কন্যা-সন্তানের প্রতি ইসলামের অবদান

কন্যা-সন্তানের প্রতি ইসলামের অবদান

এক ব্যক্তি হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর কাছে তার জাহেলি যুগের একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন– ‘আমার একটি মেয়ে ছিল। সে আমাকে খুব ভালবাসতো। তার নাম ধরে ডাকলে সে দৌড়ে আমার কাছে আসতো। একদিন আমি তাকে ডাকলাম। তাকে সঙ্গে করে নিয়ে হাঁটতে লাগলাম। পথে একটি কুয়া পেলাম। তার হাত ধরে ধাক্কা দিয়ে কুয়ার মধ্যে ফেলে দিলাম। তার যে শেষ কথাটি আমার কানে ভেসে এসেছিল তা হলো, হায় আব্বা, হায় আব্বা!’ একথা শুনে রাসুলুল্লাহ (স.) কেঁদে ফেললেন। তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগলো। উপস্থিত লোকদের মধ্যে থেকে একজন বললেন, ওহে তুমি রাসুলুল্লাহকে (স.) শোকার্ত করে দিয়েছ। তিনি বললেন, থাক তোমরা একে বাধা দিও না। যে বিষয়ে তার কঠিন অনুভূতি জেগেছে সে বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করতে দাও। তারপর তিনি তাকে বললেন, তোমার ঘটনাটি আবার বর্ণনা করো। সেই ব্যক্তি আবার তা শুনালেন। ঘটনাটি আবার শুনে তিনি এত বেশি কাঁদতে থাকলেন যে, চোখের পানিতে তার দাড়ি ভিজে গেল। এরপর তিনি বললেন, জাহেলি যুগে যা কিছু করা হয়েছে আল্লাহ তা মাফ করে দিয়েছেন। এখন নতুন করে জীবন শুরু করো।’ (সুনানে দারামি)।

ইসলামই কেবলমাত্র আরবের এই নিষ্ঠুর ও জঘন্য প্রথাটি নির্মূল করেছে। সেই সাথে শিক্ষা দিয়েছে, মেয়েদের লালন-পালন করা, তাদেরকে উত্তম শিক্ষা-দীক্ষা দেয়া এবং ঘর-সংসারের কাজে পারদর্শী করে গড়ে তোলা অনেক বড় নেকির কাজ। রাসুলুল্লাহ (স.) এ ব্যাপারে মেয়েদের সম্পর্কে মানুষের সাধারণ ধারণা যেভাবে পরিবর্তন করে দেন হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা থেকে তা আন্দাজ পাওয়া যায়। দৃষ্টান্তস্বরূপ নিচে কয়েকটি হাদিস উদ্ধৃত করা হলো। ‘এই মেয়েদের জন্মের মাধ্যমে যে ব্যক্তিকে পরীক্ষার সম্মুখীন করা হয়, তারপর সে তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করে তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার কারণে পরিণত হবে।’ (বোখারি ও মুসলিম)। ‘যে ব্যক্তি দুটি মেয়ের লালনপালন করে, এভাবে তারা বালেগ হয়ে যায়, সে কেয়ামতের দিন আমার সাথে ঠিক এভাবে আসবে। একথা বলে তিনি নিজের আঙুলগুলো একসাথে করে দেখান।’ (মুসলিম)। ‘যার কন্যা সন্তান আছে, সে তাকে জীবিত কবর দেয়নি, তাকে দীনহীন ও লাঞ্ছিত করেও রাখিনি, আল্লাহ তাকে জান্নাতে স্থান দেবেন।’ (আবু দাউদ)। ‘যার তিনটি কন্যা আছে, সেজন্য সে যদি সবর করে এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদেরকে ভালো কাপড় পরায়, তাহলে তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়ে পরিণত হবে। (বোখারির আদাবুল মুফরাদ ও ইবনে মাজাহ)। এই শিক্ষার ফলে মেয়েদের ব্যাপারে কেবল আরবদেরই নয় দুনিয়ার অন্য যেসব জাতি ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছে তাদের সবার দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে গেছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: