কে কত হাসতে পারো!!! “উনচল্লিশ”

বিশ্বাস
অঙ্কের শিক্ষক ক্লাসে বলছেন: এখন আমি তোমাদের পিথাগোরাসের তত্ত্ব প্রমাণ করে দেখাব।

হাবলু উঠে দাঁড়িয়ে বলল: প্রমাণ করার দরকার নেই, স্যার। আমরা আপনার কথা বিশ্বাস করি।

.

বাবা ও ছেলের মধ্যে কথা হচ্ছে
ছেলে : আচ্ছা বাবা, তুমি কি অন্ধকারে লিখতে পারো?

বাবা : চেষ্টা করে দেখতে হবে। তা এ কথা কেন বলছিস?
ছেলে : না, মানে আমার রিপোর্ট কার্ডে তোমার একটা স্বাক্ষর দরকার ছিল।

.

আম্পায়ার

স্বর্গ ও নরকের মধ্যে ক্রিকেট ম্যাচ হবে। তাই খুব উত্তেজনা। দুই পক্ষই যার যার দল নিয়ে খুব আশাবাদী। ঈশ্বর অবাক হয়ে শয়তানকে প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি জয়ের আশা করছ কীভাবে? সব ভালো খেলোয়াড় তো স্বর্গে আছেন।’ শয়তান মুচকি হেসে জবাব দিল, ‘তাতে সমস্যা নেই। সব আম্পায়ার তো আমারও পাশে।’

.

মেসেজে

হাবলু ও আবুলের মধ্যে কথা হচ্ছে
হাবলু : জানিস, আজ আমার মোবাইল ফোনে অদ্ভুত একটি মেসেজ এসেছে। আর সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইলটা বন্ধ হয়ে গেছে।
আবুল : বলিস কী রে! মেসেজে কী লেখা ছিল?
হাবলু : ব্যাটারি লো।
বাবলু : বলিস কী? মেসেজটা তাড়াতাড়ি আমাকে পাঠিয়ে দে। আমি ওই মেসেজ সবাইকে পাঠিয়ে সবার মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেব।

.

হাবলু ও চিকিত্সকের মধ্যে কথা হচ্ছে

হাবলু : স্যার, আমি বাসার চাবি গিলে ফেলেছি।
ডাক্তার : বলেন কী! কখন এ ঘটনা ঘটালেন?
হাবলু : তা প্রায় মাস দুয়েক হবে।
ডাক্তার : এত দিন আসেননি কেন?
হাবলু : স্যার, তখন একটি নকল চাবি বানিয়ে নিয়েছিলাম। আজ সেটাও হারিয়ে গেছে, তাই বাধ্য হয়ে আপনার শরণাপন্ন হয়েছি।

Advertisements

সুস্থতার জন্য ইসলামে স্বাস্থ্য নির্দেশনা

ইসলামে মানবজীবনের সামগ্রিক দিক পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথভাবে আলোচিত হয়েছে। একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় সম্পর্কেও ইসলামের সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য ও চিকিত্সা সম্পর্কেও ইসলামে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। ইসলাম প্রথমত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। সতর্কতা সত্ত্বেও কোনো রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হয়ে গেলে এর সুচিকিত্সা নিশ্চিত করার প্রতিও রয়েছে জোরালো তাগিদ।
কোরআন-সুন্নাহর আলোকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। সবলতা ও সুস্থতাই ইসলামে কাম্য। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের সত্তা শক্তির আধার। তাঁর শক্তি অসীম ও অতুলনীয়। সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী মহান প্রভুর নিপুণ সৃষ্টিরাজিতেও শক্তির সঞ্চার করেছেন। তাঁর ওহির বাহক হজরত জিব্রাইল (আ.) এর শক্তির প্রশংসা তিনি নিজেই করেছেন। যে নবীর ওপর তাঁর পবিত্র কালাম অবতীর্ণ হয়েছে, তাঁকেও দান করেছিলেন বিশাল শক্তি। একশ’ পুরুষের যে শক্তি, এককভাবে আল্লাহতায়ালা তাঁর নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে তা দান করেছিলেন। এর দ্বারা আল্লাহ কাছে তাঁর অন্যতম গুণ শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। এ জন্য রাসুল (সা.) হাদিসে এরশাদ করেছেন, ‘যে ঈমানদার ব্যক্তির শারীরিক শক্তি আছে, তিনি শ্রেষ্ঠ ও আল্লাহর নিকট প্রিয় সে মুমিন অপেক্ষায় যে দুর্বল, শক্তিহীন, যার শারীরিক শক্তি কম।’ কারণ ইবাদত করার জন্য শারীরিক শক্তি প্রয়োজন। তার পথে সংগ্রাম করার জন্য শক্তি প্রয়োজন। শারীরিক শক্তি আল্লাহতায়ালার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। হাদিস শরীফে রাসুল (সা.) পাঁচটি অমূল্য সম্পদ হারানোর আগে এগুলোর মূল্যায়ন করার কথা বলেছেন। এর অন্যতম হচ্ছে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা। যথাযথ বিশ্রাম না নিলে মানবদেহ স্বভাবতই দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে বার্ধক্য আসার আগেই বার্ধক্যের কোলে ঢলে পড়তে হয় এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে নিশ্চিত মৃত্যুমুখে পতিত হতে হয়। কারণ মানবদেহ একটি ইঞ্জিন বা যন্ত্রের মতো। একটানা কোনো ইঞ্জিন চলতে থাকলে সেটা যেমন খুব দ্রুত অকার্যকর হয়ে পড়ে, তেমনি মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্রাম না হলেও তা দ্রুত অকর্মণ্য হয়ে পড়ে। এক সাহাবি দিনভর রোজা রাখতেন আর রাতভর নামাজ পড়তেন। রাসুল (সা.) তাকে সতর্ক করে দিয়ে বললেন, ‘নিশ্চয় তোমার ওপর তোমার শরীরের হক আছে।’ স্বাস্থ্য রক্ষা করা শরিয়তের তাগিদ। এটাকে যথেচ্ছ ব্যবহার করা যাবে না। শরয়ী আইনের অন্যতম টার্গেট হচ্ছে মানুষের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা। কোরআন-সুন্নাহ এবং ইসলামী শরিয়ত স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য যেমন গুরুত্ব দিয়েছে, তেমনি তা কার্যকরের ফলপ্রসূ উপায় বলে দিয়েছে। যেমন নেশাজাতীয় দ্রব্য হারাম করা, পরিমিত আহার, সময়ানুগ খাবার গ্রহণ ইত্যাদি। কাজেই স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সচেষ্ট হওয়া ঈমান ও বিশ্বাসের দাবি।

স্বাস্থ্য রক্ষার পরপরই ইসলাম রোগ প্রতিরোধের প্রতি জোর তাগিদ দিয়েছে। রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণ করতে উত্সাহিত করেছে। আধুনিক চিকিত্সা বিজ্ঞানের স্লোগান হচ্ছে চত্বাবহংরড়হ রং নবঃঃবত্ ঃযধহ পঁত্ব (চিকিত্সার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ উত্তম)। আমরা দেখতে পাই যে জিনিসগুলোর কারণে মানুষের রোগ জন্ম নেয়, ইসলাম আগেই সেগুলোকে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। হাদিসের প্রায় সব কিতাবেই একটি অধ্যায় আছে ‘কিতাবুত তিব’ বা চিকিত্সা অধ্যায়। সেগুলোতে চিকিত্সা ও স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা আলোচিত হয়েছে।
মানুষের রোগ হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো মানুষের অলসতা ও কর্মবিমুখতা। রাসুল (সা.) দোয়া করেছেন ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে অলসতা হতে পানাহ চাই।’ উচ্চ রক্তচাপ, ব্লাড প্রেসার, ডায়বেটিস, শ্বাসজনিত প্রদাহ—এসব রোগের প্রধান উত্স মূলত আলস্য ও কর্মবিমুখতা। অতি ভোজনও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পেটকে সব রোগের কেন্দ্রস্থল হিসেবে হাদিসে আখ্যা দেয়া হয়েছে। ইসলামের নির্দেশনা হচ্ছে, যখন ক্ষুধা পাবে কেবল তখনই খাবে। কোরআন মজিদে এরশাদ হচ্ছে ‘খাও, পান করো কিন্তু অতিরিক্ত করো না।’ হাদিসে রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘তোমরা উদরপূর্তি করে ভোজন করো না, কেননা তাতে তোমাদের অন্তরে আল্লাহ পাকের আলো নিষপ্রভ হয়ে যাবে।’ একথা সর্বস্বীকৃত যে, দেহের ক্ষয় পূরণের জন্য ও তার উন্নতির জন্যই আমরা আহার করে থাকি। তবে এ আহার করারও একটি স্বাস্থ্যসম্মত নীতি রয়েছে। যে নীতিমালা লঙ্ঘিত হলে সে আহারই শরীরের ক্ষয় পূরণের পরিবর্তে তাতে বরং ঘাটতি এনে দেবে। শরীরে জন্ম নেবে নানা রোগের উপকরণ। মহানবী (সা.) এর সবক’টি সুন্নাতই বিজ্ঞানভিত্তিক ও স্বাস্থ্যসম্মত। কেউ যদি ঘুম থেকে জাগা, পানাহার, চাল-চলন, মলমূত্র ত্যাগসহ যাবতীয় কার্যাবলি সুন্নাত অনুযায়ী সম্পাদন করেন, তাহলে জটিল রোগের ঝুঁকি থেকে তিনি মুক্ত থাকতে পারবেন। যেমন—মাটির ঢিলা ব্যবহার, হাঁচি ও হাই তোলার সময় নাক ঢেকে রাখা, মেসওয়াক করা, রাগ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য খুবই সহায়ক। তাছাড়া রোগ-ব্যাধি ছড়ানোর বড় কারণ হচ্ছে অপরিষ্কার ও নোংরা পরিবেশ। পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের প্রতি ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।’ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এমন কোনো কাজই ইসলামে স্বীকৃত নয়। এ জন্য ইসলামসম্মত পরিবেশ গড়ে তুলতে পারলে রোগ-বালাই থেকে রক্ষা পাওয়া সহজতর হয়। সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার পরও যদি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে, তবে তার করণীয়ও ইসলাম নির্দেশ করেছে। একজন মুসলিম নিজে বা তার পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে প্রথমে সে আল্লাহর রহমত প্রত্যাশা করবে। আল্লাহ রোগ দিয়েছেন তিনিই সুস্থতা দান করবেন—এ বিশ্বাস সুদৃঢ় করতে হবে। তবে আল্লাহর ওপর ভরসার পাশাপাশি ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করাও ইসলামের শিক্ষা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা চিকিত্সা করো। কারণ যিনি রোগ দিয়েছেন তিনি তাঁর প্রতিকারের জন্য ওষুধের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’ এক ব্যক্তি মহানবী (সা.)-কে প্রশ্ন করেন যে হে আল্লাহর রাসুল! আমরা রোগ হলে চিকিত্সা করি, তা কি তাকদির পরিপন্থী নয়? উত্তরে তিনি বললেন—না, চিকিত্সা গ্রহণ করাই হলো তাকদির। রাসুল (সা.) রোগের প্রতিষেধক হিসেবে মধুর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। গবেষণা করে দেখা গেছে, একমাত্র মধুর ব্যবহারেই হাজারো রকমের কঠিন ও জটিল রোগ থেকে অতি অল্প সময়েই আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। মানবদেহের সুস্থতার জন্য যত প্রকার ভিটামিন আবশ্যক, তার ৭৫ ভাগই মধুর মধ্যে বিদ্যমান। চিকিত্সাশাস্ত্রের মতে, মধু অপেক্ষা শক্তিশালী ভিটামিনযুক্ত পদার্থ পৃথিবীতে সৃষ্টি হয়নি।
স্বাস্থ্য ও চিকিত্সা সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ। ইসলামের এই নির্দেশনা মতো চললে ইহ ও পারলৌকিক সফলতা অবশ্যম্ভাবী। ইসলাম যে স্বাস্থ্য নির্দেশনা দিয়েছে তা পালন করলে একজন মুসলমান অনেক জটিল রোগ-ব্যাধি থেকে বেঁচে যেতে পারে।

গরমে শিশুর বাড়তি যত্ন

ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদল হয় আবহাওয়াও। চৈত্র পেরিয়ে কালবৈশাখীর মত্ত হাওয়া আমরা কজনই বা মানিয়ে নিতে পারি। জীবন ধারণের ক্ষেত্রে পরিবেশ অনেক বড় ভূমিকা রাখে। বড়রা যদিও কিছুটা মানিয়ে নিতে পারে পরিবর্তনশীল ঋতু প্রক্রিয়ার সঙ্গে তবে শিশুদের ক্ষেত্রে হয় নানা সমস্যা। কারণ তাদের শারীরিক অবস্থা এতটা শক্তিশালী নয় যে আবহাওয়া পরিবর্তনে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নেবে। তাই তো ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে শিশুর দেখা দেয় বিভিন্ন সমস্যা। কিছু কমন রোগ রয়েছে, যা ঋতু পরিবর্তনেরই ফল। শিশুরা সহজেই আক্রান্ত হয় এমন কিছু রোগ ও এর প্রতিরোধ সম্পর্কে জানাচ্ছেন আফরিন জাহান।
তাপমাত্রা, বাতাসের আর্দ্রতার হঠাত্ পরিবর্তন অনেক সময়ই শিশুদের শরীর মানিয়ে নিতে পারে না। ফলে আক্রান্ত হয় বিভিন্ন অসুখে। তা ছাড়া এই হঠাত্ পরিবর্তন বাতাসে ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাসদের বেড়ে উঠতে সহায়তা করে। তাই এ সময়ে শিশুর চট করে ঠাণ্ডা লাগে, কাশি হয়, গায়ে র্যাশ বের হওয়া ছাড়াও আরও কিছু রোগ দেখা দিতে পারে।
যেমন—
জ্বর : এ সময়ে শিশুদের ভাইরাসজনিত জ্বর হতে পারে। এ জ্বর থাকে ৫-৭ দিন। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় বোঝা যায় না শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া উচিত কি না। ফলে জ্বর ১০০ ডিগ্রি হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়াতে পারেন। এ সময়ে শিশুকে গায়ে সুতার পাতলা জামাকাপড় পরাবেন। ঘরের ফ্যান চালিয়ে রাখুন। জ্বর বেশি হলে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।
কাশি : অনেক সময় কাশি হলে বোঝা যায় না এটার কারণ কী। তাই অল্প কাশি হলে দু-এক দিন হালকা গরম পানি দিয়ে শিশুকে গার্গিল করান। সঙ্গে নাক-গলা বন্ধ হয়ে গেলে স্টিম নিতে বলতে পারেন। আর এতেও যদি কাজ না হয় তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
র্যাশ : বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস শিশুর শরীরে র্যাশ তৈরি করতে পারে। মনে রাখবেন র্যাশ মানেই হাম বা চিকেন ফক্স নয়। র্যাশে ত্বক চুলকালে প্রথমে শিশুকে অ্যান্টিঅ্যালার্জিক খাওয়াতে পারেন। কাজ না হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে—
* এই গরমে শিশুর গায়ে বেশি জামাকাপড় পরাবেন না, এতে গায়ে ঘাম বসে অন্য সমস্যাও হতে পারে।
* শিশুকে প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়ান।

* মৌসুমি ফল যেমন—আপেল, শসা, তরমুজ, আঙুর, বাঙ্গি এ সময়ে খাওয়ানো খুবই ভালো।

* শিশু সংক্রামক রোগে ভুগলে এই সময় তার শরীরে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কমে যায়। সে ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে প্রচণ্ড রোদ ও ধুলোময়লা থেকে দূরে রাখতে। দোকান ও বাজারে নিয়ে যাবেন না। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।

* আর অবশ্যই শিশুকে ৬টি রোগ প্রতিষেধক টিকা দিয়ে নিন।
সুতরাং আপনার সন্তানের সুস্থতা নির্ভর করে আপনার ওপর। তাই এ সময়ে তার প্রতি বাড়তি যত্ন নিন।

রাসুলে আকরাম (সা.) এর কাব্যবোধ

আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সা. ছিলেন নবী। তিনি কবি নন। নবী প্রত্যাদেশবাহক, জীবনব্যবস্থাপক ও মানবসমাজের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তাঁর প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, ঔদার্য ও বিবেচনাবোধ সমকালীন সমাজে তাঁকে স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত করে তুলেছিল। ভাষার বিশুদ্ধতা, সাংস্কৃতিক পরিচ্ছন্নতা ও মানবিক মূল্যবোধে তিনি ছিলেন মহিমান্বিত মহামানব। তিনি বলতেন, ‘আমি বিশুদ্ধভাষী আরব। কারণ, কোরাইশদের ভেতর আমার জন্ম। কিন্তু আমি আমার শৈশব যাপন করেছি সা’আদ বিন বকর গোত্রে।’ যে সমাজ-পরিবেশে তাঁর আবির্ভাব, সেটি ছিল কবিতার শব্দ-ছন্দ, উপমা-উেপ্রক্ষা, বাণী ও রূপকল্পে প্লাবিত। আরবদের শিক্ষা-সংস্কৃতি, জীবন-জীবিকা, ইতিহাস-ঐতিহ্য, স্বপ্ন-বাস্তবতা ও দুঃখ-বেদনার বাহন ছিল কবিতা। নবুওয়াতের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সাহাবি-কবিদের কবিতার খোঁজ-খবর রাখতেন। ভালো ও সত্ কবিতা সম্পর্কে তাঁর মনোভাব ছিল প্রসন্ন। প্রয়োজনে নিজে কবিতা আবৃত্তি করা, অন্যদের কবিতা শোনা, কবিতা আবৃত্তির নির্দেশ দেয়া, কবিদের প্রশংসা করা, তাদের জন্য দোয়া করা, পুরস্কৃত করা, কবিতার চরণ পাল্টে দেয়া, কবিতার প্রভাব ও আবেদনের স্বীকৃতি, সর্বোপরি কবিতার গঠনমূলক সমালোচনা ইত্যাদি বিষয়ে তাঁর ছিল স্বতঃস্ফূর্ত তত্পরতা। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, এমন একটি যুগে, যখন সমালোচনা-সাহিত্যের শিল্পরূপ গড়ে ওঠেনি, সমালোচনার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের রূপ-রীতি প্রণীত হয়নি, তখনই নবী সা. সমালোচনার কিছু নীতি-নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কুঁড়ি না-মেলা সমালোচনা-সাহিত্যকে এক অসাধারণ ফুটন্ত ফুলের রং-রূপ দান করছেন এবং রচনার উত্কৃষ্টতার মানদণ্ড নির্ধারণ করলেন শৈলীর জাদুময়তা ও চিন্তার ধর্মমুখিতা। রাসুলের বাণী, রচনা ও কবিতাকে নতুন করে যাচাই-পরখ করার সুযোগ করে দিলেন এবং নতুন আঙ্গিকে সমালোচনার পথ দেখালেন। সেই জাহেলি যুগেই তিনি সমালোচনা-সাহিত্যের পরিধি প্রশস্ত করলেন। কাব্য-সমালোচনায় যোগ করলেন আধুনিকতা ও নতুন মাত্রা। শুধু তাই নয়, আমরা তাঁর সমালোচনায় কিছু নতুন পরিভাষাও পাচ্ছি, যেগুলো তিনিই সর্বপ্রথম সাহিত্যের অঙ্গনে ব্যবহার করেছেন। যাতে সমালোচনা-সাহিত্য সঠিক পথে চলতে পারে। তিনিই সর্বপ্রথম প্রচলন করলেন, ‘আল-বয়ান’ শব্দটি, যা পরবর্তী যুগে আরবি ভাষার অলঙ্কারশাস্ত্রের নাম হয়ে গেছে। এছাড়াও তিনি সমালোচনার অঙ্গনে ব্যবহার করেছেন ‘বালিগ’-আলঙ্কারিক, ‘আল-উমূম, আল-ঈজাজ’—অর্থসংকোচন-অর্থসম্প্রসারণ, শব্দালঙ্কার ও অর্থালঙ্কার নির্দেশকারী বিভিন্ন পরিভাষা।

রাসুল সা. কবিতার বিচার ও মূল্যায়ন করেছেন দুটি ভিত্তি ও মানদণ্ডের ওপর। এক. ধর্মীয় মানদণ্ড, দুই. ভাষাগত (বা অলঙ্কারশাস্ত্রিক) মানদণ্ড। রাসুলের সা. সমালোচনা নিয়ে, যা তিনি কবিতা ও কবিদের সম্পর্কে করেছিলেন, আলোচনা করতে গেলে সর্বপ্রথম যা আমাদের নজরে আসে, তা হলো, ধর্মীয় দিকটি তাঁর সমালোচনার অন্যতম মূলভিত্তি ছিল। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর সমালোচনার কয়েকটি উদাহরণ হলো :
ইসলামের আবির্ভাবের আগে কবি লাবিদ বিন রবিয়ার (মৃ. ৬৬১ খ্রি.) কয়েকটি পঙিক্তর সমালোচনা করে রাসুল সা. বলেছেন, কবিরা যা বলেছেন, তার মধ্যে লাবিদের কথাটি সর্বাধিক সত্য। পঙিক্তগুলোর অর্থ এই, ধ্বংসশীল যা কিছু আছে পৃথিবীতে, আল্লাহ ছাড়া,/সুখ-ঐশ্বর্য-নেয়ামত ক্ষণস্থায়ী, সবকিছু হবে হাতছাড়া।
নাবিঘা জা’দির কিছু পঙিক্ত শুনে রাসুল সা. মুগ্ধ হলেন এবং তার জন্য দোয়া করলেন, ‘আল্লাহ তোমার মুখ বিনষ্ট না করুন’। (এ দোয়ার বরকতে তিনি ১৩০ বছর জীবিত ছিলেন, অথচ তাঁর সম্মুখভাগের দাঁত মজবুত ছিল।) পঙিক্তগুলো ছিল এই : নেই কল্যাণ সে-সহনশীলতায়,/যা দমাতে পারে না প্রিয়তমের রাগ,/কল্যাণ নেই সে-মূর্খতায়,/যদি না থাকে কোনো সহনশীল ব্যক্তি/যে ছাড়ে না কোনো কাজ, যা শুরু করে একবার।
কা’আব বিন মালিক যখন রাসুলের সামনে এই পঙিক্তদ্বয় উচ্চারণ করলেন, প্রতিরোধ করে আমাদের সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে/এমনসব বীরপুরুষ,/যাদের চকচকে ধনুকগুলো নিক্ষেপ করে তীর/যেন প্রতিপক্ষ কাপুরুষ। চরণদ্বয় শুনে রাসুল বলে ওঠলেন, ‘আমাদের সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে’ না বলে ‘আমাদের ধর্মের পক্ষ থেকে’ কি বলা যায় না? কবি উত্তর দিলেন, অবশ্যই পড়া যায়। সেই থেকে তিনি এভাবেই পড়তেন এবং আমরা প্রাচীন উত্সগ্রন্থগুলোতে ওরকমই পাই।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ ছাড়াও সাহিত্যিক ও কাব্যিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তিনি কবিতার সমালোচনা করেছেন। ভাষাগত ও অলঙ্কারশাস্ত্রীয় সমালোচনার উদাহরণও আছে কম-বেশি। সেগুলো খুব স্বল্প-সংক্ষিপ্ত হলেও, ‘বিন্দুতে সিন্ধু’র মতো সেগুলো খুবই ব্যাপক, মৌলিক ও নীতি-নির্ধারক।
যেসব গুণ থাকলে একটি কবিতা বা কথাকে যথেষ্ট সুন্দর ও উত্তীর্ণ বলা যায়, তার মধ্যে রয়েছে : বক্তব্য ও বর্ণনার বিশুদ্ধতা, সত্যের পক্ষসমর্থন, কৃত্রিম অলঙ্কার বর্জন, উপযুক্ত শব্দচয়ন ও সুঠাম বাক্যবুনন ইত্যাদি। আর এসব গুণের আলোকে রাসুল সময় সময় কিছু কথা ও কবিতার সমালোচনা করেছেন। তাই দেখা যাচ্ছে, এসব গুণসমৃদ্ধ কিছু কথা শুনেই তিনি উপর্যুক্ত দুই নীতি-নির্ধারক বক্তব্য পেশ করেছিলেন, যেখানে বলা হয়েছে, ‘কিছু কিছু কবিতা প্রজ্ঞার আধার’ এবং ‘নিশ্চয় কিছু বর্ণনা জাদুময়’।
কবিতা সম্পর্কে রাসুলের সমালোচনা-পর্যালোচনা খুবই সংক্ষিপ্ত, তবে সন্তোষজনক ও সর্বদিকপ্লাবী। যেন ‘পেয়ালায় পৃথিবী’, ‘গোষ্পদে সাগর’ বা ‘বিন্দুতে সিন্ধু’। তাঁর সমূহ সমালোচনামূলক বক্তব্য, কবিতা সম্পর্কে তিনি তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ মন্তব্যের একটি হলো, ‘কিছু কিছু কবিতা প্রজ্ঞার আধার’। এটি খুবই ছোট একটি বাক্য-সহজ, সরলও। কিন্তু এতে কবিতা-বিষয়ে, সমালোচনার সাগর-বিস্তৃতি রয়েছে। রয়েছে পাহাড়-প্রমাণ প্রত্যয়ী প্রজ্ঞা। শিল্পদৃষ্টিকোণ থেকে কবিতায় দুটি মৌলিক উপাদান থাকে : শব্দ ও অর্থ। কিংবা বলা যায়, অর্থ ও শৈলী। কবিতাকে শরীর ও আত্মা উভয় দিক থেকে, প্রকৃত কবিতা হয়ে ওঠতে হয়। রাসুলের উপরিউক্ত বাক্যে কবিতার আত্মিক নিদর্শন ও অন্তর্গুণের প্রতি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে।

উন্নত ও মহৎ চরিত্রের গুরুত্ব

ইবাদত যেমন দ্বীনের একটা অংশ এবং শরিয়তের অন্যতম হুকুম, তেমনি মহৎ চরিত্রও দ্বীনের একটা অংশ এবং ইসলামে তার গুরুত্ব অপরিসীম। এক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বীনের অন্য সব অংশের তুলনায় মহৎ চরিত্রের গুরুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব সর্বাধিক। কারণ মহৎ চরিত্রের ক্ষেত্রে বান্দা আল্লাহর প্রতিনিধিত্বকারী। মহৎ চরিত্র মূলত আল্লাহর সিফাত। আমাদের প্রতি নির্দেশ হলো, আমরাও যেন আল্লাহর বান্দা হিসেবে তার ওই সিফাতগুলো গ্রহণ করি। রাসূল সাঃ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর চরিত্রে চরিত্রবান হও।’

রাসূল সাঃ-এর আগমনের আগেকার যুগ ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন, পাপে নিমজ্জিত একটি যুগ। সত্যিই সে যুগে আঁধার নেমে এসেছিল। আরব, পারস্য, মিসর, রোম, ভারতবর্ষসহ সভ্য জগতের সর্বত্রই সত্যের আলো নিভে গিয়েছিল। যবুর, তাওরাত, বাইবেল, বেদ যাবতীয় ধর্মগ্রন্থই বিকৃত ও রূপান্তরিত হয়ে পড়েছিল। ফলে স্রষ্টাকে ভুলে মানুষ সৃষ্টির পায়েই বারবার মাথানত করছিল। তাওহিদ বা একত্ববাদ ভুলে প্রকৃতি পূজা, প্রতিমা পূজা, প্রতীক পূজা, পুরোহিত পূজা, ভূত-প্রেত ও জড় পূজাই ছিল তখনকার মানুষের প্রধান ধর্ম। সমাজ ও রাষ্ট্রের কোথাও নৈতিক শৃঙ্খলার লেশমাত্র ছিল না। অনাচার, অত্যাচার, ব্যভিচার ও পাপাচারে মানুষ এবং জগৎ রুগ্‌ণ হয়ে গিয়েছিল। এ অন্ধকার ও রুগ্‌ণ জগতে আল্লাহ রাসূল সাঃকে প্রেরণ করলেন। আর তিনি সাথে সাথে ঘোষণা দিলেন, ‘আমি প্রেরিত হয়েছি মহৎ চরিত্রকে পূর্ণতায় পৌঁছানোর জন্য।’

শুধু মুখে নয়, তাঁর আচার ও কর্মেও ফুটে উঠেছিল মহৎ চরিত্রের গুণাবলি। গঠন করলেন সেবা সঙ্ঘ। কোথায় কোন এতিম ছেলে ক্ষুধার জ্বালায় কাঁদে, কোথায় কোন দুস্থ-পীড়িত রুগ্‌ণ ব্যক্তি আর্তনাদ করে, নাকি কোনো বিধবা নারী নিরাশ্রয় হয়েছে, তাই তিনি সন্ধান করে ফিরতেন। কখনো এতিম শিশুকে কোলে নিয়ে আদর করতেন, কখনো রোগীর বিছানার পাশে বসে তার সেবা করতেন। অথবা কোনো কল্যাণকর কাজে আত্মনিয়োগ করে প্রতিবেশীকে সাহায্য করতেন। এভাবে লোকসেবায় তিনি ব্রতী হয়েছিলেন।

এই সেবা, ত্যাগ, মানবপ্রীতি কি কখনো বৃথা যেতে পারে? সত্যিকার কল্যাণচেষ্টা ও নিঃস্বার্থ সেবা মানুষ কত দিন ভুলে থাকবে? দিনে দিনে আরবরা নবী মুহাম্মদ সাঃ-এর প্রতি আকৃষ্ট হতে লাগল। ভক্তি-শ্রদ্ধায় এক সময় সবাই তাঁকে আল আমিন বলে উপাধি দিলো। নীতি-ধর্মবিবর্জিত ঈর্ষা-বিদ্বেষকলুষিত পরশ্রীকাতর দুর্ধর্ষ আরব চিত্তে এ স্থান লাভ করা তখনকার দিনে সহজসাধ্য ছিল না। অনুপম চরিত্র-মাধুর্য, সততা, আন্তরিকতা ও অকৃত্রিম মানবপ্রেম ছিল বলেই নবী মুহাম্মদের পক্ষে এটা সম্ভব হয়েছিল। কাজেই একটা মানুষকে সমাজে আস্থা কুড়াতে হলে প্রয়োজন পড়ে চরিত্র-মাধুর্যের। সত্যবাদিতা সেই চরিত্র গঠনের প্রধান উপকরণ।

ইসলামে মহৎ চরিত্রের গুরুত্ব, তার মর্যাদা ও অবস্থা কী পরিমাণ তা রাসূল সাঃ-এর এ বাণীর দিকে খেয়াল করলে বোঝা যায়। রাসূল সাঃ বলেন, ‘সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী সে যে, সর্বোত্তম আখলাকের অধিকারী’ (আবু দাউদ) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে, ‘কেয়ামতের দিবসে মু’মিনের আখলাকের পাল্লায় সর্বাধিক ভারী বস্তু যা রাখা হবে, তা হলো তার উত্তম আখলাক’। (তিরমিজি, আবু দাউদ, মেশকাত)।

অথচ আজো বিশ্বের সভ্য জাতিগোষ্ঠীর মাঝে নীতি-নৈতিকতাহীন এমন আচরণ বিদ্যমান যা বিশ্বায়ন ও বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের এ যুগে মেনে নেয়া দুষ্কর ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ দেশে অশান্তি-অরাজকতা, ছিনতাই, খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ, লুট সব কিছুর মূলে উত্তম ও মহৎ চরিত্রের অভাব। ত্যাগ করা বা ছাড় দেয়ার স্বভাব আজ আমাদের নেই। অথচ কুরআন ও হাদিসে যেমন নামাজ-রোজা ও অন্যান্য ইবাদতের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে তেমনি আখলাকে হাসানা তথা মহৎ চরিত্রেরও গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপ ইবাদতের হুকুম অমান্যকারীদের প্রতি যেমন শাস্তির হুকুম প্রদর্শন করা হয়েছে, তেমনি অনেক মন্দ আখলাকের ব্যাপারেও জাহান্নামের কঠিন শাস্তির বাণী উচ্চারিত হয়েছে।

‘অহঙ্কার’ সম্পর্কে আল্লাহর কঠোর হুঁশিয়ারি বাণী উচ্চারিত হয়েছে, যার অন্তরে কিঞ্চিৎ পরিমাণ অহঙ্কার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। দোষ চর্চাকারীর ব্যাপারে বলা হয়েছে, ‘অপরের দোষ অন্বেষণকারী এবং তার গোপন কথা অবগত হয়ে তা প্রচারকারী জান্নাতে যেতে পারবে না।’ অন্য হাদিসে রাসূল সাঃ বলেন, ‘কেয়ামতের দিবসে সর্বনিকৃষ্ট মানুষ হবে ওই দ্বিমুখী চরিত্রের ব্যক্তি, যে এক পক্ষের কাছে এক চেহারা নিয়ে এবং অপর পক্ষের কাছে আরেক চেহারা নিয়ে উপস্থিত হয়।’ (বুখারি)।

অনুরূপ কিছু কিছু মন্দ আখলাক সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যার মধ্যে থাকবে, সে মু’মিন নয়।’ অন্য হাদিসে কিছু কিছু মন্দ আখলাক সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘তা জাহান্নাম অবধারিত করবে এবং জান্নাত থেকে বঞ্চিত করবে।’ ভেবে দেখা প্রয়োজন, উপরি উক্ত হাদিসগুলোয় যেসব মন্দ কাজের ব্যাপারে জাহান্নামের শাস্তির হুমকির কথা বলা হয়েছে এবং জান্নাত থেকে বা ঈমান থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তা আখলাকসংক্রান্ত বিষয়। এ হাদিসগুলো থেকে অনুমান করা যায়, ইসলামে মহৎ চরিত্রের গুরুত্ব কত বেশি।

আখলাক সুন্দর করার বিষয়টি নিছক পূর্ণতা লাভ করার বিষয় নয় যে, বুজুর্গ ও কামেল হওয়ার জন্য তা প্রয়োজন। বরং মুসলমান হওয়ার জন্য, জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য, নামাজ-রোজার যেমন আবশ্যক তেমনি নিকৃষ্ট আখলাক পরিহার করা এবং উৎকৃষ্ট আখলাক গ্রহণ করাও অতি আবশ্যক। বিশেষত এমন আখলাক যার প্রতি কুরআন ও হাদিসে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যেমন­ ছবর, তাওয়াক্কুল, সততা, বিশ্বস্ততা, ইখলাস, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা, অপরের কল্যাণ কামনা, অপরের প্রতি সুধারণা, অপরের দোষ-ত্রুটি গোপন করা, ক্ষমা, উদারতা, ক্রোধ সংবরণ, বদান্যতা, দানশীলতা, ইনসাফ, ন্যায়পরায়ণতা, বিনয়, নম্রতা, আল্লাহর উদ্দেশ্যে বন্ধুত্ব স্থাপন করা এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে শত্রুতা পোষণ করা ইত্যাকার। এই মহৎ আখলাকগুলো নিজের মধ্যে সৃষ্টি করা এবং তার পরিপন্থী মন্দা আখলাকগুলো নিজের থেকে দূর করার চেষ্টা করা খুব জরুরি।

হেঁচকি সমস্যা

ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছদার হঠাৎ সঙ্কোচন বা স্পাজমের কারণে হেঁচকি হয়। ডায়াফ্রাম পেটের অভ্যন্তর ভাগকে পৃথককারী মাংসপেশিবিশেষ, যা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসে মূল ভূমিকা রাখে। সাধারণ হেঁচকি হঠাৎ শুরু হয়ে বেশ কিছুক্ষণ স্থায়ী হতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী হিককাপ বা হেঁচকি বেশ কিছু রোগের ইঙ্গিত বহন করে।

যে কারণে হয়

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হেঁচকি নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই হতে পারে। তবে নিচের কারণগুলোর জন্য হেঁচকি বেশি ওঠে।

– দ্রুত খাবার গ্রহণ করা ? খাবারের সময় কথা বলা ? চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খেলে পেট ফুলে ডায়াফ্রামের ওপর চাপ দিলে ? লিভার রোগ থাকলে ? নিউমোনিয়া বা ফুসফুসের বিভিন্ন রোগ হলে ? পেটের যেকোনো অপারেশনের পর

– দীর্ঘস্থায়ী কিডনি ফেইলিওর বা বিকল হলে ? স্ট্রোক বা ব্রেইন টিউমার হলে ? কিছু ওষুধ যেমন অ্যাসিডিটি কমানোর ওষুধ ? ডায়াজিপাম গ্রুপের ওষুধ ইত্যাদি গ্রহণের কারণেও হেঁচকি হতে পারে।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খুব অল্প সময়ের মধ্যে আপনাআপনিই রোগটি ভালো হয়ে যায়। তবে এ সমস্যা তিন ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয়। হেঁচকির কারণে যদি আপনার খাওয়া কিংবা ঘুমানো কষ্টকর হয়, তবে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। হেঁচকির পাশাপাশি যদি পেটে ব্যথা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও বমি হয় এবং এমন মনে হয় গলা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তবে অবশ্যই দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

চিকিৎসাঃ হেঁচকির জন্য নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তবে বাড়িতে যে চিকিৎসা করা যায় তাহলো, প্রথমে যতক্ষণ সম্ভব আপনার দম আটকে রাখা। এতে গৃহীত শ্বাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় হেঁচকি ভালো হয়ে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়। নিচের টিপসগুলো কাজে লাগাতে পারেন।

– দ্রুত এক গ্লাস পানি খেয়ে নিন ? কেউ যদি আপনাকে ভয় দেখাতে বা সারপ্রাইজ দিতে পারে তাতেও কাজ হবে

– জিহ্বা কামড়ে ধরুন ? একটু লেবু কামড়ে ধরুন

– পানি দিয়ে গার্গিলিং বা গড়গড়া করুন

– গ্লাসটাকে দূরে ধরে পানি খাওয়ার চেষ্টা করুন

– জিহ্বার পেছনে আধা চামচ চিনি ঢেলে দিন। দুই মিনিট পরপর এভাবে তিনবার চিনি দিন।

এভাবে হেঁচকি থামাতে ব্যর্থ হলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

Posted in সাস্থ্য. ট্যাগ সমুহঃ . Leave a Comment »

ফতোয়ার প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা

ফতোয়া ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। উম্মাহ ও এর সদস্যদের নানামুখী সমস্যা ও বিভিন্ন সময়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সঠিক ও সময়োচিত সমাধানে এটি একটি চলমান ব্যবস্থা। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতির বিশেষজ্ঞ পণ্ডিতরা (আলেমরা) তাদের মেধা, প্রজ্ঞা ও গবেষণার মাধ্যমে জীবন চলার পথে নানা সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা প্রতিকারের মাধ্যমে জাতির স্বাভাবিক চলার পথকে করে তোলেন স্বাচ্ছন্দ্য ও সাবলীল।

ফতোয়া শব্দের অর্থ জিজ্ঞাসার জবাব দেয়া, কোনো বিষয়ে অভিমত দেয়া, সসম্যার সমাধান দেয়া, উপদেশ দেয়া, পরামর্শ দেয়া, Formal legal opinion বা বিধিবদ্ধ আইনি অভিমত ইত্যাদি। যিনি এসব জিজ্ঞাসার জবাব দেন বা কোনো বিষয়ে আইনসঙ্গত অভিমত দেন বা দেয়ার যোগ্যতা রাখেন, তাকে মুফতি বলা হয়। মুফতির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে প্রসিদ্ধ আরবি অভিধান আল মুনজিদে বলা হয়েছে­ ‘মুফতি হলেন সেই ফকিহ বা বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি, যিনি ফতোয়া দিয়ে থাকেন এবং শরিয়ত সংশ্লিষ্ট যেসব মাসয়ালা­মাসায়েল তার ওপর আরোপিত হয়, তার জবাব দেন।’ john Milton Cowan মুফতি অর্থ করেছেন Deliverer of formal legel opinions, official expounder of Islamic law  ‘বিধিবদ্ধ আইনি অভিমত প্রদানকারী,’ ইসলামী আইনের অফিসিয়াল বা দায়িত্বশীল ব্যাখ্যা দানকারী।

ফতোয়ার প্রয়োজনীয়তাঃ ফতোয়া ইসলামী বিধানের অপরিহার্য অঙ্গ। ইসলাম থেকে ফতোয়াকে আলাদা করার কোনো সুযোগ নেই। মুসলমানদের ব্যক্তি, সমাজ ও সামাজিক জীবনের সর্বত্রই ফতোয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কারণ ইসলাম এমন এক জীবনবিধান, যেখানে জীবন যাপন করতে হয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী। এ জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিধান কী তা জানা আবশ্যক। প্রতিটি বিষয়ে বিধান জ্ঞান যেহেতু সবার থাকে না, সেহেতু তা জানার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যিনি বিশেষজ্ঞ তাকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিয়ে তা আমল করতে হয় বা বাস্তবায়ন করতে হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যদি কোনো বিষয়ে তোমরা অবগত না থাকো, তাহলে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করে জেনে নাও।’ (আন নাহলঃ ৪৩)।

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, ‘আমার কাছ থেকে একটি আয়াত হলেও তা অন্যের কাছে পৌঁছে দাও।’ কুরআন নাজিলের সময় কোনো বিষয়ে ফতোয়া জিজ্ঞেস করা হলে ক্ষেত্রবিশেষে আল্লাহ নিজেই ফতোয়া দিয়েছেন। কুরআন কারিমে বলা হয়েছে, ‘লোকেরা আপনার কাছে ফতোয়া চায়, আপনি বলে দিন, আল্লাহ তোমাদের কালালা (পিতা-মাতাহীন ও নিঃসন্তান উত্তরাধিকার) সম্পর্কে ফতোয়া দিচ্ছেন।’ (নিসাঃ ১৭৬)।

‘লোকেরা আপনাকে নারীদের ব্যাপারে ফতোয়া জিজ্ঞেস করে, আপনি বলে দিন, আল্লাহই তাদের ব্যাপারে ফতোয়া দিচ্ছেন।’ (নিসাঃ ১২৭)।

ফতোয়াদান একটি চলমান প্রক্রিয়া। মানবসমাজ যত দিন থাকবে এর প্রয়োজনীয়তাও তত দিন থাকবে। কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে বা কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিলে তার সমাধান ও সংশয় নিরসনের জন্য অন্যকে জিজ্ঞেস করা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি আদালতও কোনো বিষয়ে স্পষ্ট হওয়ার জন্য ‘এমিকাস কিউরি’ নিয়োগ করে তাদের কাছ থেকে ফতোয়া নিয়ে থাকেন।

সুতরাং ফতোয়ার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য এবং এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া আল্লাহর রাসূল, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন, আয়িম্মায়ে মুজতাহিদীন এক কথায় ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার শামিল এবং মানব প্রকৃতি ও আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ারও শামিল।

ফতোয়ার হুকুমঃ ফতোয়া ফরজে কিফায়া। একদল বিশেষজ্ঞ আলেমকে এ কাজে নিয়োজিত থাকা বা রাখা জরুরি। কারণ মুসলমানদের সামনে প্রতিনিয়ত দ্বীনি বিধিবিধানের ব্যাপারে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সমস্যার অবতারণা হয়ে থাকে, যার জবাব দেয়ার জন্য ফতোয়া দানে পারদর্শী একদল আলিমের নিয়োজিত থাকা প্রয়োজন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, আর স্মরণ করো সে সময়ের কথা, যখন আল্লাহ আহলে কিতাবদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, তোমরা তা (আল্লাহর বাণী) মানুষের কাছে বর্ণনা করবে এবং কখনোই তা গোপন করবে না। (আলে ইমরানঃ ১৮৭)।

রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তিকে কোনো জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, তারপর সে যদি তা গোপন করে, তাহলে কিয়ামতের দিন তাকে জাহান্নামের একটি লাগাম পরিয়ে দেয়া হবে।’ (তিরমিজি)।

যে ব্যক্তি অজ্ঞ, কোনো বিষয়ের হুকুম সম্পর্কে অবগত নয়, তার ওপর ওয়াজিব হলো জিজ্ঞেস করে জেনে নেয়া। কারণ শরিয়তের হুকুম পালন করা তার জন্য আবশ্যক।

যারা কুরআন ও হাদিস থেকে দলিল-প্রমাণ উপস্থাপনে পারদর্শী, সমস্যা সমাধানে দক্ষ, ইজতিহাদ তথা চিন্তা-গবেষণা করে মাসয়ালা-মাসায়েল চয়নে সক্ষম তাদের ফতোয়াদানের কাজে নিয়োজিত করতে হবে। প্রতিটি রাষ্ট্রেই একদল মুফতি নিয়োগ করা আবশ্যক, যারা জনগণকে বিভিন্ন মাসয়ালার সমাধান দেবেন এবং যাদের কাছে জনগণ প্রশ্নাদি তুলে ধরবেন। এ ক্ষেত্রে শাফেয়ি মাজহাবের ইমামরা একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে মুফতি নিয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন।

এ আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, ফতোয়াকে অস্বীকার করা বা নিষিদ্ধ করা ফরজকে অস্বীকার বা নিষিদ্ধ করার শামিল। আর যারা ফরজকে অস্বীকার বা অমান্য করে, ইসলামের দৃষ্টিতে তাদের হুকুম কী, তা সবারই জানা। নিষিদ্ধ করা তো দূরের কথা, কোনো মুসলমান ফতোয়াকে অস্বীকার বা অমান্যও করতে পারে না। সুতরাং জনগণ যাতে সহজেই ফতোয়া পেতে পারে তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ জন্য প্রতি জেলা-উপজেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মুফতি নিয়োগ করা জরুরি। আর এ কাজটি মুসলিম দেশের সরকারের দায়িত্ব বিধায় সরকারকে এর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ ও যোগ্য মুফতি নিয়োগের পর অযোগ্য ও অদক্ষ লোকেরা যাতে ফতোয়া না দিতে পারে, তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে ভুল ফতোয়া এবং ফতোয়ার অপপ্রয়োগ থেকে জনগণকে নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে। তা না করে সাধারণভাবে ফতোয়াকে নিষিদ্ধ করা হলে সমস্যা আরো বৃদ্ধি পাবে।

হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে রোগী নিরাপদ নয়, এমনকি তার কাছে রোগীর মৃতুøর আশঙ্কাও রয়েছে। কিন্তু এ জন্য চিকিৎসাকে নিষিদ্ধ করা যুক্তিযুক্ত নয়, বরং এ জন্য প্রয়োজন দক্ষ ডাক্তারের ব্যবস্থা করা। দক্ষ ডাক্তারের ব্যবস্থা না করে চিকিৎসাকে নিষিদ্ধ করা বা হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিষিদ্ধ করা হলেও কোনো লাভ হবে না। কারণ একজন গুরুতর অসুস্থ রোগী যখন ভালো ডাক্তার না পায় তখন বিপদের সময় সে হাতুড়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতেই বাধ্য হবে। ঠিক তেমনি যোগ্য মুফতির ব্যবস্থা না করে ফতোয়াকে নিষিদ্ধ করলে বা অযোগ্য লোকের কাছ থেকে ফতোয়া নেয়াকে নিষিদ্ধ করলেও কোনো লাভ হবে না। কারণ গুরুতর প্রয়োজনের সময় ভুক্তভোগী ব্যক্তি তার সমস্যা সমাধানের জন্য কারো না কারো কাছে যাবেই। সুতরাং ফতোয়াকে নিষিদ্ধ না করে বিধিবদ্ধ করা প্রয়োজন। এ জন্য আদালত এবং সরকারের কাছে আমাদের আবেদন নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজী নিয়োগের অনুরূপ ইসলামী জনতার নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্যাবলির সঠিক সমাধানকল্পে প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ মুফতি নিয়োগ করা হোক।

এখানে আরো একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, ফতোয়া এবং বিচারকাজ এক জিনিস নয়। ফতোয়া হলো আইনের ব্যাখ্যা করা বা আইনি মতামত ও পরামর্শ দেয়া, যা বর্তমানে অ্যাডভোকেট বা আইনজীবীরা দিয়ে থাকেন। অর্থাৎ কোনো বিষয়ের হুকুম জানতে চাইলে মুফতির দায়িত্ব হলো তা জানিয়ে দেয়া। তার আলোকে দণ্ড দেয়া বা বিচার করা হলো আদালতের কাজ।

অনেকেই ফতোয়াকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে থাকেন এবং ‘ফতোয়াবাজ’ প্রভৃতি শব্দ প্রয়োগ করে মুফতি ও আলেমদের তুচ্ছজ্ঞান ও উপহাস করে থাকেন। তাদের জানা উচিত, ফতোয়া, মুফতি প্রভৃতি ইসলামের পবিত্র ভাবধারাসমৃদ্ধ পরিভাষা। ফতোয়া দান কোনো তুচ্ছ কাজ নয়, বরং এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কাজ। এ কারণে মুফতিও অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী। কারণ এ কাজ স্বয়ং আল্লাহ করেছেন (আগে এসংক্রান্ত কুরআনের আয়াত উল্লেখ করা হয়েছে) এবং তাঁর রাসূলকে এ কাজের নির্দেশ দিয়েছেন। আল কুরআনে বলা হয়েছে, আমি আপনার প্রতি স্মারক (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি লোকদের সেসব বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা দেন, যা তাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে, আর যাতে তারা চিন্তাভাবনা করতে পারে।’ (আলে ইমরানঃ ১৭৬)। মূলত ফতোয়ার মাধ্যমে মুফতিরা মহান আল্লাহর বিধানকেই মানুষের কাছে বর্ণনা করেন। ইমাম আল কারাফি রহঃ মুফতিকে আল্লাহর মুখপাত্রের সাথে তুলনা করেছেন। আল্লামা ইবনুল কায়িম মুফতিকে মন্ত্রীর মর্যাদায় স্থান দিয়ে তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন বলে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যদি রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করা সম্মান ও মর্যাদার বিষয় হয়, তাহলে মহান আল্লাহর পক্ষে স্বাক্ষর করা কতই না সম্মান ও মর্যাদার।’ সুতরাং এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা উপহাস করা সম্পূর্ণ ঈমানপরিপন্থী কাজ।

%d bloggers like this: