রাসূলুল্লাহ সাঃ-এর সহনশীলতা

সহনশীলতা মানুষের মৌলিক চারিত্রিক সৎগুণ। সহনশীলতা ছাড়া সহাবস্থান কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সহনশীলতার বিপরীত বৈশিষ্ট্য হলো অসহিষ্ণুতা। অসহিষ্ণুতার কারণে ভ্রাতৃত্ববোধ নষ্ট হয়। সামাজিক শান্তি বিনষ্ট হয়। যেই সমাজের অধিবাসীরা এ বদগুণে আক্রান্ত, সেখানকার পরিবেশ অশান্তিতে ভরে ওঠে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের বিকৃতি ও স্বেচ্ছাচারিতা বাসা বাঁধে। এটি যদি কোনো সরকারপ্রধানের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হয়, তবে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রটির সব স্তরে অশান্তি ও অস্থিরতা প্রবল আকার ধারণ করে। মানুষের মৌলিক অধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়। দেশের সম্মানিত লোকজন অপমানিত হয়। সমাজের সব স্তরে ক্রোধ, বিদ্বেষ, পেশিশক্তি, সঙ্কীর্ণতা ও কুৎসিত ঘরোয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সংঘর্ষ দানা বেঁধে ওঠে। জনগণের ওপর রাষ্ট্রশক্তির অপপ্রয়োগ ঘটে। ফলে স্বৈরশাসনের উদ্ভব হয়। সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতা জনগণের জন্য যতটুকু গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্র-পরিচালকদের। কোনো প্রতিষ্ঠানপ্রধান যদি অসহনশীল হন, তবে প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে না। প্রতিষ্ঠানের সব স্তরে অসন্তোষ দানা বেঁধে ওঠে। এমনিভাবে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক জীবনের সব স্তরে সহনশীলতার অপরিহার্যতা অত্যধিক।

সহনশীলতা ও সহাবস্থানে রাসূলুল্লাহ সাঃ ছিলেন সর্বোচ্চ আদর্শ। তাঁর হাত ও মুখ দ্বারা কোনো ব্যক্তি কষ্ট পেয়েছেন এমনটি তাঁর পবিত্র জীবন ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমনকি তাঁর ৬৩ বছর জীবন ইতিহাসে তিনি বহু নির্যাতন, অবিচার ও কষ্টের শিকার হয়েছেন। কিন্তু কারো থেকে প্রতিশোধ নেননি। হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ আল্লাহর নিষিদ্ধ সীমারেখা লঙ্ঘন না হলে, কখনো নিজের ওপর জুলুম-নির্যাতনের কোনো প্রতিশোধ নিতে আমি দেখিনি। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা ব্যতীত তিনি কখনো কোনো কিছুকে স্বীয় হস্ত দ্বারা প্রহার করেননি (মুসলিম)। ওহুদের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাঃ মুখমণ্ডলে আঘাতপ্রাপ্ত হলে তাঁর কয়েকটি দাঁত ভেঙে যায়, মাথার পরিধেয় শিরস্ত্রাণ খণ্ড-বিখণ্ড হয়, তার পরও তিনি কুরাইশদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেননি। বরং তিনি বলেছেন, হে আল্লাহ! আমার জাতিকে ক্ষমা করো, কেননা তারা জানে না (মুসলিম)।

রাসূলুল্লাহ সাঃ-এর জীবন ইতিহাস সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতার ইতিহাস। মৃতুø অবধি সহিষ্ণুতা ও সহনশীলতার অনন্য নজির তিনি স্থাপন করে গেছেন। তবে এই মুহূর্তে আমরা সহনশীলতার সেই বিখ্যাত ইতিহাস, সেই বিখ্যাত উদাহরণ সামনে নিয়ে আসতে পারি। যেই ইতিহাস পৃথিবী তার সৃষ্টিলগ্ন থেকে অদ্যাবধি প্রত্যক্ষ করেনি, ভবিষ্যতেও দেখা যাবে কি না আল্লাহ তায়ালা জানেন। সেটি হলো রক্তপাতহীন মক্কা বিজয়। এ মহা বিজয়ের দিনে রাসূলুল্লাহ সাঃ-এর মনে সামান্যতমও ক্রোধ ও প্রতিশোধস্পৃহা থাকলে সে দিন রক্তের বন্যা বয়ে যেত। সে দিন কুরাইশদের প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার সামান্যতম শক্তিও ছিল না। যে কোরাইশদের জুলুম-নির্যাতনের অসহ্য যাতনায় দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে মাতৃভূমি-জন্মভূমি ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল, সেই মাতৃভূমির মায়ায় অশ্রুসজল নয়নে মক্কার দিকে তাকিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বেলিত নিজের আবেগকে সংবরণ করতে না পেরে বলেছিলেন, ‘মক্কা হে! আমি তোমাকে ভালোবাসি, কিন্তু তোমার বুকের সন্তানরা আমাকে থাকতে দেয়নি।’ মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই মক্কায় তিনি বিজয়ের বেশে প্রবেশ করলেন অথচ নেই কোনো প্রতিশোধস্পৃহা, নেই কোনো হিংসা-বিদ্বেষ। কুরাইশরা তাজ্জব বনে গেল। এ কেমন মহানুভবতা, এ কেমন মহামানব। কেউ কোনো অসহিষ্ণুতা লক্ষ করেননি। পৃথিবীর এমন একজন মানুষের উদাহরণ টেনে আনুন, রাসূলুল্লাহ সাঃ-এর মহৎ গুণের কষ্টিপাথরে যাচাই করুন, দেখুন­ হিংসা, বিদ্বেষ, প্রতিশোধ ও জিঘাংসার সামান্যতমও জার্মমুক্ত পাওয়া যায় কি না। পৃথিবীর দেশে দেশে নিজের দৃষ্টি প্রসারিত করুন, দেখুন জিঘাংসা আর প্রতিশোধস্পৃহার আগুনে পৃথিবী আজ কিভাবে দাউ দাউ করে জ্বলছে। সর্বগ্রাসী এ আগুনের লেলিহান শিখায় কত শত জনপদ ধ্বংস হয়ে গেছে। কিভাবে মানুষ মানুষের রক্তের হোলিখেলায় মেতে উঠেছে। সভ্যজগতের সব নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে মানবতার সাথে কী পৈশাচিক আচরণ চলছে। মিথ্যার বেসাতি ছড়িয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার মোক্ষম সুযোগ বা হাতিয়ারগুলো আজ কিভাবে নির্লজ্জ ফনা তুলেছে। জাহেলিয়াতের বদ-অভ্যাসগুলো ক্রমান্বয়ে কিভাবে পৃথিবী ঘিরে ফেলেছে। জাহিলিয়াত যুগে কাল কাল ধরে এ ধরনের অসভ্য আচরণ চলে আসছিল। কারো বংশের কেউ আক্রান্ত বা নিহত হলে, তার প্রতিশোধের চেষ্টা চলত বংশপরম্পরায়, কাল কাল ধরে। কারো জীবদ্দশায় প্রতিশোধ নিতে না পারলে তিনি তার ভবিষ্যৎ বংশধরদের অসিয়ত করে যেতেন। কিন্তু রাসূল সাঃ সেই প্রথা সম্পূর্ণ বাতিল করে দিলেন। প্রথমত, নিজের বংশের সব প্রতিশোধস্পৃহাকে তিনি বাতিল করে দেন। মাতৃভূমি মক্কা ছেড়ে যাওয়ার সব দুঃখ-যাতনা, শত নির্যাতন-জুলুম ভুলে রাসূল সাঃ এ বিজয়ের দিনে ক্ষমার বাণী শুনিয়েছিলেন। হজরত মক্কায় প্রবেশ করে প্রতিশোধের কথা না বলে, ঘোষণা করলেন, ‘যারা আপন ঘরের মধ্যে দরজা বন্ধ করে থাকবে, তারা নিরাপদ, যারা আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে তারা নিরাপদ, যারা কাবাগৃহে প্রবেশ করবে তারাও নিরাপদ।’

মক্কার সন্নিকটে মুসলিম বাহিনী পৌঁছলে আবু সুফিয়ান মুসলমানদের শক্তি আন্দাজ করতে এসে ধরা পড়ে যান। এই সেই আবু সুফিয়ান, ইসলামের বিরোধিতায় যিনি ছিলেন অনন্যসাধারণ। একাধিকবার তিনি মদিনা আক্রমণসহ রাসূল সাঃ-কে হত্যার জঘন্য ষড়যন্ত্র ফেঁদেছিলেন। সেই মুহূর্তে প্রথম উচিত কাজ ছিল তাকে হত্যা করা। কিন্তু না, যখন তাকে মানবতার মহান বন্ধুর সামনে আনা হলো, তিনি তার দিকে করুণার দৃষ্টি প্রসারিত করে বললেন, ‘যাও, আজ আর তোমাকে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিন। তিনি সমস্ত ক্ষমা প্রদর্শনকারীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ ক্ষমা প্রদর্শনকারী।’ বর্তমান পৃথিবীর মানবতার সোল এজেন্ট বলে যারা নিজেদেরকে দাবি করেন, বিশেষত মুসলিম দেশের শাসকরা! সহনশীলতা, সহাবস্থান, সহিষ্ণুতা শিখতে হলে রাসূল সাঃ-এর জীবন ইতিহাসের দিকে গভীর দৃষ্টি নিক্ষেপ করুন। নিজেদের চরিত্রকে পরিচ্ছন্ন করার জন্য ইচ্ছা করলে খুব সহজেই রাসূল সাঃ-এর একটি গুণ নিজেদের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে পারেন। ক্ষমতার দাপটে একজনকে দাবিয়ে দেয়ার মধ্যে আপনার কোনো কৃতিত্ব নেই। বরং সহনশীলতা, সহাবস্থান, সহিষ্ণুতার মধ্যে কৃতিত্ব অনেক বেশি। পৃথিবী আপনাকে বিশেষভাবে স্মরণ করবে কিয়ামত অবধি।

সাফিয়া বিনতে শাইবা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ মক্কায় প্রবেশ করলেন, লোকজন শান্ত হলে তিনি সরোয়ারিতে আরোহণ করে কাবা শরিফ তাওয়াফ করলেন। তাওয়াফ শেষ করে তিনি উসমান ইবনে তালহাকে ডেকে তার কাছ থেকে কাবার চাবি নিলেন। ভেতরে প্রবেশ করে মূর্তিগুলো ভেঙে ছুড়ে দিলেন। কাবার দরজায় দাঁড়িয়ে তিনি এক নাতিদীর্ঘ ভাষণ দিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাঃ মসজিদে হারামে বসলেন। তাঁর কাছে হজরত আলী ইবনে আবু তালিব এলেন। তার হাতে ছিল কাবার চাবি। তিনি বললেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ সাঃ, হাজীদের আপ্যায়নের সাথে কাবার দ্বার রক্ষকের দায়িত্বও আমাদের হাতে নিন। রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন, ‘উসমান ইবনে তালহা কোথায়?’ উসমানকে ডাকা হলো। তিনি বললেন, ‘হে উসমান! এই নাও তোমার চাবি। আজকের দিন সৌজন্য ও সহৃদয়তা প্রদর্শনের দিন।’ ক্ষমার কী সুবিচার। সহনশীলতার কী অনন্য নজির। বর্তমান পৃথিবীর বিশেষ কোনো ব্যক্তি, দল ও গোষ্ঠী ক্ষমতার দণ্ড হাতে পেয়ে সর্বপ্রথম ক্ষমতার অপপ্রয়োগ শুরু করে। চার দিকে চলে দখল ও উচ্ছেদ আর নামফলক ও নামকরণের মহোৎসব। মুহাজির যারা নিজেদের জমি ও বাড়িঘর ফেলে মদিনায় হিজরত করেছিলেন, যেগুলো কুরাইশরা দখল করে নিয়েছিল, মক্কা বিজয়ের পর নবী আকরাম সাঃ সেগুলো ফিরিয়ে নেননি। মুহাজিররা সহনশীলতা ও সহাবস্থানের এমন শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন যে, তারা সন্তুষ্টচিত্তে তা মেনে নিয়েছিলেন। হিজরত-পরবর্তী আনসার মোহাজিরদের পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা ও সহমর্মিতা পৃথিবীর ইতিহাসে উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে আছে। নবী আকরাম সাঃ ছিলেন ক্ষমা, ধৈর্য ও সহনশীলতার মূর্তপ্রতীক। তিনি শিক্ষা দিয়েছেন যে, কারো অন্যায়ের শাস্তি দিত আমরা যেন তাড়াতাড়ি না করি। কেননা হতে পারে অন্যায়কারী ব্যক্তিটি নিজের বোকামির কারণে অন্যায়ে লিপ্ত হয়েছে, একটু ক্ষমা ও মহানুভবতার ছোঁয়া পেলে সেও মহৎজনে পরিণত হতে পারে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘ভালো ও মন্দ বরাবর নয়। তুমি ভালো দ্বারা মন্দকে প্রতিহত করো। ফলে তোমার সাথে যার শত্রুতা আছে সে হয়ে যাবে তোমার পরম বন্ধুর মতো। আর এহেন সুফল তার ভাগ্যেই জোটে যে ধৈর্য ও সহনশীলতার অধিকারী এবং যে বিরাট সৌভাগ্যশালী’ (হা মিম সিজদাঃ ৩৪-৩৫)।

সহনশীলতা ছাড়া সামাজিক ভ্রাতৃত্ব ও সহাবস্থান সম্ভব নয়। তাই রাসূল সাঃ সহনশীলতার গুরুত্বারোপ করার সাথে সহাবস্থানকেও ঈমানের সাথে জুড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘সে মুমিন নয় যে পেটপুরে খেলো অথচ তার প্রতিবেশী না খেয়ে রইল।’ হজরত আবু হোরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত একদা রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন, আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, সে লোকটি ঈমানদার নয়, আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, সে লোকটি ঈমানদার নয়, আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, সে লোকটি ঈমানদার নয়। সাহাবিদের মধ্য থেকে একজন জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! লোকটি কে? হুজুর সাঃ বললেন, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না (বুখারি-মুসলিম)।

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাঃ বলেছেন, জিবরাঈল আঃ নিয়মিতই আমাকে প্রতিবেশীর হক সম্পর্কে তাকিদ দিচ্ছিলেন। এমনকি আমার ধারণা জন্মেছিল, প্রতিবেশীকে সম্পত্তির হকদার বা উত্তরাধিকার করা হবে (বুখারি-মুসলিম)। ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃ আবদুল কায়েস গোত্রের আশাজ্জকে বললেন, ‘তোমার মধ্যে এমন দু’টি গুণ বা অভ্যাস রয়েছে, যা আল্লাহ পছন্দ করেন, তা হলো সহনশীলতা ও ধীরস্থিরতা (মুসলিম)।

মানবতার মহান নবী সাঃ পারস্পরিক সাম্য-সংহতি, মানবিক প্রেম-প্রীতি, ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল সমাজ কায়েম করে এমন এক অনন্য নজির স্থাপন করেছিলেন, যেই সমাজ সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন সে কথা স্মরণ রেখো। তোমরা ছিলে পরস্পরে শত্রু। তিনি তোমাদের হৃদয়গুলো জুড়ে দিয়েছেন। ফলে তাঁর অনুগ্রহ ও মেহেরবানিতে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেছো’ (আল ইমরানঃ ১০৩)। রাসূল সাঃ ছিলেন সাম্যের নবী, মানবতার নবী। দয়া, মায়া, ধৈর্য ও সহনশীলতা ছিল তাঁর চরিত্রমাধুর্য। সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টিতে, প্রতিবেশীদের মধ্যে সহাবস্থানের মানসিকতা সৃষ্টিতে তাঁর কোনো জুড়ি নেই। তিনি জানতেন, সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ এমনি একটি বিষয়, যার ওপর ইসলামের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা বা সামাজিক কাঠামো অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাই তিনি সহনশীল ও সহাবস্থানের জন্য সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সৌহার্দøপূর্ণ আচরণ সুদৃঢ় করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।

আমাদের পারিবারিক কি সামাজিক, ব্যক্তিগত কি দলীয়, জাতীয় কি আন্তর্জাতিক জীবনে সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দø আজ হারাতে বসেছি। ফলে সহাবস্থানের মধুর সম্পর্ক আজ ছিন্ন হয়ে গেছে। ক্রমান্বয়ে আমরা জাহিলিয়াত যুগের মতো একটি সার্বিক ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এ ধ্বংসের কবল থেকে দেশ-জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মুক্তির জন্য মানবতার মহান বন্ধু নবী আকরাম সাঃ-এর সহনশীলতা ও সহাবস্থানের মহান শিক্ষা আমাদের গ্রহণ করতে হবে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: