ওজন কমাতে লেবু-মধু পানীয়

ওজন কমাতে অনেকে অনেক কিছু পান করেন বা খান। যেমন : ওজন কমানোর চা, সোনাপাতা, ওজন কমানোর ওষুধ ইত্যাদি। এগুলোর কোনো কার্যকারিতা আছে কিনা তা সন্দেহ আছে। থাকলেও এগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। কিন্তু প্রাকৃতিক উপাদান মধু ও লেবু আসলেই যে কার্যকরী, তা পরীক্ষিত এবং সারা বিশ্বে সমাদৃত ও স্বীকৃত । ওজন কমাতে দুটি প্রাকৃতিক উপাদান লেবু ও মধুর পানীয় সম্পর্কে অনেকেই জানেন । ওজন কমানো ছাড়াও লেবু ও মধুর অনেক গুণাগুণ আছে। 

কেন ওজন কমায়?
মধুতে যদিও চিনি থাকে, কিন্তু এতে ভিটামিন ও মিনারেল থাকার কারণে এটি সাধারণ চিনির মতো ওজন না বাড়িয়ে কমায়। কারণ সাধারণ চিনি হজম করতে আমাদের শরীর নিজের থেকে ভিটামিন ও মিনারেল খরচ করে, ফলে এসব পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হয়। এসব উপাদান ফ্যাট ও কোলেস্টেরল কমাতে বা ভাঙতে সাহায্য করে। ফলে যখন আমরা বেশি চিনি খাই, তখন অধিক ক্যালরি শরীরে জমা ছাড়াও এসব পুষ্টি উপাদানের চিনি হজম করতে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হয়। তাই ওজন বাড়াতে পারে। কিন্তু মধুতে এসব উপাদান থাকার ফলে এগুলো হজমে সহায়ক এবং ফ্যাট ও কোলেস্টেরল কমায়। তাই এই পানীয় ওজন কমায়। তাছাড়া সকালে উঠেই শরীর যদি পানি জাতীয় কিছু পায়, তবে তা হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে একই রকম শারীরিক পরিশ্রম করেও আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধির কারণে ওজন কমতে পারে।

লেবু-মধু পানীয় বানানোর প্রণালী
এক গ্লাস হালকা বা কুসুম গরম পানি, আধা চা চামচ লেবুর রস, এক চা চামচ মধু। গরম পানিতে লেবু ও মধু মিশিয়ে পান করুন লেবু-মধু পানীয়। আপনি চাইলে এর সঙ্গে সবুজ চা মেশাতে পারেন।

যা লক্ষ্য রাখবেন
—আগে পানি হালকা গরম করে তারপর লেবু ও মধু মেশাবেন। মধু কখনোই গরম করতে যাবেন না।

—যদি ঠাণ্ডা পানিতে এটি পান করেন, তবে বিপরীত ফল হবে, মানে আপনার ওজন বাড়বে।

লেবু-মধু পানীয়ের উপকারিতা
এই পানীয় শরীর থেকে টক্সিন বের করে। শরীরের ভেতরের নালীগুলোর সব ময়লা বের করে দেয়।

—মেটাবলিজম/হজম শক্তি বাড়ায়, ফলে ওজন কমে। ঠাণ্ডা লাগলে এই পানীয় কফ বের করতে সাহায্য করে এবং ঠাণ্ডা লাগলে গলাব্যথা করলেও এটি উপকারী ।
—এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
—শরীরে শক্তি বাড়ায়, অলসতা কমায়।
—কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

মধুর উপকারিতা
মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ আলাদাভাবে থাকে, কিন্তু চিনিতে তা একসঙ্গে থাকে। ফ্রুকটোজ তাড়াতাড়ি গ্লুকোজের মতো শরীরে ক্যালরি হিসেবে জমা হয় না। তাই চিনির মতো মধু সহজে ক্যালরি জমা করে না। ফলে অল্প মধু খেলেও ওজন বাড়ার সম্ভাবনা কম।

মধু শরীরকে রিলাক্স করে, মনকে প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করে এবং সহজে ঘুম আনতে সাহায্য করে।
মধু একটি প্রাকৃতিক এন্টি বায়োটিক, যা শরীরের সব ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে ইনফেকশন দূর করে। ফলে শরীরের কাজ করার প্রণালী উন্নত হয় এবং হেলদি থাকে।
মধু হজমে সহায়ক। তাই বেশি খাবার খাওয়ার পরে অল্প মধু খেতে পারেন
—মধু ফ্যাট কমায়, ফলে ওজন কমে।
—মধু প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি। তাই মধু সহজে হজম হয়।
—চোখের জন্য ভালো।
—গলার স্বর সুন্দর করে।
—শরীরের ক্ষত দ্রুত সারায়।
—আলসার সারাতে সাহায্য করে।
—নালীগুলো পরিষ্কার করে।
—ঠাণ্ডা লাগলে জ্বর, গলাব্যথায় ভালো ওষুধ হিসেবে কাজ করে।
—মধু এন্টি অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের রং ও ত্বক সুন্দর করে। ত্বকের ভাঁজ পড়া ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে।
—বুদ্ধিবৃত্তি বাড়ায়।
—শরীরের সামগ্রিক শক্তি বাড়ায় ও তারুণ্য বাড়ায়।

লেবুর উপকারিতা
লেবুতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা এন্টিসেপটিক ও ঠাণ্ডা লাগা প্রতিরোধ করে

এছাড়া লেবুতে থাকে ঈধষপরঁস, চড়ঃধংংরঁস, চযড়ংঢ়যড়ত্ঁং, গধমহবংরঁস, যার কারণে হাড় ও দাঁত শক্ত হয়।
—লেবুর এই উপাদানগুলো টনসিল ও ঁত্রহব রহভবপঃরড়হ প্রতিরোধ করে
—এছাড়া লেবুর ভিটামিন সি ক্যান্সারের সেল গঠন প্রতিরোধ করে।
—লেবু বুক জ্বালা প্রতিরোধ করতে ও আলসার সারাতে সাহায্য করে।
—লেবু আর্থাইটিসের রোগীদের জন্য ভালো । কারণ লেবু ফরঁত্বঃরপ ।
—লেবু শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করে।
—লেবু এন্টিঅক্সিডেন্ট ও ধহঃর-ধমরহম
তাই ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ত্বক পরিষ্কার রাখে, অপহব দূর করে। ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে। কালোদাগ ও ত্বকের ভাঁজ পড়া কমায়।
—লেবু ওজন কমাতে সাহায্য করে।
—লেবু হজমে সহায়ক ও হজমের সমস্যা দূর করে।
—কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
—শরীরের ভেতরের টক্সিন দূর করে, অন্ত্রনালী, লিভার ও পুরো শরীরকে পরিষ্কার রাখে।
—পেট ফোলাজনিত সমস্যা কমায়।
—রক্ত পরিশোধন করে।
—ঠাণ্ডা লাগলে জ্বর, গলাব্যথায় ভালো ওষুধ হিসেবে কাজ করে।
—শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি হলে ভালো কাজ করে।
—শ্বাসনালীর ও গলার ইনফেকশন সারাতে সাহায্য করে।

কখন খাবেন?
সাধারণত সকালে উঠেই প্রথম পানীয় হিসেবে খালি পেটে এটি খাওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরে সকালের নাস্তা খেতে পারেন।

সাবধানতা
যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তারা অবশ্যই এটি খালি পেটে খাবেন না। কারণ লেবু এসিডিক। তাই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে এটি খাবেন।

তাছাড়া লেবুর এসিড দাঁতের এনামেলের জন্য ক্ষতিকর, তাই এই পানীয় খাবার সঙ্গে সঙ্গে কুলি করবেন, অথবা পানি খাবেন।
একটা কথা মনে রাখবেন, ওজন কমানোর জন্য এই পানীয় শুধুই সহায়কমাত্র। সম্পূর্ণ ওজন কমানোর প্রক্রিয়াতে অবশ্যই থাকতে হবে স্বাস্থ্যকর/ব্যালেন্সড ডায়েট, নিয়মিত শরীর চর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা।

Advertisements

কে কত হাসতে পারো!!! "আটত্রিশ"

শিক্ষক ও ছাত্র

শিক্ষক: রবীন্দ্রনাথ কি কখনও ক্রিকেট খেলে ছিলেন?

মন্টু: বোধায় খেলে ছিলেন, কারণ তার একটা গানে আছে- ‘বল দাও মোরে বল দাও।’

শিক্ষক ও ছাত্র

শিক্ষক: মন্টু, তুমি এক থেকে কত পর্যন্ত গুনতে পারো?

মন্টু: স্যার, দশ পর্যন্ত পারি।

শিক্ষক: মাত্র দশ পর্যন্ত! তুমি তাহলে বড় হয়ে কী হবে? কিছুই তো হতে পারবে না।

মন্টু: কেন, স্যার, বক্সিংয়ের রেফারি তো হওয়া যাবে।

দৌড় প্রতিযোগিতা

একটা কাপ নিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে স্বামীকে ঘরে ঢোকা দেখে
স্ত্রী : একি! এত হাঁপাচ্ছ কেন? আর এ কাপটাই বা কোথায় পেলে?
স্বামী :দৌড় প্রতিযোগিতায় দুজনকে হারিয়ে এটা পেলাম।
স্ত্রী :মাত্র তিনজন নিয়ে দৌড় প্রতিযোগিতা?
স্বামী :হ্যাঁ, প্রথমে আমি, তারপর পুলিশ আর সবার পেছনে এ কাপটার মালিক!

প্রতিবেশী

কনে দেখে ফেরার সময় বরের বাবা কনের পাশের বাড়ির ভদ্রলোককে জিজ্ঞাসা করলেন

বরের বাবা : আচ্ছা ভাই সাহেব, আপনার প্রতিবেশী নাদান মিঞা লোকটা কেমন? ওনার মেয়ের সঙ্গে আমার ছেলের বিয়ের কথা হচ্ছে। আপনি তো উনাকে চেনেন।
প্রতিবেশী : চিনি মানে, এই তো সেদিন পাশের বাড়ির এক অনুষ্ঠানে আমাকে দেখা মাত্রই কোলাকুলি করার জন্য ছুটে এলেন। পরে বাসায় এসে দেখি পকেটে মানিব্যাগ নেই।

চশমা

দূরের বস্তু দেখতে সমস্যা হওয়ায় হাবলু বাবার কাছে চশমা বানানোর বায়না ধরেছে। বাবা বললেন, চোখে তোর সমস্যাটা কী? সেটা আগে খুলে বল? হাবলু বলল, আমি দূরের বস্তু একদমই স্পষ্ট দেখতে পারি না, বাবা। একথা শুনে বাবা হাবলুর হাতটা ধরে একদম ঘরের বাইরে বের করে নিয়ে এলেন। এরপর আকাশের দিকে তাকিয়ে বাবা হাবলুকে বললেন, দেখ তো আকাশের একদম শেষ সীমানায় কী দেখা যায়? হাবলু জবাব দিল, ওটা তো সূর্য মামা। বাবা রেগে বললেন, এই ফাজিল, আর কত দূরের জিনিস তুই দেখতে চাস বল?

কে কত হাসতে পারো!!! "সাতত্রিশ"

সাদা চুল

ছেলে :আচ্ছা মা, তোমার চুল এত সাদা কেন?
মা :ছেলেমেয়ে দুষ্টু হলে বাবা-মায়ের চুল এমনি এমনি সাদা হয়ে যায়।
ছেলে :ও, আচ্ছা, এ জন্যই তো নানির মাথার চুল এত সাদা!

ফি

শিক্ষক :পল্টু, লেখাপড়ায় তোমার মোটেও মনোযোগ নেই। কালই তোমার বাবাকে স্কুলে আসতে বলবে। তার সঙ্গে কথা বলতে হবে।
ছাত্র :কিন্তু তার জন্য যে ফি লাগবে স্যার।
শিক্ষক :মানে?
ছাত্র : বাবা উকিল তো, ফি ছাড়া কারও সঙ্গে কোনো কথাই বলেন না!

বিয়ের তারিখ

এক লোক সব সময় ক্রিকেট নিয়ে মেতে থাকেন। একদিন তার বউ গোমড়া মুখে বললেন_ আচ্ছা, তুমি যেভাবে সারাক্ষণ ক্রিকেট নিয়ে পড়ে থাক, জিজ্ঞেস করলে আমাদের বিয়ের তারিখটা ঠিকমতো বলতে পারবে বলে মনে হয় না!
বউয়ের এমন অপমানজনক কথা শুনে লোকটি লাফিয়ে উঠে বলল_ ছি, ছি, তুমি আমাকে কী মনে কর! আমি কি এত পাগল যে বিয়ের তারিখ ভুলে যাব? ঠিকই মনে আছে। যে বার শ্রীলংকা আর ভারতের খেলায় টেন্ডুলকার এগারো রানের মাথায় মুত্তিয়া মুরালিধরনের বলে আউট হয়ে গেলেন, সেদিনই তো আমাদের বিয়ে হলো!

বানান

শিক্ষক: বানান কর ‘বাঁশ’।

ছাত্র: স্যার, কঞ্চিসহ?

চোর

মাঝরাতে স্ত্রী স্বামীকে ঠেলা দিয়ে বলল, ‘অ্যাই … শোনো! একটা চোর ঢুকেছে বাসায়। আমার মা যে পিঠাগুলো পাঠিয়েছিল, সে সব খাচ্ছে ফ্রিজ থেকে বের করে।
স্বামী : বলো কী! এখন তো পুলিশ বাদ দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হবে!

নামাজ জান্নাতের চাবি

নামাজ দ্বীন ইসলামের মূল স্তম্ভ, বান্দার জন্য আল্লাহ পাকের দেয়া শ্রেষ্ঠ উপহার, বিশ্বাসের দলিল, পুণ্য কাজের মূল, সর্বোত্তম ইবাদত, বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের মাঝে পার্থক্য নির্ণয়কারী, মুক্তি ও নাজাতের পূর্বশর্ত এবং ঈমানের অতন্দ্র প্রহরী। নামাজে আল্লাহ তায়ালা ও বান্দার মাঝে এক অতি মহিমান্বিত, অতুলনীয় ও বিস্ময়কর মধুর সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে।

সৃষ্টি জগতে মানুষের চেয়ে বেশি মর্যাদাবান আর কেউ নেই। মানুষের চেয়ে বেশি সম্মানী হলেন একমাত্র মহান স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালা। তিনি জ্ঞান, শক্তি-ক্ষমতা, অর্থ-সম্পদ ইত্যাদি সব দিক থেকে মানুষের ওপরে। তাই মানুষকে অবশ্যই আল্লাহর সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে। আল্লাহকে বাদ দিয়ে মানুষ আর যার সাথেই যোগাযোগ করুক, সবাই মানুষের চেয়ে জ্ঞান, শক্তি ও সম্পদে নিুমানের। এদের সাহচর্য মানুষের মানগত দিক বিনষ্ট করবে। মানুষ নিচে নামতে থাকবে। এক পর্যায়ে সে পশুর চেয়েও অধম হয়ে যাবে। আল্লাহর সান্নিধ্যই মানুষকে সীমাহীন উন্নতি ও উৎকর্ষের পথে চলতে সাহায্য করে। আল্লাহর সন্তোষ অর্জনের পরই মানুষ কেবল শতভাগ পরিতৃপ্ত হয়, শান্ত ও আশ্বস্ত হয়।

পার্থিব জীবনে নানা প্রয়োজনে অসংখ্য জিনিস ও বিষয়ের সাথে আমরা জড়িয়ে পড়ি। কত মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়তে হয়! এসব সম্পর্ক ও সংশ্লিষ্টতার মধ্যে প্রচণ্ড আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। একটু-আধটু করে মানুষ এ আকর্ষণের মধ্যে ডুবে যায়। এক সময় তার অজান্তেই তার মহান প্রভুর আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে। দুনিয়ার মোহে মানুষ যেন প্রভুহীন হয়ে না যায়, সে জন্য নামাজ এক অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শত ব্যস্ততা, হাজারো সংশ্লিষ্টতা, নানা ধরনের কাজকর্ম ও সম্পর্ক-সম্বন্ধের বন্ধন বিচ্ছিন্ন করে মহান রবের সান্নিধ্য লাভের এক অনুপম সুযোগ করে দেয় এ নামাজ। আল্লাহপ্রিয় মানুষদের জন্য নামাজ তাই সবচেয়ে বড় নেয়ামত। নামাজই তাদের আল্লাহর কথা ভুলে যেতে দেয় না।

মুসলমানদের জীবনে নামাজের আশাপ্রদ ফল অর্জন না হওয়ার চারটি কারণ হলোঃ

১। নামাজের সূরা, দোয়া তাসবিহর সঠিক উচ্চারণ বা কেরাত বিশুদ্ধ না হওয়া।

২। নামাজের গুরুত্বপূর্ণ নিময়কানুন বা মাসলা-মাসায়েল সম্পর্কে অজ্ঞতা।

৩। নামাজে পাঠকৃত সূরা, দোয়া তাসবিহর অর্থ ও তাৎপর্য না জানা।

৪। নামাজের শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ না করা।

– নামাজ আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়।

– নামাজ দ্বীন ইসলামের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ।

– নামাজ মুসলিম ও কাফেরের মধ্যে পার্থক্য।

– নামাজ বিচার দিবসে প্রথম জিজ্ঞাসার বিষয়।

– নামাজ পুরুষ-মহিলা, ধনী-গরিব, সুস্থ-অসুস্থ সবার জন্য প্রযোজ্য।

– নামাজ সর্বাধিকবার ও আজীবনের জন্য প্রযোজ্য।

– নামাজ অতীব সাধারণ, সহজ, প্রাকৃতিক ও চমৎকার বিষয়।

– নামাজ কাজের একঘেয়েমি, বিরক্তি ও ক্লান্তি দূর করে।

– দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এমনভাবে সাজানো আছে যে মানুষের কর্মসাধ্যের পরিমাণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর সে কর্মবিরতির সুযোগ পায়।

– সফল মুমিনের বৈশিষ্ট্য­ তারা নামাজের হেফাজত করে।

– নামাজ জান্নাতের চাবি।

– নামাজ চক্ষুর শীতলতা ও প্রাণের শান্তি।

– সঠিকভাবে নামাজ আদায় জাহান্নাম হারাম করে।

– নামাজ কিয়ামতের দিনের নূর, ঈমানের দলিল, বাঁচার উছিলা।

– নামাজ আল্লাহর জিম্মাদারিতে চলে যাওয়ার সুযোগ।

– মানুষের জীবন বাধাহীন নয়। আমাদের জীবন বিবিধ সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যা কেবল আল্লাহই সমাধান করতে পারেন।

– নামাজি ব্যক্তি তার দৈনন্দিন কার্যকলাপ পাঁচ ওয়াক্তের মধ্যে সম্পাদন করে এবং সব কাজের দায়-দায়িত্ব আল্লাহর কাছে সোপর্দ করে।

– পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এভাবে আমাদের জীবনকে আল্লাহর হেফাজতে কাটানোর বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।

আরবি হরফ মাত্র ২৯টি, জীবন-জীবিকার তাগিদে কত কিছু শিখলাম, পড়লাম, জানলাম, আমি যে নামাজ পড়ি বা আল্লাহর নিকট কবুল হওয়ার জন্য এবং জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচার জন্য সর্বোপরি দুনিয়ার সুখ-শান্তি ও পরকালীন মুক্তির জন্য হলেও আমাকে কুরআন শিখতে হবে। কুরআন শেখার ব্যাপারে ইচ্ছে, সঙ্কল্প ও প্রচেষ্টা না চালালে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে কি না তাও ভেবে দেখতে হবে।

ঈমানঃ ইসলামের মূল ভিত

ঈমান শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো দৃঢ় বিশ্বাস। ইসলামী পরিভাষায় হজরত মুহাম্মদ সাঃ আল্লাহর কাছ থেকে যে কিতাব বা মহাগ্রন্থ প্রাপ্ত হন তাতে এবং তিনি যে পথ প্রদর্শন করে গেছেন এতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করাই হলো ঈমান। অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকারোক্তি এবং সৎকর্ম বা আমলে সালেহা­ এ তিনের সমন্বয় হচ্ছে ঈমান। কথায়, বিশ্বাস এবং সৎকর্মের পরিপূর্ণ প্রতিফলন হলো ঈমান।

পবিত্র কুরআনে সূরা বাকারার প্রথম আয়াতঃ ‘এই সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই। মুত্তাকিদের জন্য এটি পথপ্রদর্শক।’ প্রশ্ন জাগেঃ মুত্তাকি কারা? আসলে মুত্তাকি শব্দের মধ্যেই ঈমানের স্বরূপ বিশ্লেষিত হয়, যা ঠিক পরবর্তী আয়াতে বর্ণিত হয়েছেঃ ‘তারাই মুত্তাকি যারা ‘গায়েব’ বা অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে, সালাত কায়েম করে, আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।’ তিনটি বিষয় এখানে অতি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়ঃ অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন, নামাজ প্রতিষ্ঠা এবং স্বীয় সম্পদ থেকে কিছু ব্যয় করা। ঈমানের যথার্থ ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এখানে দু’টি বিশেষ আরবি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, ‘ইউমেনুনা’ এবং ‘বিল গায়েব’ অর্থাৎ ঈমান এবং গায়েব। ঈমান মানে বিশ্বাস; গায়েব হচ্ছে অদৃশ্য অর্থাৎ অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন। পবিত্র কুরআনে গায়েব বা অদৃশ্য শব্দ দ্বারা যেসব বিষয়কে নির্দেশ করা হয়েছে যেগুলোর সংবাদ রাসূল সাঃ দিয়েছেন। স্বীয় বুদ্ধি বলে ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এসব বিষয় অবহিত হওয়া যায় না (সূত্রঃ তাফসিরে মা’আরেফুল কুরআন, পৃঃ ১৩)।

অদৃশ্য বা গায়েবের মধ্যে ঈমানের সারবত্তা অন্তর্নিহিত­ এ অন্তর্ভুক্ত করে আল্লাহর অস্তিত্ব ও সত্তা, আল্লাহর গুণাবলি, ভাগ্য বা তকদির, বেহেশত-দোজখ, কিয়ামত বা বিচার দিবসের ঘটনা, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব পূর্ববর্তী সব নবী-রাসূলের ওপর আস্থা স্থাপন ইত্যাদি। উল্লিখিত সূরার ১৭৭ নম্বর আয়াতে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছেঃ ‘ঈমান আনবে আল্লাহর ওপর, কিয়ামত দিবসের ওপর, ফেরেশতাদের ওপর এবং সমস্ত নবী-রাসূলের ওপর আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে, আর যারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত দান করে তারাই সত্যাশ্রয়ী আর তারাই পরহেজগার।’

সালাত বা নামাজ হচ্ছে আল্লাহর উদ্দেশ্যে শরিয়া নির্দেশিত প্রার্থনা। সালাত হলো আল্লাহর ইবাদতের সাধারণ আরবি নাম। এর ফারসি প্রতিশব্দ হচ্ছে নামাজ। অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপনের সাথে ‘ইকামা সালাত’ শব্দ অর্থাৎ নামাজ প্রতিষ্ঠার কথা সংযুক্ত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই নামাজের অপরিসীম গুরুত্ব প্রকাশ পায়। ঈমানের প্রাথমিক সোপান হচ্ছে নামাজ। নামাজ আদায় এবং নামাজ প্রতিষ্ঠা করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে­ নামাজ আদায় করা অর্থ হচ্ছে স্বীয় কর্তব্য পালন করা। অন্য দিকে নামাজ কায়েম করার অর্থ নামাজকে স্থায়িত্ব দান করা, সুদৃঢ় করা এবং একে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া। এখানে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। শরিয়াসম্মত বিধিবিধান অনুসরণে যথাযথভাবে নামাজ আদায়কে অভ্যাসে পরিণত করে এবং এর ধারাবাহিকতা চির বিদ্যমান রাখাই হচ্ছে নামাজ কায়েম বা প্রতিষ্ঠা। নামাজ বলতে সব ধরনের সালাত এবং ইবাদতের সব অঙ্গকে অন্তর্ভুক্ত করে। আসলে সালাত কায়েম বলতে মসজিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থা কায়েমের কথা বলা হয়েছে।

রিজিক থেকে ব্যয়ঃ আল্লাহ প্রদত্ত রিজিক থেকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কিছু অংশ প্রদান করা মুত্তাকিদের অন্য এক বৈশিষ্ট্য। ব্যয় বলতে জাকাত ও অন্যান্য দান-খয়রাত অর্থ করা হয়। তবে জাকাতের জন্য পৃথক শব্দ ‘জাকাত’ স্বীকার এবং উল্লিখিত আয়াতে ইনফাক আরবি শব্দ ব্যবহৃত হওয়ায় এটি সাধারণত দান-খয়রাতকেই নির্দেশ করে। সব বিষয়-সম্পদের মালিকানা আল্লাহর। তিনিই মানুষকে প্রাচুর্য দিয়েছেন। সুতরাং মানুষের উচিত স্বীয় সম্পদ থেকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে অর্থাৎ সৎকর্ম ও সৎপথে ব্যয় করা, বিশেষ করে অর্থহীন ও অভাবীদের সাহায্য সহযোগিতা করা। স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে, এ দান কারোর প্রতি তার অনুগ্রহ নয়­ এ হচ্ছে স্বীয় হক আদায়। প্রকৃতপক্ষে ইসলামী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য যে ব্যয়, সেটাই আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় বোঝায়।

ঈমান হলো সব কার্যের মূল ভিত্তি এবং এর ওপরই নির্ভর করে আমলের গ্রহণযোগ্যতা। প্রকৃতপক্ষে তারাই মুত্তাকি যাদের ঈমান পূর্ণাঙ্গ এবং আমলও পূর্ণতাপ্রাপ্ত পেয়েছে। ঈমান ও আমল এ দুয়ের সমন্বয়ই হচ্ছে ইসলাম। এ পর্যায়ে ঈমান ও ইসলামের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য নির্ণয় করা আবশ্যক। কোনো বিষয়ে আন্তরিক বিশ্বাস স্থাপন হচ্ছে ঈমান, কারোর প্রতি অনুগত হওয়ার নাম ইসলাম। ঈমান অন্তর থেকে সূচিত এবং বাহ্যিক ক্রিয়াকর্মে এর যথার্থ প্রতিফলনে পূর্ণতা লাভ করে। অন্য দিকে ইসলামের শুরু বাহ্যিক বা প্রকাশ্য ক্রিয়াকর্মের মাধ্যমে যা ক্রমে ক্রমে মর্মস্পর্শী হয়ে পূর্ণতা লাভ করে। অন্তরের বিশ্বাস ও আমল উভয় পরিপূর্ণতা লাভ করলেই তা গ্রহণযোগ্য হয়। অপর দিকে প্রকাশ্য আনুগত্য আন্তরিক বিশ্বাসে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত তা গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে না।

সূরা বাকারার ৪ নম্বর আয়াতে মুত্তাকিদের আরো কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। আয়াতের বর্ণনা নিুরূপঃ ‘এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের ওপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের ওপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে। আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে।’ বর্ণনায় তিনটি বিশেষত্ব পরিলক্ষিত হয়ঃ ১. মুহাম্মদ সাঃ-এর ওপর অবতীর্ণ কিতাব অর্থাৎ পবিত্র কুরআনের ওপর বিশ্বাস,

২. মুহাম্মদ সাঃ-এর পূর্ববর্তী রাসূলদের ওপর কিতাব অর্থাৎ তাওরাত, যবুর ও ইঞ্জিলের ওপর বিশ্বাস এবং সর্বোপরি

৩. পরকাল বা আখেরাতের ওপর বিশ্বাস। আখেরাতের ওপর বিশ্বাস মুত্তাকিদের এক অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মৃতুøর পর পরকালে নিজ আমলনামাসহ আল্লাহর সামনে উপস্থিত, কৃতকর্মের হিসাব-নিকাশ, দান-প্রতিদান, পাপ-পুণ্য সব কিছুরই এক সামগ্রিক চিত্র চোখের সামনে ভেসে উঠবে। ফলে মানুষ অন্যায় করতে পারে না­ এখানে পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্র ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করছে না­ করছে তার ধর্মীয় চেতনাবোধ ও আন্তরিক বিশ্বাস। অত্র সূরার সমাপ্তিতে আয়াত নম্বর ২৮৫-এ ঈমান সম্পর্কে পুনরায় উল্লেখ রয়েছে। বলা হয়ঃ ‘রাসূল বিশ্বাস রাখেন ওই সব বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর নিকট অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও। সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থগুলোর প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরদের প্রতি। তারা বলে, আমরা তাঁর পয়গম্বরের কোনো পার্থক্য করি না। তারা বলে, আমরা শুনেছি, আমরা কবুল করছি। আমরা তোমার কাছে ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে।’ উদ্ধৃতির প্রথমেই রাসূল সাঃ-এর ওপর বিশ্বাসের কথা পরিব্যক্ত হয় এবং এরপর স্বতন্ত্রভাবে মুমিন মুসলমানদের বিশ্বাস প্রসঙ্গ এসেছে। বর্ণনা-ভঙ্গি আভাস প্রদান করে যে, যদিও আমল ও বিশ্বাসে রাসূল সাঃ ও অন্যান্য সব মুসলমান এক ও অভিন্ন, তবুও বিশ্বাসের স্তরে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। রাসূল সাঃ-এর বিশ্বাস প্রত্যক্ষ ও ওহিজাত। অন্য মুসলমানদের বিশ্বাস গায়েবে এবং রাসূল সাঃ-এর মাধ্যমে (সূত্রঃ তাফসিরে মা’আরেফুল কুরআন, পৃঃ ১৬১)।

সার্বিক আলোচনায় ঈমানের যে সাধারণ স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য উদ্ভাসিত হয় তা নিুরূপঃ ১. এক অদ্বিতীয় আল্লাহ এবং তাঁর প্রেরিত রাসূল সাঃ-এর ওপর আন্তরিক বিশ্বাস। ২. আল্লাহর আদেশ-নির্দেশ প্রতিপালনের জন্য নিয়োজিত ফেরেশতাকুলের প্রতি বিশ্বাস। ৩. পথ প্রদর্শনের জন্য বিভিন্ন যুগ ও বিভিন্ন জাতির কাছে আল্লাহ যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন তার প্রতি বিশ্বাস।

৪. পথ প্রদর্শনের জন্য প্রেরিত নবী-রাসূলদের রিসালাতে বিশ্বাস।

৫. পরকাল বা আখেরাতের ওপর বিশ্বাস।

৬. তকদির বা ভালো-মন্দ আল্লাহর তরফ থেকে আসে, এ বিশ্বাস।

৭. শেষে বিচার দিবস অর্থাৎ মৃতুøর পর পুনরুত্থানে বিশ্বাস (সূত্রঃ সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বাসের প্রথম খণ্ড, পৃঃ ২১৩)।

গরমে করণীয়

সারা দেশে এখন চলছে গরম হাওয়া। এই গরমে সুস্থ থাকা দায়। সুস্থ থাকার জন্য তাই অবলম্বন করতে হবে কিছু সাধারণ কৌশল, যা আমাদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে।

প্রচুর পানি পান করুন

গরমের দিনে এমনিতেই একটু বেশি পানি পান করা উচিত। কারণ এ সময় অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর পানি স্বল্পতায় ভোগে। তা ছাড়া যারা কায়িক পরিশ্রম বেশি করেন এবং অনেকক্ষণ রোদে অবস্থান করেন তাদের ক্ষেত্রে বেশি পানি পানের ব্যাপারে বাড়তি আগ্রহ থাকতে হবে। শরীরের পানি ও লবণ ঘাটতি মেটানোর জন্য মুখে খাওয়ার স্যালাইন গ্রহণ করতে হবে। শিশুরা নিজ থেকে পানি পান করতে ততটা আগ্রহী থাকে না। তাই শিশুকে এই গরমে পরিমাণ মতো পানি অবশ্যই পান করাতে হবে, যাতে শিশুর শরীরে পানি স্বল্পতার সৃষ্টি না হয়।

পানি স্বল্পতা হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। গরমের সময় প্রস্রাব হলুদাভ বর্ণের হলে বুঝতে হবে শরীরে পানি স্বল্পতার সৃষ্টি হয়েছে। অন্য কোনো অসুখ বিশেষ করে হেপাটাইটিস বা জন্ডিসের কোনো উপসর্গ না থাকলে প্রস্রাবের হলুদাভ রঙ থেকেই শরীরের পানি স্বল্পতা সম্পর্কে ধারণা করা যায়। প্রস্রাব হলুদাভ রঙের হলে সাথে সাথে প্রচুর পানি পান করতে হবে। যতক্ষণ না প্রস্রাবের রঙ স্বাভাবিক হবে ততক্ষণ এই পানি পান চালিয়ে যেতে হবে। শরীর বেশি অসুস্থ হলে স্যালাইন পানি পান করা ভালো। তবে অন্য পানীয় পানে বিশেষ কোনো উপকার নেই। বিশেষ করে অ্যালকোহলযুক্ত বেভারেজ পান করলে শরীরে আরো বেশি পানি স্বল্পতার সৃষ্টি হয়। তাই পানি স্বল্পতারোধ করতে গিয়ে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পান করলে শরীর আরো বেশি পানি হারাবে।

চোখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিন

প্রচণ্ড গরমে অনেকেরই চোখ জ্বালা করে। এই পরিস্থিতিতে চোখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিলে আরাম লাগবে। পারলে কিছুক্ষণ ঠাণ্ডা পরিবেশে বিশ্রাম নিতে হবে, পান করে নিতে হবে এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি।

শরীর থেকে দুর্গন্ধ দূর করতে পরিচ্ছন্ন গোসল

পরিচ্ছন্নতার জন্য গরমকালে দু’বার গোসল করে নেয়া ভালো। দুর্গন্ধ দূর করার জন্য বারবার সাবান ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে ত্বকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তবে গোসলে বিশেষ ধরনের সাবান অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সোপ ব্যবহারে উপকার আছে।

ঘাম প্রতিরোধে ডিওডোরেন্ট

শরীরে ঘামজনিত দুর্গন্ধ দূর করার জন্যই ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করা হয়। আর অ্যান্টিপারসপিরেন্ট ঘাম তৈরিতে বাধা দেয়। ডিওডোরেন্ট ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে এবং ঘামকে বিশ্লেষণ করে। ডিওডোরেন্ট গোসলের পরপরই ব্যবহার না করে গোসলের কিছু সময় পর শরীর শুকনো ও ঠাণ্ডা করে তারপর ব্যবহার করুন। এতে ডিওডোরেন্ট দীর্ঘসময় কার্যকারিতা পাবে।

চোখের অস্বস্তি দূর করতে সানগ্লাস

গরমের শাণিত রোদে চোখে অস্বস্তিবোধ হওয়াই স্বাভাবিক। পারলে এ অবস্থায় চোখে সানগ্লাস পরা যেতে পারে। সানগ্লাস চোখকে রোদের অস্বস্তি থেকে রেহাই দেবে।

খেতে হবে শাকসবজি ফলমূল

গরমের দিনে চর্বিযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো। চর্বি জাতীয় খাবার শরীর আরো উত্তাপ লাভ করবে, ঘাম ও অস্বস্তি দুই-ই বাড়বে। চর্বির সাথে অতিমাত্রায় চিনিযুক্ত খাবারও এড়িয়ে চলা স্বস্তিদায়ক। এ সময় নিয়মিত খাবারের তালিকায় যোগ করতে হবে ফলমূল ও শাকসবজি।

অ্যাজমা রোগীদের সতর্ক থাকতে হবে

অতিরিক্ত গরমে অনেকেরই অ্যাজমার সমস্যা তীব্র হয়। এ অবস্থায় অ্যাজমা রোগীরা যাতে গরমের অস্বস্তিকর পরিবেশের মুখোমুখি না হন সে ব্যবস্থা তাদের নিজেদের গ্রহণ করতে হবে। চিকিৎসকের দেয়া চিকিৎসা নিয়মিতভাবে গ্রহণ করতে হবে, মেনে চলতে হবে উপদেশগুলো। এ সময় হাতের কাছে অ্যাজমার জন্য দেয়া শ্বাসনালী প্রসারক ইনহেলারটি হাতের কাছে রাখতে ভুলবেন না।

সূর্যের পোড়া এড়াতে সানস্ক্রিন

সূর্যের দাবদাহ থেকে ত্বককে রক্ষা করার জন্য শরীরের উন্মুক্ত অংশে সানস্ক্রিন ক্রিম মাখা যেতে পারে। সানস্ক্রিন প্রতি তিন ঘণ্টা অন্তর মাখতে হয়। বাজারে বিভিন্ন ধরনের সানস্ক্রিন বা সানব্লকার ক্রিম পাওয়া যায়। আমাদের দেশের জন্য এসপিএফ-১৫ শক্তিসম্পন্ন সানব্লকারই যথেষ্ট বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। গরমে অনেকেরই ত্বক লালাভ হয়ে ওঠে। ত্বকে চাকা চাকা র্যাশও ওঠে অনেকের। এই র্যাশগুলো খুব চুলকায়। এই ধরনের র্যাশ ঠাণ্ডা পরিবেশে অর্থাৎ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকলে কমে যায় বা চলে যায়। অবস্থাটা এ রকম হলে বুঝতে হবে গরমে ত্বকের অতিসংবেদনশীলতার জন্য এমনটি হচ্ছে।

%d bloggers like this: