পেটের পীড়ায় করণীয়

পেটের পীড়ায় করণীয়

পেটব্যথা, ঘন ঘন পাতলা পায়খানা, বমি, অরুচি, মলের সাথে রক্ত যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা হলে সাধারণ ভাষায় পেট খারাপ হয়েছে বলে ধরা হয়। মেডিক্যাল ভাষায় এক গ্যাস্ট্রোএন্টারটাইটিস বলে। দূষিত বা অনিরাপদ পানি পানের কারণে এ সমস্যা বেশি হয়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রকোপ এখন বেশি হচ্ছে। কারণ অনেক জায়গায় পানি দূষিত থাকে কিংবা অসচেতনতার জন্য রাস্তার খোলা পানি পান করলেও পেট খারাপ হয়।

কখন মারাত্মকঃ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমণ হলে অতি দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন। মলের সাথে রক্ত গেলে বা মল সবুজাভ হলে সাথে জ্বর, গা ম্যাজম্যাজ ভাব থাকলে বোঝা যাবে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমণ হয়েছে। কখনো কখনো শুধু নরম বা তরল পায়খানাও হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শে রোগের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে কুইনোলোন বা সেফট্রিয়াক্সন জাতীয় ওষুধ মুখে বা ইনজেকশন আকারে দেয়া হয়। ওষুধ প্রয়োগের আগে পায়খানার কালচার পরীক্ষা করে জীবাণু নিশ্চিত হতে হয়। পায়খানায় পাস সেল ও আরবিসি বেশি পাওয়া সেলে সাথে সাথে চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

প্রস্রাবের পরিমাণে নজর দিনঃ গ্যাস্ট্রো এন্টারটাইটিস হলে শিশু থেকে বয়স্কদের ইউরিনারি আউটপুট বা প্রস্রাব ত্যাগের পরিমাণ জানা জরুরি। প্রস্রাব কমে গেলে কিডনি বিকল হয়ে মৃতুøও হতে পারে। এ লক্ষ্যে পরীক্ষাগারে ২৪ ঘণ্টার প্রস্রাব একটি পাত্রে রেখে পরিমাণ নির্ণয় করা হয় হাসপাতালে ইনটেক আউটপুট চার্ট অর্থাৎ তরল বা খাদ্য গ্রহণ এবং ত্যাগের পরিমাণ দেখে সে অনুযায়ী ফ্লুইড রিপ্লেসের ব্যবস্থা করা হয়। আপনি বাসায়ও এক লিটারের মিনারেল ওয়াটারের বোতলে ২৪ ঘণ্টার প্রস্রাব রেখে তার পরিমাণ জানিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেনঃ বমি ও পাতলা পায়খানা ঘন ঘন হলে কিংবা নিয়ন্ত্রিত না হলে, জ্বর থাকলে, মুখ শুকিয়ে গেলে, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে তক্ষণাৎ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন।

খাবারঃ শিরাপথে বা মুখে খাবার বা রাইস স্যালাইন দেয়াই এ রোগের প্রধান চিকিৎসা। ডায়রিয়া ও বমিতে যেহেতু পটাশিয়াম শরীর থেকে বেরিয়ে যায় তাই ডাবের পানি, ফলের রস, সিদ্ধ আলু, টমেটো খাওয়া উচিত। স্বাভাবিক সব খাবারই খাওয়া যায় তবে সহজপাচ্য খাবার যেমন নরম, ভাত, মাছ খাওয়া অগ্রাধিকার দিতে হবে। তরল বেশি খেতে হবে। পানিবাহিত জীবাণু দিয়ে শুধু পেট খারাপ নয়, টাইফয়েড ফিভার ও জন্ডিসও হতে পারে। তাই এখন থেকেই সচেতন হোন।

Advertisements

ব্যবসায় সততার অনুশীলন

ব্যবসায় সততার অনুশীলন

মানব জীবনে জীবিকার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। নিজ নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী জীবিকার জন্য পরিশ্রম ও চেষ্টা তদবির করা প্রতিটি মানুষের অবশ্য কর্তব্য। আল্লাহতায়ালা হলেন রিজিকদাতা। তবে রিজিক অন্বেষণ করার দায়িত্ব তিনি তার বান্দার ওপর ন্যস্ত করেছেন। এ মর্মে তিনি সূরা জুমার ১০ নং আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘অতঃপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) সন্ধান কর।’ রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘হালাল রুজি সন্ধান করা ফরজের পর একটি ফরজ।’ (মিশকাত শরীফ, পৃঃ ২৪২)।
ওই আয়াত এবং হাদিস দ্বারা একথা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, রিজিক সন্ধান করা প্রতিটি মানুষের জন্য ফরজ তথা অবশ্যকর্তব্য। জীবনোপকরণের জন্য অর্থ আহরণের অন্যতম এবং গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো ব্যবসা-বাণিজ্য। বস্তুত ব্যবসা-বাণিজ্যের মধ্যেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ ধরে এক জাতি অন্য জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, কালচার, রাজনীতি ও ধর্মের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে। উদাহরণ হিসেবে আমাদের এই উপমহাদেশকে টেনে আনা যায়। ইংরেজ বেনিয়াদের এদেশে আগমন ঘটে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে তারা তাদের সভ্যতা, সংস্কৃতিও প্রচার-প্রসার করতে থাকে। ব্যবসা-বাণিজ্যে একক আধিপত্যের কারণে রাজনীতিতেও তাদের অনুপ্রবেশ ঘটে। কিছু মানুষকে অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করে তারা তাদের মাধ্যমে নবাব সিরাজুদ্দৌলাকে পরাজিত করে শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করে উপমহাদেশের অধিবাসীদের পায়ে পরিয়ে দেয় গোলামির জিঞ্জির। অর্থনীতির ভিত মজবুত হয় ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে। এ জন্যই ইসলাম ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি উত্সাহ প্রদান করে থাকে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘সত্ ও আমানতদার ব্যবসায়ী হাশরের দিন ছিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গী হবে।’ (তিরমিজি শরীফ, মিশকাত, পৃ: ২৪৩)।
কানজুল উম্মাল গ্রন্থের এক বর্ণনায় উল্লেখ হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্য³ িব্যবসা করে তার ঘরে প্রাচুর্য ও কল্যাণ সৃষ্টি হয়।’ অন্য এক হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘উত্তম উপার্জন হচ্ছে কল্যাণকর ক্রয়-বিক্রয় এবং নিজ হাতের উপার্জন।’
সূরা জুমার ১০ নং আয়াত ও ওই হাদিসগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি উত্সাহ প্রদান করা হয়েছে। তবে তা হালাল তথা বৈধ পন্থায় হতে হবে। পক্ষান্তরে ব্যবসা-বাণিজ্যে যদি ধোঁকা, প্রতারণা, আত্মসাত্ বা কোনো পাপাচার থাকে তাহলে এরূপ ব্যবসা-বাণিজ্যকে ইসলাম বৈধ সাব্যস্ত করেনি। এরূপ ব্যবসা যারা করে তাদের ব্যাপারে ইসলাম কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। কোরআনে পাকে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা মাপে কম দেয় তাদের জন্য দুর্ভোগ, যারা লোকের কাছ থেকে যখন মেপে নেয় তখন পূর্ণ মাত্রায় নেয় এবং যখন লোকদের মেপে দেয় কিংবা ওজন করে দেয় তখন কম দেয়।’ (সূরা মুতাফ–িফিন, আয়াত ১-৩)।
রাসুল (সা.) একদা বাজার দিয়ে যাওয়ার সময় একটি খাদ্যের বস্তার ভেতর হাত ঢুকিয়ে দেন এবং ভেতরের খাদ্যবস্তু ভেজা দেখতে পান, তখন তিনি খাদ্যের মালিককে জিজ্ঞেস করেন, হে খাদ্যের মালিক একি? জবাবে খাদ্যের মালিক বলেন, হে আল্লাহর রাসুল বৃষ্টির কারণে এরূপ হয়েছে। শুনে তিনি বললেন, ‘যে ধোঁকা দেয় সে আমার উম্মতের মধ্যে গণ্য হবে না।’ (মুসলিম শরীফ, মেশকাত-২৪৮)।
রাসুল (সা.) অসত্ ও অসাধু ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে আরও ইরশাদ করেন, ‘হাশরের দিন ব্যবসায়ীদের পাপী হিসেবে ওঠানো হবে। অবশ্য যারা পরহেজগারি, ন্যয়-নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে ব্যবসা করেছে তাদের কথা ভিন্ন।’ (তিরমিজি, মিশকাত ২৪৪ পৃ:)।
আল্লাহতায়ালা আমাদের সততা ও আমানতদারিতার সঙ্গে ব্যবসা করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

%d bloggers like this: