চলমান ফোনটির যত্ন নিন


প্রিয়জনের সাথে যোগাযোগের জন্য রয়েছে নানা মাধ্যম।প্রিয়জনের সাথে যোগাযোগের জন্য রয়েছে নানা মাধ্যম। তবে আপনাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় এ সব মাধ্যমের মধ্যে কোনটি অত্যাধুনিক এবং দৃষ্টিনন্দন, তাহলে আপনি চোখ বন্ধ করে বলে উঠবেন চলমান ফোন (মোবাইল)। প্রয়োজনীয় এই জিনিসটি অনেকদিন ধরে সচল রাখতে যত্নের কোন বিকল্প নেই। দক্ষ হাতে যত্ন করলে আপনার সেটটি শুধু সচলই নয়, নজর কাড়া থাকবে অনেকদিন ধরে। যে জিনিসটি যোগাযোগের ক্ষেত্রে দিচ্ছে বন্ধু সুলভ সুবিধা, তার নাম চলমান ফোন বা মোবাইল ফোন। এদেশে প্রথম যখন মোবাইল ফোনের প্রচলন হয়, তখন শহরে গুটি কয়েক মানুষের হাতে দেখা যেত কেবল। তাও উচ্চবিত্ত ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা স্থানীয় লোকজনের হাতে। নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে হোক কিংবা ব্যয় বহুলতার জন্যই হোক, গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেও কোন মোবাইলের সন্ধান মিলতো না। কিন্তু এখন শহরে সবার হাতে হাতে তো বটেই, এমনকি নিভৃত গ্রামেও প্রায় সবার হাতে শোভা পায় চলমান ফোন (মোবাইল) । তরুণ-তরুণীদের কাছে চলমান ফোন (মোবাইল) শুধু প্রয়োজনীয়ই নয়, বিশেষ ফ্যাশনও বটে। যে কোনো প্রয়োজনীয় জিনিসেরই সঠিক যত্ন না নিলে তা অনেকদিন ধরে সচল থাকে না। বিশেষ করে কল-কব্জার জিনিস। এ দৃষ্টিকোণ থেকে মোবাইলের সঠিক যত্ন নেয়া অতি জরুরী। সে যত্নের ধরণ কেমন হবে, তা হয়তো অনেকেই জানেন। তবে যারা জানেন না, কিংবা জেনেও প্রয়োগ করতে চান না,তাদের জন্য মোবাইলের যত্ন নেয়ার কিছু পদ্ধতি তুলে ধরা হলো-

১। চলমান ফোন (মোবাইল) ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি কমন ব্যাপার হলো চার্জ দেয়া। আপনার সেটে চার্জ যখন ২৫% অবশিষ্ট থাকবে, তখনই উচিত হবে নতুন করে চার্জ দেয়া। তবে চার্জ না ফুরালেও ঘন ঘন চার্জ দিলে কিংবা মোবাইলের ব্যাটারীর ভোল্টের চেয়ে অধিক ভোল্ট সম্পন্ন চার্জার দিয়ে চার্জ দিলে সেটের ক্ষতি হওয়ার আশংকা আছে। এছাড়া যখন চার্জ দেয়া হবে, তখন আংশিক চার্জ না দিয়ে ব্যাটারী ফুল করে চার্জ দেয়া উচিত। 

২। আপনি অসতর্ক হলে তো কোন কথা-ই নেই, সতর্ক হলেও কখনো কখনো আপনার সেটটি হাত ফসকে পড়ে যেতে পারে মাটিতে কিংবা পাকা ফ্লোরে। তাই সময় থাকতেই সাবধান হওয়া উচিত। বাজারে এখন নানা রকমের কাভার পাওয়া যায়। আপনি যদি সেসব কাভার থেকে পছন্দসই কোন কাভার এনে ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার সেটটি অসতর্ক মহূর্তে হাত থেকে পড়ে গেলেও খুব একটা ক্ষয়-ক্ষতির আশংকা নেই।

৩। এ কথা সত্যি যে, কাভারের মধ্যে বন্দী করা হলে সেটের সৌন্দর্য কিছুটা হলেও হ্রাস পায়। তবে যখনই আপনিসেটটি কাভার মুক্ত করবেন, তখনই এর মধ্যে পরিলক্ষিত হবে নতুনের মতো চাকচিক্য। বিশেষ করে খুব পুরনো সেটে দেখা যায় কী-এর নাম্বার মুছে গেছে আঙ্গুলের চাপ কিংবা ঘষার ফলে। কাভার ব্যবহার করলে এ সমস্যাটি কখনো হবে না। 

৪। আপনি যখন আপনার টাইট জিন্সের প্যান্টের পকেটে মোবাইল সেটটি রাখবেন, তখন আপনার উচিত হবে লক করে রাখা। নইলে যে কোনো সময় চাপ লেগে অহেতুক কোন নাম্বারে কল হয়ে আপনার টাকা কাটা যেতে পারে।

৫। আপনি যদি কোনোভাবেই কাভার ব্যবহার করতে না চান, তাহলে আপনার উচিত হবে টাইট প্যান্টের পকেটে সেট না রাখা। রাখলে ঘষা লেগে লেগে সেটের সৌন্দর্য বর্ধনকারী রং এবং নকশা উঠে যেতে পারে।

৬। আপনি যখন পাবলিক বাসে যাতায়াত করবেন, কিংবা মিটিং মিছিলের ভীড়ের মধ্যে অবস্থান করবেন, তখন ঢিলে-ঢালা প্যান্টের পকেটে সেট রাখলে চুরি হয়ে যাবার আশংকা রয়েছে। এ সময় সেটটি হাতে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৭। কী-এর ফাঁকে ফাঁকে ধুলো-ময়লা জমে নষ্ট হতে পারে আপনার সেটটির সৌন্দর্য। এ ক্ষেত্রে আপনার উচিত হবে এমন স্থানে সেট না রাখা, যেখানে ধুলো বালির আধিক্য রয়েছে। তবে ময়লা যদি জমেই যায়, তাহলে কী এর ফাঁক ফোকরের ময়লা পরিষ্কারে উত্তম উপায় হলো পরিচ্ছন্ন একটি ব্রাশ ব্যবহার করা।

৮। মোবাইলের জন্য পানি অতি বিপজ্জনক। তাই কোনোভাবেই যেন সেটে পানি না লাগে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। বৃষ্টির দিনে বাইরে বেরুনোর সময় সেটটি ওয়াটার প্রুফ ব্যাগ কিংবা কাগজের ভেতরে নিয়ে বের হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এ সময় কল আসলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে রিসিভ না করে আশেপাশের কোনো ঘরে গিয়ে রিসিভ করাই উত্তম। এতে সেটটি থাকবে নিরাপদ ও শুষ্ক।

৯। মোবাইলে যদি পানি ঢুকেই যায় আর আপনার যদি মোবাইলের যন্ত্রপাতির ব্যাপারে কোন জ্ঞান না থাকে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে সেটটি কোন টেকনিশিয়ানের কাছে নিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে বিলম্ব করলে কিংবা না জেনে কোন ব্যবস্থা নিতে চাইলে সেটটির বড় ধরনের কোন ক্ষয়-ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

১০। সাধারণত বাচ্চারা মোবাইলের ব্যাপারে অতি উৎসাহী হয়ে থাকে। তাই সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে তারা যেন সেটটি ধরলেও হাত থেকে ফেলে দেয়া কিংবা অন্যকোনো প্রকার অঘটন ঘটানোর সুযোগ না পায়। তবে তাদেরকে কী টেপার সুযোগ না দেয়াই ভাল। 

১১। আপনি যদি আপনার প্রিয় সেটটি অনেকদিন ধরে ব্যবহার করতে চান, তাহলে আপনার উচিত হবে যতোটা সম্ভব কম টেপাটেপি করা বিশেষ করে অতিরিক্ত গেমস খেলার অভ্যাস মোটেই ভাল নয়। এতে আপনার আদরের সেটটি দুর্বল হয়ে যাবে অতি তাড়াতাড়ি।

১২। সেট নিয়ে যখন আপনি গাড়িতে চড়বেন। তখন সেটি ব্যাগে না রাখাই ভাল। ব্যাগে রাখলে হ্যাঁচকা ঝাঁকুনিতে যে কোনো সময় আপনার সেটটি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

১৩। দামী সেটতো বটেই, অন্য যেকোনো মূল্যমানের সেট নিয়েই রাতে পথচলা উচিত নয়। কারণ আজকাল ছিনতাইকারীদের বিশেষ নজর থাকে পথচারীর মোবাইলে সেটের প্রতি।

১৪। মোবাইল সেট হাতে নিলেই যদি আপনার যে কারো নাম্বারে মিসকল দেয়ার বদঅভ্যাস থেকে থাকে, তাহলে যতো দ্রুত সম্ভব এই অভ্যাস পরিত্যাগ করা উচিত। এতে আপনার সেটের উপর টেপাটেপি অনেকাংশে কমে আসবে। আপনার সেট থাকবে অনেক দিন ধরে সবল এবং কার্যকর।

১৫। আপনার প্রিয় মোবাইল ফোনটির চার্জার ও সেট সবসময় অভিন্ন ব্যবহার করা উচিত।

১৬।মোবাইল ফোনের সেটের জন্য অন্য মোবাইল ফোনের চার্জার ব্যবহার করা ঠিক না।

১৭। আপনার মোবাইল ফোনটির ঐ নির্দিষ্ট কোম্পানীর ব্যাটারি ব্যবহার করা উচিত ।

১৮। দিনে একটি নির্দিষ্ট সময়ে আপনার মোবাইল ফোনটির চাজিং সময় নির্ধারন করুন ও চার্জ দিন।

১৯। মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে স্ক্রিনে আপনার ফোনটি চার্জ হচ্ছে কিনা তা প্রদর্শন করছে কিনা ভালভাবে লক্ষ্য করুন।

২০। মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করতে গিয়ে যদি আপনার হাত থেকে পড়ে যায় তাহলে সাথে সাথে মোবাইল ফোনটি বন্ধ করুন এবং আবার তা চালু করুন।

২১। কোন কারণে যদি আপনার মোবাইল ফোন পানিতে ভিজে যায় তাহলে বুঝা মাত্রই মোবাইল ফোন সেট থেকে ব্যাটারি আলাদা করে নিন এবং সূর্যের তাপে শুকিয়ে নিন। যত তারাতাড়ি সম্ভব মোবাইল সার্ভিশিং কেন্দ্রে নিয়ে যান।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: