আল কুরআনে কেয়ামতের আলামত

নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং গর্ভাশয়ে যা থাকে, তিনি তা জানেন। কেউ জানে না আগামীকাল সে কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন দেশে সে মৃতু্যবরণ করবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ব বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।’ (সূরায়ে লুকমান, আয়াত-৩৪) ‘তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করে, কিয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? বলে দিন-এর খবর তো আমার পালনকর্তার কাছেই রয়েছে। তিনিই তা অনাবৃত করে দেখাবেন নির্ধারিত সময়ে। আসমান ও যমীনের জন্য সেটি অতি কঠিন বিষয়। যখন তা তোমাদের উপর আসবে অজান্তেই এসে যাবে। আপনাকে জিজ্ঞেস করতে থাকে, যেন আপনি তার অনুসন্ধানে লেগে আছেন। বলে দিন, এর সংবাদ বিশেষ করে আল্লাহর নিকটই রয়েছে; কিন্তু তা অধিকাংশ লোকই উপলব্ধি’ করে না।’ (সূরায়ে আ’রাফ, আয়াত -১৮৭) বরং তা আসবে তাদের ওপর অতর্কিতভাবে, অতপর তাদেরকে তা হতবুদ্ধি করে দিবে, তখন তারা তা রোধও করতে পারবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।’ (সূরায়ে আম্বিয়া, আয়াত-৪০) কেয়ামতের আলামত, ইয়াজুজ মাজুজের উত্থান- ‘যে পর্যন্ত না ইয়াজুজ মাজুজকে বন্ধনমুক্ত করে দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যেকে উচ্চভূমি থেকে দ্রুত ছুটে আসবে।’ (সূরায়ে আম্বিয়া, আয়াত -৯৬) পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়- যেদিন আপনার পালনকর্তার কোন বড় নিদর্শন আসবে, সেদিন এমন কোন ব্যক্তির বিশ্বাস স্থাপন তার জন্য ফলপ্রসূ হবে না।’ (সূরায়ে আনআম, আয়াত-১৫৮)

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় রাসূল্লাহ সালল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-‘যখন কিয়ামতের সর্ব শেষ নিদর্শনটি প্রকাশিত হবে, অর্থাৎ সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে, তখন এ নিদর্শনটি দেখা মাত্রই সারা বিশ্বের মানুষ ঈমানের কালেমা পাঠ করতে শুরু করবে এবং সব অবাধ্য লোকও বাধ্য হয়ে যাবে; কিন্তু তখনকার ঈমান ও তওবা গ্রহণযোগ্য হবে না।’ (বগভী)
দাব্বাতুল আরদ-এর আত্মপ্রকাশ- ‘যখন প্রতিশ্রুতি (কেয়ামত) সমাগত হবে, তখন আমি তাদের সামনে ভূগর্ভ থেকে একটি জীব নির্গত করব। সে মানুষের সাথে কথা বলবে। এ কারণে যে, মানুষ আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করত না।’ (সূরায়ে নমল, আয়াত-৮২) সিংগায় ফুৎকার- ‘যেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে; সেদিন হবে কঠিন দিন, কাফেরদের জন্য এটা সহজ নয়।’ (সূরায়ে মুদ্দাস্সির, আয়াত-৮-১০) সৃষ্টি জগতের ধ্বংসলীলা- পাহাড় পর্বত- ‘যেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মত এবং পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙ্গীন পশমের মত।’ (সূরায়ে কারিয়াহ, আয়াত-৪-৫) এবং পর্বতমালা চালিত হয়ে মরীচিকা হয়ে যাবে।’ (সূরায়ে নাবা, আয়াত-২০), ‘আর যখন পর্বতমালা উড়িয়ে দেয়া হবে।’ (সূরায়ে মুরসালাত, আয়াত-১০) আসমান-জমীন-‘যখন ভূমণ্ডল তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে, যখন সে তার বোঝা বের করে দিবে এবং মানুষ বলবে, এর কি হল? (সূরায়ে যিলযাল, আয়াত-১-৩), ‘আর যেদিন এই ভূমন্ডলকে রূপান্তরিত করা হবে অন্য ভূমণ্ডলে এবং পরিবর্তিত করা হবে আকাশসমূহকে এবং লোকেরা পরাক্রমশালী এক আলস্নাহর সামনে পেশ হবে।’ (সূরায়ে ইবরাহীম, আয়াত-৪৮), চন্দ্র সূর্য তারকা- ‘যখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে আর নক্ষত্ররাজি খসে খসে পড়বে।’ (সূরায়ে তাকভীর, আয়াত- ১-২) ‘যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, আর যখন নক্ষত্ররাজি ঝরে পড়বে।’ (সূরায়ে ইনফিতার, আয়াত-১-২) ‘অতপর যখন নক্ষত্রসমূহ নির্বাপিত হবে।’ (সূরায়ে মুরসালাত, আয়াত-৮), নদ-নদী- ‘যখন সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে।’ (সূরায়ে তাকভীর, আয়াত-৬) জীব-জন্তু- ‘যখন দশ মাসের গর্ভবতী উষ্ট্রীসমূহ উপেক্ষিত হবে। যখন বন্য পশুরা একত্রিত হয়ে যাবে।’ (সূরায়ে তাকভীর, আয়াত ৪-৫)
সৃষ্টিজগত ধ্বংস শেষে খোদায়ী ঘোষণা- ‘আজ রাজত্ব কার? এক প্রবল পরাক্রান্ত আলস্নাহ তায়ালার।’ (সূরায়ে মু’মিন, আয়াত-১৬)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: