অতিরিক্ত গরম ও স্বাস্থ্য সমস্যা

অতিরিক্ত গরম ও স্বাস্থ্য সমস্যা

চলছে গ্রীষ্মকাল। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠের প্রচণ্ড গরমে চারদিক বেশ অস্থির। সেই সঙ্গে রয়েছে আর্দ্রতা। ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত। বাড়ছে গরমের স্বাস্থ্য সমস্যা, রোগ-জ্বরা। ঘামাচি কিংবা পানিস্বল্পতার মতো সমস্যা প্রায় প্রত্যেকেরই হচ্ছে, আবার কেউ কেউ হিটস্ট্রোকের মতো মারাত্মক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এর সঙ্গে হতে পারে অবসাদ, এলার্জি, সূর্যরশ্মিতে চামড়া পুড়ে যাওয়া, হজমের অভাবে বমি বা ডায়রিয়াজনিত রোগ ইত্যাদি।

গরমের কারণে সৃষ্ট সমস্যা
গরমের কারণে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যা হয় তা হলো পানিস্বল্পতা। প্রচুর ঘামের কারণে পানির সঙ্গে সঙ্গে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় লবণও বেরিয়ে যায়। সাধারণত এর ফলে শরীরের রক্তচাপ কমে যায়, দুর্বল লাগে, মাথা ঝিমঝিম করে। পানিস্বল্পতা গরমের খুবই সাধারণ সমস্যা হলেও অবহেলা করলে তা মারাত্মক হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তি এবং যারা বাইরে কাজ করেন ও প্রয়োজনমত পানি পান করার সুযোগ পান না, তারাই মারাত্মক পানিস্বল্পতায় আক্রান্ত হন বেশি। এক্ষেত্রে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং কিডনির সমস্যা হওয়াও বিচিত্র নয়।
পানিস্বল্পতা ছাড়াও গরমের কারণে ত্বকে ঘামাচি ও এলার্জি হতে পারে। গরমের কারণে অতিরিক্ত ঘাম তৈরি হয় যার চাপে ঘর্মগ্রন্থি ও নালী ফেটে যায়, ফলে ত্বকের নিচে ঘাম জমতে থাকে। এটাই ঘামাচি। অনেক সময় ঘাম ও ময়লা জমে ঘর্মনালীর মুখ বন্ধ হয়ে যায় এবং সেখানে ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে। এতে ঘামাচি ও এলার্জি বেড়ে যায় এবং ঘামে প্রচুর গন্ধ হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া ছাড়াও ঘাম ও ময়লার কারণে ছত্রাকজনিত রোগও এসময়ে বেশি হয়।
গরমে যারা সরাসরি সূর্যের আলোর নিচে বেশিক্ষণ থাকেন তাদের ত্বক পুড়ে যেতে পারে। এতে ত্বক লাল হয়ে যায়, জ্বালাপোড়া করে, চুলকায় এবং ফোস্কা পড়ে। মূলত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিই এর জন্য দায়ী। যারা একটু ফর্সা বা যাদের ত্বক নাজুক, তাদের এ সমস্যা বেশি হয়।
গরমের সবচেয়ে মারাত্মক সমস্যা হলো হিটস্ট্রোক। শুরুতে হিট স্ট্রোকের আগে হিট ক্যাম্প দেখা দেয় যাতে শরীরে ব্যাথা করে, দুর্বল লাগে এবং প্রচণ্ড পিপাসা লাগে। পরে হিট এক্সহসশানে দেখা দেয়, শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়, মাথা ব্যথা করে এবং রোগী অসংলগ্ন আচরণ করতে থাকে। এ অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এবং শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফা. ছাড়িয়ে যায়। একে হিট স্ট্রোক বলে।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণ
তাপমাত্রা দ্রুত ১০৫ ডিগ্রি ফা. ছাড়িয়ে যায়, ঘাম বন্ধ হয়ে যায় এবং ত্বক শুষ্ক ও লাল হয়ে যায়, নিঃশ্বাস দ্রুত হয়, নাড়ির স্পন্দন ক্ষীণ ও দ্রুত হয়, রক্তচাপ কমে যায়, খিঁচুনি হয়, মাথা ঝিমঝিম করে এবং রোগী অসংলগ্ন আচরণ করতে থাকে। রোগীর প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়, অজ্ঞান হয়ে যায়। এ অবস্থায় রোগী শকেও চলে যেতে পারে।
গরমের সরাসরি প্রভাব ছাড়াও অন্য আনুষঙ্গিক সমস্যা হতে পারে। অনেকেই গরমে তৃষ্ণা মেটাতে বাইরে পানি বা শরবত খান, যা অনেক সময় বিশুদ্ধ হয় না। ফলে ডায়রিয়া ও বমিতে আক্রান্ত হতে পারেন। একই কারণে এসময় পানিবাহিত অন্যান্য রোগ যেমন টাইফয়েড, হেপাটাইটিস ইত্যাদি বেশি হয়। গরমে অনেকে প্রচুর পানি পান করেন কিন্তু তাতে পর্যাপ্ত লবণ থাকে না, ফলে লবণের অভাব দেখা দেয়। গরমে অনেক সময় খাবার নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ওই খাবার খেলে বদহজমসহ অনেক পেটের পীড়া দেখা দিতে পারে।

এ সময় যা করতে হবে
— যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকতে হবে।
— বাইরে বের হলে সরাসরি রোদ যত সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে টুপি বা ছাতা ব্যবহার করতে হবে। পরনের কাপড় হতে হবে হাল্কা, ঢিলেঢালা, সুতি। শরীর যতটা সম্ভব ঢেকে রাখতে হবে।
— শরীরের উন্মুক্ত স্থানে সম্ভব হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে, যা রোদে পোড়া থেকে সুরক্ষা দেবে।
— প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল পান করতে হবে। যেহেতু ঘামের সঙ্গে পানি ও লবণ দুই-ই বের হয়ে যায়, সেহেতু লবণযুক্ত পানীয় যেমন খাবার স্যালাইন, ফলের রস ইত্যাদিও বেশি করে পান করতে হবে। অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে হবে। চা ও কফি যথাসম্ভব কম পান করা উচিত।
— প্রয়োজনমত গোসল করতে হবে এবং শরীর ঘাম ও ময়লামুক্ত রাখতে হবে।
— শ্রমসাধ্য কাজ যথাসম্ভব কম করতে হবে। এক্ষেত্রে কিছুক্ষণ পরপর বিশ্রাম নিতে হবে এবং প্রচুর পানি ও স্যালাইন পান করতে হবে।
— গুরুপাক খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। সাধারণ খাবার যেমন ভাত, ডাল, সবজি, মাছ ইত্যাদি খাওয়াই ভাল। খাবার যেন টাটকা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নানা রকম ফল যেমন আম, তরমুজ ইত্যাদি এবং লেবুর শরবত শরীরের প্রয়োজনীয় পানি ও লবণের ঘাটতি মেটাবে।

আরও প্রয়োজনীয় কিছু পরামর্শ
প্রচণ্ড গরমে কেউ যদি অসুস্থ হয়ে যায় তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। রোগীকে দ্রুত শীতল কোনো স্থানে নিয়ে যেতে হবে, ফ্যান বা এসি ছেড়ে দিতে হবে, সম্ভব না হলে পাখা দিয়ে বাতাস করতে হবে। রোগীর গরম কাপড় খুলে ফেলতে হবে এবং ভেজা কাপড়ে শরীর মুছে ফেলতে হবে। সম্ভব হলে গোসল করাতে হবে। রোগীকে প্রচুর পানি ও খাবার স্যালাইন পান করতে দিতে হবে। যদি কেউ হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয় এবং অজ্ঞান হয়ে যায় তবে দ্রুত শরীরের তাপমাত্রা কমাতে হবে। এক্ষেত্রে রোগীকে অবশ্যই দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে, ঘরে চিকিত্সা করার কোনো সুযোগ নেই।
গরমের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের বেলায় আরও জরুরি। স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হয়ে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে দহনজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

জীবন গড়ি কোরআনের আলোয়

জীবন গড়ি কোরআনের আলোয়

 

সমগ্র মানবজাতির জন্য পবিত্র কোরআনুল করীম চিরন্তন সংবিধান। এই চিরন্তন সংবিধানের ব্যাখ্যাকারী, স্বীয় বাস্তবজীবনে অনুসরণকারী আমাদের মহানবী হজরত রাসূলে মকবুল (স.)। আল্লাহর রাসূল (স.) পবিত্র কোরআনের আলোকে আদর্শ বিশ্ববাসীর কাছে স্থাপন করে গেছেন। তা চিরকালের জন্য অনুসরণীয়-অনুকরণীয়। আল্লাহ পাক স্বয়ং কোরআনুল মজিদে ঘোষণা করেছেন, ‘লাক্কাদ কানালাকুম ফি রাসূলিল্লাহি উসওয়াতুন হাসানা।’ অর্থাত্ নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের জীবনে তোমাদের জন্য সুন্দর চমত্কার আদর্শ রয়েছে। তাই মানবজীবন গঠন করার জন্য মহানবী হজরত রাসূলে মকবুল (স.)-এর কাছে আল্লাহর তরফ থেকে যে ওহি প্রত্যাদেশ, আইন, বিধান, অনুশাসনপ্রাপ্ত হয়েছেন, তা-ই আমাদের শুধু সহায় বা পাথেয় যা পালন করা অতীব কর্তব্য। আল্লাহ পাক মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর খলিফা, প্রতিনিধি হিসেবে। মানুষ যাতে পথভ্রষ্ট হয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত না হয়, সেজন্য তিনি ইসলামকেই শুধু জীবনব্যবস্থারূপে আমাদের জন্য মনোনীত করেছেন। পবিত্র কোরআনে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের একমাত্র দ্বীন, ধর্ম বা জীবনব্যবস্থা হলো ইসলাম এবং পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিতে মানবজীবনের লক্ষ্য হচ্ছে, আল্লাহ পাকের রাজি, খুশি, সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে ইহকালীন/আখেরাতে পরিত্রাণ পাওয়া। কাজেই আমাদের সর্বোত প্রচেষ্টা থাকতে হবে, আমাদের গোটা জীবন মৃত্যু পর্যন্ত পবিত্র কোরআনের আলোকে গড়ে তোলা। এ সম্পর্কে আল কোরআনে আরও বলা হয়েছে, ‘ওমা খালাকতুল জিন্না ওয়াল ইনসা ইল্লা লিয়াবুদুন’, অর্থাত্ আমি মানব ও জিন জাতিকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি। তাই পবিত্র ইসলামে পরিবার, সমাজ এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা অনস্বীকার্য। জীবন গঠন ও জীবন ধারণের জন্য ইসলামী নীতিমালা, জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা অবশ্য কর্তব্য। বলার অপেক্ষা রাখে না, এটা সর্বতোভাবে বাস্তব সত্য মানুষের অধিকার রক্ষা, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকদের দায়িত্ব, সামাজিক, নৈতিক অপরাধ নির্মূলে পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, যা সর্বকালের জন্য অনুসরণীয়। বাস্তবক্ষেত্রে এটা পালনীয় ও করণীয় যাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। পরকালীন জীবনে মুক্তির জন্য, জান্নাতপ্রাপ্তিতে পবিত্র কোরআনের অনুসৃত বিধান অনুযায়ী আমল-আখলাকে জীবন পরিচালনা করা প্রত্যেক ঈমানদার ব্যক্তির জন্য অবশ্য অবশ্য পালনীয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত শিখে, বুঝে, খুঁজতে হবে জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পবিত্র কোরআনের অনুসরণ, মহানবী হজরত রাসূলে পাক (স.)-এর অতুলনীয় মহান আদর্শ। অর্থাত্ সুন্নাতে রাসুলুল্লাহ (স.) এর মহান শিক্ষা, মহান পথচলা মানুষের জীবনকে মহত্তম করে গড়ে তোলে। মহত্তম আদর্শের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত শুধু আমাদের রাসূলে মকবুল (স.) তাঁর ব্যক্তিগত চরিত্র ছিল সব নবী-রাসুল ও সংস্কারকদের চেয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং তাঁর সব চিন্তা ও কর্মের মহত্-উন্নত মানুষের রূপ বিদ্যমান। মহানবী (স.) নিজে যা নৈতিক শিক্ষা-আদর্শের কথা বলতেন, গৃহের পরিবেশেও তিনি সেই অনুসারে চলতেন। একবার হযরত আয়শা (রা.) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল হজরত রাসূলে পাক (স.)-এর স্বভাব চরিত্র কেমন ছিল? উত্তরে তিনি বলেছিলেন- তাঁর স্বভাব ছিল হুবহু কোরআনেরই দৃষ্টান্ত। এছাড়া হজরত আয়শা সিদ্দিকা (রা.) আরও বলেছেন, আল্লাহর পেয়ারা হাবীব হজরত (স.) কাউকে তিরস্কার করতেন না। মন্দ, খারাপ ব্যবহার করতেন না। বরং ক্ষমা করে দিতেন।
অতএব, যে মহত্ চরিত্র আমাদের জীবনকে করবে উন্নত, যে সুন্দরতম চরিত্র আমাদের জন্য হবে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, সেই চরিত্রের বিকাশ আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত। তাই পবিত্র কোরআনের আলোকে জীবন গঠনের জন্য মানবিক গুণাবলি অর্জন করা আমাদের অত্যন্ত প্রয়োজন। এই দুনিয়ার জীবনে সফলকাম মানুষ সেই ব্যক্তি, যার মধ্যে দৃঢ় সংকল্প এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ধৈর্য, সহনশীলতা, বীরত্ব, সাহস, ত্যাগের মহিমা, সংযম, আত্মসংযম, ওয়াদা পালন, আনুগত্য, নিষ্ঠা, পবিত্রতা, ভদ্রতা, সৌজন্য ও নিষ্ঠাচার প্রভৃতি গুণ বিদ্যমান। এসব গুণ গরিমার মহিমায় শাশ্বত মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ, উন্নয়ন ও পূর্ণতাসাধিত হয়। প্রসঙ্গত আমার আশা দেশের সর্বত্র হিফজুল কোরআন মাদরাসা, কোরআনিক শিক্ষাকেন্দ্র, প্রতিষ্ঠা করতে সরকার ও ধনাঢ্য, বিত্তশালী, শিল্পপতি ও সামর্থ্যবান মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই এবং এ দ্বারা আমরা যেন সত্যিকার শিক্ষালাভ করে কামেলে ইনসান হই।

মুড ভালো রাখতে চান?

মুড ভালো রাখতে চান?

সকালে ঘুম ভাঙতেই রাজ্যের কাজ এসে যেন ঝাঁপিয়ে পড়ে কাঁধে। আমাদের শহুরে জীবনটাই এমন। বাড়িতে নানান কাজের ঝক্কি সামলে যখন আপনি নামবেন রাজপথে অফিস যাত্রা করতে, তখন আপনাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরবে রাস্তার বেধড়ক ট্রাফিক জ্যাম আর অস্বস্তিকর গরম। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে জলবায়ু যেমন চরম ভাবাপন্ন তেমনি আপনার মেজাজটাও কিন্তু একই রকম উত্তপ্ত। আর এই উত্তাপ অনেকটাই ক্রমবর্ধমান। অফিসে ঢুকেই বসের ঝাড়ি। এরপর অগোছালো কাজগুলোকে গোছাতে গোছাতেই ২-৪টা মিটিং এসে হাজির হবে। সব কাজ শেষে যখন আপনি একটু একটু করে অফিস থেকে বাড়ির দিকে যাত্রা শুরু করেছেন, তখনই বস ডেকে পাঠাবে আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করার জন্য। ব্যস! আপনার মেজাজটা আর একবার খিচড়ে গেল। এরপর ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফেরার পর নিজেকে সংসারের সুখ-দুঃখের মাঝে গা ভাসানো কঠিন হয়ে পড়ে। এমন সময় অস্থির মনকে বশে আনার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় টিপস্ থাকছে এই সংখ্যা কড়চায়। মাথা ঠাণ্ডা করে একটু স্মরণ করে এই টিপসগুলো মেনে চললে সহজেই আপনি জীবনটাকে আর একটু সহজভাবে গ্রহণ করতে পারবেন।
— সকাল বেলা ঘুম ভাঙতেই হুড়মুড়িয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বেন না। নিজের জন্য একটু সময় বের করে নিন। অন্তত ১৫ মিনিট সময় রাখুন নিজের জন্য। এই সময়টাতে একটু শরীরচর্চা, যোগাসন এসব করলে শরীরে প্রশান্তি আসবে। সমস্যার মোকাবিলা আরও সহজে করতে পারবেন। যদি শরীর চর্চায় খুব অনীহা থাকে তাহলে নিজের ওপর জোর খাটাতে যাবেন না। চেষ্টা করুন নিজের পছন্দের কোনো কাজ করতে। যেমন ধরুন ফুলের টবে পানি দেয়া, বারান্দায় একটু হাঁটা, একটু সময় নিয়ে পত্রিকা পড়া কিংবা পছন্দের কোনো গান শোনা। এমন কিছু টুকটাক কাজে আপনার মন হালকা থাকবে।
— ঘরের কাজের সব দায়িত্ব নিজের হাতে নেবেন না। এতে অহেতুক চাপ বাড়বে, পাশাপাশি কাজও অনেক এলোমেলো হয়ে যাবে। পরিবারের বাকি সদস্যদের মাঝে কাজগুলো ভাগ করে দিন। পুরুষরা অবশ্যই গৃহিণীর ওপর সব কাজের চাপ দেবেন না। আবার সব নিজেও করতে যাবেন না। পছন্দের কাজগুলো দুজন মিলে ভাগ করে নিন। আর গিন্নিরাও সব কাজ নিজে না করে চেষ্টা করুন স্বামীর সঙ্গে কিছু কাজ ভাগ করে নিতে। নাস্তাটা আপনি তৈরি করতে ব্যস্ত থাকলে কর্তাকে বলুন ছেলেমেয়েদের স্কুলের জন্য তৈরি করে দিতে।
— ধরুন আজ অফিসে যাওয়ার আগ মুহূর্তেই কোনো কারণে মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে গেল। সেক্ষেত্রে অফিস যাওয়ার প্রস্তুতিটাকে একটু রাঙ্গিয়ে তুলুন। নিজের ঘরে একটু সময় নিয়ে সেজেগুজে তৈরি হন মেয়েরা। পছন্দের কোনো শাড়ি কিংবা কামিজ পরুন। একটু সাজুন। আর গায়ে মেখে নিন নিজের সবচেয়ে পছন্দের পারফিউমটি। ছেলের ক্ষেত্রেও তাই। মুডে পরিবর্তন আনতে আজ একটু কালারফুল একটা টাই ট্রাই করে দেখুন। শু-টা হয়তো ২-৩ দিন কালি করা হয় না। আজ একটু কালি মাখিয়ে ঝকঝকে করে নিন। কচকচে ভাজ খোলা একটা শার্ট পরে রওনা দিন অফিসের দিকে। দেখবেন মুহূর্তে আপনার কালি মাখা মুডটা কেমন ঝকমক করে ওঠে।
— অফিস থেকে যাত্রাপথে মেজাজ ঠাণ্ডা রাখতে পছন্দের কোনো মিউজিক ট্রাই করতে পারেন। সঙ্গে চেষ্টা করুন পানির বোতল রাখতে। এক চুমুক খাবার পানিও কিন্তু অনেক সময় তেষ্টার সঙ্গে সঙ্গে মেজাজ ঠাণ্ডা করতেও সহায়ক হয়ে থাকে।
— অফিস থেকে বের হওয়ার শেষ সময়টাতেও মেজাজ গরম হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে চেষ্টা করুন অফিস থেকে সোজা বাড়ি না গিয়ে একটু শপিংয়ে বেরুতে। আর কারও জন্য নয়, কেবল নিজের জন্য কিছু শপিং করুন বাড়ি ফেরার সময়। দেখবেন মেজাজটা একেবারে চনমনে হয়ে যাবে।

সন্তানের হক

সন্তানের হক

নবী করিম সাঃ বলেছেন, প্রত্যেক নবজাতক তার স্বভাবজাত ধর্ম ইসলামের ওপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার মা-বাবা তাকে ইহুদি, খ্রিষ্টান অথবা অগ্নিপূজক হিসেবে গড়ে তোলে [সহি বুখারি] । আমাদের সমাজব্যবস্থা দিন দিন যেভাবে অপসংস্কৃতি, অনৈতিকতা এবং চরিত্রবিধ্বংসী কাজের দিকে ধাবিত হচ্ছে, সেখানে আমাদের সন্তানের ওপর যেসব দায়িত্ব আছে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করতে হবে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশিত পন্থায় সন্তানকে লালন-পালন করা ঈমানের অন্যতম দাবি। আমাদের ওপর সন্তানদের যে হকগুলো রয়েছে তা এখানে আলোচনা করা হলোঃ

১. কানে আজান দেয়াঃ সন্তান দুনিয়াতে আসার পর গোসল দিয়ে পরিষ্কার করে তার ডান কানে আজান দেয়া, তা ছেলে হোক বা মেয়ে হোক। এটি বাবা-মায়ের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব যে, শিশুর কানে সর্বপ্রথম আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের আওয়াজ পৌঁছে দেয়া এবং ওঁৎ পেতে থাকা শয়তান যাতে তার কোনো ক্ষতি না করতে পারে। হাদিসে এসেছে, আবু রাফে রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাঃ-কে হাসান ইবনে আলীর কানে আজান দিতে দেখেছি [সুনানে আবু দাউদ] ২. সুন্দর নাম রাখাঃ শিশুর জন্য সুন্দর নাম নির্বাচন করা বাবা-মায়ের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য। নাম অর্থবহ হওয়া নামের সৌন্দর্য। । কেননা হাদিসে এসেছে, আবু দারদা রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাঃ বলেছেন, কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে তোমাদের নাম ও তোমাদের বাবার নাম ধরে ডাকা হবে। সুতরাং তোমরা তোমাদের সুন্দর নাম রাখো। [মুসনাদে আহমাদ] ৩. আকিকা করাঃ ইসলামী সংস্কৃতির অন্যতম বিষয় হলো­ সন্তানের আকিকা করা । ছেলের পক্ষ থেকে দু’টি ছাগল এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি ছাগল আল্লাহর নামে জবেহ করা, তবে ছেলের পক্ষ থেকে একটি দিলেও চলবে। এর জন্য কোনো আনুষ্ঠানিকতা করা সুন্নাহ পদ্ধতি নয়। হাদিসে এসেছে, সামুরা রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, সব নবজাতক তার আকিকার সাথে আবদ্ধ। জন্মের সপ্তম দিন তার পক্ষ থেকে জবেহ করা হবে। ওই দিন তার নাম রাখা হবে। আর তার মাথার চুল কামানো হবে। [সুনানে আবু দাউদ] ৪. সদকাহ করাঃ ছেলে হোক বা মেয়ে হোক সপ্তম দিবসে চুল কাটা এবং চুল পরিমাণ রৌপ্য সদকাহ করা সুন্নত। আলী রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃ হাসান রাঃ-এর পক্ষ থেকে একটি বকরি আকিকা দিয়েছেন এবং বলেছেন, হে ফাতেমা! তার মাথা মুণ্ডন করো এবং চুল পরিমাণ রৌপ্য সদকাহ করো [সুনান আততিরমিজি]। এ ছাড়া রাসূলুল্লাহ সাঃ শিশুদেরকে খেজুর দিয়ে তাহনিক এবং বরকতের জন্য দোয়া করতেন [সহি বুখারি ও মুসলিম]। ৫. খতনা করাঃ ছেলেদের খতনা করানো একটি অন্যতম সুন্নত। হাদিসে এসেছে, জাবির রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃ হাসান এবং হুসাইন রাঃ-এর সপ্তম দিবসে আকিকা এবং খতনা করিয়েছেন [সুনানে আততিরমিজি]। ৬. তাওহিদ শিক্ষা দেয়াঃ শিশু যখন কথা বলা আরম্ভ করবে তখন থেকেই আল্লাহর তাওহিদ শিক্ষা দিতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাঃ মায়াজ বিন জাবাল রাঃ-কে লক্ষ্য করে বলেন, ‘সর্বপ্রথম তুমি তাদেরকে আল্লাহ তায়ালার তাওহিদের শিক্ষা দেবে’ [সহি বুখারি]। ৭. কুরআন শিক্ষা দানঃ ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে কুরআন শিক্ষা দিতে হবে। কেননা কুরআন শিক্ষা করা ফরজ। আলী রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদের তিনটি বিষয় শিক্ষা দাও। তন্মধ্যে রয়েছে তাদেরকে কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষা ও কুরআনের জ্ঞান দাও [জামিউল কাবির]। কুরআন শিক্ষা দেয়ার চেয়ে উত্তম কাজ আর নেই। ৮. সালাত শিক্ষা দেয়া ও সালাত আদায়ে অভ্যস্ত করাঃ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার যে, বাবা-মা তার সন্তানকে সালাত শিক্ষা দেবেন এবং সালাত আদায়ে অভ্যস্ত করাবেন। হাদিসে এসেছে, নবী সাঃ ইরশাদ করেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদের সালাতের নির্দেশ দাও সাত বছর বয়সে। আর দশ বছর বয়সে সালাতের জন্য মৃদু প্রহার করো [সুনানে আবু দাউদ]। ৯. আদব বা শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়াঃ সন্তানদের আচরণ শিক্ষা দেয়া বাবা-মায়ের ওপর দায়িত্ব ও কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত। লুকমান আলাইহিস সালাম তার সন্তানকে বললেন, ‘আর তুমি মানুষের দিক থেকে তোমার মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। আর জমিনে দম্ভভরে চলাফেরা করো না; নিশ্চয় আল্লাহ কোনো দাম্ভিক ও অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না। আর তোমার চলার ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো, তোমার আওয়াজ নিচু করো; নিশ্চয় সবচেয়ে নিকৃষ্ট আওয়াজ হলো গাধার আওয়াজ’ [সূরা লুকমান ১৮, ১৯]। ১০. আদর স্নেহ ও ভালোবাসা দেয়াঃ সন্তানদের স্নেহ করা এবং তাদেরকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসতে হবে। আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাঃ হাসান ইবনে আলী রাঃ-কে চুম্বন দিলেন এবং আদর করলেন। সে সময় আকরা ইবনে হাবিস রাঃও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলতে লাগলেন, আমার তো দশটি সন্তান, কিন্তু আমি তো কখনো আমার সন্তানদেরকে আদর স্নেহ করিনি। রাসূলে করিম সাঃ তার দিকে তাকালেন এবং বললেন, যে অন্যের প্রতি রহম করে না, আল্লাহও তার প্রতি রহম করেন না [সহি বুখারি]। ১১. দ্বীনি ইলম শিক্ষা দেয়াঃ সন্তানকে দ্বীনি ইলম শিক্ষা দেয়া ফরজ করা হয়েছে। কারণ দ্বীনি ইলম না জানা থাকলে সে বিভ্রান্ত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। হাদিসে এসেছে, আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, প্রত্যেক মুসলিমের ওপর জ্ঞানার্জন করা ফরজ [সুনানে ইবনে মাজাহ]। ১২. প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করাঃ সন্তানদের প্রাপ্তবয়স্ক পর্যন্ত লালন-পালন করতে হবে এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ করতে হবে। উম্মে সালামাহ রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাঃ-কে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আবু সালামার সন্তানদের জন্য আমি যদি খরচ করি এতে আমার জন্য কী প্রতিদান রয়েছে? নবী সাঃ বললেন, হঁ্যা যত দিন তুমি খরচ করবে তত দিন তোমার জন্য প্রতিদান থাকবে (সহি বুখারি)। ১৩. সক্ষম করে তোলাঃ সন্তানদের এমনভাবে সক্ষম করে গড়ে তোলা, তারা যেন উপার্জন করার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারে । সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাঃ আমাকে এভাবে বলেছেন, তিনি তোমাদের সন্তানসন্ততিদের সক্ষম ও স্বাবলম্বী রেখে যাওয়া, তাদেরকে অভাবী ও মানুষের কাছে হাত পাতা অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম [সহি বুখারি]। ১৪. বিবাহ দেয়াঃ সুন্নাহ পদ্ধতিতে বিবাহ দেয়া এবং বিবাহের যাবতীয় কাজ সম্পাদন করা এবং উপযুক্ত সময়ে বিবাহের ব্যবস্থা করা। আবু হুরায়রা রাঃ থেকে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, নিশ্চয়ই বাবার ওপর সন্তানের হকের মধ্যে রয়েছে, সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাকে বিবাহ দেবে [জামিউল কাবির]। ১৫. দ্বীনের পথে পরিচালিত করাঃ বাবা-মায়ের অন্যতম দায়িত্ব হলো, সন্তানদের দ্বীনের পথে, কুরআন-সুন্নাহর পথে পরিচালনা করা, দ্বীনের বিধান পালনের ক্ষেত্রে অভ্যস্ত করে তোলা। কুরআনে এসেছে, ‘বলো, এটা আমার পথ। আমি জেনে-বুঝে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিই এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারাও। আর আল্লাহ পবিত্র মহান এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই’ [সূরা-ইউসুফঃ ১০৮]। সন্তানকে দ্বীনের পথে পরিচালনার মাধ্যমে সওয়াব অর্জন করার এক বিরাট সুযোগ রয়েছে। ১৬. সন্তানদের মাঝে ইনসাফ করাঃ সন্তানেরা বাবা-মায়ের কাছ থেকে ইনসাফ আশা করে এবং তাদের মাঝে ইনসাফ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নবী সাঃ এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ করো’ [সহি বুখারি ও মুসলিম]। ১৭. ইসলাম অনুমোদন করে না এমন কাজ থেকে বিরত রাখাঃ ইসলাম অনুমোদন করে না এমন কাজ থেকে তাদেরকে বিরত না রাখলে এই সন্তানরাই কিয়ামতে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। কুরআনে এসেছে, হে ইমানদারগণ! তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও [সূরা তাহরিম-৬]। আর কাফেররা বলবে, ‘হে আমাদের রব, জিন ও মানুষের মধ্যে যারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে তাদেরকে আমাদের দেখিয়ে দিন। আমরা তাদের উভয়কে আমাদের পায়ের নিচে রাখব, যাতে তারা নিকৃষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয় [সূরা হা-মীম আসসিজদাহ-২৯]। ১৮. পাপকাজ, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, অপসংস্কৃতি থেকে বিরত রাখাঃ সন্তান দুনিয়ায় আসার সাথে সাথে শয়তান তার পেছনে লেগে যায় এবং বিভিন্নভাবে, ভিন্ন ভিন্ন রূপে, পোশাক-পরিচ্ছদের মাধ্যমে, বিভিন্ন ফ্যাশনে, বিভিন্ন ডিজাইনে, বিভিন্ন শিক্ষার নামে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র করে। তাই বাবা-মাকে অবশ্যই এ বিষয়ে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।

আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ, তোমাদের স্বামী-স্ত্রী ও

সন্তান­সন্ততিদের কেউ কেউ তোমাদের দুশমন। অতএব তোমরা তাদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো। আর যদি তোমরা মার্জনা করো, এড়িয়ে যাও এবং মাফ করে দাও, তবে নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অসীম দয়ালু [সূরা তাগাবুন-১৪]। হাদিসে এসেছে, ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূল সাঃ পুরুষের বেশ ধারণকারী নারী ও নারীর বেশ ধারণকারী পুরুষকে অভিসম্পাত করেছেন [সহি বুখারি]। আবদুল্লাহ বিন আমর রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূল সাঃ বলেছেনঃ ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাথে সাদৃশ্যতা রাখবে, সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে [সুনানে আবু দাউদ]। ১৯. দোয়া করাঃ আমাদের সন্তানদের জন্য দোয়া করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন এভাবে­ আল্লাহর নেক বান্দা তারাই যারা বলে, হে আমাদের রব, আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন, যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকিদের নেতা বানিয়ে দিন [সূরা আলফুরকান-৭৪]। জাকারিয়া আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন, ‘হে আমার রব, আমাকে আপনার পক্ষ থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয় আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী’ [সূরা আলে ইমরান-৩৮]।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না এলে করণীয়

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না এলে করণীয়

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না! ডাক্তারের পরামর্শমত নিয়মিত ওষুধ সেবন করছি, ইনসুলিনও নিচ্ছি তার ওপর মুটিয়ে যাচ্ছি, কী করব? এ ধরনের প্রশ্ন অনেক রোগীর। কিন্তু তাদের মনে রাখা দরকার, এর পাশাপাশি খুব সহজ একটা কাজ করার আছে, সেটা হলো হাঁটা। প্রতিদিন এক ঘণ্টা (ষাট মিনিট) জোরে জোরে হাঁটা এবং অন্তত দুই মাইল হাঁটবেন। হাঁটার কোনো সময় নেই তবে সকাল অথবা বিকাল, যখন সূর্যের আলোর প্রখরতা কম থাকে তখনই হাঁটার সবচেয়ে ভালো সময়। সুতরাং যখনই হাঁটুন, যতবার হাঁটুন—দুই মাইল হাঁটতে হবে এবং এতে বেশ ভালো ফল পাওয়া যাবে। গবেষকদের মতে, যারা নিয়মিত অন্তত দুই মাইল হাঁটে তাদের বডি মাস ইনডেক্স (ইগও) কমে, শরীরের ওজন কমে শরীরটা হালকা লাগে, তলপেটের মেদ কমে এবং উন্নত হয় ইনসুলিনের প্রতি দেহকোষের সংবেদনশীলতা। সর্বোপরি কমে যায় ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত শরীরের অন্যান্য ঝুঁকি। তাছাড়া একজন সুস্থ মানুষ প্রতিদিন দুই মাইল হাঁটলে ডায়াবেটিস রোগ হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে এবং এর প্রতিরোধও সম্ভব।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মেথি একটি গুরুত্ববহ প্রাকৃতিক পথ্য। মেথিকে মসলা, খাবার ও পথ্য তিনটিই বলা চলে। মেথি স্বাদে তিতা হলেও এতে রয়েছে রক্তে সুগার বা শর্করা নিয়ন্ত্রণের বিস্ময়কর শক্তি। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক চামচ চিনি চিবিয়ে খেলে বা এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানি সকালে খালি পেটে পান করলে শরীরের রোগ জীবাণু মরে, রক্তে শর্করার মাত্রা কমে, রক্তের ক্ষতিকর চর্বির (কোলেস্টেরল) মাত্রা কমে, শরীরে কৃমি থাকলে মারা যায়, গরম জনিত ত্বকের অসুখাদি দূর হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সকালে মেথি খান তাদের ডায়াবেটিস জনিত অন্যান্য অসুখ কম হয়, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং স্ট্রোক হওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম থাকে। সুতরাং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মেথি হলো শ্রেষ্ঠ পথ্য তবে তার সঙ্গে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্যাবলেট বা ইনসুলিন সঠিকভাবে ব্যবহার অব্যাহত রাখতে হবে। যাদের ডায়াবেটিস নেই তাদের জন্যও মেথি উপকারী, যেমন— মাতৃদুগ্ধ বৃদ্ধির জন্য, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য, শরীরকে সতেজ রাখার জন্য, রক্তের উপাদানগুলোকে বেশি মাত্রায় কর্মক্ষম করার জন্য মেথি অত্যন্ত উপকারী। বার্ধক্যকে দূরে ঠেলে তারুণ্যকে দীর্ঘস্থায়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে মেথি। নানাবিধ গুণসম্পন্ন এই মেথি আজ থেকেই হোক আমাদের সবার গুরুত্বপূর্ণ খাবার।

%d bloggers like this: