ব্রণ দূর করার টিপস

ব্রণ দূর করার টিপস

ত্বকের ঔজ্জ্বল্য এবং সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয় ব্রণ। মুখে এসব ব্রণের দাগের জন্য চিন্তায় কাটাচ্ছেন? চিন্তার কোনো কারণ নেই। ব্রণ থেকে বাঁচতে কিছু উপায় অবলম্বন করুন। দেখুন আপনি অনেক ভালো থাকবেন।
— ব্রণ হলে একেবারেই আচার খাবেন না। তবে মিষ্টি চাটনি খেতে পারেন।
— বেশি পরিমাণে নিরামিষ খাবার খান। আমিষ খাবার যতটা সম্ভব না খাওয়ার চেষ্টা করুন।
— ডেইরি প্রোডাক্টসের মধ্যে হরমোনাল উপাদান বেশি পরিমাণে থাকে বলে তা খুব সহজে রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। এ কারণেই পনির, দুধ এবং দই কম খান।
— কোল ড্রিঙ্কস খাওয়া একেবারেই বন্ধ করে দিন।
— খুব বেশি পরিমাণে পানি খান। দিনে যদি দু লিটার পানি খেতে পারেন তা আপনার স্বাস্থ্য এবং ত্বকের ক্ষেত্রে ফলদায়ক হবে। পানি বেশি খাওয়ার ফলে শরীর থেকে পিত্ত বেরিয়ে যাবে। আপনি ব্রণের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবেন।
— আয়ুর্বেদের মতে অতিরিক্ত ক্রোধের ফলে শরীরে পিত্ত সঞ্চিত হয়। তাই ক্রোধ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন।
ব্রণের দাগ দূর করতে ভেষজ পদ্ধতি:
— কমলা লেবুর খোসা শুকিয়ে মিক্সিতে গুঁড়ো করে নিন। মসুরির ডাল আর চাল ভিজিয়ে ভালো করে পিষে নিন। ওই পেস্টের মধ্যে চন্দন পাউডার, মুলতানি মাটি, কমলালেবুর খোসার গুঁড়ো মিশিয়ে ভালো করে মিলিয়ে নিন। এই মিশ্রণের মধ্যে দুই চামচ দুধও মিশিয়ে নিতে পারেন। মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর ধুয়ে নিন। এই প্যাকটা নিয়মিত মুখে লাগান। ত্বকের জেল্লা বাড়বে। ব্রণের দাগও দূর হয়ে যাবে।
ব্রণ দূর করবে নিম:
— চার-পাঁচটা নিম পাতা ভালো করে ধুয়ে পিষে নিন। এর মধ্যে এক চামচ মুলতানি মাটি, অল্প গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটা যদি গাঢ় হয়ে যায় তাহলে এর মধ্যে গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। মুখে লাগিয়ে বেশ কিছুক্ষণ রেখে দিন। প্যাকটা মুখে শুকিয়ে গেলে হালকা পানি দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলুন।

Advertisements

মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত

মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত

একজন মা সন্তানের ধরাধামে আবির্ভাব ও অস্তিত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে অসাধারণ ত্যাগ স্বীকার ও অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট বরদাশত করেন। ৯ মাস গর্ভে ধারণ করে তার রক্ষণাবেক্ষণ করেন। আবার ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরও দুই বছর পর্যন্ত স্তন্যদানের কঠিন ঝামেলা পোহাতে হয় তাকে।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘আর আমি মানুষকে তার মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দুই বছরে হয়। নির্দেশ দিয়েছি, আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই কাছে ফিরে আসতে হবে। (সূরা লোকমানঃ ১৪)।

সন্তানের কাছে মা-বাবা উভয়েই অতি আদরের ধন। তার পরও মা সন্তানকে যেভাবে বুকে ধারণ করেন তা বাবার দ্বারা আদৌ সম্ভব নয়। আর প্রতিটি সন্তানই তার মায়ের কাছে যেভাবে তার আবদার, চাওয়া-পাওয়ার বায়না ধরে তা বাবার কাছে তুলে ধরতে পারে না। আর মা সন্তানের সব আবদার পূরণে সদাসর্বদা ব্যস্ত থাকেন। ভালো খাবার, ভালো জামাকাপড়, সুন্দর সুগঠিত স্বাস্থ্য, ভালোভাবে লেখাপড়া করা অর্থাৎ সব ভালো সব মায়ের সন্তানের দরকার। প্রত্যেট মায়ের চাওয়া-পাওয়া একই ধরনের। আমার সন্তান ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক।

যে মায়ের সন্তানের প্রতি এত দরদ এত মায়া, সে মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা কতটুকু হতে পারে, মানবতার মুক্তিদূত হজরত মুহাম্মদ সাঃ সুন্দরভাবে তার বর্ণনা দিয়েছেন।

হজরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত­ তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল সাঃ-এর কাছে এসে বলল­ হে আল্লাহর রাসূল, আমার কাছ থেকে সদ্ব্যবহার ও সৎসঙ্গ পাওয়ার সবচেয়ে বেশি অধিকারী কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে আবার বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, তোমার বাবা। (বুখারি)।

হজরত আসমা রাঃ রাসূল সাঃকে জিজ্ঞেস করেন, আমার মা মুশরিক। তিনি আমার সাথে দেখা করতে আসেন। তাকে কী আদর আপ্যায়ন করব? তিনি উত্তরে বললেন, তোমার মাকে আদর আপ্যায়ন অবশ্যই করবে। (বুখারি)

মা মুশরিক ও অমুসলিম হলেও তার প্রতি সদাচরণের কথা থেকে পরিষ্কারভাবে বুঝা যায়, তার প্রতি কখনো অন্যায় বা অবিচার করা যাবে না।

আসলে মা-বাবা উভয়েই সন্তানের কাছে অতি প্রিয়। কেননা বাবা ছাড়া পৃথিবীতে সন্তানের আগমন অসম্ভব। আর বাবাই সন্তানের খাদ্য সংগ্রহ করে থাকেন। মা-বাবা উভয়েই সন্তান লালন-পালনে কষ্ট করে থাকেন। এ জন্য ইসলামের বার্তাবাহক হজরত মুহাম্মদ সাঃ তাদের উভয়ের প্রতি সদাচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ থেকে বর্ণিত­ তিনি বলেন, আমি নবী সাঃকে জিজ্ঞেস করলাম, কোন কাজটি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন, ঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা। আমি আবার বললাম, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার করা। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। (বুখারি)।

ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসূল সাঃকে জিজ্ঞেস করল সন্তানের ওপর মা-বাবার হক কী? তিনি বললেন, তারা উভয়েই তোমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম। উদ্দেশ্য এই যে, তাদের আনুগত্য ও সেবাযত্ন জান্নাতে নিয়ে যায় এবং তাদের সাথে বেয়াদবি ও তাদের অসন্তুষ্টি জাহান্নামে পৌঁছে দেয়।

মা-বাবার সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির ওপরই নির্ভর করে পরকালীন জীবনের কল্যাণ ও অকল্যাণ। ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত­ রাসূল সাঃ বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে মা বাবার আনুগত্য করে, তার জন্য জান্নাতের দু’টি দরজা খোলা থাকবে এবং যে ব্যক্তি তাদের অবাধ্য হবে, তার জন্য জাহান্নামে দু’টি দরজা খোলা থাকবে। যদি মা বাবার মধ্য থেকে একজনই থাকে, তবে জান্নাত অথবা জাহান্নামের একটি দরজা খোলা থাকবে। এ কথা শুনে জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করল­ জাহান্নামের এই শাস্তিবাণী কি তখনো প্রযোজ্য যখন মা-বাবা এই ব্যক্তির প্রতি জুলুম করে। তবু মা-বাবার অবাধ্যতার কারণে সন্তান জাহান্নামে যাবে। এর সারমর্ম এই, মা-বাবার কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের অধিকার সন্তানের নেই। তারা জুলুম করলে সন্তান সেবাযত্ন ও আনুগত্যের হাত গুটিয়ে নিতে পারে না। (বায়হাকি শোয়াবুল ঈমান)।

যে মা গর্ভধারণের কষ্ট সহ্য করলেন, কষ্ট করে লালন-পালন করে বড় করে তুললেন, যে বাবা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অর্থ উপার্জন করে সন্তানের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন মিটালেন, আজকাল দেখা যায়, তারা কখনো কখনো সন্তানের অসহ্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই আজকের সভ্য সমাজে বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করা হয়েছে। আর অসভ্য ও বর্বর সন্তানেরা তাদের মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে এসে স্ত্রী-পুত্র নিয়ে সুখে বসবাস করে বাড়িতে।

কী নিষ্ঠুর অমানবিকতা! মা-বাবার কাছে এর চেয়ে দুঃখ ও কষ্টের আর কী হতে পারে? যে সন্তানের জন্য মা তার রাতের ঘুম হারাম করেছেন, আর বাবা তার শরীরের রক্ত পানি করেছেন, তাদের জীবনের একি মূল্যায়ন!

আজকের সভ্য সমাজের সন্তানদের রাসূলের দু’টি হাদিসের দিকে দৃষ্টি দেয়া উচিত। ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত­ রাসূল সাঃ বলেন, যে সেবাযত্নকারী পুত্র মা-বাবার দিকে দয়া ও ভালোবাসাসহকারে দৃষ্টিপাত করে, তার প্রত্যেক দৃষ্টির বিনিময়ে সে একটি মকবুল হজের সওয়াব পায়। লোকেরা আরজ করল­ সে যদি দিনে ১০০ বার এভাবে দৃষ্টিপাত করে? তিনি বললেন, হঁ্যা, ১০০ বার দৃষ্টিপাত করলেও প্রত্যেক দৃষ্টির বিনিময়ে এই সওয়াব পেতে থাকবে। (বায়হাকি)

মা-বাবা যাদের জীবিত আছেন তাদের উচিত মা-বাবার প্রতি সুদৃষ্টি দেয়া এবং তাদেরকে সব সময় খুশি রাখা। তাদের প্রতি খারাপ আচরণ না করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং মা-বাবার সাথে সদাচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিয়ো না। আর তাদের সাথে সম্মানজনকভাবে কথা বলো। (বনি ইসরাইলঃ ২৩)

মা-বাবা সন্তানের জন্য দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানের জন্য রহমতস্বরূপ। যে সন্তান মা-বাবার সন্তুষ্টি অর্জন করতে ব্যর্থ হলো তার চেয়ে দুর্ভাগা এ ধরায় আর কে হতে পারে? হজরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত­ নবী সাঃ বলেন, ওই ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, ওই ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, ওই ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, যে তার মা-বাবা উভয়কে অথবা উভয়ের একজনকে বৃদ্ধ অবস্থায় পেয়েও (তাদের সেবা করে) বেহেশতে যেতে পারল না। (মুসলিম)

স্কার্ভিরোগ প্রতিরোধে টক খাবার

স্কার্ভিরোগ প্রতিরোধে টক খাবার

টক খাবারের গুণের কথা না জানলেই নয়। সত্যি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এর কোনো তুলনা নেই। দেহের ত্বক নিুস্থ তন্তু, তরুণাস্থি, হাড় ও দাঁতের কোষ মধ্যস্থ উপাদান এবং কোলাজেন তন্তু তৈরিতে, রক্তের আয়রন শোষণ করাতে, ফলিক অ্যাসিডের কার্যকর আকার রূপান্তরকরণে টক খাবারের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আর তাই তো প্রতিদিন অপরিমিত টক খাবার খেলে দেখা দেয় ‘স্কার্ভি’ নামক এক ধরনের ঘাতক রোগ।

শিশুদের স্কার্ভি হলে­

তাদের দেখতে ফ্যাকাসে মনে হয়

নিস্তেজ ভাব দেখায়

কিছুই খেতে চায় না

শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়

হাত-পা ফুলে গিয়ে তীব্র রূপে বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে যা স্পর্শ করলেই তারা কাঁদতে শুরু করে।

বড়দের স্কার্ভি হলে­

দাঁতের মাঢ়ি ফুলে যায়

মাঢ়ি দিয়ে রক্ত ঝরে

রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়

শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে

পাইরিয়ার মতো দাঁতের সংক্রমণ হয়

স্কার্ভি ছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে টক খাবার না খেলে শরীরে সংক্রমণের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়, হাড়গুলোর ভঙ্গুরতা বেড়ে যায়, যা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং দেহের ক্ষতস্থানের আরোগ্য লাভে বিলম্ব হয়।

হয়তো মনে প্রশ্ন জাগবে­ এতে এমন কী রয়েছে? হঁ্যা, সাধারণত টক জাতীয় খাদ্যে থাকে ভিটামিন সি, যার দৈনিক চাহিদা পূর্ণবয়স্কদের ৪০ মিলিগ্রাম এবং স্তন্যদানকারীর ৮০ মিলিগ্রাম। তবে এসপিরিন, স্টেরয়েড ও টেট্রাসাইক্লিন জাতীয় ওষুধ নিয়মিত খেলে, আঘাত পেলে, পুড়ে গেলে, শরীরে কোনো সংক্রমণ হলে এবং ধূমপান করলে এ চাহিদা বেড়ে যায়। এ জাতীয় খাবারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আমলকী, পেয়ারা, লেবু, কমলা, টমেটো যেগুলোর ১০০ গ্রামে যথাক্রমে রয়েছে ৬০০, ২১২, ৬৩, ৩০, ২৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

বাংলা ভাষায় আল-কুরআনের বঙ্গানুবাদ

বাংলা ভাষায় আলকুরআনের বঙ্গানুবাদ

ভারতীয় উপমহাদেশে শাহ ওয়ালীউল্লাহ (১৭০৩-১৭৬২) সর্বপ্রথম ফারসিতে কুরআনের অনুবাদ করেন। ১৭৭৬ সালে শাহ রফিউদ্দিন (১৭৪৯-১৮১৭) ও ১৭৮০ সালে শাহ আবদুল কাদির (১৭৫৩-১৮২৭) উর্দু ভাষায় কুরআনের অনুবাদ করেন। শাহ রফিউদ্দিনের অনুবাদটি ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে এবং শাহ আবদুল কাদিরের অনুবাদটি ১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে মুদ্রিত হয়ে প্রকাশ পায়। এসব তাফসির কালক্রমে বাংলাদেশেও জনপ্রিয়তা লাভ করে। (পবিত্র কুরআন প্রচারের ইতিহাস, পৃ.-১৫) আধুনিক গবেষণায় দেখা যায় যে, বলা যায় যে, বাংলাদেশে ইসলামের আবির্ভাব ঘটে খলিফা হারুনুর রশীদ (৭৮৬-৮০৯)-এর সময়ে এবং ক্রমান্বয়ে ইসলামের বিস্তৃতি ঘটে। এ সময় কুরআনে বাণী মৌখিকভাবে প্রচারিত হতো। মুসলিমগণ অচিরেই বাংলা ও সাহিত্যের উন্নতিতে মনোনিবেশ করেন। এ সময় শাহ মুহাম্মদ সগীর (১৩৮৯-১৪১০ খ্রি.) ইউসুফ জুলেখা কাব্যে সুরা ইউসুফের অর্থের অনুবাদ করেন। সৈয়দ সুলতানের ‘কোরানের কতা সব লিক্ষি লইলা সার’ এই বক্তব্যের আকাঙ্ক্ষা থেকে সপ্তদশ শতাব্দীর কবি আবুদল হাকিম (১৬২০-১৬৯০) ‘নুরনামা’ কাব্য রচনা করেন। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর মুসলমানদের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সাথে সাথে ধর্মীয় বিপর্যয় দেখা দেয়। ফলে মুসলমানদের এহেন খ্রিষ্টান মিশনারীদের অপতত্পরতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। আলিম সমাজও সোচ্চার হয়ে সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন। হাজী শরিয়াতুল্লাহ (১৭৬৪-১৮৪০); মাওলানা ইমামুদ্দীন (১৭৮৮-১৮৫৯); মাওলানা সুফি নূর মোহাম্মদ (১৭৯০-১৮৬১ আনু:) এবং মাওলানা কারামত আলী (১৮০০-১৮৭৩) প্রমুখ এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। আরবি ও ফারসি ভাষায় ব্যুত্পত্তি সম্পন্ন এসব আলিম বাংলা ভাষায় কোনো পুস্তক রচনায় অবদান রাখতে সক্ষম হননি। আর তখনও বাংলা মুদ্রণযন্ত্রের প্রচলন হয়নি। বাংলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুবাদে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উদ্যোগে সর্বপ্রথম ১৭৭৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলা মুদ্রণযন্ত্রের প্রচলন হয়। তখন থেকে বাংলা ভাষায় গ্রন্থ প্রকাশ শুরু হয়। ১৮১৫ সালের পর বাঙালি মুসলমানগণ মুদ্রণযন্ত্র স্থাপন করেন। মুনশী হেদায়েতুল্লাহ ও মুনশী সৈয়দ আবদুল্লাহ এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বস্তুত এ সময়টি ছিল বাংলাভাষার ক্রান্তিকাল। এ অবস্থার মধ্য দিয়ে বাঙালি মুসলমানদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটান কলকাতার মির্জাপুরের পাটোয়ার বাগানের অধিবাসী আকবর আলি। দোভাষী পুঁথির ভাষায় রচিত পবিত্র কুরআনের আমপারা ও সুরা ফাতিহার বঙ্গানুবাদ প্রকাশ করেন। অবশ্য এটি ছিল শাহ আবদুল কাদিরের উর্দু তাফসিরের বঙ্গানুবাদ। (ঐ, পৃ:-১৭-১৮)

১৮০৮ অথবা ১৮০৯ সালে রংপুর নিবাসী আমিরুদ্দীন বসুনিয়া কুরআনের শেষ খণ্ড আমপারার অনুবাদ করেন।

এরপর ১৮৭৯ সালে কুরআনের প্রথম পারার বঙ্গানুবাদ করেন অমুসলিম রাজেন্দ্রনাথ মিত্র। গিরিশচন্দ্র সেনের তিন বছর আগে ১৬ পৃষ্ঠার এই অনুবাদ কর্মটি কলকাতার আয়ুর্বেদ প্রেস থেকে মুদ্রিত হয়। অনুবাদক নিজেই এ পুস্তকটির প্রকাশনার দায়িত্ব নেন। প্রথম মুদ্রণে ৫০০ কপি প্রকাশ করার পর এ কাজে বোধ হয় তিনি আর অগ্রসর হননি। ১৮৮৫ সালে ব্রাহ্মধর্মের নববিধান মণ্ডলীর ধর্মপ্রচারক গিরিশচন্দ্র সেন বাংলাভাষায় কুরআনের সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ ও সম্পূর্ণ অনুবাদ করেন। বঙ্গানুবাদটির রচনা, মুদ্রণ ও প্রকাশিত হয় ১৮৮১ সালের শেষাংশ থেকে ১৮৮৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই পৌনে চার বছরের মধ্যে। (আহমাদ, বাংলা মুসলিম গ্রন্থপঞ্জী, পৃ. ৩৮৬) গিরিশচন্দ্রের অনুবাদটিতে ব্রাহ্মধর্মের প্রচারনীতি, কুরআনি বিজ্ঞানের অপরিপক্কতা লক্ষ্য করা যায়। এ কারণে তার অনুবাদটি মুসলমানদের মাঝে জনপ্রিয়তা তো অর্জন করতে পারেইনি তবে শতবর্ষ পরে একথা বলা যায় যে, তার অনুবাদ কর্মটি মুসলমান আলিমদের মাঝে একপ্রকার আত্মবিশ্বাসের অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। গিরিশচন্দ্রের বঙ্গানুবাদের দুই বছরের মাথায় ১৮৮৭ সালে মুসলিম আলিম নইমূদ্দীনের অনুবাদ প্রকাশিত হয়।

পেনক্রিয়াটাইটিস ও পেটে ব্যথা

পেনক্রিয়াটাইটিস ও পেটে ব্যথা

প্যানক্রিয়াটাইটিস হলো প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ। এটি দেখতে অনেকটা আমপাতার মতো এবং লম্বালম্বিভাবে ওপরের পেটে এর অবস্থান। অগ্ন্যাশয় ইনসুলিনসহ বিভিন্ন প্রকার হরমোন ও এনজাইম তৈরি করে যা কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও প্রোটিন জাতীয় খাবার ডাইজেস্ট বা হজম করতে সাহায্য করে। এটাতে প্রদাহ ছাড়া পাথর, সিস্ট, নিউমার অ্যাবসেস ইত্যাদি রোগ দেখা যায়। প্যানক্রিয়াস গ্রিক শব্দ, যার অর্থ অগ্নি বা আগুন অর্থাৎ এই প্যানক্রিয়াস (এর টিউমার বা প্রদাহ) এমনই একটি অঙ্গ যার প্রদাহ নিঃসৃত হরমোন বা এনজাইম আশপাশের সব কিছুকে ধ্বংস করে দেয়। তা ছাড়া এর অবস্থানগত কারণেও প্যানক্রিয়াসকে সহজে সার্জনেরা অপারেশন করতে চান না।

কেন পেনক্রিয়াটাইটিস হয়ঃ পিত্তে পাথর বা পিত্তনালীতে পাথর, ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসজনিত কারণে, আঘাতজনিত কারণে, পেটে অপারেশনজনিত কারণে ও অ্যালকোহল পান ইত্যাদি।

লক্ষণঃ সাধারণত তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার পর পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হয়, রোগী নামাজের ভঙ্গিতে বসে গড়গড়া করে, বমিভাব বা বমি হতে পারে এবং পেট তুলনামূলকভাবে নরম থাকে।

ইনভেস্টিগেশনঃ পেটের ী-ৎধু, পেটের ঁংম ও রক্তের এমাইলেজ যা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

চিকিৎসাঃ রোগীকে জরুরিভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে, মুখে খাওয়াদাওয়া বন্ধ রেখে স্যালাইন দিতে হবে, সেই সাথে ব্যথানাশক ওষুধ ও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দিতে হবে, জটিলতা সৃষ্টি হলে অপারেশনও লাগতে পারে।

সঠিকভাবে ও সময়মতো চিকিৎসা না হলে বিভিন্ন প্রকার জটিলতা দেখা দিতে পারে।

কী কী জটিলতা হতে পারেঃ সিউডো-পেনক্রিয়াটিক লিস্ট, পেনক্রিয়াটিক অ্যাবসেস এবং বিভিন্ন প্রকার অর্গান ফেইলিওর হয়ে রোগী মারা যেতে পারে।

দৈনন্দিন জীবনে আদব ও শিষ্টাচার

দৈনন্দিন জীবনে আদব শিষ্টাচার

জীবনের প্রতিটি কাজ একটি আদর্শ বা মান অনুসারে পরিচালিত হওয়াকে আদব বা শিষ্টাচার বলে। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাই আমাদের আদব বা রীতিনীতি, নিয়মনীতি অনুসারে চলতে হয়। আদব বা শৃঙ্খলা অনুসারে চললে সমাজে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিটি কাজে তার আদব বা নির্দেশনা অনুসারে না চললে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। আদব বা শিষ্টাচারের সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ হলেন মহানবী সাঃ। আল্লাহ্‌ বলেন, ‘হে নবী! নিশ্চয়ই আপনি মহান চারিত্রিক আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন।’ (আল ক্বলম- ৪)।

শিষ্টাচার বিষয়ে আল কুরআনঃ আদব-কায়দা ও শিষ্টাচারের শিক্ষা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন­ ‘আপনি উদারতা ও ক্ষমার নীতি প্রয়োগ করুন এবং সৎকাজের আদেশ দান করুন। আর মুর্খদের থেকে দূরে থাকুন’ (আল আরাফ-১৯৯)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, ‘ভালো মন্দ কখনো সমান হতে পারে না। উৎকৃষ্ট পন্থায় তোমরা একটি মন্দ ব্যবহারের জবাব দাও। তাহলে দেখবে যার সাথে তোমার চরম শত্রুতা রয়েছে সেও পরম বন্ধু হিসেবেই আবির্ভূত হবে। এ চরিত্র তারাই লাভ করে যারা ধৈর্যশীল এবং তারাই এ চরিত্রের বৈশিষ্ট্য লাভে ধন্য হয়, যারা ভাগ্যবান’ (ফুসসিলাত/হামিম আস্‌ সাজদাহ-৩৪/৩৫)। মুমিনদের প্রশংসায় আল্লাহ আরো বলেন, ‘যারা সচ্ছলতা ও অভাবের সময় ব্যয় করে ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে, আল্লাহ্‌ এমন চরিত্রের লোকদের পছন্দ করেন’ (সূরা আলে ইমরান-১৩৪)।

শিষ্টাচার বিষয়ে আল হাদিসঃ রাসূল সাঃ বলেন, ‘অর্থাৎ আমি উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা প্রদানের জন্য প্রেরিত হয়েছি’। হজরত আয়েশা রাঃ-কে রাসূল সাঃ-এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তরে বলেন, ‘তার চরিত্র হলো সাক্ষাৎ কুরআন’ (মুসলিম)। হজরত আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে ওমর রাঃ বর্ণনা করেন, নবী সাঃ চারিত্রিক ও মৌখিক অশ্লীলতা হতে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন। তিনি প্রায়ই বলতেন, ‘তোমাদের মধ্যে তারাই উত্তম, যাদের চরিত্র উত্তম’ (বুখারি-মুসলিম)। হজরত আনাস ইবনে মালেক রাঃ বলেন, ‘রাসূল সাঃ কাউকে গালি দিতেন না, অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করতেন না এবং কাউকে অভিশাপ দিতেন না। কাউকে তিরস্কার করতে হলে শুধু এটুকু বলতেন, তার কী হয়েছে। তার কপাল ধুলায় ধূসরিত হোক’ (বুখারি)। হজরত আনাস রাঃ আরো বলেন, ‘আমি দীর্ঘ দশ বছর রাসূল সাঃ-এর সেবায় নিয়োজিত ছিলাম। এ দীর্ঘ সময়ে তিনি কখনো ‘উহ’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি। এমনকি তিনি কখনো বলেননি, তুমি কেন এটা করেছ বা এটা কেন করোনি? (বুখারি ও মুসলিম)।

শিষ্টাচারের বৈশিষ্ট্যঃ সম্ভাষণঃ দৈনন্দিন জীবনের আদব বা শিষ্টাচারের আলোচনায় প্রথমে আসে পরস্পরকে সম্ভাষণের বিষয়টি। তাই সালামের ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হয়। খুশি মনে সালামের জবাব দেয়াও সবার কর্তব্য। ইসলামে পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেয়ার বিধান রয়েছে। সুযোগ পেলে মুসাফা করা এবং অবস্থার কথা জিজ্ঞেস করে পরিবারের লোকদেরও খোঁজখবর নেয়ার প্রচলন রয়েছে। সালামের ব্যাপারে বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্ন রীতি প্রচলিত আছে। কিন্তু ইসলামের সালাম আদান-প্রদানের মতো উত্তম সম্ভাষণ আর হতে পারে না। রাসূল সাঃ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রথমে সালাম দেয়, আল্লাহ্‌র নিকট লোকদের মধ্যে সেই উত্তম।’

উপঢৌকনঃ শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে ইসলামের অবদান অতুলনীয়। উপঢৌকন আদান-প্রদান করাও শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত। মানুষে মানুষে সম্প্রীতি গড়ে তোলার জন্য এটি অন্যতম মাধ্যম। রাসূল সাঃ এ ব্যাপারে উৎসাহ দিয়ে বলেন, তোমরা একে অপরকে উপঢৌকন দাও এবং ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হও। (আল হাদিস)

প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডঃ মানুষের সাথে ওঠা-বসা, পানাহার, বসবাস ও সহাবস্থান সমাজ জীবনের মৌলিক উপাদান। এসব প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে শিষ্টাচার ও রুচির পরিচয় লাভ করা যায় রাসূল সাঃ-এর মহান জীবনাচার থেকে। হাঁ করে হাঁচি দেয়া, হাই তোলা, মুখের দৃষ্টিকটু ভঙ্গি ইত্যাদি পরিহার করার ব্যাপারে রাসূল সাঃ নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। হজরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত­ ‘যখন নবী করিম সাঃ হাঁচি দিতেন, তিনি তাঁর মুখমণ্ডলে হস্ত বা বস্ত্র দ্বারা আবৃত করতেন এবং তদ্বারা তাঁর স্বর বন্ধ করতেন’ (তিরমিজি)। হা হা করে বিকট আওয়াজে অট্টহাসি, চিৎকার, হৈহল্লা ইত্যাদি কোনো রুচির পরিচয় নয়। বিপরীত পক্ষে মৃদু বা মুচকি হাসি অথবা নিঃশব্দ হাসি অপরের মনেও আনন্দ দেয় ও ভালোবাসার জন্ম দেয়। হজরত আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত ‘আমি রাসূল সাঃ-কে অট্টহাসি করতে দেখিনি, যাতে তাঁর জিহ্বার তালু দেখা যায়। তিনি মৃদু হাসতেন (বুখারি)।

পরিপাটি থাকাঃ বর্তমান সমাজে একটি ভ্রান্ত ধারণার প্রচলন আছে­ ধার্মিক ব্যক্তির দৈহিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সাজ-সজ্জা বা পরিপাট্যের প্রয়োজন নেই। ইসলাম এ ধরনের অভদ্রতাকে ভদ্র ও শিষ্টাচারী করে গড়ে তোলে। হজরত আতা বিন ইছার থেকে বর্ণিত আছে যে­ ‘রাসূল সাঃ মসজিদে অবস্থানকালে একটি লোক আলুলায়িত মাথা ও দাড়ি নিয়ে সেখানে প্রবেশ করল। রাসূল সাঃ হাত দ্বারা তার দিকে ইশারা করলেন যেন সে তার মাথা ও দাড়ির কেশ বিন্যাস করে। সে ব্যক্তি তা করে ফিরে এলো। হজরত সাঃ বললেন, শয়তানের মতো তোমাদের কোনো ব্যক্তির আলুলায়িত বেশে আসার চেয়ে ইহা কি উত্তম না?’

পবিত্রতা ও লজ্জাশীলতাঃ পবিত্রতা, দয়া ইত্যাদি শিষ্টাচারের প্রধান বৈশিষ্ট্য। হজরত ইবনে মোছায়্যেব থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূল সাঃ-কে বলতে শুনেছেন, আল্লাহ্‌ পবিত্র, পবিত্রতা ভালোবাসেন; তিনি দয়ালু, দয়া ভালোবাসেন; তিনি মুক্ত, মুক্তহস্তকে ভালোবাসেন। সুতরাং তোমাদের পাত্রকে পরিষ্কার করো এবং ইহুদিদের অনুসরণ করো না।’ লজ্জাশীলতা সভ্যতা ও মার্জিত রুচির পরিচায়ক! রাসূল সাঃ ছিলেন লজ্জাশীলতার মূর্ত প্রতীক। তিনি বলেন, ‘লজ্জাশীলতা ঈমানের অঙ্গ।’ (বুখারি)।

সর্বসাধারণের সাথে ব্যবহারঃ প্রার্থনাকারীকে বিমুখ করা শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ। এ ব্যাপারে হজরত জাবের রাঃ-এর বর্ণিত হাদিস প্রাণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, ‘নবী করিম সাঃ কোনো প্রার্থীকে কখনো ‘না’ বলেননি’ (বুখারি, মুসলিম)। ছোটদের স্নেহ ও বড়দের শ্রদ্ধা করা ইসলামী আদব, আল্লাহ্‌র রাসূল সাঃ বলেন, ‘যে ব্যক্তি ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান করে না সে আমাদের দলভুক্ত নয়’ (বুখারি)।

একজন বিশ্বাসীর জীবনাচারঃ ইসলামে শিষ্টাচার বা আদবকে ঈমানের অংশ বলা হয়েছে। ইসলাম পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক পার্থক্যকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং জীবনযাপনের বিভিন্ন পর্যায়ে সার্বজনীন শিষ্টাচার বা আদব-কায়দার সাধারণ মূলনীতির নির্দেশনা দিয়েছে। মানুষের সেবা করা আমাদের মিশনারি দায়িত্ব। সেবদানের ব্যাপারে তাই সমাজের সবার মধ্যে টিম স্পিরিট সৃষ্টি করতে হবে। ইসলাম হলো সেবা প্রদানকারী ইন্ডাস্ট্রির নাম। সুতরাং আমাদের প্রতিযোগিতামূলকভাবে, যোগ্যতার মাধ্যমে, দ্রুততা ও দক্ষতার সাথে জনসেবা করা উচিত। সর্বোত্তম ব্যবহার, বিনয়ী চরিত্র, ব্যক্তিত্ব, আনুগত্য, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সুসম্পর্কের মাধ্যমে সেবাদান নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্ব ও কর্তব্যের ব্যাপারে সদা সচেতন থাকতে হবে।

প্রতিটি সৎ কাজই সাদকাঃ হজরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী করিম সাঃ বলেছেন­ প্রতিটি সৎ কাজই সাদকা। হজরত আবু মুসা আশয়ারি রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করেন­ প্রত্যেক মুসলমানেরই সাদকা করা অবশ্য কর্তব্য। উপস্থিত লোকজন বলল, যদি সে সাদকা করার মতো কিছু না পায়? তিনি বললেন, সে যেন কারো সাথে খারাপ ব্যবহার না করে।

মানুষের সাথে উত্তম ব্যবহারঃ হজরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাঃ বলেন, ভালো কথা ও সাদকা করা উত্তম কাজ। নবী করিম সাঃ আরো বলেন­ তোমরা দোজখের আগুন থেকে বেঁচে থাকো, একটি খেজুর দিয়ে হলেও। যদি তা না পাও তাহলে মধুর ভাষার বিনিময়ে। মানুষের মধ্যে তিনিই সর্বোত্তম যার দ্বারা মানব কল্যাণ সাধিত হয়। সে-ই খাঁটি মানুষ যে তার ভাইকে রক্ষা করে উপস্থিত অনুপস্থিত যেকোনো অবস্থাতেই। মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে ইবাদতের জন্য আর মানুষের সেবা ও সৃষ্টির খেদমতই হলো শ্রেষ্ঠ ইবাদত। হজরত আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাঃ বলেন, ‘আল্লাহ সকল কাজে নম্রতা ভালোবাসেন’।

হাসিমুখে কথা বলা ও রাগ না করাঃ জনগণ হলেন আমাদের সর্বোত্তম বন্ধু। তাদের সাথে সব সময় হাসিমুখে কথা বলতে হবে। রাসূল সাঃ সব সময় মানুষের সাথে হাসিমুখে কথা বলতেন। সুতরাং বন্ধুত্বপূর্ণ হাসি দ্বারা সবাইকে অভ্যর্থনা দিতে হবে। একজন হাস্যোজ্জ্বল মানুষের সাথে যে কেউ কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। হজরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাঃ বলেন, এক ব্যক্তি নবী করিম সাঃ-এর নিকট আরজ করল, আপনি আমাকে অসিয়ত করুন। তিনি বললেন, তুমি রাগ করো না। লোকটি কয়েকবার তা আরজ করলে নবী করিম সাঃ প্রত্যেকবারই বললেন রাগ করো না।

সুন্দর কথা বলাঃ পৃথিবীতে যত আদর্শ প্রচারিত হয়েছে তা হয়েছে সুন্দর কথা দিয়েই, অসুন্দর কথা ও কুবচন দিয়ে কোনো আদর্শ পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সুন্দর কথা দিয়ে সহজেই মানুষের মন জয় করা যায়। শ্রেষ্ঠ মনীষীরা সুভাষী ছিলেন। সুন্দর কথার হাত, পা ও জীবন আছে। সুন্দর কথায় রোগজীবাণু ধ্বংসের ওষুধ আছে, অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা আছে। সুন্দর কথায় শর্করার শক্তি আছে, ভিটামিনের সঞ্জীবনী আছে, আমিষের পুষ্টিগুণ আছে। একটি সুন্দর কথা ভালো গাছের মতো, মাটিতে যার বদ্ধমূল শিকড়, আকাশে যার বিস্তৃত শাখা, যে গাছ অফুরন্ত ফল বিলিয়ে দেয়। শুদ্ধভাবে, গুছিয়ে ও সুস্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে হবে।

সর্বোত্তম ব্যবহারঃ জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সুমিষ্ট আচরণ ও বচন, ভদ্র ও মার্জিত রুচির পরিচায়ক। সদাচরণ মানুষকে কাছে টানে। সদাচরণের বাস্তব উদাহরণ আমাদের নবী মুহাম্মদ সাঃ, এ ব্যাপারে আল্লাহ্‌র ঘোষণা­ ‘খোদার অনুগ্রহেই হে নবী! আপনি বিনম্র হয়েছেন। অন্যথায় আপনি যদি রূঢ় ভাষা ও পাষাণ হৃদয়ের হতেন তা হলে আপনার চতুষ্পার্শ্ব হতে সব লোক ভেগে যেত। (আলে ইমরান)।

প্রতিবেশীর সাথে সদাচারঃ প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ ও ভালো ব্যবহার করা একজন মুসলমানের অন্যতম কর্তব্য। সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা উজাড় করে দিয়ে প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করা ও সদ্ভাব বজায় রাখা অপরিহার্য। রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি এটা পছন্দ করে যে, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল তাকে ভালোবাসুক, সে যেন নিজের প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করে। রাসূল সাঃ বলেছেন, ‘জিব্রাইল আমাকে প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করার জন্য এত ঘন ঘন উপদেশ দিতে থাকেন যে, আমি ভেবেছিলাম হয়তো শেষ পর্যন্ত প্রতিবেশীকে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী করা হবে।’ রাসূল সাঃ বলেন, ‘একজন মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের ছয়টি অধিকার রয়েছে। যথাঃ সালামের জবাব দেয়া, রোগীকে দেখতে যাওয়া, জানাজায় অংশগ্রহণ করা, দাওয়াত কবুল করা, ওয়াদা পূরণ করা ও হাঁচিদানকারীর জবাব দেয়া’।

পারস্পরিক এহতেসাব করাঃ কারো কোনো দোষত্রুটি পরিলক্ষিত হলে সংশোধনের উদ্দেশ্যে তাকে খোলাখুলিভাবে একান্তে বলতে হবে এবং অন্যজন নীরবে শুনে সংশোধন হয়ে যাবে। রাসূল সাঃ বলেন, এক মুমিন অপর মুমিনের জন্য আয়না স্বরূপ। আয়না যেমন দেহের দোষত্রুটি ধরে দেয় তেমনি এক ভাই অপর ভাইয়ের দোষত্রুটি ধরে দেবে।

শেষ কথাঃ ইসলাম পরামর্শমূলক ব্যবস্থাপনার কথা বলে­ কারণ সাহাবিরা পরামর্শের ভিত্তিতে তাদের জীবনের সব কাজ সমাধা করতেন। কুরআনের সূরা আহজাবের ২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে­ ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসূলের জীবনেই রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ’। সুতরাং মুসলিম মাত্রেরই উচিত জীবনের সব ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূলের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ ও অনুকরণ। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহপাঠী, কর্মক্ষেত্রে সহকর্মী, যানবাহনে সহযাত্রীসহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। আল্লাহ আমাদের উত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে সুখী ও সমৃদ্ধশালী করার তৌফিক দান করুন।

নখ দেখে রোগ নির্ণয় এবং দাঁতের যত্নে ভিটামিন

নখ দেখে রোগ নির্ণয়

কথাটি শুনে সবাই একটু অবাক হবেন­ কেন না নখ তো নখই। এটা দেখে রোগ নির্ণয়ের কী আছে। হঁ্যা, নখ শরীরের এমন একটি অংশ যা আপনাকে অগ্রিম জানিয়ে দেবে শরীরে সমস্যা বা ঘাটতির কথা।

১. চামচ আকৃতি­ আপনার নখটি যদি এই আকৃতির হয় তবে বুঝবেন আপনার শরীরে আয়রন/ভিটামিন-এ এর অভাব রয়েছে। আর এই উপাদানগুলো পাওয়া যাবে গোশত, যকৃত, গাজর, তরমুজ ইত্যাদিতে। ২. পাতলা অথবা সাদা দাগ­ এই ধরনের নখ শরীরে জিঙ্ক ঘাটতির কথা জানায়। শিম, মাশরুম, ইস্ট, মসুরডাল ইত্যাদি জাতীয় খাবারে জিঙ্ক পাবেন। জিঙ্ক নখকে মজবুত করবে এবং নখের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ৩. ভঙ্গুর নখ­ শরীরে বায়োটিনের অভাব হলে নখ ভেঙে যায়। বায়োটিন সাধারণত কলা, আঙুর, তরমুজ, লিচু ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। ৪. লম্বা বা আড়াআড়ি দাগ­ এই অবস্থায় নখ সাধারণত ভঙ্গুর হয়। কারণ তখন শরীরে ভিটামিন-বি এর অভাব দেখা যায়। গাজর, তরমুজ, বাদাম খাওয়া এ ক্ষেত্রে উপকারী। নখ ঠিক রাখার জন্য কিন্তু যেকোনো একটি ভিটামিন অতিরিক্ত খাবেন না। কারণ এর থেকেও আপনার নখ আরো ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। তাই সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন। যার মাধ্যমে শরীর থেকে নখ তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করবে।

দাঁতের যত্নে ভিটামিন

হাড়ের মতোই দাঁতের সামগ্রিক গঠন ও সুরক্ষায় ভিটামিন-ডি ও ক্যালসিয়াম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়। দাঁত ভালো রাখতে হলে মাঢ়ি ভালো রাখা প্রয়োজন। তাজা শাকসবজি, ফল, লেবু এসবে পাবেন প্রয়োজনীয় ভিটামিন। অনেকের দাঁতে হলদে ছোপ পড়ে। এর প্রধান কারণ কিছু ওষুধ। স্কার্ভি প্রতিরোধে ভিটামিন ‘সি’ খাওয়া প্রয়োজন। শরীরে ভিটামিন ‘সি’-এর পরিমাণ যথাযথ না হলে মাঢ়ি দিয়ে রক্ত পড়ে, হাড়ের গঠন ও সংযোগগুলো বিঘ্নিত হয়।

%d bloggers like this: