ব্রণ দূর করার টিপস

ব্রণ দূর করার টিপস

ত্বকের ঔজ্জ্বল্য এবং সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয় ব্রণ। মুখে এসব ব্রণের দাগের জন্য চিন্তায় কাটাচ্ছেন? চিন্তার কোনো কারণ নেই। ব্রণ থেকে বাঁচতে কিছু উপায় অবলম্বন করুন। দেখুন আপনি অনেক ভালো থাকবেন।
— ব্রণ হলে একেবারেই আচার খাবেন না। তবে মিষ্টি চাটনি খেতে পারেন।
— বেশি পরিমাণে নিরামিষ খাবার খান। আমিষ খাবার যতটা সম্ভব না খাওয়ার চেষ্টা করুন।
— ডেইরি প্রোডাক্টসের মধ্যে হরমোনাল উপাদান বেশি পরিমাণে থাকে বলে তা খুব সহজে রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। এ কারণেই পনির, দুধ এবং দই কম খান।
— কোল ড্রিঙ্কস খাওয়া একেবারেই বন্ধ করে দিন।
— খুব বেশি পরিমাণে পানি খান। দিনে যদি দু লিটার পানি খেতে পারেন তা আপনার স্বাস্থ্য এবং ত্বকের ক্ষেত্রে ফলদায়ক হবে। পানি বেশি খাওয়ার ফলে শরীর থেকে পিত্ত বেরিয়ে যাবে। আপনি ব্রণের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবেন।
— আয়ুর্বেদের মতে অতিরিক্ত ক্রোধের ফলে শরীরে পিত্ত সঞ্চিত হয়। তাই ক্রোধ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন।
ব্রণের দাগ দূর করতে ভেষজ পদ্ধতি:
— কমলা লেবুর খোসা শুকিয়ে মিক্সিতে গুঁড়ো করে নিন। মসুরির ডাল আর চাল ভিজিয়ে ভালো করে পিষে নিন। ওই পেস্টের মধ্যে চন্দন পাউডার, মুলতানি মাটি, কমলালেবুর খোসার গুঁড়ো মিশিয়ে ভালো করে মিলিয়ে নিন। এই মিশ্রণের মধ্যে দুই চামচ দুধও মিশিয়ে নিতে পারেন। মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর ধুয়ে নিন। এই প্যাকটা নিয়মিত মুখে লাগান। ত্বকের জেল্লা বাড়বে। ব্রণের দাগও দূর হয়ে যাবে।
ব্রণ দূর করবে নিম:
— চার-পাঁচটা নিম পাতা ভালো করে ধুয়ে পিষে নিন। এর মধ্যে এক চামচ মুলতানি মাটি, অল্প গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটা যদি গাঢ় হয়ে যায় তাহলে এর মধ্যে গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। মুখে লাগিয়ে বেশ কিছুক্ষণ রেখে দিন। প্যাকটা মুখে শুকিয়ে গেলে হালকা পানি দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলুন।

মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত

মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত

একজন মা সন্তানের ধরাধামে আবির্ভাব ও অস্তিত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে অসাধারণ ত্যাগ স্বীকার ও অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট বরদাশত করেন। ৯ মাস গর্ভে ধারণ করে তার রক্ষণাবেক্ষণ করেন। আবার ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরও দুই বছর পর্যন্ত স্তন্যদানের কঠিন ঝামেলা পোহাতে হয় তাকে।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘আর আমি মানুষকে তার মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দুই বছরে হয়। নির্দেশ দিয়েছি, আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই কাছে ফিরে আসতে হবে। (সূরা লোকমানঃ ১৪)।

সন্তানের কাছে মা-বাবা উভয়েই অতি আদরের ধন। তার পরও মা সন্তানকে যেভাবে বুকে ধারণ করেন তা বাবার দ্বারা আদৌ সম্ভব নয়। আর প্রতিটি সন্তানই তার মায়ের কাছে যেভাবে তার আবদার, চাওয়া-পাওয়ার বায়না ধরে তা বাবার কাছে তুলে ধরতে পারে না। আর মা সন্তানের সব আবদার পূরণে সদাসর্বদা ব্যস্ত থাকেন। ভালো খাবার, ভালো জামাকাপড়, সুন্দর সুগঠিত স্বাস্থ্য, ভালোভাবে লেখাপড়া করা অর্থাৎ সব ভালো সব মায়ের সন্তানের দরকার। প্রত্যেট মায়ের চাওয়া-পাওয়া একই ধরনের। আমার সন্তান ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক।

যে মায়ের সন্তানের প্রতি এত দরদ এত মায়া, সে মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা কতটুকু হতে পারে, মানবতার মুক্তিদূত হজরত মুহাম্মদ সাঃ সুন্দরভাবে তার বর্ণনা দিয়েছেন।

হজরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত­ তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল সাঃ-এর কাছে এসে বলল­ হে আল্লাহর রাসূল, আমার কাছ থেকে সদ্ব্যবহার ও সৎসঙ্গ পাওয়ার সবচেয়ে বেশি অধিকারী কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে আবার বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, তোমার বাবা। (বুখারি)।

হজরত আসমা রাঃ রাসূল সাঃকে জিজ্ঞেস করেন, আমার মা মুশরিক। তিনি আমার সাথে দেখা করতে আসেন। তাকে কী আদর আপ্যায়ন করব? তিনি উত্তরে বললেন, তোমার মাকে আদর আপ্যায়ন অবশ্যই করবে। (বুখারি)

মা মুশরিক ও অমুসলিম হলেও তার প্রতি সদাচরণের কথা থেকে পরিষ্কারভাবে বুঝা যায়, তার প্রতি কখনো অন্যায় বা অবিচার করা যাবে না।

আসলে মা-বাবা উভয়েই সন্তানের কাছে অতি প্রিয়। কেননা বাবা ছাড়া পৃথিবীতে সন্তানের আগমন অসম্ভব। আর বাবাই সন্তানের খাদ্য সংগ্রহ করে থাকেন। মা-বাবা উভয়েই সন্তান লালন-পালনে কষ্ট করে থাকেন। এ জন্য ইসলামের বার্তাবাহক হজরত মুহাম্মদ সাঃ তাদের উভয়ের প্রতি সদাচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ থেকে বর্ণিত­ তিনি বলেন, আমি নবী সাঃকে জিজ্ঞেস করলাম, কোন কাজটি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন, ঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা। আমি আবার বললাম, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার করা। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। (বুখারি)।

ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসূল সাঃকে জিজ্ঞেস করল সন্তানের ওপর মা-বাবার হক কী? তিনি বললেন, তারা উভয়েই তোমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম। উদ্দেশ্য এই যে, তাদের আনুগত্য ও সেবাযত্ন জান্নাতে নিয়ে যায় এবং তাদের সাথে বেয়াদবি ও তাদের অসন্তুষ্টি জাহান্নামে পৌঁছে দেয়।

মা-বাবার সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির ওপরই নির্ভর করে পরকালীন জীবনের কল্যাণ ও অকল্যাণ। ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত­ রাসূল সাঃ বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে মা বাবার আনুগত্য করে, তার জন্য জান্নাতের দু’টি দরজা খোলা থাকবে এবং যে ব্যক্তি তাদের অবাধ্য হবে, তার জন্য জাহান্নামে দু’টি দরজা খোলা থাকবে। যদি মা বাবার মধ্য থেকে একজনই থাকে, তবে জান্নাত অথবা জাহান্নামের একটি দরজা খোলা থাকবে। এ কথা শুনে জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করল­ জাহান্নামের এই শাস্তিবাণী কি তখনো প্রযোজ্য যখন মা-বাবা এই ব্যক্তির প্রতি জুলুম করে। তবু মা-বাবার অবাধ্যতার কারণে সন্তান জাহান্নামে যাবে। এর সারমর্ম এই, মা-বাবার কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের অধিকার সন্তানের নেই। তারা জুলুম করলে সন্তান সেবাযত্ন ও আনুগত্যের হাত গুটিয়ে নিতে পারে না। (বায়হাকি শোয়াবুল ঈমান)।

যে মা গর্ভধারণের কষ্ট সহ্য করলেন, কষ্ট করে লালন-পালন করে বড় করে তুললেন, যে বাবা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অর্থ উপার্জন করে সন্তানের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন মিটালেন, আজকাল দেখা যায়, তারা কখনো কখনো সন্তানের অসহ্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই আজকের সভ্য সমাজে বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করা হয়েছে। আর অসভ্য ও বর্বর সন্তানেরা তাদের মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে এসে স্ত্রী-পুত্র নিয়ে সুখে বসবাস করে বাড়িতে।

কী নিষ্ঠুর অমানবিকতা! মা-বাবার কাছে এর চেয়ে দুঃখ ও কষ্টের আর কী হতে পারে? যে সন্তানের জন্য মা তার রাতের ঘুম হারাম করেছেন, আর বাবা তার শরীরের রক্ত পানি করেছেন, তাদের জীবনের একি মূল্যায়ন!

আজকের সভ্য সমাজের সন্তানদের রাসূলের দু’টি হাদিসের দিকে দৃষ্টি দেয়া উচিত। ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত­ রাসূল সাঃ বলেন, যে সেবাযত্নকারী পুত্র মা-বাবার দিকে দয়া ও ভালোবাসাসহকারে দৃষ্টিপাত করে, তার প্রত্যেক দৃষ্টির বিনিময়ে সে একটি মকবুল হজের সওয়াব পায়। লোকেরা আরজ করল­ সে যদি দিনে ১০০ বার এভাবে দৃষ্টিপাত করে? তিনি বললেন, হঁ্যা, ১০০ বার দৃষ্টিপাত করলেও প্রত্যেক দৃষ্টির বিনিময়ে এই সওয়াব পেতে থাকবে। (বায়হাকি)

মা-বাবা যাদের জীবিত আছেন তাদের উচিত মা-বাবার প্রতি সুদৃষ্টি দেয়া এবং তাদেরকে সব সময় খুশি রাখা। তাদের প্রতি খারাপ আচরণ না করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং মা-বাবার সাথে সদাচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিয়ো না। আর তাদের সাথে সম্মানজনকভাবে কথা বলো। (বনি ইসরাইলঃ ২৩)

মা-বাবা সন্তানের জন্য দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানের জন্য রহমতস্বরূপ। যে সন্তান মা-বাবার সন্তুষ্টি অর্জন করতে ব্যর্থ হলো তার চেয়ে দুর্ভাগা এ ধরায় আর কে হতে পারে? হজরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত­ নবী সাঃ বলেন, ওই ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, ওই ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, ওই ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, যে তার মা-বাবা উভয়কে অথবা উভয়ের একজনকে বৃদ্ধ অবস্থায় পেয়েও (তাদের সেবা করে) বেহেশতে যেতে পারল না। (মুসলিম)

স্কার্ভিরোগ প্রতিরোধে টক খাবার

স্কার্ভিরোগ প্রতিরোধে টক খাবার

টক খাবারের গুণের কথা না জানলেই নয়। সত্যি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এর কোনো তুলনা নেই। দেহের ত্বক নিুস্থ তন্তু, তরুণাস্থি, হাড় ও দাঁতের কোষ মধ্যস্থ উপাদান এবং কোলাজেন তন্তু তৈরিতে, রক্তের আয়রন শোষণ করাতে, ফলিক অ্যাসিডের কার্যকর আকার রূপান্তরকরণে টক খাবারের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আর তাই তো প্রতিদিন অপরিমিত টক খাবার খেলে দেখা দেয় ‘স্কার্ভি’ নামক এক ধরনের ঘাতক রোগ।

শিশুদের স্কার্ভি হলে­

তাদের দেখতে ফ্যাকাসে মনে হয়

নিস্তেজ ভাব দেখায়

কিছুই খেতে চায় না

শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়

হাত-পা ফুলে গিয়ে তীব্র রূপে বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে যা স্পর্শ করলেই তারা কাঁদতে শুরু করে।

বড়দের স্কার্ভি হলে­

দাঁতের মাঢ়ি ফুলে যায়

মাঢ়ি দিয়ে রক্ত ঝরে

রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়

শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে

পাইরিয়ার মতো দাঁতের সংক্রমণ হয়

স্কার্ভি ছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে টক খাবার না খেলে শরীরে সংক্রমণের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়, হাড়গুলোর ভঙ্গুরতা বেড়ে যায়, যা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং দেহের ক্ষতস্থানের আরোগ্য লাভে বিলম্ব হয়।

হয়তো মনে প্রশ্ন জাগবে­ এতে এমন কী রয়েছে? হঁ্যা, সাধারণত টক জাতীয় খাদ্যে থাকে ভিটামিন সি, যার দৈনিক চাহিদা পূর্ণবয়স্কদের ৪০ মিলিগ্রাম এবং স্তন্যদানকারীর ৮০ মিলিগ্রাম। তবে এসপিরিন, স্টেরয়েড ও টেট্রাসাইক্লিন জাতীয় ওষুধ নিয়মিত খেলে, আঘাত পেলে, পুড়ে গেলে, শরীরে কোনো সংক্রমণ হলে এবং ধূমপান করলে এ চাহিদা বেড়ে যায়। এ জাতীয় খাবারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আমলকী, পেয়ারা, লেবু, কমলা, টমেটো যেগুলোর ১০০ গ্রামে যথাক্রমে রয়েছে ৬০০, ২১২, ৬৩, ৩০, ২৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

বাংলা ভাষায় আল-কুরআনের বঙ্গানুবাদ

বাংলা ভাষায় আলকুরআনের বঙ্গানুবাদ

ভারতীয় উপমহাদেশে শাহ ওয়ালীউল্লাহ (১৭০৩-১৭৬২) সর্বপ্রথম ফারসিতে কুরআনের অনুবাদ করেন। ১৭৭৬ সালে শাহ রফিউদ্দিন (১৭৪৯-১৮১৭) ও ১৭৮০ সালে শাহ আবদুল কাদির (১৭৫৩-১৮২৭) উর্দু ভাষায় কুরআনের অনুবাদ করেন। শাহ রফিউদ্দিনের অনুবাদটি ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে এবং শাহ আবদুল কাদিরের অনুবাদটি ১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে মুদ্রিত হয়ে প্রকাশ পায়। এসব তাফসির কালক্রমে বাংলাদেশেও জনপ্রিয়তা লাভ করে। (পবিত্র কুরআন প্রচারের ইতিহাস, পৃ.-১৫) আধুনিক গবেষণায় দেখা যায় যে, বলা যায় যে, বাংলাদেশে ইসলামের আবির্ভাব ঘটে খলিফা হারুনুর রশীদ (৭৮৬-৮০৯)-এর সময়ে এবং ক্রমান্বয়ে ইসলামের বিস্তৃতি ঘটে। এ সময় কুরআনে বাণী মৌখিকভাবে প্রচারিত হতো। মুসলিমগণ অচিরেই বাংলা ও সাহিত্যের উন্নতিতে মনোনিবেশ করেন। এ সময় শাহ মুহাম্মদ সগীর (১৩৮৯-১৪১০ খ্রি.) ইউসুফ জুলেখা কাব্যে সুরা ইউসুফের অর্থের অনুবাদ করেন। সৈয়দ সুলতানের ‘কোরানের কতা সব লিক্ষি লইলা সার’ এই বক্তব্যের আকাঙ্ক্ষা থেকে সপ্তদশ শতাব্দীর কবি আবুদল হাকিম (১৬২০-১৬৯০) ‘নুরনামা’ কাব্য রচনা করেন। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর মুসলমানদের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সাথে সাথে ধর্মীয় বিপর্যয় দেখা দেয়। ফলে মুসলমানদের এহেন খ্রিষ্টান মিশনারীদের অপতত্পরতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। আলিম সমাজও সোচ্চার হয়ে সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন। হাজী শরিয়াতুল্লাহ (১৭৬৪-১৮৪০); মাওলানা ইমামুদ্দীন (১৭৮৮-১৮৫৯); মাওলানা সুফি নূর মোহাম্মদ (১৭৯০-১৮৬১ আনু:) এবং মাওলানা কারামত আলী (১৮০০-১৮৭৩) প্রমুখ এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। আরবি ও ফারসি ভাষায় ব্যুত্পত্তি সম্পন্ন এসব আলিম বাংলা ভাষায় কোনো পুস্তক রচনায় অবদান রাখতে সক্ষম হননি। আর তখনও বাংলা মুদ্রণযন্ত্রের প্রচলন হয়নি। বাংলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুবাদে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উদ্যোগে সর্বপ্রথম ১৭৭৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলা মুদ্রণযন্ত্রের প্রচলন হয়। তখন থেকে বাংলা ভাষায় গ্রন্থ প্রকাশ শুরু হয়। ১৮১৫ সালের পর বাঙালি মুসলমানগণ মুদ্রণযন্ত্র স্থাপন করেন। মুনশী হেদায়েতুল্লাহ ও মুনশী সৈয়দ আবদুল্লাহ এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বস্তুত এ সময়টি ছিল বাংলাভাষার ক্রান্তিকাল। এ অবস্থার মধ্য দিয়ে বাঙালি মুসলমানদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটান কলকাতার মির্জাপুরের পাটোয়ার বাগানের অধিবাসী আকবর আলি। দোভাষী পুঁথির ভাষায় রচিত পবিত্র কুরআনের আমপারা ও সুরা ফাতিহার বঙ্গানুবাদ প্রকাশ করেন। অবশ্য এটি ছিল শাহ আবদুল কাদিরের উর্দু তাফসিরের বঙ্গানুবাদ। (ঐ, পৃ:-১৭-১৮)

১৮০৮ অথবা ১৮০৯ সালে রংপুর নিবাসী আমিরুদ্দীন বসুনিয়া কুরআনের শেষ খণ্ড আমপারার অনুবাদ করেন।

এরপর ১৮৭৯ সালে কুরআনের প্রথম পারার বঙ্গানুবাদ করেন অমুসলিম রাজেন্দ্রনাথ মিত্র। গিরিশচন্দ্র সেনের তিন বছর আগে ১৬ পৃষ্ঠার এই অনুবাদ কর্মটি কলকাতার আয়ুর্বেদ প্রেস থেকে মুদ্রিত হয়। অনুবাদক নিজেই এ পুস্তকটির প্রকাশনার দায়িত্ব নেন। প্রথম মুদ্রণে ৫০০ কপি প্রকাশ করার পর এ কাজে বোধ হয় তিনি আর অগ্রসর হননি। ১৮৮৫ সালে ব্রাহ্মধর্মের নববিধান মণ্ডলীর ধর্মপ্রচারক গিরিশচন্দ্র সেন বাংলাভাষায় কুরআনের সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ ও সম্পূর্ণ অনুবাদ করেন। বঙ্গানুবাদটির রচনা, মুদ্রণ ও প্রকাশিত হয় ১৮৮১ সালের শেষাংশ থেকে ১৮৮৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই পৌনে চার বছরের মধ্যে। (আহমাদ, বাংলা মুসলিম গ্রন্থপঞ্জী, পৃ. ৩৮৬) গিরিশচন্দ্রের অনুবাদটিতে ব্রাহ্মধর্মের প্রচারনীতি, কুরআনি বিজ্ঞানের অপরিপক্কতা লক্ষ্য করা যায়। এ কারণে তার অনুবাদটি মুসলমানদের মাঝে জনপ্রিয়তা তো অর্জন করতে পারেইনি তবে শতবর্ষ পরে একথা বলা যায় যে, তার অনুবাদ কর্মটি মুসলমান আলিমদের মাঝে একপ্রকার আত্মবিশ্বাসের অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। গিরিশচন্দ্রের বঙ্গানুবাদের দুই বছরের মাথায় ১৮৮৭ সালে মুসলিম আলিম নইমূদ্দীনের অনুবাদ প্রকাশিত হয়।

পেনক্রিয়াটাইটিস ও পেটে ব্যথা

পেনক্রিয়াটাইটিস ও পেটে ব্যথা

প্যানক্রিয়াটাইটিস হলো প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ। এটি দেখতে অনেকটা আমপাতার মতো এবং লম্বালম্বিভাবে ওপরের পেটে এর অবস্থান। অগ্ন্যাশয় ইনসুলিনসহ বিভিন্ন প্রকার হরমোন ও এনজাইম তৈরি করে যা কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও প্রোটিন জাতীয় খাবার ডাইজেস্ট বা হজম করতে সাহায্য করে। এটাতে প্রদাহ ছাড়া পাথর, সিস্ট, নিউমার অ্যাবসেস ইত্যাদি রোগ দেখা যায়। প্যানক্রিয়াস গ্রিক শব্দ, যার অর্থ অগ্নি বা আগুন অর্থাৎ এই প্যানক্রিয়াস (এর টিউমার বা প্রদাহ) এমনই একটি অঙ্গ যার প্রদাহ নিঃসৃত হরমোন বা এনজাইম আশপাশের সব কিছুকে ধ্বংস করে দেয়। তা ছাড়া এর অবস্থানগত কারণেও প্যানক্রিয়াসকে সহজে সার্জনেরা অপারেশন করতে চান না।

কেন পেনক্রিয়াটাইটিস হয়ঃ পিত্তে পাথর বা পিত্তনালীতে পাথর, ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসজনিত কারণে, আঘাতজনিত কারণে, পেটে অপারেশনজনিত কারণে ও অ্যালকোহল পান ইত্যাদি।

লক্ষণঃ সাধারণত তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার পর পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হয়, রোগী নামাজের ভঙ্গিতে বসে গড়গড়া করে, বমিভাব বা বমি হতে পারে এবং পেট তুলনামূলকভাবে নরম থাকে।

ইনভেস্টিগেশনঃ পেটের ী-ৎধু, পেটের ঁংম ও রক্তের এমাইলেজ যা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

চিকিৎসাঃ রোগীকে জরুরিভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে, মুখে খাওয়াদাওয়া বন্ধ রেখে স্যালাইন দিতে হবে, সেই সাথে ব্যথানাশক ওষুধ ও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দিতে হবে, জটিলতা সৃষ্টি হলে অপারেশনও লাগতে পারে।

সঠিকভাবে ও সময়মতো চিকিৎসা না হলে বিভিন্ন প্রকার জটিলতা দেখা দিতে পারে।

কী কী জটিলতা হতে পারেঃ সিউডো-পেনক্রিয়াটিক লিস্ট, পেনক্রিয়াটিক অ্যাবসেস এবং বিভিন্ন প্রকার অর্গান ফেইলিওর হয়ে রোগী মারা যেতে পারে।

%d bloggers like this: