আদর্শ নাগরিক গঠনে ইসলাম

আদর্শ নাগরিক গঠনে ইসলাম

চরিত্রবান সবারই প্রিয়। চরিত্রবান আল্লাহর প্রিয়, রাসূল (সা.)-এর প্রিয়। চরিত্রবানকে যেমন পৃথিবীর সব মানুষ ভালোবাসেন, তেমনি ফেরেশতাকুলও ভালোবাসেন। এমনকি আল্লাহর তামাম সৃষ্টিনিচয় তথা জীব ও জড় পদার্থ সব সৃষ্টিই চরিত্রবানকে ভালোবাসে। কারণ মানুষ ছাড়া বিশ্ব চরাচরে যত সৃষ্টি রয়েছে তারা সবাই ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক আল্লাহর বাধ্যগত। চরিত্রবান ব্যক্তির স্বভাব যেহেতু সব সৃষ্টি প্রকৃতি বা স্বভাবের সঙ্গে মিলে যায়, তাই সব সৃষ্টি তাকে ভালোবাসে। যে চরিত্র মাধুর্যপূর্ণ সে চরিত্রে আকর্ষণ আছে, মোহ আছে। সে চরিত্র জানের শত্রুকেও পরম বন্ধুতে পরিণত করে। চরম বিরোধীকে বশ মানায়। মানুষ মনোমুগ্ধ হয়। সবাই ভালো বলে, ভালোবাসে।
চরিত্রবান বলতে উত্তম ও ভালো চরিত্রের অধিকারীকেই বোঝায়। উত্তম চরিত্র বলতে নৈতিকতার পরিচর্চাকে বোঝায়। নৈতিকতার চর্চা বলতে এমন চিন্তা ও কাজকে বোঝায়, যা সদা সঠিক কল্যাণের পথ দেখায়। তাহলে এবার আসুন, কল্যাণকর পথের সন্ধানে নিজেকে ব্যাপৃত করি। পৃথিবীতে অসংখ্য পথ ও মত রয়েছে। এর মধ্যে কোনোটি মানুষের সহজাত প্রকৃতির সঙ্গে অধিকতর খাপ খায়, কোনোটি গ্রহণ করলে দুনিয়ার শান্তি ও কল্যাণ এবং আখিরাতের অন্তহীন জীবনে মুক্তি মিলে, কোনো পথে চললে মানুষের সার্বিক চিন্তা-চেতনা ও কর্মে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয়। সেটি হলো কালজয়ী আদর্শ ও পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান আল ইসলাম। ইসলামই একমাত্র ভারসাম্যপূর্ণ চরিত্র সৃষ্টির সঠিক ফর্মুলা প্রদান করেছে। এছাড়া মস্তিষ্ক প্রসূত পৃথিবীর সব ধরনের মতবাদ বা মন্ত্রতন্ত্র মানুষের চরিত্রকে হননই করেছে। মস্তিষ্ক প্রসূত মতবাদ মানুষের ব্যক্তিগত, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চরিত্রকে বরাবরই ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। বর্তমান পৃথিবীর নেতৃত্বের দিকে তাকালে আমরা তার বাস্তব উদাহরণ স্বচক্ষে দেখতে পাই। এ বৈরী হাওয়া আমাদের চরিত্র গঠনের সূতিকাগার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আক্রান্ত করেছে। সার্বিক এ ধ্বংস থেকে বাঁচতে হলে দেশ ও জাতিকে দ্রুত ইসলামের দিকে ফিরে আসতে হবে এবং দ্রুত ইসলামের প্রতিষেধক নিতে হবে। অন্যথায় দেশ ও জাতির ভবিষ্যত্ নেতৃত্ব দেয়ার জন্য চরিত্রবান মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর চরিত্রবান নেতৃত্ব ছাড়া দেশ ও জাতির শান্তির আশা করা বোকামি।
পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে ইসলামের ব্যাপকতার কোনো পরিসীমা নেই। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের ন্যায় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বিনিময় ও গতানুগতিক আচরণের বিধান রয়েছে। এজন্য ইসলামে ‘আদব’ বলে একটি পরিভাষা আছে, যার অর্থ হচ্ছে প্রথা, কৃষ্টি, ভদ্রতা, সভ্যতা, শিষ্টাচার, শিক্ষা ইত্যাদি। এর বিপরীত হচ্ছে বেয়াদবি, অভদ্রতা, অসভ্যতা, অশিষ্টতা ইত্যাদি। কোনো কিছুর আদব বলতে ওই জিনিসের ভালো বা সৌন্দর্যের দিককে বোঝায়। ইসলামী আদব বলতে কোরআন-সুন্নাহ স্বীকৃত আদবকে বোঝায়। এ আদবের সত্যিকার উদ্দেশ্য হচ্ছে তার ধর্মীয় চরিত্র ও প্রকৃতি। মানুষের দৈনন্দিন কর্মপদ্ধতি আল্লাহর স্মরণ থেকেই এর উত্পত্তি। ইসলামী আদবের নৈতিক ভিত্তি হলো নৈতিকতা বা আমলে সালেহ। পৃথিবীর প্রতিটি কথা ও কাজ, আচার ও আচরণ যখন কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে হবে এবং যেখানে আল্লাহর স্মরণ সদা জাগরূক থাকবে সেটিই হবে ইসলামী চরিত্র। একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, আমাদের দেশে ছোটরা যদি বড়দের সঙ্গে অসদাচরণ করে, তবে সেটিকেই শুধু বেয়াদবি বলা হয়ে থাকে। মূলত বেয়াদবি বলা হয় অকৃষ্টি, অভদ্রতা, অসভ্যতা, শিষ্টাচার বহির্ভূত ও কুশিক্ষাকে। সে যে ক্ষেত্রেই হোক না কেন, সংশিস্নষ্ট ক্ষেত্রে যা সুন্দর তার বিপরীত কাজের নামই বেয়াদবি। সে হিসাবে এটি শুধু ছোটদের বেলায় প্রযোজ্য তা নয় বরং বড়দের বেলায়ও বেয়াদবি বলা যেতে পারে।
ক্রিয়াগত বা আচরণগত দিক থেকে চরিত্র দু’প্রকার। যথা : সত্চরিত্র বা ভালো চরিত্র। মূলত এটিকেই আমরা চরিত্রবান বলে থাকি। এ ধরনের চরিত্রের অত্যাবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্যগুলো হলো : সত্যবাদিতা, পবিত্রতা, সত্চরিত্রতা, উন্নত মূল্যবোধ তথা সত্য, ন্যায়, ইনসাফ ও সৌন্দর্যপ্রিয়। দ্বিতীয় প্রকারের চরিত্র হলো : অসত্ চরিত্র যাকে আমরা দুশ্চরিত্রও বলে থাকি। এ ধরনের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য হলো উল্লিখিত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ওই সব উন্নত মূল্যবোধ থেকে দূরে চলে যাওয়া। ফলে চরিত্রহীন ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ করে। আর এর ফলে কুপ্রবৃত্তির বিভিন্ন চাহিদা তাকে ঘিরে ফেলে এবং কর্মকাণ্ডে বেয়াদবি প্রকটাকারে দেখা দেয়।
প্রায়োগিক দৃষ্টিভঙ্গিতে চরিত্র আবার দু’প্রকার। এক প্রকার হলো সাধারণ, যা সব মানুষের জন্য সব অবস্থায় প্রযোজ্য।
দ্বিতীয় প্রকার চরিত্র বয়স, পেশা, অভ্যাস ও কালের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। যেমন সবার জন্য কমন চরিত্র হলো তাঁর সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে কাউকে শরিক না করা, পিতামাতার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা, নিয়মিত জামায়াতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা, ইসলামের অনুশাসনগুলো সুচারুরূপে আদায় করা, কোনো মানুষকে কষ্ট না দেয়া, সদা সত্য কথা বলা, মিথ্যা কথা পরিহার করা। এগুলো ছাত্র, যুবা, বৃদ্ধ সবার জন্য সমভাবে সর্বদা প্রযোজ্য এবং সবার জন্য এগুলো আদব। দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ হচ্ছে যেমন ছোটদের আদব মুরুব্বিদের সম্মান করা। পক্ষান্তরে মুরুব্বিদের আদব হচ্ছে ছোটদের আদর-যত্ন ও কল্যাণের পথ প্রদর্শন করা।
একজন সন্তানের আদব হচ্ছে পিতামাতার সঙ্গে উত্তম আচরণ করা। তাদের সেবা করা, আদেশ শ্রবণ করা, যত্ন করা, কোনো প্রকার কষ্ট না দেয়া। নিজের উপার্জন থেকে তাদের জন্য ব্যয় করা এবং তাদের জন্য আল্লাহর শিখানো ভাষায় দোয়া করা। তদ্রূপ পিতামাতার আদব হচ্ছে সন্তানের সুন্দর ইসলামী নাম রাখা, লালন-পালন করা, সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি অবশ্যই দ্বীনি শিক্ষা ও দ্বীনি চরিত্র গঠন করতে হবে। এজন্য কোরআন, ঈমান-আক্বীদা, ইবাদত বিষয়ে প্রথমেই শিক্ষা দান করতে হবে। তাওহিদ, রেসালাত ও আখিরাত সম্পর্কে তাদের সুস্পষ্ট ও নির্ভুল ধারণা দিতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন, এ তিনটি বিষয় একজন মানুষের মৌলিক শিক্ষা। এ বিষয়গুলো সম্পর্কে তাদের মধ্যে যদি কোনো অস্পষ্টতা থেকে যায়, তবে তাদের সব কর্মকাণ্ডই বৃথায় পর্যবসিত হবে। তাদের উত্তম নৈতিক চরিত্র গঠন করতে হবে। ইসলামী আদব-কায়দা ও আচার অনুষ্ঠান তাদের শিখাতে হবে। এগুলো হলো একজন আদর্শ ও চরিত্রবান পিতামাতার জন্য আদব। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক সন্তানই ফিত্রতের (দ্বীন বা সত্য কবুল করা যোগ্যতা) ওপর জন্মগ্রহণ করে থাকে। অতঃপর তার পিতামাতা (নিজেদের বর্তমান চরিত্র দ্বারা) তাকে ইহুদি বা খ্রিস্টান করে দেয় অথবা অগ্নি উপাসক করে দেয়।’ পরিবার হলো একটি শিশুর জীবন গড়ার প্রাথমিক পাঠশালা। এ পাঠশালার পাঠ্য তালিকায় যে ধরনের বই সিলেকশন করা হবে, শিশুর জীবনের ভীত রচিত হবে সে সিলেবাসেরই ওপর। এজন্য পরিবারের শক্তিশালী দুজন সদস্য পিতা ও মাতার গুরুত্ব অপরিসীম। পিতামাতা যে ধরনের আচরণ, কথাবার্তা ও কাজকর্ম করেন, ছেলেমেয়ে সেসব অনুসরণ করতে শিখে।
ছেলেমেয়েরা তাদের জীবনের মডেল হিসেবে পিতামাতাকে গ্রহণ করে থাকে। তাই অনুকরণপ্রিয় শিশুর পিতামাতা যদি ব্যক্তিগতভাবে সত্, আল্লাহভীরু ও ইসলামী অনুশাসনের পূর্ণ অনুসারী হন এবং পারিবারিক পর্যায়ে আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল (সা.) প্রদর্শিত পরিবেশকে গড়ে তোলেন, তাহলে তাদের সন্তানরাও সেভাবেই গড়ে উঠবে। ছেলেমেয়েদের নৈতিক চরিত্র গঠন করা পিতামাতার প্রতি সন্তানের মৌলিক অধিকার। এ অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা সুস্পষ্ট জুলুম হিসেবে বিবেচিত হবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমাদের নিজেদের ও পরিবার-পরিজনকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর (আল কোরআন)।’
রাসূলে করিম (সা.) বলেছেন, ‘সুন্দর নৈতিক চরিত্র ও শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়ার চাইতে উত্তম কিছুই মা-বাবা সন্তানের দান করতে পারে না (তিরমিযি)।’ আবু দাউদে বর্ণিত যে, হজরত রাসূলে করিম (সা.) বলেছেন, ‘কোনো বালকের সাত বছর বয়স হলেই তাকে নামাজের আদেশ দাও। আর ১০ বছর বয়স হলে সে জন্য প্রহার কর ও বিছানা আলাদা করে দাও।’ প্রত্যক্ষ করুন আল কোরআনের সূরা লোকমানে একজন আদর্শ পিতা তাঁর ছেলেকে কীভাবে উপদেশ দিচ্ছে : ‘স্মরণ কর যখন লোকমান নিজের ছেলেকে উপদেশ দিচ্ছিল, সে বলল— হে পুত্র! আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না। যথার্থই শিরক অনেক বড় জুলুম (সূরা লোকমান : ১৩)।’
পক্ষান্তরে এ দুজন যদি বিকৃত স্বভাব, কুরুচি মনের অধিকারী হন, আধুনিক ও প্রগতিবাদী সাজার অভিপ্রায় নিয়ে পাশ্চাত্যের উচ্ছৃঙ্খল আচার-আচরণ, কথাবার্তা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিসরে চালু করেন, তবে তাদের পরিবারটি পশুর খোঁয়াড়ে পরিণত হবে। সেখানে শ্রদ্ধাবোধ, লজ্জাশরম, প্রেমপ্রীতি ও ভালোবাসার পরিবর্তে বেয়াদবি, বেহায়াপনা, অশ্লীলতা ও উচ্ছৃঙ্খলতা ব্যাপকহারে চালু হবে। পিতামাতা যদি এমনটি করেন তবে সন্তানের সঙ্গে এটি বেআদবিই হবে।
এমনিভাবে একজন ছাত্রের আদর্শবান ও চরিত্রবান হওয়া বলতে বোঝায় নিজের ক্যারিয়ার উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করা। এজন্য নিয়মিত স্কুলে যেতে হবে, সময়ানুবর্তিতা ও নিয়মানুবর্তিতার প্রতি দৃষ্টি রাখবে। যে কোনো পড়া বুঝে পড়বে। শিক্ষার মাধ্যমে মানসিক, নৈতিক, আধ্যাত্মিক ও শারীরিক যোগ্যতা অর্জনের প্রয়াস চালাবে। শিক্ষককে সম্মান ও শ্রদ্ধা করবে। নিষ্কলুষ চরিত্র গড়ে তুলবে। ছাত্রদের মাঝে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেবে। বিনম্র স্বভাব গড়ে তুলবে। এগুলো একজন ছাত্রের ছাত্র জীবনের আদব। এ আদব ছাত্র জীবনের চারিত্রিক সৌন্দর্যকে বিকশিত করে।
একজন মুমিন ব্যক্তির তার দৈনন্দিন প্রতিটি কথা ও কাজের আদব রয়েছে। এ আদব রক্ষা করে চললে সুন্দর সুন্দর বৈশিষ্ট্য ফুলের মতো ফুটে উঠবে তার চরিত্রে। দৈহিক সৌন্দর্য থেকে শুরু করে তার প্রতিটি আচরণে, পরিবার থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক জীবনে এ সৌন্দর্য পরিব্যাপ্তি লাভ করবে। দুনিয়াবাসী তার এ সৌন্দর্যে মোহিত হবে। তাদের উদার, মহত্, অমায়িক জীবন মানুষকে নিয়ে আসবে ইসলামের কাছাকাছি। এটিকেই আল কোরআনে বাস্তব সাক্ষ্য হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘এভাবে আমি তোমাদের ভারসাম্যপূর্ণ জাতিতে পরিণত করেছি, যাতে তোমরা মানুষের জন্য সাক্ষ্য হতে পার।’ অর্থাত্ ইসলামের শ্রেষ্ঠ নমুনা পেশ করতে পার, ইসলামের সৌন্দর্যের বাস্তব ধারক হতে পার। আর এজন্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুসলিম জাতিকে শ্রেষ্ঠ উম্মাহ বলেছেন। ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, তোমাদেরকে প্রেরণ করা হয়েছে মানবতার কল্যাণে। তোমরা ভালো কাজের আদেশ দিবে, মন্দ কাজের নিষেধ করবে।’ মানুষের জন্য যা সুন্দর, যা মানুষের স্বভাব চরিত্রকে সুন্দর করে তুলে, যা মানুষের জন্য কল্যাণকর তা চালু করা, পক্ষান্তরে যা মানুষের জন্য অকল্যাণকর, যা মানুষের চরিত্রকে কলুষিত করে তা সমাজ থেকে উচ্ছেদ করা।
সত্চরিত্র বা ইসলামী আদবের আরেক নাম হলো ‘আমলে সালেহ’। যেমন আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা ঈমান ও আমলে সালেহ বা নেক আমল করে হাজির হবে, তাদের আমরা এমন জান্নাতে প্রবেশ করাব, যার নিচে নহরগুলো প্রবহমান। আর সেখানে তারা চিরদিন থাকবে। (সূরা নিসা : ১২২) এর বিপরীত হলো বদ আমল। যারা মন্দ আমল করে এদের আল কোরআনে সীমালঙ্ঘনকারী বা আল্লাহদ্রোহী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। যেমন আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘জাহান্নাম একটি ঘাঁটি সীমালঙ্ঘনকারী বা আল্লাহদ্রোহীদের ঠিকানা। তাতে তারা অবস্থান করবে যুগ যুগ ধরে। সেখানে তারা ঠাণ্ডা ও পানোপযোগী কোনো জিনিসের স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে না। সেখানে তাদের খাদ্য হবে উত্তপ্ত পানি আর ক্ষতের রক্ত (সূরা নাবা : ২১-২৫)।’
সুতরাং আমাদের প্রত্যেককে সুন্দর চরিত্র গঠন করতে হবে। ইসলামের দায়ীর জন্য এটি একটি অপরিহার্য বিষয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ভালো ও মন্দ কখনো সমান হতে পারে না। মন্দ প্রতিহত কর ভালো দ্বারা। ফলে তোমার সঙ্গে যার শত্রুতা আছে সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো (হা-মীম আস সাজদা : ৩৪)।’
সুন্দর চরিত্রের অধিকারীকে সবাই ভালো জানে, ভালোবাসে। আর আখিরাতের সুবিশাল জীবনের সব নিয়ামত সুন্দর চরিত্রের অধিকারীর জন্যই অপেক্ষা করছে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: