শরীরচর্চার অসাধারণ প্রভাব


সাধারণত শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করা হয় দেহকে সুগঠিত করার জন্য বা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মতো রোগগুলোকে প্রতিহত করা বা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য। কিন্তু কখনও কি বুদ্ধিবৃত্তিক
বা মানসিক উন্নতির জন্য ব্যায়াম করার কথা ভেবে দেখেছেন? হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সাইক্রিয়াটিস্ট জন রেটির ভাষায়, ‘মনকে উত্ফুল্ল রাখা, স্মৃতিশক্তি ও
আত্মস্থ করার শক্তি আরও বৃদ্ধি
করতে মস্তিষ্ককে সাহায্য করার জন্য ব্যায়ামই সবচেয়ে ভালো কর্মপন্থা  হতে পারে।’

শরীরচর্চার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রভাব
মস্তিষ্কের ওপর বয়স এবং মানসিক ও শারীরিক চাপের প্রভাব কমানো

ব্যায়াম বা শরীরচর্চা আপনার মস্তিষ্কের ওপর বয়স এবং শারীরিক-মানসিক চাপের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মহিলা দিনে ৪৫ মিনিট করে তিন দিনব্যাপী ব্যায়াম করেছে তাদের মস্তিষ্কের কোষের ওপর বয়সের প্রভাব ব্যায়াম না করা মহিলাদের তুলনায় অনেক কম পড়েছে। তাছাড়া মস্তিষ্কের যেসব অংশ আমাদের দুশ্চিন্তা লাঘব করার কাজে নিয়োজিত, সেসব অংশে ব্যায়াম করার ফলে নিয়মিত রক্ত সরবরাহ ঘটে যা আমাদের মানসিক প্রশান্তি আনয়নে সাহায্য করে। তাছাড়াও দেখা গেছে, ট্রেডমিল বা ক্রসট্রেনারের ওপর ৩০ মিনিট লাফানো-ঝাঁপানো মানসিক প্রশান্তির জন্য দায়ী মস্তিষ্কের বিভিন্ন তরল পদার্থ যেমন সেরোটোনিন, ডোপামিন, নোরেপাইনফ্রাইনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় যা মুহূর্তের মধ্যে সব দুশ্চিন্তা দূর করে দেয়।

হতাশা দূর করা
শরীরচর্চা হতাশা দূর করতেও সাহায্য করে। গবেষকদের মতে, দিনে ৩৫০ ক্যালরি করে সপ্তাহে তিন দিন ব্যায়ামের পেছনে নিয়মিত শক্তি খরচ এন্টি-ডিপ্রেসেন্টের কাজ করতে পারে। এটি সম্ভবত এই কারণে যে, হতাশার ফলে মস্তিষ্কের যেসব অঞ্চলের নিউরন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেসব অঞ্চলে নিউরনের পুনরুত্পাদন প্রক্রিয়াকে ব্যায়াম উত্তেজিত করে আরও বাড়িয়ে তোলে। তাছাড়া এনিমেল স্টাডি থেকে দেখা গেছে, মস্তিষ্কের অণুর উত্পাদন যা কিনা স্নায়ুকোষগুলোর মধ্যে সংযোগ আরও বৃদ্ধি করে, প্রাকৃতিক এন্টি-ডিপ্রেসেন্ট হিসেবে কাজ করে।

শেখার দক্ষতা বৃদ্ধি
ব্যায়াম মস্তিষ্কের গ্রোথ ফ্যাক্টরের কর্মতত্পরতা বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে মস্তিষ্কে নতুন নতুন কোষ উত্পাদন বৃদ্ধি পায় যার ফলে মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধি পায় এবং নতুন কোনো কিছু আয়ত্তে আনার দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, যেসব কাজে মাথা একটু বেশ খাটাতে হয় যেমন—টেনিস খেলা কিংবা নাচের ক্লাসে অংশ নেয়া এসব কাজ করতে মূলত বিভিন্ন কাজের মধ্যে সমন্বয় করতে হয়, যার ফলে মস্তিষ্কের ওপর চাপ পড়ে। আর রেটির ভাষায়, মাংসপেশির মতো মস্তিষ্ককে বিকশিত করতেও মস্তিষ্কের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হয়। তাছাড়াও এই ধরনের জটিল কাজগুলো আমাদের মনোযোগ বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। একদল জার্মান গবেষক হাই স্কুল ছাত্রদের ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন, ১০ মিনিট নিত্যদিনকার কাজের বদলে জটিল ফিটনেসমূলক কাজে সময় দেয়ার ফলে তারা গভীর মনোনিবেশকারী কাজগুলোতে অপেক্ষাকৃত ভালো কৃতিত্ব দেখাতে পেরেছে।

আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি
গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়ামের ফলে শুধু দেহগড়ন শক্তিশালী করার মাধ্যমেই নয়, ফিটনেসের অন্যান্য দিকের ক্রমউন্নতি সাধন যেমন—আগের চেয়ে বেশি সময় ধরে দৌড়াতে পারা কিংবা বেশি ওজনের ভারোত্তোলন করতে পারা আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির ভালো কারণ হতে পারে।

আনন্দদায়ক অনুভূতি প্রদান
রেটির মতে, ৩০-৪০ মিনিট সম্ভাব্য দ্রুত বেগে দৌড়ানো, সাইকেল চালানো কিংবা সাঁতার কাটার পর পাঁচ মিনিটের জন্য স্বাভাবিক গতি এনে এরপর আবার দ্রুতগতিতে চলা—এভাবে চারবার পুনরাবৃত্তি করার ফলে দিনের বাকি সময় বেশ খোশমেজাজে যায়, যাকে কিনা বিজ্ঞানের ভাষায় রানার’স হাই বলে।

Advertisements

ইসলামে মানবাধিকার

বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেছেন­ ‘হে লোক সকল! নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রতিপালক এক, তোমাদের পিতা এক, অনারবির ওপর আরবির এবং আরবির ওপর অনারবির কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র ভিত্তি হলো­ তাকওয়া বা খোদাভীতি (মুসনাদে আহমদ-ইবনে হাম্বল)।

মহানবী সাঃ-এর যুগান্তকারী সংবিধানের মাধ্যমে পৃথিবীর অধিকার হারা সব মানুষের সব রকমের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মৌলিক অধিকারঃ দয়ার নবী সাঃ-এর মদিনাভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্রের দ্বারা সব মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার তথা­ অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা প্রভৃতি পূর্ণভাবে লাভ করেছে।

জীবনের নিরাপত্তাঃ পবিত্র কুরআনে অন্যায়ভাবে মানব হত্যাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন মজিদে এরশাদ করেছেন­ ‘তোমরা সে প্রাণকে হত্যা করো না, আল্লাহ্‌ যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন।’ (সূরা বনী- ইসরাঈল, আয়াত-৩৩)।

পবিত্র কুরআন কোনো একজন মানুষ হত্যা করাকে সমগ্র মানবকে হত্যার শামিল বলে আখ্যায়িত করেছে। কারণ, মানুষের অন্তর থেকে যখন মানুষের মর্যাদা ও সম্মানের বিষয়টি বিলুপ্ত হয়ে যায় তখন তার জন্য একজন মানুষ হত্যা করা যা একদল মানুষ হত্যা করাও তাই। পাপি-অত্যাচারীর জন্য সবই সমান। মহান রাব্বুল আলামীন এ মর্মে এরশাদ করেছেন­ ‘নরহত্যা অথবা দুনিয়ায় ধ্বংসাত্মক কার্য করা ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন দুনিয়ার সব মানুষকেই হত্যা করল।’ (সূরা মায়িদা, আয়াত-৩২)।

মহান আল্লাহ্‌ পাক বলেন, ‘কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম। সেখানে সে স্থায়ীভাবে থাকবে। (সূরা নিসা, আয়াত-৯৪)।

‘তোমরা দারিদ্র্যের ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না।’ (সূরা বনী-ইসরাঈল,আয়াত-৩১)।

অমুসলিমদের অধিকার সম্পর্কে সর্বশ্রেষ্ঠ হাদিস গ্রন্থ সহি বোখারি শরিফে সুস্পষ্টভাবে বিবৃত হয়েছে­ ‘যদি কোনো মুসলমান চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমকে হত্যা করে, তাহলে ওই ব্যক্তি জান্নাতের খুশবু বা সুঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ ৪০ বছর সফরের দূরত্ব থেকেই পাওয়া যাবে।’

ধর্মীয় অধিকারঃ জাহেলি যুগে আরবদের ধর্মীয় অবস্থা খুবই শোচনীয় ছিল। তাদের ধর্মীয় ধারণা কতগুলো অন্ধবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। সে সময় আল্লাহর একত্ববাদ বিলুপ্ত হয়ে ক্রমে ক্রমে সমগ্র মানবসমাজ পৌত্তলিকতায় ডুবে গিয়েছিল। তাদের প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য একটি করে মূর্তি ছিল। কাবাগৃহে মোট ৩৬০টি দেব-দেবীর মূর্তি সংরক্ষণ করেছিল তারা। তখনকার সময়ে ওকাজ মেলা নামে এক অশ্লীল মেলা বসত। তারা কোনো কাজ আরম্ভের আগে দেব-দেবীর সামনে আরজি পেশ করে নিত।

এ পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় হাবিবের মাধ্যমে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবন-বিধানরূপে পৃথিবীতে পাঠালেন। তিনি ধর্মীয় কুসংস্কারের মূলে কুঠারাঘাত করে বিশ্বমানবতাকে এমন এক সুন্দর ধর্মীয় ব্যবস্থা উপহার দিলেন­ যার তুলনা ইতিহাসে নেই।

ইজ্জত-আবরুর নিরাপত্তাঃ মানবজাতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয় হলো­ ইজ্জত-আবরু। মানব জীবনের এই অসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি প্রিয় নবী সাঃ-এর কাছেও ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যমণ্ডিত। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন, ‘ব্যভিচারিণী নারী ও ব্যভিচারী পুরুষ প্রত্যেককে ১০০ করে বেত্রাঘাত করো।’ (সূরা নূর,আয়াত-২)।

আল-কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে­ ‘কোনো পুরুষ যেন অপর কোনো পুরুষকে উপহাস না করে; কেননা যাকে উপহাস করা হয়, সে উপহাসকারীর চেয়েও উত্তম হতে পারে। এবং কোনো নারী যেন অপর কোনো নারীকেও উপহাস না করে; কেননা যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারিণীর চেয়েও উত্তম হতে পারে।’ (সূরা হুজুরাত, আয়াত-১১)।

রাসূলুল্লাহ্‌ সাঃ আনীত শরিয়তে ব্যভিচারের কঠিনতম শাস্তি থেকেই অনুমান করা যায় পবিত্র ধর্ম ইসলামে মানুষের ইজ্জত-আবরু কতটা সম্মানিত ও মূল্যবান বিষয়।

সম্পদের নিরাপত্তাঃ রাসূলে আকরাম সাঃ মানুষের জানের নিরাপত্তা প্রদানের সাথে সাথে ধন-সম্পদের নিরাপত্তাও দিয়েছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন মজিদে ফরমান­ ‘তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না।’ (সূরা বাকারা-আয়াত-১৮৮)।

প্রিয় নবীজী সাঃ ঘোষণা করেন­ ‘যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ।

বিশ্বনবী সাঃ বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি অন্যের এক বিঘত পরিমাণও জমি জবরদখল করে, তাহলে কিয়ামতের দিন সাততবক জমিন তার গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হবে।’ (মুসলিম শরিফ)।

ন্যায়বিচারের অধিকারঃ জাতি, ধর্ম, বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষের ন্যায়বিচার লাভের অধিকার রাসূলে করিম সাঃ প্রদান করেন। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে ‘তোমরা যখন বিচার করো, তখন ন্যায়সঙ্গতভাবে বিচার করো।’ (সূরা নিসা-আয়াত-৫৮)।

অন্যত্র এরশাদ হয়েছে­ ‘তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানে অবিচল থাকো। কোনো জাতির বিদ্বেষ যেন তোমাদের কখনো সুবিচার থেকে বিচুøত করতে প্ররোচিত না করে।’ (সূরা মায়িদা, আয়াত-৮)।

ন্যায়বিচারের এক রায় উপস্থাপন করে­ বিশ্বনবী সাঃ ফরমান­ ‘সেই মহান আল্লাহর কসম! যাঁর কুদরতি হাতে আমার জীবন, যদি মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমা রাঃও চুরি করত, তবে অবশ্যই আমি তার হাত কেটে দিতাম।’ (মুসলিম শরিফ, দ্বিতীয় খণ্ড-পৃষ্ঠা-৬৪)

দাসদাসীর অধিকার সম্পর্কে প্রিয় নবী সাঃ-এর নির্দেশঃ মানব ইতিহাসে মানবদরদী দয়ার সাগর দরদী নবী সাঃ দাসদাসীদের পূর্ণাঙ্গ অধিকার প্রদান করেন। তিনি দাসপ্রথাকে সমূলে উচ্ছেদ করেন। মহানবী সাঃ এরশাদ করেন­ ‘নিশ্চয় তোমাদের দাস তোমাদের ভাই, আল্লাহ্‌ তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। অতএব, তোমরা যা খাবে তাদেরও সে খাবার দেবে, তোমরা যা পরিধান করবে তাদেরও তা পরিধান করতে দেবে।’ (বোখারি শরিফ, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৩৪৬)

অন্য হাদিসে বলা হয়েছে­ ‘নিজের চাকর-নোকরকে সাথে বসিয়ে আহার করার নির্দেশ দিয়েছেন।’

(মুসলিম শরিফ, খণ্ড-১, পৃষ্ঠঃ-৫২)

অর্থনৈতিক নিরাপত্তা লাভের অধিকারঃ মানবতার মুক্তির দূত মহানবী সাঃ সমাজের প্রতিটি নাগরিকের জন্য অর্থনৈতিক মৌলিক ছয়টি অধিকার বাস্তবায়ন করেছেন। যথা­ অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিয়ে-শাদি।

ধনীদের সম্পদে অভাবগ্রস্তদের অধিকার রয়েছে। আল্লাহ প্রদত্ত অধিকার তথা- জাকাত, ঊষর ও ফিতরা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করে তিনি দেশের দরিদ্র শ্রেণীর অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দেবে আর বিরত রাখবে মন্দ কাজ থেকে।’ (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত-১১০)।

রাহমাতুল্লিল আলামিন সাঃ­ শোষণের মাধ্যম হিসেবে সুদের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছেন। জুয়াখেলা, প্রতারণা, লটারি, মদ্যপান নিষিদ্ধ করেছেন, যা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দরিদ্র জনগণের জন্য খুবই ক্ষতিকর ছিল।

মজুদদারির নিষিদ্ধতা ঘোষণা করে মহানবী সাঃ বলেন­ যে ব্যক্তি মজুদ রাখে, সে গোনাহগার। অন্যত্র আল্লাহর রাসূল সাঃ এরশাদ করেন­ ‘যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি মজুদ করে রাখে না, সে আল্লাহর রহমত পাওয়ার যোগ্য। আর যে ওসব দ্রব্যাদি মজুদ রাখে, সে অভিশপ্ত।’ তিনি আরো বলেন, যারা দাম বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় জিনিস ৪০ দিনের বেশি মজুদ রাখে তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। যারা অন্যকে ঠকায় ও অন্যের সাথে প্রতারণা করে তারা বিশ্বাসী নয়। প্রিয় নবী সাঃ সর্বপ্রথম শোষণমূলক ব্যবস্থা পরিহার করে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন। বিধবা, এতিম, অসহায়, দুস্থ প্রতিবেশী, যুদ্ধবন্দী প্রমুখ নাগরিকের মানবাধিকার সুরক্ষিত করেন। এভাবে আল্লাহর হাবিব সাঃ অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করে তুলেছিলেন।

দয়ার নবী সাঃ নারীদের তিনি সর্বাঙ্গীণ সম্মান ও মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাদের মোহরের অধিকার, ভরণ-পোষণের অধিকার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করেন।

আল্লাহর প্রিয় হাবিব সাঃ ইহুদি-খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানবাধিকার রক্ষার্থে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন তা সব যুগের সব মানুষের জন্য অনুপম আদর্শ। একমাত্র তাঁর আদর্শই দিতে পারে বিশ্ব মানবতার মুক্তি, স্বস্তি ও শান্তির গ্যারান্টি।

জাপানে ভূমিকম্পের নেপথ্যে

জাপানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভূমিকম্প এবং এরপর দেশটির উত্তর-পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়া সুনামি দেশটিকে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছে। রিখটার স্কেলে ৮ দশমিক ৯ মাত্রার এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী টোকিও থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে, সমুদ্রের ৩২ কিলোমিটার গভীরে। সেই ভূমিকম্পের প্রভাবে ৩০ থেকে ৩৩ ফুট উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়েছে উপকূলে। এই দুর্যোগের পর আবার পারমাণবিক কেন্দ্রে বিস্ফোরণের মতো ঘটনাও ঘটেছে। জাপানে এখন ছড়িয়ে পড়ছে তেজস্ক্রিয়তা। এই শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং সুনামির কারণ হিসেবে গবেষকরা অনেক তত্ত্বই দাঁড় করিয়েছেন। কোনো কোনো গবেষকের মতে, চাঁদ পৃথিবীর নিকটতম অবস্থানে রয়েছে বলেই এ দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করেছে সংবাদ মাধ্যম লাইভ
সায়েন্স।

জাপানের অবস্থানই ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে
জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার ভেতরে অবস্থিত। এ জায়গাটি প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার নামে পরিচিত, প্রশান্ত মহাসাগরের এ জায়গাটির নিচে শিলার প্লেটগুলো একটি অপরটির উপরে উঠে আছে। টোকিও থেকে ২৩১ মাইল উত্তর-পূর্বে এবং সেন্ডই থেকে ৮০ মাইল দূরে সমুদ্রের নিচে ১৫.২ গভীরে এই ভূমিকম্পের উত্পত্তি। এখানে রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের নিচের প্যাসিফিক প্লেট। এটি পশ্চিম দিক থেকে সরে এসে জাপানের পূর্ব উপকূলের নিচে চাপ সৃষ্টি করছে। বছরে এই প্লেটটি গড়ে ৩.৫ ইঞ্চি সরে আসছে। কিন্তু ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-মেডিসনের ভূপদার্থবিদ কিথ সভার ডরুপের মতে, প্লেটটি অবিরাম সরে আসে না। প্লেটগুলো একে অপরের সঙ্গে লেগে থাকার কারণে তাদের স্বাভাবিক চলন কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকে। কিন্তু চাপ বাড়তে থাকে। তাই এক পর্যায়ে যখন প্লেটটি চাপ সহ্য করতে না পেরে বেশ খানিকটা সরে যায় তখনই ভূমিকম্পের মতো ঘটনা ঘটে।

অন্যান্য ভূমিকম্পের তুলনায় এর অবস্থান
রিখটার স্কেলে এ ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৮.৯। আমেরিকার ভূতাত্ত্বিক সার্ভে অনুসারে জাপানের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় ধরনের ভূমিকম্প এবং বিশ শতকের পর সারা বিশ্বে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে পঞ্চম বৃহত্তম।

সাগরতলে ভূমিকম্প থেকেই সুনামির জন্ম। ভূমিকম্পের কারণে সমুদ্রের পানি আলোড়িত হয়ে এর গতি ও উচ্চতা বাড়ে। এই গতির কারণে একে একে বড় ধরনের ঢেউয়ের জন্ম হতে থাকে। একেই বলা হয় সুনামি। সাধারণ ঝড়ে তৈরি ঢেউয়ের তুলনায় সুনামির ঢেউ হয় অনেক বড় ও বিধ্বংসী ক্ষমতাসম্পন্ন। সুনামির ফলে সৃষ্ট ঢেউ জাপানের পূর্ব উপকূল ছাড়িয়ে উত্তর আমেরিকাসহ পশ্চিমের উপকূলের দিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ঠিক একই জায়গাতে ১৯৩৩ ও ১৮৯৬ সালেও বড় ধরনের সুনামি আঘাত এনেছিল বলে জানিয়েছেন অরিগন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হ্যারি ইয়ে। তার মতে, সুনামির ঢেউগুলো খানিকটা আলাদা ধরনের, এর সঙ্গে সাইক্লোন বা জোয়ারের লম্বা স্রোতের কোনো মিল নেই। ধারণা করা হয়, এই ধরনের ঢেউ ৩০ ফুটের চেয়ে উঁচু হয়।

ভূমিকম্পের প্রকৃতি সুনামির কারণ
গবেষকদের মতে, ভূমিকম্পের সময় সুনামির কারণ হতে পারে ভূমিকম্পের শক্তি, ঝাকির দিক এবং সাগরতলের গঠন। গবেষকরা জানিয়েছেন, ৮.৯ মাত্রার ভূমিকম্প সুনামি তৈরির জন্য যথেষ্ট। এর আগে ২০১০ সালে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পই সুনামি তৈরি করেছিল, যা ইন্দোনেশিয়ায় আঘাত হানে। আমেরিকা জিওলজিক্যাল সার্ভের বিশেষজ্ঞ ডন ব্ল্যাকমেনের মতে, ৭.৫ বা ৭ মাত্রার নিচের ভূমিকম্প হতে সুনামি তৈরি হতে পারে না। ভূমিকম্পের কারণে সমুদ্রতল উপরের দিকে কেঁপে উঠলে স্রোতের সৃষ্টি হয়। আর সাগরতলের গঠনের উপর নির্ভর করে স্রোত কত উঁচু হবে আর কত দূরে যেতে পারবে।

জাপানের ভূমিকম্পের প্রভাব অক্ষরেখায়
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রথমবারের ভূমিকম্পে জাপান প্রায় আট ফুট সরে গেছে। এদিকে ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিক্স অ্যান্ড ভলকানোলজির গবেষকরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে পৃথিবীর অক্ষরেখা সরেছে প্রায় ১০ ইঞ্চি। এটি ১৪০ বছরের মধ্যে জাপানে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পৃথিবীর অক্ষরেখা সরে যাওয়ায় কয়েকশ’ বছর পর একদিনের দৈর্ঘ্য এক সেকেন্ড কমতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর ভূতত্ত্ববিদ্যার অধ্যাপক অ্যান্ড্রু মিয়াল। উল্লেখ্য, পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু সংযোগকারী কল্পিত সরলরেখাটিকে বলা হয় পৃথিবীর অক্ষরেখা। অ্যান্ড্রু মিয়াল জানিয়েছেন, দিনের দৈর্ঘ্যে খুব সামান্যই প্রভাব ফেলবে এটা। আর পৃথিবীর অক্ষরেখা যতখানি সরলে ঋতুচক্রে প্রভাব পড়তে পারে এ পরিবর্তন তেমন নয়।

.

জাপানে সুনামীর দু’টি নাটকীয় ভিডিও

ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া যেন আর কিছুই করার ছিলনা কারো। জাপানের সুনামীর অনেক ভিডিও ইন্টারনেটে রয়েছে। তবে সম্প্রতি নতুন একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে যা যথেস্ট ভয়াবহ। ভিডিওটিতে দেখা যায় কিভাবে ঘর-বাড়ি গুলো সুনামীর ঢেউয়ে ভেসে যায় আর মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু স্থানের দিকে দৌড়াতে থাকে।

.

রোগ প্রতিরোধে কালোজিরা

প্রাচীনকাল থেকে কালোজিরা মানবদেহের নানা রোগের প্রতিষেধক এবং প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রায় ১৪শ’ বছর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছিলেন, ‘কালোজিরা রোগ নিরাময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তোমরা কালোজিরা ব্যবহার কর, নিশ্চয়ই প্রায় সব রোগের নিরাময় ক্ষমতা এর মধ্যে নিহিত রয়েছে।’ সে জন্য যুগ যুগ ধরে পয়গম্বরীয় ওষুধ হিসেবে সুনাম অর্জন করে আসছে।
সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম চিকিত্সা বিজ্ঞানী ইবনে সিনা তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ক্যানন অব মেডিসিন’-এ বলেছেন, ‘কালোজিরা দেহের প্রাণশক্তি বাড়ায় এবং ক্লান্তি দূর করে।’ কালোজিরাতে শতাধিক পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এর প্রধান উপাদানের মধ্যে প্রোটিন ২১ শতাংশ, শর্করা ৩৮ শতাংশ, স্নেহ ৩৫ শতাংশ। এছাড়াও রয়েছে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ। প্রতি গ্রামে যেসব পুষ্টি উপাদান রয়েছে তা নিম্নরূপ—প্রোটিন ২০৮ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন-বি ১.১৫ মাইক্রোগ্রাম, নিয়াসিন ৫৭ মাইক্রোগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১.৮৫ মাইক্রোগ্রাম, আয়রন ১০৫ মাইক্রোগ্রাম, ফসফরাস ৫.২৬ মিলিগ্রাম, কপার ১৮ মাইক্রোগ্রাম, জিঙ্ক ৬০ মাইক্রোগ্রাম, ফোলাসিন ৬১০ আইউ

কালোজিরার গুণের শেষ নেই
* প্রতিদিন সকালে এক চিমটি কালোজিরা এক গ্লাস পানির সঙ্গে খেলে ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
* হাঁপানি রোগীদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় কালোজিরায় উপকার পাওয়া যায়।
* নারী-পুরুষের যৌন অক্ষমতায় নিয়মিত কালোজিরা সেবনে যৌনশক্তি বৃদ্ধি পায়।
* কালোজিরায় রয়েছে ১৫টি অ্যামাইনো এসিড। আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজন ৯টি এসেনসিয়াল অ্যামাইনো এসিড যা দেহে তৈরি হয় না, অবশ্যই খাবারের মাধ্যমে এর অভাব পূরণ করতে হয়। আর কালোজিরায় রয়েছে আটটি এসেনসিয়াল অ্যামাইনো এসিড।
* সর্দি-কাশি সারাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
* প্রসূতি মাতাদের দুগ্ধ বাড়াতে ও নারী দেহের মাসিক নিয়মিতকরণে এবং মাসিকের ব্যথা নিবারণে কালোজিরার ভূমিকা রয়েছে।
* নিয়মিত কালোজিরা সেবনে চুলের গোড়ায় পুষ্টি ঠিকমত পায়, ফলে চুলের বৃদ্ধি ভালো হয় এবং চুল পড়া বন্ধ হয়। মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রক্ত সঞ্চালন ও বৃদ্ধি সঠিকভাবে হয় এবং সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে।

ভাইয়ের ওপর বোনের অধিকার

একের চেয়ে দুই বড়, এক ভাগের চাইতে দুই ভাগ বেশি­ এটাই পাটিগণিতের সরল ও শুদ্ধতম হিসাব। কিন্তু মানুষের জীবন বড়ই অ?ভুত, বড়ই জটিল। এখানে অঙ্কের সরল হিসাবও আসলে সরল নয়। এখানকার দুই ভাগও আসলে এক ভাগের চেয়ে বেশি নয়। এক ভাগ আবার দুই ভাগের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। ইসলামের অতি আলোচিত এই উত্তরাধিকার আইন সরাসরি জড়িত নারীর ওপর পুরুষের অধিকার ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে (সূরা ২ঃ আয়াত ২২৮; সূরা ৪ঃ আয়াত ৩৪)। এই অধিকার ও শ্রেষ্ঠত্ব শুধু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভাই-বোন অবধিও ব্যাপ্ত। ভাই-বোনের সম্পর্ক যেমন আজীবনের, তেমনি তাদের মাঝে একের ওপর অন্যের অধিকার ও দায়িত্বও আজীবনের। যে এই অধিকার ও দায়িত্ব এড়াতে চাইবে সে অতি আবশ্যিকভাবেই আত্মীয়তা ও রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করার দায়ে হবে দোষী এবং তার জন্য জান্নাত হবে অবশ্যই সুদূরপরাহত। ইসলামী বিধান মেনে দুই ভাগ সম্পদের মালিক হয়ে বোনকে ভুলে যাওয়া হবে আল্লাহকে অর্ধেক মেনে বাকি অর্ধেক না মানার শামিল। আর আল্লাহর আইনের এই খণ্ডিত বা সুবিধাবাদী ব্যবহার যে কি ভয়াবহ পাপ তা আল্লাহ পাক নিজের ভাষায় বর্ণনা করেছেন পবিত্র আল কুরআনে (২ঃ৮৫)।

আমাদের চর্মচোখের দৃষ্টিকে বাদ দিয়ে যদি অন্তরের দৃষ্টিকে একটু প্রসারিত করি তাহলে খুব স্পষ্ট দেখব যে, বাবা-মায়ের পরিত্যক্ত যে সম্পত্তি আজ আমরা ভাগাভাগি করছি, তা কিন্তু আমাদের বাবা-মায়েরও ছিল না। তা ছিল তাদের বাবা-মায়ের। তারও আগে তা ছিল তাদের বাবা-মায়ের বাবা-মায়ের। অর্থাৎ যে সম্পদ আজ আমাদের সামনে তা সব সময়ই ছিল এই দুনিয়ার সম্পদ, মানুষের মাঝে শত শত বছর ধরে শুধুই হাতবদল হয়ে চলেছে মাত্র। আমাদের পরে তা আবারো দিয়ে যেতে হবে অন্য কাউকে। তাই যে কারো জীবনে যেকোনো সময়ের জন্য যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা সম্পদ নয়, তা হলো সম্পর্ক। সম্পর্কহীন মানুষের সহায়-সম্পদ অর্থহীন। কারণ সেসব কোথাও ব্যবহারের তো তার কোনো জায়গাই নেই, সেই সম্পদ দিয়ে করবেটা কী? অতএব সম্পদ হলো ব্যবহারের জন্য এবং আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে বলা যায় যে, ‘পুরনো সম্পর্ক রক্ষা ও নতুন সম্পর্ক সৃষ্টি’ করাই হলো সহায়-সম্পদের সবচেয়ে যথার্থ কাজ। বস্তুত বিষয়টাই আল্লাহ পাক নিশ্চিত করেছেন তার প্রবর্তিত উত্তরাধিকার আইনে।

বিয়ে হলে বোনেরা চলে যায় পরের বাড়ি। ভাইদেরকেও একসময় আলাদা হতে হয় নিজ নিজ সংসার নিয়ে। এই পর্যায়ে তাদের রক্তের সম্পর্ক রক্ষিত হতে পারে প্রথমত আত্মিকভাবে; দ্বিতীয়ত, বাবা-মায়ের রেখে যাওয়া সম্পদের মাধ্যমে। সম্পদভিত্তিক যোগাযোগটা না থাকলে আত্মীয়তার সম্পর্কও ফিকে হয়ে যায় সময়ের ব্যবধানে। সে জন্যই আমরা আজকের শহরবাসী চিনি না আমাদের গ্রাম আর গ্রামের আত্মীয়দের। যদিও আমাদের মা-বাবারা উঠে এসেছেন ওই গ্রাম থেকেই। পরম করুণাময় আল্লাহ পাক চান না যে তাঁর প্রিয় সৃষ্টি মানুষ নিজের সমস্ত নাড়ির বন্ধন খুইয়ে একসময় খড়কুটোর মতো ভাসমান কোনো একাকী বস্তু হয়ে যাক বিশাল এই বিশ্বের বুকে। তাই তিনি প্রতিটি ভাইবোনকে অধিকার দিয়েছেন তাদের পৈতৃক সম্পত্তিতে (৪ঃ৭, ১১-১২, ১৭৬)। এ ক্ষেত্রে ভাইকে দুই ভাগ দিয়ে তার ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে তার বোনের দায়িত্ব, তা চাই তার ভালো লাগুক বা না লাগুক। বোনের বিয়ে হয়ে পরের ঘরে যাওয়া মানেই পর হয়ে যাওয়া নয়। নিজের শিশুকাল আর শৈশব কেটেছে যেখানে, যাদের কাছে সেখানে তার অধিকার আছে। মন চাইলেই নাড়ির টানে ছুটে আসতে চাইতে পারে বাবা-মার স্মৃতিময় ভিটায়। তা ছাড়াও যেকোনো সময় বোন হতে পারে স্বামীহীন। হতে পারে তালাকপ্রাপ্ত। তার পুনর্বিয়ের প্রয়োজন হতে পারে। অথবা পুরোজীবনটাই তাকে থাকতে হতে পারে অবিবাহিত। এই প্রতিটি ক্ষেত্রে বোনের দেখভালের দায়িত্ব পুরোপুরি ভাইয়ের। এটা যাতে বোনের প্রতি ভাইয়ের দয়ার দান মনে করার কোনো সুযোগ না থাকে, সে জন্যই ভাইকে আগাম দিয়ে রাখা হয়েছে দুই ভাগ সম্পদ। এমনকি যেসব বোন নিজের সংসারে অভাবগ্রস্ত তারা ভাইয়ের কাছে দাবি করতে পারে সহায়তা। এটা কোনো দয়া বা করুণা নয়, এটা তাদের অধিকার। এর দ্বারা এক দিকে বোনের সম্মান যেমন সুউচ্চ ও সমুন্নত রাখা হয়েছে, অন্য দিকে ভাইদেরকে তথা ছেলেদেরকে বাধ্য করা হয়েছে রক্তের সম্পর্ক রক্ষায় সদাসচেষ্ট, সচেতন ও তৎপর থাকতে। মহান আল্লাহ পাক এভাবে একের ওপর অপরকে নির্ভরশীল করে রেখেছেন বলেই বিশ্বজগতে আজো মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক টিকে আছে এবং চলমান আছে পার্থিব জীবনের এই ধারা (৪৩ঃ৩২)। আল কুরআনের এই অমোঘ উত্তরাধিকার আইন পরিবর্তনের সাধ্য যেহেতু কোনো মানুষের নেই, তাই এ নিয়ে দ্বন্দ্ব বা বিতর্ক একেবারেই যুক্তিহীন, সময় নষ্ট মাত্র। এ বিষয়ে তর্কবিতর্ক না করে বরং এমন একটা বিশেষায়িত আদালতের কথা চিন্তা করা যেতে পারে, যেখানে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা হবে আল্লাহর এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ। বিশেষ করে ভাই যাতে কোনোভাবেই কোনো বোনের দায়িত্ব এড়াতে না পারে সেটা নিশ্চিত করবে এই আদালত এবং আইনানুগ দেখভালের প্রয়োজনে কোনো বোন যাতে তার ভাই দ্বারা কখনোই প্রত্যাখ্যাত বা প্রতারিত না হতে পারে তারও ব্যবস্থা করবে এই আদালত।

অঙ্কের হিসাবে যারা ভাইয়ের দুই অংশকে বোনের এক অংশের চেয়ে বেশি বলে থাকেন, তারা আল্লাহর আইনের অন্য দিকটা যে কেন দেখেন না বা বলেন না, তা একেবারেই বোধগম্য নয়। আল্লাহর আইনের সেই অনুপম দিকটা হলো নারীর ওপর কোনো খরচের দায়ভার না চাপানো। আল কুরআনের বিখ্যাত আয়াত যেখানে অমিতব্যয়ীদেরকে শয়তানের ‘ভাই’ বলা হয়েছে (১৭ঃ২৬-২৭) সেখানেও কিন্তু ‘বোন বা নারী’র কোনো উল্লেখ নেই, যা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে, শুদ্ধ ইসলামিক বিধানে সংসারের কোনো প্রয়োজনে খরচ করার কোনো দায়দায়িত্ব নারীর ওপর বর্তায় না। একটা পরিবারে খরচ করাটা শুধু উপার্জনক্ষম পুরুষের দায়িত্ব আর সে কারণেই নারীর ওপর পুরুষ শ্রেষ্ঠ (৪ঃ৩৪)। এই সুযোগে অবশ্য নারীদের খরচ না করে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার কোনো অবকাশ নেই। নারীদেরকে মনে রাখতে হবে যে, শারীরিক অপবিত্র সময়ের কারণে তাদেরকে অনেক মূল্যবান ফরজ ইবাদত ছেড়ে দিতে হয়। যদিও সুস্থতা লাভের পর সেসবের কাজা আদায় করা যায়; কিন্তু কাজার সওয়াব তো আর ফরজতুল্য হয় না, তাই নারীদের ইবাদতে ঘাটতি থাকার সম্ভাবনা থেকেই যায়। এ ঘাটতি পূরণে তার অংশের সম্পদ থেকে ব্যয় করাটা হলো সবচেয়ে সহজ উপায়। বস্তুতপক্ষে নারী তার প্রাপ্ত সম্পদ থেকে নিজ সংসারের জন্য যা-ই ব্যয় করুক না কেন, তা-ই গণ্য হবে ছাদাকাহ হিসেবে। যেহেতু ছাদাকাহর মতো ইবাদত একান্তই মনের ব্যাপার এবং এতে শক্তি প্রয়োগের কোনো সুযোগ নেই। তাই নারীর সম্পদ খরচেও তার ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি। মেয়েদের জন্য এটা একটা কঠিন পরীক্ষা বটে এবং এটাই সম্ভবত এক ভাগ সম্পদ দিয়েও নারীকে খরচের কোনো ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করে না দেয়ার মূল কারণ। অতএব দেখা যাচ্ছে যে, সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাকের প্রতিটি আইন-কানুনের মতো এখানেও তিনি তাঁর প্রিয় সৃষ্টি মানুষকে মূলত রক্ষা করতে চেয়েছেন ইহ ও পারলৌকক চতুর্মুখী দৃশ্য ও অদৃশ্য সব সমস্যা, ধ্বংস, আপদ ও বিপদ থেকে। সীমিত জ্ঞান এবং স্বল্প আয়ুর মানুষের পক্ষে এমন সুদূরপ্রসারী ও সুসমন্বিত বিধানের কথা কল্পনা করাটাও দুরূহ। এই বিষয়গুলো পুরোপুরি অনুধাবনের কোনো চেষ্টা না করে আল্লাহর আইনগুলোকে অযথা ঘাঁটাঘাঁটি করার যেকোনো অপপ্রয়াস মানুষের জন্য যে শুধু ক্ষতিই বৃদ্ধি করবে তা বলাই বাহুল্য। চরম এই সত্যটা অন্তত মুসলিম দেশের শাসকরা বুঝবেন এটাই একমাত্র আশা।

গরমে তৃষ্ণা মেটাতে শরবত

তরমুজের শরবত


উপকরণ : তরমুজ ১টি, চিনি ২-৩ কাপ, লেবুর রস ইচ্ছেমত ও বরফ কুচি।
প্রণালী : তরমুজ কেটে বীচি ফেলে কুচি কুচি করে কেটে নিতে হবে। কাটার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন রস পড়ে না যায়। এরপর তরমুজ, চিনি এবং লেবুর রস ব্লেন্ডারে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। ভালোভাবে মিশে গেলে গ্লাসে ঢেলে বরফ কুচি দিয়ে সুন্দরভাবে পরিবেশন করতে হবে।

কাঁচা আমের শরবত



উপকরণ : কাঁচা আম ২টি, চিনি ৪ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ ১টি, বিট লবণ আধা চা চামচ, লবণ কোয়ার্টার চা চামচ, বরফ কুচি পরিমাণমত ও পানি ২ গ্লাস।
প্রণালী : কাঁচা আম খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরা করে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। কষ বের হয়ে গেলে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। আমের টুকরো ব্লেন্ড করে সবটুকু পানি দিয়ে ভালোভাবে কেটে নিতে হবে। ভালোভাবে ফেটানো হলে চিনি, কাঁচা মরিচ, বিট লবণ, লবণ দিয়ে আবার ব্লেন্ডারে ভালোভাবে মেশাতে হবে। এরপর গ্লাসে টেলে বরফ কুচি দিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

বাঙ্গির শরবত


উপকরণ : বাঙ্গি ১ কাপ, সাদা দই আধা কাপ, চিনি ৪ টেবিল চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, বরফ কুচি ও বরফের ঠাণ্ডা পানি ১ গ্লাস।
প্রণালী : বাঙ্গি ছোট ছোট টুকরো করে বীচি ফেলে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর বাঙ্গি ও পানি ব্লেন্ডারে দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। বাঙ্গি ও পানি ভালোভাবে মিশে গেলে এর মধ্যে দই, চিনি এবং লেবুর রস দিয়ে আবার ব্লেন্ড করতে হবে। অতঃপর গ্লাসে ঢেলে বরফ কুচি দিয়ে সুন্দরভাবে সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

লাচ্ছি


উপকরণ : মিষ্টি দই ১ কাপ, ঠাণ্ডা পানি ১ কাপ, চিনি ২ টেবিল চামচ,
গোলাপ জল ১ চা চামচ ও বরফকুচি পরিমাণমত।
প্রণালী : দই ও ঠাণ্ডা পানি ব্লেন্ডারে দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এরপর ব্লেন্ডারে চিনি দিয়ে আবার ব্লেন্ড করতে হবে। দই মিষ্টি বেশি হলে চিনির পরিমাণ কমিয়ে দেয়া যেতে পারে। এরপর গ্লাসে ঢেলে গোলাপ জল এবং বরফ কুচি মিশিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

সালামের ব্যবহারিক তাৎপর্য

বস্তুবাদী এই পৃথিবীতে আজ সব কিছুই পণ্য। আম-ছালাও পণ্য, আমি-আপনিও পণ্য। আম-ছালাকে যেমন বাজারে বেচতে হয়, নিজেকেও তেমনি আজ বাজারজাত করতে হয়। এই বেচা-বিক্রিতে যে যত স্মার্ট সে-ই আজ তত সফল হিসেবে বিবেচিত। এহেন কেনাবেচার বাজারে আমাদের সময় নেই আত্মার খবর নেয়ার। অথচ আত্মা বিহনে মানুষ যে নিছকই একখণ্ড রক্ত-মাংসের পিণ্ড বৈ কিছু নয়, তাও সে অস্বীকার করতে পারে না। কারণ তাতে তার অস্তিত্বই থাকে না। অবশ্য মুখে অস্বীকার না করলেও প্রতিদিনের কাজকর্মে, কথা-বার্তায় সে ঠিকই বুঝিয়ে দেয় যে, আত্মা নয় বরং শরীর নামক রক্ত-মাংসের ‘বস্তু’টাই তার কাছে অগ্রগণ্য এবং পূজনীয়। বস্তুপ্রেমী এই মানুষের কাছে তাই আজ তার বুদ্ধি, বিবেক, পারিবারিক বন্ধন, বৈবাহিক সম্পর্ক সবই লাভ-ক্ষতির অঙ্কে হিসাব করার বিষয়। সেই হিসাব থেকে যেন নিস্তার নেই আল্লাহর কালাম, রাসূল সাঃ-এর বাণী এবং তাঁর হাজারো সাহাবি রাঃ-এর রক্ত আর ঘামে ভেজা সুরক্ষিত শিক্ষা ও মহাজ্ঞানেরও।

তাই আল্লাহ কর্তৃক প্রবর্তিত পারস্পরিক সম্বোধন বাক্য ‘আসসালামু-আলাইকুম’-এর অর্থ ও ব্যাপ্তি বুঝতে আমরা আজ অক্ষম। এটাকে আজ বিবেচনা করা হচ্ছে নিছক ‘হাই-হ্যালো’-এর আরবি ভার্সন হিসেবে। অথচ এই সালামে আছে শান্তি আর নিরাপত্তার সুস্পষ্ট প্রার্থনা ও নিশ্চয়তা, যা ‘হাই-হ্যালো’ দূরে থাকুক, পৃথিবীর তাবৎ সম্বোধনের কোনো একটাতেও খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। শান্তির এই আকুতি শুধু রক্ত-মাংসে গড়া দেহটার জন্যই সীমিত নয়, বরং তার ব্যাপ্তি দেহের রন্ধ্রে রন্ধ্রে উপস্থিত ‘আত্মা’র জন্যও যা কি না একান্তভাবেই আল্লাহর ‘রূহ’ (১৫ঃ ২৯)। এ ছাড়াও তা আরো বিস্তৃত মানুষের সাথে থাকা সেই সব সার্বক্ষণিক সঙ্গী ফেরেশতার জন্যও, যাদের উপস্থিতির সাক্ষ্য দেয় পবিত্র আল-কুরআন (১৩ঃ ১১; ৮২ঃ ১২-১২)। খালি চোখে কোনো কিছু দেখতে না পাওয়ার অর্থ যে ‘পরম শূন্য’ নয়, সেই সত্যটা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই সর্বপ্রথম তাঁর প্রিয় নবীজী সাঃ-এর মাধ্যমে মানব জাতিকে জানিয়েছেন শূন্যঘরে প্রবেশের সময় সালাম দেয়ার শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে। সেই ঘর অন্যের হলে তো অবশ্যই, এমনকি নিজের হলেও তাতে সালাম দিয়ে প্রবেশের নির্দেশ দেয়া হয়েছে (২ঃ ১৮৯; ২৪ঃ ২৭-২৯, ৬১)। কারণ দৃশ্যত শূন্য মনে হলেও সেখানেও আছেন আল্লাহর ফেরেশতারা এবং এমন অনেক সৃষ্টি যাদেরকে শুধু আল্লাহই জানেন (১৬ঃ ৮)।

নামাজ শেষে সালাম ফেরানো তথা সালাম ফিরিয়ে প্রতিটি নামাজ শেষ করার মাঝেও কাজ করেছে ওই একই দর্শন। এর মাধ্যমে আমাদের ব্যক্তিগত আগ্রহ-অনাগ্রহকে কোনো রকম সুযোগ না দিয়ে আমাদের সঙ্গীয় ফেরেশতাদেরকে সালাম প্রেরণে আমাদেরকে বাধ্য করে রাখা হয়েছে, যাতে কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর অদৃশ্য বান্দাদেরকে সালাম প্রদানের বরকত থেকে আমরা বঞ্চিত না হই। সালামের এই দোয়া থেকে বাদ রাখা হয়নি আমাদের মরহুম পূর্বপুরুষদেরও। পবিত্র আল-কুরআনে বর্ণিত নিজের ভাষ্যে আল্লাহ পাক রাসূলুল্লাহ সাঃসহ তাঁর অসংখ্য প্রয়াত নবী-রাসূলকে সালাম (৩৩ঃ ৫৬, ৩৭ঃ ১০৯, ১২০, ১৩০, ১৮১) দিয়ে পরলোকগত পূর্বসূরিদের কিভাবে সালামের মাধ্যমে স্মরণে রাখতে হয় তা-ই মূলত শিক্ষা দিয়েছেন আমাদেরকে। দরুদ পাঠের মাধ্যমে প্রত্যেক নামাজে আমরা যে রাসূলুল্লাহ সাঃ ও ইব্রাহিম আঃ-কে নিয়মিত সালাম প্রদান করে থাকি, তা বস্তুত সেই শিক্ষারই ব্যবহারিক প্রয়োগবিশেষ। নিয়মিত এই শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আমরা কবরে শায়িত আমাদের প্রিয় স্বজনদেরকেও প্রত্যহ সালাম পাঠাব, এটাই সম্ভবত আল্লাহর একান্ত উদ্দেশ্য ও চাওয়া।

তাই নিজের চিন্তা ও নিয়তের মধ্যে একটু ব্যাপকতা এনে মানুষ খুব সহজেই তার এই ‘সালাম’রূপী প্রার্থনার বিনিময় হিসেবে আল্লাহ তায়ালার অগণিত দৃশ্য-অদৃশ্য সৃষ্টির কাছ থেকে পেতে পারে প্রতুøত্তররূপী সীমাহীন দোয়া (৪ঃ ৮৫-৮৬) যার দ্বারা তার পুণ্যের পাল্লা হতে পারে ভারী তার নিজের অজান্তেই। নিজের ‘প্রিয় সৃষ্টি’ মানুষের কল্যাণে এহেন ব্যাপক শান্তিময় অমিত পুণ্যের সুব্যবস্থা শুধু সর্বোজ্ঞ আল্লাহর পক্ষেই করা সম্ভব। এখানেই শেষ নয়, সালামের এই বাক্য পবিত্র আল-কুরআনের আয়াতও বটে (৩৩ঃ ৪৪, ৩৬ঃ ৫৮, ৫৬ঃ ২৬), যা পাঠ করা, মুখে বলা এবং কানে শোনা সবই সওয়াবের কাজ হতে বাধ্য। সুতরাং এর পরও নিয়মিত ‘সালাম’ বিনিময়ে কর্পণ্য করার অথবা এ নিয়ে বিতর্ক করার কোনো সুযোগ থাকতে পারে কি?

%d bloggers like this: