আজান ও ইকামতের জবাবের ফজিলত

আজান ও ইকামতের জবাবের ফজিলত


পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য আজান দেয়া হয় আর জামাতে নামাজ আদায়ের আগে দেয়া হয় ইকামত। আজান ও ইকামত শুনলে নিয়মানুযায়ী জবাব দিতে হয় আর এ জবাবের জন্য রয়েছে সাওয়াব বা পুণ্য। আমরা আজানের জবাব দিলেও ইকামতের জবাব হয়তো অনেকেই দিই না। কেউ কেউ শুধু আশহাদু আন্না মুহাম্মদার রাসূলুল্লাহ-এর জবাব দিয়ে থাকেন। যারা ইকামতের জবাব দিতে হবে জানেন এবং জবাব দিতে সচেষ্ট, তারা কিন্তু পুরো জবাব দিতে সক্ষম হন না অনেক ইমাম আর খতিব সাহেবের অসচেতনতার কারণে। কারণ মুয়াজ্জিন সাহেব ইকামতের শেষ শব্দ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহবলার সাথে সাথেই বেশির ভাগ ইমাম ও খতিব সাহেব তাকবিরে তাহরিমা আল্লাহু আকবরবলে থাকেন। এ ক্ষেত্রে নিজে তো ইকামতের জবাব দেয়ার প্রয়োজন মনে করেন না, মুসল্লিরাও জবাব দেয়ার সুযোগ পান না। মুয়াজ্জিনের ইকামতের শেষ শব্দ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহশেষ না করতেই ইমাম বা খতিব সাহেব আল্লাহু আকবর বলে নামাজ শুরু করেন এ দৃশ্যও কিন্তু মাঝে মাঝে দেখা যায়। ইকামতের শেষ শব্দ উচ্চারণের সাথে সাথেই তাকবিরে তাহরিমা আল্লাহু আকবার বলতে হবে, এটাই কি প্রকৃত নিয়ম? এভাবে কি সাওয়াব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে না নিজকেসহ মুসল্লিদের?

আজান ও ইকামত শুনে জবাবে কী বলতে হবে তা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আজানের জবাব সম্পর্কে মুসলিম ও আবু দাউদে বর্ণিত হাদিস হচ্ছে, উমর ইবনুল খাত্তাব রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: এরশাদ করেছেন, ‘মুয়াজ্জিন বলবে, আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর তখন তোমাদের কেউ যদি বলে আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর; এরপর যখন মুয়াজ্জিন বলে আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ সে বলে আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ; এরপর যখন মুয়াজ্জিন বলে আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সে-ও বলে আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সা:, পরে মুয়াজ্জিন যখন বলে হাইয়্যা আলাস সালাহ, সে বলে লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাহ বিল্লাহ, পরে মুয়াজ্জিন যখন বলে হাইয়্যা আলাল ফালাহ, সে বলে লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ; এরপর মুয়াজ্জিন যখন বলে আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর সে বলে আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, পরে মুয়াজ্জিন যখন বলে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ সে তখন বলে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এ বাক্যগুলো যদি অন্তর থেকে বলে তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।আর ইকামতের জবাব সম্পর্কে আবু দাউদে বর্ণিত হাদিস হচ্ছে, আবু উমামা আল-বাহিলি রা: অথবা রাসূলুল্লাহ সা:-এর অন্য কোনো সাহাবি থেকে বর্ণিত যে, ‘বিলাল রা: ইকামত দিচ্ছিলেন। যখন তিনি কাদকামাতিস সালাহ বললেন, তখন রাসূলুল্লাহ সা: বললেন,আকামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা (অর্থাৎ আল্লাহ তা প্রতিষ্ঠিত রাখুন এবং তা চিরস্খায়ী করুন)। বর্ণনাকারী আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: ইকামতের অন্যান্য শব্দের বেলায় হজরত উমর রা: থেকে বর্ণিত আজানের হাদিসের অনুরূপ বলেছেন। হাদিসদ্বয় থেকে প্রমাণিত, আজানের মতো ইকামতের জবাব দিতে হবে।

আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, আজানের জবাব শেষে আমাদের অনেকেই দোয়া পড়া শুরু করেন। এ ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে আজানের শেষে দরুদ পড়তে হবে এবং দরুদ পড়া শেষ করে দোয়া পড়তে হবে। এ ব্যাপারে মুসলিম, আবু দাউদ,তিরমিজি ও নাসাঈ শরিফে বর্ণিত হাদিস হচ্ছে, ‘তোমরা যখন মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাবে তখন তোমরাও তার অনুরূপ বাক্য বলবে। এরপর আমার ওপর সালাত-দরুদ পাঠ করবে। কেননা আমার ওপর যে একবার দরুদ পাঠ করবে আল্লাহ তার ওপর ১০ বার রহমত নাজিল করবেন। পরে আল্লাহর কাছে আমার জন্য অসিলার দোয়া করবে। যে ব্যক্তি আমার জন্য অসিলার দোয়া করবে, তার জন্য আমার শাফায়াত অবশ্যম্ভাবী।’ ফজরের আজানে মুয়াজ্জিন যখন আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম বলে এর জবাবে বলতে হবে ‘সাদ্দাকতা ওয়া বারাকতা’। আজানের শেষে দোয়ার আগে সালাত-দরুদের কথা হাদিসে বলা হলেও কোনো কোনো মসজিদে কিন্তু আজানের আগে দরুদ পড়তে শোনা যায়। আজানের আগে দরুদ পড়তে হবে এ রকম কোনো হাদিস আছে কি? ঈমানদার মুসলমান হিসেবে আমরা একটু সচেতন হলে আজানের জবাব দিয়ে অশেষ সওয়াব অর্জন করতে পারি। আজানের মৌখিক জবাবের পাশাপাশি বাস্তব জবাবও কিন্তু দিতে হবে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে! কাজেই আসুন, আজানের মতো আমরা ইকামতেরও জবাব দিতে সচেষ্ট হই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: