শিশুর সুস্থতার জন্য

শিশুর সুস্থতার জন্য


আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত্। এই শিশুরা ঠিকমত বেড়ে উঠছে কিনা তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা দরকার। যথেষ্ট খাবারের অভাব, অনুপযুক্ত খাবার, ঘন ঘন অসুখ-বিসুখ এবং প্রয়োজনীয় সেবা-যত্নের অভাবে বিপুলসংখ্যক শিশুর শরীর ঠিকমত বাড়ে না এবং তাদের মানসিক বিকাশ যথাযথ হয় না।

এজন্য কচি শিশুদের বিশেষ প্রয়োজন সম্পর্কে মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের সঠিক জ্ঞান লাভ করতে হবে। বাড়ন্ত শিশুদের প্রতি অধিক যত্ন নিতে হবে এবং ঠিকমত বেড়ে ওঠার জন্য নিচের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা দরকার।

জন্মের পর থেকে ২ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি মাসে শিশুর ওজন নিতে হবে। ২ বছরের কম বয়সী শিশুকে যথেষ্ট পরিমাণে উপযুক্ত খাবার দেয়ার পরও যদি তার ওজন না বাড়ে তবে বুঝতে হবে তার অন্য কোনো সমস্যা আছে। এজন্য শিশুকে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যেতে হবে। অসুখ-বিসুখ বা প্রয়োজনীয় সেবা-যত্নের অভাবে শিশুর ওজন বৃদ্ধি থেমে বা কমে যেতে পারে। অসুখ হলে শিশুকে বিশেষভাবে চেষ্টা করে খাওয়াতে হবে এবং অসুখ সেরে গেলে আগের স্বাস্থ্য ফিরে পেতে তাকে অতিরিক্ত খাবার দিতে হবে। শিশুর খাবারে যথেষ্ট পরিমাণ বলকারক উপাদান (চিনি/গুড় বা তেল) থাকতে হবে। শিশুকে বোতলে খাওয়ানো বন্ধ করে বাটি ও চামচ দিয়ে খাওয়াতে হবে। শিশুর কৃমি থাকলে তাকে কৃমিনাশক ওষুধ দিতে হবে। আর ১ বছর বয়সের মধ্যেই শিশুকে সব কটি টিকা দেয়া জরুরি। টিকা রোগব্যাধি থেকে শিশুকে রক্ষা করে এবং তাকে সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।

৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধু বুকের দুধই শিশুর জন্য সেরা খাবার। এই সময়ে তার অন্য কোনো খাবারের দরকার নেই। জন্মের প্রথম ৬ মাসে শিশু নানারকম রোগ-ব্যাধির ঝুঁকির মধ্যে থাকে। বুকের দুধ শিশুকে ডায়রিয়া ও অন্যান্য সাধারণ রোগ থেকে রক্ষা করে।
অন্ততপক্ষে ২ বছর এবং সম্ভব হলে তার চেয়ে বেশিদিন বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।
৬ মাস পূর্ণ হলে শিশুকে মায়ের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য খাবার দিতে হবে। খিচুড়ি বা জাউয়ের সঙ্গে দিনে অন্তত একবার খোসা ছাড়ানো, সিদ্ধ করা এবং গলানো তরিতরকারি মিশিয়ে শিশুকে খাওয়াতে হবে।

শিশুকে যত রকমারি খাবার দেয়া যায় তত ভালো। ২ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকে ঘন ঘন খাওয়ানো প্রয়োজন।দিনে ৫ থেকে ৬ বার খাওয়াতে হবে। গলানো তরিতরকারি, ছোট মাছ, ডিম, ডাল, তেল, চিনি/গুড় মেশানো খাবার ও মৌসুমী ফল খাওয়াতে হবে। খাবার তৈরির পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেলে রাখা যাবে না। তাতে খাবারে রোগজীবাণু জন্মাতে পারে এবং শিশুর অসুখ হতে পারে। এছাড়া শিশুকে ফল, রুটি, মোয়া, নাড়ু, বিস্কুট, বাদাম, কলা বা হাতের কাছে যেসব পুষ্টিকর নিরাপদ খাবার পাওয়া যায় সেগুলো ফাঁকে ফাঁকে দিতে হবে।

শিশুর পুষ্টির জন্য প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন প্রয়োজন। যেসব খাবারে ভিটামিন পাওয়া যায় সেগুলোহলোমায়ের দুধ, গাঢ় সবুজ ও রঙিন শাক-সবজি ও ফলমূল, ডিম, কলিজা। ভিটামিন ’-এর অভাবে বাংলাদেশে প্রতি বছর বহু শিশু অন্ধ হয়ে যায়। যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন পেলে ডায়রিয়া ও হাম গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে না। এজন্য প্রত্যেক শিশুর প্রতিদিনের খাবারে যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন থাকা উচিত।
অসুস্থ অবস্থায় শিশুকে বুকের দুধসহ স্বাভাবিক খাবার খাওয়ানো অব্যাহত রাখতে হবে। অসুখ হলে খাবার ও পানীয় খেতে শিশুকে নানাভাবে উত্সাহ দেয়া প্রয়োজন। শিশু যে ধরনের খাবার পছন্দ করে (যেমন, নরম ও মিষ্টি খাবার) সে ধরনের খাবার অল্প অল্প করে এবং যত ঘন ঘন সম্ভব খাওয়াতে হবে। এ সময় বুকের দুধ অব্যাহত রাখা খুবই জরুরি।

জন্মের পর থেকেই যেমন শিশুর শরীর ঠিকমত বাড়ে, তার মানসিক বিকাশ যথাযথ হয় এবং সে হাসিখুশি থাকে। ঠিকমত বেড়ে ওঠার জন্য শিশুর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্নেহ-মমতা। তাকে স্পর্শ করা, তার সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা করা ও কথা বলা এবং তার কাছ থেকে সাড়া পাওয়া প্রয়োজন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: