প্রেমময় নামাজ তাহাজ্জুদ

প্রেমময় নামাজ তাহাজ্জুদ


একজন মুমিন বান্দা দৈনিক পাঁচবার নামাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভে ধন্য হয়ে থাকে। কিন্তু ফরজ নামাজ ব্যতীত এমন কিছু নফল নামাজ আছে যার মাধমে একজন মুমিন বান্দা আল্লাহপাকের একান্ত ঘনিষ্ঠতা ও সান্নিধ্য লাভ করে থাকে। আর তা হল শেষ রাতের তাহাজ্জুদ নামাজ

মহান আল্লাহপাকের সঙ্গে বান্দার গভীর সম্পকê সৃষ্টি করার প্রধান ও সবেêাত্তম ইবাদত হল সালাত বা নামাজ। আর তাই পবিত্র কোরআনে সব ইবাদতের মধ্যে সালাতের কথা উচ্চারিত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। আল্লাহ বলেন,তোমরা সকল নামাজ এবং বিশেষভাবে মধ্যবতীê নামাজের হিফাজত কর। আর আল্লাহর সামনে বিনয়াবনত অবস্থায় দাঁড়াও। (সূরা বাকারাঃ আয়াত ২৩৮) তোমরা নামাজ কায়েম কর আর মুশরিকদের অন্তভêুত্ত্ন হয়ো না। (সূরা রূমঃ আয়াত ৩১) আমাকে স্মরণের জন্য তোমরা নামাজ কায়েম কর। (সূরা বাকারাঃ আয়াত ১৪) নবী করীম (সা·) ইরশাদ করেন, ইবাদতের মধ্যে সবেêাত্তম হল সালাত বা নামাজ।

একজন মুমিন বান্দা দৈনিক পাঁচবার নামাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভে ধন্য হয়ে থাকে। কিন্তু ফরজ নামাজ ব্যতীত এমন কিছু নফল নামাজ আছে যার মাধমে একজন মুমিন বান্দা আল্লাহপাকের একান্ত ঘনিষ্ঠতা ও সান্নিধ্য লাভ করে থাকে। আর তা হল শেষ রাতের তাহাজ্জুদ নামাজ।

বস্তুত আল্লাহর প্রিয় বান্দারা তার মনের অনাবিল শান্তি লাভের জন্য এক অব্যত্ত্ন আকষêণে পাগলপারা হয়ে যায়। কেননা স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি ও ধনসম্পদ, বাড়ি-গাড়ি তার মনের চাহিদা ও অশান্তি দূর করতে পারে না। তাই প্রেমিক যেমন রাতের আঁধারে তার প্রেমিকার সঙ্গে একান্তে মিলিত হয়ে প্রাণ খুলে কথা বলে পরম শান্তি লাভ করে এবং রাত শেষ হয়ে গেলেও কথা শেষ হয় না, তেমনি শেষ রাতে যখন মানুষ গভীর ঘুমে নিমগ্ন থাকে তখন আল্লাহর প্রেমিক বান্দারা ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে যায়। অথবা আল্লাহ নিজেই তার প্রেমিক বান্দাকে জাগ্রত করে দেন। কারণ আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দার নামাজ ও আল্লাহ আল্লাহ জিকির খুব পছন্দ করেন। আল্লাহকে পাওয়ার জন্য একজন মুমিন বান্দা যখন শেষরাতে অজু করে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে ইন্নি ওয়াজ্জাহাতু ওয়াজহিয়া লিল্লাজি ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানিফাও ওমা আনা মিনাল মুশরেকীন পযêন্ত অথê হূদয়ঙ্গম করে পাঠ করে তখন প্রেমময় আল্লাহর সঙ্গে প্রেমিক বান্দার এক আধ্যাত্মিক কানেকশন হয়ে যায়। যেমন- বৈদুøতিক সুইচে চাপ দেয়ামাত্র বাতি জ্বলে ওঠে। এরপর নিয়ত করে হাত বাঁধার পর সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়াতাবারাকাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লাইলাহা গায়রুকা পাঠ করার সঙ্গে সঙ্গে মনপ্রাণ নিয়ে বান্দা আল্লাহর সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়।

অতঃপর নামাজে সূরা ফাতিহা পাঠে বান্দা বলতে থাকে আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীনঃ। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্বজগতের পালনকতê, তিনি পরম দয়ালু ও করুণাময়। তিনি বিচার দিনের মালিক। আল্লাহ আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং তোমার কাছেই সাহায্য প্রাথêনা করি। আমাদের সরল সঠিক পথে পরিচালিত কর, ওই লোকদের পথে যাদের ওপর তুমি নিয়ামত বষêণ করেছ। তাদের পথে নয়, যারা ত্র্নোধে নিপতিত ও পথভ্রষ্ট হয়েছে। মহান আল্লাহকে হাজির-নাজির জেনে তাঁকে উদ্দেশ করে এ কথাগুলো বলতে বলতে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার ভাবের আদান-প্রদান শুরু হয়ে যায়। এরপর পবিত্র কোরআনের আয়াত তিলাওয়াতের সময় বান্দার সঙ্গে আল্লাহর আরও নিবিড় সম্পকê সৃষ্টি হয়ে যায়। যার ফলে আয়াতে যখন আল্লাহপাকের অফুরন্ত নিয়ামতের কথা আসে অথবা কঠোর আজাবের কথা আসে তখন বান্দা নামাজে কেঁদে ফেলেন। মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দার এই কাঁদা প্রত্যক্ষ করে তার ওপর অজর ধারায় রহমত বষêণ করেন। ফলে এই নামাজের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর প্রেমে ডুবে যায়। তখন বান্দা তার মনে তৃপ্তি ও আনন্দ অনুভব করে, যা আল্লাহর প্রেমিক বান্দা ব্যতীত কেউ তা উপলব্ধি করতে সক্ষম নয়, আর এই সময়টুকু আল্লাহর প্রেমিক বান্দার কাছে বিশ্বজগতের সবকিছুর চেয়ে অধিক মূল্যবান মনে হয়।

অতঃপর আল্লাহকে উদ্দেশ করে বান্দা যখন নামাজে আত্তাহিয়াতু লিল্লাহি ওয়াসসালাওয়াতু ওয়াত তাইয়্যেবাতু পাঠ করে তখন লাইলাতুল মিরাজে রাসূলুল্লাহ (সা·)-এর সঙ্গে মহান আল্লাহর যে দীদার লাভ হয়েছিল, তেমনি এ সময় আল্লাহপাকের সঙ্গে বান্দারও এক গভীর সম্পকেêর সৃষ্টি হয়। সঙ্গে সঙ্গে নবী করীম (সা·) ও তাঁর আহলে বায়াতের ওপর দরূদ পাঠের মাধ্যমে তার এই ইবাদত পরিপূণêতা লাভ করে। তাই নবী করীম (সা·) বলেছেন, নামাজ হল মুমিন বান্দার জন্য মিরাজ।

বস্তুত শেষরাতে যখন মানব-দানব, পশুপাখি ঘুমের ঘোরে অচেতন, তখন নামাজে দাঁড়ালে যে একাগ্রতা ও আন্তরিকতা সৃষ্টি হয় এরকম একাগ্রতা অন্য সময় সৃষ্টি হয় না। কারণ শেষরাতে সব ধরনের কোলাহলশূন্য অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই মনে দুনিয়ার কোনও চিন্তার উদ্রেক হয় না। সুতরাং প্রেমময় ও দয়াময় আল্লাহর সঙ্গে মহব্বতের সম্পকê সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আরামের ঘুম পরিত্যাগ করে শেষরাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে যেতে হবে। তবে প্রথমত, ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া একটু কষ্ট হলেও আল্লাহ প্রেমের সুধা পান করার সৌভাগ্য হলে তখন এতে কষ্টের পরিবতেê প্রবল আকষêণ সৃষ্টি হবে এবং এর মাধ্যমে পরম শান্তি, আনন্দ ও আত্মতৃপ্তি লাভ হবে। এমনকি তখন রাত শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে আল্লাহর প্রেমিক বান্দা বলবে, হায় রাত যদি আরও দীঘê হতো।

আল্লাহর প্রিয় হাবীব (সা·) পাঁচ ওয়াত্ত্ন নামাজ সবêদা জামাতে আদায় করতেন। আবার শেষরাতেও এত দীঘê সময় দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতেন, ফলে তাঁর কদম মোবারক ফুলে যেত। হজরত আয়েশা (রা·) জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহপাক তো আপনার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন। তবুও কেন এত কষ্ট স্বীকার করে রাতে নামাজ আদায় করেন? নবী করীম (সা·) বলেন, এজন্য আমি কি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?

আওলিয়া কিরামের জীবনী পাঠ করলে দেখা যায়, যারা আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভে ধন্য হয়েছেন, তারা সবাই নবী করীম (সা·) আদশê অনুসরণ করে যথাযথভাবে ফরজ আদায় করেছেন এবং শেষরাতে তাহাজ্জুদ নামাজ ও জিকির-আজকারে অতিবাহিত করেছেন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: