ফজরে ওঠার বাড়তি সুবিধা

 

সকালে ঘুম থেকে ওঠা স্বাস্থ্যসম্মত। জ্ঞানীজনরা বলেন, সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলে স্বাস্থ্যবান, জ্ঞানী আর ধনী হওয়া যায়। Early to bed and early to rise, Makes a man healthy, wealthy and wise- বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের উক্তি। ইসলাম অতি ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পক্ষে। অতি প্রতুøষে ঘুম থেকে ওঠার ব্যাপারে ইসলামে নির্দেশ এবং উৎসাহ­ দুটোই আছে। মহান আল্লাহ্‌ আমাদের ওপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ করে দিয়েছেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রথম ওয়াক্তই হচ্ছে ফজরের নামাজ, যা আদায় করতে হয় অতি প্রতুøষে, সুবহে সাদিকের পর সূর্য ওঠার আগে। হাদিসে আছে, সঠিক সময়ে বা ওয়াক্ত মতো নামাজ আদায় করা আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিনের কাছে সবচেয়ে প্রিয় (মুসলিম)। সময়মতো ফজরের নামাজ আদায় করতে মুসলমানদের অবশ্যই অতি ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হয়। রাসূলুল্লাহ্‌ সাঃ বলেছেন, জামাতের সাথে ফজরের নামাজ আদায় করলে সারা রাত জেগে ইবাদত করার নেকি পাওয়া যায় (মুসলিম)। যথাসময়ে ফজর ও এশার নামাজ আদায় করা কিছুটা কষ্টকর। হাদিস শরিফে এসেছে, যথাসময়ে ফজর ও এশার নামাজ আদায় করা কষ্টকর বটে, তবে ওয়াক্ত মতো আদায় না করলে মানুষ যে কী পরিমাণ বরকত থেকে বঞ্চিত হলো, তা যদি তারা জানত, তাহলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে এসে হলেও এ দুই ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করত (বুখারি, মুসলিম)। ফজরের জামাত হয় সকালে সূর্য ওঠার আগেই। সুতরাং ইসলাম সকালে ঘুম থেকে ওঠাকে যেমন ফরজ করেছে, তেমনি উৎসাহিতও করেছে। সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা খুবই বরকতময়। রাসূলে পাক সাঃ বলেন, হে আল্লাহ্‌, আমার উম্মতকে সকালে ওঠার বরকত দান করো। সুতরাং যারা দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন, তারা সকালে ওঠার বরকত থেকে বঞ্চিত হন।

আজকাল অনেকেরই অভ্যাস দেরিতে ঘুমাতে যাওয়া এবং দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা। কিন্তু সকালে সূর্য ওঠার আগে ঘুম থেকে ওঠা একজন মুসলমানের অভ্যাসে পরিণত হয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার স্বাস্থ্য সুবিধা অনেক। ফজরের নামাজ জামাতে আদায়ের বিশেষ উপকারের ইঙ্গিত রয়েছে হাদিসে। মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য বাসা বা বাড়ি থেকে মসজিদে যাওয়া-আসায় হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম হয়। ফজরের নামাজের সময়ও শারীরিক ব্যায়াম হয়। এ ছাড়া সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলে নামাজের পরেও হাঁটার জন্য সময় পাওয়া যায় বেশ। নামাজের পরে হাঁটা যায় একটু সময় নিয়ে। হাঁটা বেশ ভালো ব্যায়াম। শরীরের জন্য ব্যায়াম খুবই জরুরি। রক্তের তেল-চর্বির উচ্চমাত্রা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ইত্যাদি প্রতিরোধে সহায়ক। বিকেলে ব্যায়াম করার চেয়ে সকালে ব্যায়াম করার সুবিধা একটু বেশি। সারা রাত ঘুমানোর কারণে শরীরের পেশিগুলো একটু শিথিল হয় এবং ব্যায়ামের জন্য বেশি উপযোগী থাকে। পক্ষান্তরে বিকেলে পেশিগুলো থাকে ক্লান্ত-শ্রান্ত। ব্যস্ত জীবনে বিকেলে হাঁটা বা ব্যায়ামের জন্য সময় বের করা সহজ না-ও হতে পারে। সকালের বাতাস থাকে নির্মল। ধুলোবালু আর ক্ষতিকর গ্যাস খুবই কম থাকে তখন বাতাসে। এরূপ বাতাস শরীরের জন্য উপকারী। সকালে পড়াশোনা মনে রাখার শক্তি বেশি থাকে। লেখাপড়া করার জন্য সময়ও পাওয়া যায় বেশি। জ্ঞানার্জনের জন্য সকালে ওঠা তাই খুবই সহায়ক। খুব ভোরে উঠলে সকাল সকাল নাশতা করার সুবিধাও পাওয়া যায়। সারা রাত না খেয়ে থাকার ফলে সকালবেলা আমাদের শরীরে খাদ্যের ঘাটতি দেখা দেয়। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যায়। সকাল সকাল নাশতা করলে সকাল সকালই শরীরের খাদ্যের অভাব পূরণ হয়। সকালবেলার একটু বেশি পরিমাণে নাশতা সারা দিন শরীরটাকে কর্মক্ষম রাখে। দেরিতে ঘুম থেকে উঠলে নাশতা করার জন্য বেশি সময় নাও পাওয়া যেতে পারে। ফলে অল্প নাশতা করেই কাজে বেরিয়ে পড়তে হতে পারে। শরীর ব্যবহার করবে শরীরের জমে থাকা শক্তি। আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে পড়বে শরীর। সকালে উঠলে এ সমস্যাগুলো হওয়ার আশঙ্কা অনেক কম। সুতরাং ফজরের সময় ঘুম থেকে ওঠা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এ ছাড়া সকালের নির্মল পরিবেশে ফজরের নামাজে আধ্যাত্মিক চেতনায় মন ভরে ওঠে। আত্মতৃপ্তিতে মন পরিপূর্ণ হয়। সুতরাং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠলে আমরা ফরজ আদায়ের পাশাপাশি এসব স্বাস্থ্য সুবিধা অবশ্যই পাবো। তবে নিছক স্বাস্থ্য সুবিধা লাভের আশায় নয়, বরং আমাদের নিয়ত হবে আল্লাহর দেয়া ফরজ আদায় করার জন্যই আমরা ফজরের ওয়াক্তে ঘুম থেকে উঠব। ঘরে জানালা রাখার নিয়ত যদি হয় নামাজের আজানের শব্দ শোনার, তাতে নেকি হবে। আলোবাতাস তো এমনিই চলাচল করবে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: