কৌতুক সংগ্রহ-০৭

রোগীঃ ডাক্তার, আমার না ভুলে যাওয়ার ব্যামোয় ধরেছে।

ডাক্তারঃ কবে থেকে এই রোগের শিকার হয়েছেন?

রোগীঃ অ্যাই ডাক্তার, কোন রোগের কথা বলছিস? আমি দিব্যি সুস্থ। খালি পয়সা বের করার ধান্দা, না।

 

 

দুই বন্ধু গেছি পদ্মাপারের গ্রামের বাড়ি বেড়াতে। পূর্ণিমার রাত। দুজনে চলে গেলাম পদ্মাপাড়ে। পা ঝুলিয়ে বসলাম। বন্ধুর কাব্য রোগ আছে, সে আবেগে আপ্লুত হয়ে উঠল। না উঠেই বা উপায় কী? ওপরে ফিনিক ফোটা জ্যোৎস্মা···, নিচে জলের কল্লোল··· কবি বন্ধু বলে উঠল, ‘ইচ্ছে করে এই গহিন রহস্যময় প্রকৃতির মধ্যে হারিয়ে যাই···’ বলামাত্রই ‘ঝুপ’ করে একটা শব্দ! দেখি আমার পাশে কেউ নেই! নদীর পাড় ভেঙে সে আক্ষরিক অর্থেই নিচে হারিয়ে গেছে। পরে তাকে উদ্ধার করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল।

 

 

আমি বড়লোকের এক ত্যাঁদড় ছেলেকে পড়াই। মহা ফাজিল ছাত্র! একদিন তাকে ট্রান্সলেশন পড়াচ্ছি। সে উল্টো আমাকে ট্রান্সলেশন ধরে বসল, ‘স্যার, বলেন তো, আমি হই কিন্তু দুই, এর ইংরেজি কী হবে?’

ঃ এটা আবার কী হলো?

ঃ বলেন না, স্যার।

ঃ আই অ্যাম বাট টু···

আমার ফাজিল ছাত্র দেখি হি হি হাসিতে ভেঙে পড়ছে। তখনই আমার খেয়াল হলো, আরে, সে তো আমাকে বোকা বানানোর জন্য কাজটা করেছে! বলাই বাহুল্য, আমি একটু খাটোই!

 

 

এক বুড়ো গাছ থেকে পড়ে হাত ভেঙে ডাক্তারের কাছে গেলেন-

ডাক্তারঃ গাছ থেকে পড়লেন কীভাবে?

রোগীঃ তোরা কে আছিস, আমাকে ধরে গাছে তুলে দে। আমি স্যারকে বুঝিয়ে দিই কী করে পড়লাম।

 

 

বাইরে থেকে দরজা নক করছে।

ভেতর থেকেঃ কে?

বাইরে থেকেঃ আমি।

ভেতর থেকেঃ আমি কে?

বাইরে থেকেঃ আরে, আপনি কে আমি কী করে বলব?

 

 

প্রথম বন্ধুঃ আমি কখনো পুলিশের মার খাইনি।

দ্বিতীয় বন্ধুঃ আমি প্রায় রোজই খাই।

প্রথম বন্ধুঃ বলিস কিরে?

দ্বিতীয় বন্ধুঃ কেন, জানিস না, আমার আব্বু একজন পুলিশ অফিসার?

 

 

বহুদিন পর আমার পুরোনো প্রেমিকার চিঠি পেলাম। চিঠির ভাষা ছিল এ রকম-

প্রিয় মজনু, তোমার সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙাটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। আজ আমি বুঝতে পেরেছি, পৃথিবীতে তুমিই আমায় সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতে। আমরা কি পারি না পুরোনো সম্পর্কটা নতুন করে তৈরি করতে? তোমার উত্তরের প্রতীক্ষায় রইলাম।

ইতি-তোমার জুলি

পুনশ্চঃ লটারিতে এক কোটি টাকা পাওয়ার জন্য অভিনন্দন।

 

 

একজন ক্রেতাঃ সর্দারজি, লসসিতে মাছি!

সর্দারজিঃ এত ছোট মন তোমার? একটা মাছির জন্য চেঁচাচ্ছ? ওই একটা ছোট্ট মাছি তোমার কতটা লসসিই বা খাবে।

 

 

বাবলু একদিন টিভি কিনতে দোকানে গেল। দোকানদারকে জিজ্ঞেস করল, এখানে কালার টিভি পাওয়া যায়?

দোকানদারঃ হ্যাঁ, আপনি নেবেন?

সর্দারজিঃ নেব বলেই তো এসেছি। আমাকে একটা সবুজ রঙের টিভি দাও তো?

 

 

দীপ্রঃ জানিস মিশু, আমার বাবা না ভীষণ ভীতু।

মিশুঃ তুই কী করে বুঝলি?

দীপ্রঃ যখনই রাস্তা পার হয়, তখনই আমার হাত শক্ত করে ধরে, আর বলে, হাত ছেড়ো না।

 

 

একদিন তুমুল ঝগড়ার পর গিন্নি তাঁর কর্তাকে বললেন, আমি মনে হয় পাগল ছিলাম যে তোমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছিলাম।

কর্তা বললেনঃ আর আমিও তোমার প্রেমে তখন এত হাবুডুবু খেয়েছিলাম যে খেয়াল করিনি তুমি পাগল।

 

 

ঃ শুনেছিস, সেই

লেখক ভদ্রলোক গাড়িচাপা পড়ে মারা গেছেন।

ঃ কোন লেখক?

ঃ ওই যে, যিনি ‘পায়ে হেঁটে নিরাপদে রাস্তায় চলার নিয়মাবলি’ বইটা লিখেছিলেন।

 

 

একটা লোককে কয়েকজন ধরে আচ্ছামতো মারছে। কিন্তু এত মার খেয়েও লোকটা হি হি করে হাসছে। মার শেষে লোকগুলো চলে গেলে এক পথচারী লোকটার হাসির কারণ জানতে এগিয়ে গেল, ‘এত মার খেয়ে আপনি হাসছেন কেন?’

লোকটা হাসতে হাসতে বলল, ‘হাসব না, লোকগুলো তো সব গাধা। ওরা ফজলু শেখ ভেবে আমাকে মারল। ফজলু শেখ তো আমার শত্রু, আমার নাম তো বজলু শেখ!’

 

 

ফাঁসির আসামিকে আগের দিন জেলখানার একজন কর্মচারী কথায় কথায় বললেন, ‘কাল তোমাকে ফাঁসি দিতে সরকারের ৫০০ টাকা খরচ হবে।’

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী আসামি অবাক হয়ে বললেন, ‘এত টাকা কেন?’ কারা-কর্মচারী হিসাব দিলেন, জল্লাদ আর তার সহকারীরা পাবে ৩০০ টাকা, ফাঁসির পোশাক বাবদ ১০০ টাকা, দড়ি-ফাঁসির অন্যান্য সরঞ্জামের জন্য আরও ১০০ টাকা।

খরচের বর্ণনা শুনে আসামি ব্যবসায়ীটি খানিকক্ষণ কী যেন ভাবলেন। তারপর বললেন, ‘এত খরচের দরকার কী? কারা কর্তৃপক্ষ আমাকে ১০০ টাকা দিক, আর দুই টাকা দিয়ে একটা দড়ি কিনে দিক। আমি নিজেই গলায় দড়ি দিয়ে মরি। আমারও কিছু লাভ হবে, সরকারেরও সাশ্রয় হবে।’

 

 

একদা সচ্ছল, এখন সর্বস্বান্ত এক মহাজনকে সন্ধ্যার অন্ধকারে দুজন ছিনতাইকারী পাকড়াও করল। মিনিট পনেরোর মতো মহাজন প্রাণপণে লড়ে গেলেন ছিনতাইকারী দুজনের সঙ্গে। অবশেষে কাবু হলেন। অনেক খুঁজে ছিনতাইকারী তাঁর শার্টের পকেট থেকে একটা আধুলি পেল মাত্র।

এক ছিনতাইকারী তখন অন্য ছিনতাইকারীকে বলল, ‘সর্বনাশ! এর কাছে যদি পুরো একটা টাকাও থাকত, তাহলে আমাদের আর প্রাণে বাঁচতে হতো না!’

 

 

প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য দুই সৈনিক দুটি বোমা নিয়ে গাড়িতে করে যাচ্ছিল। একটি বোমা ছিল একজনের কোলে। সে চালক সৈনিককে বলল, ‘আস্তে চালাও, যেকোনো মুহূর্তে বিস্কোরণ ঘটতে পারে।’

চালক সৈনিক আশ্বস্ত করল, ‘চিন্তা কোরো না, গাড়ির পেছনে আরেকটা বোমা তো আছেই।’

 

 

এক ছেলে মিষ্টি খেতে খেতে পেট ভরে একেবারে অজ্ঞান হয়ে গেছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর-

ডাক্তারঃ একটু হাঁ করে এই ট্যাবলেটটা খাও তো, বাবা।

রোগী ছেলেঃ এই ট্যাবলেট খাওয়ার জায়গা থাকলে আমি আরেকটি মিষ্টি খেতাম।

 

 

বাসা খালি। পাহারায় আছি আমি আর আমার এক সমবয়সী মামু। দারুণ আনন্দে কাটছে দিন, যা ইচ্ছা তা-ই করছি আমরা। স্বাধীন জীবন দুজনের। এর মধ্যে হঠাৎ গেস্ট এসে হাজির। হায় হায়, এখন কী করা? নিজেদের স্বাধীন জীবনে বাড়তি উৎপাত কিছুতেই সহ্য করা হবে না। কী করা যায়? দুজনে মিলে বুদ্ধি করলাম। গেস্ট সকালে বেরিয়ে যায়, সন্ধ্যায় আসে। আমরা ঠিক করলাম, সন্ধ্যায় আমরা গা ঢাকা দেব। সে সন্ধ্যায় বাসায় ঢুকতে পারবে না, পরে বাধ্য হয়ে কেটে পড়বে। যেই ভাবা, সেই কাজ। দুজনে সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মেরে শ্যামলী হলে সেকেন্ড শোতে সিনেমা দেখতে ঢুকে পড়লাম। সিনেমা শেষ হতে হতে রাত ১২টা। আমাদের গেস্ট কি আর আমাদের জন্য সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে? বিরতির সময় দুজন বাইরে এলাম সিগারেট টানতে। বাইরে এসে দেখি আমাদের গেস্ট! সেও সিগারেট টানছে!!

ঃ আ-আপনি?

ঃ বাসায় তালা দেখে কিছুক্ষণ অপেক্ষায় থেকে বুদ্ধি করে সেকেন্ড শো সিনেমায় ঢুকে পড়লাম। যাক, ভালোই হলো, তোমরাও···।

তারপর আর কি···বাকি ছবি তিনজন একসঙ্গে দেখলাম।

 

 

একদিন আজিমপুর থেকে বাসে এক খিটখিটে মহিলা উঠে কন্ডাক্টরকে বললেন, ‘আমি কল্যাণপুর নামব।’ পাছে কন্ডাক্টর ভুলে যান, এই ভয়ে প্রতি স্টপেজে তাঁকে প্রশ্ন করতে থাকেন, ‘এটা কল্যাণপুর?’ গাড়িটা যখন সিটি কলেজের কাছে এসেছে, মহিলা আগের মতোই ধৈর্য রাখতে না পেরে কন্ডাক্টরের পিঠে খোঁচা মেরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এটা কল্যাণপুর?’ কন্ডাক্টর চমকে উঠে ঘুরে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘জি না, ওটা আমার পিঠ।’

 

ঠাকুর মা বেপরোয়া রাস্তা পার হচ্ছে দেখে পুলিশ সিটি বাজাল। কিন্তু ঠাকুরমা থামল না। পুলিশ দৌড়ে এসে জিজ্ঞেস করল, ‘কী ঠাকুমা, এই গাড়িঘোড়ার মধ্যে তুমি রাস্তা পার হচ্ছ! আমি সিটি বাজালাম, তা-ও তুমি থামলে না কেন?’ ঠাকুরমা একগাল হেসে বলল, ‘বাবা, সিটি শুনে দাঁড়াবার বয়স কি আমার আছে?’

 

 

চীনারা বাচ্চাদের নামকরণ কীভাবে করে জানেন? বাচ্চা হলে নাকি তারা ঘরের হাঁড়িকুড়ি, বাসনপত্র সব আকাশে ছুড়ে দেয়। তারপর ওগুলো একটা একটা করে পড়তে থাকে। কোনোটা ‘ট্যাং’ শব্দে পড়ে, কোনোটা ‘চ্যাং’ আর কোনোটা ‘প্যাং’ শব্দে···। ওই শব্দ থেকে তারা একটা নাম পছন্দ কের নেয়।

 

 

মাঃ ডিনার খেতে অনেক গেস্ট আসবে এখন। যাও, তাড়াতাড়ি হাত-মুখ ধুয়ে ভালো কাপড়চোপড় পরে তৈরি হয়ে এসো।

ছেলেঃ গেস্টরা কি আমাকেই খাবে!

 

 

এক ইংরেজ ভদ্রলোক বাংলাদেশের কাঁঠালবাজারে কাঁঠাল দেখছেন-

কাঁঠাল ব্যাপারিঃ আহেন স্যার, ভালা কাঁডাল আছে।

ভদ্রলোকঃ আই সি।

কাঁঠাল ব্যাপারিঃ আইছেন যহন, বহেন (পিঁড়ি এগিয়ে দেয়)।

ভদ্রলোকঃ ওকে, ওকে।

কাঁঠাল ব্যাপারিঃ ও আমার ভাতিজা, স্যার। নেন, স্যার, কাঁডাল মিষ্টি বেশি।

ভদ্রলোকঃ মিটসুবিশি? ইজ ইট এ কার?

কাঁঠাল ব্যাপারিঃ বিশ্বাস করেন, স্যার, এগুলো আমার!

 

 

কাস্টমারঃ আমাকে একটা পান দেন তো।

দোকানদারঃ আপনি কি খয়ার খান?

কাস্টমারঃ নাহ্‌! আমার নাম ইমরান খান।

 

 

প্রথম বন্ধুঃ জানিস, আমি না একটা চীনা রেডিও কিনেছি।

দ্বিতীয় বন্ধুঃ তুই কী বোকা, তুই তো চীনা ভাষাই জানিস না।

 

দুই বন্ধুর মধ্যে কথা হচ্ছে-

প্রথম বন্ধুঃ আচ্ছা, বল তো পৃথিবীতে সবচেয়ে বাচাল কে?

দ্বিতীয় বন্ধুঃ কে?

প্রথম বন্ধুঃ ঘড়ি! সব সময় টক টক···।

 

 

ভিক্ষুকঃ মাগো! দুটো ভিক্ষা দিন, মা।

বাড়ির মালিকঃ বাড়িতে মানুষ নেই, যাও।

ভিক্ষুকঃ আপনি যদি এক মিনিটের জন্য মানুষ হন, তাহলে খুব ভালো হতো।

 

 

স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা আরম্ভ হলো। পরীক্ষার হলে এক ছাত্রী জোরে জোরে কাঁদছে।

শিক্ষকঃ তুমি কাঁদছ কেন?

ছাত্রীঃ আমার রচনা কমন পড়েনি।

শিক্ষকঃ কেন? কী এসেছে?

ছাত্রীঃ এসেছে ‘ছাত্রজীবন’। স্যার, আমি তো ছাত্রী। ‘ছাত্রজীবন’ লিখব কীভাবে।

 

 

ঃ সবাই বলে আমার বুদ্ধি নাকি নামতে নামতে অনেক নিচে নেমে এসেছে। এখন কী করি ?

ঃ কী আর করবি, মাথা ব্যথা হলে জুতার ভেতরে আøাসপিরিন ট্যাবলেট ভরে রাখিস।

 

 

একজন ছাত্র পরীক্ষা দিতে গিয়ে দেখল, সে কোনো উত্তর পারে না। তখন ছাত্রটি খাতায় লিখল, ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম, নম্বর দেওয়া স্যারের কাম।’

পরীক্ষার কাগজ পেয়ে শিক্ষকও খাতায় লিখে দিলেন, ‘হরে হরে হরে, নম্বর কি গাছে ধরে?’

 

 

প্রথম দিন

একটা ছেলে একটা মেয়েকে নিয়ে পার্কে গেল, দ্বিতীয় দিন ওই ছেলেটিই অন্য একটা মেয়েকে নিয়ে পার্কে গেল, তৃতীয় ও চতুর্থ দিনও ওই ছেলেটির সঙ্গে অন্য দুটি নতুন মেয়েকে দেখা গেল।

নীতিবাক্যঃ মেয়েরা পালটে যায়। ছেলেরা পাল্টায় না।

 

 

আসাদঃ

আমি বিয়ে করলাম কেন, জানিস?

সাগরঃ কেন রে?

আসাদঃ আরে! রান্নাবান্না, জামাকাপড় কাচা, বাড়িঘর পরিষ্কার করা, বাজার করা···উফ! এত কাজ আর একলা করতে পারছিলাম না, তাই বিয়ে করে নিলাম।

সাগরঃ দারুণ! তুই কি জানিস এই একই কারণে আমার ডিভোর্স হয়েছে?

 

 

শিক্ষক

ও ছাত্রের মধ্যে কথা হচ্ছে-

শিক্ষকঃ ‘বৃষ্টি পড়ছে’-এর Translation করো।

ছাত্রঃ Rain is reading.

 

 

একদিন

এক স্ত্রী তার স্বামীর জন্য খুব যত্ন নিয়ে চটপটি তৈরি করল। স্বামী এক চামচ মুখে দিয়েই ওয়াক করে ফেলে দিল আর বলল, ‘এটা কী রেঁধেছ? খেতে গরুর গোবরের মতো!’ স্ত্রী আঁচল দিয়ে মুখ চাপা দিয়ে বলল, ‘ও মা! কত কিছু টেস্ট করে রেখেছে!’

 

 

ভদ্রমহিলাঃ

আজ একটা জরুরি কাজ আছে। সব রান্না একটার মধ্যে সেরে ফেলতে হবে।

বুয়াঃ বাড়িতে কোনো বড় পাতিল নেই তো! তাহলে রান্না একটার মধ্যে শেষ করব কীভাবে?

তাসদিক হোসেন, পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম

 

তাঁর সামনে কখনো আমি মুখ খোলার সুযোগ পাই না, একমাত্র হাই তোলা ছাড়া।

 

 

বাবুলঃ আসলাম, তোর বাড়িতে দেখলাম তোর বউ তোর এক বন্ধুর হাত ধরে বসে আছে!

আসলাম রেগেমেগে অফিস থেকে বেরিয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর সে ফিরে এসে বাবুলকে জোরে এক থাপড় মেরে বলল, ‘ওটা আমার বন্ধু নয়, কেন আমাকে শুধু শুধু বাড়ি পাঠালি?’ দীপান্বিতা, সূত্রাপুর, ঢাকা

 

 

 

শাশুড়িঃ

ঈশ্বর দুটো চোখ দিয়েছে কী করতে? চাল থেকে দুটো কাঁকর বাছতে পার না? রোজ খেতে বসে এক জিনিস- দাঁতে কাঁকর।

বউমাঃ ঈশ্বর বত্রিশটা দাঁত দিয়েছে কী করতে? দুটো কাঁকর চিবোতে পারেন না?

 

 

বাবুর বান্ধবীর হাতের নখ কামড়ানোর নোংরা একটা অভ্যেস ছিল। ওই বদ অভ্যেসটা কাটানোর জন্য বাবু বান্ধবীকে যোগব্যায়ামের ক্লাসে ভর্তি করে দেয়। কয়েক দিন পর বাবু প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গেল। দেখল, ওর হাতের নখগুলো বেশ বড় হয়ে গেছে। তখন বাবু বেশ হাসিমুখে বলল, ‘দেখলে তো, যোগব্যায়ামে ভর্তি করে তোমার নখ খাওয়া কেমন বন্ধ করলাম।’ বাবুর প্রেমিকা বলল, ‘না, সোনা, আমি নখ খাওয়া ছাড়িনি। যোগব্যায়াম করে আমি এখন পায়ের নখও মুখে আনতে পারি।’

 

 

শিক্ষকঃ বলতে পার, ধূমপান কোন কারকে কোন বিভক্তি?

ছাত্রঃ স্যার, ধূমপান ক্ষতিকারকে পকেটশূন্য বিভক্তি।

 

 

ছেলেঃ দেখ, আমার মনে হয় এবার আমাদের বিয়ে করে নেওয়া উচিত।

মেয়েঃ সেটা মানছি, কিন্তু কারা এমন মানুষ আছে যে আমাদের বিয়ে করতে রাজি হবে?

 

 

পম্পিঃ

বাবলু, তোর গরম লাগলে তুই কী করিস?

বাবলুঃ কী আবার করব? এসির পাশে গিয়ে বসি।

পম্পিঃ তাতেও যদি তোর গরম না কমে?

বাবলুঃ তখন এসি অন করি।

 

 

টিটুঃ জানিস, আমি একদিন রাস্তায় খেলা করছিলাম, তখন একটা গাড়ি এসে আমাকে চাপা দিয়ে চলে যায়।

তিন্নিঃ এ বাবা! তারপর কী হলো? তুই কি বেঁচে গিয়েছিলি?

টিটুঃ ঠিক মনে নেই রে। তখন আমার মাত্র তিন বছর বয়স ছিল।

 

 

এক ভদ্রলোক তাঁর স্ত্রীকে জোরে একটা চড় মেরে বললেন, ‘যাকে মানুষ ভালোবাসে তাকেই মারে।’

তাঁর স্ত্রী তাঁর গালে দ্বিগুণ জোরে এক চড় মেরে বললেন, ‘তুমি কি ভাব, আমি তোমাকে ভালোবাসি না?’

 

 

শাহেদঃ কিরে! ছুরিটা গরম জলে ফোটাচ্ছিস কেন?

পলাশঃ আমি আত্মহত্যা করব ওই ছুরি দিয়ে।

শাহেদঃ তার জন্য ওটাকে গরম করার কী দরকার?

পলাশঃ উফ! যাতে ইনফেকশন না হয়, তাই ওটাকে ফুটিয়ে নিচ্ছি।

 

 

ভিখারি

বলল, বাবু, একটা টাকা দিন।

ভদ্রলোক বললেন, কাল এসো।

ভিখারি বলল, এই কালকের চক্করে, আমার প্রায় লাখখানেক টাকা আটকে আছে এই পাড়ায়।

 

 

প্রতিদিন মেয়েকে ভোর সাতটায় স্কুলে দিয়ে তার কাজে চলে যায় আমার স্ত্রী (সে একটা স্কুলের টিচার)। আর ১০টায় আমি মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে এসে বাসায় রেখে অফিসে যাই। এই হচ্ছে প্রতিদিনকার ডিউটি। একদিন সর্বনাশ হলো! আমার যেটা কখনোই হয় না। ঘুম ভাঙল সাড়ে ১০টায়! আমি প্রায় লাফিয়ে উঠলাম!! মেয়ের স্কুল ছুটি হয় ১০টায় আর আমি সাড়ে ১০টায় উঠলাম! কোনোরকমে শার্টটা পরে প্রায় ছুটে বেরোলাম। বাসা থেকে স্কুলে এমনিতে রিকশায় যাই, সেদিন স্কুটার নিলাম। গুলির মতো স্পিডে স্কুলে পৌঁছালাম, গিয়ে দেখি স্কুল বন্ধ! শুক্রবার! আমি হতভম্ভ হয়ে বাসায় ফিরে এসে দেখি, আমার মেয়ে আমার পাশেই তখনো ঘুমাচ্ছে। স্ত্রী বাথরুমে। আমি সমস্ত ব্যাপারটাই চেপে গেলাম।

 

 

অফিসে

বসে কম্পিউটারে একটা বাংলা দরখাস্ত টাইপ করছিলাম। টাইপ শেষ করে প্রিন্ট দিলাম, প্রিন্ট বের হচ্ছে না। ব্যাপার কী ঠিক বুঝলাম না। যা-ই হোক, বের যখন হচ্ছে না, এটা নিয়ে মাথা ঘামালাম না আমি; অন্য একটা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। এ সময় আমার পাড়াতো ছোট ভাই মুরাদ এল (সে মাঝেমধ্যে এসে আমার অফিসে টুকটাক কাজ করে নিয়ে যায়)। সে এসেই কী একটা ইংরেজি দরখাস্ত টাইপ করতে লেগে গেল। আমি আমার কাজে ব্যস্ত রইলাম। মুরাদ টাইপ শেষ করে প্রিন্ট দিল এবং সে দেখি আঁতকে উঠল, ‘একি, টাইপ করলাম ইংরেজিতে, বেরোচ্ছে বাংলায় দরখাস্ত!’ আমি তখন বুঝে গেছি দরখাস্তের ভাষা তো প্রায় একই। আমার বাংলা দরখাস্তটা তখন বের হয়নি কোনো কারণে, মেমোরিতে রয়ে গিয়েছিল, এখন সেটা বেরোচ্ছে। মুরাদ আমায় জিজ্ঞেস করল, আমি এমন কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল করেছি কি না, যেটা ইংরেজিতে টাইপ করলে বাংলায় অনুবাদ হয়ে যায়। আমি এবার একটা ভাব নিলাম, ‘হ্যাঁ, নতুন একটা সফটওয়্যার বাজারে এসেছে, তুই জানিস না?’ মুরাদ বোকার মতো আমার দিকে তাকিয়ে রইল!

 

 

ঃ ডাক্তার সাহেব, চশমা নেওয়ার পর কি আমি এ বি সি ডি পড়তে পারব?ঃ অবশ্যই পারবেন।

ঃ এবার দেখব, কোন শালায় কয় আমি ইংরেজি পারি না।

 

 

এক ভদ্রলোকঃ স্যার, আমার বউ হারিয়ে গেছে।

ডাক্তারঃ এটা হাসপাতাল, এখানে বলে কোনো লাভ নেই। পুলিশ স্টেশনে গিয়ে কমপ্লেন করুন।

ভদ্রলোকঃ আসলে আনন্দের চোটে মাথাটা ঠিক কাজ করছে না।

 

 

নসু মামা নতুন লেমিনেশনের ব্যবসায় নেমেছেন। তাই যা-ই পান, তাই লেমিনেশন করে ফেলেন। যেমন, ভাগ্নে-ভাগ্নিদের সার্টিফিকেট, বাসার ইলেকট্রিক বিল, টেলিফোন বিল-কোনো কিছু বাদ নেই লেমিনেশনের। আমরা তাঁকে নিয়ে আড়ালে হাসাহাসিও করতাম। যা-ই হোক, সেই নসু মামা প্রেমে পড়লেন এবং ঢাকঢোল পিটিয়ে তাঁর প্রেমিকাকে বাসায় এনে পরিচয়ও করিয়ে দিলেন। এর কয় দিন পর আমি দুই বছরের জন্য বিদেশ চলে যাই। ফিরে এসে শুনি, মামা ছ্যাঁক খেয়েছেন; লেমিনেশনের ব্যবসাও আর নেই। এর মধ্যে একদিন এক বন্ধুর বড় ভাইয়ের বিয়ে খেতে গেছি। গিয়ে দেখি নতুন বউ আর কেউ নয়, সেই নসু মামার প্রেমিকা! এর কয় দিন পর একদিন বন্ধুর বাসায় গিয়ে নতুন ভাবিকে (মানে ভূতপূর্ব নসু মামি) সুযোগমতো পেয়ে জানতে চাইলাম, আমাদের নসু মামাকে কেন তিনি ত্যাগ করেছিলেন? উত্তরে তিনি একটু অপ্রস্তুত হলেন। তারপর সামলে নিয়ে বলেন, ‘দেখো, সে আমাকে প্রেমপত্র দিত লেমিনেশন করে···’ বাকিটা আমি আর শুনতে চাইনি। কোনোমতে হাসি চেপে বাসায় ফিরেছি।

 

 

দুই ব্যক্তির মধ্যে কথা হচ্ছে-

১ম ব্যক্তিঃ ভাই, আপনি বিয়ে করেছেন?

২য় ব্যক্তিঃ হ্যাঁ।

১ম ব্যক্তিঃ কাকে?

২য় ব্যক্তিঃ একটা মেয়েকে।

১ম ব্যক্তিঃ কেউ কি ছেলেকে বিয়ে করে?

২য় ব্যক্তিঃ হ্যাঁ, করে। গত বছর আমার বোন একটা ছেলেকে বিয়ে করেছিল।

 

 

এক ভদ্রলোকঃ আমি আমার বউকে ডিভোর্স দিতে চাই।

আইনজীবীঃ কারণ কী?

ভদ্রলোকঃ আমার বউ আমার সঙ্গে গত ছয় মাস কোনো কথা বলেনি।

আইনজীবীঃ ব্যাপারটা ভালো করে ভেবে দেখুন। এ রকম নীরব স্ত্রী কিন্তু খুব একটা সহজে পাওয়া যায় না।

 

 

এক এলাকায় আগুন লেগেছে। বিশাল আগুন! সঙ্গে সঙ্গে গুলির বেগে ছুটে এল দমকল বাহিনী। এবং দ্রুত এসে ধুপধাপ তারা আগুন নিভিয়ে ফেলল। তাদের এই কাজ দেখে খুশি হয়ে এলাকার লোকজন চাঁদা তুলে তাদের পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার দিল। তারপর তারা জানতে চাইল, এই যে পাঁচ হাজার টাকা পেল; এ দিয়ে তারা কী করবে। উত্তরে দমকল বাহিনীর লোকেরা জানাল, তাদের কোনো গাড়িতেই ব্রেক নেই! ব্রেক লাগাবে!

 

 

এক ছেলে তার বান্ধবীকে বলল, যখন ওই ইংরেজ ছেলেটা তোমার হাত ধরল, তুমি তাকে ধমক দিলে না কেন? বান্ধবী বলল, কীভাবে দেব। আমি তো ইংরেজি জানি না।

 

 

আমার বন্ধু সদ্য ডাক্তারি পাস করেছে। সে বেচারা প্রেমে পড়ে হঠাৎ একদিন বিয়ে করে বসল। বাসাতেও জানাজানি হলো; কেউ খুব একটা আপত্তি করল না। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, সে বউ নিয়ে কোথায় উঠবে? একান্নবর্তী পরিবার, সে নিজেই থাকে ড্রইংরুমের সোফায়! গার্জেনরা বলল, ‘আলাদা বাসা নে।’ সেই সংগতি তার এই মুহূর্তে নেই! কী করা, অন্তত বাসর রাতটা তো করা চাই! শেষ পর্যন্ত সে নিজেই একটা বুদ্ধি বের করল! সে জন্ডিসের রোগী হিসেবে সাত দিনের জন্য এক হাসপাতালে ভর্তি হয়ে গেল! ওই হাসপাতালের ডাক্তার বন্ধুরা তাকে সাহায্য করল। সব ঠিক, বউ এসে থাকবে; জন্ডিস রোগীর সেবা তো দরকার!

তা অবশেষে সে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। নির্দিষ্ট কেবিনে বউও এসে হাজির। বেশ রোমান্টিক অবস্থা! হঠাৎ রাত ১০টায় তার মা আর দুই বোন এসে হাজির! তিনি কীভাবে কীভাবে খবর পেয়েছেন, তাঁর ছেলে সিরিয়াস জন্ডিস বাধিয়ে হসপিটালাইজড। এসেই হুলস্থুল লাগিয়ে দিলেন, ‘তোর এত খারাপ অবস্থা, আমাদের জানালি না···বউমা, তুমিও তো জানাতে পারতে। বিয়ে করেই ভুলে গেলি··· বউমা, তুমি বাড়ি যাও, নতুন বউয়ের হাসপাতালে থাকার দরকার নেই, আমরা আছি···’ সে রাত মা আর বোনদের সেবা নিয়েই আমার ডাক্তার বন্ধুকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। তবে পরদিনই সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। জন্ডিস রোগের ইতিহাসে ইতিপূর্বে এত দ্রুত কাউকে পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন বলে শোনা যায়নি।

 

 

ঃ তা ভাবার কি আছে ? সবাইকে তো মরতে হবে।

ঃ না, ভাবছি, শেষে যে মরবে তাকে নিয়ে যাবে কে ?

 

 

হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করুন

-, আমার নাম মফিজ। -, আমি একটা

পাগল। -, আমার মতো পাগলের কোনো ওষুধ নেই। -, আমিই বলদ। -, আমাকে দেখে সবাই মজা পায় এবং হাসে। কিন্তু -, এতে আমার কোনো দুঃখ নেই।

 

 

স্বামী ও স্ত্রী বসে আছে। এমন সময় ছেলে এসে বলল, বাবা তুমি আম্মুকে বিয়ে করেছ কেন? স্বামী স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললঃ দেখেছ, আমাদের ছেলেও এটাতে বি্নিত!

 

 

আমাদের স্কুলের আজিজ স্যার এত কড়া যে তুই যদি পরীক্ষায় ফুলস্টপ উল্টো করে লিখিস, তবুও তোকে ফেল করিয়ে দেবে।

 

 

রতন তার বন্ধুকে ডেকে বললেন, ওরে, তোর মেয়ে সুইটির অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে, এইমাত্র খবর এসেছে।

বন্ধুটি এক কথা শুনেই দুঃখের চোটে দশতলার জানালা থেকে ঝাঁপ দিল। যখন সে আটতলার কাছে এল, তখন তার মনে হলো, তার তো কোনো মেয়েই নেই! যখন ছয়তলায় এল তখন মনে পড়ল, তার তো বিয়েই হয়নি। আর যখন সে একতলার কাছাকাছি এল, তখন তার মাথায় এল, আরে, আমার নাম তো জসবিন্দর সিংহ!

 

 

একদিন মধ্যরাতে মাথাব্যথার কারণে স্ত্রী সম্পাকে ডেকে তুললাম। চা খাব। সম্পা চোখে ঘুম নিয়েই চা করতে গেল। কিছুক্ষণ পর চা নিয়ে এসে দিয়েই শুয়ে পড়ল। চায়ের কাপে চুমুক দিয়েই দৌড়ে গিয়ে বেসিনে বমি করলাম। হঠাৎ সম্পা বলে উঠল, ‘সবারই এই সময়টাতে এমন বমি বমি ভাব হয়।’

আমি আজও বুঝিনি সম্পা কেন ওই কথা বলেছিল। তবে পরে ও বলেছিল, ‘হয়তো ঘুমের ঘোরে বলেছিলাম।’ আমিও বলেছিলাম, ‘সেদিন তুমি ঘুমের ঘোরে আমাকে শুধু প্রেগন্যান্টই ভাবোনি, চায়ের মধ্যে চিনির বদলে আয়োডিনযুক্ত লবণ দিয়েছিলে।’

 

 

শিক্ষক ছাত্রের খাতা দেখে মন্তব্য লিখেছেন, ‘হাতের লেখা ভালো করতে হবে।’

ছাত্রঃ স্যার, আপনি কী লিখেছেন পড়তে পারছি না।

 

 

মেয়েঃ মা, তুমি কি বিয়ের আগে ‘ড্রিল মাস্টার’ ছিলে?

মাঃ না তো, কিন্তু এ প্রশ্ন কেন?

মেয়েঃ দাদু, ফুপি সবাই বলে যে বাবা তোমার কথায় উঠ-বস করে।

 

 

ঃ বোকার মতো অভিনয় করবে না।

ঃ আমি অভিনয় করছি না।

 

 

গ্রামের শিক্ষিত এক ছেলেকে অশিক্ষিত লোক জিজ্ঞাসা করছে-

এই ছেলে, তুমি কত দূর পড়ালেখা করেছ? শিক্ষিত লোকঃ বিএ পাস করেছি।

অশিক্ষিত লোকঃ দুই অক্ষর পড়েছে, তা-ও আবার উল্টো।

 

 

স্বামী স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করল, বিয়ের আগে তুমি কি কারও সঙ্গে প্রেম করেছ? স্ত্রী বলল, হ্যাঁ। স্বামী রেগে বলল, তাহলে ওই হতচ্ছাড়ার নাম বলো। এক্ষুনি গিয়ে দাঁত ভেঙে দিয়ে আসি। স্ত্রী বলল, ওগো, তুমি একা কি তাদের সবার সঙ্গে পারবে?

 

 

বাবাঃ তোমাকে এবার পরীক্ষায় ৯৬ ভাগ নম্বর পেতেই হবে।

ছেলেঃ না বাবা, আমি ১০০ ভাগ নম্বরই পাব।

বাবাঃ আমার সঙ্গে ইয়ার্কি মারছ তুমি?

ছেলেঃ কে প্রথম শুরু করেছে বাবা?

 

 

লাথি মার ভাঙরে তালা, যতসব বন্দীশালা, আগুন জ্বালা। অশিক্ষিত মাঃ খোকন, এত বাজে কথা কোথা থেকে শিখেছ?

খোকাঃ মা, এ তো আমার কথা নয়, নজরুলের কথা।

মাঃ তাহলে আর কখনো ওসব বাজে ছেলের সঙ্গে মিশবে না।

 

 

জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রচণ্ড গরমে এক দুপুরে কোনো একটা প্রেক্ষাগৃহে এক বিচিত্রানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। ঘটনাক্রমে সেদিন এয়ারকন্ডিশনার যন্ত্র বিকল থাকায় শুধু পাখার ব্যবস্থা ছিল। তবু গরমের প্রচণ্ডতায় কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

হঠাৎ এক বুড়োমতো ভদ্রলোককে মেঝেতে হামাগুড়ি খেয়ে পড়তে দেখলেন তাঁরই পাশে বসা ফার্স্ট এইডের ট্রেনিং নেওয়া ভদ্রমহিলা। তিনি সঙ্গে সঙ্গে উবু হয়ে বসে ভদ্রলোককে পরামর্শ দিলেন, ‘মাথাটা দুই হাঁটুর মধ্যে গুঁজে চুপচাপ বসে থাকুন। মাথায় রক্ত চলাচল হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।’

ভদ্রলোক যতবারই উঠে বসতে চান, মহিলাটি ততবারই তাকে জোর করে দুই হাঁটুর মধ্যে মাথা গুঁজে বসে থাকতে বাধ্য করেন আর বলেন, ‘এই তো এক্ষুনি সব ঠিক হয়ে যাবে।’

না পেরে ভদ্রলোক শেষে চেঁচিয়ে উঠে বললেন, ‘একটা লোকের চশমা হারিয়ে গেলে তা খোঁজার কোনো অধিকারও কি থাকবে না? আমি তো আমার চশমা খুঁজছিলাম মেঝেতে।’

 

 

ঃ ভুল করে সবচেয়ে বেশি কী খোলা হয়, জানো?

ঃ মুখ।

 

 

রহিমঃ

তুই নাকি টাকা ধার নিয়েছিস জহিরের কাছ থেকে।

করিমঃ হ্যাঁ, প্রয়োজন হয়েছিল তাই।

রহিমঃ তা এখন টাকা ফেরত দিচ্ছিস না কেন?

করিমঃ প্রয়োজন বোধ করছি না বলে।

 

 

ঘটনাটা

আমার বন্ধুর খালার, তাঁর কাছেই শোনা। তিনি তখন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। তাঁর স্বামী মানে, খালুজান বাইরে কোথাও গেছেন। বাসা খালি, এ সময় তিনি হঠাৎ খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এমনই অবস্থা, উঠে যে ফোন করবেন কাউকে, সেই শক্তিও নেই। এ সময় তাঁর খুব পানির পিপাসা পেল। তিনি চিঁ চিঁ করে তার তিন বছরের মেয়ে পিংকিকে এক গ্লাস পানি দিতে বললেন। একটু পর পিংকি সত্যি টুকটুক করে হেঁটে এক গ্লাস পানি নিয়ে এল। তিনি আর দেরি করলেন না, ঢকঢক করে খেয়ে ফেললেন পানিটুকু। খেয়েই তাঁর মনে হলো, পিংকি কী করে পানি আনল, তার পক্ষে তো ফ্রিজ খোলা বা ডাইনিং টেবিল থেকে পানি আনা সম্ভব না; মানে তার নাগালের মধ্যে কোনো পানির সোর্স নেই। তাহলে? হঠাৎ তার মনে পড়ল, একটা সোর্স তো আছে! এবং সঙ্গে সঙ্গে তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসতে শুরু করল। তারপর চিঁ চিঁ করে পিংকিকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘মা, পানি কোথা থেকে এনেছ?’ পিংকি আঙ্গুল তুলে টয়লেট দেখাল। তখন খালার ওয়াক ওয়াক শুরু হয়ে গেছে। যা সন্দেহ করেছিলেন তা-ই···।

 

 

ডেন্টিস্ট

দাঁত দেখে বললেন-

‘আপনার দাঁতের যে অবস্থা, তাতে মোট খরচ পড়বে পাঁচ হাজার পাউন্ড।’

‘কী বলছেন? এ টাকায় তো একটা পুরোনো জাহাজ কিনে ফেলা যাবে!’

‘হ্যাঁ, আমার বেশ কয়েকটি জাহাজ আছে।’

 

 

আমার

পাঁচ বছরের ভাগ্নি তিথি ক্রমেই যেন ইঁচড়ে পাকা হয়ে উঠছে। আর হবে না-ই বা কেন? তার সখ্য বাড়ির কিশোরী বুয়ার সঙ্গে। আর কিশোরী বুয়ার কাজ হচ্ছে ফাঁক পেলেই টিভি চ্যানেলে প্রেমের যাবতীয় ‘হাম তোম’ মার্কা ছবি দেখা। যা-ই হোক, একদিন তাকে স্কুল থেকে আনতে গেলাম। তার টিচার আমাকে ডেকে বললেন, ‘সে সব দিক থেকেই চৌকস। শুধু একটা সমস্যা, সে অ্যাসেম্বলিতে জাতীয় সংগীত গাইতে চায় না, বাসায় নিয়ে বলে দেখবেন তো সমস্যাটা কোথায়।’ বাসায় এসে আমি তাকে চেপে ধরলাম। ‘কি, সমস্যা কী? তুমি স্কুলে জাতীয় সংগীত গাও না কেন?’ সে কিছু বলে না, মুখ গোঁজ করে থাকে। অনেক চাপাচাপি করে জানা গেল, যেহেতু জাতীয় সংগীতে ‘আমি তোমায় ভালেবাসি···’ কথাটা আছে, তাই তার বলতে লজ্জা লাগে!

 

 

প্রেমিকঃ

কী ব্যাপার? অত দূরে দাঁড়িয়ে গল্প করছ কেন?

প্রেমিকাঃ মা আমাকে ছেলেদের থেকে দূরে থাকতে বলেছেন।

 

 

হাবলুঃ

তুমি যদি আমাকে বিয়ে না করো, তাহলে আমি নির্ঘাত আত্মহত্যা করব।

বান্ধবীঃ ছি, আত্মহত্যা করবে কেন? পৃথিবীতে কত সুন্দরী মেয়ে আছে।

হাবলুঃ বাপ রে, তুমিই বিয়ে করতে চাইছ না, আবার সুন্দরী মেয়ে!

 

 

ট্রেনে

করে যাচ্ছিলাম মোহনগঞ্জ। যা-তা অবস্থা ট্রেনের। রাতের জার্নি। অন্ধকারে বসে আছি। হঠাৎ হাউকাউ শুরু হয়ে গেল। কী ব্যাপার? ব্যাপার দেখি, জানালা নিয়ে দুই যাত্রীর মধ্যে লেগে গেছে! একজন জানালা খোলা রাখতে চাইছে, একজন বন্ধ রাখতে চাইছে; একজন হুট করে লাগাচ্ছে, আরেকজন হুট করে খুলে ফেলছে। মহা গ্যাঞ্জাম! গোলমাল দেখে টিটি এলেন। নির্বিকার মুখে টর্চ জ্বালিয়ে জানালায় ধরলেন। সবাই হতবাক হয়ে দেখল, যে জানালা নিয়ে এত কাণ্ড, সেটাতে কোনো কাচই নেই!

 

 

এক

বিখ্যাত বক্তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, মৃত্যুর আগে তাঁর কিছু বলার আছে কি না। তিনি বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘আমি এখানে মরতে এসেছি, ভাষণ দিতে নয়!’

 

 

ফায়ারিং

স্কোয়াডে নেওয়া হলো এক কুখ্যাত খুনিকে। গুলি করে মারার আগে তাকে জিজ্ঞেস করা হলো তার শেষ ইচ্ছা কিছু আছে কি না। সে বলল-আছে।

‘কী সেটা?’

‘আমাকে একটি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট দেওয়া হোক।’

 

 

বিন্তির

পোষা কাকাতুয়া রাত-দিন বলে, ‘আমার জীবনে সঙ্গী চাই। একটু স্পাইস চাই!’ কাকাতুয়ার এমন দাবির মুখে জেরবার হয়ে বিন্তি তার কাকাতুয়াকে একদিন এক কাউন্সেলরের কাছে নিয়ে বলল, এই কাকাতুয়াটা হরদম নিজের পুরুষ সঙ্গী খোঁজে। একে একটু ভদ্র-সভ্য করা যায় না? বিন্তির কথায় কাউন্সেলর বললেন, ‘চিন্তা করবেন না, আমার পোষা কাকাতুয়াটা খুব ধার্মিক। সারাক্ষণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান দেখে, শ্লোক আওড়ায়। ওর সঙ্গে থাকলে আপনার কাকাতুয়া শুধরে যাবে।’ কাউন্সেলর ভদ্রলোক নিজের পোষা কাকাতুয়া নিয়ে এলেন এবং দ্বিতীয় কাকাতুয়াটি দেখেই বিন্তির পোষ্য যথারীতি বলে উঠল, ‘আমার জীবনে একটু স্পাইস চাই!’

এ কথা শোনামাত্র দ্বিতীয় কাকাতুয়া ওপরের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ঈশ্বর, তুমি আছ। এদ্দিনে আমার আকুতি শুনলে।’

 

 

মেয়েরা পরশ্রীকাতর, আর ছেলেরা পরস্ত্রীকাতর।

 

 

প্রথম পুলিশঃ স্টেডিয়ামে দর্শকেরা যেন দাঙ্গা না বাধায় তা দেখার জন্য কনস্টেবল মালেক সাদা পোশাকে ছিল।

দ্বিতীয় পুলিশঃ তারপর?

প্রথম পুলিশঃ দাঙ্গা পুলিশের মার খেয়ে এখন সে হাসপাতালে।

 

 

এক মহিলা স্বামীকে নিয়ে সাইকিয়াটিস্টের কাছে গিয়েছে।

মহিলাঃ আমার স্বামী রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে খাবারের সঙ্গে কাগজের ন্যাপকিনগুলোও খেয়ে ফেলে।

সাইকিয়াটিস্টঃ সেকি! কাগজের ন্যাপকিনের চাইতে কাপড়েরটাই তো টেস্ট বেশি।

 

 

ঃ স্যার, পিসিতে ২০ বছর আগের প্রচুর ডাটা আছে, ওগুলো ডিলিট করে দিই?

ঃ অবশ্যই, তবে কপি রেখে ডিলিট কোরো কিন্তু।

 

 

এক

মাতাল রাতে বাড়ি ফিরে ঘরের তালা খোলার চেষ্টা করছিল। কিন্তু কিছুতেই চাবি তালার ভেতর ঢোকাতে পারছিল না। পাশের বাসার ভদ্রলোক এগিয়ে এসে বললেন, ‘চাবিটা আমাকে দিন, আমি খুলে দিচ্ছি।’

মাতাল বলল, ‘না না, আমিই পারব। আপনি বাড়িটা শুধু একটু শক্ত করে ধরুন।’

 

 

হিমেলঃ

সব সময় মনে রাখবি, বুদ্ধিমানদের মনে সর্বদা সন্দেহ থাকে। বোকারাই শুধু সব ব্যাপারে নিশ্চিত থাকে।

তুষারঃ ঠিক বলেছিস?

হিমেলঃ হ্যাঁ।

তুষারঃ একদম?

হিমেলঃ হ্যাঁ, একদম ঠিক।

  

হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করুন(বাকি অংশ)

কুচকাওয়াজ

পরিদর্শনে এসেছেন কমান্ডার। সবাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, ছোট করে চুল ছাঁটা এবং ক্লিন শেভড। হঠাৎ এক সৈনিকের সামনে গিয়ে থেমে গেলেন কমান্ডার। সৈনিকটি ছোট করে গোঁফ রেখেছে। কমান্ডার বললেন, তোমার নাকে এমন কী বিশেষত্ব আছে যে এটাকে আন্ডার লাইন করে রাখতে হবে?

কৌতুক সংগ্রহ-০৭ তে মন্তব্য বন্ধ
%d bloggers like this: