সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন

ভালোভাবে বেঁচে থাকতে হলে অবশ্যই সুস্থ থাকতে হবে। আর সুস্থ থাকার জন্য যা দরকার তা মেনে চলার চেষ্টা করতেই হবে। জীবনে অসুখ-বিসুখ আছে এবং থাকবেই। একে মোকাবেলা করার জন্য আপনাকে স্বাস্থ্যসম্মত, ধর্মীয় অনুভূতির ভিত্তিতে নিষ্কলুষ জীবনযাপন করতে হবে।

সুস্থ থাকার জন্য কিছু পরামর্শ হলো

অধিক রাত জাগবেন না। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠুন। নামাজ পড়ুন বা ধর্মীয় আচার-আচরণ শেষ করে অন্তত ৪৫ মিনিট হাঁটুন বা অন্য কোনো ব্যায়াম যা করতে ভালো লাগে তা নিয়মিত করুন। সকালে নির্মল বায়ু সেবন করুন। শরীরে অক্সিজেন পাবেন। সারাদিন ভালো লাগবে।

বয়স ৪০ পার হলে চর্বি ও কোলেস্টেরল জাতীয় খাবার এড়িয়ে প্রচুর শাক-সবজি, ডায়েটরি খাবার ও ফলমূল খাবেন। এতে কোলেস্টেরল থাকবে না। রান্নায় রসুনের ব্যবহার বাড়িয়ে দিন। রসুন নিম্ন ঘনত্বের কোলেস্টেরল কমায়, যা দেহের জন্য উপকারী। উচ্চ ঘনত্বের কোলেস্টেরল দেহের জন্য অপকারী। কোলেস্টেরল হৃদরোগ তথা হার্ট অ্যাটাকের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। মাঝে মধ্যে লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করিয়ে শারীরিক অবস্থা জেনে নিন।
খাবার সময় কাঁচা লবণ খাবেন না। এর সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের একটি সম্পর্ক আছে। শুধু লবণ নয়, বাজারে প্রচলিত নোনতা খাবার, নোনতা চিপস, বিস্কুট ইত্যকার নোনতা খাবার এড়িয়ে চললে কিডনিও ভালো থাকবে। লবণ কম খেলে জিভে আরও নানা ধরনের স্বাদ পেতে চাইবে।

নানা জাতের মৌসুমী ফলসহ যে রস খেলে খনিজ পটাসিয়াম পাওয়া যায় তা খান প্রতিদিন। খনিজ ও পটাসিয়াম সমৃদ্ধ ফল অবশ্যই খাবেন। পেশি সংকোচনে এর উপযোগিতা রয়েছে।
খাদ্য হতে হবে প্রচুর ক্যালসিয়ামযুক্ত। চাপের সময় এই খনিজ ক্ষয় হয়। তাই দু’ গ্লাস ননী তোলা দুধ পান করার অভ্যাস করুন।

নিয়মিত খাবেন ভিটামিন সি, শরীরের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টক জাতীয় ফলে ভিটামিন সি পাবেন। সবচেয়ে বেশি পাবেন আমলকী আর পেয়ারাতে। খাবারের সঙ্গে লেবু খাবেন। উপকার পাবেন। ভিটামিন সি আপনার যৌবন ধরে রাখবে, বার্ধক্য দূরে ঠেলে দেবে। আপনার শরীরের ফ্যাট ভাঙবে। মাঢ়ি থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করবে। সর্দি-কাশি সহজে চলে যাবে। প্রচুর পানি পান করবেন, তবে খাওয়ার সময় নয়। পানি পান করবেন খাওয়ার ঠিক ১ ঘণ্টা পরে। দেখবেন এসিডিটি ভালো হয়ে গেছে শতকরা ৯০ ভাগ। তারপর দিনে অন্তত ১০ গ্লাস। হোটেল, রেস্টুরেন্ট বা রাস্তায় একদমই পানি খাবেন না। নিজের ব্যাগে যদি সম্ভব হয় তাহলে টিউবওয়েল কিংবা ফুটানো পানি রাখাই ভালো। না হলে ডাবের পানি। তাতে রয়েছে গ্লুেকাজসহ নানা উপাদান যা বিশুদ্ধতার দিক থেকে শতভাগ নিশ্চয়তা। হোটেল-রেস্তোরাঁয় যদি একান্তই পানি খেতে হয় তাহলে পানিতে ক্লোরিন ট্যাবলেট মিশিয়ে নিন।
চা-কফি খাবেন কম। দু’টোতেই ক্যাফিন আছে। পানিতে চা পাতা ছেড়ে বেশি সময় জ্বাল দেবেন না। টি-ব্যাগ হোক বা চা পাতা হোক, কাপে ছেড়ে অল্প সময় পর চা বানিয়ে ফেলতে হবে। অধিকক্ষণ ফুটন্ত চা ক্ষতিকর। অম্বলের দোষ থাকলে এড়িয়ে চলাই ভালো।
বিড়ি, সিগারেট, তামাক, দোক্তা, গুল, মতিহার তথা ধূমপান বা তামাক পাতা চেবানো থেকে একেবারে বিরত থাকুন। এসবে ক্যান্সারের ভয় থাকে।

অধিক সূর্যালোক এড়িয়ে চলুন। ত্বক ক্যান্সারের হাত থেকে বাঁচান। প্রোটিন খাবেন শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য মাত্র এক গ্রাম। অর্থাত্ আপনার ওজন ৬০ কেজি হলে প্রোটিন খাবেন ৬০ গ্রাম। তা একবারে হোক আর বারে বারে হোক। ৬০ গ্রাম প্রোটিন হচ্ছে ছোট্ট ২ টুকরা মাংস। বড়জোর ২৫০ গ্রাম ওজনের একটি মুরগির রান।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: