কুরআনের আলোকে জালিমের শাস্তি

আমরা অনেকেই মনে করি, জীবনে সফলতা ও কামিয়াবির উপায় হচ্ছে বস্তুগত উপায়-উপাদান, সম্পদের প্রাচুর্য, শক্তিশালী রাষ্ট্রযন্ত্রের দণ্ডমুণ্ডের কর্তৃত্ব এবং প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণের সব সুযোগ-সুবিধা। আবার কেউ ভাবি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বাধুনিক সমাহার, অর্থ, বাণিজ্য, সমরশক্তি ও অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রের অধিপতি হয়ে সব কিছু হাতের মুঠোর মধ্যে পুরে নেয়াতেই রয়েছে মানবজীবনের চূড়ান্ত সফলতা। এ জাতীয় দর্শনে বিশ্বাসীরা যুগে যুগে তাদের উচ্চাভিলাষ পূরণের জন্য সর্বসাধারণকে জুলুম-শোষণের শিকার বানিয়েছে। কখনো তা ব্যক্তিগত পর্যায়ে হয়েছে, কখনো হয়েছে জাতিগত পর্যায়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে। ছোট ছোট জাতিসত্তাকে আক্রমণ, দখল ও শোষণের শিকার বানিয়েছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো। কিন্তু আল্লাহর শপথ, একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সীমালঙ্ঘন অব্যাহত রাখলেও শেষ পর্যন্ত আল্লাহর গজবে পাকড়াও হয়েছে তারা। অগাধ সহায় সম্পত্তির মালিক কারুন, যার ধনভাণ্ডার ও কোষাগারের চাবি বহন করতে কয়েকজন শক্তিশালী লোক হাঁপিয়ে উঠত; সেও শেষ নাগাদ করুণ পরিণতির শিকার হয়েছে। ফেরাউন দাবি করেছিল মিসরীয়দের কাছে­ ‘আমি হচ্ছি তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ রব’। সাগরে ডুবিয়ে মেরে আল্লাহ চুরমার করে দিয়েছিলেন তার ক্ষমতার দম্ভ ও অহমিকা। পূর্বযুগের অনেক দাম্ভিক, অত্যাচারী শাসক ও জনগোষ্ঠীকে আল্লাহ চরম শিক্ষা দিয়েছেন তাদের সীমালঙ্ঘনের অপরাধে। সূরা আল ফজরে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেনঃ ‘আপনি কি লক্ষ করেননি, আপনার প্রভু আ’দ জাতির ইরাম বংশের সাথে কী আচরণ করেছিলেন? যাদের দৈহিক গঠন ছিল স্তম্ভের মতো দীর্ঘ ও মজবুত। যাদের মতো দৈহিক শক্তিসম্পন্ন আর কোনো জাতি কোনো দেশে সৃষ্টি হয়নি। আর সামুদ গোত্র, যারা উপত্যকার পাথর কেটে নির্মাণ করেছিল ঘরবাড়ি। আর লৌহশলাকার অধিকারী ফেরাউন, যারা দেশে সীমালঙ্ঘন করেছিল, বাড়িয়ে দিয়েছিল অশান্তির বিভীষিকা। অতঃপর আপনার প্রভু বর্ষণ করলেন তাদের প্রতি শাস্তির কশাঘাত। নিশ্চয়ই আপনার প্রভু সদাসতর্ক দৃষ্টি নিয়ে আছেন। (আল ফজরঃ ৬-১৩) জুলুম ও সীমালঙ্ঘন সম্পর্কে কুরআনে উদ্ধৃত ইতিহাসের বিভিন্ন উদাহরণ থেকে জালিমরা কি কোনো দিন শিক্ষা গ্রহণ করেছে? সীমালঙ্ঘনকারী জালিমদের ক্ষমতার ফানুস একদিন অবশ্যই চুরমার হয়ে যাবে। আল্লাহ তায়ালার গজব যখন তাদের প্রতি নিপতিত হবে তখন তাদের শিক্ষা গ্রহণের আর সুযোগ থাকবে না। পৃথিবীর বেশির ভাগ জালিম শক্তির এমন পরিণতিই হয়ে থাকে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যারা কাফের, তাদের কর্ম মরুভূমির মরীচিকা সদৃশ্য, যাকে পিপাসার্ত ব্যক্তি পানি মনে করে। এমনকি সে যখন তার কাছে যায়, তখন কিছুই পায় না, বরং পায় সেখানে আল্লাহ তায়ালাকে। অতঃপর আল্লাহ তার হিসাব চুকিয়ে দেন। আর আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।’ (সূরা নূরঃ ৩৯) কাঁড়ি কাঁড়ি সম্পদ, শক্তিশালী জনবল বা রাষ্ট্রযন্ত্রের অধিকারী ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের জুলুম অত্যাচার বেশ কিছুদিন অব্যাহত থাকলে তাদের আত্মম্ভরিতা ও অহমিকা আরো বেড়ে যায়। তারা মনে করে, এ পৃথিবীতে এমন কোনো শক্তি নেই যা তাদের রুখতে পারে। তারা ধরাকে সরা মনে করে। এতে দুর্বলচিত্ত মজলুম নিষ্পেষিত সম্প্রদায় বা সর্বসাধারণের মনেও অনেক সময় ভুল ধারণা সৃষ্টি হয়ে যায় যে, এ জালিম শক্তির পতন কি আদৌ কোনো দিন হবে? যারা আল্লাহর ক্ষমতার প্রতি ঈমান পোষণ করে, মাঝে মধ্যে তাদের মনেও ওয়াসওয়াসা চলে আসে, আল্লাহ যদি জালিম শক্তিকে দমন করতে ক্ষমতা রাখেনই, তাহলে অমুক জালিম শক্তিকে এত দিন পর্যন্ত শায়েস্তা করছেন না কেন? এত সীমালঙ্ঘন সত্ত্বেও তাদের অবকাশ দিচ্ছেন কেন? এর জবাবে আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, দেশে দেশে কাফেরদের বেপরোয়া চলাফেরা (হে রাসূল) আপনাকে যেন ধোঁকায় না ফেলে দেয়।
টা হচ্ছে অল্প সময়ের উপভোগ মাত্র। তাদের চূড়ান্ত ঠিকানা হচ্ছে জাহান্নাম। কত খারাপই না সে ঠিকানা।’ (আল ইমরানঃ ১৯৬-১৯৭) মানুষ হয়তো মনে করে অমুক জালিম শক্তি এত অপরাধ করছে, তার তো এক্ষুনি শাস্তি পাওয়া উচিত। তাকে আর এক দিনও সময় দেয়া ঠিক নয়। তবে আল্লাহ তায়ালার একটা নির্দিষ্ট তালিকা আছে। আর সেটি হচ্ছে, প্রত্যেকের জন্যই তিনি একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছেন। সে সময় আসা পর্যন্ত আল্লাহ অপেক্ষা করেন এবং তাদের অবকাশ দেন। আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সৃষ্টির প্রতি জুলুমের কিছু পাকড়াও আল্লাহ দুনিয়াতেই করে থাকেন। কোন জালিমকে আল্লাহ কখন ধরবেন, তা দিন, তারিখ, ঘণ্টা, মিনিট এমনকি সেকেন্ডসহ তিনি নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যখন তাদের নির্দিষ্ট সময় এসে যাবে, তখন না একদণ্ড পেছনে সরতে পারবে না, না সামনে ফসকাতে পারবে’ (ইউনুসঃ ৪৮)। আল্লাহর পাকড়াও থেকে ফসকানোর বা পালানোর কোনো উপায় থাকবে না। আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, ‘অতঃপর আমি কাফেরদের সুযোগ দিয়েছিলাম, এরপর তাদের পাকড়াও করেছিলাম। অতএব কত-ই না খারাপ ছিল আমাকে অস্বীকৃতির পরিণাম! আমি কত জনপদ ধ্বংস করেছি এ অবস্থায় যে তারা ছিল জুলুম-অন্যায়ে লিপ্ত। এসব জনপদ এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কত কূপ পরিত্যক্ত। ধ্বংস হয়ে গেছে কত সুদৃঢ় প্রাসাদ ও ভবন। তারা কি দেশে ভ্রমণ করে দেখে না? যাতে তাদের হৃদয়ে বোধোদয় ঘটে এবং কর্ণ দ্বারা শ্রবণ করে (যা ঘটেছিল), বস্তুত চোখ তো অন্ধ হয় না, অন্ধ হয়ে আছে তাদের বক্ষস্থিত হৃদয়গুলো। তারা আপনাকে আজাব ত্বরান্বিত করতে বলে। অথচ আল্লাহ কখনো তার ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। আপনার প্রভুর কাছে এক দিনের পরিমাণ হচ্ছে তোমাদের গণনার এক হাজার বছর। আমি কত জনপদকে অবকাশ দিয়েছি এ অবস্থায় যে, তারা জুলুম-অন্যায়ে লিপ্ত ছিল। এরপর তাদের পাকড়াও করেছি। আর মূলত আমাদের কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।’ (সূরাঃ হজ)।

ডায়াবেটিস ও খাদ্য

সাধারণ স্বাস্থ্য রক্ষায় যেমন সুষম খাদ্যের প্রয়োজন, তেমনি ডায়াবেটিসের বেলায়ও এর ব্যতিক্রম হয় না। তবে এই রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে গেলে খাদ্যের ব্যাপারে কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলা জরুরী। তিনটি বিষয় মনে রাখতে পারলে এই রোগটিকে আয়ত্বে আনা কোন ব্যাপার নয়। প্রথমত: নিষিদ্ধ খাবার বর্জন। দ্বিতীয়ত: পরিমাণ মতো খাবার গ্রহণ। তৃতীয়ত: প্রতি ৩ ঘন্টা পর পর খাবার খেতে হবে। 

নিষিদ্ধ খাবারগুলো হলো:.

চিনি, গুড়, মধু, গ্লুকোজ, খেজুরের রস, কেক, পেস্ট্রি, জ্যাম, জেলী, সিরাপ, মিষ্টি বিস্কুট, মিষ্টি, হালুয়া, কোল্ড ড্রিংকস, আইসক্রিম, মিষ্টি দই ইত্যাদি।

পরিমাণ মতো খাবার গ্রহণ:

প্রতিটি ডায়াবেটিস রোগীর খাবারের পরিমাণ পৃথক হয়ে থাকে। পরিবারে এক জনের ডায়াবেটিস হলে তাকে যে পরিমাণ খাবার নির্ধারণ করে দেয়া হয়, সেই পরিমাণ খাবার অন্যদের জন্য নয়। কারণ যদি খাবারের পরিমাণ বেশি হয় তবে রক্তে গস্নুকোজের মাত্রা বেড়ে যাবে। আর যদি কম হয় তাহলে গস্নুকোজের মাত্রা কমে যাবে। এই কারণে যার জন্য যে পরিমাণের খাবার নির্দিষ্ট করে দেয়া হয় তাই খেতে হবে।

সময় মতো খাবার খেতে হবে:

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সময় ঠিক রাখা খুবই জরুরী। একেক দিন একেক সময়ে খাবার খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খেতে হবে এবং প্রতি তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা পর পর খেতে হবে। অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকা ডায়াবেটিসের জন্য খুবই বিপজ্জনক। এতে বিপাক ক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এক কিটোসিসের মত জটিলতা দেখা যায়। এদিকে দেড় থেকে দুই ঘন্টা পর পর খেলে রক্ত শর্করার মাত্রা কমানো যায় না।

খাবার হবে এ ধরনের:

চিনি-মিষ্টি, মধু বাদ দিতে হবে, ভাত-রুটি-আলু পরিমাণ মতো, পাতা জাতীয় ও পানসে সবজি ইচ্ছামত। টক জাতীয় ফল ইচ্ছামত। তবে ডায়াবেটিস বা রক্তশর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মিষ্টি ফল না খাওয়াই উত্তম।

শর্করা জাতীয় খাদ্য:

অন্যান্য স্বাভাবিক লোকের মতই শর্করা জাতীয় খাবার দৈনিক ৫০-৬০ ভাগ দিতে হবে। এ ধরণের খাবার শরীরে শক্তি যোগায়। শর্করা প্রধানত: দুই প্রকার। চিনিযুক্ত শর্করা ও শ্বেতসারযুক্ত শর্করা। সকল শর্করাই শোষিত হয়ে দেহে গস্নুকোজে রূপান্তরিত হয়। তবে সহজ শর্করা যেমন- চিনি, গুড়-গস্নুকোজ এগুলো খাওয়া মাত্র সরাসরি রক্তে গস্নুকোজের মাত্রা বাড়ায় এবং শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য ধীরে ধীরে বাড়ায়। এ কারণেই চিনি-গুড় একেবারেই নিষেধ করা হয় এবং শ্বেতসার অর্থাৎ ভাত-রুটি, শস্য জাতীয় খাবার সীমিত পরিমাণে খেতে বলা হয়।

শর্করা জাতীয় খাবার হলো:

রুটি, ভাত, আলু, বিস্কুট, নডুলস, চালের গুড়া, পরিকা, ভূট্টা, সাগু, বালি, সুজি, চিড়া, মুড়ি, খই, চিনি-গুড়, গ্লুকোজ, মধু, সেমাই ইত্যাদি।

আমিষ জাতীয় খাদ্য:

আমিষ প্রধানত: দু’ধরণের হয়ে থাকে। প্রাণীজ আমিষ ও উদ্ভিজ আমিষ। সাধারণত: প্রাণীজ আমিষের চাইতে উদ্ভিজ আমিষের গুণগত মান কম। তবে উভয় প্রকার আমিষই পরিপাক হয়ে এমাইনো এসিডরূপে রক্তে শোষিত হয়। খাদ্যের মোট ক্যালরির ২০-৩০ ভাগ আমিষ জাতীয় খাবার থেকে আসা উচিত। আমিষ শর্করার মতো রক্তে গস্নুকোজের মাত্রা বাড়ায় না এবং চর্বির মতো অধিক ক্যালরি উৎপন্ন করে না। তবে এটা শরীর গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করে দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে ডায়াবেটিস রোগীদেরও আমিষ জাতীয় খাদ্য স্বাভাবিক লোকের মতই গ্রহণ করতে হবে। আমিষ জাতীয় খাবার হলো- ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, ডাল, বাদাম, সীমের বিচি, সয়াবিন ইত্যাদি।

চর্বি জাতীয় খাদ্য:

সারাদিনের খাবারের মোট ক্যালরির ২০-৩০ ভাগ আসা উচিত চর্বি জাতীয় খাদ্য থেকে। তবে সম্পৃক্ত চর্বি যেমন-ঘি, ডালডা, এবং মাংসের চর্বি, যতটা সম্ভব পরিহার করা উচিত। কারণ সম্পৃক্ত চর্বিতে দেহের রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগস্নাইসেরাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এই জন্য ডায়াবেটিস রোগীদের সম্পৃক্ত চর্বি যতটা সম্ভব কম খাওয়া উচিত। কারণ তারা অন্যদের তুলনায় সহজেই হূদরোগে আক্রান্ত হতে পারে। রান্নায় সয়াবিন তেল, কর্ণতেল, সূর্যমুখীর তেল, জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করাই উত্তম।

খাদ্যের আঁশ:

খাদ্যের আঁশ দেরীতে হজম হয় বলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সহায়ক। আবার পরিমাণের অতিরিক্ত আঁশ পেটে গ্যাসের সৃষ্টি করে। পেটে ব্যথা হয়, পেট ফেঁপে যায় ও পাতলা পায়খানা হয়। সেজন্য যাদের গ্যাসট্রাইটিসের সমস্যা আছে এবং যাদের আলসার আছে তাদের এই জাতীয় খাবার বাদ দেয়া উচিত। আঁশ জাতীয় খাবার হলো- ভূষিযুক্ত রুটি, লালচাল, আঁশযুক্ত সবজি ও খোসা সহ ফল। 

সব শেষে বলা যায়, যেহেতু ডায়াবেটিস সারা জীবনের রোগ সেজন্য প্রতিটি রোগীরই আত্মসচেতনতা প্রয়োজন। বলা হয়, একজন নিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস সম্পন্ন লোক অনেক বেশি ভাল, ডায়াবেটিস নাই এমন একজন লোকের চাইতে। কারণ তিনি শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন যাপন করেন। এবং সব সময় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকেন।

কে কত হাসতে পারো!!! "তেতত্রিশ"

শীতের

টানা এক মাস শীতের ছুটির পর স্কুল খুলেছে। ক্লাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে কথা হচ্ছে।
শিক্ষক: শীতের ছুটি কীভাবে কাটালে তোমরা?
ছাত্র: সোয়েটার পরে, মাফলার পরে, মোজা পরে, জ্যাকেট পরে।
শিক্ষক: আচ্ছা, তুমি কীভাবে বুঝবে যে শীত এসে গেছে?
ছাত্রী: টেলিভিশনে বেবি লোশন, পেট্রোলিয়াম জেলি, উইন্টার ফেয়ারনেস ক্রিম ইত্যাদির বিজ্ঞাপন দেখে।

বিজ্ঞানের বিস্ময়
কোনো এক যাত্রী খুলনাগামী ট্রেনের পরিবর্তে রাজশাহীর ট্রেনে উঠে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর ট্রেনের অন্য এক যাত্রীকে বললেন—কোথায় যাচ্ছেন ভাই?
লোকটি বলল : খুলনা।
জিজ্ঞাসাকারী ব্যক্তি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, বিজ্ঞানের কী বিস্ময় দেখুন, একই ট্রেনের ডান পাশ যাচ্ছে খুলনা আর বাম পাশ যাচ্ছে রাজশাহী। 

ডেলিভারি
বিকাল বেলা দোকানের চায়ের আড্ডায় কিছু লোকের মাঝে গল্প হচ্ছে
একজন বলল, এই তোমরা শুনেছ! আমাদের পাশের বাড়ির এক মহিলা ডেলিভারি কেইসে মারা গেছে।
তা শুনে আরেকজন বলে উঠল
হ্যাঁ, এটা আসলে মারাত্মক একটা রোগ। এ রোগে আমার দাদাও মারা গেছেন।

ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে কথা হচ্ছে
রোগী : ডাক্তার সাহেব, প্রতিদিন ৫০ টাকার ওষুধ খাচ্ছি। কোনো লাভ হচ্ছে না।
ডাক্তার : এখন থেকে প্রতিদিন ৪০ টাকার ওষুধ খাবেন। তাহলে ১০ টাকা করে প্রতিদিন লাভ হবে।

নামাজ মুমিনের মিরাজ

ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ৭ নম্বর বোখারি শরিফের ৫৩ পৃষ্ঠায় রয়েছে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত আছে পাঁচটি ভিত্তির মধ্যে ২ নম্বর ভিত্তিই হচ্ছে নামাজ কায়েম করা। পবিত্র কুরআন শরিফে সূরা হুদের ১১৪ নম্বর আয়াতে নামাজ সম্পর্কে রয়েছে, ‘তুমি সালাত কায়েম করো দিবসের দুই প্রান্তভাগে ও রজনীর প্রথমাংশে। সৎ কর্ম অবশ্যই অসৎ কর্মকে মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে, এটা তাদের জন্য এক উপদেশ’। অর্থাৎ দিবসের প্রথম প্রান্তভাগ ফজরের সালাত। দ্বিতীয় প্রান্তভাগে জোহর ও আসরের সালাত এবং রাতের প্রথমাংশে মাগরিব ও এশার সালাত। এই পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের কথা বলা হয়েছে এবং সূরা বনি ইসরাঈলে ৭৮ আয়াতে সালাত সম্পর্কে রয়েছে, ‘সূর্য হেলে পড়ার পর থেকে রাতের ঘন অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম করবে এবং কায়েম করবে ফজরের সালাত। নিশ্চয়ই ফজরের সালাত উপস্থিতির সময়’ এবং ৭৯ নম্বর আয়াতে রয়েছে, ‘এবং রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ কায়েম করবে, এটা তোমাদের জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, তোমাদের প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে।’ ওপরে উল্লিখিত তিনটি আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয়, আল্লাহ পাক রাসূল সাঃসহ তাঁর উম্মতদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন এবং সেই সাথে গভীর রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ কায়েম করার জন্য অতিরিক্ত কর্তব্য ও দায়িত্ব হিসেবে আল্লাহপাক তাঁর বান্দাদের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তা ছাড়া ৫২০ নম্বর বোখারি শরিফে হজরত আবুল মালীহ রাঃ থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আসরের নামাজ তরক করল তার সব আমল নষ্ট হয়ে গেল।’

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসূল সাঃ-এর প্রতি পবিত্র কুরআন নাজিল করে পবিত্র কুরআনের আয়াত অনুসারে রসূল সাঃ উম্মতদের পথ চলা এবং জীবন নির্বাহের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরিফের নাজিলকৃত বিভিন্ন সূরার আয়াতগুলো মানুষের জীবন চলার পথে বিধানস্বরূপ। স্বয়ং রাসূল সাঃ তাঁর খলিফাগণ, সাহাবাগণ এবং মুমিন বান্দাগণ নিজ অর্থ ও সম্পদ দ্বারা মানুষের সঠিক পথে নিয়ে এসে দ্বীন ইসলামের পতাকাতলে সমবেত করে পবিত্র কুরআন এবং রাসূল সাঃ-এর হাদিস অনুসারে চলার জন্য কাজ করে গিয়েছেন এবং বর্তমানে করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের মধ্যে দুই স্তম্ভ যথাক্রমে হজ এবং সালাত কায়েম করা নিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা সুনির্দিষ্টভাবে পবিত্র কুরআনের সূরা হজের ২৬ আয়াতের মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘এবং স্মরণ করো, যখন আমি ইব্রাহিমের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম সেই গৃহের স্থান, তখন বলেছিলাম, আমার সাথে কোনো শরিক স্থির করিও না এবং আমার গৃহকে পবিত্র রাখিও তাদের জন্য যারা তাওয়াফ করে এবং যারা সালাতে দাঁড়ায়, রুকু করে ও সেজদা করে।’

সালাত বা নামাজ দ্বারা কুপথ থেকে বিপথগামী মানুষকে ফিরিয়ে আনে তা ধ্রুব সত্য। তা ছাড়া নামাজ মুসলমানদের পাপকাজ থেকে বিরত রেখে বেহেশতে যাওয়ার পথ সুগম করে।

নামাজের মাধ্যমে সব দোয়া আল্লাহ তায়ালার কাছে অনায়াসেই কবুল হয় এবং নামাজের মাধ্যমেই আল্লাহর কাছে সব সাহায্যই মঞ্জুর হয়। ওই বিষয়ে পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ১৫৩ আয়াতে রয়েছে, হে মুমিনগণ! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন’।

রসূল (স.)-এর সন্তানগণ

রাসূলুলস্নাহ (সা.)-এর কয়জন সন্তান ছিলেন এবং বিবি খাদিজার (রা.) কোলে কতজন সন্তান আগমন করেছিলেন এ নিয়ে মতভেদ লক্ষ্য করা যায়। কেউ বলেন, রাসূলুলস্নাহ (সা:) এর সন্তান সংখ্যা ছয় জন। তন্মধ্যে দুইজন পুত্র ও চারজন কন্যা। পুত্রগণ ছিলেন ইব্রাহীম ও কাশেম। কন্যাগণ ছিলেন: জয়নাব, উম্মে কুলসুম, রুকাইয়া ও ফাতেমা। কিন্তু ইবনে ইসহাক বলেন, রাসূলুলস্নাহর তাহের এবং তাইয়্যেব নামক আরো দুইজন পুত্র সন্তান জন্মলাভ করেছিল। ফলে পুত্রসংখ্যা হলো ৪ এবং কন্যার সংখ্যা ৪। সর্বমোট সন্তান সংখ্যা ৮। আবার কেউ কেউ বলেন, রাসূলুলস্নাহর পুত্র সন্তান ছিল চারজন এবং কন্যা সন্তান ছিল আটজন। এতে করে সন্তান সংখ্যা দাঁড়ায় ১২। তবে সকল ঐতিহাসিক এ বিষয়ে একমত যে, বিবি খাদিজার গর্ভের একপুত্র কাশেম এবং চার কন্যা জয়নাব, উম্মে কুলসুম, রুকাইয়া ও ফাতেমার জন্ম হয়। অপর এক বর্ণনায় দেখা যায় যে, বিবি খাদিজার গর্ভে আরো একজন পুত্র সন্তান জন্ম লাভ করেছিল তার নাম ছিল আবদুলস্নাহ। সুতরাং আমরা সবকটি বর্ণনার সূত্র ধরে পর্যায়ক্রমে বিবি খাদিজার গর্ভজাত সন্তানদের ইতিহাস সংক্ষিপ্তভাবে বিবৃত করতে প্রয়াস পাব।
হযরত কাশেম

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সন্তানগণের মাঝে তিনিই সর্বপ্রথম জন্মগ্রহণ করেন। হযরত খাদিজা ও রাসূলুল্লাহর বিয়ের তিন বছরের মধ্যে এবং নবুয়তের ১২ বছর পূর্বে হযরত কাশেমের জন্ম হয়। তার ডাক নাম ছিল তাহের। এই কাশেমের পিতা ছিলেন বলে বিশ্বনবীকে ‘আবুল কাশেম’ অর্থাৎ কাশেমের পিতা বলে সম্বোধন করা হতো। আর নবী করীম (সা.)ও এই নাম খুবই পছন্দ করতেন। সাহাবীগণ যখন নাম ধরে ডাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতেন, তখন রাসূলুলস্নাহ (সা.)কে আবুল কাশেম নামেই ডাকতেন। একদিন বিশ্বনবী কোন এক বাজারে শুনতে পেলেন- কে যেন আবুল কাশেম নাম ধরে ডাকছে। নবী পাক (সা.) ফিরে দাঁড়ালেন এবং লোকটির দিকে জিজ্ঞাসু নেত্রে তাকালেন। ফলে লোকটি লজ্জিত হয়ে নিবেদন করল, আমি আপনাকে ডাকেনি। এই নামের অন্য লোককে ডেকেছি। এরপর হতে অন্যদের পক্ষে এই ডাক নাম ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়।

হযরত কাশেমের বয়স সম্পর্কেও অনেক মতভেদ দেখা যায়।

(১) কাশেম যখন একটু হাঁটতে পারেন অর্থাৎ দেড় থেকে দুই বছর বয়সের, তখন তাঁর মৃতু্য হয়।

(২) মুজাহিদ বলেন- তিনি মাত্র ৭ দিন জীবিত ছিলেন।

(৩) ইবনে সা’আদের মতে, তিনি দু’বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

(৪) ইবনে হারেছ লিখেছেন- হযরত কাশেম জ্ঞান-বুদ্ধি হওয়ার মতো বয়স পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। 

হযরত জয়নাব (রা.)

জীবনচরিত লেখকগণের সর্বসম্মত অভিমত এই যে, কন্যাদের মধ্যে হযরত জয়নাবই ছিলেন সকলের বড়। রাসূলুলস্নাহ (সা.) এর বিয়ের ৫ বছর পরে এবং নবুয়তের দশ বছর পূর্বে হযরত জয়নাব জন্মগ্রহণ করেছিলেন। যুবাইর বিন বাকার বলেন, হযরত জয়নাব হযরত কাশেমেরও আগে জন্মগ্রহণ করেন। এই বর্ণনা মতে, তিনিই ছিলেন রাসূলুলস্নাহ (সা.) এর প্রথম সন্তান। ঐতিহাসিক হিট্টির অভিমতও তাই।

নবুয়ত প্রাপ্তির দশ বছর পূর্বে এবং বিশ্বনবীর তিরিশ বছর বয়সে জয়নাব জন্মগ্রহণ করেন। অতি অল্প বয়সেই জয়নাবের বিয়ে হয়েছিল তার খালাত ভাই আবুল আস ইবনে রবির সাথে। হিজরতের সময় বিশ্বনবী স্বীয় পরিবার-পরিজনদেরকে মক্কাতেই রেখে যান। কিন্তু বদর যুদ্ধে আবুল আস বন্দী হয়ে মদীনায় নীত হয়। তার মুক্তি প্রদানের সময় এই অঙ্গীকার গ্রহণ করা হয়েছিল যে, সে মক্কা প্রত্যাবর্তন করে জয়নাবকে মদীনায় পাঠিয়ে দেবে। অঙ্গীকার মতো আবুল আস মক্কায় প্রত্যাবর্তন করে ভাই কেনানার সাথে হযরত জয়নাবকে মদীনায় রওয়ানা করে দিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে ‘তোয়া’ নামক স্থানে মক্কার কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতকারী তাদের পথ রোধ করে দাঁড়াল এবং হেবার বিন আসওয়াদ বর্শা নিক্ষেপ করে হযরত জয়নাবকে উটের পিঠ হতে মাটিতে ফেলে দিল। জয়নাব ছিলেন গর্ভবতী। তিনি এই আঘাত সহ্য করতে পারলেন না। ফলে তার গর্ভপাত হয়ে গেল। কেন না এই অভাবনীয় ঘটনায় হতচকিত হয়ে পড়ল। মুহূর্তেই সে তীর-ধনুক নিয়ে গর্জে উঠল। হুঁশিয়ার! আর যদি কেউ এদিকে এক কদম অগ্রসর হও তাহলে এই বিষাক্ত তীর তোমাদের বক্ষ ভেদ করে চলে যাবে। দুর্বৃত্ত কমজাত! কাউকে আমি রেহাই দেব না।

এমন সময় পেছন দিক হতে আবু সুফিয়ান এসে সেখানে উপস্থিত হলো। কেনানার সামনে গিয়ে বলল, কেনানা! এত উত্তেজিত হয়ো না। শান্ত হও। আমার কিছু কথা মনোযোগ দিয়ে শোন। তুমি তো অবশ্যই জান, মুহাম্মদ (সা:) এর প্রচারণার ফলে সারা দুনিয়ায় কি এক বিষাক্ত বাতাস ছোবল হানছে? আমরা কত শান্তিতে ছিলাম, কত সুখে ছিলাম, কত আনন্দে ছিলাম কিন্তু মুহাম্মদ (সা:) এখন আমাদের সকল সুখ, সকল শান্তি হরণ করে নিয়ে গেছে। তার জন্য তোমার মনে কি কিছুই উদয় হয় না?

কেন না! তুমি মুহাম্মদের কন্যাকে নিয়ে মদীনায় তাঁরই নিকট পেঁৗছে দিতে যাচ্ছ। ভালো কথা যাও, কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছ যে, এ কাজটি ন্যায় হচ্ছে কিনা? এভাবে মুহাম্মদের (সা:) শক্তিকেই আরো সুদৃঢ় করা হচ্ছে একথা তোমার মতো বুদ্ধিমান যুবককে খুলে বলার দরকার হয় না। জয়নাবকে আটকে রাখা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, তবে তুমি আজকে ফিরে যাও। তোমার উত্তেজনা প্রশমিত হলে ধীরে-সুস্থে তাকে মদীনায় পেঁৗছে দিও।

কেন না আবু সুফিয়ানের যুক্তির কাছে হেরে গেল এবং সেদিনের মতো মদীনায় যাত্রা বন্ধ করে প্রত্যাবর্তন করল। এর কয়েকদিন পর রাতের অন্ধকারে জয়নাবকে নিয়ে মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো। অপরদিকে বিশ্বনবী (সা:) আদরের দুলালী জয়নাবকে নিয়ে যাওয়ার জন্য যায়েদ বিন হারেছাকে মক্কা অভিমুখে পাঠিয়েছিলেন। পথিমধ্যে যায়েদের সঙ্গে কেনানার দেখা হয়। কেনানা জয়নাবকে যায়েদের নিকট তুলে দিয়ে মক্কায় প্রত্যাবর্তন করল। এভাবে জয়নাব বিশ্বনবীর নিকট পেঁৗছে গেলেন।

হযরত জয়নাবের স্বামী আবুল আস বিন রবী ছিল মুশরিক। কিন্তু জয়নাব ছিলেন ঈমানদার। তাই আবুল আসকে ছেড়ে আসতে জয়নাব বাধ্য হয়েছিলেন। অপর এক যুদ্ধে আবুল আস বন্দি হয়ে দ্বিতীয়বার মদীনায় নীত হয়। এবারও জয়নাব তাকে মুক্তি লাভের যাবতীয় ব্যবস্থা করে দিলেন। ফলে তাঁর মনের পরিবর্তন ঘটল। তিনি মক্কা গমন করে যাবতীয় লেনদেন শোধ করলেন এবং সকল আমানত হকদারদের নিকট বুঝিয়ে দিলেন এবং ইসলাম কবুল করে মদীনায় চলে আসলেন।

আবুল আস মুশরিক হওয়ার দরুন জয়নাবের সাথে তাঁর ছাড়াছাড়ি হয়েছিল। কিন্তু এবার সে ইসলাম কবুল করাতে তাঁর এবং জয়নাবের নতুন করে বিবাহ পড়ানো হলো।

অন্ধ মুরগিরা ডিম পাড়ে বেশি!

যেসব হাঁস-মুরগি চোখে দেখতে পায় না তারা নাকি বেশি ডিম পাড়ে। বিজ্ঞানীরা কিন্তু এমন কথাই বলছেন। হাঁস-মুরগির খামার করছেন কিংবা খামার করার কথা ভাবছেন? তাহলে আপনার খামারের কোনো মুরগি যদি অন্ধ হয় সে বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে না দেখে ইতিবাচকভাবেই দেখুন। কেননা গবেষকদের কথায়, প্রাকৃতিকভাবে দৃষ্টিশক্তিহীন মুরগিরা অন্য মুরগি, অর্থাত্ যারা চোখে দেখতে পায়, তাদের চেয়ে বেশি ডিম পাড়ে।
ভারতের ব্যাঙ্গালোরের প্রাণীপুষ্টি ও জীবনধারা বিষয়ক সংস্থা ‘এনআইএনপি’ এই গবেষণাটি চালিয়েছে। তারা দেখেছেন, স্মোকি জোয়েস নামের বংশানুক্রমিকভাবে অন্ধ, সাদা লেগোন মুরগিগুলো সাধারণ মুরগিদের চেয়ে তুলনামূলক বেশি ডিম পাড়ে। আর সেটা হয়, অন্যান্য মুরগির থেকে অনেক কম বয়সে। শোনা যায়, ২০০৮ সালে এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করা শেষ করেন তারা। কিন্তু আলো কীভাবে ডিম পাড়াকে প্রভাবিত করে, তা বোঝার জন্য মাস কয়েক আগে আবারও গবেষণা শুরু করতে হয় তাদের। আর তারই ফলাফল বেরিয়ে আসে এবছরের জুলাই মাসে।

‘এনআইএনপি’র তিনজন গবেষক আইজে রেড্ডি, জি রবি কিরণ এবং এস মণ্ডল এই গবেষণাটি চালান। ওই গবেষণায় বলা হয় আলো কীভাবে ডিম পাড়ার ক্ষেত্রে পরিবর্তন নিয়ে আসে।

গবেষণায় দেখা যায়, সাধারণত হাঁস-মুরগির খামারে যে ধরনের সাদা বাতি বা আলো ব্যবহার করা হয়, বাড়িতে পালন করা মুরগিদের একই ধরনের আলোর নিচে রেখে দেখা গেছে, এরা ৫২ সপ্তাহে প্রায় ৩০০টি ডিম পাড়ে। কিন্তু একই সময়ে এসব মুরগিকেই যদি লাল আলোকরশ্মি ও নীল আলোকরশ্মি দেয়া হয়, তাহলে এরা ৫ শতাংশ এবং ৩ শতাংশ হারে বেশি ডিম পাড়ে।

প্রাথমিক পর্যায়ে পাওয়া এই বিষয়গুলো প্রমাণ করার জন্য বিজ্ঞানীরা এরই মধ্যে দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছেন। এক বছরের মধ্যেই এটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপর গবেষণার ফলাফল ‘এনআইএনপি’র মাধ্যমে পাঠানো হবে কৃষি মন্ত্রণালয়ে। আর এই গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল খামারিদের সাহায্য করবে বলে আশা করছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, আলোকরশ্মির বিষয়টি ব্যবহার করে খামারের মুরগিগুলোর কাছ থেকে আরও বেশি ডিম পাওয়া যেতে পারে।

সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন

ভালোভাবে বেঁচে থাকতে হলে অবশ্যই সুস্থ থাকতে হবে। আর সুস্থ থাকার জন্য যা দরকার তা মেনে চলার চেষ্টা করতেই হবে। জীবনে অসুখ-বিসুখ আছে এবং থাকবেই। একে মোকাবেলা করার জন্য আপনাকে স্বাস্থ্যসম্মত, ধর্মীয় অনুভূতির ভিত্তিতে নিষ্কলুষ জীবনযাপন করতে হবে।

সুস্থ থাকার জন্য কিছু পরামর্শ হলো

অধিক রাত জাগবেন না। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠুন। নামাজ পড়ুন বা ধর্মীয় আচার-আচরণ শেষ করে অন্তত ৪৫ মিনিট হাঁটুন বা অন্য কোনো ব্যায়াম যা করতে ভালো লাগে তা নিয়মিত করুন। সকালে নির্মল বায়ু সেবন করুন। শরীরে অক্সিজেন পাবেন। সারাদিন ভালো লাগবে।

বয়স ৪০ পার হলে চর্বি ও কোলেস্টেরল জাতীয় খাবার এড়িয়ে প্রচুর শাক-সবজি, ডায়েটরি খাবার ও ফলমূল খাবেন। এতে কোলেস্টেরল থাকবে না। রান্নায় রসুনের ব্যবহার বাড়িয়ে দিন। রসুন নিম্ন ঘনত্বের কোলেস্টেরল কমায়, যা দেহের জন্য উপকারী। উচ্চ ঘনত্বের কোলেস্টেরল দেহের জন্য অপকারী। কোলেস্টেরল হৃদরোগ তথা হার্ট অ্যাটাকের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। মাঝে মধ্যে লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করিয়ে শারীরিক অবস্থা জেনে নিন।
খাবার সময় কাঁচা লবণ খাবেন না। এর সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের একটি সম্পর্ক আছে। শুধু লবণ নয়, বাজারে প্রচলিত নোনতা খাবার, নোনতা চিপস, বিস্কুট ইত্যকার নোনতা খাবার এড়িয়ে চললে কিডনিও ভালো থাকবে। লবণ কম খেলে জিভে আরও নানা ধরনের স্বাদ পেতে চাইবে।

নানা জাতের মৌসুমী ফলসহ যে রস খেলে খনিজ পটাসিয়াম পাওয়া যায় তা খান প্রতিদিন। খনিজ ও পটাসিয়াম সমৃদ্ধ ফল অবশ্যই খাবেন। পেশি সংকোচনে এর উপযোগিতা রয়েছে।
খাদ্য হতে হবে প্রচুর ক্যালসিয়ামযুক্ত। চাপের সময় এই খনিজ ক্ষয় হয়। তাই দু’ গ্লাস ননী তোলা দুধ পান করার অভ্যাস করুন।

নিয়মিত খাবেন ভিটামিন সি, শরীরের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টক জাতীয় ফলে ভিটামিন সি পাবেন। সবচেয়ে বেশি পাবেন আমলকী আর পেয়ারাতে। খাবারের সঙ্গে লেবু খাবেন। উপকার পাবেন। ভিটামিন সি আপনার যৌবন ধরে রাখবে, বার্ধক্য দূরে ঠেলে দেবে। আপনার শরীরের ফ্যাট ভাঙবে। মাঢ়ি থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করবে। সর্দি-কাশি সহজে চলে যাবে। প্রচুর পানি পান করবেন, তবে খাওয়ার সময় নয়। পানি পান করবেন খাওয়ার ঠিক ১ ঘণ্টা পরে। দেখবেন এসিডিটি ভালো হয়ে গেছে শতকরা ৯০ ভাগ। তারপর দিনে অন্তত ১০ গ্লাস। হোটেল, রেস্টুরেন্ট বা রাস্তায় একদমই পানি খাবেন না। নিজের ব্যাগে যদি সম্ভব হয় তাহলে টিউবওয়েল কিংবা ফুটানো পানি রাখাই ভালো। না হলে ডাবের পানি। তাতে রয়েছে গ্লুেকাজসহ নানা উপাদান যা বিশুদ্ধতার দিক থেকে শতভাগ নিশ্চয়তা। হোটেল-রেস্তোরাঁয় যদি একান্তই পানি খেতে হয় তাহলে পানিতে ক্লোরিন ট্যাবলেট মিশিয়ে নিন।
চা-কফি খাবেন কম। দু’টোতেই ক্যাফিন আছে। পানিতে চা পাতা ছেড়ে বেশি সময় জ্বাল দেবেন না। টি-ব্যাগ হোক বা চা পাতা হোক, কাপে ছেড়ে অল্প সময় পর চা বানিয়ে ফেলতে হবে। অধিকক্ষণ ফুটন্ত চা ক্ষতিকর। অম্বলের দোষ থাকলে এড়িয়ে চলাই ভালো।
বিড়ি, সিগারেট, তামাক, দোক্তা, গুল, মতিহার তথা ধূমপান বা তামাক পাতা চেবানো থেকে একেবারে বিরত থাকুন। এসবে ক্যান্সারের ভয় থাকে।

অধিক সূর্যালোক এড়িয়ে চলুন। ত্বক ক্যান্সারের হাত থেকে বাঁচান। প্রোটিন খাবেন শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য মাত্র এক গ্রাম। অর্থাত্ আপনার ওজন ৬০ কেজি হলে প্রোটিন খাবেন ৬০ গ্রাম। তা একবারে হোক আর বারে বারে হোক। ৬০ গ্রাম প্রোটিন হচ্ছে ছোট্ট ২ টুকরা মাংস। বড়জোর ২৫০ গ্রাম ওজনের একটি মুরগির রান।

%d bloggers like this: