শবেবরাতে করণীয়-বর্জনীয়

শবেবরাতে করণীয়-বর্জনীয়

বরাত শব্দের অর্থ মুক্তি এবং শব-এর অর্থ রাত। অতএব শবেবরাতের অর্থ মুক্তির রাত। এই রাতে আল্লাহতায়ালা অভাব-অনটন, রোগ-শোক ও বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি চাওয়ার জন্য মানুষকে আহ্বান জানান এবং তাঁর কাছে চাইলে তিনি এসব থেকে মুক্তি দেন। তাই এই রাতকে মুক্তির রাত বা শবেবরাত বলা হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন উম্মতে মুহাম্মদির জন্য বিশেষভাবে এ রাত দান করেছেন, যাতে করে মুসলিম উম্মাহ অল্প সময়ে ইবাদত করে আগের উম্মতের হাজার বছর ইবাদতের সমপর্যায়ে পৌঁছতে পারে।

শবেবরাত নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন করলেও উপমহাদেশসহ আরব বিশ্বের সব ওলামা ও ফুকাহায়ে কেরাম এ রাতের বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলতের ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন।

শাবান মাসের ১৫ রাত অর্থাৎ ১৪ শাবান দিবাগত রাতই হলো শবেবরাত। হাদিস ও ফেকাহর কিতাবে বর্ণিত তথ্যানুযায়ী শবেবরাত উপলক্ষে ছয়টি আমলের কথা প্রমাণিত হয়।

১। ১৪ শাবান দিবাগত রাতে জাগরণ করে নফল ইবাদত বন্দেগি, জিকির, আজকার ও কুরআন তেলাওয়াতে লিপ্ত থাকা। এ রাতে যেকোনো নফল নামাজ পড়া যায়। আর এ রাতের সব ইবাদতই নফল। অতএব নামাজ পড়ার জন্য কোনো বিশেষ সূরা বা অন্য কোনো ইবাদতের জন্য কোনো বিশেষ নিয়মের প্রয়োজন নেই।

উল্লেখ্য, নফল নামাজ ঘরে পড়াই উত্তম। তবে মসজিদেও পড়া যায়। বর্তমানে শবেবরাত ও শবেকদর উপলক্ষে ইবাদত করার জন্য মানুষ মসজিদে ভিড় জমায়, যা রছম হয়ে গেছে। এর ওপর চিন্তা করে অনেক মুফতি এভাবে শবেবরাত পালন করাকে মাকরুহ ও বিদআত বলেছেন (ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া)।

২। এ রাতে বেশি বেশি করে দোয়া করা। কেননা এ রাতে আল্লাহ তায়ালা প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কবুল করেন। তাই সকল প্রকার বৈধ উদ্দেশ্যে আল্লাহর কাছে দোয়া করা।

৩। রাসূল সাঃ এ রাতে কবরস্থানে গিয়ে মৃত মুসলমানদের নাজাতের জন্য দোয়া করেছেন। তাই আমাদের উচিত এ রাতে কবর জিয়ারতে যাওয়া। তবে নবী করিম সাঃ একাকী কবর জিয়ারত করেছেন। তাই আমাদেরও উচিত সবাই আড়ম্বর সহকারে না গিয়ে নীরবে কবর জিয়ারত করা। তবে শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে সবাই একসাথে জিয়ারত করাতে কোনো অসুবিধা নেই।

৪। এ রাতে নিজের জন্য, পরিবার পরিজন ও নিকট আত্মীয়দের জন্য দোয়া করা এবং মৃত ব্যক্তির ইছালে সওয়াবের জন্য কিছু দানখয়রাত করা উত্তম।

৫। ১৫ শাবান রোজা রাখা উত্তম এবং এ রোজার অনেক ফজিলত রয়েছে।

৬। শবেবরাতে (১৪ শাবান দিবাগত রাতে) গোসল করাও মুস্তাহাব।

ওপরে উল্লিখিত ছয়টি আমল ব্যতীত অন্য কোনো আমল কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়।

কিছু বিদআতঃ শবেবরাত একটি বরকতময় পবিত্র রাত। এ রাতে খালেছ নিয়তে ইবাদত করলে অল্পতেই অনেক বেশি সওয়াব অর্জিত হয়। কিন্তু সমাজের কিছু দিকভ্রান্ত মানুষ এ রাতকে নানা আনুষ্ঠানিকতায় রূপান্তরিত করেছে, যা সব মুফতি ও ফুকাহায়ে কেরামের মতে বিদআত। যেমন- ‘শবেবরাত উপলক্ষে হালুয়া-রুটি তৈরি করা, মোমবাতি-আগরবাতি জ্বালানো, আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, আলোকসজ্জা করা ইত্যাদি। আর বিদআত মানুষের ইমান-আমলকে ধ্বংস করে দেয়। বিদআতের ভয়াবহতা সম্পর্কে রাসূল সাঃ বলেছেন, প্রত্যেক নব আবিষ্কৃত বিষয়ই বিদআত, আর প্রত্যেক বিদআতই হলো গোমরাহ আর প্রত্যেক গোমরাহি জাহান্নামি। (বুখারি)।

ওপরের হাদিস থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, ইসলামে নতুন করে আবিষ্কৃত কোনো কিছুর স্থান নেই। কেননা ইসলাম ব্যক্তি জীবন থেকে রাষ্ট্রীয় জীবনের এমন কোনো সমস্যা নেই, যার সমাধান ইসলাম না দিয়েছে। সব সমস্যার সমাধান ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান ইসলাম দিয়েছে। তাই এর বাইরে আমাদের যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যে যাবে সে গোমরাহ হবে। আর তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম।

অতএব আসুন নিজের ইচ্ছাধীন নয়, বরং ইসলামের রূপরেখায় যা গ্রহণীয় তা গ্রহণ করি এবং যা বর্জনীয় তা বর্জন করি।

Advertisements

শবেবরাত

শবেবরাত

১৪ শাবান দিবাগত রাতকে শবেবরাত বলা হয়। শব ফারসি শব্দ, অর্থ রাত। একে আরবিতে লাইলা বা লাইলাতু বলা হয়। বরাত অর্থ অব্যাহতি। তাই লাইলাতুল বরাত অর্থ দাঁড়ায় অব্যাহতি তথা মুক্তির রাত।
মানুষ জীবনের চলার পথে বিভিন্ন লোভ-প্রলোভন ও ঘাত-প্রতিঘাতের সম্মুখীন হয়ে যেসব অপরাধে লিপ্ত হয়, ভবিষ্যতে একই অন্যায়-অপরাধে লিপ্ত হবে না—এরূপ দৃঢ়সংকল্প সহকারে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি যে কোনো সময় বান্দার অপরাধ মার্জনা করতে পারেন। এছাড়া সারা বছরের বিভিন্ন সময়-ক্ষণের মধ্যে এমন কিছু মুহূর্ত রয়েছে যেগুলোতে তিনি বান্দার কাতর ফরিয়াদমিশ্রিত দোয়া অধিক শুনে থাকেন। তার মধ্যে পবিত্র রমজান মাসের মহান সংযম প্রশিক্ষণের পূর্বপ্রস্তুতির মাস শাবান। হাদিস শরীফে এ মাসের যথেষ্ট গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরীফে হজরত আয়েশা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হাদিস—‘আমি রাসুলুল্লাহকে (সা.) রমজান মাস ছাড়া শাবান মাসের মতো অন্য কোনো মাসে এত অধিক রোজা রাখতে দেখিনি। তিনি দু’একদিন ছাড়া কোনো সময় শাবানের পুরো মাসই রোজা রাখতেন। তবে মহানবী (সা.) নিজে তা করলেও উম্মতকে এ মাসের প্রতিদিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। মহানবী (সা.) পবিত্র রমজানের আগের দু’মাসে অধিক পরিমাণে এ দোয়া করতেন—‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজব ও শাবান ও বাল্লিগনা রমাজান’—অর্থাত্ ‘হে আল্লাহ! আমাদের রজব ও শাবান মাসের বরকত দান করুন এবং (এ অবস্থায়) রমজানে নিয়ে পৌঁছান।’ শাবান মাসের এ গুরুত্বের প্রতি লক্ষ্য করলে ১৪ শাবান দিবাগত রাতের গুরুত্বও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ‘আইয়ামে বিয’ তথা প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ দিবাগত রাতের মর্যাদা এমনিতেও স্বীকৃত। তার ওপর শাবানের মাস হওয়ায় সে গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। এছাড়া মহানবী (সা.) এ রাতে নির্জনভাবে গুনাহমাফির জন্যও আল্লাহর কাছে অধিক কান্নাকাটি করেছেন বলে হাদিসে উল্লেখ পাওয়া যায়। সুতরাং এসব গুরুত্বের পরিপ্রেক্ষিতে এ রাতকে শবেবরাত বা মুক্তির রাত বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। তবে তাই বলে কোরআনে বর্ণিত ‘লাইলাতুল কদর’ বা শবে কদরের মতো শবে বরাতকে গুরুত্ব দেয়ার দ্ব্যর্থহীন প্রমাণ কোরআন-হাদিসে অনুপস্থিত।
শবে বরাত মুসলমানদের মনে ইবাদত ও নেক কাজের স্পৃহাকে জাগিয়ে তোলে। এ উপলক্ষে সমবেত মুসলমানদের মনের বিশেষ ভাবগতি ধর্মীয় অন্যান্য বিষয় পালনের আগ্রহ সৃষ্টিতে বিরাট সহায়ক হয়। বিশেষ করে জুমার দিনের তুলনায় শবে বরাতে মুসল্লিদের উপস্থিতির সংখ্যা অধিক থাকে বিধায় সবাই সামনে রমজানের সিয়াম সাধনা সংক্রান্ত মাসলা-মাসায়েল, সিয়ামের উদ্দেশ্য-লক্ষ্য ও তাত্পর্য সম্পর্কে তাদের অবগত করার বিরাট সুযোগ ঘটে। এমনকি অনেকে সাধারণভাবে মসজিদে বড় একটা না গেলেও যেহেতু ওই রাতে মসজিদে যায়, তখন বিজ্ঞ আলেম-ইমামদের ওয়াজ-নসিহতের দ্বারা এ শ্রেণীর লোকের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে কোনো বিভ্রান্তি থাকলেও তা দূরীভূত হয়ে যায়। অতঃপর দেখা গেছে, ওই ব্যক্তিই ওয়াজের তাসিরে নিয়মিত নামাজিতে পরিণত হয়ে যায়।
এজন্য শবে বরাতের শরয়ি গুরুত্বের নির্দিষ্টতার প্রশ্ন তুলে দ্বীনের যথার্থ শিক্ষা আদর্শকে কোরআন-হাদিসের আলোকে তুলে ধরার এ সুযোগকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা কিছুতেই সঙ্গত নয়। বিশেষ করে পাশ্চাত্য বস্তুবাদী শিক্ষা, জীবনবোধের প্রভাবে বর্তমান ধর্মবিমুখতা এমনকি ধর্মদ্রোহিতার এ যুগেও আমাদের দেশের মুসলমানদের অন্তরে এ রাতটি যে মর্যাদার আসন করে নিয়েছে, তা দ্বীনি চিন্তাকর্মের উন্নতি, বিকাশ ও প্রচারের এক বিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে। এদিক থেকেও এ দৃষ্টিভঙ্গিতে আহত করা অনুচিত। ইমাম গাযযালির দর্শন অনুযায়ী নেক ভাববর্ধক কাজও নেকের কাজ। বিশেষ করে এই দৃষ্টিভঙ্গিতে মুহাদ্দিসিনে কেরাম ফজিলতের হাদিস বর্ণনায় যেখানে মৌলিক কোনো কিছুর সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হলে সনদে তার চুলচেরা বাছ-বিচারের ব্যাপারে শিথিলতার অবকাশ রেখেছেন, সেখানে বিষয়টিকে প্রান্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা মানুষের কাছে ইসলামী শিক্ষা-আদর্শ উপস্থাপনের একটি মাধ্যমকে নিষ্ক্রিয় করার নামান্তর হবে।
শবে বরাত তথা শাবান মাসের মধ্য রজনীতে কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ ইত্যাদি ইবাদত-বন্দেগি ও জিকির-আসকার করা, মুর্দারের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা, কবর জিয়ারত করা সবার বাঞ্ছনীয়। এ রাতে আল্লাহর দরবারে নিজের পূর্ববর্তী গুনাহখাতার ব্যাপারে তওবা করে পবিত্র রমজানের সিয়াম সাধনার জন্য মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ একান্ত জরুরি। তবে এ রাতের নফল ইবাদত-গুজারি যাতে ফজরের ফরজ নামাজ হারানোর নিমিত্ত হয়ে না দাঁড়ায়। এরূপ হলে সবই বরবাদ। সেজন্য ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
শবে বরাত উপলক্ষে আতশবাজি পোড়ানো, মাজারে গিয়ে কবর সিজদা করা, কবরে বাতি দেয়া ইত্যাদি বেদায়াত-শিরকি কাজ যাতে না হয়, সেদিকে মসজিদের ইমাম সাহেবরা ও এলাকার মুরুব্বি শ্রেণীর লোকদের বিশেষ লক্ষ্য রাখা কর্তব্য।
অন্যথায় কল্যাণের বদলে তা অকল্যাণই বয়ে আনবে। খানাপিনার আয়োজন ও ব্যস্ততা অনেক সময় শবে বরাত ও শবে কদরের ইবাদত নষ্ট করে। খানাপিনার প্রতি সবার মনোযোগ আকৃষ্ট করে শয়তান ওই রাতের ফজিলত থেকে মানুষকে বঞ্চিত রাখে। সেদিকও সবার লক্ষ্য রাখা কর্তব্য। এ উপলক্ষে সম্মিলিতভাবে খাবারের আয়োজন করতে চাইলে ওই দিনটির আগের বা পরের দিন তা করা গেলে উভয় দিকই রক্ষা পেতে পারে। পবিত্র রমজানের পূর্বপ্রস্তুতির এই মাসের এই রাত আমরা যেন আল কোরআন ও সুন্নাতে রাসুলের (সা.) অনুসরণে নিজেদের যথাযথ আত্মশুদ্ধিতে এগিয়ে যেতে পারি—আল্লাহ আমাদের তওফিক দিন। আমিন!

চুল পাকা সমস্যা

চুল পাকা সমস্যা

অনেক কারণে চুল পাকতে পারে। অনেক চর্মরোগ এর জন্য দায়ী। এ ছাড়া জ্বর, ম্যালেরিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রভৃতি রোগ শরীরকে চুল পাকানোর দিকে ঠেলে দেয়। এ জাতীয় অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে­ কঠিন ট্রমা, কয়েক প্রকারের রেডিয়েশনের শিকার হওয়া, হাইপার-থাইরয়েডিজম, ডায়াবেটিস, পুষ্টিহীনতা, আলসার, ব্যথা ও রক্তহীনতা। কিভাবে রাতারাতি চুল পেকে যায় তা বুঝতে হলে চুল বাড়ার স্বাভাবিক পদ্ধতি বুঝতে হবে। এটি তিন অবস্থার চক্রের মাধ্যমে আসে। প্রথমত, এনাজেনকাল বা চুল জন্মানোর সময় মাসে আধা ইঞ্চি হারে চুল বাড়তে থাকে। এভাবে দুই থেকে ছয় বছর বাড়ার পর দ্বিতীয় অবস্থায় পৌঁছে। ক্যাটাজেন বা বিশ্রামকালে এটি কয়েক সপ্তাহের জন্য থামে। তৃতীয় ও শেষ ধাপ হলো টেলোজেন কাল। চুল তখন পেপিলার থেকে আলাদা হয়। পরে এনাজেলকাল শুরু হলে নতুন গজানো চুল পুরনো চুলগুলোকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়।

অতিরিক্ত শ্রম থেকে অ্যালোপেসিয়া নামক গোলযোগের উৎপত্তি হয়, যা কখনো কখনো এনাজেলকালে চুলের গোড়ায় আঘাত হানে। এতে এক সপ্তাহ বা ১০ দিনের মধ্যে পুরনো কালো চুল উঠিয়ে দিতে পারে। তখন বয়ে যাওয়া সাদা চুলের অনুপাত বেশি হয়। ফলে মাথার চুল পেকে যাচ্ছে বলে মনে হয়। আসলে চুল হচ্ছে আঙুলের নখের মতো ক্যারোটিন দ্বারা তৈরি বস্তু। প্রতিটি চুলের গোড়ায় থাকে বাল্ব বা ডারমিস, যা চর্মের দ্বিতীয় স্তর থেকে পুষ্টি আহরণ করে। এ বাল্বের মধ্যে পেপিলা ও ম্যাট্রিক্স টিসুøর সূক্ষ্ম স্তম্ভ এক প্রকার মিশ্রণ তৈরি করে, যা থেকে চুল গজায়।

চুল যখন গঠিত হতে থাকে তখন সূক্ষ্ম মেলানিনের হাজার হাজার কণা ভেতরে ঢোকে। মেলানোসাইট নামক কোষ দুই রকমের মৌলিক রঙ উৎপাদন ও মিশ্রণ করে। ইউমিলানিন কণা চুলকে গাঢ় কালো থেকে অতি হালকা তামাটে পর্যন্ত রঙে রাঙিয়ে দেয়। অপর কণা ফিওমিলানিন চুলকে হালকা স্বর্ণাভ থেকে গভীর সোনালি, সোনালি তামাটে বা লাল পর্যন্ত রঙে রাঙায়। ২০ বছর বয়স অতিক্রান্ত হওয়ার পর মেলানোসাইটের উৎপাদন কমতে থাকে। তখন যেসব চুল গজায়, তাতে এই উপাদানটির পরিমাণ কমে যাওয়ায় চুল ধূসর বা সাদা হতে থাকে।

আবহাওয়া ও জলবায়ুগত কারণ ছাড়াও চুল পাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ নির্ধারণ করে বংশগত বৈশিষ্ট্য। কিছু দিন আগেও ধারণা করা হতো, একবার চুল সাদা বা ধূসর হলে তা আর কখনো কালো হবে না। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে দেখা গেছে, সুপ্ত মেলানোসাইটগুলোকে কার্যকর করে চুলকে আবার অস্বাভাবিক রঙে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। কিছু ননস্টেরয়ডাল ও জ্বালা প্রতিরোধকারী ওষুধ চুলকে আবার কালো বা রঙিন করতে পারে। চুল ধূসর হওয়ার পর রক্তহীনতায় ভোগা রোগীদের মধ্যে ভিটামিন বি-১২ সেবনে চুলের প্রকৃত রঙ ফিরে আসতে দেখা গেছে। তবে পাকা চুল কোনো আশীর্বাদও নয়, আবার অভিশাপও নয়। এ নিয়ে অধিক চিন্তাযুক্ত না হয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই শ্রেয়।

%d bloggers like this: