জেলা পরিচিতি খুলনা


খুলনা বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত তৃতীয় বৃহত্তম শহর। প্রশাসনিক অবকাঠামোতে খূলনা একটি জেলা এবং বিভাগ। বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেষে রুপসা নদীর তীরে শিল্পনগরী খুলনার অবস্থান। দেশের দুটি সামুদ্রিক বন্দরের মধ্যে একটি মংলা বন্দর এখানে অবস্থিত। সুন্দরবনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ খুলনার মধ্যে।

প্রশাসনিক বিভাগ খুলনা
আয়তন (বর্গ কিমি) ৪,৩৯৪
জনসংখ্যা মোট : ২৩,৩৪,২৮৫
পুরুষ:৫০.৩২%
মহিলা: ৪৯.৬৮%
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা: বিশ্ববিদ্যালয়: ২
কলেজ : ৪৭
মাধ্যমিক বিদ্যালয়: ২৫৭
মাদ্রাসা : ২০৫
শিক্ষার হার ৪৩.৯ %
বিশিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব: প্রফুল্লচন্দ্র রায়
প্রধান: শস্য ধান, পাট, তিল, সুপারি
রপ্তানী: পণ্য ধান, পাট

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থান
খুলনা মহানগরী থেকে তিন কিলোমিটার পশ্চিমে, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক সংলগ্ন ময়ুর নদীর পাশে গল্লামারীতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত।[১] এর আয়তন ১০১.৩১৬ একর।

খুলনা জেলার উপজেলাগুলি হল –কয়রা, ডুমুরিয়া, তেরখাদা, দাকোপ, দিঘলিয়া, পাইকগাছা, ফুলতলা,  বটিয়াঘাটা, রূপসা।

খুলনার প্র্রধান নদী সমূহ — রূপসা, কপোতাক্ষ, ভদ্রা, ভৈরব, পশুর, শাকবাড়ীয়া, শিবসা।

ইতিহাস
১৯৭৪ সালে ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টে খুলনা বিভাগে উচ্চ শিক্ষার্থে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়। ১৯৭৯ সালের ১০ নভেম্বর তৎকালীন সরকারের ক্যাবিনেটে খুলনায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অধ্যাদেশ ৫(১)জি ধারা মতে খুলনা বিভাগে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ১৯৮৩ সালে সরকারের কাছে প্রস্তাব পেশ করা হয়। ১৯৮৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৮৭ সালের জানুয়ারি ৪ গেজেটে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৯৮৯ সালের ৯ মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯৮৯ সালের ১ অগাস্ট বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম প্রকল্প পরিচালক এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অবশেষে, ১৯৯১ সালের ২৫ নভেম্বর একাডেমিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ঐ বছর থেকে মোট চারটি ডিসিপ্লিনে ৮০ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। [১]

শিক্ষা কার্যক্রম
প্রতিষ্ঠাকালের দিক থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর দিক দিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নবম। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশে পরিবেশ বিজ্ঞান, জৈবপ্রযুক্তি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়গুলো স্নাতম পর্যায়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম চালু করা হয়। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়মিত অনার্স, মাস্টার্স, এমফিল, ও পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া হয়। এছাড়া এমবিএ, একজিকিউটিভ এমবিএ, পোস্ট গ্রাজুয়েট ইন ইনফরমেশন টেকনোলজি, বিভিন্ন কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন কোর্স এবং মর্ডান ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারের অধীনে আইইএলটিএস, ইংরেজী, জাপানি ফার্সি ও বাংলা ভাষা শিক্ষা কোর্স চালু রয়েছে। নব্বই দশকের পূর্বে খুলনাতে তেমন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খাকলেও পরবর্তীতে খুলনাতে খূলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয়। পূর্বে খুলনাতে বাংলাদেশের ৪টি বিআইটির Bangladesh Institute of Technology (BIT) একটি অবস্থিত ছিল। এছাড়া খুলনা বিএল কলেজ এখানকার ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার চাহিদা কিছুটা হলেও মিটাত। মাধ্যমিক শিক্ষার পর কারিগরি শিক্ষার জন্য খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট আছে।

স্কুল বা অনুষদঃ ১। বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযু্ক্তই স্কুল ২। জীববিজ্ঞান স্কুল ৩। ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসা প্রসাশন স্কুল ৪। কলা ও মানবিক স্কুল ৫। সমাজবিজ্ঞান স্কুল

শিল্প
একসময় খুলনা শিল্পশহর হিসাবে বিখ্যাত হলেও বর্তমানে এখানকার বেশিরভাগ শিল্পই রুগ্ন। পূর্বে খুলনাতে দেশের একমাত্র নিউজপ্রিন্ট ও হার্ডবোর্ড মিল ছিল যা এখন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। খুলনার বেশির ভাগ পাটকলগুলোও একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে খুলনার উল্লেখযোগ্য শিল্প হল বেসরকারী উদ্যোগে গড়ে ওঠা রপ্তানীযোগ্য মাছ শিল্প।

খুলনার দর্শণীয় স্হান

রবীন্দ্রনাথের শ্বশুড়বাড়ি দক্ষিণডিহি
রবীন্দ্রনাথের শ্বশুড়বাড়ি দক্ষিণডিহি। এখানে গিয়ে দেখবেন বাংলাসাহিত্যের প্রবাদপুরুষ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবক্ষ (বুক সমান) ভাস্কর্য, কবিপত্নীর আবক্ষ ভাস্কর্য, শ্বশুড়বাড়ির দ্বিতল ভবন। খুলনা শহর থেকে ১৯ কিলোমিটার উত্তরে গেলে ফুলতলা উপজেলা সদর। এখান থেকে আরো তিন কিলোমিটার পশ্চিমে গেলেই দক্ষিণডিহি গ্রাম। এখানে রয়েছে সবুজ-শ্যামল ঘন বাগান। পান-বরজ ও নার্সারিও দেখবেন। কিছু সময় হাতে নিয়ে দক্ষিণডিহিতে আসুন।

সুন্দরবন
সুন্দরবন খুলনায় অবস্হিত। খুলনা জেলা হচ্ছে খুলনা বিভাগে। খুলনার মংলায় একটি সমুদ্র বন্দর আছে। এজেলার প্রধান নদীগুলো হচ্ছে- রূপসা, পসুর, ভৈরব, শিবলা, ধরলা, ভদ্রা ও কপোতাক্ষ।

১. করমজল
করমজল হচ্ছে ফরেস্ট স্টেশন। এখানে একটি হরিণ প্রজনন কেন্দ্র আছে।

২. কাটকা
কাটকাতে ৪০ ফুট উচ্চ একটি টাওয়ার আছে যেখান থেকে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায়। একটি সুন্দর সমুদ্র সৈকত আছে এখানে। পর্যবেক্ষণ টাওয়ার হতে ফেরার সময় হেঁটে আপনি বীচের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারবেন। বিভিন্ন ধরনের পাখি, হরিণ, বাঘ, বানর, বন্যপাখির জন্য কাটকা প্রসিদ্ধ। কাটকা থেকে কাচিখালী (বাঘের জায়গা) পর্যন্ত প্রচুর ঘাস জন্মে বলে অনেক জীবজন্তুর আনাগোনা রয়েছে।

৩. হিরণ পয়েন্ট, কচিখালী ও মান্দারবাড়ীয়া
হিরণ পয়েন্ট হচ্ছে সুন্দরবনের পর্যটকদের একটি পছন্দনীয় ভ্রমণের জায়গা। এটি বিশ্বের একটি হেরিটেজ সাইট (যে জায়গাকে সংরক্ষন করে রাখা হয়) বলা হয়। এখানে জীবজন্তু এবং হরিণের দৌড়াদৌড়ি আপনাকে সত্যিই আনন্দ দিবে। এখানে আরও দুটি হেরিটেজ সাইট আছে- একটি কচিখালী ও অন্যটি মান্দারবাড়ীয়া যেখানে আপনি হরিণ ও পাখি দেখতে পাবেন। আপনি যদি সত্যিই সৌভাগ্যবান হয়ে থাকেন তাহলে রয়েল বেঙ্গল টাইগার চোখে পড়বে। কিন্তু এটা নিশ্চিত যে, আপনি ঘুমন্ত বাঘকে অবশ্যই দেখতে পাবেন এখানে। হিরণ পয়েন্টে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে তিনটি ভাল রেষ্ট হাউজ আছে। যা আগে থেকে আপনাকে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বুকিং করতে হবে।

৪. দুবলার চর (দ্বীপ) ও তিন কোণা দ্বীপ
দুবলার চর হচ্ছে জেলেদের মাছ ধরার উপযোগী স্হান। এখানকার সৌন্দর্য্যের একটি দিক হচ্ছে হরিণের ঘাস খাওয়ার দৃশ্য। তিন কোণা দ্বীপ হচ্ছে বাঘ ও হরিণের দ্বীপ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: