লালন করি আত্মীয়তার বন্ধন

লালন করি আত্মীয়তার বন্ধন

মানুষ মাত্রই তার কিছু আত্মীয়-স্বজন রয়েছে, যাদের সঙ্গে ধীরে ধীরে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে স্বাভাবিকভাবে। অবশ্য কখনও কখনও স্বার্থের কারণে পরস্পরের মধ্যে দ্বন্দ্ব- কলহও লেগে যায়। এমনকি শয়তানের প্রবঞ্চনায় অনেক ক্ষেত্রে আত্মীয়তার বন্ধনও ছিন্ন করা হয়। অথচ আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা ইসলামের দৃষ্টিতে মহাপাপ ও মারাত্মক অপরাধ। মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারীদের নিন্দা করেন এবং তাদের অভিসম্পাত করেন।
পবিত্র কোরআনে আছে—‘ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে অনর্থ ও বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। আল্লাহ তায়ালা এদেরকেই করেন অভিশপ্ত, বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন।’ (মুহাম্মদ : ২২-২৩)।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘যারা আল্লাহ তায়ালাকে দেয়া দৃঢ় অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখতে আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে তাদের জন্য রয়েছে লা’নত ও অভিসম্পাত এবং তাদের জন্যই রয়েছে মন্দ আবাস।’ (রা’দ : ২৫) হাদিস শরীফে আছে—‘আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী জান্নাতে যাবে না।’। (বুখারি, মুসলিম)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন : ‘আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টিকুল সৃজন শেষে আত্মীয়তার বন্ধন বলল, এটিই হচ্ছে সম্পর্ক বিচ্ছিন্নতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনাকারীর স্থান। আল্লাহ তায়ালা বললেন, হ্যাঁ, ঠিকই। তুমি কি এ কথায় সন্তুষ্ট নও যে, আমি ওর সঙ্গেই সম্পর্ক স্থাপন করব যে তোমার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে এবং আমি ওর সঙ্গেই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করব যে তোমার সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করবে। তখন সে বলল, আমি এ কথায় অবশ্যই রাজি আছি হে আমার প্রভু! তখন আল্লাহ তায়ালা বললেন, তা হলে তোমার জন্য তাই হোক।’ কেউ কেউ মনে করেন, আত্মীয়-স্বজনরা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে তাদের সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা জায়েজ। মূলত ব্যাপারটি তেমন নয়। বরং আত্মীয়-স্বজনরা আপনার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার পরও আপনি যদি তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার দেখান তখনই আপনি তাদের সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করেছেন বলে প্রমাণিত হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন—
‘সে ব্যক্তি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী হিসেবে গণ্য হবে না যে কেউ তার সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করলেই সেও তার সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে। বরং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী ব্যক্তি, যে কেউ তার সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করলেও সে তার সেঙ্গ আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে।’
আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা, তাদের চেনা-জানা এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা একজন মুসলমানের অবশ্যকর্তব্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন—
‘তোমরা নিজ বংশ সম্পর্কে ততটুকুই জানবে যাতে তোমরা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা কতে পার। কারণ, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করলে আত্মীয়-স্বজনদের ভালোবাসা পাওয়া যায় এবং ধন-সম্পদ ও বয়স বেড়ে যায়।’ (তিরমিজি)
হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : একদা জনৈক ব্যক্তি রাসুলকে (সা.) উদ্দেশ করে বলেন : হে আল্লাহর রাসুল! আমার এমন কিছু আত্মীয়-স্বজন রয়েছে যাদের সঙ্গে আমি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করি; অথচ তারা আমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। আমি তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করি; অথচ তারা আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। আমি তাদের সঙ্গে ধৈর্যের পরিচয় দেই; অথচ তারা আমার সঙ্গে কঠোরতা দেখায়। অতএব তাদের সঙ্গে এখন আমার করণীয় কী? তখন রাসুল (সা.) বললেন : ‘তুমি যদি সত্যি কথাই বলে থাক তাহলে তুমি যেন তাদের উত্তপ্ত ছাই খাইয়ে দিচ্ছ। আর তুমি যতদিন পর্যন্ত তাদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করতে থাকবে ততদিন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তাদের ওপর তোমার জন্য একজন সাহায্যকারী নিযুক্ত থাকবে।’ (মুসলিম)
আল্লাহ তায়ালা আমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার তৌফিক দান করুন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: