শিশুর জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে করণীয়

শিশুর কান্না এবং স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার পর করণীয় সমূহ-

(০১) ডেলিভারীর পর পরই শিশু সবচেয়ে বেশি সজাগ এবং তৎপর থাকে। তাই তখন থেকেই তার পরিচর্যায় মনযোগ দিতে হবে।

(০২) শিশুকে ধরার পূর্বে হাত সাবান দিয়ে ভাল ভাবে ধূয়ে নিন।

(০৩) শিশুর হাত ব্যতিত শরীরের অন্যান্য ভেজা অংশ নরম সুতি কাপড় দিয়ে শুকিয়ে নিন।

(০৪) শিশুকে মায়ের কাছে গালে গাল লাগিয়ে চুমু খেতে দিন।

(৫) শিশু যেন শুনতে পায়- এতটুকু আওয়াজে শিশুর ডান কানে আজান এবং বাম কানে ইকামাত দিন।

(০৬) এর পর শিশুর ত্বক মায়ের ত্বকে লাগিয়ে রাখার জন্য শিশুকে উপর করে খালি বুকে মায়ের বুকের মাঝখানে রাখুন। এ অবস্থায় মা ও শিশুকে একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দিন। মায়ের ত্বকের সাথে শিশুর ত্বক এভাবে লাগিয়ে রাখলে, শিশুর শরীরের তাপমাত্রা সঠিক থাকবে। এই মহুর্তে মায়ের স্পর্শ শিশুর ব্রেন উন্নত করে। মায়ের ত্বকের সঙ্গে শিশুর ত্বকের সংস্পর্শে মায়ের শরীরের উপাদান শিশুর শরীরে প্রবেশ করে রোগ সংক্রমণের প্রতিরোধকারী উপাদান (antibody) তৈরি করে। এইভাবে মা ও শিশুকে ত্বকে ত্বক লাগিয়ে রাখলে, শিশুর জন্য একই সাথে তাপমাত্রা , ভালবাসা, নিরাপত্তা ,ও খাদ্যের ব্যবস্থা হয়।

(০৭) শিশুর মায়ের বুকের উপর থেকে যেন পড়ে না যায়- -সেদিকে খেয়াল করবেন। মা হাত দিয়ে শিশু কে স্পর্শ করবেন এবং আলতো ভাবে হাত বুলাবেন।

(০৮) যখনই সম্ভব মায়ের মাথার নিচে বালিশ দেবেন, যেন মাথাটা একটু উঁচুতে থাকে। যাতে শিশু মায়ের চোখে চোখ রাখতে পারে। মায়ের পেটের উপর শিশুর পায়ের সঞ্চালন মায়ের জরায়ুকে সংকুচিত করতে সাহায্য করবে। তাতে ফুল সহজে বের হয়ে আসবে এবং মায়ের রক্ত পড়া কমে যাবে।

(০৯) মায়ের দুধ তৈরি আছে বুঝে শিশুর মুখে লালা আসে । এই সময় শিশু গন্ধ ভালভাবে পায়। মায়ের পেটের পানির গন্ধ মায়ের বোঁটার (Nipple) নিঃসরণের (Secrerion) গন্ধের মত। এই গন্ধ শিশুকে দুধের বোঁটার দিকে টেনে নিয়ে যায়। তখন শিশুকে মায়ের বোঁটায় পৌঁছতে দিতে হবে।

(১০) এই সময় শিশুর নড়াচড়ার জন্য তার ঘাড় .কোমর, ও গলার গোশতপেশী যথেষ্ট সবল থাকে। শিশু মায়ের বোঁটা নড়াচাড়া করলে, তা বের হয়ে আসে এবং তখন শিশু মায়ের দুধ সহজে মুখে নিতে পারে। তাছাড়া এই নড়াচাড়া মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন তৈরি করে, যেটা জরায়ুকে সংকুচিত করে। এতে ফুল সহজে বের হয়ে আসে এবং মায়ের রক্ত পড়া কমে ও বন্ধ হয়। শিশু শেষে বোঁটা পর্যন্ত পৌঁছে মুখ বড় করে হা করে এবং মায়ের দুধ মুখের ভিতর দেয়। অতঃপর শিশু রীতিমত মায়ের দুধ টানা শুরু করে।

(১১) শিশু যেন মায়ের দুধের বোঁটা পেছনের কালো অংশটা (areolo) ভাল ভাবে দেখতে পায়। এমনকি যদি শিশু তার মাথা উঁচু করে, তাহলে যেন সে তার মায়ের চেহারাও দেখতে পারে।

শিশুর প্রথম মায়ের দুধ খাবার শেষ না হওয়া পর্যন্ত মা ও শিশুকে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন, আলাদা করবেন না। এ নিয়মাবলী শিশুর জন্মের প্রথম ঘন্টার জন্য প্রযোজ্য।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: