রোবট যেভাবে কাজ করে

 

রোবট কীভাবে কাজ করে, আমরা অনেকেই জানি না। আসুন জেনে নিই রোবটের কর্মপদ্ধতি। আপনি রোবটকে বললেন, যাও আমার জন্য এক গ্লাস পানি নিয়ে এসো। আর রোবটটি আপনার কথামত আপনাকে খাবার ঘর থেকে একটি গ্লাস নিয়ে সেই গ্লাসে জগ থেকে পানি ঢেলে আপনার শোয়ার ঘরে নিয়ে আসবে।

এই পানি আনার পদ্ধতিকে প্রযুক্তির ভাষায় বলা হয় algorithm. সোজা কথায় একটি কাজকে ভেঙে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা যা কিনা যন্ত্রের বুঝতে সুবিধা হয়, এটিকেই algorithm বলে। সাধারণত এই কাজটি কম্পিউটার নিজে নিজে করতে পারে না আর রোবট নিজে নিজে করতে পারে। কম্পিউটারের algorithm করে দেয় একজন প্রোগ্রামার। রোবটকে চালাতে কি তাহলে কোনো প্রোগ্রামের প্রয়োজন নেই? এ প্রশ্নের উত্তর হলো, অবশ্যই আছে এবং সেই প্রোগ্রামিংয়ের নাম n neural network. এই প্রোগ্রামিংয়ের বিশেষত্ব হলো, এর মাধ্যমে কোন যন্ত্রকে মানুষের মস্তিষ্কের মতো কাজ করানো হয়। যেমন ছোটকালে আমাদের চেনানো হতো বিভিন্ন আসবাবপত্র, বই, অক্ষর ইত্যাদি। neural network-এর মাধ্যমে রোবট কোনো চিত্রকে শনাক্ত করতে পারে এবং সেই অনুসারে কাজ করতে পারে। যারা যন্ত্রকৌশল বিভাগের ছাত্র তারা শেষ বর্ষে হয়তো রোবটিক্স সম্পর্কে জানতে পারবেন। আর যদি আপনি স্নাতক ডিগ্রি নিতে চান তাহলে neural network সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

 

সূত্র: পত্রিকা

Advertisements

সংযমী জীবন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

সিগারেট ও মদ ত্যাগ করে খাবার গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করলে মলাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি এক-চতুর্থাংশ কমে যায়। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য দেয়া হয়েছে। ডেনমার্কের গবেষকরা দেখেছেন­ পান, শারীরিক কসরত, কোমরের সঠিক মাপ, সিগারেট ও মদ্যপান কমানো এবং স্ব্যাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণের ফলে অন্ত্রে ক্যান্সারের ঝুঁকি ২৩ শতাংশ কমে যায়। ডেনিস ক্যান্সার সোসাইটির একটি শাখা গবেষণা পরিচালনা করে। সোসাইটির পক্ষ থেকে বলা হয়, জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন মলাশয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ মলাশয়ের ক্যান্সারে মারা যায়। এতে প্রতি বছর আক্রান্ত হয় প্রায় ১২ লাখ মানুষ।

হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সন্তান প্রার্থনা ও আমাদের শিক্ষা


বিবাহিত নর-নারীর জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া হচ্ছে সন্তান লাভ। সন্তান হচ্ছে মা-বাবার বড় সম্পদ। যে দম্পতির কোনো সন্তান নেই দুনিয়ায় তারা অতীব অসহায়। পবিত্র কোরআনে সন্তান সম্পর্কে বলা হয়েছে– ‘ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য।’ (সূরা আল কাহাফ : ৪৬)মানুষ ধনসম্পদ ও সন্তান লাভের আশায় কোনো পদ্ধতিই বাদ রাখে না। তাই কেউ কেউ মাঝেমধ্যে ভুল পথে হাঁটেন। হালাল উপায় বাদ দিয়ে ধরেন হারাম পথ। সন্তান লাভের আশায় মাজার, ফকির-দরবেশ, তাবিজ, বদতদবিরবাজের কাছে গিয়ে আকুতি মিনতি করে ও টাকাকড়ি নষ্ট করে। আমাদের সমাজের সন্তানবিহীন পিতামাতারা হজরত ইবরাহিমের (আ.) সন্তান লাভের কাহিনী থেকে শিক্ষা নিতে পারেন।

সন্তান লাভের জন্য ইবরাহিমের (আ.) দোয়া শতবছরের কাছাকাছি বয়সী বৃদ্ধ ইবরাহিম (আ.), কিন্তু আজও কোনো সন্তান নেই। তাঁর দাওয়াতি কাজ কে আঞ্জাম দেবে এ প্রশ্ন যখন বার বার মনের মধ্যে দোল খাচ্ছে, তখন ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করলেন : হে আল্লাহ আমাকে একজন সুসন্তান দান কর।’ (সূরা আস-সফ্ফাত : ১০০) ইবরাহিম (আ.) শুধু সন্তানই কামনা করেননি। তিনি আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেছেন : হে রব আমাকে নেক, উত্তম ও সত্ সন্তান দান কর। নবীরা সবাই আল্লাহর কাছে সুসন্তান কামনা করেছেন। কোরআনের কোনো আয়াতে এমন দেখা যায় না যে, তারা শুধু সন্তান কামনা করেছেন। হজরত জাকারিয়া (আ.) বৃদ্ধ বয়সে সুসন্তানের জন্য দোয়া করেছেন। হজরত যাকারিয়া (আ.) যখন মরিয়মকে (আ.) বায়তুল মোকাদ্দাসের বিশেষ একটি কামরায় লালন-পালন করার জন্য রেখে আসতেন, খাবার দিয়ে আসতেন এবং মাঝে মাঝে মরিয়মকে দেখতে যেতেন, সেখানে তিনি অনেক অমৌসুমী ফল দেখতে পেতেন। তিনি অবাক কণ্ঠে মরিয়মকে প্রশ্ন করতেন : হে মরিয়ম! বেমৌসুমী এই ফল তুমি কোথায় পেলে? মরিয়ম জওয়াব দিলেন :
এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অগণিত রিজিক দান করেন।একথা শুনে জাকারিয়ার (আ.) মনে এই ভাবনা উদয় হলো, যে আল্লাহ এক মৌসুমের ফল অন্য মৌসুমে দিতে পারেন সেই আল্লাহ আমাকে এই বার্ধক্য বয়সেও সন্তান দিতে পারেন। আমার এখন বাচ্চা হওয়ার মৌসুম নেই। কিন্তু আল্লাহ চাইলে তো আমাকে যখন তখন বাচ্চা দিতে পারেন। তখন তিনি মরিয়মের কক্ষে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করলেন :
হে আমার প্রভু, আমাকে সুসন্তান দান কর।’ (সূরা আল-ইমরান : ৩৮) উক্ত আয়াতে জাকারিয়া (আ.) নেক সন্তানের প্রার্থনা করেছেন। তিনি দুনিয়ার অন্য কিছুর কাছে সন্তান প্রার্থনা করেননি। সন্তান প্রার্থনা করেছেন একমাত্র বিশ্বজাহানের রব আল্লাহর কাছে। নবীদের সন্তান চাওয়ার ক্ষেত্র যেরকম ছিল সঠিক; তেমনি সন্তান চাওয়ার উদ্দেশ্যও ছিল সত্। তারা বদকার সন্তান কামনা করেননি; যারা দুনিয়ায় খুন-খারাবি করবে, হত্যা লুণ্ঠনে ব্যস্ত থাকবে; বরং তারা চেয়েছেন সুসন্তান, যারা দুনিয়ায় আল্লাহর বাণী প্রচার করবে। মানুষদের সত্ কাজের আদেশ দেবে, অসত্ কাজে বারণ করবে। আর তাই আল্লাহতায়ালাও তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রার্থনা কবুল করলেন। ইবরাহিমকে (আ.) খবর দিলেন, তুমি যেভাবে সুসন্তান চেয়েছ, আমিও তোমাকে সেভাবে উত্তম সন্তান দান করলাম :আমি ইবরাহিমকে সুসংবাদ দিলাম, অত্যন্ত ধৈর্যশীল, ভদ্র, গম্ভীর ও মর্যাদাবান সন্তানের।ইবরাহিম (আ.) বার্ধক্য বয়সে সুসন্তান পেয়ে আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া আদায় করলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি আল্লাহর পরীক্ষায় স্বীয় প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর ওয়াস্তে কোরবানি করে বিজয়ী হলেন।

আমাদের করণীয়

* আমাদের যাদের সন্তান নেই, তাদের সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। আল্লাহ চাইলে যেকোনো বয়সে সন্তান দিতে পারেন।

* শুধু সন্তান চাইলেই হবে না, আল্লাহর কাছে নেকসন্তান কামনা করতে হবে।

* সন্তান পাওয়ার আশায় কোনো মাজার, কবর, ফকির-দরবেশ, তাবিজ গ্রহণ কিংবা বদকারের কাছে যাওয়া যাবে না এবং অবৈধ উপায় গ্রহণ করা যাবে না।

* আল্লাহ সন্তান দান করলে শোকরিয়া আদায় করে সুন্দর নাম রাখতে হবে।

* সন্তানকে দ্বীন-ইসলাম শিক্ষা দিতে হবে।

* সন্তানকে তাবলিগে দ্বীনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

* মানবতা ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে সন্তানকে নিয়োজিত করতে হবে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে জীবন, কর্ম ও দাম্পত্যের প্রতিটি বাঁকে সঠিক পথ দান করুন।

সঠিক নিয়তে পুণ্য অনেক

আল্লাহ রহমান ও রাহীম। অতি দয়ালু, নেহায়েত মেহেরবান। তার দয়া ও রহমতের কোনো শেষ নেই। বান্দার কোনো কোনো ছোট আমলেও আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট হয়ে যান। এমনকি তার রহমতের সাগরে জোয়ার আসে। তিনি তখন বান্দাকে দিয়ে দেন অনেক পুরস্কার এবং উন্মুক্ত করে দেন তাঁর দানের ভা ার।

হাদিস শরীফে এমন অনেক আমলের বর্ণনা পাওয়া যায়, যা করতে সহজ, কিন্তু এর বিশাল প্রাপ্তি ও পুরস্কারের কথা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন। প্রেরণা যুগিয়েছেন এসব আমলের প্রতি যত্নবান হতে।

এসবের একটি হচ্ছে : বিশুদ্ধ নিয়ত

নিয়ত অর্থ সংকল্প। এটি মনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আমল। এতে নেই কোনো কষ্ট-ক্লেশ, নেই কোনো মেহনত-মুজাহাদা। প্রত্যেক কাজে, তা দ্বীনী কাজ হোক কিংবা দুনিয়াবী, শুরুতে নিয়তকে শুদ্ধ করা কর্তব্য। সব কাজ মাওলার সন্তুষ্টির জন্য করার সংকল্পই হচ্ছে বিশুদ্ধ নিয়ত। এই নিয়ত মুমিন বান্দার ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রায় সবৈধ কাজকেই নেকির কাজে পরিণত করতে পারে।

হাদিস : হজরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই সব আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে, যার নিয়ত সে করবে। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরত করবে তার হিজরত আল্লাহ ও তার রাসূলের জন্যই হবে। আর যে দুনিয়া লাভের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিয়ের উদ্দেশ্যে হিজরত করবে তার হিজরত ওই বিষয়ের জন্যই হবে, যার জন্য সে হিজরত করেছিল। (সহীহ বুখারি হাদিস ১; সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯০৭) ব্যাখ্যা : এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদিস। এখানে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই শিক্ষা দিয়েছেন যে, প্রত্যেক আমলের সওয়াবের জন্য নিয়ত জরুরি। শুধু আমল নয়; বরং প্রত্যেক মানুষকে তার নিয়তের উপরই প্রতিদান দেয়া হবে। বোঝানোর জন্য নবীজী হিজরতের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা বলেছেন। একজন মুহাজির তার হিজরতের পূর্ণ প্রতিদান পায়। পক্ষান্তরে অন্য ব্যক্তি বাহ্যত একই আমল করার পরও বঞ্চিত হয়। এর নিগূঢ় রহস্য মাত্র তিন অক্ষরের নিয়ত শব্দের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসূলের সাহায্যের নিয়তে হিজরত করবে তার হিজরত হবে মকবুল ও প্রতিদানযোগ্য। আর সে পাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অশেষ সওয়াব। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পার্থিব কোনো উপকার যেমন ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা প্রেয়সী নারীকে বিয়ে করার নিয়তে স্বজন ও স্বদেশ ত্যাগ করে বাহ্যত তা হিজরত হলেও তা হবে ব্যর্থ ও প্রতিদানের অযোগ্য। একই কষ্ট ও মুজাহাদা করার পরও মুহাজিরদের পুরস্কার থেকে সে হবে বঞ্চিত।
ফায়েদা : এই হাদিস থেকে নিয়তের গুরুত্ব ও ফজিলত জানা গেল। উত্তম নিয়তের কারণে মানুষ আমলের সওয়াব পাবে, পক্ষান্তরে নিয়তের ভ্রান্তি ও ভ্রষ্টতার কারণে সে হবে সওয়াব থেকে বঞ্চিত।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠ মনে শাহাদাতের প্রার্থনা করবে আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদা দান করবেন। যদিও সে স্বীয় বিছানায় মৃত্যুবরণ করে। (সহীহ মুসলিম, হাদিস ১৯০৯)আরেকটি হাদিসে তাবুক যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত সাহাবিদের উদ্দেশ করে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই মদিনায় এমন কিছু মানুষ রয়েছে, (তাবুক পর্যন্ত) প্রতিটি পথে প্রান্তরে; প্রতিটি টিলা-টক্করে যারা তোমাদের সঙ্গেই ছিল। তারাও তোমাদের মতো জিহাদের সওয়াব লাভ করবে। কারণ পূর্ণ নিয়ত থাকা সত্ত্বেও অসুস্থতা বা অন্য কোনো ওযর তাদের জিহাদে অংশগ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। (সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯১১)। এই উভয় হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, শুধু নিয়তের আমলটির কারণে যে কোনো মহত্ ও ফজিলতপূর্ণ আমলের সওয়াব তাদের মতোই পাওয়া যাবে যারা কষ্ট-সাধনার মাধ্যমে নিজেরা এই আমলগুলো সম্পাদন করেছেন। অথচ সে ব্যক্তি পূর্ণ ইখলাসের সঙ্গে ওই আমলের শুধু নিয়তই করেছিল। আর কিছুই করতে পারেনি। অতএব যে কোনো উত্তম ও কল্যাণমূলক কাজের জন্য ইখলাসের সঙ্গে বেশি বেশি নিয়ত করা উচিত। সঙ্গে সঙ্গে বেঁচে থাকা উচিত ভ্রষ্ট নিয়ত এবং ভ্রান্ত লক্ষ্য মনে পোষণ করা থেকেও।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন সবার আগে একজন শহীদকে ডাকা হবে এবং তার উপর আল্লাহর দেয়া নেয়ামতগুলো একে একে স্মরণ করানো হবে। অতঃপর জিজ্ঞাসা করা হবে, তুমি কি এসব নেয়ামত ভোগ করেছিলে? সে স্বীকার করে নেবে। বলবে, হ্যাঁ, এসব নেয়ামত আমি ভোগ করেছি। তখন আল্লাহ বলবেন, ওই সব নেয়ামতের শুকরিয়ায় তুমি কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি আপনার রাস্তায় লড়াই করে শাহাদাত বরণ করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ; তুমি তো এই জন্য লড়াই করেছ, যেন তোমাকে বীর উপাধি দেয়া হয়। তা তো দেয়া হয়েই গেছে। অতঃপর আল্লাহতাআলার নির্দেশে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
এরপর দ্বিতীয় ব্যক্তিকে আনা হবে, যে নিজে ইলম শিখেছে, কুরআন পড়েছে এবং অপরকে শিক্ষা দিয়েছে। তাকেও পূর্ববর্তী ব্যক্তির মতো আল্লাহতাআলার নেয়ামতগুলো স্মরণ করানো হবে এবং সে তা স্বীকার করে নেবে। আল্লাহতাআলা প্রশ্ন করবেন, এর প্রতিদানে তুমি কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি তোমার জন্য ইলম শিখেছি, কুরআন পড়েছি এবং অপরকে শিখিয়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ; বরং তুমি তো এজন্য ইলম শিখেছ যাতে লোকে তোমাকে আলেম বলে। তা তো বলা হয়েছে। অতঃপর তাকে আল্লাহর নির্দেশে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

তৃতীয় আরেক ব্যক্তিকে হাজিরা করা হবে যে ছিল বিত্তশালী যাকে আল্লাহতাআলা প্রচুর সম্পদ ও ঐশ্বর্য দান করেছিলেন। পূর্বোক্ত দুই ব্যক্তির মতো তাকেও আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে প্রশ্ন করা হবে যে, তুমি কী আমল করেছ? সে বলবে, মাওলা! ব্যয়ের জন্য তোমার পছন্দনীয় এমন কোনো খাত বাদ যায়নি, যে খাতে তোমারই সন্তুষ্টির জন্য আমি দান করিনি। আল্লাহতাআলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ। বরং তুমি তা করেছ শুধু এজন্যই, যাতে লোকেরা তোমাকে দানবীর উপাধি দেয়। তা তো দেয়া হয়েছে। অতঃপর আল্লাহর নির্দেশে তাকেও জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯০৫)এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, সত্ কাজ করার পরও শুধু নিয়ত বিশুদ্ধ না থাকায় কী নির্মম ও করুণ পরিণতি হতে পারে। বস্তুত সব কাজে নিয়ত বিশুদ্ধ রাখা জরুরি। ইখলাসের সঙ্গে কোনো সত্ কাজের জন্য পরিশুদ্ধ নিয়ত করলে কোনো কারণে এ কাজটি করতে না পারলেও শুধু নিয়তের কারণে ওই কাজের উপর আমল করার সওয়াব পাওয়া যাবে। আবার ভ্রষ্ট নিয়তের কারণে বড় ধরনের উত্তম ও নেক আমলেরও সামান্য মূল্য থাকবে না। আল্লাহতাআলা আমাদের সব নেক আমলের জন্য ইখলাসপূর্ণ ও বিশুদ্ধ নিয়তের তাওফিক দান করুন।

%d bloggers like this: