নামাজ মুমিনের মিরাজ

ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ৭ নম্বর বোখারি শরিফের ৫৩ পৃষ্ঠায় রয়েছে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত আছে পাঁচটি ভিত্তির মধ্যে ২ নম্বর ভিত্তিই হচ্ছে নামাজ কায়েম করা। পবিত্র কুরআন শরিফে সূরা হুদের ১১৪ নম্বর আয়াতে নামাজ সম্পর্কে রয়েছে, ‘তুমি সালাত কায়েম করো দিবসের দুই প্রান্তভাগে ও রজনীর প্রথমাংশে। সৎ কর্ম অবশ্যই অসৎ কর্মকে মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে, এটা তাদের জন্য এক উপদেশ’। অর্থাৎ দিবসের প্রথম প্রান্তভাগ ফজরের সালাত। দ্বিতীয় প্রান্তভাগে জোহর ও আসরের সালাত এবং রাতের প্রথমাংশে মাগরিব ও এশার সালাত। এই পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের কথা বলা হয়েছে এবং সূরা বনি ইসরাঈলে ৭৮ আয়াতে সালাত সম্পর্কে রয়েছে, ‘সূর্য হেলে পড়ার পর থেকে রাতের ঘন অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম করবে এবং কায়েম করবে ফজরের সালাত। নিশ্চয়ই ফজরের সালাত উপস্থিতির সময়’ এবং ৭৯ নম্বর আয়াতে রয়েছে, ‘এবং রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ কায়েম করবে, এটা তোমাদের জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, তোমাদের প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে।’ ওপরে উল্লিখিত তিনটি আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয়, আল্লাহ পাক রাসূল সাঃসহ তাঁর উম্মতদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন এবং সেই সাথে গভীর রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ কায়েম করার জন্য অতিরিক্ত কর্তব্য ও দায়িত্ব হিসেবে আল্লাহপাক তাঁর বান্দাদের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তা ছাড়া ৫২০ নম্বর বোখারি শরিফে হজরত আবুল মালীহ রাঃ থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আসরের নামাজ তরক করল তার সব আমল নষ্ট হয়ে গেল।’

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসূল সাঃ-এর প্রতি পবিত্র কুরআন নাজিল করে পবিত্র কুরআনের আয়াত অনুসারে রসূল সাঃ উম্মতদের পথ চলা এবং জীবন নির্বাহের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরিফের নাজিলকৃত বিভিন্ন সূরার আয়াতগুলো মানুষের জীবন চলার পথে বিধানস্বরূপ। স্বয়ং রাসূল সাঃ তাঁর খলিফাগণ, সাহাবাগণ এবং মুমিন বান্দাগণ নিজ অর্থ ও সম্পদ দ্বারা মানুষের সঠিক পথে নিয়ে এসে দ্বীন ইসলামের পতাকাতলে সমবেত করে পবিত্র কুরআন এবং রাসূল সাঃ-এর হাদিস অনুসারে চলার জন্য কাজ করে গিয়েছেন এবং বর্তমানে করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের মধ্যে দুই স্তম্ভ যথাক্রমে হজ এবং সালাত কায়েম করা নিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা সুনির্দিষ্টভাবে পবিত্র কুরআনের সূরা হজের ২৬ আয়াতের মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘এবং স্মরণ করো, যখন আমি ইব্রাহিমের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম সেই গৃহের স্থান, তখন বলেছিলাম, আমার সাথে কোনো শরিক স্থির করিও না এবং আমার গৃহকে পবিত্র রাখিও তাদের জন্য যারা তাওয়াফ করে এবং যারা সালাতে দাঁড়ায়, রুকু করে ও সেজদা করে।’

সালাত বা নামাজ দ্বারা কুপথ থেকে বিপথগামী মানুষকে ফিরিয়ে আনে তা ধ্রুব সত্য। তা ছাড়া নামাজ মুসলমানদের পাপকাজ থেকে বিরত রেখে বেহেশতে যাওয়ার পথ সুগম করে।

নামাজের মাধ্যমে সব দোয়া আল্লাহ তায়ালার কাছে অনায়াসেই কবুল হয় এবং নামাজের মাধ্যমেই আল্লাহর কাছে সব সাহায্যই মঞ্জুর হয়। ওই বিষয়ে পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ১৫৩ আয়াতে রয়েছে, হে মুমিনগণ! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন’।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: