ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকার

 

বর্তমানে নারী উন্নয়ন নীতিমালা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের দেশের একশ্রেণীর নারী নেতৃবৃন্দ এ ব্যাপারে বিশেষভাবে উচ্চকিত। তাদের সাথে একশ্রেণীর রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও অন্যান্য পেশাজীবী মানুষও নারী উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়নে বিশেষ উৎসাহ প্রদর্শন করছেন। অন্য দিকে দেশের আলেম-মাশায়েখ, ইসলামী চিন্তাবিদ ও বিপুলসংখ্যক ইসলামপ্রিয় জনগণ এর বিরোধিতা করছেন। বিষয়টি আল কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সংশ্লিষ্ট বলে মুসলমানদের কাছে তা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এ বিষয়ের পক্ষে ও বিপক্ষে সমাজের মানুষ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ায় জাতীয় ঐক্য ও সংহতির মূলে তা ক্ষতিকর বিবেচিত হচ্ছে। তাই অবিলম্বে সুস্থ মনমানসিকতা ও যুক্তিপূর্ণ বুদ্ধি-বিবেচনার দ্বারা তার মীমাংসা হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

নারী উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয় পাশ্চাত্য সমাজে, যেখানে নারীকে এক সময় Original Sin বা ‘আদি পাপ’-এর উৎসরূপে গণ্য করা হতো। পাশ্চাত্য সমাজে নারীকে অশুভ শক্তির প্রতীক বা ডাইনি বলা হতো। নারীকে সেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। নারীরা সেখানে শুধু পুরুষের ভোগের বস্তু হিসেবে গণ্য হতো। আধুনিক যুগে ইউরোপে গণতান্ত্রিক ধারা সূচিত হওয়ার পর সেখানে মানবাধিকারের প্রশ্নটি গুরুত্ব লাভ করেছে। তখন থেকেই নারী অধিকার ও নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য পাশ্চাত্যে বিভিন্ন ধরনের সভা-সমিতি-সংগঠন-আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটেছে। অবশ্য নারী স্বাধীনতার নামে সেখানে নারীর প্রকৃত মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে। নারী হয়েছে সেখানে এখন অশ্লীলতা ও বিকৃত রুচির প্রতীক। পণ্যের বিজ্ঞাপন ও পুরুষের কামনার বস্তু হিসেবে সেখানে নারীর ইজ্জত-আববু ও মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও প্রাচীনকাল থেকে নারীরা নির্যাতিত হয়ে আসছে। প্রাচ্যের অনেক ধর্মে নারীকে ‘নরকের দ্বার’ হিসেবে গণ্য করা হতো। নারীকে মনে করা হতো অশুভ-অশুচি হিসেবে। স্বামীর মৃতুøর পর স্ত্রীকে তার সাথে সহমরণে বাধ্য করা হতো। ‘সতীদাহ প্রথা’ আইন করে বন্ধ করা হলেও এখনো তা কোনো কোনো সমাজে গোপনে সংঘটিত হয়। বিধবা নারীদের সাদা শাড়ি পরা, উপবাস করা ও নানা ধরনের আচার-আচরণে বাধ্য করা হতো। বিধবাদের বিয়ে-শাদি করা থেকে বিরত রাখা হতো। এমনকি, পূজা-উৎসব ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে যোগদানেও তাদেরকে বিরত রাখা হতো। মোটকথা, নারীর কোনোরূপ মানবিক মর্যাদা দেয়া হয় না। পৈতৃক অথবা স্বামীর সম্পত্তিতেও নারীর কোনো অধিকার নেই। নারীকে দাসী মনে করা হতো। শিশুকালে তারা পিতার অধীন, যৌবনে স্বামীর ও বৃদ্ধকালে সন্তানের অধীন হিসেবে গণ্য হতো। তাদেরকে কখনো স্বাধীন সত্তা হিসেবে বিবেচনা করা হতো না। প্রাচ্যের অনেক দেশে এরূপ অমানবিক বিধিবিধান ও নারীবিদ্বেষমূলক সামাজিক বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার কারণে প্রাচ্যদেশে হয়তো পাশ্চাত্যের নারী উন্নয়ন নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সেটা বিশেষ বিশেষ জাতি-ধর্ম ও গোত্রের জন্য হতে পারে, মুসলিম সমাজের জন্য নয়।

প্রায় দেড় হাজার বছর আগে ইসলামের আবির্ভাবের পর মুসলিম সমাজে নারীকে যথাযথ মানবিক মর্যাদা ও অধিকার প্রদান করা হয়েছে। আল কুরআন ও সুন্নাহ নারীকে পুরুষের সমান মর্যাদা দিয়েছে। মানবিক অধিকারের ক্ষেত্রেও উভয়ের ন্যায্য পাওনা সম্পর্কে ইসলাম সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। ইসলাম স্রষ্টা-প্রদত্ত জীবনবিধান হিসেবে প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা ওঅধিকারকে সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেছে। রাসূলুল্লাহ সাঃ তাঁর ঐতিহাসিক বিদায় হজের বাণীতেও নারী ও পুরুষের সমমর্যাদার স্বীকৃতি প্রদান করেছেন। এ মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে কয়েকটি বিষয়ের উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করি।

নারী ও পুরুষের বিদ্যা শিক্ষা লাভের অধিকারকে সমান গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যা অর্জনকে ইসলাম সবার জন্য বাধ্যতামূলক করেছে। পুত্র ও কন্যা উভয়ের ভরণ-পোষণ, উপযুক্ত শিক্ষা প্রদান, যথাযথভাবে মানুষ হিসেবে উভয়কে গড়ে তোলা এবং উপযুক্ত বিয়ে-শাদি দেয়াকে পিতা-মাতার দায়িত্ব-কর্তব্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এমনকি, কন্যাসন্তানের ভরণ-পোষণ, উপযুক্ত শিক্ষাদীক্ষা ও সৎ পাত্রস্থ করলে পিতার জন্য জান্নাত অনিবার্য বলে রাসূলুল্লাহ সাঃ ঘোষণা করেছেন। পুত্রসন্তানের জন্য এসব দায়িত্ব পালন পিতামাতার জন্য বাধ্যতামূলক হলেও এ ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো পুরস্কারের উল্লেখ ইসলামে নেই। অবশ্য উভয় ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে পিতামাতার জন্য মন্দ পরিণতির কথা বলা হয়েছে। কিয়ামতের দিন আপন সন্তানরাই পিতা-মাতার দায়িত্ব পালনে গাফিলতির বিষয়ে অভিযোগ আনবে। পিতা-মাতার সম্পত্তিতে পুত্রের যেমন অধিকার রয়েছে, কন্যারও অনুরূপ অধিকার ইসলামে স্বীকৃত। অবশ্য এ ক্ষেত্রে কন্যাসন্তানের অধিকার সঙ্গতভাবেই পুত্রসন্তানের অর্ধেক করা হয়েছে। কারণ কন্যাসন্তান বিয়ের পর স্বামীর কাছ থেকে মোহরানা পায়, উপরন্তু তার নিজের ও সংসারের খরচাদি নির্বাহের দায়িত্ব সম্পূর্ণ স্বামীর ওপর ন্যস্ত। সন্তান প্রতিপালন করাও পিতার দায়িত্ব। উপরন্তু নারীরা উত্তরাধিকার সূত্রে পিতা-মাতা ও স্বামীর কাছ থেকে (মোহরানা, গয়না, পোশাক-পরিচ্ছদ ইত্যাদিসহ) যা কিছু পায় তার ওপর সম্পূর্ণ অধিকার ও কর্তৃত্ব স্ত্রীর নিজের। উপরন্তু স্ত্রী যদি তার অর্থসম্পদ খাটিয়ে কোনো মুনাফা অর্জন করে অথবা ব্যবসা-বাণিজ্য-চাকরি ইত্যাদির মাধ্যমে কোনো অর্থসম্পদ উপার্জন করে তাহলে সেটাও সম্পূর্ণ তার নিজের। অবশ্য স্ত্রী যদি নিজের ইচ্ছায় তার অধিকারভুক্ত অর্থসম্পদ থেকে কোনো কিছু স্বামীকে প্রদান করে, সংসারে ব্যয় করে অথবা দান-খয়রাত করে, তাহলে সেটা স্বতন্ত্র। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।

নারীদের জীবনে কন্যা, বধূ, মা­ এ তিনটি বিশেষ স্তর রয়েছে। ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশ্‌ত’ বলে রাসূলুল্লাহ সাঃ ঘোষণা দিয়েছেন। পিতার চেয়ে মায়ের মর্যাদাকে তিনগুণ বেশি বলে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। পিতা-মাতার খেদমত এবং তাদের সন্তুষ্টি বিধান করা ব্যতিরেকে কোনো সন্তানই বেহেশ্‌তে যেতে পারবে না। স্ত্রীর মোহরানা আদায় করা স্বামীর জন্য ফরজ। স্ত্রীর ভরণ-পোষণ এবং তার সাথে সদাচার করা স্বামীর জন্য ইসলাম বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। কন্যাসন্তানের বিষয় আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। বস্তুত ইসলাম নারী জাতিকে যথাযথ মর্যাদা ও অধিকার প্রদান করেছে। বলা যায়, ইসলাম নারীকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে অধিক মর্যাদা প্রদান করেছে। উপরন্তু নারীর জন্য পর্দাপ্রথার ব্যবস্থা করে, নারী-পুরুষের অবাধ অসঙ্গত মেলামেশাকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং নারী-পুরুষের স্বাভাবিক পবিত্র দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে নারীর মর্যাদাকে সমুন্নত করেছে, সামাজিক শালীনতা ও পারস্পরিক সম্ভ্রমপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে সুস্থ জীবন বিকাশের ওপর ইসলাম গুরুত্ব আরোপ করেছে।

তাই, ইসলাম নারীকে যথাযথ মানবিক মর্যাদা ও অধিকার প্রদান করেছে। এ কথা আমরা অনেকেই ভুলে যাই যে, ইসলাম স্রষ্টা-প্রদত্ত একটি পূর্ণাঙ্গ সুষম জীবনবিধান। এর মধ্যে যেমন কোনো অপূর্ণতা ও অসঙ্গতি নেই, তেমনি এতে কোনো ব্যক্তি-শ্রেণী-গোষ্ঠী-বর্ণ বা লিঙ্গের প্রতিও বৈষম্য করা হয়নি। সবাই আল্লাহর সৃষ্ট, কারো প্রতি স্রষ্টার কোনো বিশেষ পক্ষপাতিত্ব বা বিদ্বেষ থাকার প্রশ্নই ওঠে না। পুরুষ যেমন আল্লাহর সৃষ্ট, নারীও তেমনি আল্লাহর সৃষ্ট। মানুষের ্বংশ-ধারা রক্ষার জন্য এবং নারী ও পুরুষ উভয়ের জীবনে শান্তি-স্বস্তি ও সৌহার্দøপূর্ণ আন্তরিক পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই নারী ও পুরুষকে স্বতন্ত্র দৈহিক কাঠামো দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ স্বাতন্ত্র্য কোনো বৈষম্যের সৃষ্টি করে না, বরং উভয়ের পারস্পরিক সম্পর্ককে অধিকতর সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তোলে। তাই নারী উন্নয়ন নীতিমালা অন্যদের জন্য প্রয়োজনীয় বিবেচিত হলেও মুসলিম সমাজ তথা মুসলিম বিশ্বের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়। মহান স্রষ্টা নারীজাতির জন্য যে নীতিমালা প্রদান করেছেন, সেটা সব দিক দিয়ে সর্বোত্তম, সুসম্পূর্ণ ও ন্যায়ানুগ। ইসলামের নীতিমালা প্রকৃতপক্ষে সমগ্র মানব জাতির জন্যই প্রদত্ত। তাই এ নীতিমালা গ্রহণ করে শুধু মুসলিম নারীই নয়, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-স্থান নির্বিশেষে বিশ্বের সব নারীই যথার্থ উপকৃত হতে পারেন।

দুর্ভাগ্যবশত আমরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা সম্পর্কে অজ্ঞ। আমি মনে করি, ইসলামের বিধিবিধান সম্পর্কে সম্যক অবগত হলে আমরা পাশ্চাত্যের প্রণীত নীতিমালা নয়, ইসলামের নীতিমালাকেই সর্বোৎকৃষ্ট বিবেচনা করে তার বাস্তবায়ন ও অনুশীলনে তৎপর হবো। অধুনা প্রগতি, মানবাধিকার, নারীস্বাধীনতা ইত্যাদি বিশেষ কতগুলো মুখরোচক শব্দ সমাজে বিশেষভাবে প্রচার করা হচ্ছে। এর দ্বারা আমাদের বিশ্বাসে চিড় ধরানো এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সামাজিক মূল্যবোধ থেকে আমাদেরকে বিচুøত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। আমি দৃঢ় আস্থার সাথে বলতে পারি যে, নারীস্বাধীনতা ও প্রগতির নামে আমাদের দেশের যেসব আধুনিক শিক্ষিত নারী বিভিন্ন ধরনের দাবি উত্থাপন ও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, তারা কেউ ইসলামকে জানার চেষ্টা করেননি। যেসব রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও পেশাজীবী ব্যক্তি ও শ্রেণী পাশ্চাত্যের প্রণীত নারী উন্নয়ন নীতিমালা সমর্থন করছেন, তারাও ইসলাম সম্পর্কে সম্যক অবগত হওয়ার চেষ্টা করেননি। তাই যুক্তি ও তাদের বিবেকের প্রতি ঐকান্তিক আহ্বান জানাই এ বলে যে, আসুন আমরা সবাই ইসলামকে যথাযথরূপে জানার চেষ্টা করি। ইসলাম শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, এটা সমগ্র মানব জাতির জন্য সমভাবে প্রযোজ্য ও কল্যাণকর। ইসলাম মুসলমানদের তৈরি করা কোনো বিধান নয়। মানব জাতির যিনি স্রষ্টা, তিনিই এ বিধান প্রণয়ন করেছেন। তাই, ইসলামকে সঙ্কীর্ণ অর্থে কোনো বিশেষ শ্রেণী বা মৌলবাদীদের বিষয় বলে আখ্যায়িত না করে, এটাকে স্রষ্টা-প্রদত্ত সম্পূর্ণাঙ্গ, কল্যাণকর ও সার্বজনীন বিধান হিসেবে গ্রহণ ও অনুসরণ করলে সবাই তা থেকে উপকৃত হবে। কোনোরূপ আবেগ, অন্ধতা, সঙ্কীর্ণতা ও সাম্প্রদায়িকতার মোহাচ্ছন্নতার ঊর্ধ্বে উঠে স্বচ্ছতা, যুক্তি ও উদারচিত্ততার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উপলব্ধির চেষ্টা করা প্রয়োজন। তাহলেই প্রকৃত মুক্তি ও কল্যাণ আসবে। অহেতুক বিভেদ-বিদ্বেষ ও পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ বর্জন করে শান্তি-সমৃদ্ধিপূর্ণ-কল্যাণকর সমাজ প্রতিষ্ঠার কাজে অগ্রসর হওয়া আজ সবার একান্ত কর্তব্য।

Advertisements

পৃথিবীতে মহাকাশের সৌরশক্তি!

মহাকাশ থেকেই সৌরশক্তি সংগ্রহ করে মাইক্রোওয়েভে রুপান্তর করে সেটি পৃথিবীতে ব্যবহার করা যাবে। জাপানি অ্যারোস্পেস এক্সপেস্নারেশন এজেন্সি, মিতসুবিসি ইলেকট্রিক করপোরেশন এবং কিয়েটো ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এই সৌরশক্তির উৎপাদন গবেষণায় একত্রে কাজ করছেন। গবেষকদের বরাতে জানা গেছে, কিয়োটো ইউনিভার্সিটিতে গবেষকরা নতুন এই পদ্ধতিতে সৌরশক্তি ব্যবহার করে বিদু্যৎ উৎপাদন করবেন। গবেষণা সফল হলে মহাশূন্যে পাঠানো স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিদু্যৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। উলেস্নখ্য, ২০১৬ সালে এই স্যাটেলাইট পাঠানো হবে। গবেষকরা জানান, এই পদ্ধতিতে বিদু্যৎ উৎপাদন করা গেলে তা ব্যবহূত সৌরপ্যানের চেয়ে ১০গুণ বেশি কার্যকর হবে।

আল্লাহর জিকির-এর গুরুত্ব ও ফজিলত

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন-“তোমরা স্মরণ কর, আমি তোমাদের স্মরণ করব”। (সূরা আল-বাকারা. ১৫২) এই আয়াতে আল্লাহ তাকে স্মরণ করতে বলেছেন, তিনি স্মরণকারীদের ডাকে সাড়া দেবেন। হযরত মুয়ায (রা.) বলেন- “আল্লাহর আযাব থেকে মুক্ত করার ব্যাপারে মানুষের কোন আমলই যিকরুল্লাহর সমান নয়। সূরা আল মুমিন এর ৬০ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন- “তোমরা আমায় ডাকো, আমি তা শুনব”। আল্লাহতায়ালা আরো বলেন- “তোমরা আল্লাহকে খাঁটি বিশ্বাসের সহিত ডাক”। আল্লাহ অন্যত্র বলেন- ” আলস্নাহ শুধু পরহেজগার লোকদের আমলকেই কবুল করেন”। এক হাদিসে মহানবী (স.) বলেন- আল্লাহ তায়ালা গাফেল ও অমনোযোগী লোকদের দোয়া কবুল করেন না। প্রসঙ্গত একটি বিষয়ের অবতারণা করা দরকার। অনেকে মনে করেন যে, উচ্চস্বরে আল্লাহকে স্মরণ করার নামই যিকির; মনে মনে বা চুপিসারে কোন কিছু বললে তা যিকির হয় না। এ ধারণা ভুল। যিকির এর শাব্দিক অর্থ ‘স্মরণ’। যার আসল স্থান হচ্ছে ব্যক্তির মন বা অন্তকরণ। অর্থাৎ কোন কথা মনের ভেতর জাগ্রত হলে তাকেই বলা হয় যিকির। এই যিকিরের প্রকাশ ঘটতে পারে নানাভাবে। এটা যেমন মুখের ভাষায় প্রকাশ করা যেতে পারে তেমনি বাস্তব কাজের মাধ্যমেও এর অভিব্যক্তি ঘটে। যেমন আল্লাহ বলেন- তুমি নামায কায়েম কর আমার যিকিরের জন্য (ত্বাহা-১৪)। নামাযের প্রাণ হচ্ছে আল্লাহকে স্মরণ। সমগ্র নামাযে আমরা আল্লাহকে স্মরণ করে থাকি। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা আছে সবকিছুই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। আল্লাহর যিকির অনেক বড় জিনিস। আল্লাহর দরবারে উপস্থিত ফেরেশতাগণ সর্বদা আল্লাহর তাসবীহ্ পাঠ করতে থাকে। এ ব্যাপারে তারা বিন্দুমাত্র বিরত থাকে না। আল্লাহ বলেন- খোদার আরশ বহনকারী এবং যারা তার চারপাশে উপস্থিত, তারা সবাই তার প্রশংসা সহকারে তাসবীহ পাঠ করছে পাহাড়-পর্বত, পাখ-পাখিরাও আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকে। আল্লাহ বলেন- ‘দাউদের সঙ্গে আমরা পাহাড়-পর্বত ও পাখিদেরও নিয়ন্ত্রিত ও কাজে নিযুক্ত করে দিয়েছিলাম। তারা তাসবীহ পাঠ করতো। এ কাজের কর্তা আমরাই ছিলাম;। (আম্বিরা-৬৯) আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আল্লাহ তায়ালা হযরত মুহাম্মদ (স.)কে সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর প্রশংসা সহকারে তার তাসবীহ পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)কে যিকির করার নিয়ম বলে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমার প্রভুকে স্মরণ করো অন্তরে বিনয় ও ভীতি সহকারে এবং উচ্চ আওয়াজের পরিবর্তে নিম্নস্বরে সকাল ও সন্ধ্যায়। আর তুমি গাফিল লোকদের মধ্যে শামিল হয়ো না (আরাফ-২০৫)। হযরত জাকারিয়া (আ.) কে আল্লাহ তায়ালা বিশেষভাবে যিকিরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। হযরত ইয়াহইয়া (আ.)-এর জন্মের নিদর্শন স্বরূপ আলস্নাহ তার বৃদ্ধ পিতা জাকারিয়া (আ.)কে তিনদিন কথা বন্ধ রাখতে আদেশ দিয়েছিলেন এবং এই সময় বেশি করে সকাল-সন্ধ্যা তার তাসবীহ পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহর যিকিরই হেদায়েতপ্রাপ্ত লোকদের বৈশিষ্ট্য। এ প্রসঙ্গ আল্লাহ বলেন- “আল্লাহ যে সব গৃহকে মর্যাদায় উন্নীত করার এবং সেগুলোতে তার নাম উচ্চারণ করার আদেশ দিয়েছেন সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে” (সূরা নূর-৩৬)। প্রকৃত ঈমানদার লোকের বৈশিষ্ট্য হলো, তারা বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করে। আর সে সব লোকদের অন্তর আল্লাহর যিকির শূন্য তাদের অনুসরণ করতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন। সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফের হাদিসে উলেস্নখ রয়েছে, হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেন_ যে ব্যক্তি তার প্রভুর যিকির করে আর যে ব্যক্তি তার প্রভুর যিকির করে না, তাদের দৃষ্টান্ত হয়েছে জীবিত ও মৃতের ন্যায়।

জনপ্রতিনিধিদের কুরআনিক দায়িত্ব

নির্বাচন হয়েছে দেশে। নির্বাচিত হয়েছেন সিটি মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, কাউন্সিলর ও কমিশনাররা; যাদের প্রায় ৯৮ শতাংশই মুসলমান। মুসলমানদের ঈমান হলো, ক্ষমতা দেয়ার মালিক আল্লাহ। ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়ার মালিকও আল্লাহ। বাস্তবেও তাই। আল্লাহ বলেন, ‘ বলুন, হে আল্লাহ তুমিই রাজ্য ও রাজত্বের মালিক, যাকে চাও তাকে রাজত্ব দান করো, যার থেকে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নাও।’ আল কুরআন। দুনিয়ায় শান্তিময় পরিবেশ বজায় রাখার এবং মানুষ যাতে সুখ-শান্তিতে জীবন যাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে আল্লাহ তাদেরকে দিয়েছেন পরিপূর্ণ ইসলামী জীবনাদর্শ। মানে শান্তিপূর্ণ জীবনবিধান। ইসলাম শব্দের অর্থও শান্তি। মানবসমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বজায় রাখার জন্য মানুষের মধ্য থেকে কিছু উপযুক্ত লোক বাছাই করে তাদেরকে সমাজের নেতা নির্বাচিত করার দায়িত্বও ইসলাম মানুষকে দিয়েছে। এ কারণেই আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো এবং আনুগত্য করো তোমাদের দায়িত্বশীলদের।’ আল কুরআন। রাসূল সাঃ বলেন, ‘যে আমির অর্থাৎ দায়িত্বশীলের আনুগত্য করল, সে আমার আনুগত্য করল, যে আমার আনুগত্য করল সে আল্লাহর আনুগত্য করল।’ আল হাদিস। তবে সে আনুগত্যের সীমা কী হবে তাও আল্লাহর রাসূল সাঃ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর নাফরমানি করে কোনো মানুষের আনুগত্য করা যাবে না।’ সে যেই হোক­ আল হাদিস। সামাজিক শান্তি, নিরাপত্তা, সঠিক দায়িত্ব পালন এবং সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য মানুষের স্রষ্টা আল্লাহ ছুবহানাহুতায়ালা সমাজের কিছু মানুষকে নেতৃত্বের আসনে সমাসীন করেন। তাদের দায়িত্ব কী হবে সে ব্যাপারেও নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মুসলমানদের যদি কোনো এলাকার দায়িত্বশীল করি­ তাদের চারটি প্রধান কাজঃ (১) সে এলাকায় নামাজ কায়েম করা, (২) জাকাত আদায় করা, (৩) সৎ ও কল্যাণময় কাজের আদেশ জারি করা এবং (৪) অসৎ ও অন্যায় কাজ নিষিদ্ধ করা। আল-কুরআন।

নামাজ বা সালাতঃ রাষ্ট্রীয় সামাজিক, প্রশাসনিক ও মানবিক অন্যায় দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে উপরিউক্ত চারটি কাজও মুসলমান নেতাদের জন্য অবশ্য কর্তব্য। সালাত শব্দের অর্থ ক্ষমা ও রহমত। সালাতের মাধ্যমে নিজের জন্য ক্ষমা এবং সমাজের জন্য আল্লাহর রহমত লাভ করা যায়। তাই এর নাম সালাত।

আল্লাহর নবী সাঃ বলেন, ‘যে নামাজ বর্জন করল সে দ্বীন বরবাদ করে দিলো।’ নাউজুবিল্লাহ। আল্লাহর নবী আরো বলেন, ‘যে ইচ্ছা করে নামাজ পরিহার করল সে কুফরি করল।’ হজরত উমর রঃ তার শাসনামলে আঞ্চলিক গভর্নরদের চিঠি লিখে নামাজের ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন, ‘আমি তোমাদেরকে নামাজের ব্যাপারে সাবধান করছি, এটা তোমাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব।

জাকাতঃ জাকাত শব্দের অর্থ পবিত্র করা। জাকাতের মাধ্যমে নিজের সম্পদ ও আত্মাকে এবং সমাজকে দারিদ্র্য থেকে পবিত্র করা হয়; তাই এর নাম জাকাত। জাকাত দেয়া সম্পদশালী মুসলমানদের জন্য ফরজ। জাকাত যারা দেবে না, তারা শুধু দুনিয়ায় জানমালের ক্ষতির সম্মুখীন হবে তা নয়, আখেরাতেও জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে। যারা জাকাত দেবে, আল্লাহর রাস্তায় দান করবে, গরিব অসহায় মানুষকে সাহায্য করবে, তারা দুনিয়ায় সুখ পাবে, শান্তি পাবে, কেয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের নিচে ছায়া পাবে এবং জান্নাতি হওয়ায় সৌভাগ্য লাভ করবে। আলহামদুলিল্লাহ। জাকাত দেয়া মুসলমানদের জন্য ফরজ। জাকাত আদায় করে গরিবদের মাঝে বিলি-বণ্টন করা ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলিম নেতা ও সরকারের দায়িত্ব। তাই আল্লাহ ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্রের কর্ণধারকে জাকাত সংগ্রহ করে স্থানীয় গরিবদের মাঝে বণ্টন করার এবং তাদের পুনর্বাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে শর্ত হলো ওই সব কর্ণধারের মধ্যে ইসলামী গুণ ও জ্ঞান থাকতে হবে।

সৎ কাজের আদেশঃ সৎ কাজের আদেশ দেয়ার ব্যাপারে কুরআনে আল্লাহ বারবার হুকুম দিয়ে আয়াত নাজিল করেছেন। ইসলামী শরিয়তে ফরজ কাজগুলোর পর এটিকেও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ কাজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। হজরত আলী রাঃ বলেন, উত্তম আমল হলো সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বাধাদান। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সৎ কাজের আদেশ দেবে, অসৎ কাজে বাধা দেবে।’ আল কুরআন। আল্লাহ বলেন, যুগের কসম, সব মানুষই ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। তবে তারা ছাড়া­ যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করে সত্য এবং ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেয় তারা ব্যতীত। আল কুরআন। সৎ কাজে আদেশ দেয়ার এ দায়িত্ব পালনে মুসলমান সমাজ গাফিল হওয়ার কারণেই দেশ ও সমাজে এত অরাজকতা জন্ম নিচ্ছে। প্রত্যেক মুসলমান স্ব স্ব স্থানে নিজ ক্ষমতা অনুযায়ী সৎ কাজের আদেশ দেয়ার ইসলামী দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করলে দেশ ও রাষ্ট্রে এত অনাচার জন্ম নেয়া এবং বৃদ্ধি পাওয়া কোনো দিনই সম্ভব হতো না; বরং দেশ ও সমাজ সুখ-শান্তির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হতো। আল্লাহ বলেন, ‘এলাকার লোকেরা যদি ঈমান আনে এবং আল্লাহকে ভয় করে চলে আমি আসমান জমিনের বরকতের সব দরজা তাদের জন্য খুলে দিতাম।’ আল-কুরআন।

অসৎ কাজে বাধাঃ ইসলামী বিধান অনুযায়ী অসৎ কাজে বাধা দান মুসলমানদের একটি মৌলিক দায়িত্ব। মুসলমানরা এ দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করলে কোনো ধরনের পাপই সমাজে জন্ম নিত না। কারো পক্ষেই ইসলাম, মানবতা, দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করা সম্ভব হতো না। আল্লাহ ও রাসূলবিরোধী কাজে বাধা দেয়ার দায়িত্ব পালন না করায় আজ দেশ ও সমাজে হাজারো অন্যায় ও পাপের জন্ম দিচ্ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে আল্লাহর গজব ও অনাচার। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, খুন, গুপ্তহত্যা, নারী নির্যাতন ও জঙ্গিবাদ। আল্লাহর নবী সাঃ বলেন, ‘কোনো জনপদে যদি কেউ পাপের কাজ করে, অন্যরা ক্ষমতা ও সুযোগ থাকার পরও তাকে পাপকাজ থেকে বিরত না রাখে, তাহলে মৃতুøর আগেই আল্লাহ তাদের সবার ওপর আজাব নাজিল করবেন। হজরত আবু দারদা রাঃ অপর এক হাদিসে বর্ণনা করে বলেন, আল্লাহর নবী সাঃ বলেছেন, ‘তোমরা যদি সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা না দাও, আল্লাহ তোমাদের ওপর জালিম বাদশা বসিয়ে দেবে, সে তোমাদের বড়জনদের সম্মান দেবেন না এবং ছোটদেরকে দয়া করবে না। এমনকি সে সময়ে ভালো মানুষও দোয়া করলে সে দোয়া কবুলও হবে না।’ আল-হাদিস।

নামাজ কায়েম করা ধনীদের থেকে জাকাত আদায় করে গরিবদের মাঝে ঠিকভাবে বণ্টন করা, সৎ কাজের আদেশ কার্যকর এবং অসৎ কাজ বন্ধ করা যেহেতু কঠিন কাজ, সেহেতু যারা ক্ষমতার অধিকারী হয় তাদেরকেই এই চারটি দায়িত্ব বিশেষভাবে পালন করার জন্য আল্লাহ আদেশ নাজিল করেছেন। যারাই সমাজ ও জনগণকে সুখ-শান্তি দিতে চায় এবং আল্লাহর গজব ও আজাব থেকে বাঁচাতে চায় তাদের উচিত আল্লাহ প্রদত্ত কুরআনিক এই চারটি দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করা। আল্লাহর আদেশ হিসেবে এ দায়িত্ব পালন তাদের জন্য ফরজ। এ জন্যই আল্লাহর রাসূল সাঃ বলেছেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই রাখাল। তোমাদের প্রত্যেককেই তোমাদের অধীনস্থদের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে।’ আল-হাদিস।

মিডিয়ার দায়িত্ব ও কর্তব্য

বর্তমানে মিডিয়া কিভাবে আমাদের জীবনে স্থান করে নিয়েছে তা আমরা সবাই জানি। মিডিয়ার হামলা ও আগ্রাসন থেকে আজ আমরা কেউই নিরাপদ নই। সবার ঘরে ঘরে মিডিয়া ঢুকে পড়েছে। প্রতিটি বাড়িতেই টিভি নামের আধুনিক আবিষ্কার জায়গা করে নিয়েছে। শুধু বাড়িতে কেন, প্রতিটি দোকানে দোকানে শোভা পাচ্ছে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি সমৃদ্ধ টেলিভিশন। শহর কিংবা গ্রাম- সর্বত্র থাবা বিস্তার করেছে আধুনিক মিডিয়া। কম্পিউটার আর মোবাইল এসে যেন মিডিয়াকে পাগলা ঘোড়ার পিঠে বসিয়ে দিয়েছে। সবার ঘরে ঘরে ঢোকার পর মিডিয়া ঢুকে পড়েছে এখন সবার পকেটে পকেটে। পৌঁছে গেছে শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবার হাতে। যারা টিভির রাহুগ্রাসে আটকা পড়েন নি, তারাও উপেক্ষা করতে পারেন না খবরের কাগজ কিংবা এফএম রেডিওকে। খবরের কাগজ তো আমরা সবাই পড়ি।

কতই না ভালো হতো যদি মিডিয়াগুলো শুধু ন্যায় ও সুন্দরের পথ দেখাতো। অবিচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতো। এটিই আসলে মিডিয়ার দায়িত্ব। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে আমরা দেখি, মিডিয়া সে দায়িত্ব পালন না করে মন্দের প্রচারেই অধিক ব্যস্ত। মন্দ ও অসুন্দরের সঙ্গেই মিডিয়ার যত সখ্য। মিডিয়ার দায়িত্ব মানুষের কাছে সঠিক তথ্য ও প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা। নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে মানুষের ভালো-মন্দ এবং সুখ-দুখের কথা সবার সামনে উপস্থাপন করা। ক্ষমতাসীনদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া। মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যাবতীয় দুঃখ-বেদনা ও প্রয়োজনের প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। পাশাপাশি সরকারের অন্যায় ও জনস্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক সমালোচনা করা। মানুষকে সরকারের অপকর্ম ও অনৈতিক কাজকর্ম সম্পর্কে সচেতন করাও মিডিয়ার অন্যতম দায়িত্ব।

আমাদের মিডিয়াগুলো যথাযথভাবে এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রায় মিডিয়াকেই দেখা যায় অনুমাননির্ভর তথ্য, অসত্য ঘটনা আর যৌন উত্তেজক খবরের প্রতি বেশি আগ্রহী। ইদানীং প্রায়ই দেখা যায় ঘটনার গভীরে না পৌঁছে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সাংবাদিকরা কারো পক্ষে হয়ে কিংবা কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন। অনেকে হলুদ সাংবাদিকতা ও তথ্য সন্ত্রাসের আশ্রয় নেন।

মিডিয়ায় যারা কাজ করেন, যারা মানুষের সুখ-দুখের কথা তুলে ধরেন মিডিয়ার মাধ্যমে এবং সুদূর পল্লীর খবর প্রচার করেন যারা জাতির সামনে তারা হলেন মিডিয়াকর্মী ও সাংবাদিক। সাংবাদিকদের বলা হয় জাতির বিবেক। সংবাদপত্রকে বলা হয় সমাজের দর্পণ। তাই সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের হতে হবে দায়িত্ব সচেতন। মিডিয়াকর্মীদের হতে হবে আপন দায়িত্ব সম্পর্কে পূর্ণ সজাগ। 

মানব জীবনের আর সব বিষয়ের মতো ইসলাম এ ব্যাপারেও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। ইসলামের আদর্শের দাবি, মানুষের সামনে সংবাদ তুলে ধরতে হবে সঠিক সংখ্যা ও পরিসংখ্যান দিয়ে। রক্ষা করতে হবে সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা। কারো ক্রিড়নক হয়ে বা ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য কারোও বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো যাবে না। সাংবাদিক ও মিডিয়াকর্মীদের সতর্ক করে আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا (36)

‌’আর যে বিষয় তোমার জানা নাই তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয় কান, চোখ ও অন্তকরণ- এদের প্রতিটির ব্যাপারে সে জিজ্ঞাসিত হবে।’[1][1]

সমাজের প্রতি আমাদের সবারই দায়বদ্ধতা রয়েছে। যাচ্ছে তাই লেখা যাবে না। যা শুনলাম তাই প্রচার করা যাবে না। মিডিয়ার কাছে এমন কিছু প্রচার কাম্য নয়, যাতে মন্দ ছাড়া ভালো কিছু নেই। মিডিয়া হয়তো অনেক ক্ষমতাধর। শক্তিমানরাও ভয় পায় সাংবাদিককে। তাই বলে মিডিয়ার শক্তির অপপ্রয়োগ করা যাবে না। আমরা হয়তো সরকার বা রাষ্ট্রকে ফাঁকি দিতে পারি; কিন্তু আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসীমাত্রেই ভুলে গেলে চলবে না যে একদিন আমাকেও যেতে হবে তাঁর কাছে এবং হতে হবে হিসাবের সম্মুখীন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ثُمَّ إِلَيْنَا تُرْجَعُونَ (57)

‘প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে, তারপর আমার কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।’[2][2]

অন্যত্র তিনি ইরশাদ করেন,

وَقِفُوهُمْ إِنَّهُمْ مَسْئُولُونَ (24)

‘আর তাদেরকে থামাও, অবশ্যই তারা জিজ্ঞাসিত হবে।’[3][3]

কারও প্রশংসা করতে গিয়ে অতিরঞ্জন করা যাবে না। তেমনি কারো কুৎসা গাইতে গিয়েও সীমালঙ্ঘন করা যাবে না। কথা বলতে হবে সততা ও নিরপেক্ষতার অবস্থান থেকে। সাংবাদিকরা কারো পক্ষ নন। হ্যা, পক্ষ কেবল সত্যের। সুতরাং পছন্দের দল-মতের প্রশংসায় অতিরঞ্জন কিংবা বিপক্ষ দল-মতের বিরুদ্ধে অসত্য কথনÑ কোনোটাই কাম্য নয়। আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে আমরা এমনটি করি বলেই সমাজে এতো বিভেদ আর হানাহানি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا

‌’আর যখন তোমরা কথা বলবে, তখন ইনসাফ কর।’[4][4]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ

‘সেই প্রকৃত মুসলিম যার মুখ ও হাতের অনিষ্ট থেকে মুসলমান নিরাপদ থাকে।’[5][5]

অন্যত্র তিনি ইরশাদ করেন,

وَاللَّهِ لاَ يُؤْمِنُ وَاللَّهِ لاَ يُؤْمِنُ وَاللَّهِ لاَ يُؤْمِنُ قِيلَ ، وَمَنْ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ الَّذِي لاَ يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَايِقَهُ.

‘আল্লাহর কসম সে মুমিন হবে না, আল্লাহর কসম সে মুমিন হবে না, আল্লাহর কসম সে মুমিন হবে না। বলা হলো, কে হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন, যার প্রতিবেশি তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ নয়।’[6][6]

যা বলা হবে, যা লিখা হবে বা যা-ই দেখানো হবে সেখানে ইনসাফ ও ন্যায়ের ওপর অবিচল থাকতে হবে। সত্য ও সততার প্রতি নিষ্ঠা দেখাতে হবে। আর অবশ্যই নেতিবাচকতা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে। অগ্রাধিকার দিতে হবে ইতিবাচকতাকে। খারাপ শব্দ ও খারাপ দৃশ্য এড়িয়ে যেতে হবে যেকোনো মূল্যে। দূরে থাকতে হবে অশ্লীলতা ও বেলেল্লাপনা থেকে। সচেষ্ট হবে মার্জিত শব্দ ও নির্দোষ চিত্র তুলে ধরতে। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর মাধ্যমে আমাদের বলছেন,

وَقُلْ لِعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ

‘আর আমার বান্দাদেরকে বল, তারা যেন এমন কথা বলে, যা অতি সুন্দর।’[7][7]

আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন,

ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ

‘তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান কর এবং সুন্দরতম পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর।’[8][8]

অশ্লীল ও মন্দ কথা এবং অপ্রয়োজনীয় কথা ও কর্মের সমালোচনা করে আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ

‘আর মানুষের মধ্য থেকে কেউ কেউ না জেনে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বেহুদা কথা খরিদ করে।’[9][9]

এখানে বেহুদা কথা বলে গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্রকে বুঝানো হয়েছে। নীতি-নৈতিকতাহীন যাবতীয় প্রচারণাও এর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব আমরা যে সমাজে বাস করি, যে সমাজটাকে আমরা শান্তির বাগান বানাতে চাই, তাকে ভালো করতে হলে, নিরাপদ ও সুখময় হিসেবে গড়ে তুলতে হলে অন্যদের মতো সাংবাদিক ভাইদেরও সৎ, আদর্শবান ও আপোষহীন হতে হবে। সমাজের সবাইকে হতে হবে সত্যনিষ্ঠ এবং অবশ্যই আল্লাহর অনুগত বান্দা। ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং আল্লাহর ভয় ছাড়া কা‌ঙ্ক্ষিত সমাজের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

ব্রেইনের জন্য ১০টি খারাপ অভ্যাস

 

প্রতিনিয়ত অভ্যাসবশত আমরা কিছু কাজ করে থাকি যা আমাদের ব্রেইনের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই ব্রেইনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সতর্ক হওয়ার জন্য জেনে নেয়া যাক সেই অভ্যাসগুলো।
১. সকালে নাশতা না করা : আমরা অনেকেই ব্যস্ততার কারণে সকালের নাশতা না করেই বাসা থেকে বের হয়ে যাই। কিন্তু এই অভ্যাসটা খুব খারাপ। কারণ সকালে নাশতা না করলে নিম্ন রক্ত শর্করার কারণে আমাদের ব্রেইনে পর্যাপ্ত শর্করা তথা পুষ্টি পায় না। এতে করে ধীরে ধীরে ব্রেইন মারাত্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ব্যস্ততা সত্ত্বেও সকালের নাশতা করতে ভুলে যাবেন না।
২. অতিরিক্ত ডায়েট গ্রহণ : অনেক সময় আমরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত ডায়েট গ্রহণ করি। ধারণা করা হয়, মাঝে মাঝে এরকম অতিরিক্ত ডায়েটে কী আর হবে! কিন্তু ধারণাটা ভুল। কারণ অতিরিক্ত ডায়েট গ্রহণের অভ্যাস আমাদের ব্রেইনের রক্তনালীর ইলাস্টিসিটি নষ্ট করে দেয়, ফলে অনেক ধরনের মানসিক সমস্যার উত্পত্তি হয়। তাই সর্বদা সচেতন হোন এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত ডায়েট গ্রহণে বিরত থাকুন।
৩. ধূমপান : ধূমপান নানা রোগের অন্যতম কারণ। ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব বলে শেষ করে যাবে না। তাই যারা ধূমপান করেন তাদের জন্য সতর্কবার্তা—ধূমপানে কেবল ফুসফুস ক্যান্সার নয় বরং এতে করে ব্রেইন সঙ্কুচিত হয়ে যায় ফলে আলঝেইমার নামক স্মৃতিবিলোপকারী রোগের উদ্ভব হয়।
৪. অতিরিক্ত মিষ্টি গ্রহণ : অনেকের ধারণা মিষ্টি বেশি খেলে ব্রেইন ভালো হয়। কিন্তু আসলে অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে সেটা আমিষ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের পরিপাক ও শোষণে বাধা সৃষ্টি করে যা ব্রেইনের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং ব্রেইনের বিকাশ সাধনের অন্তরায়।
৫. বায়ু দূষণ : বায়ু দূষণের জন্য আমাদের ব্রেইনের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়। কারণ বায়ু দূষণের ফলে অক্সিজেন সমৃদ্ধ বাতাস আমাদের ব্রেইনে যেতে পারে না। ফলে ব্রেইন ধীরে ধীরে পুষ্টির অভাবজনিত কারণে স্বাভাবিক কার্যকরী ক্ষমতা হারাতে থাকে। তাই বায়ু দূষণযুক্ত পরিবেশ থেকে দূরে থাকুন এবং বায়ু দূষণ রোধে নিজে ও অন্যকে সচেতন করুন।
৬. নিদ্রাহীনতা : ঘুম আমাদের ব্রেইনের বিশ্রামের জন্য জরুরি। তাই পর্যাপ্ত ঘুম ব্রেইন কোষের স্বাভাবিক কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যারা দীর্ঘদিন যাবত নিদ্রাহীনতায় ভুগছেন কিংবা কাজের ব্যস্ততার জন্য ঘুমানোর সময় পাচ্ছেন না তাদের জন্য বলছি, নিদ্রাহীনতা আমাদের ব্রেইনের কোষের মৃত্যুর জন্য দায়ী। সুতরাং পর্যাপ্ত ঘুমকে কেবল সময় নষ্ট হিসেবে নয় বরং ব্রেইনের বিশ্রামের জন্য দরকারি হিসেবে নিন।
৭. ঘুমানোর সময় মাথা আবৃত করা : ঘুমাতে যাওয়ার আগে মাথা খোলা রেখে ঘুমানো ব্রেইনের জন্য উপকারী। কারণ মাথা আবৃত করে ঘুমালে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ ঘনীভূত হয় এবং অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। এতে ব্রেইনের ক্ষতিসাধন হয়।
৮. অসুস্থতার সময় অতিরিক্ত কাজ : যখন আমরা অসুস্থ হই তখন আমাদের উচিত কোনো পরিশ্রমী কাজ অথবা পড়াশোনা থেকে বিরত থেকে আমাদের ব্রেইনকে বিশ্রাম দেয়া। তা না হলে অসুস্থতার সময় অতিরিক্ত চাপ আমাদের ব্রেইনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে ব্রেইনের দীর্ঘমেয়াদি মারাত্মক ক্ষতিসাধন হয়।
৯. চিন্তা না করা : বেশি বেশি চিন্তা করুন, ব্রেইন কোষের উদ্দীপনার জন্য চিন্তা-ভাবনা করা অত্যন্ত জরুরি। যত বেশি সৃষ্টিশীল চিন্তায় মনোযোগ দিতে পারবেন, তত বেশি আপনার ব্রেইন কোষ উদ্দীপিত হবে। আপনি আরও বেশি দক্ষ ও মনোযোগী হতে পারবেন যে কোনো কাজে। আর চিন্তাহীন ব্রেইন ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হয়ে ব্রেইনের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
১০. কথা না বলা : অনেকেই চুপচাপ থাকতে পছন্দ করেন। কিন্তু অতিরিক্ত চুপচাপ ব্রেইনের জন্য ক্ষতিকর। কারণ আপনি যত বেশি বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন সেটা আপনার ব্রেইনের স্বাভাবিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাই চুপচাপ নয় বরং কার্যক্ষেত্রে বেশি বেশি আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্রেইনকে সতেজ রাখুন।

%d bloggers like this: