ব্যবসায় সততার অনুশীলন

ব্যবসায় সততার অনুশীলন

মানব জীবনে জীবিকার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। নিজ নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী জীবিকার জন্য পরিশ্রম ও চেষ্টা তদবির করা প্রতিটি মানুষের অবশ্য কর্তব্য। আল্লাহতায়ালা হলেন রিজিকদাতা। তবে রিজিক অন্বেষণ করার দায়িত্ব তিনি তার বান্দার ওপর ন্যস্ত করেছেন। এ মর্মে তিনি সূরা জুমার ১০ নং আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘অতঃপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) সন্ধান কর।’ রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘হালাল রুজি সন্ধান করা ফরজের পর একটি ফরজ।’ (মিশকাত শরীফ, পৃঃ ২৪২)।
ওই আয়াত এবং হাদিস দ্বারা একথা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, রিজিক সন্ধান করা প্রতিটি মানুষের জন্য ফরজ তথা অবশ্যকর্তব্য। জীবনোপকরণের জন্য অর্থ আহরণের অন্যতম এবং গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো ব্যবসা-বাণিজ্য। বস্তুত ব্যবসা-বাণিজ্যের মধ্যেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ ধরে এক জাতি অন্য জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, কালচার, রাজনীতি ও ধর্মের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে। উদাহরণ হিসেবে আমাদের এই উপমহাদেশকে টেনে আনা যায়। ইংরেজ বেনিয়াদের এদেশে আগমন ঘটে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে তারা তাদের সভ্যতা, সংস্কৃতিও প্রচার-প্রসার করতে থাকে। ব্যবসা-বাণিজ্যে একক আধিপত্যের কারণে রাজনীতিতেও তাদের অনুপ্রবেশ ঘটে। কিছু মানুষকে অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করে তারা তাদের মাধ্যমে নবাব সিরাজুদ্দৌলাকে পরাজিত করে শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করে উপমহাদেশের অধিবাসীদের পায়ে পরিয়ে দেয় গোলামির জিঞ্জির। অর্থনীতির ভিত মজবুত হয় ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে। এ জন্যই ইসলাম ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি উত্সাহ প্রদান করে থাকে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘সত্ ও আমানতদার ব্যবসায়ী হাশরের দিন ছিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গী হবে।’ (তিরমিজি শরীফ, মিশকাত, পৃ: ২৪৩)।
কানজুল উম্মাল গ্রন্থের এক বর্ণনায় উল্লেখ হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্য³ িব্যবসা করে তার ঘরে প্রাচুর্য ও কল্যাণ সৃষ্টি হয়।’ অন্য এক হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘উত্তম উপার্জন হচ্ছে কল্যাণকর ক্রয়-বিক্রয় এবং নিজ হাতের উপার্জন।’
সূরা জুমার ১০ নং আয়াত ও ওই হাদিসগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি উত্সাহ প্রদান করা হয়েছে। তবে তা হালাল তথা বৈধ পন্থায় হতে হবে। পক্ষান্তরে ব্যবসা-বাণিজ্যে যদি ধোঁকা, প্রতারণা, আত্মসাত্ বা কোনো পাপাচার থাকে তাহলে এরূপ ব্যবসা-বাণিজ্যকে ইসলাম বৈধ সাব্যস্ত করেনি। এরূপ ব্যবসা যারা করে তাদের ব্যাপারে ইসলাম কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। কোরআনে পাকে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা মাপে কম দেয় তাদের জন্য দুর্ভোগ, যারা লোকের কাছ থেকে যখন মেপে নেয় তখন পূর্ণ মাত্রায় নেয় এবং যখন লোকদের মেপে দেয় কিংবা ওজন করে দেয় তখন কম দেয়।’ (সূরা মুতাফ–িফিন, আয়াত ১-৩)।
রাসুল (সা.) একদা বাজার দিয়ে যাওয়ার সময় একটি খাদ্যের বস্তার ভেতর হাত ঢুকিয়ে দেন এবং ভেতরের খাদ্যবস্তু ভেজা দেখতে পান, তখন তিনি খাদ্যের মালিককে জিজ্ঞেস করেন, হে খাদ্যের মালিক একি? জবাবে খাদ্যের মালিক বলেন, হে আল্লাহর রাসুল বৃষ্টির কারণে এরূপ হয়েছে। শুনে তিনি বললেন, ‘যে ধোঁকা দেয় সে আমার উম্মতের মধ্যে গণ্য হবে না।’ (মুসলিম শরীফ, মেশকাত-২৪৮)।
রাসুল (সা.) অসত্ ও অসাধু ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে আরও ইরশাদ করেন, ‘হাশরের দিন ব্যবসায়ীদের পাপী হিসেবে ওঠানো হবে। অবশ্য যারা পরহেজগারি, ন্যয়-নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে ব্যবসা করেছে তাদের কথা ভিন্ন।’ (তিরমিজি, মিশকাত ২৪৪ পৃ:)।
আল্লাহতায়ালা আমাদের সততা ও আমানতদারিতার সঙ্গে ব্যবসা করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: