আলসার সারাতে খাবার

আলসার সারাতে খাবার


আলসার হলো একটি ক্ষতিকারক রোগ। পেটে আলসারের প্রধান কারণ অ্যাসিডের অধিক ক্ষরণ, যা পাচনের কাজে ব্যাঘাত ঘটায়।

আজকাল অনেকেই আলসারে ভোগেন। চিকিৎসার সাথে সাথে খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো মেনে চললেই এ রোগের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। আপনি আহারে নিয়মিতভাবে লাউ, চালকুমড়া, কাঁচা পেঁপে, কাঁচকলা, মিষ্টি আলু,পাকা কাঁকরোল প্রভৃতি সবজি খেলে উপকার পাবেন। এ ছাড়া খাবার সময় এককোয়া কাঁচা রসুন খাবেন। কারণ এটি আলসার সারাতে বেশ কার্যকর।


Advertisements

প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ইসলাম

প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ইসলাম


বর্তমান বিশ্বের সর্বপ্রধান সমস্যা হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তন। পরিবেশবাদীরা এবং আন্দোলনকারী বহু সংগঠন ও ফোরাম বিশ্বব্যাপী আওয়াজ তুলছে, পরিবেশ পরিবর্তন ঠেকাতে সরকারগুলো যেন বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করে। মুসলিম হিসেবে চলমান বিশ্বের কল্যাণ-অকল্যাণে আমরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করতে পারি না। রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেছেন সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে মুসলিমদের সামগ্রিক বিষয়-আশয়কে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে না। এ সুন্দর পৃথিবীকে সাজিয়ে-গুছিয়ে সৃষ্টি করে তথায় খিলাফতের দায়িত্ব পালনের জন্য আল্লাহতায়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীর সার্বিক তত্ত্বাবধান এ খিলাফতের অন্যতম দায়িত্ব। এ পৃথিবীর সার্বিক পরিবেশ সংরক্ষণও দায়িত্বের আওতায় পড়ে।

এ সুন্দর পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় সৃষ্টিকুলের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে আল্লাহতায়ালা আমাদের উদ্দেশে বলেন, নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে, রাত এবং দিনের আবর্তনে সাগরের বুকে চলতে থাকা নৌযানগুলো, যা মানুষের প্রভূত কল্যাণ সাধন করে, আকাশ থেকে আল্লাহ যে বারি বর্ষণ করেন, যা দ্বারা মরে যাওয়া জমিনকে তিনি জীবন্ত করে তোলেন এবং সব প্রাণিকুলকে ছড়িয়ে দেন, বায়ুপ্রবাহ এবং আকাশ ও জমিনের মধ্যখানে অনুগত করে রাখা মেঘমালার মধ্যে রয়েছে জ্ঞানী লোকদের জন্য বহুবিধ নিদর্শন। (বাকারাঃ ১৬৪)

আল্লাহ আমাদের নীতিমালা ঠিক করে দিয়েছেন, আমাদের সাথে স্রষ্টার সম্পর্ক কেমন হবে? প্রতিটি সৃষ্টির সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন থাকবে, সে ব্যাপারেও রয়েছে ইসলামে সুস্পষ্ট নীতিমালা। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেনঃসদাচরণ করো, যেমনটি আল্লাহ তোমার প্রতি সদাচরণ করেছেন। আর ভূপৃষ্ঠে ফাসাদ সৃষ্টি করো না। আল্লাহ ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেন না।

এ ফাসাদের রয়েছে বহুবিধ অর্থ। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশকে বিনষ্ট করে দেয়া। জলবায়ু,প্রাণিজগৎ, গাছপালা, পাখপাখালি, মৎস্যরাজি এসব কিছুর সার্বিক ক্ষতিসাধন হয়, এমন কর্মে জড়িত হওয়া মানবজাতির জন্য বৈধ নয়। প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতিটি উপাদান আমাদের প্রতি আমানত। এসব আমরা ভোগ করব, এমনকি ভক্ষণ করব ঠিকই, কিন্তু সার্বিক ক্ষতিসাধনের মতো কোনো অন্যায় কর্ম যেন আমরা না করি। কিন্তু এসবের ব্যবহার করতে গিয়ে মানুষ সীমালঙ্ঘন করে আজ প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে অনেক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। গ্লোবাল ওয়ার্মিং এ পৃথিবীকে বিপন্ন করে তুলেছে। আবহাওয়া ও পরিবেশ পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার, যা উৎপাদন করছে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড। যেসব প্রাকৃতিক সম্পদকে আল্লাহতায়ালা আমাদের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করেছিলেন, সেগুলোর অপচয় ও অপব্যবহার আমাদের পৃথিবীর আগামী প্রজন্মের জীবনকে ভয়ঙ্কর বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রাকৃতিক সম্পদগুলোর অপচয় ও অপব্যবহারের ফলে দূষিত হচ্ছে জলবায়ু, বেড়ে যাচ্ছে ভূকম্পন, উজাড় হয়ে যাচ্ছে বনাঞ্চল, হারিয়ে যাচ্ছে বহু পশুপাখি ও বৃক্ষরাজি। অপচয় ও অপব্যবহার ইসলামে অত্যন্ত নিন্দনীয়। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেনঃ তোমরা খাও এবং পান করো, তবে অপচয় করো না। (আরাফঃ ৩১) তিনি আরো বলেন, ‘অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। (বনি ইসরাইলঃ ২৭)। খাবার-দাবারের ক্ষেত্রে ইসলাম নিয়ন্ত্রিত হতে বলেছে। রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেনঃ পেটের চেয়ে খারাপ আর কোনো বস্তু বনি আদম পূর্ণ করে না। এতটুকু খাবার গ্রহণই বনি আদমের জন্য যথেষ্ট, যা খেলে তার মেরুদণ্ড দণ্ডায়মান থাকে। যদি খেতেই হয়, তাহলে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবার আর এক-তৃতীয়াংশ পানীয়, আর বাকি অংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য বরাদ্দ করবে। আফসোসের বিষয় হচ্ছে, অনেক সময় আমরা এত বেশি পাক করি, যা খেয়ে শেষ করতে পারি না। বেশি পরিমাণের ঠিকানা হয় শেষ পর্যন্ত ডাস্টবিন। অতিরিক্ত খাদ্য খেয়ে যত রোগী হাসপাতালে যায়, তার তুলনায় কম খাদ্য গ্রহণের ফলে রোগী হয়ে খুব কম লোকই হাসপাতালে যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উন্নত বিশ্বের অন্যতম বড় সমস্যা হচ্ছে মুটিয়ে যাওয়া, মাত্রাতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণই অধিকাংশ সময় মুটিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রিয় নবী সাঃ এরশাদ করেনঃ আমরা এমন এক জাতি, যারা ক্ষুধা না লাগা পর্যন্ত খাবার গ্রহণ করি না। আর খেতে বসলে পুরো পেট ভর্তি না হওয়া পর্যন্ত খাই। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, তার উম্মতের কিছু লোকের পেট বড় হতে থাকবে কিয়ামতের আগে। প্রাকৃতিক পরিবেশের তোয়াক্কা না করে বেধড়ক শিল্পায়ন,প্রয়োজনের অতিরিক্ত শিল্পদ্রব্য উৎপাদন, বিজ্ঞানের বল্গাহীন গবেষণা, প্রযুক্তির যথেচ্ছ ব্যবহার, জিএস ফুড চর্চা,ক্লোনিং এসব কিছুর সীমালঙ্ঘন পৃথিবীর
লবায়ুকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশের অন্যতম উপাদান গাছপালা, বৃক্ষরাজি। এ ব্যাপারে আপনারা অনেকেই প্রিয় নবী সাঃ-এর হাদিস জেনেছেন। যদি দেখো যে,কিয়ামত শুরু হয়ে গেছে আর তোমার হাতে রয়েছে একটি গাছের চারা, এটিকে রোপণ করতে বিলম্ব করো না। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানকে আল্লাহ পরিবেশ রক্ষার জন্য একে অপরের সম্পূরক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি এরশাদ করেনঃ আল্লাহ প্রতিটি জিনিসকে পরিমাণ মতো সৃষ্টি করেছেন। (তাল্লাকঃ ৩) ।চন্দ্র-সূর্যের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘চন্দ্র ও সূর্য বেঁধে হিসাব মেনে চলে। (আর রাহমান)। শুধু মানুষই অপচয়, অপব্যবহার আর সীমালঙ্ঘন করে ডেকে আনে বিপর্যয়। মানবজাতি পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবেলা করতে যে পেরেশানি করছে, মুসলিমদের জন্য সুযোগ এসেছে ঐশীবাণীতে যে সুন্দর সমাধান রয়েছে, তা পেশ করে মানবতাকে উদ্ধার করতে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন।


মাথা ঘোরার প্রতিকার

মাথা ঘোরার প্রতিকার


মাথা ঘুরানো সুখকর কোনো অভিজ্ঞতা নয়। বিভিন্ন কারণে মাথা ঘুরতে পারে। কারণগুলো হলো- অতিরিক্ত পরিশ্রম, অন্তঃকর্ণের রক্তনালীর অস্বাভাবিকতা, অন্তঃকর্ণের প্রদাহ, অস্বাভাবিক দৃষ্টিপাত সমস্যা, কানের প্রদাহ,দুশ্চিন্তা, ঘাড়ে আঘাত, কপালের একপাশে ব্যথা, নারীর ক্ষেত্রে রজঃনিবৃতি, টিউমার, মস্তিষ্কে অপর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ, হৃদরোগ, সাইনাস, রক্তস্বল্পতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের অসুখ, মানসিক দুশ্চিন্তাগ্রস্ততা প্রভৃতি।

মাথাঘোরা সমস্যা থেকে পরিত্রাণের উপায়গুলো হলো হঠাৎ মাথা ঘুরালে কোনো কাজ করতে থাকলে তা বন্ধ করে দেয়া। চিৎ হয়ে শুয়ে পড়া। চোখ দুটো বন্ধ রাখা। সহজে শ্বাস নেয়া এবং সাহায্যের জন্য কাউকে ডাকা। দুশ্চিন্তা পুষে না রাখা, কান দুটো পরিষ্কার রাখা, ঘাড় সোজা রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, সতর্কতার সাথে ওষুধ সেবন। যদি মাঝেমধ্যেই মাথা ঘুরে বা ঝিমঝিম করে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়া।

ব্যায়াম করা কেন প্রয়োজন

ব্যায়াম করা কেন প্রয়োজন


যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তারা, যারা ব্যায়াম করেন না তাদের চেয়ে, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের, ক্ষেত্রে ৩ গুণ বেশি ঝুঁকিমুক্ত। ব্যায়াম করলে বিশেষ করে স্ট্রোকের আশঙ্কা বহুগুণ কমে যায়। ব্যায়ামে হৃৎপিন্ডের পেশি শক্তিশালী হয়। ফলে একাধিক হৃদরোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। যারা নিয়মিত শরীরর্চ্চা করছেন তাদের ব্লাডপ্রেসার,কোলেস্টেরল এবং শারীরিক ওজন সহনীয় মাত্রায় থাকে। আপনি যদি একজন হৃদরোগী হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার চিকিৎসকের নির্দেশিত উপায়ে শরীরর্চ্চা করুন।

স্ত্রীর মোহরানা পরিশোধ করা আল্লাহর নির্দেশ

স্ত্রীর মোহরানা পরিশোধ করা আল্লাহর নির্দেশ


দাম্পত্যজীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও চরমভাবে উপেক্ষিত এমন একটি বিষয় নিয়েই এ প্রবন্ধের আলোচনা। ঘর সংসার করার পরও স্ত্রীকে তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত রাখা আর বঞ্চিত রাখার প্রয়োজনে কূট-কৌশলের আশ্রয় নেয়া তথা ধর্মীয় নির্দেশ অমান্য করার ব্যাপারটি রীতিমত আশ্চর্যজনকই বটে! তবে ব্যাপারটি এমনই গুরুত্ববহ যে,নিয়মমাফিক উক্ত ন্যায্য পাওনা পরিশোধ না করলে তা আদালত পর্যন্ত গড়ানোর মত বিষয়! আর বলে রাখা ভাল যে, সে আদালত হচ্ছে আদালতে আখেরাত তথা হাশরের ময়দান।

ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কুরআনুল করীমে আল্লাহ বলেন, ‘আর স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও সন্তুষ্টচিত্তে (সূরা নিসা আয়াত নং-৪)। মো

হরানা কি? এর উত্তরে বলা যায়, বিয়েতে আলস্নাহ কর্তৃক নির্দেশিত অপরিহার্য প্রদেয় হিসেবে স্বামী কর্তৃক স্ত্রী যে অর্থ সম্পদ পেয়ে থাকে, তাকে মোহরানা বলে। অন্যভাবে বলা যায়, মোহরানা বলতে এমন অর্থ সম্পদ বুঝায়, যা বিয়ের বন্ধনে স্ত্রীর ওপর স্বামীত্বের অধিকার লাভের বিনিময়ে স্বামীকে আদায় করতে হয়। মনে রাখতে হবে মোহরানা স্বামীর করুণা নয়, নয় সামাজিক কোন ট্র্যাডিশন। এছাড়া বিয়ের কথার সময় মোহরানা ধরতে হবে আর বাসর রাতে মোহরানা মাফ চাইতে হবে বা মাফ নিতে হবে এমন খেলনা জাতীয় বিষয়ও নয়। স্ত্রীর মোহরানা দেয়ার জন্য আল্লাহ যে নির্দেশ তা নামাজ-রোযার মতই কুরআনের নির্দেশ, ফরজ। মোহরানার অর্থ সামগ্রী স্ত্রীর একান্ত প্রাপ্য। মোহরানা স্ত্রীর অর্থনীতির নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর এক বিশেষ দান এবং স্ত্রীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তার রক্ষাকবচও বটে!

সামর্থের মধ্যে বিয়ের মোহরানা নির্ধারণ করা মহানবী সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষা। সামাজিক স্ট্যাটাস বা লৌকিকতার খাতিরে মোটা অংকের মোহরানা ধার্য করে তা পরিশোধ না করা, পরিশোধ করার ইচ্ছে নেই, শুধু একটা অংক স্বীকার করা প্রতারণার শামিল। স্ত্রীর সঙ্গে প্রথম নির্জন সাক্ষাতে মোহরানার টাকা মাফ চেয়েছেন,এরকম স্বামীর সংখ্যা কি কম? বিয়ের মজলিসে অনেক মানুষের সম্মুখে মোহরানার অংক কবুল করে বাসর ঘরে একাকী স্ত্রীর নিকট মোহরানা মাফ চাওয়া (মাফ না চেয়ে যে স্বামী সময় চেয়েছেন তাকে অসংখ্য মোবারকবাদ,পৌরুষের অধিকারী হিসেবে তিনি অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য) বা মাফের সুযোগ খোঁজা কি আদৌ পৌরুত্বের পরিচায়ক? পৌরুর অধিকারী ঈমানদার স্বামী মোহরানা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত স্ত্রীর একান্ত এক অধিকার। বাসর রাতে তা স্ত্রীকে জানাবেন এটুকুই তো কাম্য এবং করণীয় হওয়া উচিত। মোহরানা স্ত্রীর এমন এক প্রাপ্য যা তিনি স্বামীর সাথে মিলিত হওয়ার আগে প্রাপ্ত হবেন। স্ত্রীর সাথে আলোচনা সাপেক্ষে স্ত্রী স্বামীকে সময় দিলে বাকি রাখা চলে। তবে মোহরানার অর্থ আবশ্যিকভাবে পরিশোধ করতে হবে, হোক তা নগদ, কিছু নগদ বাকি অংশ পরে বা কিস্তিতে। ছলে-বলে কৌশলে বা স্ত্রীর অজ্ঞতার সুযোগে মোহরানা মাফ করিয়ে নিলে তা মাফ না হয়ে হবে জুলুম-প্রতারণা। মোহর আদায় না করলে স্ত্রীর নিকট ঋণী থাকতে হবে, পেতে হবে সাজা। এ ব্যাপারে হাদীসে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। রাসুল সালস্নাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোন মেয়েকে মোহরানা দেয়ার ওয়াদায় বিয়ে করেছে, কিন্তু সে মোহরানা আদায় করতে তার ইচ্ছে নেই, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে অপরাধী হিসাবে দাঁড়াতে বাধ্য হবে (মুসনাদে আহমদ)। এ প্রসঙ্গে আরেকটি হাদীস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রাসুল সাল্লালস্নাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘পাঁচ ব্যক্তির উপর আল্লাহর ক্রোধ অবশ্যম্ভাবী। তিনি ইচ্ছে করলে দুনিয়াতেই তাদের পর তা কার্যকর করবেন, নচেৎ আখিরাতে কার্যকর করবেন (এর মধ্যে এক ব্যক্তি হচ্ছেন) যে ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রীকে মোহরানার থেকে বঞ্চিত করে ও তার ওপর অত্যাচার চালায়। স্ত্রীর মোহরানার টাকা পরিশোধ করা কত জরুরি তা যেমনি স্বামীদেরকে ভাবতে হবে, তেমনি হবু স্বামীদেরকে সামর্থের মধ্যেই মোহরানা নির্ধারণে সচেষ্ট হতে হবে। মনে রাখতে হবে বিয়ে-শাদী সম্পন্ন হয় ধর্মের আলোকে, কোরআন হাদীস অনুযায়ী। অথচ মোহরানা নির্ধারণে বা পরিশোধে শরয়ী নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করা ঈমানদার ব্যক্তি বা পরিবারের জন্য কাম্য ও শোভনীয় নয়। দাম্পত্য জীবনরূপী পরীক্ষায় উত্তীর্ণের জন্য এবং পরকালীন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো থেকে বাঁচার জন্য মুসলমান হিসেবে বিবাহ, বিবাহে করণীয় ও বর্জনীয় এবং মোহর সংক্রান্ত নিয়ম-নীতি আমাদেরকে জানতে হবে,জানাতে হবে। এক্ষেত্রে বর-কনেসহ অভিভাবকদের, বিয়ের সাথে সংশিস্নষ্টদের বিশেষ করে মায়েদের সচেতনতা আদর্শ পরিবার গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে নিঃসন্দেহে। নারীদেরকে নিয়ে যারা চিন্তা-ভাবনা করেন, কথাবার্তা বলেন, লেখালেখি করেন, তারা যদি স্ত্রীদেরকে ইসলাম ধর্মের দেয়া মোহরানার ব্যাপারেও সোচ্চার হতেন, লেখালেখি করতেন তাহলে কতই না ভাল হতো। আমরা জানি ঋণ খেলাপীসহ বিভিন্ন খেলাপীদেরকে দুনিয়ার কাঠগড়ায় আসামী হতে হয়। মোহরানা খেলাপীরা দুনিয়ার কাঠগড়ায় আসামী না হলেও আখিরাতের কাঠগড়ায় আসামী হতেই হবে। স্ত্রীর মোহরানার অর্থ আদায় করা স্বামীর উপর যেমন অবশ্য কর্তব্য, তেমনি তা ইবাদতও। তাই বিবাহিতরা স্ত্রীর মোহরানা না দিয়ে থাকলে তা এক্ষুণি দিয়ে দেই আর বিবাহে ইচ্ছুকরা আগে-ভাগেই মোহরানার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করি এবং প্রস্তুতি গ্রহণ করি। আলস্নাহ আমাদেরকে কবুল করুন।


বৈচিত্রেভরা প্রাণিজগৎ

বৈচিত্রেভরা প্রাণিজগৎ

ভল্লুকঃ আমাদের দেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চলে ভল্লুক বাস করে। এছাড়া হিমালয়ের পাদদেশে এরা রয়েছে। মাথা থেকে লেজের আগা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার ফুট হতে সাড়ে ছয় ফুট লম্বা হয়ে থাকে। এদের শরীরের ওজন প্রায় ১৫০ কেজি পর্যন্ত হয়। সমস্ত শরীর কালো হয়। ভল্লুক সর্বভুক প্রাণী, বিভিন্ন জাতের ফল-মূল বাঁশের কঁচি গোড়া এবং অন্যান্য সবজি খেয়ে বনে-জঙ্গলে জীবনধারণ করে। মধু এদের খুব প্রিয়। এক সঙ্গে দুটি বাচ্চা প্রসব করে থাকে। ১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত এরা বেঁচে থাকে।

হাতিঃ বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে হাতি বাস করে। এদের উচ্চতা ৯ ফুট পর্যন্ত হয়। বিভিন্ন ধরনের ঘাস, পাতা,বাঁশপাতা ও গাছের ডালপালা খেয়ে হাতি জীবনধারণ করে। এদের জীবনকাল ৮০ বছর।

সিংহঃ পুরুষ সিংহ ৩ ফুট এবং স্ত্রী সিংহ ২ ফুট ১০ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। পুরুষ সিংহের ওজন ৪শ পাউন্ড পর্যন্ত হয়। বর্তমানে আফ্রিকার জঙ্গলে সিংহ রয়েছে। ভারতের গির অরণ্যেও এরা বাস করে। সাধারণত হরিণ, মহিষ ও জেব্রা ইত্যাদি শিকার করতে ভালবাসে। ১০ কি ১২ মাস বয়স হলে এরা শিকার শুরু করে দেয়। সিংহের জীবনকাল প্রায় ১৬ বছর পর্যন্ত।

জেব্রাঃ সাহারা মরুভূমির পূর্ব ও দক্ষিণ দিক হতে শুরু করে ইথিওপিয়া পর্যন্ত এরা বাস করে। জেব্রা ৪ ফুট পর্যন্তôলাফ দিতে পারে। ঘাস ও ভাঙ্গা যব এদের প্রিয় খাদ্য। সবুজ ঘাস, গাজর ইত্যাদিও খায়। জেব্রা সাধারণত ২০ বছর পর্যন্ত বাঁচে।

জিরাফঃ আফ্রিকা মহাদেশের সাহারা মরম্নভূমির দক্ষিণাঞ্চলের দেশ যেমন-সুদান, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, উগান্ডা প্রভৃতি দেশে জিরাফ বসবাস করে। ১৮ হতে ২০ ফুট পর্যন্ত এরা লম্বা হয়। প্রকৃতিতে এরা কাঁটা জাতীয় বাবলা ও বিভিন্ন গাছের পাতা খেয়ে জীবনধারণ করে। জিরাফ সাধারণত ২৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

শিম্পাঞ্জীঃ আফ্রিকার বিভিন্ন জায়গায় এবং কংগো নদীর অববাহিকায় শিম্পাঞ্জীর বসবাস। এরা দলবদ্ধভাবে চলাচল করে। শিম্পাঞ্জী চঞ্চল প্রকৃতির, দিনের বেলা এরা গাছে গাছে বসে থাকে। এরা বিভিন্ন প্রকারের ফলমূল, গাছের কচি ডালপাতা খেয়ে থাকে। বিভিন্ন ছোট পাখি এবং ডিমও খায়। শিম্পাঞ্জী সাধারণত ৭ থেকে ৮ বছর বয়সে পূর্ণতা লাভ করে। এরা গড়ে ৩০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

গেছো বাঘঃ গেছো বাঘের গলার স্বর সাধারণত বিড়ালের মতই। এই সুদর্শন জীবটির গায়ে ধূসর বর্ণের ওপর মেঘাকৃতি গুটি দাগ থাকে। লেজে কালো আংটির মত দাগ থাকে। এদের ওজন প্রায় ২০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাগুলো বেশ খাটো। এরা এক সঙ্গে ২ থেকে ৩টি বাচ্চা প্রসব করে। গেছো বাঘ প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

নীলগাইঃ ভারতের রাজস্থানে ও হরিয়ানা রাজ্যের বনাঞ্চলে এদেরকে বেশি দেখা যায়। একটি পুরুষ নীলগাইয়ের ওজন প্রায় ২৮০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। পৃথিবীর বহু দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নীলগাইয়ের খামার গড়ে উঠেছে। এরা এক সঙ্গে দুটি করে বাচ্চা দেয়।

বাঘঃ সুন্দবনের বাঘকে বলা হয় রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এদের মত ভয়ংকর ও সুতীব্র চাহনি পৃথিবীর অন্য কোনো জন্তুর মধ্যে নেই। পূর্ণ বয়স্ক বাঘের ওজন ৫ মণ পর্যন্ত হয়। প্রতি প্রসবে এরা ২ থেকে ৫টি বাচ্চা দিয়ে থাকে। এদের গায়ের রং উজ্জ্বল হলদে বর্ণের যার ওপর রয়েছে কালোডোরা কাটা দাগ। এর বিভিন্ন ধরনের প্রাণী শিকার করে। শুধু তাই নয়, মানুষ পেলেও খায়। বাঘ ১৫ থেকে ১৬ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

চুল-দাড়ি রঙ করায় কী বলে ইসলাম

চুল-দাড়ি রঙ করায় কী বলে ইসলাম

 


মানুষ তার শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য যে সব যত্ন নিয়ে থাকে চুল তার অন্যতম। ইদানীং নারী-পুরুষ হরদম চুলে কলপ মাখামাখি করছে। ১৫-১৬ বছরের কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে ৬০-৭০ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত কলপ মাখছে। এমনকি লম্বা পাঞ্জাবি মাথায় টুপি পড়া অনেক সাধারণ মুসল্লিকেও কলপ দিতে দেখা যায়। আলেম না হলেও দেখতে আলেমের মতো হওয়ায়, সত্যিকার আলেমরা সাধারণ মানুষের কাছে এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছে। ইসলামী শরিয়ত মতে দেশের সেনাবাহিনী যদি যুদ্ধক্ষেত্রে থাকে তখন তাদের কলপ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়েছে। আর সেসব সাহাবিকে (রা·) কলপ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়েছে, যাদের বয়সের তুলনায় স্ত্রীদের বয়স অনেক কম ছিল। কিন্তু এখন তো দেশে যুদ্ধ চলছে না এবং যেসব বয়স্ক লোকেরা চুলে দাড়িতে কলপ ব্যবহার করছে তাদের মধ্যে পাঁচ ভাগও নেই যাদের তুলনায় স্ত্রীদের বয়স একেবারে কম। তাহলে আমরা কি কোন ফেতনার দিকে এগুচ্ছি?

বশিরউদ্দীন নামে এরকমই ৬২ বছর বয়সের চুলে কলপ দেয়ার সঙ্গে কথা হল। কেন তিনি এ বয়সেও চুলে এবং দাড়িতে কলপ মাখছেন, তিনি প্রথমে গাল ভরা লাজুক হাসি হেসে বললেন, ‘অনেকদিন ধরে মাখছি তাই অভ্যাস হয়ে যাওয়ায় এখনও মাখছি। তাছাড়া নাতি-নাতনী ও ঘরের লোকদের কাছে বাড়তি একটা আনন্দ পাওয়া যায়। বশিরউদ্দীন সাহেবের কথায় বোঝা গেল, অভ্যাসের কারণে হোক আর আনন্দের কারণেই হোক তিনি কিন্তু এ বয়সেও নিজেকে সজীব রাখতে চান এবং তিনি চান না সহজে বুড়ো হতে বা এ নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে।

অথচ ইসলামে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর কথা স্মরণ করতে বলা হয়েছে, এমনকি হাদিসে এমনও এসেছে কোন লোক যদি দৈনিক ২০ বার মৃত্যুর কথা স্মরণ করে সে শহীদী মর্যাদার স্তরে মৃত্যু পাবে। বর্তমানে আমাদের দেশে সচরাচর নব্বই ভাগ লোক কলপ ব্যবহার করছে এ বিষয়ে প্রায় সব ইসলামী চিন্তাবিদরা একমত, কলপ ইবাদত পালনে প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করে বিধায় এটা বর্জনীয়। কারণ কলপ ব্যবহারের ফলে চুলের গোড়ায় অর্থাৎ চামড়ায় পানি পৌঁছাতে পারে না। চামড়ার ওপর এটা একটা সূক্ষ্ম আবরণ সৃষ্টি করে ফেলে। এর ফলে কলপ ব্যবহারকারীর কোনভাবে অজু হচ্ছে না। অজু যেহেতু নামাজের চাবি এতে নামাজও হচ্ছে না।

%d bloggers like this: