কৌতুক সংগ্রহ-০৮

ব্যাঙ

নিয়ে গবেষণা করছিলেন এক অধ্যাপক। টেবিলের ওপর ব্যাঙটা রেখে প্রথমে তিনি ব্যাঙের পেছনের ডান পা-টা কাটলেন। পা কেটে একটা তালি দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে ব্যাঙটা লাফিয়ে উঠল। এরপর পেছনের বাঁ পা কেটে একটা তালি দিলেন। ব্যাঙটা আবার লাফিয়ে উঠল। এরপর সামনের ডান পা কাটলেন এবং তালি দিলেন। ব্যাঙটা এবারও লাফিয়ে উঠল। সবশেষে নিপুণ হাতে কাটলেন সামনের বাঁ পা। কাটা শেষে যথারীতি তালি দিলেন, কিন্তু এবার ব্যাঙ আর লাফাল না।

কাটাছেঁড়া শেষ করে অধ্যাপক তাঁর থিসিসে লিখলেন, চার পা কেটে দিলে ব্যাঙ কানে শোনে না।

 

 

গোপাল

ভাঁড় একবার তার ছেলেকে নিয়ে মেলায় বেড়াতে গিয়ে ছেলেকে হারিয়ে ফেলে। ছেলে তখন একটুও না ঘাবড়ে ‘গোপাল, গোপাল’ বলে চেঁচাতে থাকে। ছেলের চিৎকার শুনে গোপাল ছুটে এসে ধমক দেয় ছেলেকে, ‘ছিঃ ছিঃ, আমার নাম ধরে ডাকছিস, বাবা বলে ডাকতে পারিস না?’

ছেলে তখন বলল, ‘হুঁ, বাবা বলে ডাকি আর মেলার সব লোক ছুটে আসুক!’

 

 

গোপালের

ভাইপো আর তার স্ত্রীর মধ্যে ভীষণ ঝগড়া হচ্ছে দেখে গোপাল তাদের থামাতে গেল। গোপালকে দেখে তার ভাইপো বলতে লাগল, ‘দেখুন তো কাকা, আমি আগামী বছর একটা দুধেল গাই কিনব আর তাই শুনে আমার বউ বলছে, সে নাকি গাইয়ের দুধ দিয়ে পায়েস বানিয়ে তার বাপের বাড়ির গুষ্টিকে খাওয়াবে···।’ গোপাল হাত তুলে তাদের থামাল। ‘আস্তে···’ ভাইপো থামল। এবার গোপাল ভাঁড় খেঁকিয়ে উঠল, ‘বদমাশ, তোর বউয়ের পায়েস তো পরে···বাড়ির পিছে আমি যে শাক-সবজির বাগান করেছি, সেগুলো যে তোর গরু খাবে, সে খেয়াল আছে?’

 

 

প্রেমিক

তার প্রেমিকার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে, তুমি পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য। শুনে প্রেমিকা বলল, তাই নাকি! তাহলে আগের সাতজন কে কে শুনি।

 

 

গোপাল

একবার গ্রামের মোড়ল হয়েছিল। তো একদিন ভোরবেলায় এক লোক এসে ডাকতে লাগল, ‘গোপাল? গোপাল?’ গোপাল ভাঁড় কোনো উত্তর না দিয়ে শুয়েই রইল। এবার লোকটা চিৎকার করে ডাকতে লাগল, ‘মোড়ল সাহেব, মোড়ল সাহেব।’ এবারও গোপাল কোনো কথা না বলে মটকা মেরে শুয়ে রইল। গোপালের বউ ছুটে এসে বলল, ‘কী ব্যাপার, লোকটা মোড়ল সাহেব মোড়ল সাহেব বলে চেঁচিয়ে পড়া মাত করছে, তুমি কিছুই বলছ না!’ গোপাল কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, ‘আহা, ডাকুক না কিছুক্ষণ, পাড়ার লোকজন জানুক আমি মোড়ল হয়েছি।’

 

 

এটাকে

কি বলব, রিয়েল লাইফ জোক? ঘটনাটা আমাদের জীবনেরই। আজ থেকে ১০-১২ বছর আগের কথা। আমরা কয়েক বন্ধু আরেক বড়লোক বন্ধুর বাসায় আড্ডা মারতাম। সেই বন্ধুর একটা বোন ছিল অপরূপ সুন্দরী। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে ্নার্ট বন্ধুটি তার প্রেমে পড়ে গেল। সবাই ব্যাপারটা জেনেও গেল। এর মধ্যে হঠাৎ জানা গেল, সেই অপরূপ সুন্দরী বোনের বিয়ে ঠিক হয়েছে। খবর পেয়ে আমাদের ্নার্ট বন্ধুটি তাকে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসল। মেয়েটি ছিল অসম্ভব অহংকারী। সে বলল, ‘দেখো মাহমুদ, (পাত্র-পাত্রীর ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে) তুমি আমার যোগ্য নও··· তবে তোমার যোগ্য একজন পাত্রী আমি ঠিক করে রেখেছি।’ বলে সে তাদের কাজের বুয়াকে ডাকল। ‘এই তোমার পাত্রী।’

অসম্ভব অপমানিত হয়ে ফিরে এল মাহমুদ। আমরা তাকে সান্ত্বনা দিলাম। সে কোনো মন্তব্য করল না। তারপর যথারীতি সেই রূপসী মেয়ের বিয়ে হয়ে গেল একজন ডাক্তারের সঙ্গে। মাহমুদের ঘটনার প্রতিবাদে আমরা কেউ পিয়ার বিয়েতে গেলাম না। চমকটা ঘটল তার পরই, হঠাৎ শুনি মাহমুদের বিয়ে! পাত্রী কে? পাত্রী আর কেউ না, সেই পিয়াদের বাসার কাজের বুয়া আছিয়া!

বহুদিন পর আমি মাহমুদকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘তুই এটা কী করলি? নিজের জীবনটা···।’ সে বলেছিল, ‘তোরা আসলে ভুল বুঝেছিস আমাকে, আমি পিয়ার ওপর প্রতিশোধ নিতে এ ঘটনা ঘটাইনি··· সেদিন আমি যতটা অপমানিত হয়েছিলাম, এর থেকে বেশি অপমানিত হয়েছিল আছিয়া মেয়েটি! সেই মুহূর্তে আমার মনে হয়েছিল, এ মেয়েটিকে তার সম্মান আমার ফিরিয়ে দেওয়া উচিত···। আমি তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছি।’ এখনো মাঝেমধ্যে যখন মাহমুদের কথা ভাবি, বুকটা ভরে যায়। এটা কি রিয়েল লাইফ জোক হলো? না ট্র্যাজেডি?

 

 

গোপাল

যাচ্ছে শ্বশুরবাড়ি। মাথার ওপর গনগনে সূর্য। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে গোপাল এক গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে বসল। বেশি গরম লাগায় ফতুয়াটা খুলে পাশে রেখে একটু আয়েশ করে বসল। বসে বিশ্রাম নিতে নিতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল, নিজেই জানে না।

ঘুম যখন ভাঙল গোপাল দেখে, তার ফতুয়াটা চুরি হয়ে গেছে। হায় হায়! এখন কী হবে! খালি গায়ে তো আর শ্বশুরবাড়ি ওঠা যায় না। কী আর করা। সে হাঁটতে হাঁটতে মনে মনে বলতে লাগল, ‘হে ভগবান, রাস্তায় অন্তত ১০টি মুদ্রা যেন কুড়িয়ে পাই, তাহলে পাঁচ মুদ্রায় আমার জন্য একটা ভালো ফতুয়া কিনতে পারি। আর তোমার জন্য পাঁচটি মুদ্রা মন্দিরে দান করতে পারি···।’ আর কী আশ্চর্য! ভাবতে ভাবতেই দেখে, রাস্তার ধারে কয়েকটি মুদ্রা পড়ে আছে। খুশি হয়ে উঠল গোপাল, গুনে দেখে পাঁচটি মুদ্রা! গোপাল স্বগত বলে উঠল, ‘হে ভগবান, আমাকে তোমার বিশ্বাস হলো না, নিজের ভাগটা আগেই রেখে দিলে?

 

 

 

সম্প্রতি রিডার্স ডাইজেস্ট পত্রিকা বিশ্বের কয়েকটি দেশের সেরা কৌতুক প্রকাশ করেছে। তার ভেতর বেশির ভাগই আমাদের দেশীয় প্রেক্ষাপটে তেমন জুতসই কৌতুক নয়। যে কয়েকটি মোটামুটি চলনসই সে কয়েকটি এখানে দেওয়া হলো।

 

 

আর্জেন্টিনা

একজন বৃদ্ধ ও তাঁর স্ত্রী একদিন একটি ফাস্টফুডের দোকানে গেলেন। তাঁরা একটি বার্গারের অর্ডার দিলেন এবং বার্গারটি সমান দুই ভাগ করে সামনে রাখলেন। পাশের টেবিলের লোকটির এটি দেখে খুব মায়া হলো ও তার নিজের বার্গারটি মহিলাকে খেতে দিলেন।

তখন বৃদ্ধ বললেন, ‘ধন্যবাদ, কিন্তু আমরা সবকিছু ভাগাভাগি করেই করি।’

কিছুক্ষণ পর লোকটি দেখল বৃদ্ধা একটি কামড়ও দেননি। অর্ধেক বার্গার সামনে নিয়ে বসে আছেন। তখন লোকটি আবার বলল, ‘আমি সত্যি খুশি হব, যদি আপনি আমার বার্গারটা নেন।’

বৃদ্ধ তখন বলে উঠলেন, ‘ও খাবে, চিন্তা করবেন না। আমরা সব ভাগাভাগি করে করি।’ তখন লোকটি অবাক হয়ে বৃদ্ধার কাছে জানতে চাইল, ‘তাহলে আপনি খাচ্ছেন না কেন!’

বৃদ্ধা আস্তে করে বললেন, ‘আমি দাঁতের জন্য অপেক্ষা করছি।’

 

সুইজারল্যান্ড

স্ত্রীঃ ওগো, তুমি কি দেখেছ? আমাদের বাথরুমের জন্য নতুন টয়লেট ব্রাশ এনেছি।

স্বামীঃ হ্যাঁ, কিন্তু টয়লেট পেপারটাই আমার বেশি পছন্দ।

 

ক্রোয়েশিয়া

একটি বাচ্চা মন খারাপ করে একটি ভিডিও দোকানের সামনে বসে আছে। এক পুলিশ সেটা দেখে জিজ্ঞেস করল, ‘কী হয়েছে? মন খারাপ কেন?’

বাচ্চাটি কাঁদো কাঁদোভাবে বলল, ‘সুপারম্যান এখনো বের হয়নি।’

‘দাঁড়াও, আমি দেখছি ব্যাপারটা’, সঙ্গে সঙ্গে বলল পুলিশ। তারপর চিৎকার করে বলতে থাকল, ‘এই যে সুপারম্যান! তাড়াতাড়ি বের হয়ে এসো, তোমার বাচ্চা কান্না করছে।’

 

চেক প্রজাতন্ত্র

একজন লোক রেডিওর একটি অনুষ্ঠানে ফোন করে জঔ-কে বলল, ‘আমি একটি মানিব্যাগ পেয়েছি, যাতে পঞ্চাশ হাজার টাকা ছিল এবং একটি কার্ড ছিল, যাতে লেখা আব্দুস সুবাহান, ভূতের গলি, ঢাকা।’

জঔ বলল, ‘তো, আমরা কীভাবে সাহায্য করতে পারি?’

‘আমি ওনাকে একটি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ গান ডেডিকেট করতে চাচ্ছি।’ লোকটি বলল।

 

জার্মানি

এক লোক মেলায় ঘোরাঘুরি করে এক জায়গায় এসে দেখল ভাগ্য গণনা করা হচ্ছে। মজা করার জন্য সেও সেখানে গেল। জ্যোতিষী লোকটিকে দেখেই বেশ বিজ্ঞের মতো বললেন, ‘আপনি দুই সন্তানের বাবা।’

‘হা-হা, আপনার কি তাই-ই ধারণা? আমার তিনজন সন্তান।’ লোকটি বলল।

জ্যোতিষী তখন হেসে বললেন, ‘হা-হা, আপনার কি তাই-ই ধারণা?’

 

থাইল্যান্ড

‘তাড়াতাড়ি করো সবাই, দেরি হয়ে যাচ্ছে।’ শিক্ষক তাঁর ছাত্রদের তাড়া দিয়ে বললেন।

‘এত তাড়া কেন, স্যার!’ একজন ছাত্র জিজ্ঞেস করল।

স্যার বললেন, ‘আমরা দেরি করলে পরের ক্লাস মিস করব।’

এক ছাত্র বলে উঠল, ‘স্যার, আপনার তাড়া থাকলে আপনি আমাদের ছাড়াই চলে যান।’

 

বাবরঃ এই আয়নার কোনো গ্যারান্টি আছে?

দোকানদারঃ এটা আপনি ১০০ তলা বাড়ির ছাদ

থেকে ফেলে দিন, একতলা পর্যন্ত আয়নাটা

আস্ত থাকবে।

 

 

এক মেয়েকে কেন্দ্র করে দুজন যুবক প্রতিদ্বন্দ্বী হলো। তারা ঠিক করল, উভয়ে পিস্তল দিয়ে যুদ্ধ করবে। তারপর যে বেঁচে থাকবে, সেই মেয়েটিকে বিয়ে করতে পারবে। যুবক দুজনের একজন ছিল ভীষণ মোটা এবং অন্যজন বেশ চিকন। মোটা যুবকটি বলল, ‘আমি তো আয়তনে তোমার ডাবল, আমার দিকে তাক করতে তোমার খুবই সুবিধে হবে। সুতরাং পিস্তলের যুদ্ধে আমারই হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা।’

‘ঠিক আছে, একটি উপায় বের করছি।’ পাতলা লোকটি পকেট থেকে চক বের করে মোটা লোকটির শরীরে দাগ দিয়ে দ্বিখণ্ডিত করল এবং বলল, ‘তোমার শরীরের ডান পাশের দাগের বাইরে গুলি লাগলে তা ধরা হবে না।’

 

 

একবার এক পরিদর্শক পাগলাগারদ পরিদর্শনে গেলেন।

পরিদর্শকঃ আপনারা কীভাবে বোঝেন যে একজন রোগী সুস্থ হয়েছে?

ডাক্তারঃ প্রথমে আমরা রোগীদের বাথরুমে বাথটাবের কাছে নিয়ে যাই। বাথটাবটা পানি দিয়ে পূর্ণ করি। তাদের আমরা একটি চামচ, একটি মগ ও একটি কাপ দিই। তারপর তাদের বাথটাবটি পানিশূন্য করতে বলি। তাদের পানিশূন্য করার নিয়ম দেখেই আমরা বুঝি কে সুস্থ হয়েছে।

পরিদর্শকঃ যদি তারা মগ দিয়ে পানি ফেলে দেয়। তাহলে নিশ্চয়ই আপনারা তাকে সুস্থ বলেন?

ডাক্তারঃ না, যদি তারা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়, তবে বাথটাবের পানি বের করার প্লাগ তুলে ফেলবে, তবেই আমরা ধরে নেই, সেই রোগী এখন সুস্থ হয়েছে। তা, আপনার জন্য কী এখানকার একটা রুম বুক করব?

 

 

আমার বন্ধু জাকির পত্রমিতালি করত এক মেয়ের সঙ্গে। মঝেমধ্যে তাদের মধ্যে উপহার লেনদেনও হতো। তবে সব লেনদেনই হতো বাই পোস্টে। যেমন, একবার বন্ধু পাঠাল পারফিউম, মেয়ে পাঠাল কোলাপুরি স্যান্ডেল! এই করতে করতে তাদের মধ্যে একটু প্রেম প্রেম ভাব চলে এসেছিল। তারা ঠিক করল, এবার দেখা হওয়া দরকার। ঠিক হলো, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে তারা দেখা করবে। মেয়ে পরে আসবে নীল শাড়ি আর জাকির পরে আসবে হলুদ শার্ট। নির্দিষ্ট দিনে মেয়ে ঠিকই নীল শাড়ি পরে এল, কিন্তু জাকির পরে গেল অন্য শার্ট (তার ধান্দা মেয়ে বেশি সুন্দরী না হলে খোদা হাফেজ···)। মেয়েকে দেখে জাকির হতাশ! সে কেটে পড়ার তাল করছে। এমন সময় দেখে মেয়ে গটগট করে তার দিকেই আসছে। এসেই চার্জ করল? ‘অন্য শার্ট পরে এসেছ কেন?’ বন্ধু তখন তোতলাতে শুরু করেছে, ‘তু-তুমি বুঝলে কী করে?’ মেয়ে জাকিরের পায়ের দিকে দেখাল। জাকির তাকিয়ে দেখে মেয়ের দেওয়া স্যান্ডেলটাই পরে এসেছে! (বলাই বাহুল্য, তারা এখন সুখী দম্পতি)।

 

 

বুবাই পিৎজা অর্ডার করল।

দোকানদারঃ স্যার, পিৎজাটা কটা টুকরো করব? চারটে, না আটটা?

বুবাইঃ চারটেই করে দাও, আটটা খেতে পারব না, বেশি হয়ে যাবে।

 

 

থানায় গিয়ে এক ভদ্রমহিলা ইন্সপেক্টরকে বললেন, ‘আমার স্বামী গতকাল আলু কিনতে বাজারে গেছে, এখনো ফেরেনি।’

ইন্সপেক্টরঃ আলুই রান্না করতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই, অন্য সবজি রান্না করুন।

 

 

প্রথম বন্ধুঃ জানিস, আমার মামার বাড়িতে এত বড় আম হয় যে দুটিতেই এক কেজি হয়ে যায়!

দ্বিতীয় বন্ধুঃ আরে তুই জানিস, আমার মামাবাড়িতে এত বড় বড় আম হয় যে চারটিতেই এক ডজন হয়ে যায়!

 

 

এক লোক কিছু কাগজ ফটোকপি করে খুব মন দিয়ে অরিজিনাল কাগজগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে লাগল। আরেকজন প্রশ্ন করল, ‘এত মনোযোগ দিয়ে কী দেখছেন?’ লোকটি বলল, ‘দেখছি, ফটোকপিতে কোনো ভুল হয়েছে কি না ?’

 

 

প্রথম ভেড়াঃ আশ্চর্য, আজ আমরা মাত্র দুজন যে?

দ্বিতীয় ভেড়াঃ আর বলো না, সবাই গেছে পাশের গ্রামে।

প্রথম ভেড়াঃ কেন?

দ্বিতীয় ভেড়াঃ পাশের গ্রামের লোকের ঘুম আসে না বলে ভেড়া গুনতে হয় যে!

 

 

ছোট মামুর ভুঁড়ি হয়ে গেছে। কে তাঁকে বুদ্ধি দিল পেটে ভুঁড়ি কমার বেল্ট বেঁধে চলাফেরা করলে ভুঁড়ি কমবে। মামু তা-ই শুরু করলেন; পেটে চওড়া বেল্ট বেঁধে চলাফেরা করেন। একদিন ওই অবস্থায় কাঁচাবাজারে গেলেন। কিছু কেনাকাটা করছেন হয়তো··· হঠাৎ খেয়াল করলেন, সবাই তাঁর দিকে তাকিয়ে হাসছে। কিন্তু তিনি বুঝতে পারছেন না। বিষয় কী? হঠাৎ খেয়াল করলেন, তাঁর লুঙ্গিটা গোল হয়ে মাটিতে পড়ে আছে! তিনি বুঝতেই পারেননি। পেটে বেল্ট বাঁধা আছে বলে তিনি ভেবেছেন, লুঙ্গি বাঁধা আছে। ভাগ্য ভালো বলতে হবে, নিচে একটা হাফপ্যান্ট পরা ছিল!

 

 

জাহাজডুবি হয়ে এক লোক এক নির্জন দ্বীপে এসে উঠল। অনেক বছর কেটে গেল, কেউ তাকে উদ্ধার করতে এল না। লোকটির দাড়ি-গোঁফ বড় হয়ে প্রায় জঙ্গল হয়ে গেল। হঠাৎ একদিন লোকটি দেখল, অনেক দূর দিয়ে একটি জাহাজ যাচ্ছে। অনেক হাত-পা নেড়ে কাছের ডালপালা দুলিয়ে অবশেষে সে সক্ষম হলো জাহাজটির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। জাহাজটি থেকে একটি ছোট নৌকা নামানো হলো। নৌকাটি দ্বীপের পাশে এসে থামল। নৌকা থেকে একজন নাবিক গত কয়েক বছরের দৈনিক সংবাদপত্র নিয়ে নামাল দ্বীপে।

‘এত সব খবরের কাগজ কেন?’ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল লোকটি।

নাবিক বলল, ‘ক্যাপ্টেন আপনাকে অনুরোধ করেছেন গত কয়েক বছরের এ সংবাদপত্রগুলো পড়তে। তার পরও যদি আপনার লোকালয়ে ফেরার ইচ্ছে থাকে, তাহলে আপনাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হবে।’

 

 

প্রেমিকঃ তুমি আমার জীবনে বাঁচার রসদ, আমার প্রেরণা, আমার সবকিছু।

প্রেমিকাঃ তুমিও আমার প্রাণ গো।

প্রেমিকঃ আমি খুব একটা বড়লোক নই। রোহিতের মতো আমার বড় বাড়ি, বড় গাড়ি কিছুই নেই। কিন্তু একটা কথা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, আমার মতো তোমায় কেউ ভালোবাসবে না। আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।

প্রেমিকাঃ সে তো আমিও তোমাকে খুব ভালোবাসি, কিন্তু রোহিত সম্বন্ধে আরও কিছু কথা বলো তো শুনি।

 

 

আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। মুহসীন হলে থাকি। তখনকার মুহসীন হলের ঘটনা। এক ছাত্র ডাইনিংয়ে খেতে গেছে। আরেকজন ছাত্রের পাশে খেতে বসেছে। হঠাৎ দেখে ঘিয়ের ডিব্বা। সে তো মহা খুশি! ‘বাহ, আজকাল ডাইনিংয়ে ঘিও দিতে শুরু করেছে? বাহ, ভালো তো!’ বলে সে দিব্যি বোতল উপুড় করে ঘি ঢালতে লাগল তার প্লেটে। খাওয়া প্রায় শেষ, হঠাৎ সে খেয়াল করে দেখে তার পাশের ছাত্রটি মিনমিন করে বলছে, ‘বোতলটা নিতে পারি?’ তখন পরিষ্কার হলো, ওই ঘিয়ের বোতলটা আসলে পাশের ছাত্রের ব্যক্তিগত! তবে বোতল তখন মোটামুটি ফকফকা!

 

 

এক লোক তার বন্ধুর সঙ্গে গল্প করছে।

গতকাল বাড়ির পেছনের জঙ্গলে ঢুকতেই দেখি, বিশাল এক বাঘ। আমি সঙ্গে সঙ্গে পেছন ফিরে দিলাম এক দৌড়। বাঘও আমার পেছন পেছন দৌড়াতে শুরু করল। কিন্তু বাঘ আমাকে ছুঁই ছুঁই করেও ছুঁতে পারছিল না। বারবার পিছলে পড়ে যাচ্ছিল। আর সেই সুযোগে আমি এগিয়ে যাচ্ছিলাম। এমনি করে শেষমেশ দেয়াল টপকে বাড়ির ভেতরেই ঢুকে গেলাম।

শুনে বন্ধু মন্তব্য করল-

‘তোমার তো দারুণ সাহস! আমি হলে তো ভয়ে হিসু করে দিতাম।’

প্রথম বন্ধু তখন বলল-

‘আরে, বাঘ তো বারবার পিছলে পড়ছিল সে কারণেই।’

 

 

ছোটবেলার বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো এক লোকের। লোকটা তার বন্ধুকে চিনতে পারছিল না। বন্ধুটি বলল, আমাকে চিনতে পারছিস না? আরে আমি তোর সঙ্গে ক্লাস ফোরে পড়েছি। লোকটা কঠিন গলায় বলল, অসম্ভব। ক্লাস ফোরে আমার কোনো দাঁড়িওয়ালা বন্ধু ছিল না।

 

 

ঃ একজন চুলওয়ালা ভদ্র্রলোক আপনাকে ডাকছেন।

ঃ বলে দাও যে, আমার এখন চুলের দরকার নেই।

 

 

এক

স্কুল শিক্ষক স্কুলের বাইরে বসে ছিলেন। এমন সময় তাঁর সামনে কাঁচুমাচু হয়ে একটি ছেলে এসে জানাল, সে নদীতে কুলি ফেলেছে এবং এর জন্য সে ক্ষমা করতে চায়। স্কুল শিক্ষক বললেন, ‘এ আর এমন কী, নদীর পানি সামান্য ময়লা হতে পারে হয়তো, কিন্তু এর জন্য ক্ষমা চাওয়া জরুরি নয়।’

কিন্তু ছেলেটি নাছোড়বান্দা। অবশেষে স্কুল শিক্ষক তাকে দুটো উপদেশ দিয়ে বিদায় করলেন। কিছুক্ষণ পর আরেকটি ছেলে এসে নদীতে কুলি ফেলার কারণে তওবা করে গেল। তারপর আরেকজন। স্কুল শিক্ষক বেশ অবাক হলেন। এমন সময় চতুর্থ জন প্রবেশ করল। স্কুল শিক্ষক বললেন, ‘তুমিও কি নদীতে কুলি ফেলে এসেছ?’ চতুর্থজন রাগে চিৎকার করে উঠল, ‘রাখেন আপনার জ্ঞানের কথা। আমিই কুলি। পাশের স্টেশনে কাজ করি। তিন বদমাশ ছেলে আমাকে ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দিয়েছে। তাদের এদিকে আসতে দেখলাম মনে হয়।’

 

 

সাদেক

সাহেব অসুস্থ হয়ে কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এ সময়টুকু একজন হাসপাতালকর্মী তাঁকে খুব সাহায্য-সহযোগিতা করেন। ফলে রিলিজ হওয়ার দিন সাদেক সাহেব তাঁকে বেশ ভালো বকশিশ দিলেন। এত বকশিশ পেয়ে ওই কর্মচারী আনন্দে কেঁদে ফেলে বলল, ‘আবার আসবেন, স্যার।’

 

 

আম

চুরি করতে একটি ছেলে গাছে উঠেছে। গাছের মালিক হাতেনাতে তাকে ধরে ফেলল।

‘ওই বদমাশ, আমার আমগাছে কী করছিস?’ ‘ইয়ে··· আঙ্কেল··· মানে কয়েকটি আম মাটিতে পড়েছিল, ওগুলো গাছে তুলে রাখছি।’

 

 

পাগলা

গারদের এক ডাক্তার তিন পাগলের পরীক্ষা নিচ্ছেন। পরীক্ষায় পাস করলে তিনজনকে পাগলাগারদ থেকে মুক্তি দেওয়া হবে, কিন্তু ফেল করলেই পাঁচ বছরের জন্য তাদের আটকে দেওয়া হবে। ডাক্তার তিন পাগলকে একটা ফাঁকা, জলবিহীন সুইমিং পুলের সামনে নিয়ে গিয়ে ঝাঁপাতে বললেন। প্রথম পাগলটি তৎক্ষণাৎ তাতে ঝাঁপ দিয়ে পা ভেঙে ফেলল। দ্বিতীয় পাগলটিও ডাক্তারের নির্দেশমতো পুলে ঝাঁপ দিল এবং হাত ভেঙে ফেলল। তৃতীয় পাগলটি কিন্তু কোনোমতেই ঝাঁপ দিতে রাজি হলো না। ডাক্তারটি উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন, ‘আরে, তুমি তো কামাল করে দিয়েছ! যাও, তুমি মুক্ত। তবে একটা কথা বলো, তুমি পুলে ঝাঁপ দিলে না কেন?’

নির্দ্বিধায় পাগলটি জবাব দিল, ‘দেখুন ডাক্তারবাবু, আমি সাঁতারটা একেবারে জানি না!’

 

 

দুই

বন্ধু কথা বলছে-

‘শোন, কিপটেমিরও একটা সীমা আছে। এই একটা শার্ট তুই তিন বছর ধরে পরছিস!’

‘অসম্ভব! মাত্র দুই বছর ১১ মাস হয়েছে!’

 

 

 

 

রিডার্স ডাইজেস্টের কৌতুক(বাকি অংশ)

দুই প্রেমিক-প্রেমিকা ঠিক করেছে আত্মহত্যা করবে। উঁচু পাহাড় থেকে প্রথমে ছেলেটি ঝাঁপ দিল, কিন্তু মেয়েটি দিল না। সে চোখ বন্ধ করে বলল, ভালোবাসা অন্ধ।

এদিকে ঝাঁপ দেওয়ার পর ছেলেটি প্যারাসুট খুলে বলল, প্রকৃত ভালোবাসা কখনো মরে না!

 

 

ঘটনাটা আমাদের গ্রামের। যাকে নিয়ে এই ঘটনা, তার নাম রিয়াজউদ্দীন মুনশি। পৈতৃক সূত্রে প্রচুর পয়সার মালিক। কিন্তু মাথায় বুদ্ধি নেই এক ফোঁটা। তো, তার একবার শখ হলো বন্দুক কেনার। গ্রামের লোকও তাল দিল ‘হ্যাঁ হ্যাঁ, তোমার একটা বন্দুক না থাকলে চলে?’ যা-ই হোক, বহু কাঠখড় পুড়িয়ে শেষ পর্যন্ত সে একটি বন্দুক কিনল। লাইসেন্স করল। কয়দিন গ্রামে বন্দুক নিয়ে ঘুরল। গ্রামবাসী জানল, মুনশি বন্দুক কিনেছে। শুধু গ্রামবাসী নয়, ডাকাতেরাও জানল এই ঘটনা! এবং যা হয় তা-ই হলো, এক রাতে ডাকাতেরা এসে তাকে আচ্ছামতো প্যাঁদিয়ে বন্দুকটা ছিনিয়ে নিয়ে গেল। পাকিস্তান আমলের ঘটনা; সে সময় বন্দুক চুরি হওয়া মানে ভয়ংকর ব্যাপার, তার ওপর বন্দুক চলে গেছে ডাকাতদের হাতে! কী করা! পুলিশকে সে কী বোঝাবে? চটজলদি সে বাসায় একটা সিঁদ কাটল। চুরি যে হয়েছে বোঝাতে হবে না পুলিশকে! যথারীতি খবর পেয়ে পুলিশ এল। দেখল বাড়িতে সত্যিই সিঁদ কাটা! তার মানে চোর যে বন্দুক নিয়ে গেছে, তাতে আর কোনো সন্দেহ নেই! কিন্তু··· দারোগা সাহেব মুনশিকে কাছে ডাকলেন, ‘মুনশি সাহেব, চোর সিঁদ কেটে আপনার বন্দুক নিয়ে গেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই··· কিন্তু আমাকে বোঝান, সিঁদ কাটার মাটি আপনার ঘরের ভেতর এল কী করে?’ বলাই বাহুল্য, মুনশি সাহেব সিঁদ কেটেছেন তাঁর ঘরের ভেতর থেকেই!

 

 

দুজন স্কাই ডাইভার একবার ঠিক করল, প্লেন থেকে ঝাঁপ দেবে এবং মাটির খুব কাছে এসে তারা প্যারাসুট খুলবে। নতুন রেকর্ড করবে। তারপর তারা যথারীতি এক হাজার ফুট ওপর থেকে লাফ দিল। যখন ৭০০ ফুট নিচে এল, তখন একজন আরেকজনকে বলল-

‘এবার প্যারাসুট খুলি, কী বলো?’

‘না, আরও পরে।’

৪০০ ফুট নিচে নামার পর একজন আরেকজনকে বলল-

‘এবার প্যারাসুট খুলি, কী বলো?’

‘না, আরও নিচে নেমে।’

এরপর তারা যখন মাত্র ১০ ফুট ওপরে তখন একজন আরেকজনকে বলল-

‘এবার? মাত্র ১০ ফুট নিচে মাটি!’

‘আরে, ১০ ফুট কোনো ব্যাপার নাকি? ছোটবেলায় কত লাফিয়েছি!’

 

 

সীমান্ত এলাকায় এক লোক প্রায়ই সাইকেলে চেপে পিঠে দুটি বস্তা নিয়ে সীমান্ত পার হয়। সেনারা প্রতিদিন লোকটিকে থামিয়ে বস্তা দুটি খুলে তল্লাশি করে।

সব সময়ই দেখা যায়, বস্তায় শুধু বালু। লোকটিও অসংখ্যবার বালু আনা-নেওয়া করল এভাবে সাইকেলে চড়ে। অবশেষে একদিন তাকে আর দেখা গেল না। বহু দিন পর সীমান্তের এক সেনা ছুটি কাটাতে শহরে এসে দেখে, ওই লোকটি সামনে দিয়ে যাচ্ছে। সেনাটি বলল, ‘এই যে, আপনি! আমরা নিশ্চিত ছিলাম, আপনি কিছু চোরাচালান করছেন। কিন্তু কখনো বালু ছাড়া কিছুই তো আমরা পাইনি! বলুন তো, আসলে আপনি কী চোরাচালান করতেন?’

লোকটা বলল, ‘সাইকেল।’

 

 

গুল্লু আর গাবলু একদিন একটা রেস্তোরাঁয় গেছে। সুস্বাদু খাবার খাওয়ার পর গাবলু বলল, আমি তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি, গুল্লু!

গুল্লু উত্তর দিল, কিন্তু আমি তো তোমাকে একটুও ভালোবাসি না।

গাবলু বলল, ভালো করে ভেবে দেখেছ তো?

গুল্লু বলল, হ্যাঁ, হ্যাঁ, বললাম তো আমি তোমাকে একটুও ভালোবাসি না।

গাবলু বলল, আচ্ছা, ঠিক আছে। ওয়েটার, দুটো আলাদা বিল নিয়ে এসো তো।

গুল্লু সঙ্গে সঙ্গে বলল, ঠিক আছে, ঠিক আছে, আমিও তোমাকে খুব ভালোবাসি।

 

 

ইকবালঃ

কাল একটা চোর আমাকে চাকু দেখিয়ে সবকিছু লুটে নিয়েছে।

বাবরঃ কিন্তু তোর কাছে তো বন্দুক আছে, এই তো কদিন আগে কিনলি!

ইকবালঃ হিঃ হিঃ হিঃ, সেটা আমি লুকিয়ে রেখেছিলাম, না হলে ওটাও লুটে নিত।

 

 

একজন

সর্দারজি ডাক্তারকে ফোন করছেন!

সর্দারজিঃ ডাক্তার বাবু, আমার স্ত্রী গর্ভবতী, ওর খুব ব্যথা হচ্ছে।

ডাক্তারঃ এই কি তার প্রথম সন্তান?

সর্দারঃ না, আমি তার স্বামী কথা বলছি।

 

 

দুই

গরু কথা বলছে-

‘সেদিন ঘাস খেতে খেতে হঠাৎ করে সিনেমার টিকিট খেয়ে ফেলেছিলাম। তারপর দেখি, চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পড়ছে।’

‘কেন?’

‘সিনেমাটি বোধহয় খুব দুঃখের ছিল।’

 

 

এক

স্বামী আর একটি গাধার তফাত কী? একজন স্বামী গাধা হতেও পারে, কিন্তু একটি গাধা এতটা গাধা নয় যে সে কারও স্বামী হবে।

 

 

ভিখারিঃ স্যার, পাঁচটা টাকা ভিক্ষা দেন। পথচারীঃ আরে একটু আগেই তো তোমাকে পাঁচ টাকা দিলাম।

ভিখারিঃ অতীতের কথা ভুলে যান। অতীত নিয়ে পড়ে আছেন বলেই তো দেশের এই অবস্থা।

 

 

একটা বাচ্চা জন্মানোমাত্র নার্সকে বলল, মোবাইল আছে?

নার্সঃ কেন?

বাচ্চাঃ ঈশ্বরকে ডেলিভারি মেসেজ পাঠাতে হবে যে।

 

 

গৃহকর্তাঃ (ঘুমের ঘোরে) কে ওখানে?

চোরঃ আমি হ্যাবলা চোর।

গৃহকর্তাঃ ওখানে কী করিস?

চোরঃ চুরি করছি।

গৃহকর্তাঃ চুরি করবি তো হারমোনিয়াম বাজাচ্ছিস কেন?

চোরঃ আমাদের সর্দার যা নেব সব বাজিয়ে (পরখ করে) নিতে বলেছে। তাই হারমোনিয়াম বাজিয়ে নিচ্ছি।

 

 

নেতাঃ আগামী মাস থেকে আমরা যৌতুকবিরোধী আন্দোলনে নামব।

জনৈক ব্যক্তিঃ এ মাসে নয় কেন, স্যার?

নেতাঃ কারণ এ মাসে আমার ছেলের বিয়ে, আর আগামী মাসে আমার মেয়ের বিয়ে।

 

 

ছোট মামাকে নিয়ে ডাক্তারখানায় গেলাম। সারা শরীরে ব্যথা। ডাক্তার মামাকে দেখে প্রেসক্রিপশন লিখে হাতে ধরিয়ে দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে মামা আমাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে গেল। বলল, ‘হায় হায়! তাড়াতাড়ি চল, আমার ব্যাগ রেখে এসেছি।’ বলেই দ্রুত প্রস্থান করল। বাইরে এসে মামা বলল, ‘আরে হাঁদারাম, ডাক্তার যখন প্রেসক্রিপশন লিখছিল, দেখলাম শুধু নাপা ট্যাবলেট দিয়েছে, দুই দিনে ছয়টি খাওয়ার জন্য। ছয়টি ট্যাবলেট খেলে যদি অসুখ ভালো হয়ে যায়, তাহলে ৫০০ টাকা ভিজিট দিয়ে লাভ কী? তাই বুদ্ধি করে চলে এলাম।’ কী জ্ঞান মামার!

 

 

এক মা রান্না করছেন এবং একই সঙ্গে তাঁর মেয়েকেও পড়াচ্ছেন। তিনি তরকারির ঝোল খেয়ে দেখলেন, তাতে লবণ কম হয়েছে। তিনি মেয়েকে একই সঙ্গে লবণ ও অঙ্ক বই আনতে বলতে চাইলেন।

মেয়েঃ মা, কী বই আনব?

মাঃ (অন্যমনস্কভাবে) বয়াম থেকে অঙ্ক বই নিয়ে আয়।

 

 

সিরাজদ্দৌলা নাটকটি মঞ্চস্থ হবে। নাটকের পরিচালক নরেশ বিশ্বাস। নায়ক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিচালক তখন সিদ্ধান্ত নিলেন, তাঁর বন্ধুকে দিয়ে নাটক করাবেন। কিন্তু তাঁর বন্ধু কখনো অভিনয় করেননি। নরেশ বিশ্বাস অনেক বুঝিয়ে তাঁর বন্ধুকে রাজি করালেন এবং ভালো করে সব সংলাপ শিখিয়ে দিলেন। কিন্তু তাঁর বন্ধু মঞ্চে উঠে এত দর্শক দেখে সব ভুলে গেলেন। তার পরও নরেশের আশ্বাসে তিনি সংলাপ বলতে লাগলেন।

‘বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, বন্ধু নরেশ্যা, তোরে বলেছি আমারে মঞ্চে উঠায়চ্ছ্যা, হাঁটু কাঁপে পর্দা টান’-এই বলে তিনি কাঁপতে কাঁপতে পড়ে গেলেন।

 

 

চতুর্থ শ্রেণীর বিজ্ঞান ক্লাস চলছে। স্যার উদ্ভিদ নিয়ে আলোচনা করছেন। এক ছাত্রকে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতে দেখলেন।

স্যারঃ এই ছেলে, তুমি বলো তো, কোন জীব নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে?

ছাত্রঃ আমার আম্মু।

 

 

রফিকঃ জানিস, আমি এত হিসাবি যে আমার হানিমুনে বউকে নিয়ে যাইনি, হানিমুনের খরচ অর্ধেক করে ফেলেছি।

আবুলঃ হে হে হে! তোর থেকে আমি বেশি পয়সা বাঁচিয়েছি। আমি আমার বউকে আমার বন্ধুর সঙ্গে হানিমুনে পাঠিয়ে দিয়ে পুরো টাকাটাই বাঁচিয়েছি।

 

 

ছাত্রজীবনে একবার বুয়েটে গিয়েছিলাম এক ছাত্রনেতার সঙ্গে দেখা করতে (সেই নেতার নাম এখন আর লিখলাম না, সবাই চিনে ফেলতে পারে) কী একটা কাজে। সঙ্গে আমার আরেক বন্ধুও ছিল। তো এ কথা সে কথা চলছে, নেতা পকেট থেকে গোল্ডলিফের প্যাকেট বের করে একটা সিগারেট ধরালেন। আমি বললাম, ‘···ভাই, আমাকে একটা দেন।’ নেতা প্যাকেটটা ঘরের কোনায় ছুড়ে ফেলে বললেন, ‘আর নেই, এটাই খেয়ো।’ তো আবার এই আলাপ, সেই আলাপ চলতে লাগল। একপর্যায়ে আমি ঘরের মধ্যে হাঁটাহাঁটি করে শরীরটা চাঙা করে নিতে উঠলাম। কী মনে করে ঘরের কোনায় ফেলে দেওয়া নেতার খালি গোল্ডলিফের প্যাকেটটায় একটা লাথি দিলাম। দিয়েই বুঝলাম, ‘ডালমে কুছ কালা হ্যায়!’ মানে সিগারেটের প্যাকেট ভর্তি হ্যায়! আমি আর কোনো কথা না বলে প্যাকেটটা উঠিয়ে বাইরে চলে এলাম। বাইরে এসে প্যাকেট খুলে দেখি মাত্র দুটো সিগারেট খাওয়া হয়েছে। সেই নেতাকে মাঝেমধ্যে বড় বড় বক্তব্য দিতে দেখি। তখন মনে পড়ে যায় ছাত্রজীবনের ঘটনাটা। সাধারণ জনগণকে যিনি একটা সিগারেট দিতে কৌশল করেন, জাতি তাঁর কাছে আর কী আশা করতে পারে?

 

 

পত্রিকায় ‘লম্বা হোন’ বিজ্ঞাপন দেখে এক লোক গেল সেই অফিসে। কর্মচারী বলল, আপনাকে আগামীকাল আসতে হবে। কারণ, আমাদের ফরমগুলো কে যেন আলমারির ওপরে উঠিয়ে রেখেছে। আলমারিটা একটু উঁচু তো। আমরা কেউ নাগাল পাচ্ছি না।

 

 

ভিখারিকে দেখে গৃহিণী বললেন, ‘তোমাকে তো মনে হয় চিনি। মাস দুই আগে তোমরা কয়েকজন আমার এখানে খিচুড়ি খেয়ে গিয়েছিলে না?’

ভিখারি বলল, ‘হ, আম্মা। আমরা তিনজন আছিলাম। তার মধ্যে আমিই শুধু বাঁইচ্চা আছি। সেই খিচুড়ির ধাক্কা খালি আমিই সামলাইতে পারছিলাম।’

 

 

ছোট্ট স্টেশনে ট্রেনটা থামতেই এক যাত্রী প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছেলের হাতে চারটা টাকা দিয়ে বলল, ‘আমার জন্য দুটো শিঙাড়া নিয়ে এসো, আর দুটো তুমি খেয়ো।’ টাকা নিয়ে ছেলেটি ছুটে গেল, কিন্তু ফেরার নামটি নেই। ট্রেন যখন আবার চলতে শুরু করল, তখন ছেলেটি দৌড়াতে দৌড়তে এসে বলল, ‘দোকানে মাত্র দুইটা শিঙাড়াই ছিল। আমি আমার দুটো খেয়ে নিয়েছি। এই নিন আপনার বাকি টাকা।’

 

 

দুই ভাই লোভী দৃষ্টিতে মায়ের সদ্য তৈরি কেকটার দিকে তাকিয়ে আছে। সাত বছরের জিহাদ ছোট ভাই সোহানকে বলল, ‘এই, যা না, আম্মাকে গিয়ে বল আমরা এখন কেকটা কেটে খাব কি না।’

সোহান বলল, ‘তুমি বলো, ভাইয়া, তুমি তো আম্মাকে আমার চেয়ে বেশি দিন ধরে চেনো।’

 

 

ফায়ার সার্ভিস অফিসে একটা ফোন এল।

-হ্যাঁলো, এটা কি ফায়ার সার্ভিস অফিস?

-হ্যাঁ, বলুন।

-দেখুন, মাত্র কিছুদিন হলো আমি আমার ফুলের বাগান করেছি। ছোট্ট সুন্দর বাগান, নানা জাতের ফুল ফুটেছে···

-আগুন লেগেছে কোথায়?

-গোলাপের চারাগুলো খুব দামি, অর্ডার দিয়ে বিদেশ থেকে আনিয়েছি···

-কোথায় আগুন লেগেছে তা-ই বলুন, শিগগির।

-তাই তো বলছি। আগুন লেগেছে আমার পাশের বাড়ি। আপনারা তো এক্ষুনি আসবেন। তাই আগে থেকেই অনুরোধ করছি, আগুন নেভানোর ফাঁকে একটু পানি ছিটিয়ে দিয়েন, অনেক দিন পানি দেওয়া যাচ্ছে না।

 

 

 

 

এক নব্য ধনীর সদ্য কেনা গাড়িটি অ্যাক্সিডেন্টে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। তিনি চিৎকার করতে লাগলেন, ‘হায় হায়! আমার শখের গাড়িটা গেল রে!’ এক পথচারী দেখল, লোকটার একটা হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সে বলল, ‘গাড়ির জন্য চিৎকার করছেন, আপনার হাত যে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে!’

নব্য ধনী আরও জোরে চিৎকার করে উঠলেন, ‘হায় হায়! আমার দামি রোলেক্স ঘড়িটাও গেল রে!’

 

 

ঃ কম পেট্রলে বেশি মাইল চলবে-এ রকম কোনো গাড়ি নেই?

ঃ আছে। এই যে, এটা নিন। পেট্রল ছাড়াই চলবে।

ঃ তাই নাকি? কীভাবে?

ঃ কেন? অকটেনে!

 

 

এক শ্রমিক তার মালিককে বলল, স্যার, আমি একা তিনজনের কাজ করি। এবার আমার মাইনে বাড়িয়ে দিন। মালিক বলল, অসম্ভব। মাইনে বাড়াতে পারব না। বাকি দুজনের নাম বলো। ওদের ছাঁটাই করব।

 

 

ঃ গোল্ডফিসকে নতুন পানি দিয়েছিস ?

ঃ না, মা। কালকের পানিই তো এখনো খেয়ে শেষ করতে পারেনি।

 

 

ডাক্তারঃ আপনার স্বামীর বিশ্রাম দরকার, তাই কিছু ঘুমের ওষুধ প্রেসক্রাইব করলাম।

ভদ্রমহিলাঃ এগুলো আমার স্বামীকে কখন খাওয়াব?

ডাক্তারঃ এগুলো আপনার স্বামীর জন্য নয়, আপনার জন্য।

 

 

প্রথম ব্যক্তিঃ আমার তিন ছেলে। এর মধ্যে দুজন ডিগ্রি পাস। কিন্তু ছোট ছেলেটি মোটেও পড়াশোনা করেনি, তাই সে ভিখারি!

দ্বিতীয় ব্যক্তিঃ তা হলে ছোটটিকে বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছেন না কেন?

প্রথম ব্যক্তিঃ কী বলছেন, মশাই? একমাত্র ওই তো ভালো আয় করে!

 

 

রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটতে থাকা এক লোকের গায়ে লেগে গেল গাড়িটা। গাড়ির ভদ্রলোক রেগেমেগে বেরিয়ে এলেন গাড়ি থেকে।

ঃ দোষ আপনারই। গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা আমার ১০ বছরের।

ঃ মুখ সামলে কথা বলুন। অভিজ্ঞতা আমারও কম না। আমি ৫০ বছর ধরে রাস্তায় হাঁটছি।

 

Advertisements
কৌতুক সংগ্রহ-০৮ তে মন্তব্য বন্ধ
%d bloggers like this: