হুমকির মুখে সুন্দরবন

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সিডর, আইলা, অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি, অতিরিক্ত শীত, যথাযথ সময়ে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় না হওয়া এসবই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। কমে যাচ্ছে দেশের বনভূমি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে লবণ পানি। দেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর ১০টি ও মেরুদণ্ডী প্রাণীর ১৩টি প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিলুপ্ত হওয়ার পথে আরও ১৫০ প্রজাতির প্রাণী।

প্রকৃতির বৈরী আচরণ : বিশ্বজুড়ে বৈরী আচরণ করছে প্রকৃতি। ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে বিশ্বজুড়ে ধারাবাহিকভাবে চলছে দাবানল, ছাই-মেঘ, বন্যা, তুষারঝড়, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও শৈত্যপ্রবাহ। কয়েক বছর ধরেই পৃথিবীর বুকে আঘাত হানছে বৈরী আবহাওয়া। ২০০৭ সালে সিডর, ২০০৯ সালে আইলা, ২০১০ সালে এক দিনে সর্বকালের রেকর্ড বৃষ্টিপাতের পর আট বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে তীব্র শীতের কবলে পড়ে বাংলাদেশ। ১ জুন থেকে পুরোদমে বর্ষা শুরুর পূর্বাভাস থাকলেও এখনও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়নি।

আইপিসিসির ফোর্থ রিপোর্ট : জলবায়ু বিষয়ক ফোর্থ অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট অন ইন্টার-গভর্নমেন্টাল প্যানেল অব ক্লাইমেট (আইপিসিসি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা ২৭ থেকে ৫৯ সেন্টিমিটার বেড়ে যাবে। যদি এ উচ্চতা ৬০ সেন্টিমিটার বাড়ে তবে বাংলাদেশের ১৭ শতাংশ ভূমি সাগরের পানিতে তলিয়ে যাবে।

সুন্দরবনের অস্তিত্ব সংকটের মুখে : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন হুমকির মুখে পড়েছে। নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্যোগ হিসেবে সুন্দরবনের সামনে হাজির হয়েছে পানির লবণাক্ততা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় সুন্দরবন অঞ্চলের পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাচ্ছে। লবণাক্ত পানির এ আগ্রাসনে মরতে বসেছে সুন্দরবনের অন্যতম সম্পদ সুন্দরী গাছ। রয়েল বেঙ্গল টাইগার লবণপানি পানের কারণে আক্রান্ত হচ্ছে প্রাণঘাতী লিভার সিরোসিসে। হারিয়ে যেতে বসেছে সুন্দরবনের পুরো ইকো সিস্টেম। ধারণা করা হচ্ছে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে আগামী ৫০ বছরের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে সুন্দরবন। এতে নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে সমগ্র উপকূল।

কমছে বনভূমি : একটি দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ বনভূমি প্রয়োজন। অথচ বন মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ১০ থেকে ১২ ভাগ বনভূমি রয়েছে। বেসরকারি সংস্থার কয়েকটি জরিপমতে অবশ্য বনভূমির পরিমাণ ৬ ভাগ বলে জানা গেছে।

বিলুপ্ত ২৩ প্রজাতির প্রাণী : জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণের কারণে দেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর ১০টি ও মেরুীদন্ড প্রাণীর ১৩টি প্রজাতি এরই মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ১৫০ প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণী বিলুপ্তির পথে। ৪৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৪৭ প্রজাতির পাখি, ৮ প্রজাতির উভচর ও ৬৩ প্রজাতির সরীসৃপের অস্তিস্তও বিপন্ন। জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ ছয়টি স্থানকে ‘পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করা হলেও নজরদারি ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে সেগুলোরও বিপন্নদশা। নতুন ঘোষিত ২১টি সংরক্ষিত এলাকায় পরিবেশ দূষণ চলছে।
দূষণের নগরী ঢাকা : রাজধানী ঢাকার পানি-বাতাস খুবই অনিরাপদ। গৃহস্থালি, শিল্প ও হাসপাতালের বর্জ্য হুমকি হয়ে হাজির হয়েছে ঢাকার প্রায় ২ কোটি মানুষের সামনে। বাতাস, পানি, মাটি দূষণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শব্দদূষণ। বিষাক্ত সিসার কারণে রাজধানীর বাতাস দিনের পর দিন ভারী হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম নগরী ঢাকার পরিবেশের যে অবস্থা, তাতে অধিবাসীরা ভয়ানক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাদের মতে, রোগব্যাধির যে বোঝা নাগরিকদের টানতে হয়, তার কমপক্ষে ২২ শতাংশের জন্য পরিবেশ দূষণের বিষয়গুলো সরাসরি দায়ী। এক্ষেত্রে বায়ুদূষণ, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ভূপৃষ্ঠের পানিদূষণ এ তিনটি কারণকে চিহ্নিত করেছেন তারা।
পরিবেশ আদালতে ৮ বছরে শাস্তি হয়নি একজনেরও : এদিকে পরিবেশ দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও তা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও আদালত। পরিবেশ দূষণের মাধ্যমে ফৌজদারি অপরাধ করেও অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ আইনের অধীনে গঠিত ঢাকা বিভাগীয় পরিবেশ আদালতে গত আট বছরে মামলা হয়েছে ৪০৩টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ১১২টি। ২৮১টি মামলা নিষ্পত্তি হলেও কারাদ হয়নি একজনেরও।

সূত্র: নেট

Advertisements

অল্টারনেটিভ মেডিসিন কতটুকু নিরাপদ

অল্টারনেটিভ মেডিসিন কতটুকু নিরাপদ

অনুন্নত বিশ্বের কিছু দেশ, বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশে অল্টারনেটিভ মেডিসিনের নামে প্রাচীন আমলের চিকিৎসাব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যদিও প্রকৃত অর্থে অল্টারনেটিভ মেডিসিন বলতে যা বোঝানো হয় তার কোনো কিছুরই প্রতিফলন থাকে না তথাকথিক এ বিকল্প চিকিৎসায়। অল্টারনেটিভ মেডিসিনের নামে উদ্দেশ্যমূলক এই বিস্তার আয়ুর্বেদ শাস্ত্র বা হার্বাল মেডিসিনের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে মূল চিকিৎসাপদ্ধতি হিসেবে উন্নত বিশ্বে প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের বিষয়টি বিলুপ্তপ্রাপ্ত। এখন কোটি কোটি বিলিয়ন ডলার খরচ করে এগিয়ে যাচ্ছে যে চিকিৎসাব্যবস্থা, তা মোটেও হার্বাল নয়। আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা এখনো রয়ে গেছে। এই সীমাবদ্ধতার কথা অকপটে স্বীকার করছে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান। কিন্তু সাধারণ দরিদ্র মানুষ সস্তায় প্রাপ্ত হার্বালের দিকে ঝুঁকছেন। তবে এ কথা সত্যি, সস্তার তিন অবস্থা।

তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, হার্বালের কি কোনো উপকারই নেই? এর উত্তর হচ্ছে­ আছে। কিন্তু হার্বালের উপকারিতা নিয়ে যত লম্বা লম্বা কথা বলা হয়, কাজ হয় তার চেয়ে অনেক কম। মানসিক নির্ভরতার কারণে অনেকে এ চিকিৎসা নিয়ে স্বস্তি পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া কিছু কিছু রোগ আছে এমনিতেই সেরে যায়। সে ক্ষেত্রে হার্বাল চিকিৎসা নিলে রোগী ভাবতেই পারেন হার্বাল ওষুধে রোগ নিরাময় হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি সামান্য কাজ দেয়। যেমন­ বমিভাব হলে আদা খেলে কমে যায়। কিন্তু বমিভাবের পেছনে যদি শরীরের কোনো অঙ্গের অসুস্থতা দায়ী থাকে তখন এক মণ আদা খেলেও কাজ হবে না। এ রকম অনেক সামান্য কিছু সফলতার ইতিহাস আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের আছে। একে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে যে কল্পকাহিনী তৈরি করা হয়, তাতে হার্বালের মারাত্মক সব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা চাপা পড়ে যায়। তৈরি হয় ভুল ধারণা। কুসংস্কারে বিশ্বাসী মানুষ চলে বিপথে। বিপদ নেমে আসে অকস্মাৎ। হার্বাল মেডিসিন নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো এ নিবন্ধে।

প্রচলিত বিশ্বাসঃ হার্বাল প্রাকৃতিক, তাই এটা অবশ্যই নিরাপদ ও কার্যকর।

প্রকৃত সত্যঃ প্রাকৃতিক শব্দের সাথে নিরাপদ শব্দটি সব সময় খাপ খায় না। হেমলক বা বিষাক্ত ব্যাঙের ছাতার কথা চিন্তা করুন। প্রকৃতিপ্রদত্ত ডাবের পানিও কিডনি অকেজো হয়ে গেলে খাওয়া নিষেধ। ইপেড্রা বা সোমলতা রক্তচাপ বাড়াতে পারে। বেশি গ্রহণে স্ট্রোক, খিঁচুনিসহ মৃতুø পর্যন্ত হতে পারে। কয়েক সপ্তাহ জ্যৈষ্ঠমধু গ্রহণ করলে রক্তে পটাশিয়াম কমে যেতে পারে, শরীর দুর্বল লাগবে, হার্ট অচল হয়ে পরপারের আমন্ত্রণপত্র পেতে পারেন। হার্বালের সাথে বিষাক্ত পারদ, আর্সেনিক, সিসা বা কীটনাশকের মিশ্রণ থাকতে পারে, কখনো বা হার্বালের সাথে স্টেরয়েড কিংবা ঘুমের ওষুধ মেশানো হয; যার দীর্ঘ ও অপ্রাসঙ্গিক ব্যবহার আপনার জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। মনে করা হয়, হার্বালে নাকি বিভিন্ন গাছগাছড়ার ফলমূল একসাথে মেশানো হয় বলে এই কার্যকরী। প্রকৃতিপ্রদত্ত বলে কৃত্রিমভাবে তৈরি ওষুুধের চেয়ে শরীরে ভালোভাবে শোষিত হয়­ এ ধারণা বিজ্ঞানসম্মত নয়। হার্বাল বলে যা গ্রহণ করছেন তা পাকস্থলীর অ্যাসিড-এনজাইম হজম করতে পারে। শোষণের ক্ষেত্রে শরীর বুঝতে পারে না কোনটা প্রাকৃতিক, কোনটা সিনথেটিক। বিজ্ঞানীরা কোনো প্রাকৃতিক উপাদানের রাসায়নিক গঠন জানার পর ওই উপাদানের বৈশিষ্ট্য ঠিক রেখে হুবহু জিনিস তৈরি করেন। যেমন স্যালিসিন সাধারণ মাথাব্যথার মোক্ষম ওষুধ। এর সিনথেটিক রূপটি হচ্ছে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড ও ডিসপ্রিন, যা কার্যকারিতায় তফাতবিহীন।

প্রচলিত বিশ্বাসঃ বছর বছর ধরে বাপ-দাদারা প্রাকৃতিক ওষুধ ব্যবহার করে আসছেন। অতএব এটা উপকারী ও নিরাপদ।

প্রকৃত সত্যঃ কবিরাজরা প্রাকৃতিক ওষুধগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কান্ট্রিলোজের রাসায়নিক পদার্থ বা কোল্টসফটের কারণে যে ক্যান্সার হয় তা দ্রুত নির্ণয় করা সম্ভব হয় না। এ ছাড়া আলফা-আলফা বা পেনিওয়ার্ট যে কোনো কাজে আসে না তা আধুনিক বিজ্ঞানে প্রমাণিত।

প্রচলিত বিশ্বাসঃ হার্বাল তো প্রাকৃতিক। এ বিষয়ে তাই ডাক্তারকে না জানালেও চলবে।

প্রকৃত সত্যঃ প্রকৃতিজাত বলে হার্বাল গ্রহণকারীরা বেশি পরিমাণে হার্বাল গ্রহণে দ্বিধাবোধ করেন না। তারা বিষয়টি অন্য চিকিৎসকদের কাছে গোপন রাখেন। ফলে হার্বালের কারণে যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তা অনির্ণীতই রয়ে যায়। হার্বালের কারণে অনেক অসুখেরই তীব্রতা বাড়তে পারে। রসুন, আদা রক্তের স্বাভাবিক জমাট বাঁধা প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। এর সাথে ডিসপ্রিন, ওয়ারফারিন ওষুধে কার্যকারিতা যোগ হলে শরীরে শুরু হবে রক্তক্ষরণ। ডায়াবেটিস রোগীরা ওষুধের সাথে যৌবন বা শক্তি বর্ধনের জন্য জিনসেং গ্রহণ করলে রক্তে চিনির পরিমাণ খুব বেশি কমে যেতে পারে। একাইনেসিয়া নামক হার্ব গিঁটে বাতের ব্যথা বাড়ায়। এই তথ্যগুলো অনেকেরই জানা নেই।

প্রচলিত বিশ্বাসঃ বোতলের গায়ে লেখা আছে­ মহৌষধ, ১০০% গ্যারান্টি, বিফলে মূল্য ফেরত, কাজ না করে উপায় আছে?

প্রকৃত সত্যঃ লেবেলে অনেক কিছুই লেখা থাকে। একই ওষুধ নিয়ে এক কোম্পানি বলছে স্মরণশক্তি বাড়বে, আরেক কোম্পানি রিভার সতেজ রাখে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাহলে কোনটি ঠিক? মজার বিষয় হলো, কোন ওষুধ কিভাবে কাজ করবে বা শরীরের কোথায় কোথায় কাজ করবে, এ বিষয়ে প্রাকৃতিক ওষুধবিশারদদের কেউই কিছু বলতে পারেন না। বিফলে মূল্য ফেরত! ১০০ টাকার ওষুধ খেয়ে কিডনি নষ্ট হলে হয়তো ১০০ টাকা ফেরত পাবেন, কিন্তু কিডনিটি নয়। আরেকটি বিষয়­ গ্যারান্টি দিয়ে কোনো রোগের চিকিৎসা সম্ভব নয়। যদি কেউ দেন তাহলে তিনি হয় দেবতা, নয় ইবলিশ।

প্রচলিত বিশ্বাসঃ প্রকৃতিজাত, অতএব বেশি জানার কী দরকার?

প্রকৃত সত্যঃ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে ওষুধসামগ্রীকে ব্যাপক ট্রায়ালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বাজারে ছাড়া হয়। ওষুধের মাত্রা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, সাবধানতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য রাখা হয়। ওষুধ সম্পর্কে এ গবেষণা চলে অনবরত। সমস্যা দেখা দিলে বা তার প্রমাণ মিললে ওষুধটি বাজার থেকে তুলে নেয়া হয় কিংবা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। আর এ বিষয়টি হার্বাল শাস্ত্রে সম্পূর্ণ অবহেলিত। হার্বাল শাস্ত্রে ওষুধ নিয়ে কোনো গবেষণা নেই, ওষুধের দোষ-গুণ বিচারের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাদের কথায় এসব ওষুধের কোনো দোষই নেই। আর দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, হার্বাল বলেই তাদের ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে অবিশ্বাসের প্রশ্ন আসে। সুতরাং হার্বাল ব্যবহারেও সাবধান হতে হবে। আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থাকে উপেক্ষা করে অন্ধপথে হাঁটবেন না। এতে ক্ষতি হবে নিজেরই। দীর্ঘমেয়াদি অসুখে এর ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। গর্ভবতী মহিলা, গর্ভবতী হবেন বা বুকের দুধ খাওয়ান; এমন মহিলাকে হার্বাল সেবনে বিরত রাখুন। শিশুকে হার্বালের নাগালের বাইরে রাখুন। হার্বাল ফুডপয়জনিং করতে পারে। হার্বালে সমস্যা তৈরি হওয়ার সাথে সাথে তা বন্ধ করে দিন। দ্রুত ডাক্তার দেখান।

আদর্শ নাগরিক গঠনে ইসলাম

আদর্শ নাগরিক গঠনে ইসলাম

চরিত্রবান সবারই প্রিয়। চরিত্রবান আল্লাহর প্রিয়, রাসূল (সা.)-এর প্রিয়। চরিত্রবানকে যেমন পৃথিবীর সব মানুষ ভালোবাসেন, তেমনি ফেরেশতাকুলও ভালোবাসেন। এমনকি আল্লাহর তামাম সৃষ্টিনিচয় তথা জীব ও জড় পদার্থ সব সৃষ্টিই চরিত্রবানকে ভালোবাসে। কারণ মানুষ ছাড়া বিশ্ব চরাচরে যত সৃষ্টি রয়েছে তারা সবাই ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক আল্লাহর বাধ্যগত। চরিত্রবান ব্যক্তির স্বভাব যেহেতু সব সৃষ্টি প্রকৃতি বা স্বভাবের সঙ্গে মিলে যায়, তাই সব সৃষ্টি তাকে ভালোবাসে। যে চরিত্র মাধুর্যপূর্ণ সে চরিত্রে আকর্ষণ আছে, মোহ আছে। সে চরিত্র জানের শত্রুকেও পরম বন্ধুতে পরিণত করে। চরম বিরোধীকে বশ মানায়। মানুষ মনোমুগ্ধ হয়। সবাই ভালো বলে, ভালোবাসে।
চরিত্রবান বলতে উত্তম ও ভালো চরিত্রের অধিকারীকেই বোঝায়। উত্তম চরিত্র বলতে নৈতিকতার পরিচর্চাকে বোঝায়। নৈতিকতার চর্চা বলতে এমন চিন্তা ও কাজকে বোঝায়, যা সদা সঠিক কল্যাণের পথ দেখায়। তাহলে এবার আসুন, কল্যাণকর পথের সন্ধানে নিজেকে ব্যাপৃত করি। পৃথিবীতে অসংখ্য পথ ও মত রয়েছে। এর মধ্যে কোনোটি মানুষের সহজাত প্রকৃতির সঙ্গে অধিকতর খাপ খায়, কোনোটি গ্রহণ করলে দুনিয়ার শান্তি ও কল্যাণ এবং আখিরাতের অন্তহীন জীবনে মুক্তি মিলে, কোনো পথে চললে মানুষের সার্বিক চিন্তা-চেতনা ও কর্মে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয়। সেটি হলো কালজয়ী আদর্শ ও পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান আল ইসলাম। ইসলামই একমাত্র ভারসাম্যপূর্ণ চরিত্র সৃষ্টির সঠিক ফর্মুলা প্রদান করেছে। এছাড়া মস্তিষ্ক প্রসূত পৃথিবীর সব ধরনের মতবাদ বা মন্ত্রতন্ত্র মানুষের চরিত্রকে হননই করেছে। মস্তিষ্ক প্রসূত মতবাদ মানুষের ব্যক্তিগত, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চরিত্রকে বরাবরই ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। বর্তমান পৃথিবীর নেতৃত্বের দিকে তাকালে আমরা তার বাস্তব উদাহরণ স্বচক্ষে দেখতে পাই। এ বৈরী হাওয়া আমাদের চরিত্র গঠনের সূতিকাগার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আক্রান্ত করেছে। সার্বিক এ ধ্বংস থেকে বাঁচতে হলে দেশ ও জাতিকে দ্রুত ইসলামের দিকে ফিরে আসতে হবে এবং দ্রুত ইসলামের প্রতিষেধক নিতে হবে। অন্যথায় দেশ ও জাতির ভবিষ্যত্ নেতৃত্ব দেয়ার জন্য চরিত্রবান মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর চরিত্রবান নেতৃত্ব ছাড়া দেশ ও জাতির শান্তির আশা করা বোকামি।
পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে ইসলামের ব্যাপকতার কোনো পরিসীমা নেই। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের ন্যায় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বিনিময় ও গতানুগতিক আচরণের বিধান রয়েছে। এজন্য ইসলামে ‘আদব’ বলে একটি পরিভাষা আছে, যার অর্থ হচ্ছে প্রথা, কৃষ্টি, ভদ্রতা, সভ্যতা, শিষ্টাচার, শিক্ষা ইত্যাদি। এর বিপরীত হচ্ছে বেয়াদবি, অভদ্রতা, অসভ্যতা, অশিষ্টতা ইত্যাদি। কোনো কিছুর আদব বলতে ওই জিনিসের ভালো বা সৌন্দর্যের দিককে বোঝায়। ইসলামী আদব বলতে কোরআন-সুন্নাহ স্বীকৃত আদবকে বোঝায়। এ আদবের সত্যিকার উদ্দেশ্য হচ্ছে তার ধর্মীয় চরিত্র ও প্রকৃতি। মানুষের দৈনন্দিন কর্মপদ্ধতি আল্লাহর স্মরণ থেকেই এর উত্পত্তি। ইসলামী আদবের নৈতিক ভিত্তি হলো নৈতিকতা বা আমলে সালেহ। পৃথিবীর প্রতিটি কথা ও কাজ, আচার ও আচরণ যখন কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে হবে এবং যেখানে আল্লাহর স্মরণ সদা জাগরূক থাকবে সেটিই হবে ইসলামী চরিত্র। একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, আমাদের দেশে ছোটরা যদি বড়দের সঙ্গে অসদাচরণ করে, তবে সেটিকেই শুধু বেয়াদবি বলা হয়ে থাকে। মূলত বেয়াদবি বলা হয় অকৃষ্টি, অভদ্রতা, অসভ্যতা, শিষ্টাচার বহির্ভূত ও কুশিক্ষাকে। সে যে ক্ষেত্রেই হোক না কেন, সংশিস্নষ্ট ক্ষেত্রে যা সুন্দর তার বিপরীত কাজের নামই বেয়াদবি। সে হিসাবে এটি শুধু ছোটদের বেলায় প্রযোজ্য তা নয় বরং বড়দের বেলায়ও বেয়াদবি বলা যেতে পারে।
ক্রিয়াগত বা আচরণগত দিক থেকে চরিত্র দু’প্রকার। যথা : সত্চরিত্র বা ভালো চরিত্র। মূলত এটিকেই আমরা চরিত্রবান বলে থাকি। এ ধরনের চরিত্রের অত্যাবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্যগুলো হলো : সত্যবাদিতা, পবিত্রতা, সত্চরিত্রতা, উন্নত মূল্যবোধ তথা সত্য, ন্যায়, ইনসাফ ও সৌন্দর্যপ্রিয়। দ্বিতীয় প্রকারের চরিত্র হলো : অসত্ চরিত্র যাকে আমরা দুশ্চরিত্রও বলে থাকি। এ ধরনের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য হলো উল্লিখিত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ওই সব উন্নত মূল্যবোধ থেকে দূরে চলে যাওয়া। ফলে চরিত্রহীন ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ করে। আর এর ফলে কুপ্রবৃত্তির বিভিন্ন চাহিদা তাকে ঘিরে ফেলে এবং কর্মকাণ্ডে বেয়াদবি প্রকটাকারে দেখা দেয়।
প্রায়োগিক দৃষ্টিভঙ্গিতে চরিত্র আবার দু’প্রকার। এক প্রকার হলো সাধারণ, যা সব মানুষের জন্য সব অবস্থায় প্রযোজ্য।
দ্বিতীয় প্রকার চরিত্র বয়স, পেশা, অভ্যাস ও কালের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। যেমন সবার জন্য কমন চরিত্র হলো তাঁর সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে কাউকে শরিক না করা, পিতামাতার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা, নিয়মিত জামায়াতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা, ইসলামের অনুশাসনগুলো সুচারুরূপে আদায় করা, কোনো মানুষকে কষ্ট না দেয়া, সদা সত্য কথা বলা, মিথ্যা কথা পরিহার করা। এগুলো ছাত্র, যুবা, বৃদ্ধ সবার জন্য সমভাবে সর্বদা প্রযোজ্য এবং সবার জন্য এগুলো আদব। দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ হচ্ছে যেমন ছোটদের আদব মুরুব্বিদের সম্মান করা। পক্ষান্তরে মুরুব্বিদের আদব হচ্ছে ছোটদের আদর-যত্ন ও কল্যাণের পথ প্রদর্শন করা।
একজন সন্তানের আদব হচ্ছে পিতামাতার সঙ্গে উত্তম আচরণ করা। তাদের সেবা করা, আদেশ শ্রবণ করা, যত্ন করা, কোনো প্রকার কষ্ট না দেয়া। নিজের উপার্জন থেকে তাদের জন্য ব্যয় করা এবং তাদের জন্য আল্লাহর শিখানো ভাষায় দোয়া করা। তদ্রূপ পিতামাতার আদব হচ্ছে সন্তানের সুন্দর ইসলামী নাম রাখা, লালন-পালন করা, সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি অবশ্যই দ্বীনি শিক্ষা ও দ্বীনি চরিত্র গঠন করতে হবে। এজন্য কোরআন, ঈমান-আক্বীদা, ইবাদত বিষয়ে প্রথমেই শিক্ষা দান করতে হবে। তাওহিদ, রেসালাত ও আখিরাত সম্পর্কে তাদের সুস্পষ্ট ও নির্ভুল ধারণা দিতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন, এ তিনটি বিষয় একজন মানুষের মৌলিক শিক্ষা। এ বিষয়গুলো সম্পর্কে তাদের মধ্যে যদি কোনো অস্পষ্টতা থেকে যায়, তবে তাদের সব কর্মকাণ্ডই বৃথায় পর্যবসিত হবে। তাদের উত্তম নৈতিক চরিত্র গঠন করতে হবে। ইসলামী আদব-কায়দা ও আচার অনুষ্ঠান তাদের শিখাতে হবে। এগুলো হলো একজন আদর্শ ও চরিত্রবান পিতামাতার জন্য আদব। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক সন্তানই ফিত্রতের (দ্বীন বা সত্য কবুল করা যোগ্যতা) ওপর জন্মগ্রহণ করে থাকে। অতঃপর তার পিতামাতা (নিজেদের বর্তমান চরিত্র দ্বারা) তাকে ইহুদি বা খ্রিস্টান করে দেয় অথবা অগ্নি উপাসক করে দেয়।’ পরিবার হলো একটি শিশুর জীবন গড়ার প্রাথমিক পাঠশালা। এ পাঠশালার পাঠ্য তালিকায় যে ধরনের বই সিলেকশন করা হবে, শিশুর জীবনের ভীত রচিত হবে সে সিলেবাসেরই ওপর। এজন্য পরিবারের শক্তিশালী দুজন সদস্য পিতা ও মাতার গুরুত্ব অপরিসীম। পিতামাতা যে ধরনের আচরণ, কথাবার্তা ও কাজকর্ম করেন, ছেলেমেয়ে সেসব অনুসরণ করতে শিখে।
ছেলেমেয়েরা তাদের জীবনের মডেল হিসেবে পিতামাতাকে গ্রহণ করে থাকে। তাই অনুকরণপ্রিয় শিশুর পিতামাতা যদি ব্যক্তিগতভাবে সত্, আল্লাহভীরু ও ইসলামী অনুশাসনের পূর্ণ অনুসারী হন এবং পারিবারিক পর্যায়ে আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল (সা.) প্রদর্শিত পরিবেশকে গড়ে তোলেন, তাহলে তাদের সন্তানরাও সেভাবেই গড়ে উঠবে। ছেলেমেয়েদের নৈতিক চরিত্র গঠন করা পিতামাতার প্রতি সন্তানের মৌলিক অধিকার। এ অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা সুস্পষ্ট জুলুম হিসেবে বিবেচিত হবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমাদের নিজেদের ও পরিবার-পরিজনকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর (আল কোরআন)।’
রাসূলে করিম (সা.) বলেছেন, ‘সুন্দর নৈতিক চরিত্র ও শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়ার চাইতে উত্তম কিছুই মা-বাবা সন্তানের দান করতে পারে না (তিরমিযি)।’ আবু দাউদে বর্ণিত যে, হজরত রাসূলে করিম (সা.) বলেছেন, ‘কোনো বালকের সাত বছর বয়স হলেই তাকে নামাজের আদেশ দাও। আর ১০ বছর বয়স হলে সে জন্য প্রহার কর ও বিছানা আলাদা করে দাও।’ প্রত্যক্ষ করুন আল কোরআনের সূরা লোকমানে একজন আদর্শ পিতা তাঁর ছেলেকে কীভাবে উপদেশ দিচ্ছে : ‘স্মরণ কর যখন লোকমান নিজের ছেলেকে উপদেশ দিচ্ছিল, সে বলল— হে পুত্র! আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না। যথার্থই শিরক অনেক বড় জুলুম (সূরা লোকমান : ১৩)।’
পক্ষান্তরে এ দুজন যদি বিকৃত স্বভাব, কুরুচি মনের অধিকারী হন, আধুনিক ও প্রগতিবাদী সাজার অভিপ্রায় নিয়ে পাশ্চাত্যের উচ্ছৃঙ্খল আচার-আচরণ, কথাবার্তা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিসরে চালু করেন, তবে তাদের পরিবারটি পশুর খোঁয়াড়ে পরিণত হবে। সেখানে শ্রদ্ধাবোধ, লজ্জাশরম, প্রেমপ্রীতি ও ভালোবাসার পরিবর্তে বেয়াদবি, বেহায়াপনা, অশ্লীলতা ও উচ্ছৃঙ্খলতা ব্যাপকহারে চালু হবে। পিতামাতা যদি এমনটি করেন তবে সন্তানের সঙ্গে এটি বেআদবিই হবে।
এমনিভাবে একজন ছাত্রের আদর্শবান ও চরিত্রবান হওয়া বলতে বোঝায় নিজের ক্যারিয়ার উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করা। এজন্য নিয়মিত স্কুলে যেতে হবে, সময়ানুবর্তিতা ও নিয়মানুবর্তিতার প্রতি দৃষ্টি রাখবে। যে কোনো পড়া বুঝে পড়বে। শিক্ষার মাধ্যমে মানসিক, নৈতিক, আধ্যাত্মিক ও শারীরিক যোগ্যতা অর্জনের প্রয়াস চালাবে। শিক্ষককে সম্মান ও শ্রদ্ধা করবে। নিষ্কলুষ চরিত্র গড়ে তুলবে। ছাত্রদের মাঝে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেবে। বিনম্র স্বভাব গড়ে তুলবে। এগুলো একজন ছাত্রের ছাত্র জীবনের আদব। এ আদব ছাত্র জীবনের চারিত্রিক সৌন্দর্যকে বিকশিত করে।
একজন মুমিন ব্যক্তির তার দৈনন্দিন প্রতিটি কথা ও কাজের আদব রয়েছে। এ আদব রক্ষা করে চললে সুন্দর সুন্দর বৈশিষ্ট্য ফুলের মতো ফুটে উঠবে তার চরিত্রে। দৈহিক সৌন্দর্য থেকে শুরু করে তার প্রতিটি আচরণে, পরিবার থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক জীবনে এ সৌন্দর্য পরিব্যাপ্তি লাভ করবে। দুনিয়াবাসী তার এ সৌন্দর্যে মোহিত হবে। তাদের উদার, মহত্, অমায়িক জীবন মানুষকে নিয়ে আসবে ইসলামের কাছাকাছি। এটিকেই আল কোরআনে বাস্তব সাক্ষ্য হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘এভাবে আমি তোমাদের ভারসাম্যপূর্ণ জাতিতে পরিণত করেছি, যাতে তোমরা মানুষের জন্য সাক্ষ্য হতে পার।’ অর্থাত্ ইসলামের শ্রেষ্ঠ নমুনা পেশ করতে পার, ইসলামের সৌন্দর্যের বাস্তব ধারক হতে পার। আর এজন্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুসলিম জাতিকে শ্রেষ্ঠ উম্মাহ বলেছেন। ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, তোমাদেরকে প্রেরণ করা হয়েছে মানবতার কল্যাণে। তোমরা ভালো কাজের আদেশ দিবে, মন্দ কাজের নিষেধ করবে।’ মানুষের জন্য যা সুন্দর, যা মানুষের স্বভাব চরিত্রকে সুন্দর করে তুলে, যা মানুষের জন্য কল্যাণকর তা চালু করা, পক্ষান্তরে যা মানুষের জন্য অকল্যাণকর, যা মানুষের চরিত্রকে কলুষিত করে তা সমাজ থেকে উচ্ছেদ করা।
সত্চরিত্র বা ইসলামী আদবের আরেক নাম হলো ‘আমলে সালেহ’। যেমন আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা ঈমান ও আমলে সালেহ বা নেক আমল করে হাজির হবে, তাদের আমরা এমন জান্নাতে প্রবেশ করাব, যার নিচে নহরগুলো প্রবহমান। আর সেখানে তারা চিরদিন থাকবে। (সূরা নিসা : ১২২) এর বিপরীত হলো বদ আমল। যারা মন্দ আমল করে এদের আল কোরআনে সীমালঙ্ঘনকারী বা আল্লাহদ্রোহী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। যেমন আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘জাহান্নাম একটি ঘাঁটি সীমালঙ্ঘনকারী বা আল্লাহদ্রোহীদের ঠিকানা। তাতে তারা অবস্থান করবে যুগ যুগ ধরে। সেখানে তারা ঠাণ্ডা ও পানোপযোগী কোনো জিনিসের স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে না। সেখানে তাদের খাদ্য হবে উত্তপ্ত পানি আর ক্ষতের রক্ত (সূরা নাবা : ২১-২৫)।’
সুতরাং আমাদের প্রত্যেককে সুন্দর চরিত্র গঠন করতে হবে। ইসলামের দায়ীর জন্য এটি একটি অপরিহার্য বিষয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ভালো ও মন্দ কখনো সমান হতে পারে না। মন্দ প্রতিহত কর ভালো দ্বারা। ফলে তোমার সঙ্গে যার শত্রুতা আছে সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো (হা-মীম আস সাজদা : ৩৪)।’
সুন্দর চরিত্রের অধিকারীকে সবাই ভালো জানে, ভালোবাসে। আর আখিরাতের সুবিশাল জীবনের সব নিয়ামত সুন্দর চরিত্রের অধিকারীর জন্যই অপেক্ষা করছে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন।

%d bloggers like this: