রোগ নিরাময়ে ঘরোয়া চিকিৎসা

ছোটখাটো অসুখে অস্বস্তিতে ওষুধ কেন? ঘরেই আছে নানা দ্রব্য হেঁশেলে, রেফ্রিজারেটরে। অস্বস্তি অনেকটাই উপশম হতে পারে। আমরা অনেকে একে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করি, কিন্তু সময়বিশেষে আরাম দিতে এদের জুড়ি নেই। উন্নত দেশের চিকিৎসকেরা বলছেন অ্যান্টিবায়োটিকের যে রকম অপব্যবহার হচ্ছে এবং ছোটখাটো অসুখে যেভাবে চিকিৎসার আতিশয্য ঘটছে, সে ক্ষেত্রে ঘরোয়া এসব চিকিৎসা আরাম দিতে পারে শরীরকে।

যেমন- আদা। পেটে অস্বস্তি, ঠাণ্ডা, সর্দিতে আদা বড় উপকারী।

বমিভাব, মোশন সিকনেসে আদা বেশ কার্যকর। একটি প্রিভেনটিভ মেডিসিন সেন্টারের পরিচালক ডা. এলসন হাস বলেন, আদার তিন-চার ফালি দুই কাপ পানিতে ১০ মিনিট জ্বাল দিয়ে এবং ১০-১৫ মিনিট রেখে আদা-চা বানিয়ে খেলে খুব উপকার দেয়। আর স্বাদু চা তৈরি করতে হলে এর সাথে যোগ করুন লেবুর রস ও মধু। হজম ভালো করতে হলে একটি টনিক আছে। কমলালেবুর শুকনো খোসা, লবঙ্গ ও রোজমেরি সমান সমান পরিমাণে মিশিয়ে, এককাপ আদা-চায়ে এই মিশ্রণ এক চামচ মিশিয়ে ভিজিয়ে রাখুন ১০ মিনিট। এরপর পান করুন।

ঠাণ্ডা ও সর্দিতে আদা চা খুব ভালো। রক্ত চলাচল বাড়িয়ে ও ঘাম ঝরিয়ে ঠাণ্ডার কষ্ট কমায়। বুকে একটু গরম সেঁক। ছোটবেলা দিদারা বুকে রসুন ও গরম তেল মালিশ করতেন। বেশ আরাম হতো। মা ছোটবেলায় তুলসীপাতার রস গরম করে মধু মিশিয়ে চামচে করে মুখে তুলে দিতেন, মনে আছে। তবে শিশুদের ব্যাপারে একটি সতর্কবাণী আছে। শিশুদের ঠাণ্ডা লেগে হঠাৎ বুকে শ্বাসযন্ত্রে নেমে আসে। সেজন্য বেশি দেরি নয়। ডাক্তার দেখিয়ে নেবেন। ঘরোয়া চিকিৎসা তাৎক্ষণিক আরামের জন্য। ডাক্তার অবশ্য দেখাতে হবে। শিশুদের ঠাণ্ডা সর্দি হয়ে হঠাৎ নিউমোনিয়া হয়ে যায়। টের পাওয়া যায় না।

হাস্‌ একটি টোটকা চিকিৎসার কথা বলেছেন। একটি কাপড়ের পট্টি ভিজিয়ে নিন গরম আদা-চায়ের মধ্যে, বুকে রাখুন এবং একটি টাওয়েল দিন এর ওপর। ঠাণ্ডা না হওয়া পর্যন্ত এভাবে রাখুন।

বেকিং সোডা চুলকানিতে দেয় আরাম

একটি গামলায় প্রায় তিন পোয়া পানিতে দুই টেবিল চামচ বেকিং সোডা অথবা বাথটাবে আধকাপ বেকিং সোডা মিশিয়ে অবগাহন করলে চুলকানি কমে, জলবসন্ত বা বুনোগাছের বাকল লেগে চুলকানি এমনকি মলদ্বারের চুলকানিরও আরাম হয়। শিশুরোগের ক্লিনিক্যাল প্রফেসর ডা. লোবেন স্টিন বলেন বেকিং সোডা মেশানো পানিতে গা ভিজিয়ে নিতে পারেন, পানির পট্টি ও কমপ্রেসও দিতে পারেন। তবে দেখবেন এটি লাগালে ত্বক শুষ্ক হয়। পতঙ্গ বা বোলতার হূল ও দংশনেও বেকিং সোডা ও পানির পেস্ট বেশ আরাম দেয়। ছোট শিশুদের শরীরে প্রয়োগ করতে সতর্কতা­ এদের ত্বক খুব নাজুক।

আঁচিল ঝরে যায় টেপের বাঁধনে

ত্বক বিজ্ঞানী ডা. জেরোম জেড লিট বলেন, আঁচিলের ওপর চার স্তর অ্যাডহেসিভ টেপ লাগান, ব্যান্ডেজটি যেন এয়ারটাইট হয়, তবে আঁচিলকে যেন বেশি চেপে না বসে। প্রথম টেপের পট্টি লাগানো হবে আঙুলের লম্বালম্বি, পরেরটি আঙুলকে পেঁচিয়ে বসান, এবার পুনরায় দুটো লাগান এভাবেই। ব্যান্ডেজকে রেখে দিন সাড়ে ছয় দিন, অর্ধেক দিন টেপ খুলে নিন। এরপর নতুন একটি লাগান। আঁচিল অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত টেপ লাগনো রাখুন। ডা. লিট বলেন, এতে সময় লাগে দুই থেকে ছয় সপ্তাহ।

কিভাবে এটি কাজ করে তা স্পষ্ট নয়। ডা. লিট বলেন, সম্ভবত আঁচিলের ভাইরাস টেপের বাঁধনে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়।

টি ব্যাগ ঘর্মাক্ত পা ও ঘা শুকাতে পারে

চায়ের মধ্যে যে টনিক অ্যাসিড আছে এটি কাজ করে অ্যাসট্রিনজেন্ট হিসেবে, এতে পা থাকে শুকনো ও দুর্গন্ধমুক্ত। ডা. জেরোম জেড লিটের ভাষ্য­ কুড়ি আউন্স পানিতে দুটো চা-ব্যাগ দিয়ে জ্বাল দিন ১৫ মিনিট, এরপর এই মিশ্রণটি দেড় সের ঠাণ্ডা পানিতে মেশান একটি গামলায়। এক সপ্তা প্রতিদিন পা ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। পায়ে আর দুর্গন্ধ থাকবে না।

দুষ্টুক্ষতের ব্যথা উপশমের জন্য একটি টি-ব্যাগ ঈষদুষ্ণ পানিতে ভিজিয়ে, ব্যাগটি মুচড়ে ক্ষতে ধরে রাখুন ৫-১০ মিনিট। তিন-চার ঘণ্টা পর পর দিতে পারেন।

রসুন উপকারী ঠাণ্ডা লাগা ও ফ্লুতে

গবেষণায় দেখা গেছে, রসুনের কোনো কোনো রাসায়নিক উপকরণ রোগজীবাণু ধ্বংস করতে পারে। ঠাণ্ডা লাগা, ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে রসুন খান। প্রতিবেলা খাবারে দুই-তিন কোয়া টাটকা রসুন খান। একটি রেসিপির কথা বলি।

বিশেষ সুপ। দু থেকে তিন কোয়া রসুনের টাটকা কোয়া এবং কিছু টাটকা আদা কুচি দিন এক পাত্র সবজির সুপে (সে সবজি হবে গাজর, ব্রকলি, পালংশাক, টমেটো, বাঁধাকপি, লাল ও সবুজ মরিচ)। এতে আছে প্রচুর ভিটামিন এ ও সি। এটা রোগ প্রতিরোধক। সুপের ভাপ নাক দিয়ে শুঁকলেও নাক বন্ধ সেরে যাবে। এরপর সুপ খান।

একুপ্রেশার উপকারী বমি ও বেদনায়

নিউরোবায়োলজির অধ্যাপক ডা. ব্রুসপোমেরানজ বলেন, কব্জির ওপর আছে একটি বিন্দু, যা চাপলে বমিভাব উপশম হয়। তিনি ছয়টি গবেষণার কথা বলেছেন, অবশ্য কারণটি স্পষ্ট নয়। মনিবন্ধের ভেতর দিকে একটি খাঁজ আছে যার দুই পাশ দিয়ে দুটো শক্ত পেশিবন্ধনী চলে গেছে হাতের তালু থেকে কনুই পর্যন্ত। মনিবন্ধের দুই ইঞ্চি ওপরে বুড়ো আঙুল বা আঙুল দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরুন দুই মিনিট। ২০ মিনিট বারবার এরকম চাপ দিলে উগ্র বমিভাবও কমে যায়।

মাথার ত্বকে ইনফেকশন ও চুল পড়া

মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্প থেকে চুল ওঠে। অর্থাৎ চুলের ফলিকল থাকে স্ক্যাল্পে। সেখান থেকেই চুল গজায় ও সময়ে বাড়ে। মাথার ত্বকের সুস্থতার সাথে চুলের স্বাস্থ্য নির্ভর করে। মাথার ত্বকে ইনফেকশন থাকলে চুলের সমস্যা হয়। সবচেয়ে বড় কথা এতে চুল পড়ার হার অনেক বেড়ে যায়।

কী করে বুঝবেন মাথার ত্বকে ইনফেকশন বা সংক্রমণ হয়েছে?

­ চুলের গোড়ায় ব্যথা হওয়া বা ফুলে ওঠা। একে কেরিয়াল বলে।

­ চুলের গোড়া কালো হয়ে যাওয়া ও চুল পড়া।

­ চুলের গোড়ায় ছোট ছোট গোটার মতো হওয়া এবং অল্প ফুলে ওঠা। দানা বা গোটাগুলো পুঁজভর্তি হতে পারে।

­ মাথার ত্বক চুলকানো ও ময়লা ওঠা।

­ সাদা সাদা খোসার মতো ময়লা পড়া।

ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদির কারণে মাথায় সংক্রমণ হতে পারে। অনেক সময় মাথা চুলকাতে চুলকাতে ঘা কিংবা একজিমাও হতে পারে। অনেক সময় চুল পড়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় চুলের গোড়ায় ইনফেকশন রয়েছে। কোন ধরনের ইনফেকশন হয়েছে তা পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক কিংবা অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ, শ্যাম্পু ইত্যাদির সাহায্যে চিকিৎসা করলে ইনফেকশন রোধ করা সম্ভব। এছাড়া শহরের ধুলোবালু, ময়লা ও ধোঁয়ার কারণে সংক্রমণ হয় বলে এগুলো পরিহার করে চলাও প্রয়োজন। অনেক সময় চুল পড়ার কারণ খুঁজে পেতে দেরি হলে ও সঠিক চিকিৎসা না করালে মাথা খালি হয়ে যেতে পারে। তাই মাথায় ত্বকের সংক্রমণের সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে চুল পড়া রোধ করা প্রয়োজন। সংক্রমণের সঠিক চিকিৎসা হলে চুল পড়া থামবে ও চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

হার্নিয়া রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

যদি আপনার কোনো কুঁচকিতে ব্যথা হয় কিংবা ফোলা দেখতে পান তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। এই ফোলা বেশি দেখা যাবে যখন আপনি দাঁড়াবেন। সাধারণত আক্রান্ত স্থানে হাত রাখলে আপনি এটা অনুভব করতে পারবেন।

আপনি শুয়ে পড়লে হার্নিয়া আপনা আপনি মিলিয়ে যাবে অথবা আপনি হাত দিয়ে হালকা চেপে পেটে ঢুকিয়ে দিতে পারবেন। যদি তা না হয় তাহলে জায়গাটিতে বরফের সেঁক দিলে ফোলা কমে গিয়ে হার্নিয়া চলে যায়। শোয়ার সময় মাথার তুলনায় কোমর উঁচু করে শুতে হবে।

যদি আপনি হার্নিয়া ঢোকাতে না পারেন তাহলে বুঝতে হবে অন্ত্রের অংশ পেটের দেয়ালে আটকে গেছে। এটি একটি মারাত্মক অবস্থা। এ ক্ষেত্রে জরুরিভাবে অপারেশনের প্রয়োজন হয়। এ পর্যায়ে বমি বমি ভাব, বমি অথবা জ্বর হতে পারে এবং হার্নিয়া লাল, বেগুনি অথবা কালো হয়ে যেতে পারে। যদি এ ধরনের কোনো চিহ্ন বা উপসর্গ দেখা দেয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

রোগ নির্ণয়

সাধারণ শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে ইনগুইনাল হার্নিয়া নির্ণয় করা হয়। আপনার চিকিৎসক আপনাকে আপনার উপসর্গগুলো জানতে চাইবেন, তারপর কুঁচকি এলাকার ফোলাটা পরীক্ষা করে দেখবেন।

যেহেতু কাশি দিলে হার্নিয়া অধিক স্পষ্ট হয়ে দেখা দেয়, তাই কাশি দেয়াটাও আপনার পরীক্ষার একটা অংশ হতে পারে।

জটিলতা

অপারেশনের মাধ্যমে হার্নিয়া ঠিক না করলে ক্রমে হার্নিয়া বড় হতে থাকে। বড় হার্নিয়া চার পাশের টিসুøর ওপর চাপ প্রয়োগ করে­ পুরুষের ক্ষেত্রে হার্নিয়া অণ্ডথলি পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে এবং ব্যথা ও ফোলা সৃষ্টি করে।

তবে ইনগুইনাল হার্নিয়ার সবচেয়ে মারাত্মক জটিলতা হলো যখন অন্ত্রের অংশ পেটের দেয়ালের দুর্বল জায়গায় আটকে যায়। এ সময় প্রচণ্ড ব্যথা হয়, বমি বমি ভাব ও বমি হয় এবং পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়, কিংবা বায়ু চলাচল করতে পারে না।

এ ক্ষেত্রে অন্ত্রের আটকে পড়া অংশে রক্ত চলাচল কমে যায়­ এ অবস্থাকে বলে স্ট্রাংগুলেশন­ যার কারণে আক্রান্ত অন্ত্রের টিসুøর মৃতুø ঘটতে পারে। স্ট্রাংগুলেটেড হার্নিয়া একটি জীবনমরণ সমস্যা, এ ক্ষেত্রে জরুরি অপারেশনের প্রয়োজন হয়।

চিকিৎসা

যদি আপনার হার্নিয়া ছোট থাকে এবং আপনার কোনো সমস্যা সৃষ্টি না করে তাহলে আপনার চিকিৎসক পর্যবেক্ষণ করার কথা ও অপেক্ষা কার কথা বলতে পারেন। কিন্তু হার্নিয়া যদি বড় হতে থাকে এবং ব্যথা হয় তাহলে অস্বস্তি দূর করতে ও মারাত্মক জটিলতা প্রতিরোধ করতে সাধারণত অপারেশনের প্রয়োজন হয়। হার্নিয়ার দু’ধরনের সাধারণ অপারেশন করা হয়ঃ

হার্নিয়োর্যাফি

এ পদ্ধতিতে আপনার সার্জন আপনার কুঁচকিতে একটা ইনসিশন দিয়ে বেরিয়ে আসা অন্ত্রকে ঠেলে পেটের মধ্যে ফেরত পাঠান। তারপর দুর্বল বা ছেঁড়া মাংসপেশি সেলাই করে ঠিক করে দেন। অপারেশনের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনি চলাফেরা করতে পারবেন, তবে স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরে যেতে আপনার চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

হার্নিয়োপ্লাস্টি

এ পদ্ধতিতে আপনার সার্জন কুঁচকি এলাকায় এক টুকরো সিনথেটিক মেশ লাগিয়ে দেন। সেলাই, ক্লিপ অথবা স্টাপল করে এটাকে সাধারণত দীর্ঘজীবী রাখা হয়। হার্নিয়ার ওপরে একটা একক লম্বা ইনসিশন দিয়েও হার্নিয়োপ্লাস্টি করা যেতে পারে। বর্তমানে ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে, ছোট ছোট কয়েকটি ইনসিশন দিয়ে হার্নিয়োপ্লাস্টি করা হয়।

প্রতিরোধ

যদি আপনার জন্মগত ত্রুটি থাকে, যার কারণে ইনগুইনাল হার্নিয়া হতে পারে­ সেটা আপনি প্রতিরোধ করতে পারবেন না, তবে নিচের পরামর্শগুলো মেনে চললে আপনার পেটের মাংসপেশি ও কলার টান কমাতে পারবেনঃ

­ স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুনঃ যদি আপনার স্বাভাবিক ওজনের চেয়ে বেশি থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ব্যায়াম ও খাদ্যগ্রহণ করুন।

­ উচ্চ আঁশসমৃদ্ধ খাবার খানঃ টাটকা ফলমূল ও শাকসবজি এবং সম্পূর্ণ খাদ্যশস্য আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

­ ভারী বস্তু উত্তোলনে সতর্ক হোনঃ পারতপক্ষে ভারী বস্তু উত্তোলন করবেন না। যদি একান্তই উত্তোলন করতে হয় তাহলে সর্বদা হাঁটু ভাঁজ করে শুরু করবেন, কখনো কোমর বাঁকাবেন না।

­ ধূমপান বন্ধ করুন।

সমাজউন্নয়নে রসূল (স.)-এর অবদান

সমাজউন্নয়নে রসূল (স.)-এর অবদান

রাষ্ট্রের মধ্যে ন্যায়বিচার ও নৈতিক বিধান নিশ্চিত করে জনসেবার মহান শিক্ষা ইসলামের। হযরত মুহাম্মদ (স.) যথার্থ উপলব্ধি করেছিলেন যে, মানবতার বিকাশ ও মুক্তির জন্য যা প্রয়োজন তা হচ্ছে সমাজ জীবন তথা রাষ্ট্রীয় জীবন থেকে অন্যায়-অবিচার সমূলে উত্পাটন এবং এরই ভিত্তিতে গঠিত রাষ্ট্রে জনগণের মহত্ কল্যাণ সাধিত হতে পারে। তিনি আরো উপলব্ধি করেছিলেন যে, ‘সমাজের সত্যিকার উন্নতি নিহিত রয়েছে বদান্যতা, ভালবাসা এবং পরস্পরকে বোঝার ক্ষেত্রে উন্নতি সাধনের তথা নিয়ত পরিবর্তনশীল ও সদাবিলীয়মান বস্তু-সামগ্রীর ওপর মানুষের চিত্তসত্বার স্বাক্ষর অংকনের যে ক্ষমতা, তার উন্নতির মাঝেই। তিনি প্রথমে তাই উদ্যোগ নিলেন সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার, অনৈক্য দূর করার। সমাজে বংশগত, গোত্রগত, সম্পদগত যে সব বৈষম্য যাবতীয় অনৈক্যের কারণ তার মূলে কুঠারাঘাত করলেন। কুরআনের বাণী উদ্বুদ্ধ করে তিনি ঘোষণা করলেন, ‘জন্মগতভাবে সকল মানুষ সমান।’ পরস্পরকে চিনতে পারার জন্যেই মানুষকে বিভিন্ন গোত্র ও পরিবারে বিভক্ত করা হয়েছে।’ তিনি নিজেও একজন মানুষ। রাজা-প্রজা, পুরুষ-নারী, ক্রীতদাস-গোলাম কোন পার্থক্য নেই। …he (Prophet) ruled that social status of a person should not depend upon the economic position of that person but on how much he was devoted to god and his Prophet.। আর তাই তিনি ক্রীতদাস জায়েদকে অনেক সম্মানিত কোরেশ বংশের লোকের ওপর মর্যাদা দান করেন।

মানুষ যে সমাজের অভ্যন্তরে বাস করে এবং চলাফেরা করে আর যে সমাজের গর্ভে তার অস্তিত্ব, তার সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টিই যাবতীয় সমাজ ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় সমস্যা। অতীতের যাবতীয় বদঅভ্যাস যেমন জুয়া খেলা, স্ত্রীবিক্রয়, কন্যা হত্যা ইত্যাকার কলুষতা হতে আরববাসীদের চরিত্র সংশোধনের ওপর তিনি অধিক গুরুত্বারোপ করেন। এই সব নৈতিকতাবিহীন কার্যকলাপকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কঠোর শাস্তি বিধান করেন। তিনি উপলব্ধি করলেন অশিক্ষাই এ সকল সামাজিক দুষ্টব্যাধি বিস্তারের মূল কারণ। নিরক্ষর নবী (স.) শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন, অল্প শিক্ষিত লোকের চাইতে সুশিক্ষিত ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করলেন। ঘোষণা করলেন বিদ্যাশিক্ষা অর্জন প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরজ। প্রয়োজনবোধে সুদূর চীন দেশে গিয়েও বিদ্যার্জন করার পরামর্শ দিলেন।

সমাজে নারীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ নারীজাতির সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার বিধান বিশ্বনবী (স.) এর এক অবিস্মরণীয় অবদান। যে আরব সমাজে প্রাক-ইসলামি যুগে নারী ছিল ঘৃণিত, লাঞ্ছিত সেই নারীর যথাযথ অংশীদারিত্ব স্বীকৃত হলো উত্তরাধিকার আইনে। নারীর অধিকার জন্মালো পছন্দমত স্বামী গ্রহণের এবং প্রয়োজনবোধে তালাক দেয়ার। স্বামীর প্রতি স্ত্রীর অধিকার ও কর্তব্যের সাথে সাথে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অধিকার ও কর্তব্য সুনির্ধারিত হলো। বহুস্ত্রীগমন তথা পতিতাবৃত্তির মতো সামাজিক সমস্যাকে চার স্ত্রী পর্যন্ত (সামর্থ্যানুযায়ী) বিবাহের বিধান জারির মাধ্যমে এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সমাধানের চেষ্টা করা হলো। ‘মুমিনরা একটি মানুষ সদৃশ, তার চোখ অসুস্থ হলে তার সমস্ত শরীরই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং যদি তার মস্তক পীড়িত হয় তা হলে তার সমস্ত দেহ পীড়িত হয়ে পড়ে। মানবতার এই সাম্যনীতি ঘোষণা করে ক্রীতদাস প্রথার বিলোপ ঘোষণা করলেন নবী করীম (স.)।

নেতা, নেতৃত্ব এবং নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য প্রসঙ্গে

রাসূলে করীম (স.) রাষ্ট্রযন্ত্রের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় প্রসঙ্গে যে সব বিধান ও মতামত রেখে গিয়েছেন তার মধ্যেও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর সুগভীর পাণ্ডিত্যের পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন ‘খাদিমুল কওমী রঈসুহুম’ অর্থাত্ জাতির সেবকই হবেন জাতির নেতা। তিনি বলেছেন ‘প্রত্যেক দেশ-শাসক একজন মেষ-পালকের ন্যায়। প্রত্যেককেই যার যার অধীনস্থ মেষপালের মঙ্গলের জন্য কৈফিয়ত দিতে হবে।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘আল্লাহ যে বান্দাকে কোন প্রজামণ্ডলের ভার অর্পণ করেছেন, সে যদি প্রজার সাথে প্রতারণা করে মারা যায় আল্লাহ তার জন্য বেহেশত হারাম করেছেন। একজন মুসলমান রাষ্ট্রনায়ক আল্লাহর ছায়ামাত্র। আল্লাহ যেরূপ সূর্যরশ্মি, বৃষ্টিপাত বা বায়ুচালনা দ্বারা সকলকে সমানভাবে উপকার প্রদান করেন রাজা বা রাষ্ট্রপতিও তদ্রূপ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রজা পালন করবে। বিষয়টি গভীর সমাবেশ সহকারে অনুধাবন করলে একথা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, নেতা এবং নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মহান শিক্ষা ও নির্দেশিত পথে সকলে চললে রাষ্ট্রশাসন পরিচালনায় কোন প্রকার বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে না। জাতির সেবা করলে সকলের নিরঙ্কুশ আনুগত্য লাভের প্রসঙ্গটিও সহজ ও অনায়াসলব্ধ হয়ে যায়। God says to the Islamic state, Since you take obedience from the people in My name, you should give them what I have promised to give, that is, fulfil the responsibilites which I have assumed in respect of mankind. If you fail to fulfil the responsibilities to people you lose your right to their obedience. The two go together.

নাগরিকের অধিকার প্রসঙ্গে নবী করীম (স.) বলেছেন, তাঁর হাতে আমি নিজেকে সমর্পণ করেছি তাঁর শপথ, কোন ব্যক্তিই সত্যিকার ঈমানদার হতে পারবে না, যদি না সে তার ভ্রাতার জন্য তাই কামনা করে যা সে কামনা করে নিজের জন্য। এই নীতিরই আলোকে সমাজের অভ্যন্তরে সম্পদ বন্টনে যাতে ন্যায়নীতি বলবত্ থাকে এবং পুরুষ-নারী-শিশু নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক যাতে যথেষ্ট পরিমাণ খাবার ও  পরিধেয়  পায়, সে দিকে ইসলামী  রাষ্ট্রকে  অবশ্য  লক্ষ্য রাখা বাঞ্ছনীয়  বলে তিনি মনে করতেন।এ লক্ষ্য অনুসারে  দেশের সংবিধানে এ ধারা অবশ্যই  থাকা চাই যে— প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার থাকবে: (ক) সুস্থ অবস্থায় এবং কাজ করবার বয়স থাকাকালে উত্পাদনমূলক ও শ্রমের মজুরি দেয়া হয় এমন কাজ পাবার, (খ) এই ধরনের উত্পাদনমূলক কাজের জন্য শিক্ষা লাভের প্রয়োজনবোধে রাষ্ট্রের খরচে হওয়া, (গ) অসুস্থ হলে বিনা খরচে উপযুক্ত চিকিত্সা পাবার এবং (ঘ) অসুখ-বিমুখ, বৈষম্য, বার্ধক্য, অপ্রাপ্ত বয়স্কতা অথবা ব্যক্তির আয়ত্ত বহির্ভূত অবস্থায় কারণজাত বেকারত্বে রাষ্ট্রের নিকট থেকে উপযুক্ত খাদ্য, বস্ত্র ও আশ্রয় পাবার।৪৩

বিদায় হজ্বের অভিভাষণে রসূল (স.) উল্লেখ করেছিলেন, ‘কোনও কাফ্রী ক্রীতদাসকেও যদি তোমাদের প্রশাসক নিযুক্ত করা হয় এবং সে যদি কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক তোমাদের পরিচালনা করে তা হলে অবশ্যই তোমরা তাকে মান্য করবে।

সহজ ব্যায়ামের কৌশল

সহজ ব্যায়ামের কৌশল

শরীরের মেদ এবং সেই সাথে ক্যালরি ক্ষয় করতে ব্যায়াম ও ডায়েটিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। খাবারের নিয়ম তো আছেই, অধিকন্তু ব্যায়ামের নিত্যনতুন কৌশল নিয়ে স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিদের উৎসাহের শেষ নেই। কিন্তু ব্যস্ত সময়ের ফাঁকে খাবারের নিয়ন্ত্রণ আনলেও আপনি ব্যায়াম করার এত ফুরসত কোথায় পাবেন? যদিও ট্রেড মিলের কল্যাণে আমাদের ঝামেলা অনেক কমে গেছে, তার পরও যন্ত্রটির দাম উৎসাহী ব্যক্তিকে কিছুটা হলেও নিরাশ করতে পারে। কিন্তু হাল ছেড়ে দেয়ার কিছু নেই। অস্ট্রেলিয়ার নিউসাউথ ওয়েলসের চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এ ক্ষেত্রে বিনা খরচ এবং নির্ঝঞ্ঝাটের সাথে স্বাস্থ্য চর্চার উপায় বাতলে দিয়েছেন। তারা বলেছেন, শুধু গলার মাংসপেশির ব্যায়াম করে আপনি শরীরের অতিরিক্ত ক্যালরি শক্তি ক্ষয় করতে পারেন এবং যা কিনা আপনার শরীর গঠনে কাজে লাগবে। ব্যায়ামটি মোটেও জটিল কিছু নয়। আট গ্লাস বরফশীতল পানি পান করে আপনি শরীরের ১২৩ ক্যালরি পোড়াতে পারেন। বরফশীতল পানির তাপমাত্রাকে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা অর্থাৎ ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটে উন্নীত করতে শরীরকে ওই পরিমাণ ক্যালরি শক্তি ক্ষয় করতে হবে। তবে সাবধান, অসুস্থ শরীরে এমন কাজ করা ঠিক নয়।

বিশ্বশান্তি ও ইসলাম

বিশ্বশান্তি ও ইসলাম

ইসলাম শান্তির ধর্ম। শান্তিপূর্ণ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্ব প্রতিষ্ঠার একমাত্র সঠিক ও বাস্তবমুখী দিক-নির্দেশনা রয়েছে ইসলামে। ইসলামের এই কালজয়ী আদর্শের মহিমায় এক সময় অর্ধ পৃথিবীতে শান্তি স্থাপিত হয়েছিল। আমরা যদি সেই আদর্শের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করতে পারি তাহলে এখনো সমগ্র বিশ্ব হতে যুদ্ধ বিগ্রহ, ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধতা বিদূরিত হয়ে এক সুখময় শান্তির নীড়ে পরিণত হবে আমাদের এই বসুন্ধরা। সুদৃঢ় ও নিখুঁত ব্যবস্থাপনায় ইসলাম বিশ্ববাসীকে দিয়েছে শান্তি, শৃংখলা, নাগরিক অধিকার ও দায়িত্ব এবং তার পরিণামবোধ ও কর্মের অধিকার।

মানুষের জীবনের সকল স্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যা যথার্থই প্রয়োজন, ইসলাম সে সকল বিষয় সুষ্ঠুভাবে বিন্যস্ত করছে এবং প্রত্যেকের সমষ্টিগত মর্যাদা নিরূপণে যা প্রয়োজন তা গ্রহণ করেছে। তাই আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কে বলেছেন,

“আজকের দিনে তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে (ধর্ম)—পরিপূর্ণ করে দিলাম, সম্পূর্ণ ও সমাপ্ত করে দিলাম তোমাদের জন্য আমার নেয়ামত এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে জীবন বিধান হিসাবে পছন্দ করলাম”- (সুরা মায়িদা, আয়াত:৩)।একুশ শতকের চলমান পরিস্থিতিতে বর্তমান বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ আজ অরাজকতা, বিশ্বমন্দা, পারিবারিক বিশৃংখলা ও জঙ্গীবাদ নামক নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সমগ্র বিশ্ব যখন বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত হচ্ছে, তেমনি মুহূর্তে বিশেষ কয়েকটি দেশের মোড়লগিরিতে বিশ্বশান্তি আজ তিরোহিত। অস্ত্র অনুসন্ধানের নামে শক্তি প্রদর্শন এবং জাতিসংঘের মতামতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিশ্বব্যাপী নৈরাজ্য স্থাপন, তা কখনো শান্তি আনতে পারে না।

মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশে গৃহযুদ্ধের দরুন ‘শান্তি’ নামক মোহময়ী বস্তু আজ দুর্লভ। অত্যাচারীর জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়ে এই দেশগুলোতে শান্তি পালিয়ে বেড়াচ্ছে। শিশুদের বুকফাটা আর্তনাদ আকাশে বাতাসে ভেসে যাচ্ছে। এই করুণ অবস্থার একমাত্র সমাধান হল ইসলাম, ইসলামের শান্তিময় আলো প্রজ্বলন করে আজ থেকে সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগে যেমন আরবসহ অর্ধ জাহানব্যাপী যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, ঠিক তেমনি তা আবার আনতে পারে একমাত্র ‘ইসলাম’। ইসলাম অর্থ শান্তি, আনুগত্য। একবাক্যে যার পরিচয় হল “মানবজীবনের সকল শাখা-প্রশাখার সমস্যার সমাধান একমাত্র ধর্ম ইসলাম”। ইসলাম তার আলোকবর্তিকার জ্বলন্ত উদাহরণস্বরূপ নিয়ে এসেছে মহা সংবিধান মহাগ্রন্থ ‘আল-কুরআন’। আধুনিক জ্ঞানপ্রযুক্তি থেকে শুরু করে ব্যক্তি, পরিবার,  সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল সমস্যার সমাধান দিচ্ছে আল-কুরআন। শান্তির এই মহাসনদ সম্পর্কে গুরু নানক বলেছেন, “বেদ ও পুরানের সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। এখন কেবল মাত্র কুরআনই  পৃথিবীকে পরিচালিত করতে পারে। সাধু, ঋষি, সংস্কারক সাইয়েদ, পীর, সকলেই উপকৃত হবেন যদি তারা কুরআন অধ্যয়ন করেন এবং দরুদ পড়েন”। বর্তমান বিশ্বে শান্তির জন্য যে হাহাকার ধ্বনিত হচ্ছে, অন্তরের পাপরাশি মানুষের সামগ্রিক জীবনকে যেভাবে দুর্বিষহ করে তুলছে, সেক্ষেত্রে একমাত্র সমাধান হল ইসলাম এবং মহাগ্রন্থ আল-কুরআন, কুরআন বর্ণনা করছে এভাবে, “এবং তোমার প্রতি ক্রমাগতভাবে কুরআন নাযিল করেছি সববিষয়ের বর্ণনাকারী, ব্যাখ্যাকারী হিসাবে, প্রদর্শনকারী জীবন বিধান, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ হিসাবে”-(সুরা নাহল, আয়াত:৮৯)। বিশ্বব্যাপী ইসলামের শান্তিময় বার্তাবাহক রূপে যে মহামানব ৫৭০ খৃষ্টাব্দে এ ধুলির ধরায় আবির্ভূত হয়েছিলেন তাঁর অনুপম চরিত্র আজও সকলের নিকট অনুকরণীয়। এই মহামানব কুরআনকে সংবিধান করে যে রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন তা আজও অতুলনীয়। নিজ ভূমি ছেড়ে পরভূমিতে গিয়ে আদর্শের এই মূর্ত প্রতীক সমগ্র বিশ্বের সকল রাষ্ট্রপতির নিকট হয়ে উঠেছিলেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বেদুঈন বর্বর, দুরন্ত আরবজাতিকে তিনি সুশৃংখল, দুর্বার, দিগ্বিজয়ী বাহিনীতে রূপান্তরিত করেছিলেন। মদীনা হিজরত থেকে শুরু করে ওফাতের পূর্ব সময় পর্যন্ত তার রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতা  সমগ্র বিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছিলো।

মানবতার এই মহান নেতা ইসলামকে আঁকড়ে ধরে এক আল্লাহর তাওহীদবাদে মানুষদের দীক্ষিত করার যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন তার পুনরুত্থানের সময় আজ ঘনীভূত। দিকে দিকে জোর শোরগোল উঠছে শুধু একটি ধ্বনির। আর তা হলো শান্তি, এই শান্তি আনতে পারে একমাত্র ইসলাম।

ফরাসী সম্রাট “নেপোলিয়ন” তার জীবদ্দশায় রাসূল (স.) এবং তাঁর আনীত ধর্ম ইসলাম সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন এভাবে, মুহাম্মদ এর ধর্মই আমার নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয়।  মহানবী (স.) শৈশবকাল থেকেই আরবদের মধ্যকার গোত্রযুদ্ধ দেখে ভেবেছিলেন, কিভাবে সমাজে শান্তি-শৃংখলা ফিরিয়ে আনা যায়? হারবুল ফুজ্জারের যুদ্ধের পর তার এই ভাবনা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছিলো, অতঃপর ৫৮৯/৯০ খৃঃ তিনি বেশ কিছু শান্তিপ্রিয় তরুণদের নিয়ে গঠন করেন “হিলফুল ফুযুল” বা শান্তি সংঘ। বিশ্ব ইতিহাসে এ ধরনের সংঘ এটাই প্রথম। তিনি বয়স্কদের পরামর্শক্রমে বেশকিছু প্রতিজ্ঞা সবার কাছ থেকে আদায় করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে বেশকিছু বছর আরবদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব সংঘাত বন্ধ ছিলো।

এরপরও মানুষ ব্যক্তিগতভাবে অশান্তিতে অবগাহন করছিলো। প্রচলিত রীতি-নীতি, ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার জাহেলিয়াতের এই যুগকে ঘোর কুয়াশাচ্ছন্ন করে রেখেছিলো। আরবজাতির এহেন ন্যক্কারজনক অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনতে মহানবী (স.) দীর্ঘদিন হেরা গুহায় সৃষ্টিকর্তার ধ্যানে মশগুল ছিলেন।

স্রষ্টার নৈকট্য অর্জন এবং আরবীয় মরুময় সমাজে শান্তির বাতাস প্রবাহিত করার জন্য তার একমাত্র সহযোগী ছিলেন বিবি খাদিজা। বিশ্বব্যাপী “শান্তি” আনার জন্য এক মহান ব্রত নিয়ে ধ্যানমগ্ন মুহাম্মদ (স.) শুধু একটিই চিন্তা করতেন, শান্তি আনয়নের/ প্রতিষ্ঠার পন্থা কি? দীর্ঘ কয়েক বছর সাধনার পর অবশেষে স্বয়ং আল্লাহর নির্দেশে তাঁর ফেরেশতাগণ মহানবী (স.) এর জন্য খুলে দিলেন জ্ঞানের অবারিত দ্বার। আর পূর্ণ প্রকাশিত হলো ইসলাম, যা আজ থেকে বহু বছর আগে আদম (আ.) এর পৃথিবীতে আগমনের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। মহানবী (স.) তাঁর আদর্শের বাণী সবার মাঝে ছড়িয়ে দিলেন, আরবের প্রতিটি প্রান্তরে ইসলামের সুমহান বাণী ছড়িয়ে পড়ল।

ভেজাল খাবারে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

ভেজাল খাবারে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

 জ্যৈষ্ঠ  আষাঢ় মধু মাসে বাংলাদেশে বিভিন্ন মুখ রোচক ফলের সরবরাহ ঘটে। শিশু কিশোর থেকে সকল বয়সের মানুষই ফল খেতে ভালবাসে। এইসব ফল আমাদের দেহের জন্য খাদ্য ও পুষ্টি যেমন, শর্করা, ভিটামিন, পটাশিয়াম, আয়রণ, জিংক ইত্যাদি দান করে। তাই সুখে দুখে, অসুখে বিসুখে, ফলের চাহিদা সারা বছর ধরেই রয়েছে, বিশেষ করে অসুস্থ হলে মুখের রুচি যখন থাকেনা। রোগী ক্লান্ত পরিশ্রান্ত থাকে। লিভারের অসুখেরতো কথাই নাই। সবাই ফল খেতে, ফল দিতে পছন্দ করে। সারা বছর ধরে ফলের চাহিদা থাকলেও মধ্যম শ্রেণী কিংবা গরীবের পক্ষে অধিক মূল্যে আমদানীকৃত ফল সব সময় খাওয়া সম্ভব হয় না। তাই বাংলাদেশে মধু মাসগুলোতে সবাই আগ্রহভরে কোন না কোন ফল পরিবার পরিজন নিয়ে খেতে সচেষ্ট হন।

শাকসবজি, মাছ ও মাংসে ভেজালতো নিত্যদিন রয়েছেই। ফরমালিন মুক্ত মাছ পাওয়া দুষ্কর। তাছাড়া কৃত্রিমভাবে প্রজননের মাধ্যমে বাজারজাত মাছ, মাংস আমরা সব সময় খাই। মাছকে ইউরিয়া সার খাওয়ানো হয় এবং গরুর বর্জ্য চামড়া আগুনে পুড়িয়ে এক প্রকার খাদ্য বানিয়ে মাছকে খাওয়ানো হয়, এমনকি ফার্মের বয়লার মুরগীর বর্জ্য খাওয়ানো হয়। গরুকে বলিষ্ঠ করার জন্য আখের গুড়ের তৈরীর বর্জ্য (রাব) যা এলকোহল সমৃদ্ধ এবং এমনকি ইউরিয়া মিশ্রিত ঘাস ও খড় খাওয়ানো হয়। এসমস্ত রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত খাবার যে গরু খায় সে গরুর মাংস আমরা খাই এ খাবার কতটুকু স্বাস্থ্য সম্মত তাও নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। পোলট্রি ফার্মের মুরগীকে মোটাতাজা করার জন্য নানাবিধ কেমিক্যাল মিশ্রিত খাবার খাওয়ানো হয়। শুকনো ও পঁচা গন্ধযুক্ত ডিডিটি মিশ্রিত শুটকি দিয়েও মুরগীর খাবার তৈরী করা হয়। তাছাড়া শুটকি মাছকে টাটকা ও পোকা মাকড় থেকে রক্ষা করার জন্য ডিডিটি মিশানো হয়।  কালে অকালে সব রকমের সবজি আমাদের দেশে পাওয়া যায়। এটা সম্ভব হচ্ছে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে। এ সমস্ত শাকসবজির গুণগতমান এবং সেফটি দেখার সময় এসেছে।

প্রাকৃতিক উপায়ে চাষকৃত কোন খাবারই এখন আমাদের ভাগ্যে জোটেনা। হয়তো বা জনসংখ্যার চাপ, প্রয়োজনের তুলনায় কম সরবরাহ হবে বলে সবাই বিকল্প পথ অবলম্বন করে অধিক উত্পাদনের সাহায্যে সাময়িক চাহিদা পুরণের মনযোগী হয়েছে। এই ভেজাল ও বিষ গ্রহণের ফলে মানবদেহে কি প্রতিক্রিয়া হচ্ছে তা দেখার প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের দেহ দিন দিন নানাবিধ দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। যেমন অকালে ক্যান্সার, লিভার রোগ, কিডনিরোগ এবং রক্ত শূন্যতা ইত্যাদি নানা রোগ ব্যাধির প্রকোপ বেড়েই চলেছে। সাধারণত কাঁচা কলাকে ইথাইলিন গ্যাস দ্বারা পাকানো হয়। ইহা একটি গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া কেননা মৌসুমী ফল এই প্রক্রিয়াতে পাকে।

কিন্তু সমস্যাটা হলো অধিক মুনাফা লোভি কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ী কাঁচা মৌসুমী ফল যেমন  আম, কলা, পেঁপেঁ, নাশপাতি, কুল ও আপেলকে ক্যালসিয়াম কার্বাইড নামক বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে পাকায়। এই ক্যালসিয়াম কার্বাইড একটি সহজ লভ্য ও তুলনামূলকভাবে সস্তা কেমিক্যাল। ঈত্ুংঃধষষরহব কমপাউন্ড যা শিল্প কল কারখানায় সাধারণত: ব্যবহার হয়ে থাকে। দেখতে গাঢ় দূষর রং। অনেকটা রসুনের মত গন্ধ ছড়ায়। ইহা সাধারণত ষ্টীল জাতীয় পদার্থের ওয়েল্ডিং কাজে ব্যবহূত হয়। ব্যবসায়ীরা আম কিংবা অন্যান্য ফলকে সারিবদ্ধভাবে বসিয়ে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ছোট ছোট খোলা পাত্রে  মিশিয়ে সারি সারি করে বসিয়ে তার পর পলিথিন বিছিয়ে দেয়। এ বিষাক্ত কেমিক্যাল বাতাসে জলিয় বাষ্পের  সংস্পর্শে আসলে এসিটাইলিন গ্যাস তৈরী হয়। এই গ্যাস ফল পাকাতে সাহায্য করে। ক্যালসিয়াম কার্বাইডে আর্সেনিক ও ফসফরাস জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ থাকে। এসিটাইলিন গ্যাস স্নায়ুতন্ত্র তথা ব্রেইনের অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়। আর্সেনিক, চর্ম, লিভার, কিডনি, ফুসফুস সহ মানব দেহে মারাত্মক ক্ষতি করে।

ক্যালসিয়াম কার্বাইড সল্প মেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদী স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। সল্প মেয়াদী রোগের উপসর্গ সমূহ ১. চোখ ও চামড়ার সংস্পর্শে আসলে জ্বালা পোড়া এবং চোখের অন্ধত্ব এবং চামড়ায় ঘা হতে পারে ২. শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে গলা ব্যথা, কাশি ও শ্বাস কষ্ট হতে পারে। ৩. খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করলে মুখে ঘা হতে পারে। ৪. অতি মাত্রায় গ্রহণ করলে শ্বাস কষ্ট এমনকি ফুসফুসে পানি জমে যেতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদী স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে রয়েছে ফুসফুসের উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব যেমন- কফ্, কাঁশি ও এজমা। কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো ফল চেনার উপায় কি?

১।         উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, আম কাঁটার পর চামড়ার ঠিক নীচে ফলের অংশ কাঁচা পাওয়া যাবে। যদিও চামড়াটি পাকা রং এ বর্ণ ধারণ করেছিল।

২।         যদি ঝুড়িতে বা দোকানে সব গুলো ফল একই সময়ে একই রকম পাকা দেখা যায় এবং দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ফলের চামড়ায় আচিল বা তিলের মত রং দেখা যায়।

৩।        প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় যে ফল পাকে তাতে মাছি বসবে কিন্তু ক্যামিক্যাল দ্বারা পাকানো হলে সে ফলে মাছি বসবে না।

৪।         প্রাকৃতিক ভাবে পাকা ফলের চামড়া উঠানোর পর এক ফোটা আয়োডিন দিলে তা গাঢ় নীল অথবা কালো বর্ণ ধারণ করে। কিন্তু ক্যামিক্যাল দ্বারা পাকানো ফলে এই আয়োডিনের রং অপরিবর্তিত থাকে।

আপনার করনীয়:

১।         ফল খাওয়ার পূর্বে কয়েক মিনিট পানি দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিন।

২।         মৌসুমের পূর্বে বাজারের যে পাকা ফলগুলো আসে সেগুলো ধরেই নিতে পারেন যে, কেমিক্যাল দ্বারা পাকানো হয়েছে।

৩।        যখন আম এবং আপেল জাতীয় ফল খাবেন তখন এগুলো টুকরো টুকরো করে খাবেন। পুরো ফল কামড়ে না খাওয়াই ভাল।

আমাদের সবার দায়িত্ব জনগনকে সচেতন করে তোলা। ফল উত্পাদনকারী কৃষক, ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতাদেরকে ফল পাকানোর নিরাপদ প্রক্রিয়া শিক্ষা দেওয়া। যেমন আমের ক্ষেত্রে সারি সারি করে আম খড়ের গাদায় বসিয়ে রাখলে আম পেকে যাবে। তা ছাড়া গাছ থেকে ফলগুলো পরিপক্ষ হওয়ার পর আম পারা ভাল। ফলের পেশায় যারা নিযুক্ত রয়েছে তাদেরকে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহারের ক্ষতির দিকগুলো শিক্ষা দিতে হবে। যারা মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে খেলা করে এবং মানুষের জীবনকে ঝুকির মধ্যে ফেলে দেয় তাদেরকে আইনের মাধ্যমে শাস্তি ও অর্থ দন্ডের বিধান করা একান্ত প্রয়োজন। যা অন্যান্য দেশে প্রচলিত রয়েছে। 

উপরে উল্লেখিত সব রকম ভেজাল ও ক্যামিক্যাল মিশ্রিত খাবার খেয়ে আমরা বেঁচে আছি। তাই  আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের স্বাস্থ্যহানী, মেধা ও মননশীলতা কতখানি বিঘ্নিত হবে এবং হচ্ছে এ দিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে।

আজান আল্লাহর মহানিয়ামত

আজান আল্লাহর মহানিয়ামত

 

মুসলমানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ। আর নামাজের জন্য আজান দেয়া আবশ্যক। রাসূল সাঃ-এর জামানা থেকে আজান দেয়ার রীতি চলে আসছে এবং আজানের শব্দ কিভাবে মসজিদ থেকে দূরে অবস্থানরত মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় তার জন্য রীতিমতো গবেষণা করা হয়েছে।

সেই সাথে আজানের শব্দ কী হবে তা নিয়েও রাসূল সাঃ ও সাহাবায়ে কেরাম রাঃ ভীষণ চিন্তা-ফিকির করছেন। কেউ বলেছেন ঘণ্টা বাজানো হোক, কেউ বা বলেছেন আগুন জ্বালানো হোক, কেউ বা বলেছেন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হোক ইত্যাদি। কিন্তু তার কোনোটিই রাখা হয়নি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হজরত উমর রাঃ-কে স্বপ্নে শেখালেন মধুর কিছু শব্দ যা আজান হিসেবে পৃথিবীর লাখো কোটি মসজিদের মিনারে মিনারে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয়।

আজান আল্লাহর এক মহা নিয়ামত, মধুর বাণী, যা শুনলে মুমিনের ঘুম ভেঙে যায়, জুড়িয়ে যায় হৃদয়, প্রফুল্ল ছড়িয়ে পড়ে মুমিনের প্রাণে, মুহূর্তেই সব মোহ ভেঙে প্রেমে পড়ে যায় মহান প্রভুর, যিনি আমাকে-তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। ব্যাকুল হয়ে পড়ে তার সাক্ষাতের জন্য। নামাজ হলো প্রভুর সাথে মুমিনের সাক্ষাৎস্থল। আশেক-মাশুকের প্রেমের প্রেমময় প্রাঙ্গণ।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হলো, আজ দেশে দেশে বিধর্মী ও নাস্তিকেরা আজানকে বন্ধ করে দিতে চায়। আজানের মতো মধুর বাণী তাদের কাছে খাট্টার মতো লাগে।

কেননা তারা শয়তানের সহচর। রাসূল সাঃ বলেছেন, অভিশপ্ত শয়তান আজানের বাণী শুনলে বায়ু নিষ্কাশন করতে করতে পলায়ন করে, এ হাদিসের পর আর নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়ে না যে শয়তান ও তার অনুসারীরা আজানকে কতটা ভয় পায়। গত ২০ মে দৈনিক নয়া দিগন্তে একটি সংবাদ ইসরাইলে আজানে মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ করার একটি বিল নেসেটে (দেশটির পার্লামেন্ট) পেশ করেছে ডানপন্থী ইসরাইল বেতান দলের সদস্য অ্যানাস্তাসিয়া মিখায়েলি। প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী আজানে মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ হবে এবং নতুন এ আইন লঙ্ঘনকারীকে জরিমানা বা কারাদণ্ড দেয়া হবে। মিখায়েলি বলেন, মুসলমানদের আজানের কারণে তিনি কিছুতেই হাজার হাজার ইহুদির জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেন না। তিনি বলেন, আজানের কারণে প্রতি দিন লাখ লাখ ইহুদি চরম দুর্ভোগ পোহায়; যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। মিসরের প্রখ্যাত লেখক জাইয়েদ শামস তার একটি নিবন্ধে লিখেছেন, ইসরাইলে মুসলমানদের প্রকাশ্যে মসজিদে যাওয়াও নিষিদ্ধ হতে পারে এবং মহা ধুমধামে ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করা যাবে না এমন আইনও আসছে। ইসরাইলিরা দাবি করে, তারা একটি নিরঙ্কুশ ইহুদি রাষ্ট্র। যেখানে একমাত্র ইহুদিরাই আধিপত্য বিস্তার করবে। আমাদের আশ্চর্য হতে হয়, ইসরাইলের মতো একটি অবৈধ রাষ্ট্র যারা কিনা মুসলমানদের পবিত্র ভূমিতে আশ্রিত ছিল মাত্র। আজ তারা আরব ভূমিতে দাঁড়িয়ে মুসলমানদের ইতিহাস ঐতিহ্য, চেতনা-বিশ্বাসে আঘাত করার মতো দুঃসাহস দেখায়, আর মুসলিম আরব রাষ্ট্রপ্রধানেরা তখনো আরাম-আয়েশে মহাব্যস্ত। মূলত আরব রাষ্ট্রগুলোর ব্যর্থতার কারণেই তারা কায়েম করতে পেরেছে একটি অবৈধ রাষ্ট্র। তাদের সহায়তাই ওরা নির্মম নির্যাতন চালায় ফিলিস্তিনি নিরীহ নিরস্ত্র মানুষের ওপর। কিন্তু আমরা কোথায় বসবাস করি? আমাদের আকিদা-বিশ্বাস আজ কোন স্তরে? সেই ঈমানি শক্তি আজ কাদের কাছে বারবার মাথানত করে? কোথায় হারিয়েছি আমাদের গৌরবগাথা ইতিহাস-ঐতিহ্যকে? খুঁজে বের করতে হবে কেন আজ আমাদের এই নিুপতন। ইতঃপূর্বে ইউরোপের কিছু মসজিদে মাইকে আজান নিষিদ্ধ হয়েছে আমরা প্রতিবাদ করিনি। ইসরাইলেও নিষিদ্ধ হচ্ছে। আমরা কি একবারো চিন্তা করছি ওরা যে আস্তে আস্তে ইসলামের মূল শিকড়ে আঘাত হানছে। দেশে দেশে নিষিদ্ধ হচ্ছে মুসলিম মেয়েদের শালীনতার প্রতীক বোরকা। আঘাত হানছে শিক্ষা-দীক্ষাসহ সব মৌল বিশ্বাসের ওপর। কিন্তু আজো আমরা ঘুমে বিভোর। কেউ বা ঘুমে অচেতন। আর কারো চোখের সামনেই চুরি হচ্ছে আমাদের সব কিছু। আমরা চেয়ে চেয়ে দেখছি। আর মনে মনে ভাবছি যাক এই বুঝি শেষ। যে সত্যকে প্রতিষ্ঠার জন্য রাসূল সাঃসহ সাহাবায়ে কেরামকে রক্ত দিতে হয়েছে, যাদের পবিত্র রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব শান্তির ধর্ম ইসলাম, তা হিফাজত করার দায়িত্ব আজ আমাদের। মুখ বুজে থাকলে ওরা আরো সাহসী হবে। আর যা-ই হোক গণতন্ত্রের লেবাসধারী এসব মানুষরূপী ঘাতককে আর সুযোগ দেয়া যায় না। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনে দিতে হবে কঠিন জবাব। তবে অন্তত এখন প্রতিবাদ করা সব মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব।

আঁশ জাতীয় খাবার কেন খাবেন

আঁশ জাতীয় খাবার কেন খাবেন

 

ধমনীর প্রধান শত্রু কোলেস্টেরল। কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ হিসাবে ‘স্ট্যাটিন’ (যেমন-সিমভাস্ট্যাটিন, প্রাভাস্টাটিন…) খুবই উল্লেখযোগ্য। রবার্ট উড জনসন মেডিকেল স্কুলের গবেষণা থেকে জানা যায়    যে, এই ‘স্ট্যাটিন’-এর সাথে তন্তু জাতীয় খাবার উপকারী। এতে করে কোলেস্টেরল হ্রাস করা সহজ। তারা ৬৭ জন ভলান্টিয়ারকে নিয়ে     গভেষণা করে দেখেন যে,  যারা দৈনিক ১০ মি.গ্রাম স্ট্যাটিন সেবন করেন তারা ৮ সপ্তাহ পর ২৯ ভাগ বাজে কোলেস্টেরল এলডিএল  কমাতে সক্ষম হন। অপরদিকে যারা স্ট্যাটিন এর সাথে দিনে তিনবার (মোট ১৫ গ্রাম) জাইলিয়াম ফাইবার গ্রহণ করেন তারা একই সময়ে প্রায় ৩৮ ভাগ এলডিএল কমাতে সক্ষম হন। শুধু স্ট্যাটিন খেয়ে এই পরিমাণ কোলেস্টেরল কমাতে চাইলে দ্বিগুণ পরিমাণ ওষুধ খেতে হবে। তন্তু জাতীয় খাবার কোলেস্টেরলের সাথে বন্ধন তৈরি করে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। জাইলিয়াম  তন্তু পাওয়া যায়-ওট, বাদাম, বার্লি, আপেল ইত্যাদিতে।

%d bloggers like this: