দৈনন্দিন জীবনে আদব ও শিষ্টাচার

দৈনন্দিন জীবনে আদব শিষ্টাচার

জীবনের প্রতিটি কাজ একটি আদর্শ বা মান অনুসারে পরিচালিত হওয়াকে আদব বা শিষ্টাচার বলে। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাই আমাদের আদব বা রীতিনীতি, নিয়মনীতি অনুসারে চলতে হয়। আদব বা শৃঙ্খলা অনুসারে চললে সমাজে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিটি কাজে তার আদব বা নির্দেশনা অনুসারে না চললে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। আদব বা শিষ্টাচারের সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ হলেন মহানবী সাঃ। আল্লাহ্‌ বলেন, ‘হে নবী! নিশ্চয়ই আপনি মহান চারিত্রিক আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন।’ (আল ক্বলম- ৪)।

শিষ্টাচার বিষয়ে আল কুরআনঃ আদব-কায়দা ও শিষ্টাচারের শিক্ষা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন­ ‘আপনি উদারতা ও ক্ষমার নীতি প্রয়োগ করুন এবং সৎকাজের আদেশ দান করুন। আর মুর্খদের থেকে দূরে থাকুন’ (আল আরাফ-১৯৯)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, ‘ভালো মন্দ কখনো সমান হতে পারে না। উৎকৃষ্ট পন্থায় তোমরা একটি মন্দ ব্যবহারের জবাব দাও। তাহলে দেখবে যার সাথে তোমার চরম শত্রুতা রয়েছে সেও পরম বন্ধু হিসেবেই আবির্ভূত হবে। এ চরিত্র তারাই লাভ করে যারা ধৈর্যশীল এবং তারাই এ চরিত্রের বৈশিষ্ট্য লাভে ধন্য হয়, যারা ভাগ্যবান’ (ফুসসিলাত/হামিম আস্‌ সাজদাহ-৩৪/৩৫)। মুমিনদের প্রশংসায় আল্লাহ আরো বলেন, ‘যারা সচ্ছলতা ও অভাবের সময় ব্যয় করে ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে, আল্লাহ্‌ এমন চরিত্রের লোকদের পছন্দ করেন’ (সূরা আলে ইমরান-১৩৪)।

শিষ্টাচার বিষয়ে আল হাদিসঃ রাসূল সাঃ বলেন, ‘অর্থাৎ আমি উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা প্রদানের জন্য প্রেরিত হয়েছি’। হজরত আয়েশা রাঃ-কে রাসূল সাঃ-এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তরে বলেন, ‘তার চরিত্র হলো সাক্ষাৎ কুরআন’ (মুসলিম)। হজরত আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে ওমর রাঃ বর্ণনা করেন, নবী সাঃ চারিত্রিক ও মৌখিক অশ্লীলতা হতে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন। তিনি প্রায়ই বলতেন, ‘তোমাদের মধ্যে তারাই উত্তম, যাদের চরিত্র উত্তম’ (বুখারি-মুসলিম)। হজরত আনাস ইবনে মালেক রাঃ বলেন, ‘রাসূল সাঃ কাউকে গালি দিতেন না, অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করতেন না এবং কাউকে অভিশাপ দিতেন না। কাউকে তিরস্কার করতে হলে শুধু এটুকু বলতেন, তার কী হয়েছে। তার কপাল ধুলায় ধূসরিত হোক’ (বুখারি)। হজরত আনাস রাঃ আরো বলেন, ‘আমি দীর্ঘ দশ বছর রাসূল সাঃ-এর সেবায় নিয়োজিত ছিলাম। এ দীর্ঘ সময়ে তিনি কখনো ‘উহ’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি। এমনকি তিনি কখনো বলেননি, তুমি কেন এটা করেছ বা এটা কেন করোনি? (বুখারি ও মুসলিম)।

শিষ্টাচারের বৈশিষ্ট্যঃ সম্ভাষণঃ দৈনন্দিন জীবনের আদব বা শিষ্টাচারের আলোচনায় প্রথমে আসে পরস্পরকে সম্ভাষণের বিষয়টি। তাই সালামের ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হয়। খুশি মনে সালামের জবাব দেয়াও সবার কর্তব্য। ইসলামে পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেয়ার বিধান রয়েছে। সুযোগ পেলে মুসাফা করা এবং অবস্থার কথা জিজ্ঞেস করে পরিবারের লোকদেরও খোঁজখবর নেয়ার প্রচলন রয়েছে। সালামের ব্যাপারে বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্ন রীতি প্রচলিত আছে। কিন্তু ইসলামের সালাম আদান-প্রদানের মতো উত্তম সম্ভাষণ আর হতে পারে না। রাসূল সাঃ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রথমে সালাম দেয়, আল্লাহ্‌র নিকট লোকদের মধ্যে সেই উত্তম।’

উপঢৌকনঃ শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে ইসলামের অবদান অতুলনীয়। উপঢৌকন আদান-প্রদান করাও শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত। মানুষে মানুষে সম্প্রীতি গড়ে তোলার জন্য এটি অন্যতম মাধ্যম। রাসূল সাঃ এ ব্যাপারে উৎসাহ দিয়ে বলেন, তোমরা একে অপরকে উপঢৌকন দাও এবং ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হও। (আল হাদিস)

প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডঃ মানুষের সাথে ওঠা-বসা, পানাহার, বসবাস ও সহাবস্থান সমাজ জীবনের মৌলিক উপাদান। এসব প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে শিষ্টাচার ও রুচির পরিচয় লাভ করা যায় রাসূল সাঃ-এর মহান জীবনাচার থেকে। হাঁ করে হাঁচি দেয়া, হাই তোলা, মুখের দৃষ্টিকটু ভঙ্গি ইত্যাদি পরিহার করার ব্যাপারে রাসূল সাঃ নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। হজরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত­ ‘যখন নবী করিম সাঃ হাঁচি দিতেন, তিনি তাঁর মুখমণ্ডলে হস্ত বা বস্ত্র দ্বারা আবৃত করতেন এবং তদ্বারা তাঁর স্বর বন্ধ করতেন’ (তিরমিজি)। হা হা করে বিকট আওয়াজে অট্টহাসি, চিৎকার, হৈহল্লা ইত্যাদি কোনো রুচির পরিচয় নয়। বিপরীত পক্ষে মৃদু বা মুচকি হাসি অথবা নিঃশব্দ হাসি অপরের মনেও আনন্দ দেয় ও ভালোবাসার জন্ম দেয়। হজরত আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত ‘আমি রাসূল সাঃ-কে অট্টহাসি করতে দেখিনি, যাতে তাঁর জিহ্বার তালু দেখা যায়। তিনি মৃদু হাসতেন (বুখারি)।

পরিপাটি থাকাঃ বর্তমান সমাজে একটি ভ্রান্ত ধারণার প্রচলন আছে­ ধার্মিক ব্যক্তির দৈহিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সাজ-সজ্জা বা পরিপাট্যের প্রয়োজন নেই। ইসলাম এ ধরনের অভদ্রতাকে ভদ্র ও শিষ্টাচারী করে গড়ে তোলে। হজরত আতা বিন ইছার থেকে বর্ণিত আছে যে­ ‘রাসূল সাঃ মসজিদে অবস্থানকালে একটি লোক আলুলায়িত মাথা ও দাড়ি নিয়ে সেখানে প্রবেশ করল। রাসূল সাঃ হাত দ্বারা তার দিকে ইশারা করলেন যেন সে তার মাথা ও দাড়ির কেশ বিন্যাস করে। সে ব্যক্তি তা করে ফিরে এলো। হজরত সাঃ বললেন, শয়তানের মতো তোমাদের কোনো ব্যক্তির আলুলায়িত বেশে আসার চেয়ে ইহা কি উত্তম না?’

পবিত্রতা ও লজ্জাশীলতাঃ পবিত্রতা, দয়া ইত্যাদি শিষ্টাচারের প্রধান বৈশিষ্ট্য। হজরত ইবনে মোছায়্যেব থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূল সাঃ-কে বলতে শুনেছেন, আল্লাহ্‌ পবিত্র, পবিত্রতা ভালোবাসেন; তিনি দয়ালু, দয়া ভালোবাসেন; তিনি মুক্ত, মুক্তহস্তকে ভালোবাসেন। সুতরাং তোমাদের পাত্রকে পরিষ্কার করো এবং ইহুদিদের অনুসরণ করো না।’ লজ্জাশীলতা সভ্যতা ও মার্জিত রুচির পরিচায়ক! রাসূল সাঃ ছিলেন লজ্জাশীলতার মূর্ত প্রতীক। তিনি বলেন, ‘লজ্জাশীলতা ঈমানের অঙ্গ।’ (বুখারি)।

সর্বসাধারণের সাথে ব্যবহারঃ প্রার্থনাকারীকে বিমুখ করা শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ। এ ব্যাপারে হজরত জাবের রাঃ-এর বর্ণিত হাদিস প্রাণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, ‘নবী করিম সাঃ কোনো প্রার্থীকে কখনো ‘না’ বলেননি’ (বুখারি, মুসলিম)। ছোটদের স্নেহ ও বড়দের শ্রদ্ধা করা ইসলামী আদব, আল্লাহ্‌র রাসূল সাঃ বলেন, ‘যে ব্যক্তি ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান করে না সে আমাদের দলভুক্ত নয়’ (বুখারি)।

একজন বিশ্বাসীর জীবনাচারঃ ইসলামে শিষ্টাচার বা আদবকে ঈমানের অংশ বলা হয়েছে। ইসলাম পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক পার্থক্যকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং জীবনযাপনের বিভিন্ন পর্যায়ে সার্বজনীন শিষ্টাচার বা আদব-কায়দার সাধারণ মূলনীতির নির্দেশনা দিয়েছে। মানুষের সেবা করা আমাদের মিশনারি দায়িত্ব। সেবদানের ব্যাপারে তাই সমাজের সবার মধ্যে টিম স্পিরিট সৃষ্টি করতে হবে। ইসলাম হলো সেবা প্রদানকারী ইন্ডাস্ট্রির নাম। সুতরাং আমাদের প্রতিযোগিতামূলকভাবে, যোগ্যতার মাধ্যমে, দ্রুততা ও দক্ষতার সাথে জনসেবা করা উচিত। সর্বোত্তম ব্যবহার, বিনয়ী চরিত্র, ব্যক্তিত্ব, আনুগত্য, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সুসম্পর্কের মাধ্যমে সেবাদান নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্ব ও কর্তব্যের ব্যাপারে সদা সচেতন থাকতে হবে।

প্রতিটি সৎ কাজই সাদকাঃ হজরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী করিম সাঃ বলেছেন­ প্রতিটি সৎ কাজই সাদকা। হজরত আবু মুসা আশয়ারি রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করেন­ প্রত্যেক মুসলমানেরই সাদকা করা অবশ্য কর্তব্য। উপস্থিত লোকজন বলল, যদি সে সাদকা করার মতো কিছু না পায়? তিনি বললেন, সে যেন কারো সাথে খারাপ ব্যবহার না করে।

মানুষের সাথে উত্তম ব্যবহারঃ হজরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাঃ বলেন, ভালো কথা ও সাদকা করা উত্তম কাজ। নবী করিম সাঃ আরো বলেন­ তোমরা দোজখের আগুন থেকে বেঁচে থাকো, একটি খেজুর দিয়ে হলেও। যদি তা না পাও তাহলে মধুর ভাষার বিনিময়ে। মানুষের মধ্যে তিনিই সর্বোত্তম যার দ্বারা মানব কল্যাণ সাধিত হয়। সে-ই খাঁটি মানুষ যে তার ভাইকে রক্ষা করে উপস্থিত অনুপস্থিত যেকোনো অবস্থাতেই। মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে ইবাদতের জন্য আর মানুষের সেবা ও সৃষ্টির খেদমতই হলো শ্রেষ্ঠ ইবাদত। হজরত আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাঃ বলেন, ‘আল্লাহ সকল কাজে নম্রতা ভালোবাসেন’।

হাসিমুখে কথা বলা ও রাগ না করাঃ জনগণ হলেন আমাদের সর্বোত্তম বন্ধু। তাদের সাথে সব সময় হাসিমুখে কথা বলতে হবে। রাসূল সাঃ সব সময় মানুষের সাথে হাসিমুখে কথা বলতেন। সুতরাং বন্ধুত্বপূর্ণ হাসি দ্বারা সবাইকে অভ্যর্থনা দিতে হবে। একজন হাস্যোজ্জ্বল মানুষের সাথে যে কেউ কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। হজরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাঃ বলেন, এক ব্যক্তি নবী করিম সাঃ-এর নিকট আরজ করল, আপনি আমাকে অসিয়ত করুন। তিনি বললেন, তুমি রাগ করো না। লোকটি কয়েকবার তা আরজ করলে নবী করিম সাঃ প্রত্যেকবারই বললেন রাগ করো না।

সুন্দর কথা বলাঃ পৃথিবীতে যত আদর্শ প্রচারিত হয়েছে তা হয়েছে সুন্দর কথা দিয়েই, অসুন্দর কথা ও কুবচন দিয়ে কোনো আদর্শ পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সুন্দর কথা দিয়ে সহজেই মানুষের মন জয় করা যায়। শ্রেষ্ঠ মনীষীরা সুভাষী ছিলেন। সুন্দর কথার হাত, পা ও জীবন আছে। সুন্দর কথায় রোগজীবাণু ধ্বংসের ওষুধ আছে, অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা আছে। সুন্দর কথায় শর্করার শক্তি আছে, ভিটামিনের সঞ্জীবনী আছে, আমিষের পুষ্টিগুণ আছে। একটি সুন্দর কথা ভালো গাছের মতো, মাটিতে যার বদ্ধমূল শিকড়, আকাশে যার বিস্তৃত শাখা, যে গাছ অফুরন্ত ফল বিলিয়ে দেয়। শুদ্ধভাবে, গুছিয়ে ও সুস্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে হবে।

সর্বোত্তম ব্যবহারঃ জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সুমিষ্ট আচরণ ও বচন, ভদ্র ও মার্জিত রুচির পরিচায়ক। সদাচরণ মানুষকে কাছে টানে। সদাচরণের বাস্তব উদাহরণ আমাদের নবী মুহাম্মদ সাঃ, এ ব্যাপারে আল্লাহ্‌র ঘোষণা­ ‘খোদার অনুগ্রহেই হে নবী! আপনি বিনম্র হয়েছেন। অন্যথায় আপনি যদি রূঢ় ভাষা ও পাষাণ হৃদয়ের হতেন তা হলে আপনার চতুষ্পার্শ্ব হতে সব লোক ভেগে যেত। (আলে ইমরান)।

প্রতিবেশীর সাথে সদাচারঃ প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ ও ভালো ব্যবহার করা একজন মুসলমানের অন্যতম কর্তব্য। সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা উজাড় করে দিয়ে প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করা ও সদ্ভাব বজায় রাখা অপরিহার্য। রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি এটা পছন্দ করে যে, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল তাকে ভালোবাসুক, সে যেন নিজের প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করে। রাসূল সাঃ বলেছেন, ‘জিব্রাইল আমাকে প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করার জন্য এত ঘন ঘন উপদেশ দিতে থাকেন যে, আমি ভেবেছিলাম হয়তো শেষ পর্যন্ত প্রতিবেশীকে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী করা হবে।’ রাসূল সাঃ বলেন, ‘একজন মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের ছয়টি অধিকার রয়েছে। যথাঃ সালামের জবাব দেয়া, রোগীকে দেখতে যাওয়া, জানাজায় অংশগ্রহণ করা, দাওয়াত কবুল করা, ওয়াদা পূরণ করা ও হাঁচিদানকারীর জবাব দেয়া’।

পারস্পরিক এহতেসাব করাঃ কারো কোনো দোষত্রুটি পরিলক্ষিত হলে সংশোধনের উদ্দেশ্যে তাকে খোলাখুলিভাবে একান্তে বলতে হবে এবং অন্যজন নীরবে শুনে সংশোধন হয়ে যাবে। রাসূল সাঃ বলেন, এক মুমিন অপর মুমিনের জন্য আয়না স্বরূপ। আয়না যেমন দেহের দোষত্রুটি ধরে দেয় তেমনি এক ভাই অপর ভাইয়ের দোষত্রুটি ধরে দেবে।

শেষ কথাঃ ইসলাম পরামর্শমূলক ব্যবস্থাপনার কথা বলে­ কারণ সাহাবিরা পরামর্শের ভিত্তিতে তাদের জীবনের সব কাজ সমাধা করতেন। কুরআনের সূরা আহজাবের ২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে­ ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসূলের জীবনেই রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ’। সুতরাং মুসলিম মাত্রেরই উচিত জীবনের সব ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূলের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ ও অনুকরণ। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহপাঠী, কর্মক্ষেত্রে সহকর্মী, যানবাহনে সহযাত্রীসহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। আল্লাহ আমাদের উত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে সুখী ও সমৃদ্ধশালী করার তৌফিক দান করুন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: