গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতন মস্ত বড় জুলুম

গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতন মস্ত বড় জুলুম

আজকের আধুনিক সভ্য সমাজে, তথাকথিত শিক্ষিত, সম্ভ্রান্ত ও ভদ্র পরিবারে শিশু গৃহকর্মী বিশেষত কাজের মেয়েদের ওপর যেরকম অমানবিক আচরণ ও লোমহর্ষক নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হয়, তা আইয়্যামে জাহেলিয়াতের বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতাকেও বহুগুণে হার মানিয়েছে। জাহেলি যুগে দাস-দাসীদের সঙ্গে যেরকম নির্মম আচরণ করা হতো, তার চেয়েও অনেক বেশি মাত্রায় ভয়াবহ ও কঠোরতর আচরণ করা হয়। দুর্বল, অসহায়, নিরীহ গৃহকর্মীদের ওপর এমন জুলুম, হিংস্র আচরণ দেখে বোঝা যায় না কথিত শিক্ষিত ভদ্র গৃহকর্তা-কর্ত্রীরা মানুষ নাকি দ্বিপদ জন্তু। নতুবা তাদের দৃষ্টিতে গৃহকর্মীরা মানুষ নয়, পশু। কাজের মেয়ে বা গৃহকর্মীকে যদি মানুষ মনে করা হয় তাহলে এ ধরনের ঘটনা মানুষ কীভাবে ঘটাতে পারে তা চিন্তা করাও কঠিন। শুধু মানুষ কেন, কোনো পশুর সঙ্গেও এ ধরনের আচরণকে মানুষ ও মনুষ্যত্বের অন্তর্ভুক্ত আচরণ বলা যায় না।
আজকাল পত্র-পত্রিকায় গৃহকর্মী, গার্মেন্টকর্মী বা বিভিন্ন কাজের লোকের ওপর নির্মম আচরণ, জুলুম-নির্যাতনের বিষয়টি নিয়মিত সংবাদে পরিণত হয়েছে। গত ২৫ মে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় এরকম গৃহকর্মী নির্যাতনের তদন্ত প্রতিবেদনমূলক একটি সংবাদ ও ছবি দেখে অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। সংবাদটির কিছু অংশ পড়ার পর শরীরের পশম খাড়া হয়ে যায়, চোখ দুটো অশ্রুসজল হয়ে পড়ে। মনে মনে চিন্তা করি, কোন যুগে আমরা বসবাস করছি! মানুষের ওপর মানুষ এত হিংস্র হয়? এত নিষ্ঠুর হয়? তাহলে বনের জীবজন্তুগুলো বেশি হিংস্র নাকি ‘শ্রেষ্ঠ মাখলুক’ মানুষ হিংস্র? সংবাদটির শিরোনাম ছিল : নির্যাতনে মৃত্যুর শিকার শিশু গৃহকর্মী, প্রভাবশালীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। ৫ বছরে ৩৯৩টি মৃত্যু এবং মামলা হলেও তদন্ত হয়নি। নির্যাতনের ভয়াবহ মাত্রা অনুধাবনের জন্য সংবাদটির কিছু অংশ এখানে তুলে ধরছি, ‘বাসাবাড়িতে কাজ করতে গিয়ে এসব শিশু নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতার শিকার হয়। কখনও বা ওরা বাড়ি ফেরে লাশ হয়ে, গৃহকর্তার বাড়িতে ওদের লাশ পাওয়া যায় কখনও ঝুলন্ত অবস্থায়। আবার কখনও বা রক্তাক্ত জখমের দায় এড়াতে ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছে বলে চালানো হয়। কখনও উপর থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়।
পুলিশ ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী শিশু ও নারী নির্যাতন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, সরকারি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, সচিব, পুলিশ ও সামরিক কর্মকর্তা, ডাক্তার, শিক্ষক, ব্যবসায়ী এবং চিত্রনায়িকার বাড়িতেও ঘটেছে গৃহকর্মী নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনা। কিন্তু কোনো ঘটনারই সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছে না। বিচার পাচ্ছে না ভুক্তভোগী দরিদ্র অসহায় পরিবার। গৃহকর্মীর পায়ে শেকল বেঁধে আটকে রেখে খুন্তি দিয়ে সেঁকা দেয়া ও শরীর ক্ষতবিক্ষত করার লোমহর্ষক ঘটনা অহরহ ঘটছে। প্রায়ই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু ও নারী গৃহকর্মী নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এমনকি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। ধর্ষিত এই নারী কখনও বা কলঙ্ক ঘোচাতে নিজেই জীবন বিসর্জন দেয়।’
সংবাদের উদ্ধৃত অংশটুকু পড়লে বোঝা যায়, মানুষ ও মনুষ্যত্বের অধঃপতন কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে, মানবিক আচরণ ও স্বভাব-চরিত্র কত ভয়ঙ্কর হিংস্রতায় রূপ নিয়েছে। পশু ও পাশবিকতাও যেখানে হার মেনেছে, অধীনস্থ লোকদের ব্যাপারে ‘মানবতাবোধ’ কীভাবে দাফন হয়ে গেছে। কত বিচিত্ররূপে, কত নিষ্ঠুর পাশবিক কায়দায় মানব শ্রেণীর এই ‘দুর্বল অংশটির’ উপর নির্যাতন চলে তা ভাষায় বর্ণনা করাও মুশকিল। কোথায় শিক্ষা, কোথায় ধর্ম, কোথায় নীতি-নৈতিকতা, কোথায় সভ্যতা, মানবতা, কোথায় সুশাসন, বিচার ব্যবস্থা, মানবতাবোধ, মমত্ববোধ ও সাধারণ নৈতিকতাবোধ হারানোর মতো কল্পনাতীতভাবে বেড়ে যাওয়া গৃহকর্মী খুন ও নির্যাতনের ঘটনাবলী নিঃসন্দেহে দেশ, সমাজ ব্যবস্থা ও মানবজাতির জন্য মহাসর্বনাশের সুস্পষ্ট সঙ্কেত। কিন্তু সরকার, প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থার সামনেও মিডিয়ার প্রতিবাদী উপস্থিতি সত্ত্বেও কেন বার বার এসব ঘটনা ঘটছে? আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে? অবশ্যই এর পেছনে অনেক কারণ রয়েছে, তার কিছু কারণ এখানে উল্লেখ করছি :
এক. এসব নির্মম ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ হল—কর্তৃত্ব ও প্রভুত্বমূলক আচরণের হিংস্র প্রয়োগ। কর্তা-কর্ত্রীর শক্তি ও ক্ষমতার দম্ভ সক্রিয় থাকে বেশি এবং তাদের স্বভাব-চরিত্রের পাশবিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে চরমভাবে। আর গৃহকর্মী মানুষের দুর্বলতা, অসহায়ত্ব ও অক্ষমতাকে উগ্রভাবে শিকার করা হয়। যে কারণে তাদের প্রতি সীমা লঙ্ঘিত জুলুম-অত্যাচার বা অন্তত লঘু অপরাধে গুরুদণ্ডদানের ঘটনা খুব সহজেই ঘটতে থাকে। সাধারণ চড়-থাপ্পড় বা হঠাত্ রাগের বশবর্তী হয়ে করা কোনো আচরণের পর্যায়ে না থেকে অত্যাচারটা চলে হিংস্র কায়দায়। কথিত ‘অপরাধ’র শাস্তিটা চলে অসীম বর্বরতায়।
দুই. আরেকটি কারণ হলো কাজের লোক বা গৃহকর্মীদের দাস-দাসী মনে করা। প্রকৃত দাস-দাসী মনে করা না হলেও কাজে-কর্মে, আচার-আচরণে, দুর্ব্যবহারে, খানাপিনার ক্ষেত্রে দাস-দাসীর মতোই আচরণ করা হয়। মনে রাখতে হবে, কাজের লোক বা গৃহকর্মীরা কেউ দাস-দাসী নয়। ইসলাম চিরতরে দাসপ্রথার বিলুপ্ত সাধন করেছে। তাই এরা আমাদের মতোই স্বাধীন মানুষ, সব মানবিক অধিকারে সমান অংশীদার, এরা হলো মানবজাতির সে অংশ যারা সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত, দারিদ্র্য, অভাব-অনটনের কারণে, ক্ষুধার তাড়নায় বাধ্য হয়ে বাসাবাড়িতে গৃহকর্মী হয়ে বা অন্যের অধীনে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। যদি তাদের দাস-দাসী মেনে নেয়াও হয়, তবুও তারা কি এমন নিষ্ঠুর নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ পাওয়ার যোগ্য? কখনোই না। এই সুবিধাবঞ্চিত ও দুর্বল শ্রেণীর প্রতি যেন কোনো ধরনের অন্যায় অবহেলা করা না হয় বরং তাদের প্রতি যেন কোমল, বিনম্র আচরণ ও সদ্ব্যবহার করা হয়—ইসলাম বহুভাবে তার নির্দেশ দিয়েছে। তাদের হক যথাযথ আদায় করার তাগিদ দিয়েছে। ইসলাম বলেছে, তোমরা নিজেরা যা খাবে-পরবে, কাজের লোকদেরও তাই খেতে-পরতে দেবে। তাদের হক ও প্রাপ্যের ব্যাপারে অবহেলা বা ঠকানোকে জুলুম বলা হয়েছে।
তিন. কাজ উদ্ধারে বল প্রয়োগের নীতি অবলম্বন করা। কাজের লোক বা গৃহকর্মীদের থেকে কাজ আদায় করে নেয়ার জন্য তাদের উপর চাপ, প্রেসার, গালি-গালাজ, মানসিক আঘাত এমনকি চড়-থাপ্পড় ও মারধর পর্যন্ত করা হয়, আর এটাকে কাজের লোকদের থেকে কর্মোদ্ধার ও কর্তৃত্ব বজায় রাখার ভালো কৌশল মনে করা হয়, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে এমন জঘন্য বর্বরতা পর্যায়ে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে ইসলাম ধর্মের প্রসঙ্গ যুক্ত না করলেও নিঃসন্দেহে বলা যায়, এ ধরনের আচরণে মানবতা ও নৈতিকতার নাম-গন্ধও নেই। আর ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের আচরণ তো বড় জালেমানা কৌশল।
চার. গৃহের অভ্যন্তরে চালানো এসব খুন-নির্যাতনের ঘটনার জন্য কোনো ধরনের জবাবদিহিতার যেমন প্রশ্ন উঠে না, তেমনি তাদের মনেও কোন ধরনের অপরাধবোধ জাগ্রত হয় না। আর যেসব ঘটনা মিডিয়া ও প্রশাসনের নজরে আসে সেগুলোও প্রভাবশালীদের ‘প্রভাব ও ক্ষমতা’ বলে বালির নিচে চাপা পড়ে যায়। বিচার ও শাস্তি উভয় থেকে শতভাগ নিশ্চিন্ত-নিরাপদ থাকে। ফলে এমন হিংস্র ও বর্বর খুন-নির্যাতন ও ন্যক্কারজনক ঘটনা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। আর দেশ, সমাজ ও মানবজাতির সম্মুখে নতুন জাহেলিয়াত, ধ্বংস ও বিপর্যয়ের ছায়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
ইসলামের আলোকে করণীয়
এক. মানব সমাজ ও পারিবারিক জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম উপকরণ মন্দ স্বভাব ও রুক্ষ মানসিকতা পরিত্যাগ করা। কারণ এর ভিত্তিতেই মানুষ অন্যের উপর জুলুম-নির্যাতন চালায়, খুন-খারাবির ঘটনা ঘটায়। তাই মন্দ স্বভাব ও জুলুম-অত্যাচার সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করতে হবে। সন্দেহ নেই, গৃহকর্মী বা যে কোনো কাজের লোকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, গালমন্দ, অত্যাচার-নির্যাতন তথা যে কোনো ধরনের অন্যায়-আচরণ জঘন্য অপরাধ ও বড় ধরনের জুলুম। জুলুম ও জুলুমকারীর পরিণতি সম্পর্কে কোরআনের বহু আয়াতে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। অনুরূপভাবে হাদিস শরীফেও এর ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। গৃহকর্মীরা বা অধীনস্থ লোকদের উপর জুলুম-নির্যাতনের ক্ষেত্রে বান্দার হক বিনষ্টকরণ, ইজ্জত ও সম্মানহানির অভিযোগ বা অপরাধও সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত। দুনিয়ার জগতে জবাবদিহিতা, বিচারিক কার্যক্রম ও শাস্তির খড়গ হতে ‘ক্ষমতা’ বলে রেহাই পেলেও পরকালে এসব জুলুম-নির্যাতনের অবশ্যই বিচার হবে এবং পরিপূর্ণ প্রতিশোধ গ্রহণ করা হবে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, অবশ্যই কিয়ামতের দিন হকদারকে তার প্রাপ্য হক পরিশোধ করা হবে। এমনকি শিংবিশিষ্ট বকরী থেকে শিংবিহীন বকরীর প্রতিশোধ নেয়া হবে। মুসলিম শরীফ। অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, জুলুম কিয়ামতের দিন জালেমের জন্য বহু অন্ধকার তথা মহাবিপদের কারণ হবে। বুখারি মুসলিম। নিঃসন্দেহে আল্লাহতায়ালার যে কোনো শাস্তিই অনেক কঠিন ও খুবই ভয়াবহ। তাই এর থেকে বাঁচার জন্য অবশ্যই প্রথম করণীয় হলো—অধীনস্থ লোকদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন পরিত্যাগ করা।
দুই. গৃহকর্মী বা কাজের লোকদের সঙ্গে মায়া-মমতা ও ভালোবাসার আচরণ করা এবং তাদের সঙ্গে কঠোরতা ও রুক্ষ স্বভাব পরিহার করা। তাদের সঙ্গে কঠোরতার পরিবর্তে কোমলতা, বিনম্র প্রদর্শনের জন্য কোরআন হাদিসে বার বার তাগিদ দেয়া হয়েছে। ইসলাম তাদের সঙ্গে স্নেহ ও অনুগ্রহ, সহমর্মিতা ও উত্তম ব্যবহারের শিক্ষা দিয়েছে। হাদিস শরীফে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, দয়াবান ব্যক্তিদের প্রতি আল্লাহ রাহমানুর রাহীম দয়া করেন। অতএব তোমরা জমিনবাসীর প্রতি দয়া কর, আসমানে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। তিরমিজি ও আবু দাউদ। মানুষের প্রতি দয়া না করলে আল্লাহও দয়া করেন না। যেমন এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহতায়ালা সেই ব্যক্তির উপর অনুগ্রহ করেন না, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করেন না। বুখারি মুসলিম। পক্ষান্তরে ইসলাম কঠোরতাকে নিন্দা করেছে এবং অকল্যাণের কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, হজরত আয়েশাকে (রা.) উদ্দেশ করে আল্লাহর রাসুল বলেন, কোমলতা নিজের জন্য বাধ্যতামূলক করে নাও এবং কঠোরতা ও নির্লজ্জতা থেকে নিজেকে বাঁচিয়া রাখ, বস্তুত যে জিনিসে নম্রতা ও কোমলতা থাকে সেটা তার শ্রীবৃদ্ধি করে। আর যে জিনিস থেকে তা প্রত্যাহার করা হয় সেটা ত্রুটিপূর্ণ হয়। অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ কোমল। তিনি কোমলতাকে ভালোবাসেন। এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কঠোর ও রুক্ষ স্বভাবের ব্যক্তি বেহেশতে প্রবেশ করবে না। আবু দাউদ। প্রকৃত কথা হলো—দয়া ও কোমলতার কারণে মানুষ অতিসহজেই আনুগত্যশীল হয়ে যায়। তখন কাজ আদায় করে নেয়াও সহজ হয়, যা কঠোরতার কারণে হয় না।
তিন. অধীনস্থ লোকদের ত্রুটি-বিচ্যুতির ব্যাপারে শাস্তির পরিবর্তে ক্ষমার দিককেই প্রাধান্য দেয়া। মানব জীবনের সৌন্দর্য, চারিত্রিক উত্কর্ষতা, পারস্পরিক হক আদায় ও অন্যায়-অনাচার থেকে বাঁচার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো ক্ষমা প্রদর্শন। ক্ষমার গুণে গুণান্বিত হলে মানুষ আল্লাহ ও বান্দা সবার কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে। ক্ষমাশীলদের জীবন কল্যাণ, খায়ের, বরকত ও পুণ্যতায় ভরে ওঠে। ক্ষমা করা মুত্তাকীর পরিচয়। ক্ষমা দুনিয়া-আখিরাতে মুক্তির চাবিকাঠি। আল্লাহতায়ালা মুত্তাকিদের পরিচয় বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে। বস্তুত, আল্লাহ সত্কর্মশীলদের ভালোবাসেন। সূরা আলে ইমরান-১৩৪। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) কোরআনের আয়াত ‘মন্দকে ভালো দ্বারা দমন কর’। এর প্রকৃত মর্ম হলো—ক্রোধের সময় ধৈর্যধারণ করা এবং মন্দ ব্যবহার করা। ‘যখন মানুষ এই নীতি অবলম্বন করবে, তখন আল্লাহতায়ালা তাদের বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করবেন এবং শত্রুদের এমনভাবে অনুগত করে দেবেন যেন তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বুখারি তা’লীক হিসেবে। অন্য এক হাদিসে বর্ণিত, এক সাহাবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন—ইয়া রাসুলুল্লাহ আমরা কাজের লোককে কতবার ক্ষমা করব? রাসুলুল্লাহ চুপ থাকলেন। প্রশ্নকারী আবার জিজ্ঞেস করলেন, এবারও আল্লাহর রাসুল চুপ থাকলেন; তৃতীয়বার প্রশ্নের উত্তরে বললেন, প্রতিদিন সত্তরবার ক্ষমা করবে। তিরমিজি, আবু দাউদ। ইসলামের শিক্ষা ও ক্ষমার আদর্শ যদি প্রতিটি পরিবারে প্রতিষ্ঠিত হয় তবে মানুষ মানুষের দ্বারা নির্যাতিত হবে না। খুন হবে না। বরং শান্তির পরিবেশ সর্বত্র কায়েম হবে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: