দয়া ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য

দয়া ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য


আমাদের মাঝ থেকে আজ দয়া, মায়া ও করুণা বিদায় নিতে চলেছে। আমরা দিন দিন কঠিন হৃদয়, নির্মম ও কর্কশভাষী হয়ে পড়ছি। প্রতি মুহূর্তে আমরা খোদার দয়ায় বেঁচে আছি; অথচ মানুষ হয়ে মানুষকে দয়া করার মন-মানসিকতা হারিয়ে ফেলছি।
পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে মানুষকে আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হওয়া আবশ্যক। মহান আল্লাহ দয়াবান ওক্ষমাশীল—গাফুরুর রাহিম। তিনি রাহমান (পরম দয়ালু), রাহিম (পরম করুণাময়) আর রাউফুম বিল ইবাদ (বান্দার প্রতি অতীব দয়ালু)। দয়া ও করুণা আল্লাহপাকের গুণ। মানবতার মহান বন্ধু নবী করিম (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরামের গুণ। আল্লাহপাকের সিফাতি নামগুলোর বেশির ভাগই তাঁর দয়া ও করুণার স্বাক্ষর বহন করে। তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘আমার দয়া থেকে নিরাশ হয়ো না’ (সূরা জুমার, আয়াত-৫৩)। দয়া মানবতার শ্রেষ্ঠ গুণ। দয়াদ্র হৃদয় মহান স্রষ্টার করুণার দান। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মানুষকে হওয়া প্রয়োজন দয়ার সাগর। যে মানুষ দয়াহীন, হৃদয়হীন ও নিষ্ঠুর; আল্লাহ তার ওপর রহমত বর্ষণ করেন না। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের ওপর দয়া করে না! আল্লাহতায়ালা তার প্রতিও রহমত বর্ষণ করেন না’ (বোখারি শরিফ)।
উদার মানসিকতা নিয়ে কাউকে কোনো বিষয়ে আনুকূল্য দেয়া, মানুষের বিপদ-আপদে সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়ানো, কোনো কিছুর দায়দেনা থেকে রেহাই দেয়া, ক্রোধ ও কঠোরতা পরিহার করে প্রতিশোধ না নিয়ে মাফ করে দেয়া, চিন্তার প্রসারতা ঘটিয়ে মহত্ ও সহৃদয় হওয়া, সঙ্কীর্ণ মত বা পথ থেকে মুক্ত থাকা, স্রষ্টাকে রাজি-খুশি করার উদ্দেশ্যে সহিত নিয়তে দান করা, সৃষ্টির সেবা করা, কোমল ও সুন্দর আচরণ করা, সৃষ্টি জীবের প্রতি দরদী-সদাশয় হওয়া, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে মানুষের কল্যাণে সত্ কর্ম করা, মানুষের ইহকাল ও পরকালের শান্তির জন্য স্বার্থহীনভাবে আল্লাহর পথে ডাকাই হচ্ছে দয়া।
কঠোরতা ও ক্রোধ মানুষকে প্রতিশোধপরায়ণ করে তোলে। এমন লোকজন দয়ালু ও উদার হতে পারে না এবং কাউকে ক্ষমা করতেও পারে না। দয়া মানুষকে কোমল হৃদয়ের অধিকারী করে। দয়া ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করে এবং বন্ধুত্বের দুয়ার খুলে দেয়। দয়া ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য। রাসুল (সা.) ইসলাম প্রচারের অন্যতম কৌশল হিসেবে দয়া ও উদারতাকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন দয়া, ক্ষমা ও উদারতার মূর্তপ্রতীক, যার ফলে দ্বন্দ্ব-সংঘাত, হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি ও পাপে নিমজ্জিত কঠোর হৃদয়ের অধিকারী মরুচারী অসভ্য জাতি-গোষ্ঠীকেও তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্য জাতিতে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আসলে দয়াবান ব্যক্তিদের দাওয়াত সাধারণ জনগণ কখনও প্রত্যাখ্যান করে না। নবীজি (সা.) যদি কঠিন ও কর্কশভাষী হতেন, তাহলে ইসলাম প্রচার সম্ভব হতো না।
দয়া পরম দয়ালু আল্লাহর গুণ। যে দয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে সে আল্লাহর সঙ্গেই সম্পর্ক স্থাপন করে। যে এর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সে আল্লাহর সঙ্গেই সম্পর্ক ছিন্ন করে। দয়ালু লোকদের প্রতি পরম দয়ালু ও করুণাময় আল্লাহ দয়া ও করুণা প্রদর্শন করেন। রাসুলপাক (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পৃথিবীবাসীকে দয়া কর, আকাশের মালিক তোমাদের দয়া করবেন’ (তিরমিজি শরিফ)। ‘যার দয়া ও সহানুভূতি নেই—তার প্রকৃতপক্ষে কোনো গুণই নেই।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: