বেহেশ্‌তের সুসংবাদ

বেহেশ্‌তের সুসংবাদ


বেহেশ্‌তের সুসংবাদআল্লাহ তায়ালা যাদের প্রতি সন্তুষ্ট তারাও আল্লাহ তায়ালার প্রতি সন্তুষ্ট।‘ (আল কোরআন)ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী মুসলমানগণ নিশ্চয়ই অবগত যে, পার্থিব কর্মফলের উপর নির্ভর করে, পরাকালে জান্নাত ও জাহান্নাম। রাসুল (স.) বলেছেন দুনিয়া পরকালের শস্য ক্ষেত্র।কে বেহেস্তবাসী আর কে দোযখবাসী তা তাদের কর্মফলের উপর নির্ভর। কোরআন ও হাদিস শরীফের মাধ্যমে জানা যায় মহানবী (স.)-এর সাহাবীদের মধ্যে যারা পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে মহানবীর (স.) আদর্শে ইসলামের জন্য নিজেদের জানমাল উৎসর্গ করতে কুণ্ঠিত হননি তাদের অনেককে রাসুল (স.) বেহেস্তের পূর্বাভাস দিয়েছেন।

আশারাআরবী শব্দ, একবচন। আশুরা বহুবচন অর্থ দশ। মুবাশশারাআরবী শব্দ, অর্থ সুসংবাদ প্রাপ্ত। আশারা-ই-মুবাশশারা অর্থ হলো সুসংবাদ প্রাপ্ত দশজন সাহাবা। ইসলামী শরীয়ার পরিভাষায় মহানবী (স.) যে দশজন সাহাবার কাজে কর্মে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের জীবদ্দশায় বেহেস্তের সুসংবাদ প্রদান করেছেন তাদেরকেই আশারা-ই-মুবাশশারা বিল জান্নাহ বলা হয়।

হিজরী দশম সালে মদীনায় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। ফলে বহুলোক অনাহারে ও অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছিল। কোনোদিক থেকে সাহায্য-সহযোগিতা ও খাদ্য সামগ্রী আমদানি না হওয়াতে একদা মহানবী (স.) মদিনা মসজিদে খুতবা দান করছেন। এ সময় হঠাৎ সংবাদ এল যে, শ্যামদেশ থেকে প্রচুর খাদ্য সামগ্রী নিয়ে একদল বণিক মদীনায় আগমন করছে। এ সময় সব সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বণিক দলের নিকট গমন করে। কেবলমাত্র দশজন সাহাবা তথায় গমন না করে মনোযোগ সহকারে মহানবী (স.) এর খুতবা শ্রবণে নিমগ্ন রইলেন। মহানবী (স.) তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে একে একে তাদের নাম উল্লেখ করে তাদেরকে বেহেস্তবাসী বলে ঘোষণা করেন। হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বলেন, রাসুল (স.) বলেছেন ১. আবু বকর বেহেস্তবাসী ২. ওমর বেহেস্তবাসী ৩. ওসমান বেহেস্তবাসী ৪. আলী বেহেস্তবাসী ৫. তালহা বেহেস্তবাসী ৬. যুবায়ের বেহেস্তবাসী ৭. আব্দুর রহমান ইবনে আউফ বেহেস্তবাসী ৮. সাদ ইবনে আবিওয়াক্কাস বেহেস্তবাসী ৯. সাঈদ ইবনে যায়েদ বেহেস্তবাসী ১০. উবাইদা ইবনে জাররাহ বেহেস্তবাসী। (তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ)।

রাসুল (স.) কর্তৃক বেহেস্তবাসী সুসংবাদ প্রাপ্ত সাহাবীগণ তাদের অসংখ্য সৎ গুণাবলীর স্বীকৃতিস্বরূপ দুনিয়াতে থেকেই বেহেস্তবাসীর সুসংবাদ লাভ করেন।

আশারা-ই-মুবাশশারাগণ মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিধানের সামনে চূড়ান্তভাবে আত্দসমর্পণকারী ছিলেন। তাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে আল্লাহ ও রাসুলের বিধান অনুসরণ করে দুনিয়ার জীবন অতিবাহিত করেছেন। মহানবী (স.) এর বাণী অনুযায়ী তাঁদের বন্ধুত্ব ছিল আল্লাহ ও রাসুলের উদ্দেশ্য। তাঁরা নিজের জীবন ও সমস্ত ধন-সম্পদ আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠায় উৎসর্গ করে দিয়েছেন। তাঁরা ছিলেন খুবই নিষ্ঠাবান। মহানবী (স.) এর দেওয়া সকল দায়িত্ব তাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। আমরা যদি নিজেদের সত্যিকারের মুমিন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই তবে দশ সাহাবার মতো নিষ্ঠাবান হতে হবে। আল্লাহ আমাদের সে পথে চলার তওফিক দান করুন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: