্রিয়েটিনিন স্বাভাবিক কিনা তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
— যাদের বংশে কিডনি রোগ আছে তাদের পরিবারের সবার প্রস্রাব ও রক্তের ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করানো উচিত।
— যাদের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, যাদের বাল্যকালে প্রস্রাবে ইনফেকশন ছিল কিংবা যারা বার বার টনসিলে ভোগে তাদেরও এসব পরীক্ষা করিয়ে নেয়া দরকার।

কিডনি রোগের ভয়াবহতা
বেশিরভাগ দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের কোনো উপসর্গ হয় না। তাই তারা ডাক্তারের শরণাপন্ন হয় না। সুতরাং দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের উপসর্গগুলো সম্পর্কে সবার ধারণা থাকা প্রয়োজন। যদিও এ সময়ে বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা, রক্তস্বল্পতা, শরীরে পানি জমা, শ্বাসকষ্ট এবং প্রস্রাবের পরিমাণে তারতম্য, চর্মরোগ ছাড়াই শরীর চুলকানো এবং ক্রমান্বয়ে দৈনন্দিন কার্যকারিতা লোপ পাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আমাদের দেশে শতকরা ৮০ ভাগ রোগী এই উপসর্গগুলো নিয়েই চিকিত্সকের শরণাপন্ন হয় এবং রক্ত পরীক্ষায় দেখা যায়, কিডনির ৮০ ভাগ কার্যকারিতাই তখন নষ্ট হয়ে গেছে। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি অকেজো হওয়ার ফলে উপরোক্ত উপসর্গ ছাড়াও শরীরে অনেক জটিলতা দেখা দেয়। যার মধ্যে প্রধান হলো হৃিপণ্ডের রোগ।

কিডনি রোগ প্রতিরোধের উপায়
এটা পরীক্ষিত যে, এসিই-ইনহেবিটরস এবং এআরবি জাতীয় উচ্চরক্তচাপের ওষুধ কিডনি রোগ প্রতিরোধে খুবই কার্যকর। ঠিক তেমনি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা মাইক্রো-অ্যালবুমিন ধরা পড়লে জরুরি ভিত্তিতে চিকিত্সা করা প্রয়োজন।
— নিয়মিত ব্যায়াম, চর্বিজাতীয় ও ফাস্টফুড বর্জন করলে কিডনি রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। এছাড়াও ক্ষেত্রবিশেষে চর্বি নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ খেলে, ধূমপান না করলে কিডনি রোগ প্রতিরোধ করা যায় এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত হৃদরোগ থেকেও রেহাই পাওয়া যায়।
— প্রত্যেকের উচিত প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ধরে হাঁটাহাঁটির অভ্যাস করা। অতিরিক্ত লবণ পরিহার করা এবং ওজন বেশি থাকলে তা স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা। এছাড়াও রক্তে চর্বি বেশি থাকলে প্রয়োজনে ওষুধ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা এবং ধূমপান পুরোপুরি বর্জন করা।
— যাদের নেফ্রোটিক সিনড্রোম বা প্রস্রাবের প্রদাহ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে যথানিয়মে ওষুধ সেবন করা এবং নেফ্রোটক্সিক অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক বা এনালজেসিক ওষুধ পরিহার করা উচিত।
কিডনি রোগীদের সচেতন করে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগ শনাক্তকরণের সঙ্গে সঙ্গে চিকিত্সার ব্যবস্থা করলে লাখ লাখ কিডনি রোগীর কিডনি সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়া থেকে অনেকাংশে রক্ষা পাবে। পাশাপাশি কিডনি অকেজো রোগীরা ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজনের বিশাল খরচ থেকে মুক্তি পাবে। তবে এ রোগ প্রতিরোধে সবার আগে প্রয়োজন সচেতনতা।

অতিরিক্ত গরম ও স্বাস্থ্য সমস্যা

অতিরিক্ত গরম ও স্বাস্থ্য সমস্যা

চলছে গ্রীষ্মকাল। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠের প্রচণ্ড গরমে চারদিক বেশ অস্থির। সেই সঙ্গে রয়েছে আর্দ্রতা। ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত। বাড়ছে গরমের স্বাস্থ্য সমস্যা, রোগ-জ্বরা। ঘামাচি কিংবা পানিস্বল্পতার মতো সমস্যা প্রায় প্রত্যেকেরই হচ্ছে, আবার কেউ কেউ হিটস্ট্রোকের মতো মারাত্মক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এর সঙ্গে হতে পারে অবসাদ, এলার্জি, সূর্যরশ্মিতে চামড়া পুড়ে যাওয়া, হজমের অভাবে বমি বা ডায়রিয়াজনিত রোগ ইত্যাদি।

গরমের কারণে সৃষ্ট সমস্যা
গরমের কারণে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যা হয় তা হলো পানিস্বল্পতা। প্রচুর ঘামের কারণে পানির সঙ্গে সঙ্গে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় লবণও বেরিয়ে যায়। সাধারণত এর ফলে শরীরের রক্তচাপ কমে যায়, দুর্বল লাগে, মাথা ঝিমঝিম করে। পানিস্বল্পতা গরমের খুবই সাধারণ সমস্যা হলেও অবহেলা করলে তা মারাত্মক হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তি এবং যারা বাইরে কাজ করেন ও প্রয়োজনমত পানি পান করার সুযোগ পান না, তারাই মারাত্মক পানিস্বল্পতায় আক্রান্ত হন বেশি। এক্ষেত্রে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং কিডনির সমস্যা হওয়াও বিচিত্র নয়।
পানিস্বল্পতা ছাড়াও গরমের কারণে ত্বকে ঘামাচি ও এলার্জি হতে পারে। গরমের কারণে অতিরিক্ত ঘাম তৈরি হয় যার চাপে ঘর্মগ্রন্থি ও নালী ফেটে যায়, ফলে ত্বকের নিচে ঘাম জমতে থাকে। এটাই ঘামাচি। অনেক সময় ঘাম ও ময়লা জমে ঘর্মনালীর মুখ বন্ধ হয়ে যায় এবং সেখানে ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে। এতে ঘামাচি ও এলার্জি বেড়ে যায় এবং ঘামে প্রচুর গন্ধ হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া ছাড়াও ঘাম ও ময়লার কারণে ছত্রাকজনিত রোগও এসময়ে বেশি হয়।
গরমে যারা সরাসরি সূর্যের আলোর নিচে বেশিক্ষণ থাকেন তাদের ত্বক পুড়ে যেতে পারে। এতে ত্বক লাল হয়ে যায়, জ্বালাপোড়া করে, চুলকায় এবং ফোস্কা পড়ে। মূলত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিই এর জন্য দায়ী। যারা একটু ফর্সা বা যাদের ত্বক নাজুক, তাদের এ সমস্যা বেশি হয়।
গরমের সবচেয়ে মারাত্মক সমস্যা হলো হিটস্ট্রোক। শুরুতে হিট স্ট্রোকের আগে হিট ক্যাম্প দেখা দেয় যাতে শরীরে ব্যাথা করে, দুর্বল লাগে এবং প্রচণ্ড পিপাসা লাগে। পরে হিট এক্সহসশানে দেখা দেয়, শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়, মাথা ব্যথা করে এবং রোগী অসংলগ্ন আচরণ করতে থাকে। এ অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এবং শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফা. ছাড়িয়ে যায়। একে হিট স্ট্রোক বলে।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণ
তাপমাত্রা দ্রুত ১০৫ ডিগ্রি ফা. ছাড়িয়ে যায়, ঘাম বন্ধ হয়ে যায় এবং ত্বক শুষ্ক ও লাল হয়ে যায়, নিঃশ্বাস দ্রুত হয়, নাড়ির স্পন্দন ক্ষীণ ও দ্রুত হয়, রক্তচাপ কমে যায়, খিঁচুনি হয়, মাথা ঝিমঝিম করে এবং রোগী অসংলগ্ন আচরণ করতে থাকে। রোগীর প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়, অজ্ঞান হয়ে যায়। এ অবস্থায় রোগী শকেও চলে যেতে পারে।
গরমের সরাসরি প্রভাব ছাড়াও অন্য আনুষঙ্গিক সমস্যা হতে পারে। অনেকেই গরমে তৃষ্ণা মেটাতে বাইরে পানি বা শরবত খান, যা অনেক সময় বিশুদ্ধ হয় না। ফলে ডায়রিয়া ও বমিতে আক্রান্ত হতে পারেন। একই কারণে এসময় পানিবাহিত অন্যান্য রোগ যেমন টাইফয়েড, হেপাটাইটিস ইত্যাদি বেশি হয়। গরমে অনেকে প্রচুর পানি পান করেন কিন্তু তাতে পর্যাপ্ত লবণ থাকে না, ফলে লবণের অভাব দেখা দেয়। গরমে অনেক সময় খাবার নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ওই খাবার খেলে বদহজমসহ অনেক পেটের পীড়া দেখা দিতে পারে।

এ সময় যা করতে হবে
— যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকতে হবে।
— বাইরে বের হলে সরাসরি রোদ যত সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে টুপি বা ছাতা ব্যবহার করতে হবে। পরনের কাপড় হতে হবে হাল্কা, ঢিলেঢালা, সুতি। শরীর যতটা সম্ভব ঢেকে রাখতে হবে।
— শরীরের উন্মুক্ত স্থানে সম্ভব হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে, যা রোদে পোড়া থেকে সুরক্ষা দেবে।
— প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল পান করতে হবে। যেহেতু ঘামের সঙ্গে পানি ও লবণ দুই-ই বের হয়ে যায়, সেহেতু লবণযুক্ত পানীয় যেমন খাবার স্যালাইন, ফলের রস ইত্যাদিও বেশি করে পান করতে হবে। অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে হবে। চা ও কফি যথাসম্ভব কম পান করা উচিত।
— প্রয়োজনমত গোসল করতে হবে এবং শরীর ঘাম ও ময়লামুক্ত রাখতে হবে।
— শ্রমসাধ্য কাজ যথাসম্ভব কম করতে হবে। এক্ষেত্রে কিছুক্ষণ পরপর বিশ্রাম নিতে হবে এবং প্রচুর পানি ও স্যালাইন পান করতে হবে।
— গুরুপাক খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। সাধারণ খাবার যেমন ভাত, ডাল, সবজি, মাছ ইত্যাদি খাওয়াই ভাল। খাবার যেন টাটকা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নানা রকম ফল যেমন আম, তরমুজ ইত্যাদি এবং লেবুর শরবত শরীরের প্রয়োজনীয় পানি ও লবণের ঘাটতি মেটাবে।

আরও প্রয়োজনীয় কিছু পরামর্শ
প্রচণ্ড গরমে কেউ যদি অসুস্থ হয়ে যায় তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। রোগীকে দ্রুত শীতল কোনো স্থানে নিয়ে যেতে হবে, ফ্যান বা এসি ছেড়ে দিতে হবে, সম্ভব না হলে পাখা দিয়ে বাতাস করতে হবে। রোগীর গরম কাপড় খুলে ফেলতে হবে এবং ভেজা কাপড়ে শরীর মুছে ফেলতে হবে। সম্ভব হলে গোসল করাতে হবে। রোগীকে প্রচুর পানি ও খাবার স্যালাইন পান করতে দিতে হবে। যদি কেউ হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয় এবং অজ্ঞান হয়ে যায় তবে দ্রুত শরীরের তাপমাত্রা কমাতে হবে। এক্ষেত্রে রোগীকে অবশ্যই দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে, ঘরে চিকিত্সা করার কোনো সুযোগ নেই।
গরমের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের বেলায় আরও জরুরি। স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হয়ে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে দহনজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

মুড ভালো রাখতে চান?

মুড ভালো রাখতে চান?

সকালে ঘুম ভাঙতেই রাজ্যের কাজ এসে যেন ঝাঁপিয়ে পড়ে কাঁধে। আমাদের শহুরে জীবনটাই এমন। বাড়িতে নানান কাজের ঝক্কি সামলে যখন আপনি নামবেন রাজপথে অফিস যাত্রা করতে, তখন আপনাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরবে রাস্তার বেধড়ক ট্রাফিক জ্যাম আর অস্বস্তিকর গরম। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে জলবায়ু যেমন চরম ভাবাপন্ন তেমনি আপনার মেজাজটাও কিন্তু একই রকম উত্তপ্ত। আর এই উত্তাপ অনেকটাই ক্রমবর্ধমান। অফিসে ঢুকেই বসের ঝাড়ি। এরপর অগোছালো কাজগুলোকে গোছাতে গোছাতেই ২-৪টা মিটিং এসে হাজির হবে। সব কাজ শেষে যখন আপনি একটু একটু করে অফিস থেকে বাড়ির দিকে যাত্রা শুরু করেছেন, তখনই বস ডেকে পাঠাবে আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করার জন্য। ব্যস! আপনার মেজাজটা আর একবার খিচড়ে গেল। এরপর ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফেরার পর নিজেকে সংসারের সুখ-দুঃখের মাঝে গা ভাসানো কঠিন হয়ে পড়ে। এমন সময় অস্থির মনকে বশে আনার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় টিপস্ থাকছে এই সংখ্যা কড়চায়। মাথা ঠাণ্ডা করে একটু স্মরণ করে এই টিপসগুলো মেনে চললে সহজেই আপনি জীবনটাকে আর একটু সহজভাবে গ্রহণ করতে পারবেন।
— সকাল বেলা ঘুম ভাঙতেই হুড়মুড়িয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বেন না। নিজের জন্য একটু সময় বের করে নিন। অন্তত ১৫ মিনিট সময় রাখুন নিজের জন্য। এই সময়টাতে একটু শরীরচর্চা, যোগাসন এসব করলে শরীরে প্রশান্তি আসবে। সমস্যার মোকাবিলা আরও সহজে করতে পারবেন। যদি শরীর চর্চায় খুব অনীহা থাকে তাহলে নিজের ওপর জোর খাটাতে যাবেন না। চেষ্টা করুন নিজের পছন্দের কোনো কাজ করতে। যেমন ধরুন ফুলের টবে পানি দেয়া, বারান্দায় একটু হাঁটা, একটু সময় নিয়ে পত্রিকা পড়া কিংবা পছন্দের কোনো গান শোনা। এমন কিছু টুকটাক কাজে আপনার মন হালকা থাকবে।
— ঘরের কাজের সব দায়িত্ব নিজের হাতে নেবেন না। এতে অহেতুক চাপ বাড়বে, পাশাপাশি কাজও অনেক এলোমেলো হয়ে যাবে। পরিবারের বাকি সদস্যদের মাঝে কাজগুলো ভাগ করে দিন। পুরুষরা অবশ্যই গৃহিণীর ওপর সব কাজের চাপ দেবেন না। আবার সব নিজেও করতে যাবেন না। পছন্দের কাজগুলো দুজন মিলে ভাগ করে নিন। আর গিন্নিরাও সব কাজ নিজে না করে চেষ্টা করুন স্বামীর সঙ্গে কিছু কাজ ভাগ করে নিতে। নাস্তাটা আপনি তৈরি করতে ব্যস্ত থাকলে কর্তাকে বলুন ছেলেমেয়েদের স্কুলের জন্য তৈরি করে দিতে।
— ধরুন আজ অফিসে যাওয়ার আগ মুহূর্তেই কোনো কারণে মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে গেল। সেক্ষেত্রে অফিস যাওয়ার প্রস্তুতিটাকে একটু রাঙ্গিয়ে তুলুন। নিজের ঘরে একটু সময় নিয়ে সেজেগুজে তৈরি হন মেয়েরা। পছন্দের কোনো শাড়ি কিংবা কামিজ পরুন। একটু সাজুন। আর গায়ে মেখে নিন নিজের সবচেয়ে পছন্দের পারফিউমটি। ছেলের ক্ষেত্রেও তাই। মুডে পরিবর্তন আনতে আজ একটু কালারফুল একটা টাই ট্রাই করে দেখুন। শু-টা হয়তো ২-৩ দিন কালি করা হয় না। আজ একটু কালি মাখিয়ে ঝকঝকে করে নিন। কচকচে ভাজ খোলা একটা শার্ট পরে রওনা দিন অফিসের দিকে। দেখবেন মুহূর্তে আপনার কালি মাখা মুডটা কেমন ঝকমক করে ওঠে।
— অফিস থেকে যাত্রাপথে মেজাজ ঠাণ্ডা রাখতে পছন্দের কোনো মিউজিক ট্রাই করতে পারেন। সঙ্গে চেষ্টা করুন পানির বোতল রাখতে। এক চুমুক খাবার পানিও কিন্তু অনেক সময় তেষ্টার সঙ্গে সঙ্গে মেজাজ ঠাণ্ডা করতেও সহায়ক হয়ে থাকে।
— অফিস থেকে বের হওয়ার শেষ সময়টাতেও মেজাজ গরম হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে চেষ্টা করুন অফিস থেকে সোজা বাড়ি না গিয়ে একটু শপিংয়ে বেরুতে। আর কারও জন্য নয়, কেবল নিজের জন্য কিছু শপিং করুন বাড়ি ফেরার সময়। দেখবেন মেজাজটা একেবারে চনমনে হয়ে যাবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না এলে করণীয়

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না এলে করণীয়

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না! ডাক্তারের পরামর্শমত নিয়মিত ওষুধ সেবন করছি, ইনসুলিনও নিচ্ছি তার ওপর মুটিয়ে যাচ্ছি, কী করব? এ ধরনের প্রশ্ন অনেক রোগীর। কিন্তু তাদের মনে রাখা দরকার, এর পাশাপাশি খুব সহজ একটা কাজ করার আছে, সেটা হলো হাঁটা। প্রতিদিন এক ঘণ্টা (ষাট মিনিট) জোরে জোরে হাঁটা এবং অন্তত দুই মাইল হাঁটবেন। হাঁটার কোনো সময় নেই তবে সকাল অথবা বিকাল, যখন সূর্যের আলোর প্রখরতা কম থাকে তখনই হাঁটার সবচেয়ে ভালো সময়। সুতরাং যখনই হাঁটুন, যতবার হাঁটুন—দুই মাইল হাঁটতে হবে এবং এতে বেশ ভালো ফল পাওয়া যাবে। গবেষকদের মতে, যারা নিয়মিত অন্তত দুই মাইল হাঁটে তাদের বডি মাস ইনডেক্স (ইগও) কমে, শরীরের ওজন কমে শরীরটা হালকা লাগে, তলপেটের মেদ কমে এবং উন্নত হয় ইনসুলিনের প্রতি দেহকোষের সংবেদনশীলতা। সর্বোপরি কমে যায় ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত শরীরের অন্যান্য ঝুঁকি। তাছাড়া একজন সুস্থ মানুষ প্রতিদিন দুই মাইল হাঁটলে ডায়াবেটিস রোগ হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে এবং এর প্রতিরোধও সম্ভব।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মেথি একটি গুরুত্ববহ প্রাকৃতিক পথ্য। মেথিকে মসলা, খাবার ও পথ্য তিনটিই বলা চলে। মেথি স্বাদে তিতা হলেও এতে রয়েছে রক্তে সুগার বা শর্করা নিয়ন্ত্রণের বিস্ময়কর শক্তি। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক চামচ চিনি চিবিয়ে খেলে বা এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানি সকালে খালি পেটে পান করলে শরীরের রোগ জীবাণু মরে, রক্তে শর্করার মাত্রা কমে, রক্তের ক্ষতিকর চর্বির (কোলেস্টেরল) মাত্রা কমে, শরীরে কৃমি থাকলে মারা যায়, গরম জনিত ত্বকের অসুখাদি দূর হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সকালে মেথি খান তাদের ডায়াবেটিস জনিত অন্যান্য অসুখ কম হয়, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং স্ট্রোক হওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম থাকে। সুতরাং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মেথি হলো শ্রেষ্ঠ পথ্য তবে তার সঙ্গে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্যাবলেট বা ইনসুলিন সঠিকভাবে ব্যবহার অব্যাহত রাখতে হবে। যাদের ডায়াবেটিস নেই তাদের জন্যও মেথি উপকারী, যেমন— মাতৃদুগ্ধ বৃদ্ধির জন্য, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য, শরীরকে সতেজ রাখার জন্য, রক্তের উপাদানগুলোকে বেশি মাত্রায় কর্মক্ষম করার জন্য মেথি অত্যন্ত উপকারী। বার্ধক্যকে দূরে ঠেলে তারুণ্যকে দীর্ঘস্থায়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে মেথি। নানাবিধ গুণসম্পন্ন এই মেথি আজ থেকেই হোক আমাদের সবার গুরুত্বপূর্ণ খাবার।

শিশুর যত্ন

শিশুর যত্ন

.


শিশুকে ডালের পানি খাওয়ান

ছোট বাচ্চাদের ডালের পানি খাওয়ান। এতে তাদের শরীর ভালো থাকবে।
গরম পানি খাওয়ান
বাচ্চাদের সব সময় পানি গরম করে সেই পানি ঠাণ্ডা করে খাওয়ান।
দুধের সর খাওয়াবেন না
শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময় দুধের মধ্য থেকে সরটা সরিয়ে দিন। সর হজম হতে বেশি সময় নেয়।
কালো মেঘের বড়ি
বাচ্চাদের কৃমি দূর করার জন্য কালোমেঘ পাতার বড়ি করে খাওয়ান।
শিশুর হাড় মজবুত করুন
ছোট বাচ্চাদের প্রতিদিন এক চামচ পাকা বেল খাওয়ান, এতে তাদের হাড় মজবুত হবে।
খুসকি কমানোর ভেষজ প্রক্রিয়া
সরষের তেলের মধ্যে লেবুর রস মিশিয়ে তেলটা হালকা গরম করে বাচ্চার মাথায় ম্যাসাজ করুন। এতে খুসকি একেবারেই কমে যাবে।
সহজে দাঁত বের করুন
বাচ্চাদের দাঁত বেরোনোর সময় মধু খাওয়ান, এতে দাঁত খুব সহজেই বেরোবে।
বাচ্চার খুসকি কমান
দইয়ের সঙ্গে মধু মিশিয়ে শিশুর মাথায় লাগান, অল্প কিছুক্ষণ রাখার পর মাথা ধুয়ে দিন। এতে মাথার খুসকি কমে যাবে।

%d bloggers like this: