একই সাথে ডায়াবেটিস ও বক্ষব্যাধি হলে কী করবেন

ডায়াবেটিস ও বক্ষব্যাধি একে অন্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই এই রোগ দু’টিকে আমরা আখ্যায়িত করে থাকি উসৎদলপ ঞড়সৎদলপ হিসেবে। ডায়াবেটিস হলে শরীরের যেকোনো স্থানে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। ত্বকের ওপর বিষাক্ত ফোড়া, গ্যাংগ্রিন ধরনের সমস্যা নিয়ে রোগীরা চিকিৎসকের কাছে আসেন। প্রায় প্রতিদিনই আগত অনেক ডায়াবেটিক রোগীর মধ্যে শরীরের কোনো না কোনো অঙ্গে ইনফেকশনের আলামত লক্ষ করা যায়। তবে এই ব্যাপারটি ঘটে থাকে প্রধানত বয়স্ক রোগীদের বেলায়। কোনো বয়স্ক বক্ষব্যাধি তথা যক্ষ্মা রোগীর ক্ষেত্রে রুটিনমাফিক তার রক্তের গ্লুকোজ অর্থাৎ ডায়াবেটিস পরীক্ষা করিয়ে নেয়া প্রয়োজন।

বর্তমান বিশ্বে ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যা বহুল পরিচিত। আজ অজপাড়াগাঁয়ের মানুষের কাছেও এ নামটি ক্রমেই পরিচিত হয়ে উঠছে। যত দিন যাচ্ছে, মানব সভ্যতা যতই নগরকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে আর মানুষ যতই প্রতিদ্বন্দ্বীমূলক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে চলছে, ডায়াবেটিস ততই যেন মানুষের পেছনে পাগলা ঘোড়ার মতো ধাওয়া করছে। কিছু কিছু মানুষের মধ্যে একটা ধারণা রয়েছে যে, বেশি করে মিষ্টি খেলেই বোধ হয় ডায়াবেটিস হয়। আসলে এটা ঠিক নয়। এই রোগ অনেক কারণেই হয়ে থাকে­ এর মধ্যে বংশানুক্রমিক বা পারিবারিক ইতিহাসই প্রণিধানযোগ্য। অনেকে আবার ভাইরাসকেও আজকাল দায়ী করছেন। তবে আমাদের মধ্যে আরামপ্রিয়তা, ভোজনবিলাসিতা, শরীরের অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি এ রোগের প্রকোপকে বাড়িয়ে তুলছে এবং সেটা অনস্বীকার্য। এই রোগে শরীরের অগ্ন্যাশয়ের লেজের দিকে কিছু কোষ অকেজো বা অকার্যকর হয়ে যায়­ ফলে শর্করা জাতীয় খাদ্যের পরিপাকের জন্য অতি প্রয়োজনীয় ইনসুলিনের সঙ্কট দেখা দেয়। রক্ত চিনিমিশ্রিত হয়ে পড়ে অর্থাৎ কোষগুলো আর চিনি পায় না। তাই শরীর আস্তে আস্তে দুর্বল হতে থাকে। ডায়াবেটিস হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। যদি ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে মধ্যে রাখা না যায়, তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার এই ঘাটতি শরীরে যেকোনো জীবাণু সংক্রমণের পরিণত হতে পারে। অপরপক্ষে শরীরে যদি ভয়ঙ্কর জীবাণু সংক্রমণ বা ইনফেকশন দেখা দেয়, যেমন বড় আকারের বিষফোড়া বা নিউমোনিয়া ধরনের বক্ষব্যাধি বা যক্ষ্মা, তখন সুপ্ত ডায়াবেটিস পরিপূর্ণ ডায়াবেটিসে পরিণত হতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীদের তাই সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা খুবই জরুরি। যদি কোনো ডায়াবেটিক রোগীর হঠাৎ করে ওজন কমে যায় কিংবা ইনসুলিনের মাত্রা ঘন ঘন বাড়াতে হয় এবং রোগীর যদি জ্বর-কাশি থাকে তবে অবশ্যই ধরে নিতে হবে যে, সেই রোগী বক্ষব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন। বক্ষব্যাধির মধ্যে যক্ষ্মা অন্যতম। ডায়াবেটিস রোগীর যক্ষ্মা ছাড়াও ফুসফুসের মধ্যে যেকোনো জীবাণুঘটিত প্রদাহের সৃষ্টি হয়ে ফোড়া বা খৎষব থদঢ়ধপঢ়ঢ় তৈরি হতে পারে। তবে সব ধরনের বক্ষব্যাধির মধ্যে যক্ষ্মা রোগের আধিক্য রয়েছে। ডায়াবেটিক রোগীর যক্ষ্মা বা ফুসফুসের ফোড়া অর্থাৎ যেকোনো ইনফেকশনই প্রচণ্ড রূপ ধারণ করে। যক্ষ্মা হলে চিকিৎসা পদ্ধতি এবং সময় ও মাত্রা সাধারণ যক্ষ্মার মতোই হবে। তবে ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে। নতুবা যক্ষ্মার হাত থেকে রক্ষা পেতে অনেক সময় লাগবে। ডায়াবেটিক রোগীদের যক্ষ্মা বা ফুসফুসের প্রদাহ হলে কাশির সাথে রক্তপাত হওয়ার ভয় অনেক বেড়ে যায় এবং রক্তক্ষরণ রোধ করতেও আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়।

তাই ডায়াবেটিক রোগীর কাশি দেখা দিলেই কফ পরীক্ষা এবং বুকের এক্স-রে করাতে হবে এবং প্রত্যেক ডায়াবেটিক রোগীকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। এ রোগটি এমন একটি রোগ, যা যেকোনো সময় যেকোনো ইনফেকশনের জন্ম দিতে পারে। সঠিক সময়ে সঠিক রোগটি চিহ্নিত করতে পারলে একজন ডায়াবেটিক রোগীও পারেন সুস্থ জীবনের স্বাদ গ্রহণ করতে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: