রোগের নাম বেলস্ পালসি

রোগের নাম বেলস্ পালসি


 

মানুষের মুখের মাংসপেশিগুলোর কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ফেসিয়াল নার্ভ বা স্নায়ু। ফেসিয়াল নার্ভ বা স্নায়ুকে আবার সপ্তম ক্রেনিয়াল নার্ভ বা স্নায়ু বলা হয়। মুখের প্যারালাইসিসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কারণ হলো স্ট্রোক এবং সেরিব্রোভাসকুলার এক্সিডেন্ট, যা উপরের মটর স্নায়ু কোষের রোগ নামেও পরিচিত। যখন ফেসিয়াল নার্ভ বা স্নায়ুর কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটে তখন সাধারণত মুখের এক পাশে প্যারালাইসিস ভাব হতে থাকে যা বেলস্ পালসি রোগ নামে পরিচিত। বেলস্ পালসিকে আবার মুখের নিচের মটর নিউরোন রোগও বলা হয়।

বেলস্ পালসি রোগে ফেসিয়াল নার্ভ বা স্নায়ুর প্রদাহ দেখা দেয়। মুখে ইডিমা বা ফোলা ভাব থাকে। মুখের স্বাভাবিক রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়ে থাকে। বেলস্ পালসি রোগটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে আবার সংক্রমণের সঙ্গেও দেখা দিতে পারে। সাধারণত হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। কিন্তু অন্যান্য সংক্রমণ যেমন : এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমণ, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, সাইটোমেগালি ভাইরাস, ভ্যারিসিলা জসটার ভাইরাস ইত্যাদি ভাইরাসের সংক্রমণের পর দেখা যেতে পারে। বেলস্ পালসি রোগে অবশ ভাব বা প্যারালাইসিস শুরু হয় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, যা সর্বোচ্চ ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। যদিও কানের পাশে এবং চোয়ালে ব্যথার সঙ্গে অনেক সময় প্যারালাইসিস হতে এক থেকে দুই দিন সময় লাগতে পারে। এ রোগে সাধারণত মুখের এক পাশে প্যারালাইসিস হয়ে থাকে। রোগীর জিহ্বার স্বাদ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। লালার প্রবাহ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে আসে। চোখের পানি আসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সাধারণত এ অবস্থা ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগীদের মাঝে বেশি লক্ষ্য করা যায়। আবার বয়স বেশি হলেও একই সমস্যা দেখা যেতে পারে। রোগী মুখের অবশ ভাবের অভিযোগ করে থাকেন যদিও পরীক্ষা করলে দেখা যায় রোগীর অনুভূতি ঠিক আছে। প্রথম সপ্তাহে অসম্পূর্ণ মুখের প্যারালাইসিস হলে রোগটির চিকিত্সা সাধারণত সহজ হয়ে থাকে। শতকরা ৮৫ ভাগ রোগী স্বতঃস্ফূর্তভাবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। কিন্তু কিছু রোগীর স্থায়ীভাবে কিছু প্যারালাইসিস বা অবশ ভাব থেকে যায়।

চিকিত্সা
সাধারণত কর্টিকোস্টেরয়েড বা প্রেডনিসোলন ট্যাবলেট দৈনিক ১ মিলিগ্রাম প্রতি কেজি শরীরের ওজন হিসেবে ১০ দিন খেতে হবে। এর সঙ্গে এসাইক্লোভির গোত্রভুক্ত ট্যাবলেট ভাইরাক্স ৪০০ মিলিগ্রাম দৈনিক ৪টি করে ১০ দিন খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়। বেলস্ পালসি রোগটি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং কোনো উন্নতির লক্ষণ না দেখা যায় তাহলে ফেসিয়াল নার্ভে নির্দিষ্ট স্থানে অপারেশনের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। তবে এক্ষেত্রে এক্স-রে অথবা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে কোনো টিউমার আছে কি-না তা দেখে নিতে হবে। যদিও বেলস্ পালসি রোগ আপনার জীবনের বেল বা ঘণ্টা বাজাবে না, তবে জীবনের গতিপথ কিছুটা হলেও পরিবর্তন করবে। তাই এ ধরনের সমস্যায় কোনো অবহেলা না করে সঠিক এবং যথাযথ চিকিত্সা গ্রহণ করে স্বাভাবিক থাকুন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: