সংগ্রহ – ০১

হতাম যদি পণ্য

কাজী রিয়াজুল ইসলাম  

 

আমি যদি হতাম আজি

হাট-বাজারের পণ্য,

হররোজই দাম চলত বেড়ে

হতাম আমি ধন্য।

ছাগল-গরম্নর মূল্য অনেক

চাল-ডালের দাম চড়া,

বলব কি আর­ বুনো শাকের

মেজাজও আজ কড়া।

হাট-বাজারের সবকিছুর

আছে তো বেশ মূল্য,

শুধুই মানুষ এখন যেন

অচল টাকার তুল্য।

আমি যদি হতাম আজি

হাট-বাজারের পণ্য

সবাই তবে খুব আমাকে

করত মান্য-গণ্য।

  **************************************************

মন বলে

রহমান শেখ

 

আমি চন্দ্র দেখি, দেখি তোমায়

আমি গগন দেখি আর

গলা ছেড়ে বিরহের গান গাই।

আমি তারার মিছিলে

আলোর ভুবনে নিজেকে হারাই,

ফসলের রূপে কৃষক হাসে

হাসি কবিতা ও গানের মেলায়।

প্রিয়া ভাবি বাহু ধরে আছি

হারাই স্বপ্ন নগরীর ভেলায়।

কখনো হাসি, কখনো কাঁদি

শিশুর অবুঝ বায়না শুনি!

প্রিয় কোন মানুষ ছিল, ছিল মন

গোধূলি বেলায় ঘাসের মাঝে

প্রজাপতিরা ছোট রংয়ের খোঁজে।

তুমি আমি কী ওদের মতো

এটা ওটা ধরে একাকী দাঁড়াই?

পাওয়ার খোঁজে হাঁটিনি কখনো

পাইনি আজো বিশ্বাসী মন

তবে হৃদয় বলে, হয়তো আসবে তুমি

আবার কোন সূর্য ডোবা অবেলায়।

  ************************************************

 

জীবনে চলার পথে

 

জীবনে চলার পথে

কেউ থাকবে সাথী হয়ে পাশে।

কেউ যাবে দূরে

তোমাকে ছেড়ে।

তাই বলে কি জীবন থাকবে থেমে?

জীবন চলবে তার আপন পথে,

আপন নিয়মে।

শুধুই মনের কোণে

কিছু দু:খ-স্মৃতি যাবে রয়ে

নিভৃতে, খুব গোপনে।

  *************************************************

মৃত্যুঘুম

খোকন বিবাগী

 

যখন সে দীর্ঘশ্বাস নিচ্ছিল

তখন আমার হাতে ইনহেলার,

আমি তার শ্বাসের ডগায় গ্যাস দিচ্ছিলাম।

ক্রমেই তার নিশ্বাস ছোট হতে লাগল,

আর নিশ্বাসের মধ্যকার বিচ্যুতি বাড়তে লাগল,

এক সময় সে বিচ্যুতি বাড়তে বাড়তে

অসীম সময়ে যোগ হলো,

বুঝতে পারলাম তার প্রাণবায়ু পরলোকে যাচ্ছে।

‹ণিকের ব্যবধানে তার দেহখানা লাশে পরিণত হলো।

এ কেমন মৃত্যু জানি না,

সবার চোখের সামনে থেকে যমদূত

তার আত্মা নিয়ে পালিয়ে গেল।

এমন মৃত্যু আমি কখনো দেখিনি,

দেখতে হবে তাও ভাবিনি।

স্বজনদের আহাজারি-বিলাপ তার কানে বাজছিল,

ইনহেলারের গ্যাস তার নাকের ডগায় উড়ছিল,

গলায় অনìত্ম বছরের জলতৃষäা আর

নিশ্বাস নেয়ার আকুতি

তাকে তাড়া করে ফিরছিল তখনো।

যখন তার নিথর দেহখানা

বিছানার কোলে এলিয়ে দিল

আমার কাছে মনে হলো সে ঘুমিয়ে পড়েছে।

সকালে হয়তো ঘুম থেকে উঠে বলবে,

আমাকে চা-নাশতা দাও, ক্ষুধা লেগেছে। 

  ***************************************************

 

বাসìত্মী আবেশে

আজিজুন্নেছা শাহ্জাদী

 

শিশির শুকিয়ে গেছে

ঝরছে কচিপাতা

পুষ্পসমারোহে ভরেছে

বসìত্ম কানন তথা

মধুর আবেশে ভ্রমরগুলি

আমের নব মঞ্জুরীতে

লুটাইছে আপন করে

তার কোমল পাখাতে

কোকিল মিলাইছে কণ্ঠ

প্রকৃতির নিও আবেশে

দিকে দিকে আনন্দ ধ্বনি

বইছে আকাশে বাতাসে।

তটিনীর তোয়া কৃপন হয়ে

তরী তার উদার হৃদয়ে

প্রসারিত হয়ে আপন মনে

ডাকিছে দুহাত বাড়িয়ে

নিয়ে যাও ওগো রাখাল

শূন্য নৌকা খানি ভরি

মনের স্পৃহায় গান গেয়ে

এ পাড়ে তব বাড়ি।

তবু প্রকৃতিতে শুধু শূন্যতা

নব পাওয়ার বেদনার ক্রন্দন।

পারও তবে নাহি দেয় জাগরণ

একে একে সবাই কৃপণ।

তবুও গোলাপের অপস্ফুটিত কাল

বিকশিত হতে চায়

কিশোর ভালো ভ্রমরের

কোমল স্পর্শ তরে হায়।

Advertisements
সংগ্রহ – ০১ তে মন্তব্য বন্ধ
%d bloggers like this: