মক্কার বিভিন্ন ইসলামিক নিদর্শন

মক্কার বিভিন্ন ইসলামিক নিদর্শন


হজ ও উমরাহ পালন করার জন্য সারা বিশ্ব থেকে মুসলমানরা মক্কা যান। মুহাম্মদ সাঃসহ অনেক নবী-রাসূলের জন্মস্থান মক্কা। মক্কায় অনেক ইসলামি নিদর্শন আছে, যা দেখলে ইমান বাড়ে। হজ সম্পাদনের জন্য এসব পবিত্র স্থানে হাজীদের যেতে হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থান দেখা যেতে পারে। নিচে এসব ইসলামি ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলোঃ

আরাফাহ ময়দানঃ হজের আরেকটি ফরজ হচ্ছে ৯ জিলহজ তারিখে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা। নবী করিম সাঃ ওই দিন যোহর ও আছর নামাজ একসাথে পড়েছিলেন, যা এখানে মসজিদুল নামিরা অবস্থিত। আরাফাহ ময়দান মক্কার কাবাঘর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পূর্বে। আল্লাহ বেহেশত থেকে আদমকে আঃ সিংহল ও হাওয়াকে আঃ জেদ্দায় পাঠান। প্রায় ৩০০ বছর বিচ্ছিন্ন থাকার পর আরাফাহর ময়দানে তারা একত্র হন।

সাফা ও মারওয়াঃ আল্লাহ কুরআনে বলেন, ‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া পাহাড় দুটো আল্লাহর নিদর্শনস্বরূপ।এই পাহাড় দুটো কাবাঘর থেকে পূর্ব দিকে সামান্য দূরে অবস্থিত। একটু দক্ষিণ-পূর্বে সাফা এবং উত্তর-পূর্বে মারওয়া। দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় ২২৯ মিটার ও উচ্চতা ৫ মিটার। হাজীরা পাহাড় দুটোর মধ্যবর্তী স্থানে সাতবার দৌড়াদৌড়ি করেন। কারণ হজরত মা হাজেরা তাঁর শিশুপুত্র ইসমাঈলকে আঃ জমজম কুয়ার পাশে রেখে পানির জন্য পাহাড় দুটোর মধ্যবর্তী স্থানে সাতবার দৌড়ান। এই পাহাড়ের কাছেই আরকাম রাঃ-এর বাসগৃহ ছিল। হজরত মুহাম্মদ সাঃ এখান থেকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন। ওমর রাঃ এই বাসগৃহে ইসলাম গ্রহণ করেন।

মুজদালিফাঃ কাবাঘর থেকে ৯ কিলোমিটার পূর্বে এবং আরাফাত থেকে ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে মুজদালিফা ময়দানটি অবস্থিত। হাজীরা এই ময়দানে মুক্ত আকাশের নিচে ১০ জিলহজ সারারাত আল্লাহর স্মরণে কাটান। নবী করিম সাঃ এখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একসাথে পড়েছিলেন। মিনায় কঙ্কর নিক্ষেপের জন্য হাজীরা এখান থেকে কঙ্কর সংগ্রহ করেন।

মিনাঃ মক্কা-মুয়াজ্জামা থেকে আনুমানিক ৫ কিলোমিটার পূর্বে মিনা অবস্থিত। এখানে মসজিদুল খায়েফ, কঙ্কর নিক্ষেপের তিনটি স্থান এবং কোরবানি করার স্থান নির্দিষ্ট। নবী করিম সাঃ এখানে বিদায় হজের ভাষণ দেন। ইবরাহিম আঃ তাঁর পুত্র ইসমাইলকে আঃ কোরবানি করতে মিনায় যান।

মাকামে ইবরাহিমঃ কাবাঘরের পূর্ব পাশের দরজার সামনে কাচ দ্বারা সুরক্ষিত একটি ছোট্ট ঘরই হচ্ছে মাকামে ইবরাহিম। ঘরের ভেতর ইবরাহিম আঃ-এর পবিত্র পায়ের ছাপবিশিষ্ট পাথর রয়েছে। তিনি এই পাথরে পা রেখে কাবা ঘর নির্মাণ করেছিলেন। এর ওপর দাঁড়ালে পাথর অলৌকিকভাবে প্রয়োজনমতো উঁচু-নিচু হতো। আদম আঃ পৃথিবীতে এই পাথর নিয়ে আসেন।

হাতিমঃ কাবাঘরের উত্তর পাশে একটু উঁচু স্থানে দেয়াল দিয়ে ঘেরা অংশই হাতিম। শবে মেরাজের রাতে এই স্থানে হুজুর সাঃকে জিব্রাইল আঃ বক্ষ বিদীর্ণ করে জমজমের পানি দিয়ে হৃৎপিণ্ড ধুয়ে দিয়েছিলেন।

হেরা পাহাড়ঃ মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। এই পাহাড়ের গুহায় নবী করিম সাঃ এবাদত করেন। এখানে প্রথম ওহি নাজিল হয় এবং নবুওয়ত লাভ করেন। পাহাড়ের উচ্চতা দুই হাজার ফুট। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে দুই কিলোমিটার আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে চূড়ায় ওঠা যায়। পাহাড়ের শীর্ষ চূড়ায় হেরাগুহা অবস্থিত। প্রবেশপথ ছাড়া সব দিকে ঘেরা।

সাওর পাহাড়ঃ মসজিদুল হারাম থেকে ছয় কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। হুজুর সাঃ ও আবুবকর রাঃ মক্কা থেকে মদিনায় প্রথম হিজরতের সময় এই পাহাড়ের চূড়ার একটি গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। সাওর পাহাড়ের উচ্চতা চার হাজার ফুট।

আবু কুবাইস পাহাড়ঃ মক্কা মুয়াজ্জামার পূর্ব প্রান্তে এই পাহাড় অবস্থিত। এই পাহাড়ের কাছে একটি উপত্যকায় হুজুর সাঃ তিন বছর সামাজিক ও অর্থনৈতিক বয়কট অবস্থায় চরম কষ্টের মধ্যে ছিলেন। নূহ আঃ মহাপ্লাবনের সময় হাজরে আসওয়াদকে এই পাহাড়ে রেখেছিলেন। এই পাহাড়ের কাছে দাঁড়িয়ে নবী করিম সাঃ আঙুলের ইশারায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করেন।

নবীজী সাঃ-এর বাড়িঃ মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ৪৪০ গজ পূর্বে হুজুর সাঃ-এর পিতার বাড়ি। এখানে হুজুর সাঃ-এর জন্ম হয়। এই বাড়িটি এখন পাঠাগার। হুজুর সাঃ-এর বাসগৃহ ও মসজিদুল হারামের মাঝে ছিল আবু জাহলের বাড়ি। বর্তমানে এই বাড়িটিতে গোসলখানা, প্রস্রাবখানা ও পায়খানা করা হয়েছে।

জান্নাতুল মুয়াল্লাঃ মাসজিদুল হারাম থেকে উত্তর দিকে আনুমানিক দুই কিলোমিটার দূরে এই গোরস্থান। এখানে খাদিজা রাঃ, নবী করিম সাঃ, মাতা আমিনা, দাদা আব্দুল মোত্তালিব, চাচা আবু তালেব, পুত্র কাসেম রাঃসহ অনেক সাহাবির রওজা পাক অবস্থিত।

মসজিদুল হারামের অদূরে দক্ষিণে মিস ফালাহ এলাকায় আবু বকর রাঃ ও হামজা রাঃ-এর বাড়ি ছিল। উভয়স্থানে দুটো মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: