পরহেজগারের গুণাবলি

পরহেজগারের গুণাবলি


তাকওয়ার গুণে গুণান্বিত ব্যক্তিকে মুত্তাকি বা পরহেজগার বলা হয়। পবিত্র কুরআন আল্লাহতায়ালার কিতাব, মানুষের জীবনবিধান, হেদায়াতের দিশারি। এতে দেয়া হয়েছে সত্য পথের দিকনির্দেশনা। আল্লাহতায়ালা এই কিতাবের প্রত্যয়ন করেছেন এই বলে যে, ‘এই কিতাব সংশয়মুক্ত মুত্তাকিদের পথপ্রদর্শক।’ (২ঃ২)।

এখানে হিদায়াতকে মুত্তাকিদের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আর মুত্তাকি হলেন ওই সব ঈমানদার ব্যক্তি যারা তাকওয়া অবলম্বন করেন, আল্লাহতায়ালার শাস্তির ভয়ে তাঁর নিষেধাজ্ঞাগুলো পরিহার করে চলেন এবং তাঁর দয়া ও রহমতের আশায় তাঁর নির্দেশগুলো মেনে চলেন।

তাফসির ও হাদিস গ্রন্থে মুত্তাকির আরো যেসব পরিচয় দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে

১. ইমাম তিরমিজি ও ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, কোনো বান্দাহই মুত্তাকি হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না পাপকাজের ভয়ে পাপের কাছাকাছি কাজও পরিত্যাগ করবে।

২. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নিজেকে শিরক, কবিরা গুনাহ এবং অশ্লীল কথা ও কাজ থেকে মুক্ত রাখে তাকে মুত্তাকি বলা হয়। মুত্তাকি ব্যক্তি সততা, আমানতদারি, সহনশীলতা,কৃতজ্ঞতা, ন্যায় ও ইসলামের গুণে গুণান্বিত হয়ে থাকে।

৩. লিল মুত্তাকিন-এর ব্যাখ্যায় হজরত হাসান রাঃ বলেন, ‘মুত্তাকি হচ্ছেন তারা, যারা তাদের প্রতি যা হারাম করা হয়েছে তা থেকে দূরে থাকেন এবং তাদের ওপর যা ফরজ করা হয়েছে তা পালন করেন।তিনি আরো বলেন, ‘হারামের ভয়ে বহু হালাল যতক্ষণ মুত্তাকিরা বর্জন করে চলেন ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের মধ্যে তাকওয়া বিদ্যমান থাকে।

৪. মাআয ইবনে জাবাল রাঃ থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন সবাইকে এক জায়গায় এনে জিজ্ঞাসা করা হবে। মুত্তাকিরা কোথায়? তখন মুত্তাকিরা রাহমানুর রাহিমের এক পাশে দণ্ডায়মান হবেন। আল্লাহতায়ালা ও তাদের মাঝখানের পর্দা থাকবে না এবং তিনিও অদৃশ্য থাকবেন না। মুত্তাকি কারা? এমন এক প্রশ্নের জবাবে হজরত মাআয রাঃ বলেন, যারা শিরক ও মূর্তিপূজা থেকে বেঁচে থাকে এবং নিষ্ঠার সাথে আল্লাহতায়ালার ইবাদত করে তারাই জান্নাতে যাবে।

৫. আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি পরিহারযোগ্য শত শত বিষয় পরিহার করে চলার পরও একটি বিষয় পরিহার না করে, তখন সে ব্যক্তি আর মুত্তাকি থাকে না।

৬. হজরত আতিয়া আল সাআদী রাঃ বলেন, মুমিন বান্দাহ ততক্ষণ পর্যন্ত মুত্তাকি বলে গণ্য হয় না, যতক্ষণ না সে এ বিষয়ও পরিত্যাগ না করে যা ক্ষতিকর কারণ হতে পারে।

৭. তাফসিরে বায়যাবির রচয়িতা কাজী নাসিরুদ্দীন বায়যাবি রহঃ বলেছেন, মুত্তাকি হলো ওই ব্যক্তি যিনি নিজেকে এমন সব কাজকর্ম থেকে বিরত রাখেন, যা তাকে আখেরাতে ক্ষতির সম্মুখীন করবে।

৮. তাফসিরে আল কাশশাফের রচয়িতা আল্লামা জামালশারি রহঃ বলেছেন, মুত্তাকি হলো ওই ব্যক্তি যিনি নিজেকে এমন সব বিষয় থেকে রক্ষা করেন, যার জন্য তিনি শাস্তির উপযুক্ত হয়ে যান, সেটি করণীয় হোক কিংবা বর্জনীয় হোক।

৯. শাহর ইবনে হাউশাব রাঃ বলেন, মুত্তাকি হচ্ছেন তিনি যিনি এমন সব বিষয়ও বর্জন করেন যাতে কোনো ক্ষতি নেই, এই ভয়ে যাতে ক্ষতি আছে তা থেকে যেন বেঁচে থাকা যায়।

মুত্তাকি তিনিই, যার কাছে আল্লাহতায়ালার অমনোনীত প্রতিটি জিনিসই অসহ্য মনে হবে। অন্তর্নিহিত দায়িত্ববোধই তাকে স্মরণ করিয়ে দেবে তার কোন কাজটি আল্লাহতায়ালার ইচ্ছার ভেতর হচ্ছে, আর কোন কাজটি আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে হচ্ছে। তার মন সব সময় কম্পমান থাকবে এই ভয়ে যে, তার দ্বারা আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে কোনো কাজ হয়ে যায় কি না, তখন সন্দেহপূর্ণ কাজও সে পরিত্যাগ করবে।

মুত্তাকির গুণাবলিঃ কুরআন হলো মানুষের জন্য হিদায়াত বা পথপ্রদর্শক। কিন্তু সবাই এই কুরআন থেকে হিদায়াত পাবে না। হিদায়াত পাবেন তারাই যারা তাকওয়া অবলম্বনকারী, তথা মুত্তাকি, ‘হুদাল্লিল মুত্তাকিন অর্থাৎ এই কুরআন হলো হিদায়াত মুত্তাকির জন্য।আর মুত্তাকি হলো তারাযারা অদৃশ্যে ঈমান আনে, নামাজ কায়েম করে এবং তাদের যে জীবনোপকরণ দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে, আর তোমার প্রতি যে কিতাব নাজিল করা হয়েছে এবং তোমার আগে যা নাজিল করা হয়েছিল, তার ওপর ঈমান আনে এবং আখেরাতের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখে, তারাই তাদের প্রতিপালকের নির্দেশিত পথে রয়েছে এবং তারাই সফলকাম।’ (২ঃ৩-৫)।

উপরিউক্ত আয়াতগুলোতে মুত্তাকিদের পাঁচটি মৌলিক গুণের কথা বলা হয়েছে ১. অদৃশ্য, দৃষ্টির অন্তরালের বস্তু, যা ইন্দ্রিয়ানুভূতির অতীত, যেমন আল্লাহ, ফেরেশতা, আখেরাত, জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদি ঈমান আনা বা বিশ্বাস স্থাপন করা।

ইসলাম যে পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত ঈমান বা অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন সর্বশীর্ষে। ঈমান শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে কারো কথাকে তার বিশ্বস্ততার নিরিখে মনেপ্রাণে মেনে নেয়া। তাই দৃশ্যমান কিংবা অনুভূতিগ্রাহ্য কোনো কিছুতে কারো কথায় বিশ্বাস স্থাপন করার নাম ঈমান নয়। যেমন কোনো দৃশ্যমান সাদা বস্তুকে কেউ যদি সাদা বলে, যা আরেক ব্যক্তি তা সত্য বলে মেনে নেয়, তাহলে একে ঈমান বলা যাবে না। কারণ এতে বক্তার কোনো প্রভাব বা দখল নেই।

২. মুত্তাকির দ্বিতীয় গুণ হচ্ছে যথাযথভাবে যথানিয়মে, যথাসময়ে সব শর্ত পালন করে একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সাথে নামাজ সম্পাদন করা।

কোনো উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য স্থির না করে কেউ কোনো কিছু করে না। আল্লাহতায়ালাও কোনো উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য স্থির না করে মানুষ সৃষ্টি করেননি। মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বর্ণনা করে আল্লাহতায়ালা কুরআন মজিদে এরশাদ করেছেনকেবল আমার ইবাদতের জন্যই আমি জিন ও মানুষ সৃষ্টি করেছি।’ (৫১ঃ৫৬)।

ইবাদতের অর্থ হচ্ছে দাসত্ব করা, গোলামি করা, বন্দেগি করা ইত্যাদি। দাসত্ব করা বলতে বোঝায়, যে তাকে লালনপালন করে তাকে হুকুমদাতা হিসেবে মেনে নিয়ে তার আদেশ-নিষেধ মান্য করা এবং তাঁকে সম্মান করা। এর ব্যতিক্রম হলে সেটা আর দাসত্ব হয় না, বিদ্রোহ হয়ে যায়।

যেহেতু আল্লাহতায়ালা মানুষকে কেবল তাঁর দাসত্ব বা আনুগত্য করার জন্য সৃষ্টি করেছেন, সেহেতু এই আনুগত্য যেন স্থায়ী এবং সব কিছুতে সর্বাবস্থায় হয় সে উদ্দেশ্যে আল্লাহতায়ালা মানুষের জন্য সালাত তথা নামাজের বিধান দিয়েছেন এবং ঈমানের পরই এর স্থান নির্ধারণ করেছেন। নামাজ এমন এক ইবাদত, যা মানুষকে সব সময় আল্লাহর ইবাদত বা আনুগত্যের জন্য প্রস্তুত করে রাখে এবং সব ধরনের অন্যায় ও অশ্লীল কর্ম থেকে বিরত থাকার প্রশিক্ষণ প্রদান করে। সঠিকভাবে নামাজের অনুশীলন করলে একজন মানুষ মুত্তাকির সর্বশেষ স্তর পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। অর্থাৎ নামাজের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও গুরুত্ব অনুধাবন করে এবং এতে যেসব কর্ম করা হয়, যেসব প্রতিজ্ঞা করা হয়, যেসব সূরা,দোয়া, দরুদ ও তসবিহ পাঠ করা হয় তা যদি অন্তর দিয়ে বুঝে জীবনের অন্য সময় কাজে লাগানো হয়, তাহলে তাকওয়ার সর্বশেষ স্তর পর্যন্ত পৌঁছা সম্ভব হয়, ইনসানে কামিলে পরিণত হওয়া যায়। আর এই কারণে নামাজ ইসলামের অন্যতম মূল স্তম্ভ, বান্দার জন্য আল্লাহতায়ালার শ্রেষ্ঠ উপহার, বিশ্বাসের দলিল, পুণ্য কাজের ভিত্তি, সর্বোত্তম ইবাদত, বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়কারী, মুক্তি ও নাজাতের পূর্বশর্ত এবং ঈমানের অতন্দ্র প্রহরী।

৩. মুত্তাকির তৃতীয় গুণ হচ্ছে আর্থিক ত্যাগ স্বীকার করে মানব কল্যাণে আল্লাহতায়ালার পথে ব্যয় করার মানসিকতাসম্পন্ন হওয়া। মুত্তাকির তৃতীয় গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহতায়ালা বলেছেনএবং তাদেরকে যে জীবিকা দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।’ (২ঃ৩)।

অর্থ ব্যয় করতে হলে অর্থ আয় করতে হয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই অর্থ ব্যয়ের সাথে অর্থ আয়ের প্রসঙ্গ এসে যায়। অর্থ আয় ও ব্যয় উভয় মিলেই অর্থনেতিক কর্মকাণ্ড। উপরিউক্ত আয়াতে যেমন ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে তেমনি সূরা জুমার ১০ নম্বর আয়াতে উপার্জনের কথা বলা হয়েছে। এরশাদ হয়েছেআর যখন নামাজ শেষ হয়ে যায়, তখন জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহপ্রদত্ত জীবিকা অন্বেষণ করো।’ (৬২ঃ১০)।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে হালাল উপার্জন করা আনুষ্ঠানিক ফরজ ইবাদতের পর ফরজ। (বায়হাকি-তাবারানি)। সুতরাং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ইসলামে নিষিদ্ধ নয়, বরং এতে অংশগ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর যা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা করা এবং যা করতে নিষেধ করা হয়েছে তা থেকে বিরত থাকার নাম ইবাদত। তাই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করাও ইসলামে ইবাদত বলে গণ্য।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে ঈমান ব্যতীত বাকি চারটি ইবাদত অর্থসম্পদ সম্পর্কিত। এর মধ্যে নামাজ ও রোজাকে শারীরিক ইবাদত এবং জাকাত ও হজকে আর্থিক ইবাদত বলা হয়ে থাকে। এরপর রয়েছে ফিতরা, কোরবানি,জনহিতকর কর্ম, সদকায়ে জারিয়াহ, জিহাদ এগুলো সম্পাদন করতেও অর্থের প্রয়োজন। সুতরাং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ না করে দরিদ্রের মতো জীবনযাপন করলে শীর্ষভাগ ইবাদত থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে, যা তাকওয়ার পরিপন্থী। একজন কেবল নামাজ পড়ল, রোজা রাখল, আরেকজন নামাজ পড়ল, রোজা রাখল, জাকাত দিলো, হজ করল,কোরবানি করল, জিহাদে অর্থ দান করল, মসজিদ ও রাস্তাঘাট নির্মাণ করল, তাহলে নিশ্চয়ই দ্বিতীয়জনের আমলনামায় সওয়াব বেশি যোগ হবে। এই জন্য দেখা যায়, নবী করিম সাঃ-এর বড় বড় সাহাবা বিশেষ করে যারা বেহেশতের শুভ সংবাদ পেয়েছেন তাদের বেশির ভাগই শারীরিক ও আর্থিক উভয় ধরনের ইবাদতে অন্যদের তুলনায় অগ্রগামী ছিলেন। তবে ধন অর্জনকে জীবনের উদ্দেশ্য না বানিয়ে তাকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ ও সাফল্যের উপকরণ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে কুরআন মজিদে এরশাদ হয়েছেআল্লাহ তোমাকে যা দিয়েছেন তা দ্বারা আখেরাতের আবাস অনুসন্ধান করো এবং দুনিয়া হতে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না।’ (২৮ঃ৭৭)।

বৈধভাবে অর্থ অর্জন করো ও কল্যাণের কাজে ব্যয় করো এবং আখেরাতের জন্য পুণ্য সঞ্চয় করো।

৪. মুত্তাকির চতুর্থ গুণ হচ্ছে আল্লাহতায়ালার দিকনির্দেশনা সংবলিত সব আসমানি কিতাবে বিশ্বাস স্থাপন করা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে আল-কুরআনুল কারিমকে স্বীকার করা ও সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।

মুমিন-মুত্তাকিরা কেবল হজরত মুহাম্মদ সাঃ-কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হিসেবে স্বীকার করেই ক্ষান্ত হয় না, তারা আগের হজরত ঈসা, মুসা, দাউদ, ইয়াকুব, ইসমাইল, ইসহাক, ইবরাহিম, নুহ, আদম আঃ-সহ সব নবীর ওপর ঈমান আনে। শুধু নবীদের ওপর নয়, কুরআন মজিদের সাথে সাথে অন্যান্য নবীর ওপর নাজিলকৃত কিতাব তাওরাত, যবুর,ইঞ্জিলসহ সব আসমানি কিতাবের ওপর ঈমান আনে। আর এটাই কুরআনুল কারিমে উল্লিখিত মুত্তাকির চতুর্থ গুণ। এরশাদ হয়েছেএবং তোমার প্রতি যা নাজিল হয়েছে ও তোমার আগে যা নাজিল হয়েছে তাতে যারা ঈমান আনে (তারা মুত্তাকি ও হিদায়াতপ্রাপ্ত)। (পৃ.-৪)।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা আরো বলেনহে ঈমানদারগণ! আল্লাহ তাঁর রাসূল, রাসূলের ওপর অবতীর্ণ কিতাব; এমনকি পূর্ববর্তী রাসূলগণের ওপর অবতীর্ণ কিতাবগুলোর ওপরও ঈমান আনো।’ (৪ঃ১৩৬)।

এ আয়াতগুলোতে কুরআন মজিদের প্রতি ঈমান আনার সাথে সাথে পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবগুলোতে বিশ্বাস করার কথা বলা হয়েছে। তবে পার্থক্য এই যে, পূর্ববর্তী কিতাবগুলো সম্পর্কে বিশ্বাসের বিষয় হবে এই যে, আল কুরআনের আগে আল্লাহতায়ালা যেসব কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, সেগুলো সত্য ও হক এবং সে যুগে এর ওপর আমল করা বাধ্যতামূলক ছিল। আর এ যুগে কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পর যেহেতু অন্যান্য আসমানি কিতাবের হুকুম-আহকাম এবং পূর্ববর্তী শরিয়ত মানসুখ বা বাতিল হয়েছে, তাই এখন আমল একমাত্র কুরআনের আদেশানুযায়ীই হবে।

৫. মুত্তাকির পঞ্চম গুণ হচ্ছে পৃথিবীর জীবনের কর্মের চিরস্থায়ী ফলাফল পাওয়ার জন্য আখিরাতের জীবনের ওপর সুদৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা।

কুরআন মজিদ থেকে হিদায়াত পাওয়ার জন্য মুত্তাকি হওয়া শর্ত। আর মুত্তাকি হওয়ার জন্য আল্লাহতায়ালা যে পাঁচটি গুণের কথা বলেছেন, তার মধ্যে আখেরাতের প্রতি ঈমান অন্যতম। ঈমান বিল গায়েবের মধ্যে আখিরাত থাকলেও এর গুরুত্বের কারণে আল্লাহতায়ালা পৃথকভাবে আখেরাতের প্রতি ঈমান আনার কথা বলেছেন। এরশাদ হয়েছেযারা মুত্তাকি তারা আখেরাতে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।’ (২ঃ৪)।

আখেরাতে বিশ্বাস বলতে বোঝায়, এ দুনিয়ার জীবন মানুষের জন্য শেষ নয়, দুনিয়ার জীবনের কর্মফল বা প্রতিদান ভোগ করার জন্য পরকালের জীবন রয়েছে, যা মৃতুøর পর থেকে শুরু হয়ে অনন্তকাল চলবে। আখেরাতের জীবনের কোনো শেষ নেই। আখেরাতসংক্রান্ত আরো যেসব বিষয়ের ওপর ঈমান বা বিশ্বাস আনতে হয় তা হচ্ছে (১) কবরের সুখ বা শান্তি (২) কিয়ামত বা মহাপ্রলয়, (৩) হাশর ও পুনরুত্থান, (৪) দুনিয়ার জীবনের কর্মের বিচার বা প্রতিদান, (৫) পুলসিরাত, (৬) জান্নাত, (৭) জাহান্নাম ইত্যাদি।

মুত্তাকির এ গুণগুলো হচ্ছেঃ (১) বিশ্বাসগত গুণ, (২) শারীরিক ইবাদত বা আনুগত্যের গুণ (৩) আর্থিক ত্যাগ স্বীকারের গুণ।


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: