আগামীর কনজ্যুমার মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

আগামীর কনজ্যুমার মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন


মানি ট্রান্সফার
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এসএমএস দিয়ে টাকা ট্রান্সফার এরই মধ্যে অনেক দেশেই শুরু হয়েছে। মোবাইল ফোন ব্যবহারে অর্থপ্রাপ্তির সুবিধা বিভিন্ন নামে পরিচিত হচ্ছে যেমন—মোবাইল মানি, মোবাইল ব্যাংকিং, পকেট মানি ইত্যাদি। সহজ ব্যবহারিক সুবিধার জন্য দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে মোবাইলের মাধ্যমে মানি ট্রান্সফার। সনাতন ধারার বেড়াজাল ছিঁড়ে সস্তায় সেবাপ্রাপ্তি, দ্রুততর সেবা এবং ঝামেলা কম হওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোয় বাড়ছে এই অ্যাপ্লিকেশন। যদিও মোবাইল ফোনে মানি ট্রান্সফার নিয়ে বেশকিছু সমালোচনা রয়েছে। তবু সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তরা মিলে যুগোপযোগী নীতিমালা তৈরি করে এই অ্যাপ্লিকেশনকে দ্রুত সম্প্রসারণ করতে উদ্যোগ নিচ্ছে।

লোকেশন বেজড সার্ভিস
আগামী কয়েক বছরের মধ্যে লোকেশন বেজড সার্ভিস (এলবিএস) অধিকতর জনপ্রিয় হবে। গার্টনারের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাপী এলবিএস ব্যবহারকারী ৯৬ মিলিয়ন হলেও ২০১২ সালের দিকে এ সংখ্যা হবে ৫২৬ মিলিয়ন। রাজস্ব এবং অধিক ব্যবহারের বিবেচনায় গার্টনার এই অ্যাপ্লিকেশনকে সেরা দশের মধ্যে দুই নম্বারে স্থান দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে এলবিএসের চাহিদা বাড়ছে দ্রুত হারে এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ও বিনোদনের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করতে সক্ষম এই অ্যাপ্লিকেশন।

মোবাইল সার্চ
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সেলস এবং মার্কেটিংয়ের জন্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে মোবাইল সার্চ। তবে এক্ষেত্রে মোবাইল সার্চ ধারণার পূর্ণাঙ্গ বিকাশে মোবাইল সার্চিং সেবাকে আরও উন্নত করতে হবে। শিল্প খাতের রাজস্ব এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করায় এই অ্যাপ্লিকেশন সেরা দশের তিন নম্বরে অবস্থান করছে। সার্চ সেবার ক্ষেত্রে গ্রাহকরা অর্থ পরিশোধ করবে। গার্টনারের প্রত্যাশা অনুযায়ী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আয় কিছু সার্চিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান শেয়ার করবে এবং মোবাইল সার্চিংয়ের জন্য আলাদা প্রযুক্তি তৈরি হবে।

মোবাইল ব্রাউজিং
মোবাইল ফোন অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে জনপ্রিয়তম হচ্ছে মোবাইল ব্রাউজার। বর্তমানে মোবাইল ব্রাউজিং অনেক বেশি বিস্তৃত এবং ২০০৯ সালে ৬০ ভাগের মতো হ্যান্ডসেটে ব্রাউজিং সেবা পাওয়া যায়। গার্টনারের মতে, ২০১৩ সালের দিকে ৮০ ভাগ মোবাইল সেটে ব্রাউজিং সুবিধা যুক্ত হবে। সব ব্যবসায়িক দিক বিবেচনা ও জনপ্রিয়তায় চার নম্বরে স্থান করে নিয়েছে মোবাইল ব্রাউজিং। মোবাইল ব্রাউজিংয়ের জন্য মোবাইল ওয়েব সিস্টেম ডেভেলপ করাটাও জরুরি। মোবাইল ওয়েব জগতে কর্পোরেট বিজনেস-টু-কনজ্যুমারের (বিটুসি) জন্য যথাযথ পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

মোবাইল হেলথ মনিটরিং
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিষয়াবলির জন্য মোবাইল হেলথ মনিটরিং সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অ্যাপ্লিকেশন। তথ্যপ্রযুক্তি এবং মোবাইল ফোন প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের অন্যতম পদ্ধতির নাম মোবাইল হেলথ মনিটরিং। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এ ধারণা রোগীদের খরচ কমাতে, সরকারের চিকিত্সা কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে এবং উন্নততর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাসহ রোগীদের মনিটরিং করতে এই অ্যাপ্লিকেশন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় একদিকে যেমন বাড়ছে মোবাইল ফোনের ব্যবহার, অন্যদিকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নাগরিকদের উন্নততর স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে এ অ্যাপ্লিকেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ অনেক দেশ কার্যক্রম শুরু করেছে। অদূর ভবিষ্যতে অনেক প্রতিষ্ঠানই মোবাইল ফোনে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ব্যাপকভাবে কাজ করবে।

মোবাইল পেমেন্ট সিস্টেম
মোবাইল পেমেন্ট সিস্টেমের ক্ষেত্রে তিনটি দিক প্রধানত বিবেচিত হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে প্রথমত হচ্ছে যখন পেমেন্টের ক্ষেত্রে খুব কমসংখ্যক বিকল্প থাকে তখন মোবাইল পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহৃত হতে পারে;

দ্বিতীয়ত অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে সহজ ব্যবহারের জন্য বৃদ্ধি পাচ্ছে অনলাইন পেমেন্ট, তৃতীয়ত
পেমেন্টের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত কারণ। মোবাইল পেমেন্ট ব্যাংক, ব্যবসা-বাণিজ্য, ডিভাইস বিক্রেতা, কনজ্যুমারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নত ও উন্নয়নশীল মার্কেটে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। প্রযুক্তি এবং ব্যবসায়িক মডেলের সমন্বয়ে মোবাইল পেমেন্ট আগামী দিনের সম্ভাবনাময় একটি ধারণা। যদিও এটি উন্নয়নের জন্য পূর্ণাঙ্গ ধারণা নয়, তবু এটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

ফিল্ড কমিউনিকেশন সার্ভিস
নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) কনট্যাক্টলেস ডাটা ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে কম্পিটিবল ডিভাইসগুলোর দশ সেন্টিমিটারের মধ্যে একে অপরকে প্লেসিং করতে এই অ্যাপ্লিকেশন গুরুত্বপূর্ণ। খুচরা ক্রয়, ট্রান্সপোর্টেশন, পার্সোনাল আইডেন্টিফিকেশন এবং লয়েলিটি কার্ডের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ধারণা ব্যবহৃত হবে। সব সেবা প্রদানকারীর জন্য ইউজার লয়েলিটি বৃদ্ধি করতে পারে এনএফসি। এই অ্যাপ্লিকেশন ক্যারিয়ার বিজনেস মডেলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। মোবাইল ক্যারিয়ার এবং সার্ভিস প্রদানকারীদের মধ্যে ব্যবসায়িক চুক্তি ডেভেলপ করা বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ যেমন—ব্যাংকগুলোর সঙ্গে পরিবহন কোম্পানি। গার্টনারের মতে, চলতি বছরের শেষ দিকে এই অ্যাপ্লিকেশন অনেক বেশি সম্প্রসারিত হবে এবং ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে এশিয়া অঞ্চলে এনএফসি ফোন নেতৃস্থানীয় অবস্থানে থাকবে।

মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং
স্মার্টফোন এবং ওয়্যারলেস ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অনেক বেশি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে মোবাইল অ্যাভার্টাইজিং। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা অবস্থার মাঝেও নতুন ক্ষেত্র হিসেবে মোবাইল অ্যাড বাজারে বেশ প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ২০০৮ সালে মোবাইল অ্যাভার্টাইজিংয়ের বাজার ছিল ৫৩০.২ মিলিয়ন ডলার। গার্টনারের মতে, ২০১২ সালে এই বাজারের পরিমাণ বেড়ে হবে ৭.৫ বিলিয়ন ডলার। মোবাইল ইন্টারনেটের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে বাড়ছে মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিংয়ের বাজার। টিভি, রেডিও, প্রিন্ট মিডিয়াসহ অন্যান্য গণমাধ্যমে অ্যাডের চেয়ে জনপ্রিয় হতে পারে মোবাইল অ্যাড।

মোবাইল ইন্সট্যান্ট মেসেজিং
মোবাইল ইন্সট্যান্ট মেসেজিং (আইএম) সম্ভাবনাময় মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে অন্যতম। ব্যবসা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে মনে করে গার্টনার। কানেক্টিভিটি ডিভাইসগুলোর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে এই অ্যাপ্লিকেশন কাজ করে। মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং জগতে এটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে বিবেচিত।

মোবাইল মিউজিক
বর্তমানে মোবাইল ফোন জগতে রিংটোন, রিংব্যাক টোন ছাড়াও মোবাইল মিউজিক মাল্টি বিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত হচ্ছে। মোবাইল ফোনে গ্রাহকদের মিউজিক সুবিধা পাওয়ার চাহিদার ফলে সম্ভাবনা বাড়ছে মোবাইল মিউজিক অ্যাপ্লিকেশনের। আইটিউনের মতো অর্থ পরিশোধে মিউজিক সুবিধা প্রযুক্তি জগতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তেমনিভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাড়ছে এই মোবাইল মিউজিক অ্যাপ্লিকেশন ধারণা।

Advertisements

ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার

ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার

 ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার হলো মূত্রনালী সঙ্কীর্ণ হয়ে যাওয়া। এই সঙ্কীর্ণতা ঘটে আঘাত বা রোগ, যেমন­ মূত্রপথের সংক্রমণ বা মূত্রনালীর প্রদাহের কারণে। ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচারের প্রাথমিক স্তরে রোগীর প্রস্রাবের সময় ব্যথা করে এবং প্রস্রাব করার পর মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি হয় না। ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার প্রস্রাবের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা ঘটাতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রস্রাব আটকে যায়, তখন জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

কারণঃ স্ট্রিকচার মূত্রথলি থেকে পুরুষাঙ্গের মাথা পর্যন্ত যেকোনো স্থানে হতে পারে। স্ট্রিকচারের সাধারণ কারণের মধ্যে রয়েছে মূত্রনালীতে আঘাত এবং মূত্রপথের ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ। সাধারণ কথায় ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচারের কারণগুলো হলোঃ মূত্রনালী বা পুরুষাঙ্গে আঘাত এবং আঘাতজনিত পেলভিক ফ্রাকচারের সাথে সম্পৃক্ত মূত্রনালীতে আঘাত, যেমন­ মোটরগাড়ি দুর্ঘটনা, পড়ে যাওয়া ও কলকারখানায় আঘাত ইত্যাদি। পায়ু এলাকায় সরাসরি আঘাত, বারবার প্রস্রাবের পথে সংক্রমণ ও যৌনবাহিত রোগ। লাইচেন স্ক্লেরোসিস (ব্যালানাইটিস জেরোটিকা অবলিটারেনস বা বিএক্সও)। মূত্রনালী ও পুুরুষাঙ্গের জন্মগত অস্বাভাবিকতা এবং শল্যচিকিৎসা। মূত্রনালী রোগের পূর্ব চিকিৎসা, যেমন­ মূত্রনালী সরু হওয়া বা মূত্রনালীতে ক্যান্সার। মূত্রনালী ও পুরুষাঙ্গ জন্মগত অস্বাভাবিকতার (হাইপোসপেডিয়াস, করডি, এপিসপেডিয়াস) জন্য পুনর্গঠন সার্জারি। আগে প্রস্রাবজনিত অপারেশন। যদি ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচারের ঠিকমতো চিকিৎসা করা না হয় তাহলে মূত্রনালীতে টান পড়ার কারণে মূত্রথলির মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা, যেমন­ প্রস্রাব আটকে যাওয়া (প্রস্রাব করতে অক্ষমতা), প্রস্রাব ঝরতে থাকে, প্রস্রাবের পথে প্রদাহ বা সংক্রমণ, রিফ্লাক্স (প্রস্রাব কিডনিতে ফিরে আসা) এবং কিডনির কার্যকারিতা লোপ পাওয়া ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। উপসর্গঃ প্রস্রাব করার সময় ব্যথা করা, প্রস্রাবের গতি কমে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কম হওয়া, দু’নালে প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের সাথে রক্ত পড়া, পেটে ব্যথা, মূত্রনালী পথে নিঃসরণ, অল্প অল্প প্রস্রাব হওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাব হঠাৎ আটকে যাওয়া কিংবা দীর্ঘমেয়াদি আটকে যাওয়া এবং পেছন দিকে চাপের কারণে কিডনি বড় হওয়া। রোগ নির্ণয়ঃ ইউরেথ্রোস্কোপি ও ইউরেথ্রোগ্রাফি। চিকিৎসাঃ ইন্সট্রুমেন্টাল চিকিৎসা, ইন্টারমিটেন্ট ডাইলেটেশন (প্রথমে সপ্তাহে দু’বার, এরপর সপ্তাহে একবার­ এক মাস, মাসে একবার­ এক বছর, এরপর প্রতি বছরে একবার) এবং অবিরাম ডাইলেটেশন। শল্যচিকিৎসাঃ ইন্টারনাল ইউরেথ্রোটমি ও ইউথ্রোপ্লাস্টি।

মিথ্যাচারের পরিণাম ভয়াবহ

মিথ্যাচারের পরিণাম ভয়াবহ

ইসলামে মিথ্যা বলা ও মিথ্যা ভাষণ জঘন্যতম ঘৃণিত কাজ। মিথ্যা ও মিথ্যাচারের মতো অপরাধ গুরুতর পাপ। এ জন্যই মিথ্যা, মিথ্যুক, মিথ্যাবাদী, মিথ্যা ভাষণদাতাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মোটেই পছন্দ করেন না, ভালোবাসেন না। পবিত্র কোরআনে মিথ্যাবাদীর ভয়াবহ অশুভ পরিণতির কথা বলা হয়েছে। যার পরিণতির কথা অবগত হলে শরীর শিউরে উঠে। হজরত রাসুলে করিম (সা.) বিভিন্ন হাদিসে মিথ্যা, মিথ্যাবাদী, মিথ্যা ভাষণ জঘন্যতম অন্যায়-অপরাধ বলে অভিহিত করেছেন। মিথ্যুক, মিথ্যাচারদের মানুষ ঘৃণা করে, অবজ্ঞা করে। কেউ কোনো দিন তাকে বিশ্বাস করে না। কেননা, এ ধরনের মানুষকে প্রতারক মনে করে। একটি কথা আছে, যা প্রবাদ সত্য। একটি মিথ্যা কথাকে সত্য বলে প্রমাণ করতে আরও বানিয়ে মিথ্যা কথা বলার প্রয়োজন হয়। মিথ্যা, মিথ্যাচার থেকে সংসার, পরিবার, সমাজ এবং দেশে দেশে অরাজক পরিস্থিতি, দুর্যোগ ও দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। মিথ্যা এমনই এক বিষয়, যা দ্বারা কত মানুষ ঠকছে, প্রতারিত হচ্ছে, মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। মিথ্যুকদের উপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হয়। মিথ্যুক, মিথ্যাবাদীর অন্তরে শরম, লজ্জা, সঙ্কোচ নেই। যারা এতে অভ্যস্ত তারা অনর্গল অকপটে মিথ্যা বলতে পারে। মিথ্যাবাদীর চেহারা হতে লাবণ্য ও নূর (উজ্জ্বলতা) নিষ্প্রভ হয়ে যায়। অন্তর কালিমালিপ্ত হয়। এ জন্য আল্লাহর রহমতের ফেরেশতা চলে যায়। যে বা যাদের মিথ্যাচার করার অভ্যাস আছে তাদের ধীরে ধীরে মানসিক শক্তি, সত্ সাহস ভালো কাজ করার প্রবণতা লোপ পায়। সত্যকে মহান রাব্বুল আলামিন অসীম শক্তিদান করেছেন। অন্যকে মিথ্যা, মিথ্যাবাদীকে চরম দুর্বল করে দিয়েছেন। সত্যবাদীর অন্তর সর্বদা সবল এবং মিথ্যুকের অন্তর (মন-দিল) অতি দুর্বল করে দিয়েছেন।
মিথ্যা বলা, মিথ্যা ভাষণ সব পাপের মূল। যে মিথ্যাকে বর্জন করে সে কোনোরূপ পাপ কাজে লিপ্ত হতে পারে না। একদা এক মহাপাপী হজরত রাসুলে মকবুলের (সা.) দরবারে এসে আরজ করল, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার ভেতরে সব ধরনের অন্যায় অপরাধ রয়েছে, এখন বলুন, আল্লাহর নবী (সা.) কীভাবে পাপ মার্জনা পেতে পারি। হজরত রাসুলে পাক (সা.) বললেন, তুমি বোধহয় সত্যের পথ খুঁজছো। আল্লাহর রাসুল (সা.) ভাবলেন—এই লোককে সব অপকর্ম একসঙ্গে বর্জন করতে বললে বর্জন করা সম্ভব হবে না। মহানবী (সা.) লোকটিকে বললেন, তোমার চিন্তা করার কারণ নেই। আজ থেকে তুমি একটি কাজ বর্জন কর, মিথ্যা বলার অভ্যাস পরিত্যাগ কর, দেখবে তোমার যাবতীয় পাপাচার কামাচার দূরীভূত হয়ে সাধু মানুষে পরিণত হবে।
লোকটি হজরত রাসুলে করীমের (সা.) এই কথা শুনে খুশি হলো এবং সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর নবীর (সা.) কাছে ওয়াদা করল, সে আজ থেকে আর মিথ্যা কথা বলবে না। একথা শুনে হজরত (সা.) বললেন, তুমি আবার আগামীকাল আসবে—সারাদিন-রাতের কথা ও কাজের সত্য হিসাব দিবে কোনোরূপ ব্যতিক্রম করবে না। অতঃপর লোকটি নিজের বাড়ি গেল, এরই মধ্যেই নামাজের ওয়াক্ত আসল। তখন তার মনে চিন্তার উদয় হলো যে, এতদিন তো নামাজ-কালামের আদৌ ধারধারিনি। আবার মনে মনে বলল, আমি তো হজরত রাসুলে পাকের (সা.) কাছে এমন ওয়াদা করে আসিনি যে, আজ থেকে আমি নামাজ পড়া শুরু করব। ওয়াদা তো শুধু এতটুকু করেছি যে, এখন থেকে আর মিথ্যা বলব না। অথচ এখন সে দেখল আল্লাহর নবীর (সা.) কাছে এই ওয়াদা দিতে গিয়েই তো সে ধরা খেল—আটকা পড়ে গেল। আগামী দিন নবী মোহাম্মদের (সা.) কাছে গেলেই তো তিনি জিজ্ঞেস করবেন, নামাজের ওয়াক্তের সময় কী কাজ করে ছিলে? তখন তো আমাকে বাধ্য হয়ে সত্য কথাটি বলতে হবে। আমি নামাজ আদায় না করে ওই সময় ক্রীড়া, কৌতুক, আমোদ-ফুর্তিতে মত্ত ছিলাম। তখনই লোকটি আর দেরি না করে নামাজ পড়ল। আর মনে মনে বলল, এখন আর চিন্তা-ভয় নেই, লজ্জা নেই। আল্লাহর নবীর কাছে গেলে অকপটে বলতে পারব ওয়াক্তমত নামাজ পড়েছি। আমার এ সত্য কথা শুনে আল্লাহর নবী (সা.) খুশি হবেন। এতদ্ব্যতীত আস্তে আস্তে শরাব পানের অভ্যাস ত্যাগ করল, অপকাজ, অপকর্মের সময় যখনই মহানবীর (সা.) সঙ্গে সত্য বলবে ওয়াদা করে এসেছে একথা স্মরণে আসতে পাপাচার-কামাচারের মনমানসিকতা থেকে সরে এলো। ফলে মিথ্যা বলবে না, এই ওয়াদার কারণে কোন অপকর্মই করতে পারল না।
অতএব আসুন। ইহজীবনে আমরা সর্বক্ষেত্রে মিথ্যা পরিহার করে আল্লাহর আজাব, গজব, লানত থেকে নিজেদের বাঁচাই এবং অপরকে বাঁচার প্রতি উত্সাহিত করি। একথা মনে রাখতে হবে, মিথ্যাই সব ধরনের পাপকে প্রশ্রয় দেয়, ফলে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজে মিথ্যা, মিথ্যাচার, মিথ্যা ভাষণ পরিহার করে খাঁটি কামেলে ইনসান বনে যাই। আসুন না আমরা মিথ্যা বলা বর্জন সপ্তাহ পালন করে নিজেদের সত্য বলার প্রতি মন-মানসিকতা তৈরি করি এবং দেশের সর্বশ্রেণীর মানুষকে এর প্রতি চরম ঘৃণা সৃষ্টি করে আমরা সত্যাচারী হই এবং মানুষকে সত্য কথা বলার প্রতি উত্সাহিত করি।

%d bloggers like this: