ওজন বাড়াবার জন্য খাদ্য

সেদিন একজন পাঠিকা ফোন করে বললেন ওজন কমাবার কথা বলে অনেকে, কিন্তু আমি ওজন বাড়াতে চাই, আমি বড়ই রোগা, পাতলা, কি খাব তাহলো? বেশি বেশি চিপস্, কোলা ও ফাস্টফুড খাওয়া ঠিক হবে? বলুন না। বলছি আপনাকে এবং অন্য যারা এমন চাইছেন তাদের সবাইকে, জাংক ফুড খেয়ে শরীরের ওজন বাড়ানোর কোনও প্রয়োজন নেই। বেছে নেওয়া যায় পুষ্টিকর, ক্যালোরি ঘন খাবার যা অস্বাস্থ্যকর উপকরণ না যোগ করেও শরীরের ওজন বাড়াতে পারে।

০ প্রথমে নিজের ক্যালোরি চাহিদা গণনা করা যায়:ওজন বাড়াতে হলে প্রতিদিন কি করা চাই? বিশেষ করে পেশি পুষ্ট ও সরল করার জন্য প্রতিদিন ব্যায়াম করলে, ওজন বাড়াবার জন্য প্রতিদিন বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করা চাই। তাই কত ক্যালোরি প্রয়োজন তা প্রথমে জেনে নেয়া যায় পুষ্টিবিদের কাছ থেকে।

০ খেতে হবে প্রায়শই: পুন:পুন: আহারের সুযোগ খুজতে হবে এখন। বার খেয়ে, নাস্তা ও ঘনঘন খেয়ে বেশি খাদ্য গ্রহণ সম্ভব বটে। প্রথমে প্রাত:রাশ, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবার এবং মাঝে মাঝে ফাঁকে ফাঁকে নাস্তা। নিয়মিত খেতে হবে প্রাত:রাশ অবশ্য অবশ্যই।
০ খেতে হবে স্বাস্থ্যকর হাইক্যালেরি খাবার: ক্যালোরি বেশি গ্রহণের আর একটি উপায় হলো ক্যালোরি ঘন খাবার পছন্ন করা তবে সেজন্য পটেটো চিপস, কোলা, র্যামেন নুডলস্, টবটিলা চিপস্, ম্যাকারনি, হিমায়িত পিৎজা, পনির মিক্স এর খাবার অবশ্য নয়। এগুলো পুষ্টিকর নয়।

প্রাত:রাশ:

০ আটার রুটি বা টোস্ট সঙ্গে পীনাট বাটার
০ ওটমিল, শুকনোফল ও বাদাম
০ ওমলেট, পনির ও সব্জি
০ পানীয় হিসেবে দুধ, ফলের রস
০ দুধ,খই,দধি মুড়ি,ফলের রস, সবজি, রুটি মাখন, খিচুড়ি ভূনা, দুপুরের খাবার বা রাতের খাবার
০ স্যান্ডউইচে বাড়তি একটি পনিরের টুকরো, বা ম্যায়োনিজ ড্রেসিং
০ স্যালাডে, বাদাম বা জলপাইতেল ড্রেসিং
০ আটার ক্যাকারস, (চিপসের বদলে)
০ আটা রুটি, জলপাইতেল ও রসুন
০ দুধ ও ক্রিম সুপ
০ আলু ও কর্ণ
০ লাল চালের ভাত
০ সবুজ ও নানারঙের সবজি, জলপাইতেলে
০ ডাল, ধীনস, কাঠালের বীচি
০ কাঠালের কোয়া
০ তাজা মাছ, পোলট্রি, ডিম, লিন মাংস
০ ভাত, মাংস, ডাল ঘন, তৈলাক্ত মাছ 

নাস্তা:
০ শুকনোফল
০ পীনাট মাখনসহ আপেলের টুকরো
০ মাখন ও বীজ
০ ১০০% ফলের রস (ঘরে বানানো যার)
০ পীনাট বাটার, দুধ, ছানা, মাখন
০ আটার ব্যাকার, পনির
০ গ্রানোলা।

Advertisements

আল কোরআনে মাতৃভাষার গুরুত্ব

মহান আল্লাহর প্রিয় ও সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হচ্ছে মানব জাতি। এই শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি বা আশরাফুল মাখলুকাত তাদের মনের ভাব, হৃদয়ের আকুতি, অন্তরের ব্যাকুলতা ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে। এই ভাষা আল্লাহর দান। মানুষের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত এই ভাষা এক অমূল্য ও অতি বড় নেয়ামত। আল্লাহ মানুষকে স্বাধীন বাকশক্তি বা কথা বলার ক্ষমতা দান করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘দয়াময় আল্লাহ শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন, সৃজন করেছেন মানুষ, তাকে শিখিয়েছেন বর্ণনা’ (সূরা আর-রহমান, আয়াত ১-৪)। অর্থাত্ আল্লাহ মানুষকে তার মনের ভাব প্রকাশ করতে শিখিয়েছেন।
একজন মানব শিশু যে জনপদে জন্মগ্রহণ করে, যে পরিবেশে সে বেড়ে ওঠে, যে মায়ের কোলে সে প্রতিপালিত হয়, সে জনপদের মানুষের ভাষা, সেই পরিবেশের ভাষা, সে মায়ের ভাষা তার নিজের ভাষায় পরিণত হয়। প্রায় সাড়ে ছয়শ’ কোটি আদম সন্তান অধ্যুষিত পৃথিবী নামক এই এ ভূখণ্ডে প্রায় পাঁচ হাজার সাতশ’টি ভাষা রয়েছে। ভাষার এই ভিন্নতা, বিচিত্রতা মহান আল্লাহর সীমাহীন ক্ষমতা ও অসীম কুদরতের এক অপূর্ব ও অকল্পনীয় নিদর্শনের বহিঃপ্রকাশ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন, ‘আল্লাহর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য’ (সূরা আর-রুম, আয়াত ২২)।
মাতৃভাষার মাধ্যমে অন্য ভাষার মানুষকে, অন্য ভাষার মানুষের চিন্তা-চেতনা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও কৃষ্টি সহজে জানা যায়, আয়ত্ত করা যায়, নিজ অনুভবে নিয়ে এসে তাকে আত্মস্থ করা যায় হৃদয়ের গভীরতম প্রদেশে। মাতৃভাষা অতি সহজেই একজন মানুষের ব্যক্তি সত্তার অন্তর্গত হয়ে যায়। তাই নবী-রাসূলগণকে আল্লাহ যে অঞ্চলে প্রেরণ করেছেন, তাঁদেরকে সে অঞ্চলের মানুষের ভাষাভাষী করেছেন। এ মর্মে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তার নিজ কওমের ভাষাভাষী করে প্রেরণ করেছি, তাদের নিকট সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য’ (সূরা ইব্রাহীম, আয়াত ৪)। এ আয়াতে সু্স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মাতৃভাষার মাধ্যমে যত সহজে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে মানুষকে বোঝানো সম্ভব হয়, অন্য কোনো ভাষায় বোঝানো ও প্রকাশ করা তত সহজ হয় না। এজন্যই আল্লাহ নবী-রাসূলগণকে তাঁদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছিলেন। হিব্রু ভাষাভাষী অঞ্চলে আল্লাহ হিব্রুভাষী নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর নিকট আল্লাহ হিব্রু ভাষায়ই কিতাব নাযিল করেছেন। যেমন তাওরাত ও ইঞ্জিল।
মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর ভাষা ছিল আরবি। তার নিকট অবতীর্ণ মানবতার মুক্তির দিশারি কোরআনের ভাষাও ছিল আরবি। রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর প্রতি আরবি ভাষায় কোরআন নাজিল হওয়া সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘আমি আপনার ভাষায় কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে’ (সূরা আদ-দুখান, আয়াত ৫৮)।
অন্যত্র তিনি বলেন, ‘আমি আপনার প্রতি কোরআন নাযিল করেছি আরবি ভাষায় যাতে আপনি সতর্ক করতে পারেন মক্কা ও তার চতুর্দিকের জনগণকে এবং সতর্ক করতে পারেন রোজ হাশর সম্পর্কে’ (সূরা আশ-শূরা, আয়াত ৭)। তিনি আরও বলেন, ‘আমি এটা নাযিল করেছি আরবি ভাষায় কোরআন রূপে, যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পার’ (সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত-৩)।
কোরআনুল কারিমের বর্ণিত আয়াতগুলো থেকে জানা যায় যে, ইসলাম মাতৃভাষার উপর অশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। এ কারণে দেখা যায় যে, পরবর্তীকালে ইসলাম প্রচারকরা পৃথিবীর যে অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে গমন করেছেন, সে এলাকার মানুষের ভাষা তারা আয়ত্ত করে ওই ভাষাতেই ইসলামের বাণী, হকের দাওয়াত মানুষের সামনে পেশ করেছেন। মানবতার মুক্তির নির্ভুল দিশারি ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী, হেদায়াতের আলোকবর্তিকা মহাগ্রন্থ আল কোরআন মাতৃভাষাকে অশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। কেননা ইবাদত-উপাসনায়, দ্বীনের জ্ঞানার্জন ও মহান আল্লাহর আরাধনায় মাতৃভাষা মানুষকে যথার্থভাবে অনুপ্রাণিত করে। তাই মাতৃভাষার গুরুত্ব অনুধাবন করে আমাদেরকেও মাতৃভাষার সেবায়, মাতৃভাষার উন্নয়নে, মাতৃভাষার শ্রীবৃদ্ধিতে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

ঠান্ডা লাগলে কি খাবেন

ঠান্ডা লেগে সর্দি জ্বর, নাকবন্ধ, একটু আধটু কাশি। তেমন কিছু নয় এমনিতেই সেরে যাবে। কিন্তুু তাই বলে ভোগান্তির তো কম নয়। ওষুধ খান বা না খান পথ্যের কথা অবশ্যই মাথায় রাখবেন।

কথায় আছে যা করে না বৈদ্য তা করে পথ্যে তা হলে কি সেই পথ্য? সর্দি-জ্বরে চিকেন সু্যপ খাওয়া ভাল লবঙ্গ দেয়া চা খেলে গলা খুলবে নাকটা ও ছাড়বে। আর ভিটামিন সি খেতে ভুলবেননা। ভিটামিন সি মানেই কমলা, পেয়ারা, আঙ্গুর, আমলকি এসব। লেবু দিয়ে গরম চা খেলে ও দারুন উপকার।

আখেরি চাহার সোম্বা

আল্লাহর প্রিয় হাবিব হজরত মুহাম্মদ সাঃ এই পৃথিবীতে তেষট্টি বছর হায়াত পেয়েছিলেন। এর মধ্যে কখনোই তিনি বড় ধরনের কোনো রোগব্যাধির কবলে পড়েননি। কাফির মুশরিকদের শত অত্যাচার ও নির্যাতনের মাঝেও তিনি ছিলেন হিমাদ্রির মতো অবিচল। শেষ পর্যন্ত ইন্তেকালের আগে তিনি রোগে আক্রান্ত হলেন। উম্মুল মুমিনিনরা ও সাহাবা আজমাইনরা তাতে খুবই বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলেন। তিনি আয়েশা সিদ্দিকা রাঃকে ডেকে বললেন, বিবি আমার কাছে আসুন ও আমার কথা শুনুন। হজরত আয়েশা রাঃ দৌড়ে চলে এলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাঃ আমার বাবা-মা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক; বলুন! আমাকে কী জন্য ডেকেছেন। মহানবী সাঃ বললেন, আয়েশা আমার মাথাব্যথা চলে যাচ্ছে এবং আমি সুস্থতা অনুভব করছি। আপনি হাসান, হোসাইন ও মা ফাতিমাকে আমার কাছে ডেকে নিয়ে আসেন। হজরত আয়েশা রাঃ তা-ই করলেন। এরপর রাসূল সাঃ-এর মাথায় পানি ঢাললেন। তাকে সুন্দরভাবে গোসল করালেন। এ খবর মদিনায় সব স্থানে ছাড়িয়ে পড়ল। অনেক সাহাবি এ খবর পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলেন। কেউ বা দাসমুক্ত করে দিলেন। কেউ বা উট দান করলেন। কেউ বা বহু দান-সদকা করলেন। সাহাবিরাও অনেকে রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়ার নামাজ ও দোয়া করলেন। এটি ছিল সফর মাসের শেষ বুধবার। এ জন্য দিনটিকে আখেরি চাহার সোম্বা বলা হয়। আখেরি অর্থ শেষ আর চাহার সোম্বা হলো বুধবার। এরপর বৃহস্পতিবার থেকে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লেন। রাসূল সাঃ-এর আগে তার পরম বন্ধু আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছানোর জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। একজন মুসাফির যেমন দূরবর্তী সফরে বের হওয়ার আগে সবার কাছ থেকে বিদায় নেয়, সব কিছু গুছিয়ে নেয়। যা দেখে অনুভব করা যায়, উনি কোনো সফরে বের হবেন। ঠিক তদ্রূপ মহানবী সাঃ তাঁর ইন্তেকালের আগেই বিদায়যাত্রার প্রস্তুতি দেখে নিকটতম সাহাবিরা অনুভব করতে পেরেছিলেন, রাসূল সাঃ বোধ হয় আমাদের মাঝে আর বেশি দিন থাকবেন না।

উদাহরণস্বরূপ রাসূল সাঃ প্রত্যেক রমজানের শেষ ১০ দিন ইতেকাফ পালন করতেন। প্রত্যেকবার রমজানে মহানবী সাঃ-এর কাছে জিব্রাইল আঃ আসতেন এবং একবার সমগ্র কুরআন শরিফ মহানবীকে শুনাতেন। আর মহানবী সাঃও সমগ্র কুরআন শরিফ জিব্রাইল আঃ-কে একবার শুনাতেন, কিন্তু ইন্তেকালের বছর জিব্রাইল আঃ রাসূল সাঃ-কে দুইবার শোনালেন। রাসূল সাঃও জিব্রাইল আঃ-কে দুইবার শোনালেন। এরপর বিদায় হজের ভাষণের মাঝে তিনি বললেন, আজকের দিন যে সময় তোমাদের মাঝে আমি একত্র হয়েছি। আর হয়তো তোমাদের মাঝে আমি এখানে একত্র হতে পারব না।

এ কথার মাধ্যমে তিনি তার বিদায়ের ইঙ্গিত দিলেন। এরপর তিনি যেন সবার কাছ থেকে একে একে বিদায় নিচ্ছিলেন। তিনি ওহুদের প্রান্তরে চলে গেলেন। সেখানে তার প্রাণপ্রিয় চাচা ইসলামের বীর সিপাহসালার হজরত আমির হামজা ও ওহুদের যুদ্ধে শহীদ হওয়া ৭০ জন জান্নাতি সাহাবির কবর রয়েছে। রাসূল সাঃ তাদের কবর জিয়ারত করলেন। এরপর একদিন জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে চলে এলেন। এখানে কবরবাসীকে সম্বোধন করে বললেন­ হে মুমিন সম্প্রদায়ের আসল নিবাসের অধিবাসীগণ! আমি অতি শিগগিরই তোমাদের সাথে মিলিত হচ্ছি।

মহানবী সাঃ কখনোই জামায়াত ছাড়া ফরজ নামাজ আদায় করেননি। যখন থেকে জামায়াতবদ্ধভাবে নামাজ ফরজ হয়েছে। সর্বশেষে যখন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তখন তিনি ১৭ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতে যেতে পারেননি। শেষ যে নামাজে গিয়েছেন, তখনকার অবস্থা ছিল অন্যান্য দিনের মতো­ হজরত বেলাল আজান দিলেন। কিছুক্ষণ পর বেলাল মহানবী সাঃ-কে এসে ডাক দিলেন রাসূল সাঃ জামায়াতের সময় হয়েছে। মহানবী সাঃ বললেন, আমি বোধ হয় একাকী জামায়াতে যেতে পারব না, তুমি কাউকে ডেকে নিয়ে এসো। তিনি হজরত আলী অথবা অন্য একজন সাহাবিকে নিয়ে এলেন। মহানবী সাঃ দু’জন সাহাবির কাঁধে ভর দিয়ে জামায়াতে চলে গেলেন। অসুস্থতার কারণে দাঁড়াতে পারছেন না। তিনি বসলেন। আর আবু বকরকে পাশে ডাকলেন। বেলালকে ইকামত দিতে বললেন। তখন মহানবী সাঃ বললেন­ হে আবু বকর! তুমি আমার অনুসরণে নামাজ পড়বে আর তোমরা সবাই আবু বকরের অনুসরণে নামাজ পড়বে। সেভাবেই শেষ হলো। এটা হলো জোহরের নামাজ। নামাজ শেষে রাসূল সাহাবিদের কিছু কথা বললেন, ‘তোমরা কেউ শিরকে লিপ্ত হবে না। বিদেশ থেকে আগত দূতদের সম্মান করবে। সাবধান আমার কবরকে তোমরা পূজা করবে না। কেননা নবী-রাসূলদের কবর পূজা করে বহু জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে।’ এর পরের ওয়াক্ত অর্থাৎ আসরের ওয়াক্তের সময় এলো। বেলাল ডাক দিলেন। রাসূল সাঃ বললেন, বেলাল! আমি বোধ হয় আর জামায়াতে যেতে পারব না, তুমি আবু বকরকে নামাজ পড়াতে বলো। যখন নামাজ চলছিল তখন রাসূল সাঃ আয়েশাকে বললেন­ আয়েশা! হুজরার পর্দাখানা একটু সরিয়ে দাও, আমি নামাজরত আমার সাহাবিদের কাতারগুলো একটু দেখতে চাই। আয়েশা পর্দা সরিয়ে দিলে মসজিদের মধ্যে রাসূল সাঃ-এর দৃষ্টি পড়ল। সাথে সাথেই মলিন চেহারাটা আলোকে উদ্ভাসিত হলো। আয়েশা রাঃ জিজ্ঞেস করলেন, প্রচণ্ড অসুস্থতার কারণে আপনার চেহারা মলিন, কিন্তু আপনি মসজিদের দিকে তাকাতেই আপনার চেহারা উজ্জ্বল হয়ে গেল তার কারণ কী? মহানবী সাঃ বললেন, আমি দেখলাম আমার অবর্তমানে আমার সাহাবিরা নামাজে ব্যতিক্রম করেনি। ঠিক আমার মতো সুন্দর করে নামাজ পড়ছে। এই দৃশ্য দেখে আমার হৃদয়কন্দরে আনন্দের হিল্লোল প্রবাহিত হয়েছে। তাই আমার চেহারা আলোকিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর থেকে আর মসজিদের জামায়াতে যেতে পারেননি। এরপর ধীরে ধীরে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। গোটা মদিনা নগরী নীরব নিস্তব্ধ। সোমবার সুবহে সাদেকে বেলালের আজান নিস্তব্ধতা ভেঙে জাগিয়ে দিলো সবাইকে। রাসূল সাঃ ইশারায় ফজরের নামাজ আদায় করলেন। হজরত আয়েশা রাঃ বললেন, আমার হুজরার বাতি সে সময় নিভে গেল। মহানবী সাঃ-এর সব সম্পদ এই মহূর্তে এমনভাবে শেষ হলো যে, বাতি জ্বালানোর তেলটুকুও ছিল না। অর্থাৎ তার প্রাণপ্রদীপ নিভে যাওয়ার আগেই আলোর প্রদীপ নিভে গেল। হজরত জিব্রাইল আঃ এসে বললেন­ হে রাসূল সাঃ! আপনাকে আল্লাহ সালাম দিয়েছেন। রাসূল সাঃ তখনই ধরাধাম থেকে চিরবিদায় নেবেন। মেয়ে ফাতিমা সে সময় খুব কাঁদছিলেন। মহানবী সাঃ ফাতিমাকে ডাক দিয়ে কী জানি বললেন। তার কান্না বন্ধ হয়ে গেল। হজরত আয়েশা রাঃ ফাতিমাকে ডেকে বললেন, তোমার আব্বা তোমার কানে কী বললেন, আর তোমার কান্না বন্ধ হয়ে গেল? ফাতিমা বললেন, আব্বাজান আমাকে বলেছেন মৃতুøর পর তাঁর পরিবারের সবার মধ্যে আগে তাঁর সাথে আমার দেখা হবে। এরপর মালাকুল মউত আজরাইল আঃ এলেন। আর একটু পরই জান কবজ হবে। জিব্রাইল আঃ জিজ্ঞেস করলেন­ ইয়া রাসূল সাঃ! আপনার কি খুব কষ্ট হচ্ছে। মহানবী সাঃ বললেন হঁ্যা, মৃতুøর যন্ত্রণা খুবই কষ্টকর। জিব্রাইল আঃ বললেন, ইয়া রাসূল সাঃ আপনাকে পৃথিবীর সব মানুষের চেয়ে কম কষ্টে জান কবজ করা হচ্ছে। মহানবী সাঃ বললেন, আমার তো মনে হচ্ছে ওহুদ পাহাড়টি আমার বুকের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপর রাসূল সাঃ আস্‌-সলাত! আস্‌-সলাত!! অমা মালাকাত আইমানুকুম। নামাজ!
ামাজ!! তোমরা তোমাদের অধীনদের ব্যাপারে সাবধান থাকবে। এ কথা বলতে বলতে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়ে গেলেন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ সাঃ।

%d bloggers like this: