ফল আল্লাহতায়ালার সৃষ্টির নিদর্শন

ফল আল্লাহতায়ালার সৃষ্টির নিদর্শন


মহান আল্লাহর বিস্ময়কর এক সৃষ্টি নিদর্শনের নাম ফল। এটি আল্লাহপাকের এমন এক নিয়ামত যা সবাই পছন্দ করে। ফলের কথা মনে পড়লে কার না লোভ লাগে? ফল খেতে ছোট-বড় সবাই ভালোবাসেন। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু হরেক রকম মজার ফল আমাদের দেশে পাওয়া যায়। এ সবই মহান আল্লাহর নিয়ামত। আমাদের সমাজে কেউ অসুস্থ হলে আমরা ফল নিয়ে তাকে দেখতে যাই। এটি হাদিসের নির্দেশও বটে। বছরের প্রায় সব কটি দিনই কোনো না কোনো ফল আমাদের দেশে পাওয়া যায়। কিন্তু আমরা কখনো কি ভেবে দেখেছি এ ফলের উৎপন্ন কোথা থেকে?এত সুন্দরতম ব্যবস্থাপনার কারিগর কে? এসবই মহান আল্লাহর দান। একটি বৃক্ষ তার এমন কী গুণ আছে যে সে সুস্বাদু ফল দেবে? একটি বৃক্ষ তার এমন কী ক্ষমতা আছে যে সে সুগন্ধি ফুল দেবে? গাছের কোনো ক্ষমতা নেই ফল কিংবা ফুল দেয়ার, যদি আল্লাহ তার মধ্যে ক্ষমতা না দেন। আমরা মাটিতে চারা রোপণ করি, আর তাতে ফলের ব্যবস্থা করেন মহান আল্লাহ। তিনি আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন, তাতে ফল মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়। এভাবে প্রতিটি বৃক্ষ আল্লাহর কুদরতি ইশারায় বড় হয় ও ফল দেয়।

যারা এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে, তারা এমন সাক্ষ্যপ্রমাণ পায়; যার ফলে আল্লাহতায়ালার তাওহিদ যেন মূর্ত হয়ে চোখের সামনে ফুটে ওঠে। এ কারণেই নিয়ামতগুলো উল্লেখ করে বারবার এ বিষয়ের প্রতি আল্লাহতায়ালা বান্দাকে সতর্ক করেছেন। সূরা নহলের ১০ ও ১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেনঃ তিনি (আল্লাহতায়ালা) এমন যিনি তোমাদের জন্য আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, যা হতে তোমরা পান করতে পারো এবং তার দ্বারা উদ্ভিদগুলো (উৎপন্ন) হয়, যাতে তোমরা (জীবজন্তুগুলোকে) চরানোর জন্য ছেড়ে দাও। তিনি (আল্লাহ) তা দ্বারা তোমাদের জন্য শস্য ও জয়তুন, খেজুর, আঙুর এবং সর্বপ্রকার ফল উৎপাদন করেন, নিঃসন্দেহে এর মধ্যে চিন্তাশীল লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।

এই আয়াতের শেষে বলা হয়েছে, এতে চিন্তাশীলদের জন্য প্রমাণ রয়েছে। কেননা ফসল ও বৃক্ষ এবং এসবের ফল ও ফুলের যে সম্পর্ক আল্লাহতায়ালার কারিগরি ও রহস্যের সাথে রয়েছে তা কিছুটা চিন্তাভাবনার দাবি রাখে। মানুষের চিন্তা করা দরকার যে, শস্যকণা কিংবা আঁটি মাটির নিচে পঁুতে রাখলে এবং পানি দিলেই আপনা-আপনি বিরাট মহীরুহে পরিণত হতে পারে না এবং তা থেকে রঙ-বেরঙের ফল ও ফুল উৎপন্ন হতে পারে না। যা হয় তাতে কোনো কৃষক বা চাষির ভূস্বামীর কোনো দখল নেই বরং এ সবই সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর কারিগরি ও রহস্য। সবই মহান আল্লাহর অপার করুণার ফসল।

আমাদের সামনে মাঝে মধ্যে প্রশ্ন জাগে এ ফলের ব্যবস্থা কার জন্য? তার উত্তরে আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা সবই তোমাদের (বান্দাদের) জন্য। আল্লাহতায়ালা এ ফলের ব্যবস্থা করে রেখেছেন তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য।যারা জান্নাতবাসী হবে তাদের জন্য ফলের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। সূরা আররহমানে এসেছে তথায় রয়েছে ফলের দুটি বাগান। এখানে দুটি বাগান বলতে একটি হবে সাধারণ ফলের বাগান আর অপরটি অসাধারণ। অথবা একটি হবে অতি স্বাদযুক্ত, অপরটি তুলনামূলক কম স্বাদযুক্ত। এখানে কম স্বাদ আর অধিক স্বাদ বলতে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। জান্নাতের নিয়ামত তো নিয়ামতই। সুতরাং দুনিয়ার কোনো ফলের সাথে জান্নাতের ফলের তুলনা করা চলে না। আমরা সবাই চাই জান্নাতের অসীম নিয়ামত ভোগ করতে। এ ছাড়া আমরা যদি হাদিসের প্রতি দৃষ্টিপাত করি তাহলে দেখতে পাবো হাদিসে এসেছেমৌসুমি প্রতিটি ফলই এক একটা রোগের প্রতিষেধক।বান্দা যখন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে নিয়ত করে ফল ভক্ষণ করে, তখন আল্লাহ এর মাধ্যমে তার রোগ মুক্তির ব্যবস্থা করে দেন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: