কাঁধের ব্যথায় করণীয়

কাঁধের ব্যথায় করণীয়

মানব শরীরের ২০৬ টি হাড়ের সমন্বয়ে ছোট বড় ১৪৭ টি জোড়ার মধ্যে কাঁধের জোড়ায় সব চেয়ে বেশী নড়াচড়া হয়। কাঁধের ত্রিশটি পেশীর মধ্যে চারটি পেশী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পেশী ও জোড়ার গঠন এর জন্য বাহুর বিভিন্ন মুভমেন্ট অতি সহজেই হয়ে থাকে। এই পেশীগুলি কিছু হাড়ের উপর দিয়ে  এবং কিছু হাড় ও লিগামেন্টের  নীচ দিয়ে বিস্তৃত। জোড়ার বিভিন্ন রোগ ও ইনজুরির কারণে আস্তে আস্তে পেশী মুভমেন্টের স্পেস সরু হয় এবং বাহুর নড়াচড়ার সময় হাড়ের সাথে পেশীর  সংঘর্ষ হয়। যে কোন কারণে পেশী নড়াচড়ার স্পেস কমে গেলে বাহুর মুভমেন্টের সময় হাড়ের সাথে পেশীর  সংঘর্ষ হয়, পেশী ইনজুরি হয়, মুভমেন্ট কমে যায়, ব্যথা হয় এবং অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়। অর্থোপেডিক চিকিত্সা বিজ্ঞানে  এদেরকে একত্রে ইমপিন্জমেন্ট সিনড্রোম (Impingement Syndrome) বলে। ইমপিন্জমেন্ট সিনড্রোম কাঁধের বিভিন্ন রোগের উপসর্গের মধ্যে অন্যতম ।

ইমপিন্জমেন্ট সিনড্রেমের কারণসমূহ: হাড়ের গঠনগতভাবে অস্বাভাবিক আকৃতি (যেমন  বাঁকা বা হুকের মত),  জোড়ার স্থানচ্যুতি, হাড়ের  ফ্র্যাকচার, অস্বাভাবিকভাবে হাড় জোড়া লাগা, লিগামেন্ট হাড়ে (ক্যালসিফিকেশন) পরিণত হওয়া, সাবএ্যাকরোমিয়ন অসটিওফাইটস (অতিরিক্ত হাড়), জোড়ার আর্থ্রাইটিস ও অসটিওফাইটস (অতিরিক্ত হাড়), টনডনের প্রদাহ (টেনডিনাইটিস), বার্সার প্রদাহ (বার্সাইটিস) এবং হাড়ের টিউমার।

ইমপিন্জমেন্ট সিনড্রোমের উপসগ: ইমপিন্জমেন্ট সিনড্রোমের প্রথম লক্ষণ হলো ব্যথা। ব্যথা সাধারণত:বাহুর কতিপয় নড়াচড়ায় এবং একটা নির্দিষ্ট অবস্থানে শুরু হয়। ব্যথা কাঁধের ভিতর, উপরিভাগ এবং বাহুতে অনুভূত হয়। কখনও কখনও ব্যথা কনুই পর্যন্ত যায়। কাঁধের পেশী শুকিয়ে যায় এবং দুর্বল হয়। কাঁধে কাঁত হয়ে ঘুমালে ব্যথা হয় বা ব্যথার জন্য ঘুমানো যায় না। ব্যথা, সীমিত মুভমেন্ট ও পেশী দুর্বলতার জন্য পিঠ চুলকানো, চিরুনী দিয়ে মাথা আচঁড়ানো, জামার বোতাম লাগানো ইত্যাদি করা খুবই কষ্টকর। কাঁধে কোন একটি নির্দিষ্ট মুভমেন্টে ক্রিপিটাস বা ক্রেকলিং সেনসেশন হয় বা শব্দ শুনা যায়।

চিকিত্সা বা প্রতিকার:দীর্ঘদিন কাধ বিনা চিকিত্সায় থাকলে কাধের পেশী দুর্বল হয়, কাধ শক্ত হয়ে যায় এবং আর্থ্রাইটিস হয়ে জয়েন্ট নস্ট হয়। সুতরাং যথাসময়ে যথোপযুক্ত চিকিত্সা গ্রহণে কাধের জোড়াকে ভয়াবহ ক্ষতি হতে রক্ষা করা যাবে। কাধের ইমপিন্জমেন্টে সিনড্রোমের চিকিত্সা নির্ভর করে ইহার কারণসমূহ ও তীব্রতার উপর। সঠিকভাবে রোগের কারণ নির্ণয় এবং এর তীব্রতা বের করতে রোগের লক্ষণসমূহ, রোগীর ভালোভাবে শারীরিক পরীক্ষা এবং কিছু ল্যাবরেটরী পরীক্ষা (যেমন এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাফী এবং এম, আর, আই)  প্রয়োজন হয়।

চিকিত্সা (কনজারভেটিভ): ১. বিশ্রাম এবং আর্ম সিলিং বা ইলবো বেগ ব্যবহার করা।

২. গরম ও ঠান্ডা সেক – প্রতি ঘন্টায় দশ মিনিট।

৩. স্ট্রেসিং এবং পেশী নমনীয় ও শক্তিশালী হওয়ার ব্যায়াম করতে হবে ।

৪. ফিজিকেল থেরাপি-এস ডব্লিউ টি ও ইউ এস টি ব্যবহারে উপসর্গ লাঘব হয়।

৫. ননস্টেরয়ডাল এন্টিইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ সেবন।

৬.স্টেরয়েড ইনজেকশন ।

সার্জারী:কনজারভেটিভ চিকিত্সায় ভালো না হলে, রোগের পুনরাবৃত্তি হলে, জোড়ায় অতিরিক্ত হাড় হলে, হাড় জোড়ার অস্বাভাবিক আকৃতি হলে এবং লিগামেন্ট হাড়ে (ক্যালসিফিকেশন) পরিণত হলে অপারেশন করাতে হয়। বর্তমানে আর্থ্রোস্কোপ ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে কাঁধে প্রবেশ করিয়ে :-

(১) অস্বাভাবিক আকৃতির এ্যাকরোমিয়ন হাড় সেভিং করে গঠন ঠিক করা হয়,

(২) অতিরিক্ত হাড় বা ওসটিওফাইটস সেভিং বা রিমোভ করা হয়,

(৩) বার্সাইটিস ও আর্থ্রাইটিস হয়ে সাবএকরোমিয়ন স্পেস কমে গেলে রিসঙ্কোচন করা হয় এবং

(৪) লিগামেন্ট হাড়ে (ক্যালসিফিকেশন) পরিণত হলে একে বিচ্ছেদ করে  বের করা হয়। আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারীর পর নিয়মিত ও পরিমিত পরিচর্যা করে জোড়াকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: