শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশ্বকাপ উপহার দেবে কাতার

 

বিশ্বকাপ আয়োজকদের দৌড়ে ইংল্যান্ড, যুক্তরাজ্যেরের মতো দেশকে পেছনে ফেলে ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের অনুমতি পেয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার। ফিফার অনুমতি পেলেও কাতারের উষ্ণ আবহাওয়া বিশ্বকাপের জন্য উপযোগী নয়, এমন সমালোচনার জবাবে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরোপুরি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাতেই বিশ্বকাপ আয়োজন করতে প্রস্তুতি দেশটি।

গ্রীষ্মে কাতারের তাপমাত্রা পৌঁছায় ৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডেরও বেশি। তবে কাতার সোলার পাওয়ার ব্যবহার করে পুরো স্টেডিয়াম শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনবে বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়। তবে এ বছরের নভেম্বরে ফিফার পরামর্শক দল আশঙ্কা করেছিল, কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজন করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাবে। কিন্তু কাতার নতুন ৯টি এয়ারকন্ডিশন্ড ওপেন এয়ার স্টেডিয়াম তৈরির ঘোষণা দেয়ায় সে শঙ্কা কেটে গেছে। স্টেডিয়ামের বাইরে এবং ছাদে বসানো সোলার প্যানেল থেকে যে শক্তি উত্পন্ন হবে তা দিয়েই পুরো স্টেডিয়াম শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত থাকবে বলে জানা গেছে। এই পদ্ধতিতে স্টেডিয়ামে সব সময় ২৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা বজায় থাকবে। এছাড়াও স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে আসা দর্শকরা সব সময় ১৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা উপভোগ করতে পারবেন।

কুমড়া খান দীর্ঘজীবী হোন


শাকসবজির উপকারিতার কথা সবাই জানেন। তারপরও বাড়িতে ছেলেমেয়েরা শাকসবজি খেতে চায় না। বিশেষ করে কুমড়ার প্রতি বয়স্কদেরও কমবেশি অনীহা দেখা যায়। কিন্তু কুমড়া যে দীর্ঘ জীবনের জন্য সহায়ক সে কথাটি জানলে এই অনীহা থাকত না।
অতি সম্প্রতি মার্কিন গবেষকরা প্রমাণ পেয়েছেন কুমড়া নিয়মিত খেলে দীর্ঘজীবী হওয়া যাবে। এই রহস্যের পিছনে রয়েছে আলফা ক্যারোটিন নামের একটি উপাদান। সাধারণত হলুদ কমলা রঙের ফলমূল ও সবজিতে এই উপাদান প্রচুর থাকে।

এদের মধ্যে অন্যতম হলো কুমড়া। এতদিন আমরা একটি পরিচিত উপাদান বিটা ক্যারোটিনের উপকারিতার কথা জেনে আসছি।ক্যান্সার প্রতিরোধ ও হৃদরোগ নিরাময়ে বিটা ক্যারোটিনের কথা বলা হয়। কিন্তু সম্প্রতি আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে বিটা ক্যারোটিনযুক্ত ওষুধ ক্যান্সার প্রতিরোধ নয়, বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বরং আলফা ক্যারোটিনই এখন উপকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এতদিন এই রাসায়নিক উপাদানটি সম্পর্কে গবেষকরা খুব একটা মাথা ঘামাননি। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের একদল গবেষক ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ১৬ হাজার মার্কিন নাগরিকের খাদ্যাভ্যাস এবং পুষ্টি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে দেখতে পান, যাদের রক্তে আলফা ক্যারোটিনের পরিমাণ বেশি তারা অন্যদের চেয়ে বেশি দিন বেঁচেছে। যারা বেশি দিন বেেচছে তাদের খাদ্যাভ্যাস পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তারা কুমড়া, গাজর, স্কোয়াশ ইত্যাদি হলুদ কমলা রঙের সবজি বেশি খেয়েছেন।

গবেষকদের মতে, ফলমূল বেশি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু অবহেলিত সবজি কুমড়া যে দীর্ঘ জীবনের সহায়ক উপাদান বহন করছে তা এতদিন জানতাম না। তারা খাদ্য তালিকায় যথাসম্ভব কুমড়া, গাজর, কমলা ইত্যাদি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। বেঁচে থাক কুমড়া।

জমজমের ইতিকথা

মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনের মধ্যে তাঁর কুদরতের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। রাসুলে করীম (সা.)-এর হাদিসের মধ্যেও রয়েছে মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীনের কুদরতের বর্ণনা।

আল্লাহর এমনই একটি কুদরত ঐতিহাসিক জমজম কূপের পানি হলো আল্লাহর কুদরতি পানি। এই পানি সম্পর্কে বর্ণিত আছে, যে কেউ যে কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে এই পানি পান করলে আল্লাহ পাক তাঁর উদ্দেশ্যকে পূর্ণ করে দেবেন। এমনকি অসুস্থ ব্যক্তিকে এই পানি পান করালে সে সুস্থতা লাভ করবে। রাসুল করীম (সা.) নিজেই এই জমজমের পানি পান করেছেন এবং এর প্রতি উত্সাহ প্রদানও করেছেন।

এ কূপটি আল্লাহপাকের এক মহান কুদরতে গড়ে উঠেছিল ইব্রাহীম (আ.) যখন হজরত সারার পরামর্শক্রমে স্ত্রী হাজেরা ও পুত্র ইসমাইলকে নিয়ে শাম থেকে রওনা করে মরু সাহারা পাহাড়-পর্বত পাড়ি দিয়ে মক্কার শুষ্ক জনমানবশূন্য পাথরের উপত্যকায় এসে পৌঁছেন। জনমানবশূন্য এ এলাকার সঙ্গে তাদের নেই কোনো পূর্ব পরিচিত। ছিল না তাতে আগে থেকে আসা-যাওয়ার কোনো যুগসূত্র। বাহ্যত স্ত্রী-পত্রের আশা-ভরসার একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু হলেন হজরত ইব্রাহীম (আ.)। কিন্তু মহান প্রভু আল্লাহ পাক ইচ্ছা করলে কি না পারেন। তাঁর পক্ষে তো এই জনমানবশূন্য এলাকায় একজন মহিলা ও শিশুকে অভিভাবক ছাড়া স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে প্রতিপালন করা আদৌ কঠিন বা অকল্পনীয় নয়। তাইতো আল্লাহ পাক তাঁদের ক্ষেত্রে তাঁর কুদরতের প্রকাশ ঘটালেন। নিজ দায়িত্বে খাদ্যসামগ্রীহীন জনমানবশূন্য এলাকায় পানাহারের ব্যবস্থা করে দিলেন।

হজরত ইব্রাহীম (আ.) এমন একটি উপত্যকায় স্ত্রী হাজেরা ও পুত্র ইসমাইল (আ.) রেখে বললেন, তোমরা এখানে থাক, আমি এবার চললাম। অবাক কণ্ঠে স্ত্রী প্রশ্ন করলেন, এ জনমানবশূন্য পাহাড় এলাকায় অবুঝ এই দুধের শিশুটিকে নিয়ে আমি কীভাবে থাকব? উত্তরে ইব্রাহীম (আ.) বললেন! আল্লাহ পাক তোমাদের সঙ্গে আছেন। স্ত্রী হাজেরা প্রশ্ন করলেন, একি মহান আল্লাহর হুকুম? হজরত ইব্রাহীম (আ.) উত্তর দিলেন। হ্যাঁ, অবশ্যই তা আল্লাহর হুকুম। এ কথা শুনে স্ত্রী হাজেরা মহান প্রভুর প্রতি ভরসা করে বিদায় জানালেন প্রাণপ্রিয় স্বামীকে। স্বামীকে বিদায়ান্তে সঙ্গে থাকা খাবার অল্প দিনেই ফুরিয়ে গেল। চিন্তিত হয়ে পড়লেন তাঁর এবং শিশু ইসমাইলের ভবিষ্যেক নিয়ে। কে হবে তাঁদের আগামী দিনগুলোয় আত্মরক্ষার মাধ্যমে? কী খেয়ে শিশুপুত্র ইসমাইল এবং তাঁর জীবন বাঁচবে? এমন-ই এক মুহূর্তে পানির তৃষ্ণায় কাতর হয়ে উঠলেন শিশুপুত্র ইসমাইল। শিশুর এমন অবস্থা দেখে মা হাজেরা নিরুপায় হয়ে দৌড়াতে লাগলেন নিকটবর্তী পাহাড়ের দিকে। পাহাড়ের ওপরে উঠলেন। কিন্তু পানির তো কোনো সন্ধান পেলেন না। দূর মারওয়া পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে সেখানে পানির মতো কী জানি দেখতে পেলেন। গেলেন সেখানে, কিন্তু গিয়ে দেখলেন পানির কোনো চিহ্নই নেই। আবার সাফা পাহাড়ের দিকে তাকাতেই পানির মতো দেখতে পেলেন। সঙ্গে সঙ্গে গেলেন। আবারও আগের মতো হলো। পানির কোনো চিহ্নই দেখতে পেলেন না। এরূপ করে সাফা-মারওয়াতে সাতবার দৌড়ালেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পানি না পেয়ে পানির জন্য আল্লাহর কাছে কামনা করতে করতে প্রাণাধিক প্রিয়পুত্রের অবস্থা দেখার জন্য ছুটে এলেন। কুটিরে এসে ছেলেকে দেখতে না পেয়ে হৃদয় কেঁপে উঠল তাঁর। ভাবলেন তাহলে কোথায় আমার ইসমাইল? বাইরের দিকে তাকাতেই দেখলেন, ওই যে দেখা যায় তাঁর আদরের শিশু ইসমাইল হাত-পা নেড়ে নীরবে খেলা করছে। দৌড়ে কাছে গিয়েই অবাক হয়ে গেলেন। মহান আল্লাহর একি কুদরতের বহিঃপ্রকাশ। পাথর ভেত করে একটি ঝরনা দিয়ে পানি ওপরে উঠে আছে। যা হলো একদম স্বচ্ছ-নির্মল এবং সুশীতল। হজরত হাজেরা (আ.) নিজেও পানি পান করলেন এবং শিশু ইসমাইলকেও পান করালেন। যার ফলে প্রচণ্ড ক্ষুধা-তৃষ্ণা ও উত্কণ্ঠা নিমিষেই দূর হয়ে গেল। আল্লাহ্র কৃতজ্ঞতা আদায় করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন হজরত হাজেরা। মহান প্রভুর প্রশংসায় মেতে উঠলেন তিনি। এ যেন আল্লাহ তাঁদের সঙ্গে সরাসরি তাঁর কুদরতের বহিঃপ্রকাশ। জমজমের পানি এ যেন পানি নয়, বরং তা আল্লাহ পাক কর্তৃক তাঁর প্রিয় বান্দাকে কেন্দ্র করে প্রবাহিত তাঁরই কুদরতের একটি ঝরনাধারা।

মেদ ভুঁড়ি প্রতিরোধে করণীয়

অতিরিক্ত চর্বি জমে আমাদের শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে শতকরা দশভাগ বেড়ে গেলে তাকে আমরা মুটিয়ে যাওয়া বলে থাকি। সাধারণত, মাঝ বয়সে পৌঁছানোর পরপরই শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমা শুরু হয়। তবে কিছু কিছু কারণে যে কোনো বয়সেই একজন মানুষ মুটিয়ে যেতে পারে। প্রয়োজনের তুলনায় অধিক পরিমাণে খাদ্য গ্রহণ এবং কম শারীরিক পরিশ্রমই এর প্রধান কারণ। এছাড়া কিছু হরমোন জাতীয় রোগ, পারিবারিক প্রবণতা এবং কোনো কোনো ওষুধও এর জন্য দায়ী। মহিলাদের মধ্যে মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা পুরুষদের চেয়ে বেশি। উন্নত বিশ্বের বয়স্কদের মধ্যে শতকরা ২০ থেকে ৪০ ভাগ এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে শতকরা ১০ থেকে ২০ ভাগ মুটিয়ে যাওয়া সমস্যায় আক্রান্ত। আমাদের দারিদ্র্যপীড়িত বাংলাদেশের কোটি কোটি ভগ্নস্বাস্থ্য মানুষের পাশাপাশি কারও কারও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে অতিরিক্ত ওজন কিংবা মেদভুঁড়ি।
মানসিক দুশ্চিন্তা ছাড়াও মোটা মানুষের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, পিত্তথলির পাথর, অস্টিওআর্থাইটিস, বন্ধ্যত্ব, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়া বা স্লিপ এপনিয়া, ভেরিকস ভেইন, হার্নিয়া প্রভৃতি রোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এসব মারাত্মক রোগের ঝুঁকি থেকে মুক্ত হতে আপনার অস্বস্তিকর মেদভুঁড়ি কমিয়ে

সুন্দর-সুঠাম শরীরের অধিকারী হওয়ার জন্য নিচের টিপসগুলো মেনে চলা প্রয়োজন :

১. তিনটি বিষয়কে বিবেচনায় আনুন : পরিমিত খাদ্য গ্রহণ, অধিক মাত্রায় শারীরিক পরিশ্রম এবং লাইফ স্টাইল বা জীবন যাত্রা ও আচরণের পরিবর্তন।

২. আপনার ওজন কমানোর ইচ্ছাটাকে দৃঢ়ভাবে মনে-প্রাণে ধারণ করুন।

৩. আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত সুষম খাবার গ্রহণ করুন।

৪. অতিরিক্ত লবণ, মিষ্টি ও চর্বি জাতীয় খাবার যথাসম্ভব পরিহার করুন। প্রতিদিন কিছু পরিমাণ শাক-সবজি ও ফলমূল খান।

৫. ফাস্ট-ফুড এবং কোল্ড-ড্রিঙ্কস্ পরিহার করুন। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করুন।

৬. বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে পরিবেশিত রিচ ফুড যথাসম্ভব পরিহার করুন।
৭. মেদভুঁড়ি কমানোর চমত্কার একটি উপায় হচ্ছে হাঁটা। তাই কম দূরত্বের জায়গাগুলোতে হেঁটে চলাচল করুন।

৮. লিফেটর বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।

৯. একটানা অধিক সময় বসে কাজ করবেন না। কাজের ফাঁকে উঠে দাঁড়ান। একটু পায়চারি করুন।

১০. অলসতা দূর করতে সংসারের টুকিটাকি কাজ নিজেই করুন। সুযোগ থাকলে বাগান করুন, খেলাধুলা করুন। সাঁতার কাটুন।

১১. সপ্তাহে তিন/চার দিন কিছু সময় ফ্রি-হ্যান্ড (যন্ত্র ছাড়া) ব্যায়াম করুন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী আপনার উপযুক্ত ব্যায়াম নির্বাচন করুন। কারণ, সব ব্যায়াম সবার জন্য উপযুক্ত নয়। ব্যায়াম করছেন এ ধারণা মাথায় রেখে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করবেন না।

১২. কোমড়ে চওড়া বেল্ট ব্যবহার করতে পারেন। এতে মেদ দ্রুত বাড়তে পারবে না।
১৩. ওজন কমে স্বাভাবিক হয়ে আসলেও আগে উল্লিখিত অভ্যাসগুলোকে ধরে রাখতে হবে। তা না পারলে পুনরায় ওজন বেড়ে যাবে।

১৪. নিজে নিজে শুধু ওষুধ সেবন করে ওজন কমাতে যাবেন না। ওষুধ ব্যবহার করতে চাইলে তা অবশ্যই করতে হবে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শমত। ওষুধের পাশাপাশি আগে বর্ণিত টিপসগুলো মেনে চলতে হবে।

১৫. প্রচলিত বিজ্ঞাপনের চমকে আকৃষ্ট হয়ে দ্রুত চিকন হওয়ার ওষুধ বা যন্ত্র ব্যবহার করতে যাবেন না। এতে আপনার অমঙ্গলের আশঙ্কাই বেশি।

১৬. প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শমত আপনার মুটিয়ে যাওয়ার মাত্রা নির্ণয় করে বয়সানুসারে সুষম খাদ্যের তালিকা তৈরি করুন এবং তার বিজ্ঞানসম্মত নির্দেশনা মেনে চলুন।

ঘুষ ও দুর্নীতি দমনে মহানবী (স.) প্রণীত পদক্ষেপসমূহ

ঘুষ ও দুর্নীতি দমনে মহানবী (স.) প্রণীত পদক্ষেপসমূহ


তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ গ্রাস করোনা এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কিছু অংশ জেনে শুনে অন্যায় পন্থায় আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে শাসনকর্তা বা বিচারকদের হাতে উৎকোচ (ঘুষ) তুলে দিওনা (সুরা বাকারা-১৮৮ আয়াত)। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন এখানে ঘুষের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এবং বিচারকদের হাতে ঘুষ দিয়ে রায় নিজের পক্ষে নিতেও বারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বিষয়টি যেন হালাল হিসেবে পরিলক্ষিত হয়ে আসছে। কারণ সরকারী-বেসরকারী প্রায় সকল অফিসেই ঘুষের বিনিময়েই বেশির ভাগ কাজ সুরাহা করা হয়। ঘুষের অংক যত বেশি হয় ফাইল ততো দ্রুতগতিতে দেঁৗড়াতে শুরু করে। আর ঘুষ ছাড়া কোন ফাইলই যেন নড়াচড়া করে না। সমাজের অসহায় এবং ক্ষমতাহীন মানুষেরা তাদের হূত অধিকার কিংবা অন্যের অধিকারকে করায়ত্ব করার লক্ষ্যে ধূর্ত দুনর্ীতিপরায়ণ কর্তা বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে অবৈধ অর্থ কিংবা পণ্যসামগ্রী পর্দার অন্তরালে প্রদান করে স্বার্থ হাছিল করার নিমিত্তে উৎকোচ প্রদান করে থাকে। যা মানব বিধ্বংসী গুরুতর অপরাধ। এর মাধ্যমে হাক্কুল ইবাদ বান্দার হক বা অধিকারও ক্ষুণ্ন হয়। যে অপরাধ ক্ষমা করা না করার বিষয়টি স্বয়ং আল্লাহতায়ালা বান্দার হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। বান্দা ক্ষমা না করলে আলস্নাহতায়ালা এই অপরাধ কখনোই ক্ষমা করবেন না।

ঘুষ গ্রহণ করা নিন্দনীয় ও গুনাহের কাজ বলে রসুল (সঃ) তার হাদীসেও উলেস্নখ করেছেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত রসুল (সঃ) বলেন, ঘুষ দাতা ও ঘুষ গ্রহীতা উভয়ই জাহান্নামে যাবে (তাবারাণী)। হযরত ইবনে ওমর (রা.) বর্ণিত অন্য হাদীসে আছে যে ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহীতা উভয়কেই রসুল (সঃ) লানত করেছেন (আবু দাউদ)। হযরত ছাওবান (রা.) হতে বর্ণিত আছে যে, রসুল (সঃ) ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা এবং ঘুষের দালাল সকলের উপর লানত করেছেন (আহমদ তাবারাণী)। এই পৃথিবীতে মান-মর্যাদা ও সম্মান-প্রতিপত্তির অধিকারী হওয়ার মাঝেই সার্থকতা রয়েছে। বিত্ত-বৈভবের প্রাচুর্য-এর তুলনায় মানুষ মান-সম্মান অর্জনের জন্যই দেদারছে সম্পদ ব্যয় করে। অন্য বিষয়ে ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা থাকলেও এই খাতে তার ব্যয়ের সীমা পরিসীমা থাকে না। সম্পদের একটা উলেস্নখযোগ্য অংশ মানুষ তার মান-সম্মান ও প্রভাব-প্রতিপত্তি অর্জনের পিছনে ব্যয় করে থাকে। মানব জীবনের প্রকৃত সার্থকতা হলো মান-মর্যাদা অর্জন।

আর এর মোকাবেলায় অর্থ-বিত্ত একেবারেই মূল্যহীন বস্তু। তাই যখন কেউ ঘুষ গ্রহণ করে তখন তার মানসম্মান ধুলোয় মিশে যায়। ঘুষ গ্রহীতা দুর্নীতিবাজগণ গভীরভাবে ভেবে দেখুন যে, এটা আপনাদের আত্মমর্যাদা বিনাশের এক বিরাট আত্মঘাতী পদক্ষেপ এবং বংশ মর্যাদার জন্য এক অশুভ লক্ষণ। আলস্নাহ্র ভয়ে মানুষ যে কোন ধরনের অন্যায় কাজ হতে দূরে থাকে। কিন্তু ঘুষ-মানুষের অন্তর থেকে আল্লাহ্ভীতি দূর করে দেয়। ঘুষের কারণে মানবিক আচরণ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুহূর্তেই মানুষ অমানুষে পরিণত হয়। পরম সহিষ্ণুতার, অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা, সততা, কর্তব্য নিষ্ঠা, লজ্জাশীলতা, ন্যায়পরায়ণতা, অন্যায় প্রতিরোধের স্পৃহা এবং আত্মসম্মানবোধের মতো মানবিক সুকুমার বৃত্তিগুলি ঘুষের প্রভাবে মানুষ হারিয়ে ফেলে। ঘুষ কুরআন হাদীস স্বীকৃত নিষিদ্ধ বিষয়। সুরা বাকারার ১৬৮ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মানবজাতি। জমিনের মধ্যে যা কিছু রয়েছে, তা থেকে তোমরা হালাল ও পবিত্র বস্তুসমূহ খাও। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করোনা, কেন না সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। অনুরূপভাবে সুরা নাহলে বলা হয়েছে তোমাদেরকে আল্লাহ তায়ালা যে পবিত্র ও হালাল রুজি দান করেছেন তা থেকে তোমরা খাও এবং আলস্নাহর নেয়ামতসমূহের শুকরিয়া আদায় করো, যদি তোমরা তাঁরই উপাসক হয়ে থাকো। পৃথিবীতে জীবন পরিচালনা করতে অর্থের প্রয়োজনীয়তা এবং অপরিহার্যতা সম্পর্কে যেমন সবাই একমত, তেমনি অর্থ-সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রেও ভাল ও মন্দ তথা বৈধ-অবৈধ দু’টি ব্যবস্থার ব্যাপারেও দুনিয়ার সবাই একমত। দুনিয়ার সবাই মন্দ বলে মনে করে থাকে চুরি, ডাকাতি, ধোকা, ঘুষ, জুয়া প্রভৃতি কাজকে। এই পন্থাগুলোর মধ্যে বৈধ ও অবৈধ নির্ধারণের কোনো মানদণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে নেই। এ বিষয়গুলো নির্ধারণ করেছেন স্বয়ং আলস্নাহতায়ালা ও তাঁর প্রিয় হাবিব হযরত মুহাম্মদ (সঃ) যা দেশ-কাল ও গোত্র গোষ্ঠী নির্বিশেষে সকলের নিকটই সমভাবে গ্রহণযোগ্য এবং শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মূলতঃ ঘুষ হারাম করার পিছনে কারণ হলো এই যে, এতে জনসাধারণের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়ে থাকে। এর ফলে কতিপয় ব্যক্তি ফুলে ফেপে বড় লোক বনে যায় আর বৃহত্তর অংশ দারিদ্র্য কবলিত হয়ে পড়ে। ঘুষ চার প্রকার (১) ক্ষমতাসীন হওয়ার জন্য নেতৃত্ব ও পদবী লাভের জন্য, নিজের সপক্ষে রায় দেয়ার জন্য উচ্চ পর্যায়ের বা নিম্ন পর্যায়ের লোকদেরকে যা দেয়া হয় তা ঘুষ (২) ন্যায়কে অন্যায় ও অন্যায়কে ন্যায় বানানোর জন্যে যা ব্যয় করা হয় তাও ঘুষ। উক্ত দুই প্রকারের ঘুষদাতা, ঘুষখোর ও ঘুষের দালাল রসুল (সঃ) এর হাদীস অনুযায়ী অভিশাপ প্রাপ্ত ও জাহান্নামী (৩) নিজের প্রকৃত হক উদ্ধারের জন্য কর্মকর্তা বা তার নিকট সুপারিশকারীকে কিছু দেয়া। (৪) কোন অত্যাচারী জালিম ব্যক্তি হতে বা তার জুলুম থেকে নিজের এবং পরিবার পরিজনের জান-মাল, ইজ্জত-আব্রু রক্ষার সম্ভব হচ্ছে না। সেই ক্ষেত্রে অসহায় ও নিরুপায় অবস্থায় ঘুষ দেয়ার বিষয়ে কিছুটা অবকাশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু গ্রহীতার ক্ষেত্রে সকল অবস্থায় ঘুষ নেয়া হারাম এবং হাদীসের ভাষায় সে অভিষপ্ত ও জাহান্নামী। হযরত আবু উমামা (রা.) হতে বর্ণিত। রসুল (সঃ) বলেন, যে ব্যক্তি কারো জন্য কোনো সুপারিশ করলো আর এজন্য সুপারিশ প্রাপ্ত ব্যক্তি তাকে কোনো হাদিয়া দিল এবং সে তা গ্রহণ করলো তবে নিঃসন্দেহে সে ঘুষের দরজাসমূহের মধ্য হতে একটি বড় দরজা দিয়ে প্রবেশ করলো (আবু দাউদ) আমাদের সমাজে যারা পৈত্রিক সূত্রে মুসলমান তারা এ সমস্ত বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে না। যার ফলে এ সমস্ত অন্যায়গুলো সমাজ জীবন হতে নিমর্ূল হয় না। রসুল (সঃ) এর অন্য একটি হাদীসে আরো পরিষ্কার করে বলা হয়েছে যে, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য কি কারণে সৃষ্টি হয় হযরত আমর
বনে আস (রা.) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি রসুল (সঃ) কে বলতে শুনেছি, যে সমাজে যেনা-ব্যভিচার সুদ-ঘুষ, দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে অথচ এর কোন বিচার হয় না। সেই সমাজ দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে নিপতিত না হয়ে পারে না। আর যে সমাজে ঘুষের কারবার ছড়িয়ে পড়ে সে সমাজে ভীতি ও সন্ত্রাস সৃষ্টি না হয়ে পারে না (মুসনাদে আহমদ) এই হাদীস থেকে সন্ত্রাস সৃষ্টির কারণ ও মূল উৎস কোথায় তা জানা সহজ হলো।

অন্য একটি হাদীসে বলা হয়েছে কোন কাজ উদ্ধার করার জন্য যা কিছু দেয়া হয় তা সবই ঘুষের পর্যায়ে পড়ে। যেমন হযরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রসুল (সঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন কাউকে ঋণ দেয় আর ঋণ গ্রহীতা যদি তাকে কোন হাদীয়া দেয় কিংবা তার যানবাহনে বিনা ভাড়ায় চড়তে বলে তখন যেন সে তার হাদিয়া বা উপটৌকন গ্রহণ না করে এবং বিনা ভাড়ায় তার যানবাহনেও না চড়ে। অবশ্য পূর্ব থেকেই যদি তাদের উভয়ের মধ্যে এরূপ লেন-দেনের ধারা চলে আসে তবে তা ভিন্ন কথা (ইবনে মাজাহ) সুতরাং যারা মুসলিম বলে দাবি করেন ও ইসলামী অনুশাসনে নিজেদের জীবনকে ঢেলে সাজাতে চায় তারা অবশ্যই এ সমস্ত সামান্য ব্যাপারেও সতকর্তা অবলম্বন করবে। তা নাহলে সব আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে ও তার পরিণতি হবে খুবই ভয়াবহ। আলস্নাহ্র রসুল (সঃ) এ প্রসঙ্গে বলেন, “আর রাশি অল মুরতাশি কিলাহুমা ফিন নার” ঘুষ দাতা, ঘুষ গ্রহীতা এবং ঘুষের লেনদেনে সহযোগিতাকারীগণ সকলেই অভিষপ্ত ও জাহান্নামী।

আমাদের বুঝতে হবে যে, পৃথিবীর জীবন আসল জীবন নয়। এটি একটি পরীক্ষার ক্ষেত্র। প্রকৃত জীবন হলো পরকালের জীবন। যে জীবনের কোনো শেষ নেই। সেই জীবনে সুখী হওয়াই প্রকৃত সুখ। নশ্বর এই দুনিয়ায় সামান্য কয়টা দিন সুখী হওয়ার জন্য লোভ লালসার বশবর্তী হয়ে সুদ, ঘুষ, দুর্নীতিতে জড়ালে তা হবে নিজেই নিজেকে ধ্বংসস্তুপে নিক্ষেপের নামান্তর। আমাদের মধ্যে যারা এ সমস্ত কাজে জড়িত তাদের সকলকে এই পাপের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত হয়ে সত্য-ন্যায়ের পথে হালাল জীবিকা নির্বাহ করে জীবন-যাপন করার তাওফিক আল্লাহ্তায়ালা দান করুন, আমীন।

চুল পড়া কমাতে

চুল পড়া কমাতে

চুল পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। চুল পড়ছে। কী যে করি! এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়। আর গরমে চুল পড়ার হার তুলনামূলকভাবে একটু বাড়ে। তাই বলে তো বসে থাকলে চলবে না। চুল পড়া কমানোর সমাধান দিয়েছেন কিউবেলার রূপবিশেষজ্ঞ ফারজানা আরমান। তিনি জানান, গ্রীষ্মকালে মাথার ত্বকের ধরন পরিবর্তন হয়। ত্বকের গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ হয়। ফলে চুল তৈলাক্ত হয়ে পড়ে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে চুল পড়ে অনেক সময়। এ ছাড়া চুলের গোড়ার ঘাম না শুকালে, অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খেলে, চুলের ধরনের সঙ্গে মানানসই নয় এমন শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করলে সাধারণত চুল পড়ে।
আর এসব থেকে মুক্তি পেতে কী করবেন? ফারজানা আরমান মনে করেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস থাকলে আমাদের চুল পড়ার হার অনেকটা কমে আসবে। তবে প্রতিদিন ১০০টি চুল পড়লে চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। পুষ্টিযুক্ত পরিমিত খাবার খেলে তা চুলেও পুষ্টি জোগায়। খাদ্য তালিকায় অবশ্যই ফল, সবজি থাকতে হবে। এসব খাবার খেলে চুলের গোড়া শক্ত হয়। ফলে চুল পড়া কমে যায়। এ ছাড়া চুলের গোড়ায় তেল ও ময়লা জমার কারণেও চুল পড়ে। সে জন্য খুব ভালো হয় ঘন শ্যাম্পু ব্যবহার না করে একটু পাতলা ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহার করলে। ঘন শ্যাম্পু হলে তার সঙ্গে সামান্য পরিমাণে পানি মিশিয়ে নিতে পারেন। শ্যাম্পু দিয়ে মোটা চিরুনি বা ব্রাশ দিয়ে চুলের আগাগোড়া আঁচড়িয়ে ফেলুন। এরপর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন, যাতে চুলে কোনো শ্যাম্পু না থাকে। এভাবে প্রতিদিন চুলে শ্যাম্পু করা যেতে পারে। এবার ব্যবহার করুন কন্ডিশনার। কন্ডিশনার কখনোই চুলের গোড়ায় লাগাবেন না। সারা মাথার চুলে কন্ডিশনার লাগিয়ে দু-তিন মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

চুল পড়া কমাতে যা ব্যবহার করবেন

লিভ ইন কন্ডিশনার: সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চুলকে রক্ষা করে লিভ ইন কন্ডিশনার। রং করা চুল কিংবা কোঁকড়া চুলের জন্য এ কন্ডিশনারটি ব্যবহার করা ভালো।
প্রাকৃতিক কন্ডিশনার: শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোয়ার পর পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন চুল ঝরঝরে হয়ে গেছে। এ ছাড়া সাদা সিরকাও এভাবে প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

হট অয়েল ট্রিটমেন্ট: তৈলাক্ত চুলসহ যেকোনো চুলের জন্য এটি উপকারী। তেল হালকা গরম করে তুলা বা হাত দিয়ে হালকা করে মাথার ত্বকে ঘষে লাগান। আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন।
টু-ইন শ্যাম্পু: যেসব শ্যাম্পুর গায়ে টু-ইন লেখা থাকে তা এ দেশের আবহাওয়ার জন্য খুব একটা উপযোগী নয়। একনাগাড়ে এ ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত নয়।

চুলের প্যাক

l হেনা, সামান্য পরিমাণে টকদই ও ডিমের মিশ্রণ।

l ডিম, মাখন, সামান্য পরিমাণে পানি ও জাম্বুরার রস মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
l জলপাই তেল, ১০ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার তেল মিশিয়ে হালকা গরম করে এর মধ্যে দুটি ভিটামিন ‘ই’ ক্যাপসুল মিশিয়ে তা চুলে দিন। সম্ভব হলে চুলে গরম পানির ভাপ দিতে পারেন। এ জন্য তোয়ালে গরম পানিতে ডুবিয়ে নিন। এরপর এর পানি ঝরিয়ে মাথায় জড়িয়ে রাখুন। ১০ মিনিট পর চুল ধুয়ে ফেলুন।

l পাকা কলা, এক চামচ টকদই ও এক চামচ জলপাই তেল মিশিয়ে চুলে লাগাতে পারেন।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের চর্মরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাশেদ মোহাম্মদ খান বলেন, মানসিক চাপ, বড় অসুখের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মাথার ত্বকে চর্মরোগ, বংশগতির কারণেও চুল পড়ে। তবে চুল পড়া কমাতে প্রধানত চুলে পুষ্টি জোগাতে হবে। সে জন্য তেল-মসলাযুক্ত খাবার, চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে এবং মানসিক চাপ কমাতে হবে। এ ছাড়া সময়মতো খাওয়া-ঘুমানো ও পানি পরিমাণমতো পান করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, শ্যাম্পু করার সময় যেন নখের আঁচড় মাথার ত্বকে না লাগে।

আরেকটি বিষয় হলো, চুল পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা গজিয়ে যায়। সে কারণে এটি নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তার কিছু নেই। খুশকি দূর না হলেও চুল পড়ে। খুশকি থাকলে সপ্তাহে দুই দিন খুশকি প্রতিরোধী শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। অন্যান্য দিন প্রোটিন, অ্যামাইনো প্রোটিন সমৃদ্ধ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এর ফলে চুলের গোড়া শক্ত হয়। নিয়মিত জলপাই তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে জেল ও চুলের স্প্রে কম ব্যবহার করাই ভালো। এতে চুলের ক্ষতি কম হয়। আসল কথা হলো, চুলকে পরিষ্কার রাখতে হবে। তবেই দেখবেন চুল পড়া কমে গেছে।

পাশ্চাত্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিত্তি মাদ্রাসা

পাশ্চাত্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিত্তি মাদ্রাসা

পাশ্চাত্যের খ্রিস্টান-ইহুদিরা যখন মাদ্রাসা নিয়ে সমালোচনা করে তখন কিছুটা বোধগম্য, কিন্তু তথাকথিত মুসলমানরা যখন করে তখন দুঃখ হয়। তবে এরা ইসলাম ও মুসলিম সভ্যতার সবকিছু নিয়েই নাক সিটকায়। শরিয়াহ্, কোরআন, হাদিস, ফিকহ, বোরকা, হিজাব, পর্দা, ফতোয়া, মোল্লা (তবে প িত, আচার্য, পুরোহিত, পাদ্রী, ভিক্ষুতে নাক সিটকায় না), পীর, তরিকা, তাছাউফ, খানকা, মাদ্রাসা, তবলিগ, দাওয়া, হজ-হাজী, টুপি-পাগড়ি, তসবিহ, আজান, মিনার, জিহাদ (তবে ক্রুসেড চলবে), যাকাত, ফিতরা, কাফফারা, কোরবানি, ওয়াকফ, হেরেম, আরব, হারাম-হালাল, গুনাহ-সওয়াব ইত্যাদি ইসলামী পরিভাষা উচ্চারিত হলে কোনো কোনো আধুনিক মুসলমানকে নাক সিটকাতে দেখা যায়। যারা এসব উচ্চারণ করে বা পালন করে, তারা যেন মানুষই নয়। এ কোন মানসিকতা? সেক্যুলার বা সমাজতন্ত্রী হলেই কি মুসলমান হয়েও মুসলমানী সংস্কৃতি ও তত্সংশ্লিষ্ট পরিভাষাকে ঘৃণা করতে হবে?

আসলে মুসলমানদের ভেতরের সেক্যুলাররা ‘মোর ক্যাথলিক দ্যান দি পোপ’। এই মনোভাবের জন্য সেক্যুলার মুসলমানরা পশ্চিমের প্ররোচনায় মাদ্রাসার মতো প্রতিষ্ঠানকে ব্যঙ্গ করছেন। অথচ তাদের ভেবে দেখা উচিত, সাদ্দাম হোসেনের মতো সেক্যুলারকে পাশ্চাত্য এত পায়রবি করা সত্ত্বেও ধ্বংস করেছে। মুসলমান নিজের ধর্ম ও সংস্কৃতিকে ব্যঙ্গ করে পাশ্চাত্যের কাছে সাময়িকভাবে প্রিয় হলেও পরিণতি সাদ্দাম হোসেনের মতো হওয়া অবশ্যম্ভাবী।

কথা হলো, মাদ্রাসা নিয়ে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে পাশ্চাত্য ও তাদের এদেশি মিত্র সেক্যুলারদের দ্বারা। অথচ আমরা বহু ঐতিহাসিক বইয়ে পড়েছি, মাদ্রাসাকে কপি করে পাশ্চাত্যে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গড়ে ওঠে। মাদ্রাসা এসেছে আগে, আর পশ্চিমা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরে।

অস্ট্রেলিয়া সফরে সেখানকার বইয়ের দোকান ও পাঠাগারগুলোতে বই নিয়ে প্রচুর ঘাঁটাঘাঁটি করেছি। একটা চমত্কার বই হাতে এলো, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল এনথ্রপলজির এমেরিটাস প্রফেসর জ্যাক গুডির লেখা ‘দি থেফ্ট্ অব হিসটোরি’। ২০০৬ সালে ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস কর্তৃক প্রকাশিত। প্রায় সাড়ে তিনশ’ পৃষ্ঠার এই চমত্কার বইটিতে প্রফেসর জ্যাক গুডি বিস্তারিতভাবে প্রমাণ করেছেন, মদ্রাসার কারিকুলাম ও ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করেই ইউরোপের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। আর যারা বলতে চান যে প্রাচ্যের কোনো অবদান নেই ইউরোপের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টিতে, তারা ইতিহাস ‘চুরি’ করেছেন। বইটির একটি চমত্কার পরিচ্ছেদ হলো ‘দি থেফ্ট্ অব ইনস্টিটিউশনস, টাউনস অ্যান্ড ইউনিভার্সিটিজ’।
প্রফেসর জ্যাক গুডি লিখেন, ‘ইউরোপে রেনেসাঁর আগে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠে মাদ্রাসার মতো উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো এবং তাদের কারিকুলামের আদলে। যদিও সেসব প্রতিষ্ঠানে ধর্ম প্রাধান্য বিস্তার করত, অন্য বহু বিষয়ও তাতে অন্তর্ভুক্ত থাকত।’ (পৃ. ১২৯)। রেনেসাঁ সম্পর্কে ইলাসট্রেটেড অক্সফোর্ড ডিকশনারি বর্ণনা করেছে—‘(ইউরোপে) চৌদ্দ থেকে ষোল শতকে কলা ও সাহিত্যের পুনর্জন্ম’ (পৃ. ৬৯৫) আমলে রেনেসাঁর আগেই পশ্চিম ইউরোপে মাদ্রাসার অনুকরণে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। প্রেরণা এসেছে মুসলিম স্পেন-পর্তুগাল-সিসিলি থেকে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ক্রুসেডারদের মাধ্যমে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার পর পশ্চিম ইউরোপে রেনেসাঁ এসেছে।

প্রফেসর জ্যাক গুডি বলেন, এই যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা হলো, এর সঙ্গে হয়েছিল ১১০০-১২০০ সালে লেখাপড়ার পুনঃপ্রবর্তন, যা এসেছিল মুসলিম সিসিলি ও আরব স্পেন থেকে। তিনি বলেন, দশম ও একাদশ শতকে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে মাদ্রাসাগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আর তখন মুসলিম ও খ্রিস্টান পাশ্চাত্যের ভেতর শিক্ষার তাত্পর্যপূর্ণ সাদৃশ্য ছিল। গুডি বলেন, বরঞ্চ কোনো কোনো বিদ্যান (যেমন মাদ্রিদের জে রিবেরা) বলেন, মধ্যযুগের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আরব শিক্ষা ব্যবস্থার কাছে বহুলভাবে ঋণী। গুডি বলেন, ইসলামী ওয়াকফের ওপর ভিত্তি করে কলেজ শিক্ষা ইসলামের নিজস্ব অবদান। জেরুজালেম থেকে ফেরত এক তীর্থযাত্রী পশ্চিম ইউরোপে প্যারিসে প্রথম একটা কলেজ তৈরি করেন ১১৩৮ সালে। এটা সম্ভবত মাদ্রাসার কপি, বলেন প্রফেসর গুডি। অক্সফোর্ডে বেলিওল কলেজও তেমনি, বলেন গুডি। গুডি বলেন, জিমাকদিসি তার ‘দি রাইস অব কলেজেস : ইলাসট্রেশনস অব্ লারনিং ইন ইসলাম অ্যান্ড ওয়েস্ট’ (১৯৮১) বইয়ে স্বীকার করেছেন, মাদ্রাসার পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠিত পাশ্চাত্যের কলেজগুলোতে ইসলামী শিক্ষার সাদৃশ্য ও প্রচুর প্রভাব বিদ্যমান ছিল। (পৃ. ২২৮)। প্রফেসর গুডি বলেন, সে সময় ইউরোপীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার শিক্ষা পদ্ধতি ও কারিকুলাম একই ধরনের ছিল (পৃ. ২২৯)।

প্রফেসর গুডি বলেন, ইসলামের প্রথম শিক্ষা ব্যবস্থার শুরু মসজিদ থেকে অস্টম শতকে। দশম শতকে বাগদাদে ছাত্রাবাসসহ মসজিদ মাদ্রাসা ছিল। এরপর এলো নিজামিয়া মাদ্রাসা যা ১০৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বলা হলেও, এটা পূর্বতন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থানেই পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় (পৃ. ২২৯)।

কুলহাম কলেজের প্রিন্সিপাল আলফ্রেড গুইলস লিখেছেন বাগদাদের নিজামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে, যার প্রতিষ্ঠা ৪৫৭ হিজরিতে। এরপর নিশাপুর, দামাস্কাস, জেরুজালেম, কায়রো, আলেকজান্দ্রিয়া ও অন্যান্য স্থানে বহু বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠে। খ্রিস্টান স্পেনে রাজা আলফনসো দি ওয়াইজ (১২৫২-৮১) মুসলমান বিদ্বান আবু বকর আল-রিকুটিকে দায়িত্ব প্রদান করেন তার রাজ্যে একটি আরব বিশ্ববিদ্যালয় তৈরিতে। গুইলস লিখেন, ১২৩৪ সালে বাগদাদে মুসতানসিরিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়। এসব তথ্য গুইলস মি. জি লে স্ট্রেনজের ‘বাগদাদ ডিউরি; দি আব্বাসিড ক্যালিফেট’ (অক্সফোর্ড, ১৯০০) নামক বই থেকে উদ্ধৃত করে বিস্ময়ে মন্তব্য করেন, ‘এ সবই ছিল তের শতকের প্রথম দিকে।’ (‘দি লিগেসি অব্ ইসলাম’, পৃ. ২৪১-২৪৩)।

গুইলস জোর দিয়ে বলেন, খ্রিস্টান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রাচ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে স্পষ্টত ছিল নবীনতর, আর মধ্যযুগের বিদ্বানদের সাক্ষ্য থেকে সুনিশ্চিতভাবে এই থিসিস প্রমাণিত যে, ইসলামী শিক্ষা খ্রিস্টান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনেক উপাদান প্রদান করত পড়াশোনা করার জন্য। গুইলস লিখেন, মুসলমানরা দশম ও একাদশ শতকে যেসব বিষয় পড়াশোনা করত আর খ্রিস্টান ছাত্ররা পরবর্তী সময়ে একাদশ ও দ্বাদশ শতকে যা পড়াশোনা করত তাতে ছিল খুবই মিল প্রাচ্যের ও পাশ্চাত্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে।
পিস টিভিতে (যা ইসলামিক টিভিতেও বাংলা ভাষায় তরজমা করে প্রচারিত হয়) মার্কিন পাদ্রী থেকে মুসলমান প্রচারক ইউসুফ এসটেস বলছিলেন, ‘এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন’-এর ‘এলামনাই’ শব্দ এসেছে ‘আলেম’ শব্দ থেকে। আসলে পাশ্চাত্যের প্রথম যুগের বিদ্বানরা ‘আলেম’ হতে চেয়েছিলেন। আর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কনভোকেশনে’ আরব শেখদের মতো জুব্বা পরত, শেখদের মতো ‘আলেম’ হিসেবে পরিচিতি পেতে।
স্পেনের গ্রানাডা শহরে রানী ইসাবেলা-রাজা ফার্দিনান্দের কবর ক্যাথিড্রালের পাশে দেখলাম ইংরেজিতে একটা নামফলক : মাদ্রাসা (ইউনিভার্সিটি অব গ্রানাডা)। এর অর্থ হলো, সেই প্রাচীন মাদ্রাসা ভবনটিকে গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের প্রাচীনতম ভবন বলে জাহির করতে গর্ববোধ করছে। ভবনটি ইসলামী স্থাপত্যে আরবি ক্যালিগ্রাফিতে ভর্তি। এমনকি একদিকে একটা মিহরাবও দেখলাম। পাশ্চাত্যের কেউ কেউ মাদ্রাসা নিয়ে নাক সিটকালেও গ্রানাডার কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়, ‘মাদ্রাসা’ শব্দকে স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্বকে বোঝাতে চেয়েছে—‘মাদ্রাসাই’ তো বিশ্ববিদ্যালয়। মাদ্রাসাটির সামনে সৌন্দর্যের জন্য কমলালেবুর গাছ দেখলাম, যে কমলালেবুর গাছ মুসলমানরা প্রথম ইউরোপে নিয়েছে। এখন ইউরোপের কমলালেবু তেমন উপাদেয় না হলেও, এর চমত্কার ঘন সবুজ পাতাগুলো সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিচ্ছে, আর যেন প্রচার করছে মুসলিম সভ্যতার চির সবুজ বৈশিষ্ট্যের।

%d bloggers like this: