ফতোওয়া প্রাথমিক ধারণা

এক.
ফতোওয়া বা ইফতা আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো, ‘যে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়া।’
শরিয়তের পরিভাষায় এর অর্থ হলো, ‘দালায়েলে শরাইয়্যাহর (শরিয়তের সুস্পষ্ট প্রমাণের) ভিত্তিতে কোনো প্রশ্নের বা জিজ্ঞাসার জবাব দেয়া। শরিয়তের সর্বসম্মত দলিল ও প্রমাণ চারটি : যথা—
১. কোরআন, ২. সুন্নাহ ৩. ইজমা ৪. কিয়াস
ক. কোরআন : মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়ত লাভের পর মৃত্যু পর্যন্ত সুদীর্ঘ তেইশ বছরে প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী পবিত্র কোরআন মাজিদ অবতীর্ণ হয়েছে। এতে সর্বমোট ৬৬৬৬টি আয়াত রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ শতাধিক আয়াত হলো শুধু আইনকানুন সম্পর্কীয়। অবশিষ্টগুলো হলো ওয়াজ-নসিহত ও ইতিহাস। তবে এই ওয়াজ-নসিহত ও ইতিহাসের মধ্য থেকেও কিছু আইনকানুন বের হয়েছে। এগুলোই ফিকহের মূল উত্স।
খ. সুন্নাহ : রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ ও অনুকরণ করার জন্য মহান আল্লাহ নির্দেশ প্রদান করেছেন। সে কারণেই সাহাবিরা সর্বদা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদাঙ্ক অনুসরণ করতেন, যা করতে দেখতেন তাই করতেন এবং কখনও তারা কোনো সমস্যায় পড়লে তা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জেনে নিতেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসংখ্য সুন্নাহ হতে প্রায় এক হাজার হাদিস ইসলামী ফিকহের মূল উত্স হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
গ. ইজমা : ইজমা হলো উম্মতে মুহাম্মদীর সর্বসম্মত অভিমত। কোরআন ও হাদিসে নব উদ্ভাবিত কোনো সমস্যার সুস্পষ্ট সমাধান না পাওয়া গেলে তখন এ উম্মতের মুজতাহিদরা কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর গবেষণা চালাতেন। এরপর কোনো নির্দিষ্ট সমাধান বের হলে যদি তাতে সবাই ঐকমত্য পোষণ করতেন, তবে তাকে ইজমা বলত। এটি ফিকহে ইসলামীর একটি মূল উত্স। যেমন—হজরত আবু বকরকে (রাজি.) খলীফা নিযুক্ত করার ব্যাপারে কোন সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকার ফলে সবাই সাহাবিদের সর্বসম্মত অভিমত দ্বারা তার খিলাফতের বৈধতা প্রমাণিত হয়েছে।
ঘ. কিয়াস : কোরআন, সুন্নাহ ও ইজমা দ্বারা মীমাংসিত কোনো বিষয়ের সঙ্গে অনুরূপ কোনো বিষয়কে উপমা দ্বারা সাদৃশ্য বিধান করে হুকুম উদ্ভাবন করাকে কিয়াস বলে। এটা হাদিস দ্বারা সাবেত আছে। যেমন—দশম হিজরিতে হজরত মুআজকে (রাজি.) ইয়েমেনের বিচারক নিযুক্ত করে পাঠানোর সময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরআন ও সুন্নায় কোনো সমাধান না পাওয়া গেলে কীভাবে সমাধান করবে বলে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, জবাবে হজরত মুআজ (রাজি.) বললেন, আমি ইজতিহাদ করে তার ফয়সালা করব। এ জবাবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত খুশি হয়েছিলেন। এতে বোঝা যায়, কিয়াসও ইসলামী ফিকহের মূল উেসর অন্যতম।
এই দালায়েলে শরইয়্যাহর অভিজ্ঞ ব্যক্তিই ফতওয়া দিতে পারেন। অভিজ্ঞ ব্যক্তির ফতওয়া দেয়ার অধিকার কোরআন হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। সুতরাং ফতওয়ার এই অধিকার রহিত করার ক্ষমতা কারও নেই।
দুই.
কোরআন-সুন্নাহ এবং ইজমায়ে উম্মতের অকাট্য প্রমাণ দ্বারা শরীয়তের যেসব বিষয় প্রমাণিত আছে, যেমন—তাওহিদ, রেসালাত, আখিরাত, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, হালাল, হারাম ইত্যাদি। এসব বিষয় কেউ অস্বীকার করলে সে কাফির হয়ে যাবে। আর কিয়াসের দ্বারা প্রমাণিত বিষয় অস্বীকার করলে কাফির না হলেও এটি গোমরাহির অন্তর্ভুক্ত।
তিন.
ফতওয়ার প্রথম উত্স কোরআন। কোরআনের সব আহকাম ও মাসায়েল আল্লাহর পক্ষ থেকে ফতওয়া। এজন্য প্রথম ফতওয়াদানকারী হলেন স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। কোরআনের দুটি আয়াতে আল্লাহতায়ালা ফতওয়া দেন বলে সুস্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে—
‘(হে নবী) তারা আপনার কাছে নারীদের ব্যাপারে ফতওয়া (সিদ্ধান্ত) জানতে চায়, আপনি (তাদের) বলে দিন, আল্লাহ তায়ালা তাদের ব্যাপারে ফতওয়া (সিদ্ধান্ত) ঘোষণা করেছেন।’ [সূরা নিসা : আয়াত-১২৭]
আরো এরশাদ হয়েছে—
‘(হে নবী) তারা আপনার কাছে (বিভিন্ন বিষয়ে) ফতওয়া জানতে চায়, আপনি বলুন, আল্লাহতায়ালা সে ব্যক্তির উত্তরাধিকার সংক্রান্ত ব্যাপারে তোমাদের তাঁর ফতওয়া (সিদ্ধান্ত) জানাচ্ছেন।’ [সূরা নিসা : আয়াত-১৭৬]
যার অর্থ হলো, কোরআনের সব আহকাম আল্লাহর ফতওয়া।
হাদিসে বর্ণিত সব মাসায়েল, আইন, আহকাম হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে ফতওয়া। এজন্য তিনি হলেন, উম্মতের প্রধান ও প্রথম মুফতি। আল্লামা কারাফী বলেন : ‘তিনিই উম্মতের মুফতিয়ে আজম।’
চার.
এই দুই প্রধান উেসর ভিত্তিতেই পরবর্তীকালে ইজমা এবং কিয়াসের সৃষ্টি। এ দুটোর ভিত্তিতেও যে ফতওয়া দেয়া হয়, তাও শরয়ী ও অহিভিত্তিক ফতওয়া।
এখানে একথা মনে রাখা দরকার, অহি-ই হলো শরীয়তের মূল উত্স ও ভিত্তি।
অহি প্রথমত দুই প্রকার : যথা—১. অহিয়ে সরীহ বা স্পষ্ট অহি। ২. অহিয়ে গাইরে সরীহ বা অস্পষ্ট অহি।
অহিয়ে সরীহ দুই প্রকার। যথা—১. অহিয়ে মাতলু যা নামাজ ও নামাজের বাইরে তিলাওয়াত করা হয়। ২. অহিয়ে গাইরে মাতলু যা নামাজে তিলাওয়াত করা হয় না।
অহিয়ে মাতলু হলো কোরআন। আর অহিয়ে গাইরে মাতলু হলো হাদিস।
অহিয়ে গাইরে সরীহ যাকে অহিয়ে খফিও বলা হয়। তিন প্রকার। যথা—১. ইজতিহাদে নবী ২. ইজমায়ে উম্মত ৩. ইজতিহাদে মুজতাহিদীন এবং ফুকাহা।
কাজেই শরীয়তে ফতওয়ার মূল উত্সই হলো, অহি। আর অহির ওপর প্রচলিত আদালতের নিয়ন্ত্রণের কোনো অধিকার নেই।
পাঁচ.
ফতওয়া এবং কাজার (বিচার ব্যবস্থা) ভেতর পার্থক্য আছে। ফতওয়া হলো জিজ্ঞাসার ভিত্তিতে বা জিজ্ঞাসা ছাড়াও ইসলামের প্রয়োজনীয় বিষয় জনসাধারণকে অবহিত করা। এটি প্রত্যেক আলেম ও মুফতির জন্য ফরজ।
হাদিসে বলা হয়েছে—‘জিজ্ঞাসা করার পরও যারা জবাব না দেবে, কিয়ামতের দিন তাদের মুখে আগুনের বেড়ি পরিয়ে দেয়া হবে।’ কাজেই ফতওয়া বন্ধের অধিকার কোনো সরকারের নেই।
কাজার অর্থ হলো, ইসলামী আইন বাস্তবায়ন করা। এর সম্পর্ক হলো, ইসলামী আদালত ও হুকুমতের সঙ্গে। যেমন—হুদুদ, কিসাস, দিয়্যাত ইত্যাদি।
এ জাতীয় আইন বাস্তবায়নে প্রয়োজন ইসলামী সরকার। এ জাতীয় আইন সমাজের কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইসলামী আইন সম্পর্কে অজ্ঞ লোকদের দ্বারা বাস্তবায়নের অপচেষ্টার কোনো যৌক্তিকতা নেই; বরং এটি ফতওয়াকে বন্ধ করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র।

Advertisements

স্তন ক্যান্সার হলেই অপারেশন নয়

একটি স্তনে ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার পর তা অপরটিতে ছডিয়ে পড়তে পারে—এই ভয়ে অনেকেই তাদের সুস্থ স্তনটিকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এমনকি ক্যান্সার একেবারে প্রাথমিক স্তরে শনাক্ত হলেও জীবনের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না তারা। কথায় বলে, ক্যান্সার—নো আন্সার! আর এখন দেখা যাচ্ছে, সেই উত্তরের সঠিক খোঁজ না পেয়ে নিজেদের ইচ্ছাতেই সুস্থ স্তনটিকেও অস্ত্রোপচার করে বাদ দিচ্ছেন অনেক মেয়েই। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, দুটি স্তন বাদ দেয়ার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেড়ে গেছে আশ্চর্যজনকভাবে। অথচ, মেডিকেল সায়েন্সে একটি স্তনে ক্যান্সার হলে শুধু সে স্তনটি অপারেশন করাই যথেষ্ট। ক্যান্সার যদি অপর স্তনটিতে ছড়িয়ে না যায়, তবে অন্যটিকে বাদ দেয়ার কোনো প্রয়োজনই সাধারণত পড়ে না। কিন্তু ক্যান্সারে আক্রান্ত স্তনটিকে সারিয়ে তোলা আদৌ যাবে কিনা, অথবা অপর স্তনটিতে যে ক্যান্সার ছড়িয়ে পডবে না—ডাক্তাররা এ গ্যারান্টি দিতে না পারায় আজকাল আগেভাগেই দুটি স্তনেই অস্ত্রোপচার করাচ্ছেন মেয়েরা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে চালিত এক সমীক্ষায় অবশ্য একথাও বলা হয়েছে যে, প্রোফিল্যাকটিক ম্যাসটেকটমি অর্থাত্ সুস্থ স্তনকে অপারেশন করে বাদ দেয়ার যে পদ্ধতি তাতে স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। একটু ভেবে দেখলে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অন্যদিকে, সুস্থ স্তনটিতে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি না থাকলে এ ধরনের অপারেশনের কোনো প্রয়োজন যে নেই তা বলাই বাহুল্য। অথচ প্রোফিল্যাকটিক ম্যাসটেকটমি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের অভাবে অনেক মেয়েই আজকাল দুটি স্তনই কেটে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বাফেলো রাজ্যের রসওয়েল পার্ক ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের গবেষক ড. স্টেফেন এজ ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে নিউ ইয়র্কের সব তথ্য ঘেঁটে দেখেন, এ সময় প্রায় ৬ হাজার ২৭৫ জন মেয়ে তাদের ক্যান্সার নেই এমন স্তনটির অপারেশন করিয়েছেন। অবাক করার বিষয়, তাদের মধ্যে শুধু ৮১ শতাংশের অপর স্তনটিতে ক্যান্সার শনাক্ত করা হয়েছিল। বাকি ১৯ শতাংশ মেয়ের কিন্তু কোনো স্তনেই কোনো রকম ক্যান্সার ছিল না। এমনকি তাদের পরিবারের মধ্যেও ক্যান্সারের কোনো রকম ইতিহাস ধরা পড়েনি। ড. এজ জানান, পরিবারে স্তন ক্যান্সার বা ক্যান্সারের সমস্যা না থাকলে শুধু ঝুঁকি এড়াতে প্রোফিল্যাকটিক ম্যাসটেকটমির মতো অপারেশনের মধ্য দিয়ে যাওয়া উচিত নয়। তাছাড়া কোনো মেয়ের যদি একটি স্তনে ক্যান্সার শনাক্ত হয়, তবে এই অপারেশনে যাওয়ার আগে তাকে একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে এর কুফল এবং অপারেশন না করালে সম্ভাব্য ঝুঁকির ব্যাপারে বিস্তারিত পরামর্শ নেয়া উচিত।

স্তন ক্যান্সার কীভাবে বুঝবেন…

স্তন ক্যান্সারের নির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনও জানা যায়নি। তাই একাধিক কারণকে দায়ী করা হয় :
জেনিটিক ফ্যাক্টর : যেমন—মা-খালার থাকলে সন্তানদের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
* অবিবাহিত বা সন্তানহীনা মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ বেশি।
* একইভাবে যারা সন্তানকে কখনও স্তন্য পান করাননি, তাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার বেশি হয়।
* ৩০ বছর পরে যারা প্রথম মা হয়েছেন, তাদের স্তন ক্যান্সারের প্রবণতা একজন কমবয়সী মা হওয়া মহিলার থেকে অনেক বেশি।
* বয়স যত বাড়ে, স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি তত বৃদ্ধি পায়।
* অল্প সময়ে বাচ্চা নিলে, দেরিতে মাসিক শুরু হলে, তাড়াতাড়ি মাসিক বন্ধ হলে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ বেড়ে যায়।
* একাধারে অনেক দিন জন্মনিরোধক বড়ি খেলেও স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
উপরোক্ত কারণগুলো ব্রেস্ট ক্যান্সারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে এগুলোই একমাত্র কারণ নয়।
কী করে স্তন ক্যান্সার বুঝবেন
* সাধারণত ৩০ বছরের আগে এই রোগ কম হয়।
* বেশিরভাগ রোগী বুকে চাকা নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়।
* বুকে চাকা সেই সাথে কিছু কিছু রোগী ব্যথার কথাও বলে থাকে।
* কখনো কখনো বুকে চাকা এবং বগলেও চাকা নিয়ে রোগী আসতে পারে।
* নিপল ডিসচার্জ এবং নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়াও এ রোগের লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
* কিছু কিছু রোগী বুকে ফুলকপির মতো ঘা নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসে।
* অনেক সময় যে বুকে ব্যথা, সেদিকের হাত ফোলা নিয়েও আসতে পারে।
* এগুলো ছাড়া ব্রেস্ট ক্যান্সার দূরবর্তী কোথাও ছড়িয়ে পড়েছে এমন উপসর্গ নিয়ে আসে; যেমন : হাড়ে ব্যথা, মাথা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও জন্ডিস ইত্যাদি।

দরিদ্রতা দূরীকরণে ইসলাম

পৃথিবীতে মানুষ অর্থনৈতিকভাবে দু’টি শ্রেণীতে বিভক্ত। ধনী ও দরিদ্র। ধনীরা সাধারণত বিলাসবহুল পার্থিব শান্তিময় জীবনের অধিকারী। দরিদ্ররা অসচ্ছলতায় জীবনযুদ্ধে রত। কিন্তু তবু একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। ধনীদের প্রাচুর্য গঠন ও সংরক্ষণে প্রয়োজন দরিদ্রদের শ্রম। আর দরিদ্রদের সাধারণ জীবন ধারণে প্রয়োজন ধনীদের সহানুভুতি। অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে, দরিদ্ররা সর্বদা ধনীদের অনুগ্রহপুষ্ট জীবনের ধারক।
ধনী ও দরিদ্রের পার্থক্য সম্পর্কে বিভিন্ন পার্থিব মতামত বিদ্যমান রয়েছে। কারো মতে, দরিদ্রতা আল্লাহ পাকের নির্ধারিত ভাগ্য। তাই একে নিয়ে দুর্ভাবনার কোনো কারণ নেই। বরং এটা তাঁর প্রদত্ত একটি নেয়ামত। কারণ দরিদ্রতার মধ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিই আল্লাহকে স্মরণ করার জন্য শ্রেষ্ঠ সুযোগ লাভ করে থাকেন। তাদের মতে, অর্থ-বৈভব মানুষের মনকে আলস্নাহ পাকের স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। এজন্য দরিদ্রতা বান্দার জন্য দুর্ভোগের কিছু নয়; বরং সৌভাগ্যের সোপান বলে তারা বিবৃতি প্রদান করে থাকেন।আর একটি মতবাদী দল যারা জাবরিয়া বলে খ্যাত তাঁরা মনে করেন, আল্লাহ পাক ইচ্ছা করেই ধনী এবং দরিদ্র এ দু’টি শ্রেণী সৃষ্টি করেছেন। তিনি যদি অন্যরকম ইচ্ছা করতেন, অর্থাৎ যদি চাইতেন তাহলে সকল মানুষকে ধনী অথবা দরিদ্র করে সৃষ্টি করতেন। তা যে করেননি, এর উদ্দেশ্য রয়েছে। উভয় শ্রেণীকে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহপাক এমনিভাবে সৃষ্টি করেছেন। সে পরীক্ষা হচ্ছে দরিদ্রদের প্রতি ধনীর কর্তব্য পরীক্ষা আর কষ্টের মধ্যে দরিদ্রের ধৈর্য পরীক্ষা। এ উভয় পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হতে পারলে আল্লাহপাকের তরফ হতে উভয়ের জন্য রয়েছে পরকালের জন্য পরম পুরস্কার। তাই জাবরিয়া মতবাদীদের মতে, আল্লাহর সৃষ্টি এই স্বাতন্ত্র্যের বিলোপ ঘটানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। বরং বান্দার জন্য পাপ বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

আবার একদল মনে করেন, দরিদ্রতা একটি সমস্যা হলেও এনিয়ে ভাবনার কিছু নেই। কারণ এটি একটি অবশ্যই সমাধানযোগ্য সমস্যা! আর এ সমাধানের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বর্তায় ধনীদের ওপর। ধনীরা তাদের সম্পদ হতে সাহায্য করবে দরিদ্রকে। এমনিভাবে দরিদ্রের দরিদ্রতা দূর হবে। কিন্তু এ মতবাদীরা শুধুমাত্র ধনীদের দায়িত্ব সম্পর্কে বর্ণনা করেন, দরিদ্রদের দায়িত্ব সম্পর্কে কিছুই বলেন না, বলেন না দরিদ্রতার মধ্যে দরিদ্রদের অল্পে তুষ্টি অথবা ধৈর্যশীলতার কথা। তাদের আরো অন্যান্য কর্তব্যবোধের কথা। ভবিষ্যৎ শুভ সংবাদের কথা। বরং বেশি বেশি করে বলেন, ধনীদের দায়িত্বশীলতার পারলৌকিক পুরস্কার আর দায়িত্বহীনতার পারলৌকিক শাস্তির কথা।

এর পর পুঁজিবাদী মতবাদ। পুঁজিপতিরা মনে করেন, যদিও দরিদ্রতা একটি মন্দ জিনিস, কিন্তু এজন্য ধনীরা অথবা রাষ্ট্র দায়ী নয়। দায়ী ওই দরিদ্র ব্যক্তি নিজে অথবা তার ভাগ্য। যে ভাগ্যের নির্মাতা স্রষ্টা স্বয়ং। আর তাই মেনেও দরিদ্রজনকে সাহায্য করতে কোনও ধনী বাধ্য নয়। কারণ, সাহায্য করে ভাগ্য পরিবর্তন করা যায় না। তাছাড়া যেখানে সে দায়ী নয়, সেখানে কেন সে অনুরূপ ঝুঁকি অথবা দায়িত্ব নেবে। দায়িত্ব সে-ই নেবে, যে এর জন্য দায়ী। উল্লেখ্য যে, ওপরে আলোচিত তিনটি মতবাদ অথবা ধারণা ইসলামী চিন্তাধারার সাথে কিয়দংশ মিল থাকলেও এই পুঁজিবাদী চিন্তাধারার সাথে বিন্দুমাত্র মিল নেই। সেকথা পরে আলোচনা করা হচ্ছে।

দরিদ্রতা সম্পর্কিত আর একটি মতবাদ কমিউনিজম। এই মতবাদটি পুঁজিবাদী মতবাদের সম্পূর্ণ বিপরীত। কমিউনিস্টরা মনে করেন, দরিদ্রদের দরিদ্রতার জন্য পুরোপুরি দায়ী ধনী লোকরা তথা পুঁজিপতিরা। তারা অন্যায়ভাবে ধনের পাহাড় নির্মাণ করেন বলেই অন্যরা দরিদ্র হয়। এজন্য কমিউনিস্টরা দরিদ্রকে প্রভাবিত করেন ধনীদের বিরুদ্ধে, ধনীদের নিকট থেকে তাদের ন্যায্য অধিকার ছিনিয়ে নেয়ার জন্য। এমনিভাবে তারা একটি সংগ্রামের সৃষ্টি করেন তাদের ভাষায়, বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে। শক্তিবলে তারা দরিদ্রদের ভাগ্য নির্মাণ করতে চান। স্রষ্টার আদর্শ অথবা ভূমিকাতে তারা আদৌ বিশ্বাসী নন। সমাজতন্ত্র নামে যে আর একটি মতবাদ আছে, তা কমিউনিজমেরই প্রায় সমরূপ। পার্থক্য শুধু এই যে, সমাজতন্ত্রীরা কমিউনিস্টদের মত ধনিক শ্রেণীর উৎখাত চান না, বরং তাদের নিকট থেকে দরিদ্রদের ন্যায্য অধিকার দাবি করেন। আর তা অবশ্যই উপরোক্ত শ্রেণী সংগ্রামের মাধ্যমে নয়, যথাযথ নিয়মতান্ত্রিক পথে।

এখন দেখা যাক এ প্রসঙ্গে ইসলাম কি বলে।
আল-কোরানে নির্দেশ প্রদান করে আলস্নাহ পাক বলেন- ‘তোমরা জাহাদুল বালা (অর্থাৎ কম সম্পদ এবং অধিক সন্তান এমন অবস্থা) হতে আমার কাছে পানাহ (পরিত্রাণ) চাও।’ রাসূল করীম (স.) এই বলে দোয়া করতেন-‘আলস্নাহুম্মা ইনি্ন আউযুবিকা মিনাল কুফরী ওয়াল ফাকরী।’ অর্থাৎ ‘হে আলস্নাহ! আমি কুফর, দরিদ্রতা এবং ক্ষুধা হতে নিশ্চয়ই তোমার কাছে পানাহ চাই।’ তিনি এমনিভাবে আরো দোয়া করতেন-‘আল্লাহুম্মা ইনি্ন আউযুবিকা মিনাল ফাকরী ওয়াল কিল্লাতি ওয়াজজিল্লাতি।’ অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ, আমি দরিদ্রতা, ক্ষুধা ও সম্পদের স্বল্পতা এবং জিল্লাতি হতে তোমার কাছে নিশ্চয়ই পানাহ চাই।’ এমনিভাবে দরিদ্রতা হতে পানাহ অর্থাৎ পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য বান্দাদের প্রতি প্রার্থনার নির্দেশ আল-কুরআনে অসংখ্য আয়াতে আছে। নবী করীমের (স.) অনুরূপ অসংখ দোয়া আছে আল হাদীসের বিভিন্ন বর্ণনায়।

বলা হয়েছে ‘পানাহ’ অর্থাৎ পরিত্রাণ’। পরিত্রাণের প্রসংগ আসে যদি সেখানে থাকে মুসিবত বা বিপদ। এখানে দরিদ্রতা হতে পানাহ-এর কথা বার বার বলা হয়েছে। একসঙ্গে অনেক কিছু হতে পানাহ-এর কথা বিভিন্ন পৃথক আয়াতে বলা হলেও প্রায় সবগুলোতেই দরিদ্রতার কথা এসেছে বিশেষভাবে।

দরিদ্রতাকে কেন মুসিবত বলা হয়েছে? তার অবশ্য কারণ রয়েছে। অধিক দরিদ্রতার মধ্যে নিমজ্জিত থাকলে কোনও মহৎকার্যে আত্মনিমগ্ন থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। এমনকি এবাদত বন্দেগিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কঠিন দরিদ্রতার চিন্তা কোনো মহৎকার্যের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। হয়তো সেজন্যই নবী করীমকে (স.) চরম দরিদ্রতার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এক সময় আল্লাহ মা’বুদ তাঁকে হযরত খাদিজার (রা.) সম্পদ দিয়ে নিশ্চিত করেছিলেন। এই প্রসংগে আল-কুরআনে রাসূলূল্লাহকে (স.) উদ্দেশ্য করে এরশাদ করা হয়েছে- ওয়া ওয়াজাদাকা য়াইনাল ফা আগনা।’ অর্থাৎ ‘এই আল্লাহ আপনাকে অভাবগ্রস্ত পেয়েছিলেন, এরপর আপনাকে সম্পদশালী করে দিয়েছেন।’ অবশ্য রাসুলুল্লাহ (স.) উক্ত সম্পদ কখনো নিজের ভোগের জন্য ব্যবহার করেননি।

বিশেষ করে যে সম্পদের প্রয়োজন হয় কখন কখন তার প্রমাণ হযরত আবু বকর (রা.)। হযরত আবু বকর (রা.) তৎকালীন আরবের সবচেয়ে ধণাঢ্য ব্যক্তি বলে গণ্য ছিলেন। তিনি তাঁর সকল সম্পদ ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। তৎকালীন দরিদ্র সাধারণ মুসলমান জাতির জন্য এই সম্পদ অত্যন্ত উপকারী হয়। এ প্রসংগে নবী করীম (স.) আনন্দচিত্তে বর্ণনা করেন- ‘ মানাফায়ানি মালুন কামালি আবি বকরি’। অর্থাৎ ‘আবু বকরের (রা.) সম্পদের মত আর কারো সম্পদ আমার উপকারে আসেনি।’ অর্থাৎ সম্পদ থাকা ভাল, যদি তা সৎপথে উপার্জিত এবং সৎপথে ব্যয়িত হয়। হযরত রাসূলে পাক (স.) অনেক দোয়ার মধ্যে মানুষের জন্য স্বচ্ছতা, অর্থাৎ মানুষের দরিদ্রতা মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে কামনা করতেন। সেকথা পূর্বেই উলেস্নখিত হয়েছে। হযরত আনাছ (রা.) ছিলেন রাসূলে পাকের (স.) একজন বিশ্বস্ত খাদেম। তিনি একজন দরিদ্র ব্যক্তি ছিলেন। রাসূলে পাক (স.) তাঁর জন্য এই বলে দোয়া করতেন-‘আল্লাহুম্মা তাকছির মানাহু।’ অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! তুমি তাকে (হযরত আনাছ (রা.) প্রচুর সম্পদ দাও।

কোমর ব্যথা বা ব্যাকপেইন

বেশিরভাগ মানুষই জীবনের কোনো না কোনো সময় কোমরব্যথাজনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন। আমাদের দেশে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে চারজন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এ সমস্যায় ভোগেন।কোমর ব্যথার কারণ
কোমর ব্যথার অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে ৯০ ভাগ হচ্ছে ‘মেকানিক্যাল সমস্যা’। মেকানিক্যাল সমস্যা বলতে মেরুদণ্ডের মাংসপেশি, লিগামেন্ট মচকানো, আংশিক ছিঁড়ে যাওয়া, দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক সমস্যা, কশেরুকার অবস্থানের পরিবর্তন ও মেরুদণ্ডের নির্দিষ্ট বক্রতার পরিবর্তনকে বোঝায়। চলাফেরা, জীবিকার ধরন, খুব বেশি ভার বা ওজন বহন, মেরুদণ্ডের অতিরিক্ত নড়াচড়া, একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে কোনো কাজ করা, মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া, সর্বোপরি কোমরের অবস্থানগত ভুলের জন্য হয়ে থাকে। অন্যান্য কারণের মধ্যে বয়সজনিত মেরুদণ্ডে ক্ষয় বা বৃদ্ধি, অস্টিওআথ্রাইটিস বা গেঁটে বাত, অস্টিওপোরোসিস, এনকাইলজিং স্পনডাইলোসিস, মেরুদণ্ডের স্নায়বিক সমস্যা, টিউমার, ক্যান্সার, বোন টিবি, কোমরের মাংসপেশির সমস্যা, পেটের বিভিন্ন ভিসেরার রোগ বা ইনফেকশন, বিভিন্ন স্ত্রীরোগজনিত সমস্যা, মেরুদণ্ডের রক্তবাহী নালির সমস্যা, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, মেদ বা ভুঁড়ি, অতিরিক্ত ওজন ইত্যাদি।

উপসর্গসমূহ
কোমরের ব্যথা আস্তে আস্তে বাড়তে পারে বা হঠাত্ প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে। নড়াচড়া বা কাজকর্মে ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে পারে। ব্যথা কোমরে থাকতে পারে বা কোমর থেকে পায়ের দিকে নামতে পারে অথবা পা থেকে কোমর পর্যন্ত উঠতে পারে। অনেক সময় কোমর থেকে ব্যথা মেরুদণ্ডের পেছন দিক দিয়ে মাথা পর্যন্ত উঠতে পারে। রোগী অনেকক্ষণ বসতে বা দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। ব্যথার সঙ্গে পায়ে শিনশিন বা ঝিনঝিনজাতীয় ব্যথা নামতে বা উঠতে পারে, হাঁটতে গেলে পা খিঁচে আসে বা আটকে যেতে পারে, ব্যথা দুই পায় বা যেকোনো এক পায়ে নামতে পারে। অনেক সময় বিছানায় শুয়ে থাকলে ব্যথা কিছুটা কমে আসে। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে রোগীর কোমর ও পায়ের মাংসপেশির ক্ষমতা কমে আসে এবং শুকিয়ে যেতে পারে, সর্বোপরি রোগী চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

যেহেতু এই আধুনিক যুগেও কোমরব্যথা একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাস্থ্য সমস্যা; তাই এ সমস্যা সমাধানে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।
প্রতিকার
মেডিসিন : চিকিত্সকরা রোগীকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সাধারণত ব্যথানাশক এনএসএআইডিএস গ্রুপের ওষুধ, মাস রিলাক্সজেন ও সেডেটিভজ জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করে থাকেন। অনেক সময় মেরুদণ্ডের ভেতর স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধও প্রয়োগ করে থাকেন। যেহেতু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা নির্দিষ্ট মাত্রা রয়েছে সেজন্য অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শ মতো ওষুধ সেবন করা আবশ্যক। এই চিকিত্সা ব্যবস্থার পাশাপাশি চিকিত্সক রোগীকে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন, 12pt; line-height: 130%; font-family: ‘Siyam Rupali’”> আলট্রাসাউন্ড থেরাপি, লাম্বার ট্রাকশন ও বিভিন্ন ব্যায়াম দিয়ে থাকেন। তাছাড়া চিকিত্সা চলা অবস্থায় কোমরে নির্দিষ্ট অর্থোসিস বা ব্রেস প্রয়োগ করে থাকেন। তবে এই জাতীয় চিকিত্সা যেখানে সেখানে না করাই ভালো।
সার্জারি : যদি দীর্ঘদিন মেডিসিন চিকিত্সা চালানোর পরও রোগীর অবস্থার পরিবর্তন না হয় রোগীকে অবস্থা অনুযায়ী কোমর-মেরুদণ্ডের অপারেশন বা সার্জারির প্রয়োাজন হয়। এ জাতীয় সার্জারি সাধারণত নিউরো বা অর্থোসার্জনরা করে থাকেন। সার্জারির পর রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের নির্দেশ মতো নির্দিষ্ট ব্যায়াম দীর্ঘ দিন চালিয়ে যেতে হয়।
প্রতিরোধ : কোমর ব্যথা উপরে উল্লিখিত চিকিত্সা পদ্ধতিতে ভালো হওয়ার পরও আবার দেখা দিতে পারে। যেহেতু কোমরব্যথা বারবার দেখা দিতে পারে বা যারা এখনও এ জাতীয় সমস্যায় ভোগেননি, তারা নিচের পরামর্শ মেনে চলতে পারেন। তবে ব্যায়াম করার আগে আপনার জন্য কী ব্যায়াম, তার জন্য অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ ভুল ব্যায়ামের কারণে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম শুরুর আগে স্ট্রেচিং ব্যায়াম করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

পায়ের কাফ মাসল বা মাংসপেশির স্ট্রেচিং
দেয়ালের কোণে গিয়ে এক পা সামনে এক পা পেছন দিয়ে দাঁড়ান। পেছনের হাঁটু সোজা রেখে সামনে ঝুঁকে দুই হাত দিয়ে সামনের দুই পাশের দেয়ালে ধাক্কা দিন। এতে পায়ের কাফ মাসলে টান পড়বে।

ঊরুর সামনের মাংসপেশির স্ট্রেচিং
সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যেকোনো এক হাঁটু ভাঁজ করে ওই পায়ের গোড়ালি নিতম্বের সঙ্গে লাগাতে চেষ্টা করুন। এতে ঊরুর সামনের মাংসপেশিতে টান পড়বে।

হ্যামস্ট্রিং বা ঊরুর পেছনের মাংসপেশি স্ট্রেচিং
টুল বা বেঞ্চের ওপর এক পা সোজা করে রেখে পায়ের পাতা এক হাত দিয়ে নিজের দিকে টানতে হবে। এতে ঊরুর পেছনের মাংসপেশিতে টান লাগবে।

নিতম্ব বা হিপের সামনের মাংসপেশির স্ট্রেচিং
ডান হাঁটু ভাঁজ করে বসে বাম পায়ের পাতা সোজাভাবে ফ্লোরে রাখুন। এরপর সামনে ঝুঁকুন। একইভাবে অন্য পায়ের জন্য করুন। এতে নিতম্বের সামনের মাংসপেশি টান হবে।

ইলিওটিবিয়াল ব্যান্ড স্ট্রেচিং
এক পায়ের সামনে অন্য পা ক্রস করে চাপ দিন। এতে ইলিওটিবিয়াল ব্যান্ডে টান পড়বে।

অবস্থাগত কোমরব্যথা সায়াটিকা রোগ বা ডিস্ক প্রলেপস রোগের ব্যায়াম
প্রথমে সতর্কতার সঙ্গে উপড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। এবার কনুইয়ের ওপর ভর করে বুক ও মাথা খুব ধীরে ধীরে ওপরে ওঠান। প্রতিবেলায় ছয়বার করুন।
উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। এ অবস্থা থেকে দুই হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে মাথা ও বুক তুলুন, যেন তলপেট বিছানায় লাগানো থাকে। পাঁচ সেকেন্ড এভাবে থাকুন, ব্যায়ামটি ১০ বার করুন।
উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাত দুটি কোমরের পেছনে রাখুন। এ অবস্থায় নিচের দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে মাথা ও বুক ওপরের দিকে ওঠান। পাঁচ সেকেন্ড রাখুন। আস্তে আস্তে নামান। দিনে দুই বেলা পাঁচ থেকে ১০ বার করুন।
উপড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। বুক ও মাথা মেঝের সঙ্গে লাগিয়ে রাখুন। এবার দুই হাত একসঙ্গে দু-তিন ইঞ্চি উঠিয়ে কয়েক সেকেন্ড রাখুন। এবার ডান হাত ও বাম পা একসঙ্গে উঠিয়ে কয়েক সেকেন্ড রাখুন, এবার নামিয়ে ফেলুন। একইভাবে বাম হাত ও ডান পা উঠিয়ে নামিয়ে ফেলুন।

স্পন্ডাইলসিস, মাংসপেশি বা লিগামেন্টজনিত সমস্যা, স্নায়বিক সমস্যাজনিত ব্যায়াম চিত্ হয়ে শুয়ে হাত দুটো ভাঁজ করে বুকের ওপর রাখুন, হাঁটু দুটি ভাঁজ করুন। এবার আস্তে আস্তে মাথা, কাঁধ ও পিঠ ফ্লোর বা বিছানা থেকে ওপরে তুলুন, বেশি ওপরে তুলবেন না। (যাদের ঘাড়ে ব্যথা আছে তারাও ব্যায়ামটি করার সময় মাথার পেছনে হাত রাখুন)।
চিত্ হয়ে শুয়ে পড়ুন। এবার ডান পা ভাঁজ করে বুকের কাছে নিয়ে আসুন, পা সোজা করে আস্তে আস্তে নামিয়ে ফেলুন। একইভাবে অন্য পায়ের জন্য করুন।
তৃতীয় ব্যায়ামটি আগের ব্যায়ামের মতো একটি ব্যায়াম। সোজা হয়ে দাঁড়ান। এবার কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে পেছনে ঝুঁকুন। এবার ধীরে ধীরে সোজা হন।

অ্যারোবিক ব্যায়াম
স্ট্রেচিং ব্যায়াম ও নির্দিষ্ট ব্যায়াম ছাড়াও মেরুদণ্ডের সুস্থতা ও কোমর ব্যথার জন্য প্রয়োজন অ্যারোবিক ব্যায়াম। যেমন:-

* সাঁতার কাটা। নিয়মিত হাঁটা। আস্তে আস্তে দৌড়ানো।
দৈনন্দিন কাজে সতর্কতা
* নিচ থেকে কিছু তোলার সময় কোমর ভাঁজ করে কিংবা ঝুঁকে তুলবেন না। হাঁটু ভাঁজ করে তুলুন।
* কোনো কিছু বহন করার সময় ঘাড়ের ওপর কিছু তুলবেন না।
ভারি জিনিস শরীরের কাছাকাছি রাখুন।
* পিঠের ওপর ভারি কিছু বহন করার সময় সামনের দিকে ঝুঁকে বহন করুন।

দাঁড়িয়ে থাকার সময়
* ১০ মিনিটের বেশি দাঁড়িয়ে থাকবেন না।

* হাঁটু না ভেঙে সামনের দিকে ঝুঁকবেন না।
* দীর্ঘক্ষণ হাঁটতে বা দাঁড়াতে হলে উঁচু হিল পরবেন না। অনেকক্ষণ দাঁড়াতে হলে কিছুক্ষণ পর পর শরীরের ভর এক পা থেকে অন্য পায়ে নিন।
* দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হলে ছোট ফুটরেস্ট ব্যবহার করুন।

যানবাহনে চড়ার সময়
গাড়ি চালানোর সময় স্টিয়ারিং হুইল থেকে দূরে সরে বসবেন না। সোজা হয়ে বসুন।

ভ্রমণে ব্যথার সময় লাম্বার করসেট ব্যবহার করুন।

বসে থাকার সময়
আপনার চেয়ারটি টেবিল থেকে বেশি দূরে নেবেন না। সামনে ঝুঁকে কাজ করবেন না। কোমরের পেছনে সাপোর্ট দিন। এমনভাবে বসুন যাতে ঊরু মাটির সমান্তরালে থাকে। নরম গদি বা স্প্রিংযুক্ত সোফা বা চেয়ারে বসবেন না।

শোয়ার সময়
উপুড় হয়ে শোবেন না। ভাঙা খাট, ফোম বা স্প্রিংয়ের খাটে শোবেন না। সমান তোশক ব্যবহার করুন। বিছানা শক্ত, চওড়া ও সমান হতে হবে। শক্ত বিছানা বলতে সমান কিছুর ওপর পাতলা তোশক বিছানোকে বোঝায়।

মহিলারা যেসব নিয়মকানুন মেনে চলবেন
* অল্প হিলের জুতো বা স্যান্ডেল পরুন, বিভিন্ন জুতোর হিলের উচ্চতা বিভিন্ন না হওয়াই উচিত।

তরকারি কাটা, মসলা পেষা, কাপড় কাচা ও ঘর মোছার সময় মেরুদণ্ড সাধারণ অবস্থায় এবং কোমর সোজা রাখুন।
* কোমর ঝুঁকে বাচ্চাকে কোলে নেবেন না। ঝাড় দেয়া, টিউবওয়েল চাপার সময় কোমর সোজা রাখবেন।
* পানি ভরা কলস বা বালতি, ভারি আসবাবপত্র তুলতে প্রথমে হাঁটু ভাঁজ করে বসবেন এবং কোমর সোজা রাখবেন।
* মার্কেটিং বা শপিংয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট দাঁড়ানো বা হাঁটার পরে বিশ্রামের জন্য একটু বসবেন।
* বিছানা গোছানোর সময় কোমর ভাঁজ না করে বরং হাঁটু ভেঙে বসা উচিত।

বিছানা থেকে শোয়া ও ওঠার নিয়ম
* চিত্ হয়ে শুয়ে এক হাঁটু ভাঁজ করুন। এবার অন্য হাঁটুটি ভাঁজ করুন। হাত দুটি বিছানায় রাখুন।

এবার ধীরে ধীরে এক পাশ কাত হোন।
* পা দুটি বিছানা থেকে ঝুলিয়ে দিন, এবার কাত হওয়া দিকের হাতের কনুই এবং অপর হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে ধীরে ধীরে ওঠে বসুন।
* দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে বসুন এবং মেঝেতে পা রাখুন। এবার দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে সামনে ঝুঁকে দাঁড়ান।

ওজন কমান, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করুন
গরু, খাসির মাংস, ডালজাতীয় খাবার, মিষ্টিজাতীয় খাবার, তৈলাক্ত খাবার কমিয়ে শাক-সবজি, তরিতরকারি, ফলমূল খাদ্য তালিকায় বেশি করে রাখুন। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন এবং যাদের দুপুরে ঘুমানোর অভ্যাস আছে, তা বন্ধ করে রাতে শিগগিরই শুয়ে পড়ুন।

বেশি ঘুমালে ওজন কমবে 

 

আপনি কি আপনার ওজন কমাতে চান? তাহলে বেশি রাত পর্যন্ত টিভি না দেখে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ুন। কারণ কিছুদিন আগে একটা গবেষণায় ধরা পড়েছে বেশিক্ষণ ঘুমালে ওজন কমে যায়। ওয়াশিংটনের বাল্টর রিড টিম আর্মি মেডিকেল সেন্টার এ নিয়ে গবেষণা করেছিল। এ গবেষণায় ধরা পড়েছে রাতে কম ঘুম হলে হরমোনের স্তরটা এক থাকে না, যার কারণে ভীষণ খিদে পায়। কিন্তু পাচন প্রক্রিয়ার গতি কমে যায়। এর ফলে ওজন বেড়ে যায়। এ প্রসঙ্গে চিকিত্সক এলিয়াসন জানিয়েছেন, আমরা এ নিয়ে বিশ্লেষণ করেছি। ধরা পড়েছে যারা রাতে কম ঘুমান তাদের বিএমআই ২৮.৩ থাকে। আর যারা বেশি ঘুমান তাদের বিএমআই ২৪.৫ হয়ে যায়। অন্যদিকে যাদের বিএমআই ৩০-এর উপরে পৌঁছায় তাদের মোটা শ্রেণীতে ধরা হয়।
মন খুলে কাঁদুন…
মনের কষ্ট কখনও চেপে রাখবেন না। কারণ কান্না স্বাস্থ্যের পক্ষে ভীষণ ভালো। কান্না হলো একটা স্বাভাবিক অভিব্যক্তি। মনে আঘাতের সঙ্গেই তা দু’চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ কাঁদার পর মনটা অনায়াসেই হালকা হয়ে যায়। এতে শরীরের কোনো ক্ষতি নেই। মন এবং স্বাস্থ্য—দুয়ের জন্যই তা ভালো। কিছুদিন আগে বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় প্রমাণ করেছেন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, শোকের মুহূর্তে চোখ থেকে না পানি বেরোলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিত্সকের পরামর্শ নেয়া উচিত। নতুবা মানসিক স্থিতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। কাঁদা মানেই হেরে যাওয়া নয়। কাঁদলে শারীরিক নানা সমস্যার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। গবেষণায় আরও প্রমাণিত হয়েছে, কাঁদার পরই আমাদের ত্বকের সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়। তাছাড়া শ্বাস-প্রশ্বাসের মাত্রাও বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্যখাতে থ্রিজি টেকনোলজি

 

ডা. ফেরদৌস আরা একজন অল্প বয়সী সফল গাইনি সার্জন। বর্তমানে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত আছেন। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেডিকেল কলেজ ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস, হাসপাতালের রোগী, অপারেশন ও বিকালে প্রাইভেট চেম্বার—সর্বোপরি সংসারের ব্যক্তিগত কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার পথে নিজের গাড়িতে বসেই অথবা অবসর সময়ে নিজস্ব ল্যাপটপ ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে আধুনিক চিকিত্সা বিজ্ঞান সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করে থাকেন। অল্প বয়সী এ সার্জন শহরে বসবাসরত খুব অল্পসংখ্যক রোগীকে চিকিত্সাসেবা প্রদান করতে পারেন। অনেক চিকিত্সক ছুটির দিনে ঢাকার বাইরে গিয়ে চিকিত্সাসেবা প্রদান করলে ডা. হোসনে আরার পক্ষে তা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। কারণ তার সময়ের স্বল্পতা ও শহর থেকে দূরে বলে।
ডা. ফেরদৌস আরার অল্প বয়সে যথেষ্ট খ্যাতি ও অর্থ উপার্জনের সক্ষমতা থাকলেও একটি চাপা কষ্ট তাকে বারবার পীড়া দেয়। কবে আসবে সেদিন, যেদিন আধুনিক ডিজিটাল চিকিত্সা ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রামে ফেলে আসা চাচি, মামী, বোন, মা’দের এবং গ্রামের সেই কৃষক ভাইদের—যাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা পরিশ্রমের অর্থেই হোসনে আরার মতো হাজারও গাইনি, মেডিসিন, আই, নেফ্রোলজি ও রেডিওলজিসহ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এ দেশে তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতে থ্রিজি বা থার্ড জেনারেশন টেকনোলজি চিকিত্সক ফেরদৌস আরার এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে। তৃতীয় বিশ্বের দারিদ্র্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের মতো একটি দেশে সরকারের একার পক্ষে গ্রামে বসবাররত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে উন্নত চিকিত্সাব্যবস্থা এই স্বল্পসংখ্যক চিকিত্সকের মাধ্যমে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এজন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোয়ও ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে এদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে আধুনিক চিকিত্সাসেবা পৌঁছে দেয়া।
গত ১০ বছরে আমাদের এই নদীমাতৃক দেশে রাস্তা-ঘাট, ট্রেন ও প্লেন যোগাযোগ ব্যবস্থা যতটা উন্নত হয়নি, তার চেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা। এই টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে ৩-এ টেকনোলজির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতকে ডিজিটাল করা যেতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমনকি ভারত ও নেপালে থ্রিডি টেকনোলজির মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতকে ডিজিটাল করার পরিকল্পনা চলছে। যেহেতু বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতাল মেশিনারি যেমন এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, আলট্রাসনোগ্রামসহ অনেক ল্যাবরেটরির মেশিন কম্পিউটার দ্বারা পরিচালিত হয় এবং ডাটা সরাসরি সার্ভারে সংরক্ষণ করা যায় সেহেতু বর্তমান সরকারি ও প্রাইভেট হাসপাতালগুলো যদি এখনই আধুনিক ডিজিটাল সিস্টেমের আওতায় না আনা হয় তবে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত হুমকির সম্মুখীন হবে এবং আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে পিছিয়ে পড়বে। তাই এখনই স্বাস্থ্যখাতে সঠিক ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা করতে হবে।
কী এই থ্রিজি টেকনোলজি
থ্রিজি টেকনোলজি এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ছবি ও কথা একই সঙ্গে মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে অত্যন্ত অল্প খরচে অন্য জায়গায় পাঠানো সম্ভব। থ্রিজি টেকনোলজি ব্যবহারের জন্য একটি থিজি পড়সঢ়ধঃরনষব গড়নরষব ও Laptop প্রয়োজন হতে পারে। এই টেকনোলজি ব্যবহার করে সিটি স্ক্যান, আইআরআই, আলট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন ল্যাবরেটরি টেস্ট রিপোর্ট চিকিত্সকরা সরাসরি কোনো মেশিন থেকে কম্পিউটার সার্ভারের মাধ্যমে নিজস্ব ল্যাপটপে সংরক্ষণের মাধ্যমে দূরের কোনো রোগীকে চিকিত্সা প্রদান করতে পারবেন। এই টেকনোলজি ব্যবহার করে টেলিমেডিসিন ও কম্পিউটারাইজড হাসপাতাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে আরও গতিশীল করা যেতে পারে, যা ভবিষ্যত্ স্বাস্থ্যখাতকে করতে পারে অধিকতর উন্নত।

ডিজিটাল হেলথ সিস্টেমের অসুবিধাগুলো
বাংলাদেশের ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা একটি নতুন ক্ষেত্র। এই ক্ষেত্রে কাজ করতে গেলে নিম্নলিখিত অসুবিধা দেখা যায়—

১. ডিজিটাল স্বাস্থ্য সিস্টেমকে উন্নয়ন, কার্যকর প্রয়োজনীয় কম্পিউটার বিশেষজ্ঞের অভাব। ব্যাংক ও টেলিযোগাযোগ খাতে কম্পিউটার বিশেষজ্ঞদের যথেষ্ট মূল্যায়ন করা হলেও স্বাস্থ্যখাতে কম্পিউটার বিশেষজ্ঞদের তেমন মূল্যায়ন করা হয় না। তাই মেধাবী কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়াররা এই ব্যবস্থায় আসতে চায় না।
২. অধিকাংশ হাসপাতালগুলোয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ডাক্তার হওয়ায় হাসপাতাল কম্পিউটারাইজড সিস্টেমের ওপর অভিজ্ঞতা না থাকায় ওই সিস্টেমটি হাসপাতালে কার্যকর করতে চায় না। তবে অনেক তরুণ ডাক্তার স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটাল সিস্টেম করা সময়ের দাবি বলে মনে করেন।
৩. সরকারের পাশাপাশি প্রাইভেট হাসপাতালগুলোকে এই সিস্টেম চালু করার জন্য যথেষ্ট আন্তরিক হতে হবে। প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিকভাবে একটি করে কম্পিউটার ইউনিট করা যেতে পারে।
৪. সাধারণত রোগীরা সরাসরি ডাক্তারের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র গ্রহণে অভ্যস্ত। ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে রোগীদের চিকিত্সা গ্রহণের সচেতনতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. কম্পিউটারাইজড হাসপাতাল সিস্টেমের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কোর্স চালু করা যেতে পারে।
৬. মেডিকেলে শেষ বর্ষে ইন্টার্নি করার সময় অন্যান্য ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি কম্পিউটারের ওপর বিশেষ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
৭. কোনো একটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল তৈরির আগে এখাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থবরাদ্দ থাকতে হবে এবং আর্কিটেকচারাল ডিজাইনে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৮. প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় কম্পিউটারাইজড হাসপাতাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করার পর ওই সিস্টেমগুলোকে একটি কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের আওতায় আনা যেতে পারে।

ত্যাগ ও সহানুভূতির বিরল দৃষ্টান্ত

পুণ্যাত্মা সাহাবারা ছিলেন নবী করিম সাঃ-এর পূতপবিত্র মহোত্তম চরিত্রের আধার। তাঁর মহোত্তম জীবন চরিত্রের পূর্ণস্নাত। তাদের জীবনে প্রতিবিম্বিত হয়েছিল রাসূল সাঃ-এর ত্যাগ ও আত্মত্যাগের প্রতিটি অধ্যায়। সুমহান জীবনাদর্শ। তারা আঁকড়ে ধরেছিলেন হুজুর সাঃ-এর মুখনিসৃত প্রতিটি অমীয় বাণী, কর্ম ও সুন্নাহ। আর তা ব্যবহারিক জীবনে পালন করেছে অক্ষরে অক্ষরে।

তারা ছিলেন পরস্পর হামদর্দী, সহানুভূতিশীল ও সমব্যথী। নিজেরা জঠরজ্বালা নিবারণ না করে অনাহারীর মুখে খাবার তুলে দিতেন হাসিমুখে। নিজেরা ক্ষুধাপীড়িত থেকে শিশুদের ভুলিয়ে-ভালিয়ে ঘুম পাড়িয়ে অতিথি সেবা ও মেহমানদারি করেছেন উদার মনে। একজনের দুঃখ-কষ্টে কেঁদে উঠত তাদের কোমল হৃদয়। তারা তাকওয়া ও খোদাভীতি ত্যাগ ও কোরবানি ইনসাফ ও সাম্য সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের এমন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ইতিহাসের সোনালি পাতায় রেখে গেছেন, যার ন্যূনতম তুলনা খঁুজে পাওয়া যাবে না কোনো জাতি ও ধর্মের ইতিহাসে।

সেসব পুণ্যাত্মা সাহাবার অন্যতম ছিলেন হজরত আবু বকর রাঃ। ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর জীবন ও সম্পদের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন ছিল, আদর্শ নবী চরিত্র তার নিষ্কলুষ জীবনে কতটুকু প্রতিবিম্বিত হয়েছিল, সে সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা লাভের জন্য একটি মাত্র ঘটনার উল্লেখই যথেষ্ট মনে করি।

হুজুর সাঃ-এর অনুপম আদর্শে স্নাত হজরত আবু বকর রাঃ ছিলেন মুসলমানদের খলিফা। অতুলনীয় আদর্শ খলিফা। সে হিসেবে তার মহীয়সী সহধর্মিণী পারতেন দামি দামি পোশাক পরতে। উন্নত খাবার উদরপুরে খেতে। পারতেন আড়ম্বরপূর্ণ বিলাসপ্রিয় জীবন বেছে নিতে। কারণ তিনি যে খলিফার স্ত্রী। শাসকের স্ত্রী। বর্তমান অবস্থা তো এমনই।

না, তিনি এমন করেননি। তিনি বেছে নিয়েছেন অনাড়ম্বরপূর্ণ সাদাসিধে জীবন। আহার করেছেন জীবনধারণ পরিমাণ খাবার। অল্পে তুষ্ট থেকেছেন আমৃতুø। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত।

কিন্তু মানুষের রুচি বৈচিত্র্যময়। এক অবস্থার ওপর অনড় থাকা যায় না। থাকতে পারে না। এটা তার স্বভাববিরোধী। তাই অভিরুচি হয় ভিন্ন কিছুর। খলিফার স্ত্রীর একবার ইচ্ছা হলো, হালুয়া বানিয়ে সবাইকে মিষ্টিমুখ করাবেন। সেজন্য বেশ কিছু দিন থেকেই তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। নিত্যদিনের আহার থেকে অল্প অল্প করে বাঁচিয়ে সামান্য পরিমাণ আটা ও মধু জোগাড় করলেন। এভাবেই তৈরি হলো অনেক দিনের প্রতীক্ষিত হালুয়া। পুণ্যবতী মহীয়সী সে হালুয়া মুখে না নিয়ে তার স্বাদ-বিস্বাদ আস্বাদন না করে পেশ করলেন খলিফার খেদমতে। কিন্তু তিনি স্পর্শ না করে জানতে চাইলেন, কিভাবে তৈরি হলো এটা। শান্তমনে সব শুনে তিনি বায়তুলমালকে নির্দেশ পাঠালেন, খলিফার বরাদ্দ এখন থেকে আরো কমিয়ে দেয়া হোক। কেননা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আরো কম হলেও আবু বকরের চলে যায়। এই ছিল খলিফাতুল মুসলিমিনের অবস্থা। দুনিয়ার প্রতি তার নিরাসক্তি ও নির্মোহতা।

হজরত আবু তালহা আনসারি রাঃ ছিলেন সাহাবিদের মধ্যে অন্যতম গুণ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তিনি ছিলেন অতিথিপরায়ণ। তার অতিথি সেবার ঘটনা ইতিহাসে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। তবে এ কথা সত্য যে, সহমর্মিতার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন তা মানব সভ্যতার ইতিহাসে একান্তই বিরল।

হজরত আবু হুরায়রা বর্ণনা করেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূল সাঃ-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ আমি ক্ষুধার্ত। তিনি ঘরে খোঁজ নিয়ে জানলেন, আহারযোগ্য কিছুই সেখানে নেই। তখন উপস্থিত সাহাবাদের লক্ষ করে ইরশাদ করলেন, ‘এমন কেউ কি আছে আজকের রাতটি এক ব্যক্তির মেজবানি করতে সক্ষম।’ এ কথা শোনামাত্র আবু তালহা উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি প্রস্তুত আছি। তারপর ঘরে গিয়ে স্ত্রীকে বললেন যা আছে উপস্থিত করো।

দ্বিধাজড়িত কণ্ঠে স্ত্রী বললেন, ঘরে শিশুদের খাবার ছাড়া কিছুই নেই। আবু তালহা বললেন, ‘ভুলিয়ে ভালিয়ে শিশুদের ঘুম পাড়িয়ে দাও।’ তিনি তাই করলেন।

খাবার উপস্থিত হলে আবু তালহা রাঃ মেহমানকে নিয়ে বসলেন। এক ফাঁকে সলিতা উসকে দেয়ার নাম করে বাতি নিভিয়ে দেয়া হলো। আর স্বামী-স্ত্রী উভয়েই হাত গুটিয়ে বসে রইলেন। কিন্তু মেহমান ঘুণাক্ষরেও টের পেলেন না। বরং তিনি পরমতৃপ্তিতে আহার করলেন। সকালে আনসারি হুজুর সাঃ-এর খিদমতে হাজির হলেন। তখন হুজুর সাঃ ইরশাদ করলেন, ‘আল্লাহপাক অমুক অমুকের আচরণে প্রীত হয়েছেন। তিনি আরো ইরশাদ করলেন, এমনকি আল্লাহপাক হেসে দিয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নাজিল হলো কুরআনের আয়াত। যার অর্থ- নিজেদের কষ্ট থাকা সত্ত্বেও অন্যদেরকে তারা নিজেদের ওপর প্রাধান্য দেয়। এই ছিল সাহাবা কেরামের ত্যাগ ও সহানুভূতির বিরল দৃষ্টান্ত। (সূরা হাশর-৯)।

কে কত হাসতে পারো!!! "ছতত্রিশ"

 

ক্রিকেট

এক ক্রিকেটার নিজের উন্নতিতে বেশ অভিভূত। তাই এক খেলায় তার শাশুড়িকে দাওয়াত করলেন খেলা উপভোগ করতে। কিন্তু ব্যাট হাতে ক্রিজে গিয়ে তিনি কেন জানি স্নায়বিক দুর্বলতা অনুভব করছিলেন।

তাই পেছনের উইকেট কিপারকে বললেন_ আমার খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছে, এ বলটি ঠিকমতো হিট করতে পারব কি-না। গ্যালারির ওইখানে আমার শাশুড়ি বসে আছেন।
উত্তরে উইকেট কিপার বললেন ভাই রে, আমি বাজি ধরে বলতে পারি, তুমি কোনোদিনও অতদূরে তোমার শাশুড়িকে হিট করতে পারবে না!

 

 

ব্যাটিং মিস

ডাক্তার : আপনি বলছেন সারারাত ধরে ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন দেখেন।
রোগী : হ্যাঁ।
ডাক্তার : কতদিন ধরে এটা চলছে?
রোগী : প্রায় এক বছর।
ডাক্তার : কিন্তু আপনার অন্য কোনো স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছে করে না?
যেমন ধরুন, খাবার-দাবার বা বেড়াতে যাওয়া?
রোগী : ও সব করতে গিয়ে আমি আমার ব্যাটিংটা মিস করি আর কী?

 

 

পকেটমার

সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে এক পকেটমার এসেছে জেলগেটে। এসেই সহকর্মীকে বলল
:আজ সকালেই তোমার কেস নিয়ে লড়তে বিখ্যাত আইনজীবী মকমল সাহেবের সঙ্গে দেখা করে এলাম। নগদ বিশ হাজার টাকাও দিতে হলো।
:টাকাটা কি তিনি পকেটে রাখলেন?
:মকমল সাহেবের নিজের তো তাই ধারণা!

 

 

শরীর খারাপ

কয়েক দিন থেকেই পল্টুর শরীর খারাপ। এ কারণে তার চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা। দুদিন পর পল্টুর এক বন্ধু তাকে জিজ্ঞেস করল_ তোর না শরীর খারাপ। ডাক্তারের কাছে না গিয়ে বসে আছিস কেন? আজকেই তোকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব।
না রে, আজ শরীরটা ভীষণ খারাপ। আমি উঠতেই পারব না। ভাবছি শরীরটা একটু ভালো হলেই একবার ডাক্তারের কাছে যাব।

 

বয়রা মেয়ে

প্রথম বন্ধু :দোস্ত, আমার মনে হয় মেয়েটি বয়রা। মোটেও কানে শোনে না।
দ্বিতীয় বন্ধু :বলিস কি, কীভাবে বুঝলি?
প্রথম বন্ধু :আমি তার হাতে একটি ফুল দিয়ে ভালোবাসার কথা বললাম। আর উত্তরে সে বলে কি-না তার জুতাজোড়া নতুন আর খুব শক্ত!

 

 

বুদ্ধিমান স্বামী

অফিস থেকে খুব দেরি করে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরলেন স্বামী। কিন্তু তার প্রতিদিনই এ রকম দেরি করে বাসায় ফেরা দেখে স্ত্রীর মনে খুব সন্দেহ হলো। তাই কৌতূহলী হয়ে একদিন বাসায় ফেরার সঙ্গে সঙ্গে_
স্ত্রী :তোমার অফিস তো শেষ হয়ে গেছে সেই কখন। এতক্ষণ কোথায়, কার সঙ্গে কী করলে?
স্বামী :বুদ্ধিমান বউরা কখনও স্বামীকে এভাবে প্রশ্ন করে না।
স্ত্রী :বুদ্ধিমান স্বামীরাও বউকে না বলে কোথাও দেরি করে না, বুঝলে?
স্বামী : ধুর! কী যে বল! বুদ্ধিমান স্বামীদের আবার বউ থাকে নাকি!

 

 

বস-কর্মকর্তার

কর্মকর্তা : স্যার, এবার আমার বেতনটা একটু বাড়িয়ে দিলে ভালো হতো।
বস : কেন?
কর্মকর্তা : গত সপ্তাহে বিয়ে করেছি। তাই আগের বেতনে দু’জনের চলাটা বেশ কষ্ট হবে স্যার।
বস : শুনুন, অফিসের বাইরের কোনো দুর্ঘটনার জন্য অফিস কোনোভাবেই দায়ী নয়। আর তার জন্য জরিমানা দিতেও অফিস রাজি নয়।

%d bloggers like this: