সম্পত্তিতে নাতিপুতির অধিকার

সম্পত্তিতে নাতিপুতির অধিকার


দাদার সম্পদে নাতি-নাতিনের অধিকার বিষয়টি ইসলামি আইনে সবচেয়ে বিতর্কিত ও আলোচিত বিষয়। যদি কোনো লোক তার পিতার জীবদ্দশায় মারা যায়, তাহলে তার সন্তানরা তার সম্পদে তো উত্তরাধিকারী হবে, কিন্তু তার পিতার মৃতুøর পরে পিতার সম্পদে তার সন্তানরা, যারা তার পিতার নাতি-নাতিন হন, উত্তরাধিকারী গণ্য হবেন কি না। কুরআন, হাদিস, মানবতাবাদ, মানুষের স্বভাবজাত ইনসাফবোধ ইত্যাদি বিষয়ের আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে। সন্তানরা তাদের জন্ম থেকে নিয়ে শৈশব ও কৈশোরকাল পর্যন্ত অভিভাবকদের ওপর নির্ভরশীল থাকে। তাদের প্রতিপালন, শিক্ষাদীক্ষা, চিকিৎসা এমনকি বিয়েশাদি পর্যন্ত অভিভাবকের ওপর নির্ভর করে। পিতা জীবিত থাকলে তার ওপর এসব দায়িত্ব বর্তায়। কিন্তু কোনো কারণে যদি ছোট সন্তান রেখে পিতা-মাতা মারা যান, তাহলে সে সন্তানের দুর্দশার সীমা থাকে না। অনাথ এতিম এই শিশুদের অসহায় অবস্থায় দাদা, চাচা কিংবা নানা-মামারা এগিয়ে না এলে তাদের বাঁচা-মরা সমান হয়ে যায়। এখন প্রশ্ন এ ঊর্ধ্বতন পিতা-মাতার সম্পদে নাতিপুতির হক আছে কি নেই। দাদা-দাদী, নানা-নানী মারা গেলে ছেলে বা মেয়ের তরফের নাতি সম্পদ পায় কি না। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করেনঃ আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে নিদের্শনা দিচ্ছেনঃ একজন পুত্র সন্তান পাবে দুজন কন্যাসন্তানের সমান হিস্‌সা’ (সূরা নিসা-১১)। আমরা আগের আয়াতে দেখেছি, নাতিপুতি আওলাদের অন্তর্ভুক্ত। আর সেই আওলাদের ব্যাপারে এ আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, একজন ছেলে ততটুকু সম্পদ পাবে, দুজন মেয়ে সম্মিলিতভাবে যতটুকু সম্পদ পায়। সুতরাং এ আয়াতদ্বয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, নাতিপুতি সম্পদ পায়। তাদেরকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এখন যদি অপর কোনো নির্দেশনার মাধ্যমে তাদেরকে বাদ দেয়ার কোনো দলিল পাওয়া যায়,তাহলেই কেবল তাদেরকে বাদ দেয়া যাবে। যেহেতু এ রকম কোনো দলিল পাওয়া যায়নি, সুতরাং তাদেরকে বাদ দেয়ার পক্ষে কোনো যুক্তি নেই। যেমন মনে করুন, কোনো সন্তান মুসলিম হলে কিংবা পিতা-মাতার হত্যাকারী হলেও ওপরের নির্দেশনা মোতাবেক তারাও উত্তরাধিকারী পরিগণিত হয়ে সম্পদ পাওয়ার কথা। কিন্তু রাসূল সাঃ যেহেতু বলেছেন, ‘একজন মুসলমান কোনো অমুসলিমের সম্পদে উত্তরাধিকারী হবে না এবং কোনো অমুসলিম কোনো মুসলমানের সম্পদে উত্তরাধিকারী হবে না’ (বুখারি, মুসলিম)। এবং তিনি আরো বলেছেনঃ হত্যাকারী সম্পদে উত্তরাধিকারী হবে না’ (সুনানু ইবনে মাজাহ)। সেহেতু এ হাদিস দুটির ভিত্তিতে কাফির ও হত্যাকারী সন্তানকে উত্তরাধিকারীর তালিকা থেকে বাদ দেয়া যাবে। যদি এ হাদিস দুটি না থাকত, তাহলে তারাও সম্পদে হিস্‌সা পেত।

আলোচনা ও পর্যালোচনাঃ উলামায়ে কেরামের অনেকে মনে করেন, দাদার জীবিতাবস্থায় পিতা মারা গিয়ে থাকলে সে পিতার সন্তানরা দাদার মৃতুøর পর সম্পদে হিস্‌সা পাবে না যদি মৃত দাদার কোনো ছেলে জীবিত থাকেন। তবে যদি সে দাদার মৃতুøর সময় শুধু মেয়ে উত্তরাধিকারী থাকেন, তাহলে সে এক বা একাধিক মেয়ে তাদের জন্য নির্ধারিত হিস্‌সা নেয়ার পরে যদি সম্পদ অবশিষ্ট থাকে, তাহলে সে অবশিষ্ট সম্পদ নাতিপুতি পাবে। তারা মেয়েদের যবিল ফুরুজ গ্রুপের (নির্ধারিত হিস্‌সাদার উত্তরাধিকারী) অন্তর্ভুক্ত উত্তরাধিকারী মনে করেন। তারা বলেন, যেহেতু মেয়েরা অর্ধেক বা দুই তৃতীয়াংশ পান, তাই অবশিষ্ট সম্পদ নাতি থাকলে সে পাবে। যদি একজন মেয়ে ও একজন ছেলের তরফের নাতিন থাকে, তাহলে মেয়ে অর্ধেক নেয়ার পরে এক-ষষ্ঠাংশ নাতিন পাবে, যাতে করে দুজনের সম্মিলিত হিস্‌সা মোট দুই তৃতীয়াংশ হয়। আর যদি একাধিক মেয়ে থাকে তাহলে ছেলের তরফের নাতনীরা কিছুই পাবে না। কারণ মেয়েদের হিস্‌সা সর্বোচ্চ দুই-তৃতীয়াংশ। তবে যদি নাতনীর সাথে একজন নাতিও থাকে, তাহলে মেয়েদের জন্য নির্ধারিত হিস্‌সার পর অবশিষ্ট অংশ নাতি ও নাতনী পাবে। তারা বলেন, তখন নাতনী, নাতি থাকার কারণে তার সাথে যৌথভাবে আছাবা গণ্য হবে। কিন্তু কোনো ছেলে জীবিত থাকলে নাতি-নাতনী কিছুই পাবে না। তাদের বক্তব্য হলো ছেলে আছাবা। সে্‌ একা সব সম্পদ লাভ করার অধিকার রাখে। এ কারণে কোনো ছেলে থাকলে অন্য কোনো নাতিপুতি কিছুই পাবে না। তাদের বক্তব্যের সপক্ষে তারা নিØোক্ত প্রমাণ পেশ করেনঃ ১. তারা মনে করেন, যদিও নাতিপুতি সন্তান হিসাবে গণ্য হন কিন্তু তা রূপক বা মজাযিঅর্থে। মূল বা হাকিকিঅর্থে আপন ছুলবিসন্তান হলেন প্রকৃত সন্তান। ছুলবি বলতে নিজের সন্তান বোঝায় যেখানে মধ্যখানে অন্য সন্তান ঢুকে পড়েনি। সে কারণে সন্তানের সন্তান মজাযি অর্থে সন্তান হিসেবে গণ্য হন। আর হাকিকি ও মজাযি অর্থ একসাথে গ্রহণ করা জায়েয নয়। এ কারণে ছুলবি ছেলে বর্তমান থাকলে মজাযি ছেলে অর্থাৎ নাতিপুতি কিছুই পাবে না। ২. তাদের আরেকটি যুক্তি হলো,পিতা যেমন পিতা, দাদাও তেমনি পিতা। পিতার বর্তমানে দাদা যেমন উত্তরাধিকারী গণ্য হন না, তেমনি ছেলের বর্তমানে নাতিপুতি উত্তরাধিকারী গণ্য হতে পারেন না। তবে কন্যাসন্তানের সাথে নাতিপুতি পাবে। কারণ কন্যাসন্তান একা সব সম্পদ লাভ করতে পারে না। এ কারণে তাদের নির্ধারিত হিস্‌সার পর যে সম্পদ অবশিষ্ট থাকবে, তা নাতিপুতি আছাবা (অনির্ধারিত অবশিষ্টাংশভোগী উত্তরাধিকারী) হয়ে লাভ করবে। মেয়েরা সব সম্পদ পায় না এ কারণেই কেবল নাতিপুতি অবশিষ্ট সম্পদ পাবে। ৩. তাদের আরেকটি যুক্তি হলো, উত্তরাধিকার আইনে অধিকতর কাছের আত্মীয় তুলনামূলক দূরের আত্মীয়কে বঞ্চিত বা বহির্ভূত করে। আপন সন্তান যেহেতু সন্তানের সন্তান অর্থাৎ নাতিপুতির চেয়ে নিকটতর, তাই সে তুলনামূলক দূরের সন্তান নাতিপুতিকে বঞ্চিত ও বহির্ভূত করবে। ৪. তাদের আরেকটি যুক্তি হলো, হজরত আবদুুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ থেকে বর্ণিত হাদিস। সে হাদিসে এসেছেঃ হজরত হুজাইল বিন শুরাহবিল রাহঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি হজরত আবু মুসা রাঃ ও সালমান বিন রাবিয়া রাঃ-এর কাছে এসে তাদের একজন
কন্যা, একজন ছেলের তরফের নাতনী ও একজন বোনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করল। তখন তারা বললেনঃ কন্যা পাবে অর্ধেক আর যা বাকি থাকবে তা পাবে বোন। তুমি বিন মাসউদকে জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারো, তিনিও আমাদের মতোই বলবেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন সে লোক বিন মাসউদ রাঃ-এর কাছে গিয়ে তাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করলে তিনি বললেনঃ আমি সঠিক পথ না পেলে এখন বিভ্রান্ত হয়ে যেতাম। বরং আমি এমন রায় দেবো, যে রকম রায় রাসূলুল্লাহ সাঃ দিয়েছিলেন মেয়ের জন্য অর্ধেক, ছেলের তরফের নাতির জন্য এক ষষ্ঠাংশ; ‘দুই-তৃতীয়াংশ পূরণের জন্যআর অবশিষ্ট হিস্‌সা পাবে বোন।’ (বুখারি, মুসলিম)। ৫. তাদের সর্বশেষ যুক্তি হলো ইমায়ে উম্মাত’ (ইসলাম পণ্ডিতদের ঐকমত্য)। মুসলিম উম্মার সব আলেম এ ব্যাপারে একমত যে, আপন ছেলে থাকলে মৃত ছেলের তরফের নাতিপুতি কিছুই পাবে না। আর ইজমা হলো ইসলামের একটি বড় স্তম্ভ।

ওপরে বর্ণিত যুক্তিগুলোর ভিত্তিতে উলামায়ে কেরাম নাতিপুতিকে দাদা, দাদী, নানা, নানীর সম্পদ থেকে বঞ্চিত বলে ঘোষণা করেন। আমরা উলামায়ে কেরামের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ রেখেই বলব তদের সব দাবি দালিলিক ভিত্তি ও যৌক্তিকতার দিক থেকে দুর্বল ও ভিত্তিহীন। আসুন আমরা তাদের দাবির অসারতা ও যুক্তিহীনতা প্রমাণ করি।

১. আপন ছুলবি সন্তান হলেন হাকিকি অর্থে সন্তান আর নাতিপুতি মজাযি অর্থে সন্তান বলে তাদের বক্তব্যটি ত্রুটিপূর্ণ। প্রকৃত অর্থে আপন সন্তান ও সন্তানের সন্তান হলো হাকিকি অর্থে ছুলবিসন্তান আর ভাতিজা ভাতিজি মজাযিঅর্থে সন্তান বলে পরিগণিত হন। যেমন আল্লাহ বলেনঃ আর তোমাদের ছেলেদের স্ত্রীগণকে বিয়ে করা হারাম করা হয়েছে যে ছেলেরা তোমাদের ছুলবি ছেলে।’ (সূরা নিসা-২৩)। এ আয়াতে ছুলবি শব্দ দ্বারা আপন ঔরসজাত সব সন্তানের কথা বোঝানো হয়েছে। এ কারণেই ছেলের বা মেয়ের তরফের নাতির তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে করা দাদা-নানার ওপর জায়েজ নয়। আর ভাতিজা ভাতিজিদের মজাযি অর্থে সন্তান বলা হয়, যার উদাহরণ সূরা আল আনফালের ২৭ নম্বর আয়াত, যা ওপরে বর্ণিত হয়েছে। কারণ চাচা পিতা হলে ভাতিজা তো ছেলে হয়। কারণ সূরা আল আনফালের ২৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ হাকিকি ও মজাযি অর্থ এক সাথেই গ্রহণ করেছেন।

২. ছেলে আছাবা হওয়ার কারণে সে একাই সব সম্পদ পাবে, নাতি পুতি পাবে না। আর মেয়েরা একা সব সম্পদ লাভ করতে পারে না এ কারণে মেয়ের সাথে নাতি-নাতনী পেতে পারে।তাদের এ দাবি কুরআনের সিদ্ধান্তের খেলাফ। আল্লাহ বলেনঃ আর পুরুষ নারীর সকলকে আমরা আছাবা বানিয়েছি তাদের পিতামাতা ও আত্মীয়স্বজন যা কিছু রেখে যাবেন তাতে।’ (সূরা নিসা-৩৩)। এ আয়াতে নারী-পুরুষের সবাইকে আছাবা ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং নারী সন্তানের সাথে নাতিপুতি পাবে, পুরুষ সন্তানের সাথে পাবে না এ রকম বক্তব্য চলবে না। দাদা পিতার স্থলাভিষিক্ত হন; এ জন্য যার স্থলাভিষিক্ত হবেন তার বর্তমানে স্থলাভিষিক্তির প্রশ্ন আসে না। এ কারণে পিতা থাকলে দাদা উত্তরাধিকারী হন না। কিন্তু ছেলে ও নাতির ক্ষেত্র সে রকম নয়। জীবিত ছেলের নাতি তো আর তার পিতার বর্তমানে উত্তরাধিকারী হবে না। কিন্তু যে ছেলে মারা গেছে, তার সন্তান উত্তরাধিকারী হওয়ার পথে অপর জীবিত ছেলে প্রতিবন্ধক হতে পারে না। কারণ নাতির হাজিব’ (বঞ্চিত বা বহির্ভূতকারী) তার নিজের পিতা হতে পারেন কিন্তু তার চাচা হতে পারেন না। দুই ভাই যেমন পারস্পরিক একজনের হাজিব অন্যজন নন, তেমনি এক ভাইয়ের সন্তানের হাজিব অন্য ভাই হতে পারেন না।

৩. অধিকতর কাছের আত্মীয় তুলনামূলক দূরের আত্মীয়কে বঞ্চিত করে এ যুক্তি সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সমস্তরের কাছের আত্মীয় তুলনামূলক দূরের আত্মীয়কে বঞ্চিত করে। ভিন্ন স্তরের আত্মীয়দের ক্ষেত্রে এ যুক্তি খাটে না। যেমনযদি কারো পিতা জীবিত থাকেন ও ছেলের নাতি জীবিত থাকে, তাহলে পিতা অধিকতর কাছের আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও ছেলের নাতিকে বঞ্চিত করতে পারবে না। কারণ ছেলে বা নাতি সন্তানের স্তরের আর পিতা ভিন্ন স্তরের আত্মীয়। তখন পিতা মাত্র এক-ষষ্ঠাংশ পাবেন আর আওলাদ হওয়ার কারণে ছেলের নাতি অবশিষ্ট পাঁচ-ষষ্ঠাংশ লাভ করবে।

৪. হজরত আবদুুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ থেকে বর্ণিত এ হাদিস করিমা পালকপুত্রদের উত্তরাধিকার প্রাপ্তি যখন বৈধ ছিল, সে সময়কার হতে পারে। যে নাতিনকে এক-ষষ্ঠাংশ দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সে নাতিন পালক পুত্রের তরফের হতে পারেন। কারণ পঞ্চম হিজরি সালের আগ পর্যন্ত পালক পুত্র বা তাবান্নীগণ এবং তাদের সন্তানগণ উত্তরাধিকার পেতেন। সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে যে, সে নাতিন পালক পুত্রের তরফের ছিলেন। তা ছাড়া এ হাদিসখানা খবরে ওয়াহিদ ও কুরআনের খেলাফ হওয়ায় গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ খবরে ওয়াহিদ দিয়ে কুরআনের বিধানকে রহিত করা যায় না। আর আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেনঃ যদি কোনো লোক নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যায় এবং তার একজন বোন থাকে, তাহলে সে বোন মৃত ব্যক্তি যা কিছু ছেড়ে যাবে তার অর্ধেক পাবে। বোন মারা গেলে ভাইও উত্তরাধিকারী হবে, তবে শর্ত হলো মৃত লোক নিঃসন্তান হতে হবে।’ (সূরা নিসা-১৭৬)। আল্লাহর পরিষ্কার নির্দেশনার খেলাফ কন্যাসন্তানের সাথে বোনকে হিস্‌সা দেয়ার বর্ণনা সঠিক হতে পারে না। উল্লেখ্য, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আয়াত নাজিল হয়েছে উহুদ যুদ্ধের পরে। তখনো নারীকে মাওলা করা সংক্রান্ত আয়াত নাজিল হয়নি। তা ছাড়া সন্তানের উপস্থিতিতে ভাইবোন কোনো হিস্‌সা পায় নাসংক্রান্ত সূরা নিসার ১৭৬ নম্বর আয়াত বিদায় হজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পরে পথিমধ্যে নাজিল হয়। এ আয়াতগুলোর মাধ্যমে আবদুুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ বর্ণিত হাদিসখানা রহিত হয়ে গেছে। এ কারণে মানসুখহাদিসের দলিল দিয়ে নাতিপুতিকে বঞ্চিত করা যাবে না।

৫. ইজমার দোহাই দিয়েও নাতি পুতিকে বঞ্চিত করা যাবে না; কারণ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে ইজমার দাবি সঠিক নয়। এ ক্ষেত্রেও তাই। নীরব ইজমা কোনো ইজমা নয়। কখন কাদের দিয়ে ইজমা সংগঠিত হলো? সবচেয়ে বড় কথা হলো, কুরআনের হুকুমের খেলাফ কোনো ইজমা হতে পারে না। পৃথিবীর সব লোকও যদি কুরআনের খেলাফ কোনো ব্যাপারে একমত হন, তবুও উহার দ্বারা শরিয়তের কোনো বিধান পরিবর্তন, পরিবর্ধন, বাতিল বা স্থগিত করতে পারবেন না। মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি, আল্লাহর গোলাম। গোলাম হয়ে মুনিবের কোনো হুকুম কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না। উপরন্তু ইজমা অলঙ্ঘনীয় কোনো বিধান নয়।

ওপরের আলোচনায় এ কথা পরিষ্কার হয়েছে যে, নাতিপুতিদেরকে দাদা-নানার সম্পদ থেকে বঞ্চিত করার সপক্ষে কোনো যুক্তিসঙ্গত দলিল প্রমাণ কুরআন হাদিসে বর্তমান নেই। সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে ফতোয়া দেয়া হয়, ছেলেমেয়ে থাকলে নাতিপুতি সম্পদ পাবে না। অথচ আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেনঃ আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে নির্দেশনা দিচ্ছেন একজন পুত্রসন্তান দুজন কন্যাসন্তানের সমান হিস্‌সা পাবে।’ (সূরা নিসা-১১)। যেহেতু নাতিপুতি বা অধস্তন বংশের লোকেরা সন্তানের অন্তর্ভুক্ত, তাই তারা ঊর্ধ্বতন উত্তরাধিকারীর মৃতুøতে হিস্‌সা পাবে। সে হিস্‌সা প্রদান করা ফরজ কাজ ও হিস্‌সা প্রদান না করা কবিরা গুনাহ বলে বিবেচিত হবে। কুরআন কারো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। ইচ্ছামাফিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে ইলমুল ফারাইজকে ত্রুটিপূর্ণ করা হয়েছে। এ কারণে রাসূল সাঃ যথার্থই বলেছেনঃতোমরা ইলমুল ফারাইজ নিজেরা শিক্ষা করো এবং অন্য লোকদেরকে তা শিক্ষা দান করো। কারণ উহা সমগ্র জ্ঞানের অর্ধেক। উহাতে অচিরেই ভুল হবে। উহা প্রথম জিনিস যা আমার উম্মতের নিকট থেকে ছিনিয়ে নেয়া হবে।’ (ইবনে মাজাহ, দার কুতনী প্রভৃতি)।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: