আযানের ঘটনা

আযানের ঘটনা


আযান একটি আহ্‌বান, প্রতিদিন আমরা পাঁচবার শ্রবণ করি। তার ধ্বনি আমাদের অন্তরসমূহকে নাড়া দেয়। আমাদের জীবন্ত করে তুলে, অলসতা দূর করে, উদ্দামতা আনয়ন করে। নিশ্চয় এটা ইসলামের নিদর্শন, তাওহীদের আলামত। আল্লাহ কি চান ? এ প্রশ্নের উত্তর যে জানতে চায়, সে যেন আযানের অর্থ নিয়ে চিন্তা করে। এটা সত্যের আহবান। এ হচ্ছে মুসলমানদের আযান ! আমরা এর ঘটনা জানি ? আমরা জানি কিভাবে আমাদের কাছে এসেছে এ আযান ? কিভাবে মুসলমান এর সন্ধান পেয়েছে ? এবং কিভাবে পৌঁছতে পেরেছে মুসলমানগণ আযান পর্যন্ত ? এ এমন কতগুলো প্রশ্ন, যা আযান প্রেমিক প্রত্যেকটি মানুষের জানা জরুরী। এ আযানের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে অন্য জাতির চেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করেছেন। এর জন্য তিনি আমাদেরকে মনোনিত করেছেন, একে তিনি আমাদের আলামত বানিয়েছেন।

ইসলামের শুরুতে সালাতের সময় হলে মুসলমানেরা নিজের পক্ষ থেকে মসজিদে এসে উপস্থিত হত। আযান, আহবান বা অন্য কোন মাধ্যমে ডাকাডাকি ছাড়াই। ইবনে ওমর – রাদিআল্লাহু আনহুমা-  থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেনঃ মুসলমানগণ যখন মদীনায় আগমন করে জড়ো হতেন, সালাতের সময়ের প্রতীক্ষা করতেন। তখন সালাতের জন্য ডাকাডাকি হতো না। একদিন তারা এ নিয়ে আলোচনা করলেন। কেউ বললঃ তোমরা নাসারাদের ন্যায় ঘণ্টার অনুসরণ কর। কেউ বললঃ না, বরং হর্ণ গ্রহণ কর, ইহুদিদের শিঙ্গার ন্যায়। ওমর – রাদিআল্লাহু আনহু-  বললেনঃ একজন লোক পাঠান, সে সালাত সালাত বলে ঘোষণা দেবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে বেলাল, তুমি দাঁড়াও, অতঃপর সালাতের ঘোষণা দাও।” {বোখারিঃ (৫৭৯), মুসলিমঃ (৩৭৭) }

ইবনে খুজাইমা – রাহিমাহুল্ল্লাহ-  স্বীয় গ্রন্থে এ শিরোনামে এক অধ্যায়ের সূচনা করেছেনঃ এ অধ্যায়ের দলিলের বর্ণনা যে, আযানের প্রচলন হয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদীনায় হিজরতের পর। তিনি মক্কায় সালাত আদায় করতেন আযান ও ইকামাত ছাড়াই।সহিহ ইবনে খুজাইমাঃ (১/১৮৯)

ইবনে ইসহাক – রাহিমাহুল্লাহ-  বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করেন, তখন লোকেরা কোন আহবান ছাড়াই তার নিকট সময় মত সালাতের জন্য উপস্থিত হতো।শায়খ আলবানী বলেছেনঃ এর সনদটি হাসান। দেখুনঃ ফিকহুস সীরাহঃ (১/১৮১) তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক মহান চিন্তা ছিল, মানুষদের কিভাবে সালাতের জন্য উপস্থিত করা হবে ? অবশেষে আল্লাহর বিধান চলে আসে।

আবু উমাইর বিন আনাস তার কোন আনসারী চাচা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের বিষয় নিয়ে খুব চিন্তা করলেন, এ জন্য তিনি কিভাবে মানুষদের জমায়েত করবেন ? তাকে বলা হলোঃ যখন সালাতের সময় হবে একটি পতাকা উত্তোলন করবেন, এ পতাকা দেখে একে অপরকে আহবান করবে। এ উত্তরে তিনি সন্তুষ্ট হলেন না। অতঃপর তার কাছে হর্ণ বাজানোর কথা বলা হলো। পূর্বে উল্ল্লেখিত বোখারির বর্ণনায় যেরূপ রয়েছে। জিয়াদ বললেনঃ ইহুদিদের হর্ণ। এ উত্তরেও তিনি সন্তুষ্ট হলেন না।

তিনি বললেনঃ এটা ইহুদীদের কর্ম। অতঃপর তাকে ঘণ্টার কথা বলা হলো। তিনি বললেনঃ এটা নাসারাদের কর্ম।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ চিন্তায় গভীরভাবে চিন্তিত হয়ে আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ বিন আবদে রাব্বিহি বাড়ি ফিরলেন, তাকে স্বপ্নে আযান দেখানো হলো। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গমন করলেন এবং তাকে আযান বিষয়ে স্বপ্ন সম্পর্কে সংবাদ দিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল, অর্ধ ঘুম ও নিদ্রাবস্থায় ছিলাম, আমার কাছে এক আগমনকারী আসল অতঃপর আমাকে আযান দেখালো। তিনি বলেনঃ ওমরও তার পূর্বে এ স্বপ্ন দেখেছে, তিনি তা বিশ দিন গোপন রাখেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানান। তিনি বললেনঃ তুমি আমাকে কেন সংবাদ দাওনি ?” বললেনঃ আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ আমার আগে বলে ফেলেছে, তাই আমার বলতে লজ্জা বোধ হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে বেলাল, দাঁড়াও, দেখ আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ কি বলে, তুমি তার অনুসরণ কর।তিনি বললেনঃ অতঃপর বেলাল আযান দিল। আবু বিশর বলেনঃ আবু উমাইর আমাকে বলেছে, আনসারগণের ধারণা, সেদিন যদি আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ অসুস্থ না হতেন, তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকেই মুয়াযি্‌যন বানাতেন।আবু দাউদঃ (৪৯৮), সহীহ আবু দাউদ লিল আল-বানীঃ (৪৬৮)

এ স্বপ্নের কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রভূত আনন্দিত হন এবং আল্লাহর প্রশংসা করেন, যেরূপ অন্যান্য বর্ণনায় এসেছে। ওমর – রাদিআল্লাহু আনহু-  যখন বেলালের মুখে আযানের ধ্বনি শুনলেন, চাদর হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে উপস্থিত হলেন। আর বললেনঃ হে রাসূল, যে আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তার শপথ, সে যেরূপ বলেছে আমিও অনুরূপ দেখেছি। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সকল প্রশংসা আল্লাহর।আবু দাউদঃ (৪৯৯), শায়খ আলবানী হাদীসটি সহিহ বলেছেনঃ সহিহ আবু দাউদঃ (৪৬৯)

অন্য বর্ণনায় হুবহু আযানের শব্দও বর্ণনা করা হয়েছে। মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হর্ণের ব্যাপারে চিন্তা করছিলেন এবং ঘন্টার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি তার কাছ থেকে চলে গেলাম। অতঃপর আব্দুল্লাহকে স্বপ্নে দেখানো হলো। তিনি বলেনঃ আমি এক ব্যক্তিকে দেখলাম দুটি হলুদ জামা গায়ে একটি ঘণ্টা নিয়ে দাঁড়ানো। আমি তাকে বললামঃ হে আল্লাহর বান্দা, তুমি কি ঘণ্টা বিক্রি করবে ? সে বললঃ তুমি এর দ্বারা কি করবে ? আমি বললামঃ সালাতের জন্য আহবান করবো। সে বললঃ আমি কি তোমাকে এর চেয়ে উত্তম জিনিসের কথা বলবো না ? আমি বললামঃ তা আবার কি ? সে বললঃ তুমি বলবেঃ

الله أكبر الله أكبر، الله أكبر الله أكبر.

أشهد أن لا إله إلا الله، أشهد أن لا إله إلا الله.

أشهد أن محمدا رسول الله، أشهد أن محمد رسول الله.

حي على الصلاة، حي على الصلاة.

حي على الفلاح، حي على الفلاح.

الله أكبر الله أكبر.

لا إله إلا الله.

তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ বের হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন, অতঃপর স্বপ্ন সম্পর্কে অবহিত করলেন। বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল, আমি দেখলাম হলুদ জামা গায়ে এক ব্যক্তি একটি ঘণ্টা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অতঃপর তাকে স্বপ্নের বিবরণ শোনালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের ভাই একটি স্বপ্ন দেখেছে, তুমি বেলালের সাথে মসজিদে যাও, তার কাছে গিয়ে বল, এবং বেলাল যেন এ শব্দ দ্বারা আহবান করে, কারণ তার আওয়াজ তোমার চেয়ে উচ্চ।তিনি বলেনঃ আমি বেলালের সাথে মসজিদে গেলাম, অতঃপর আমি তার কাছে বলতে লাগলাম, সে তার মাধ্যমে সালাতের আহবান জানাতে লাগল। সে বললঃ ওমর ইবনে খাত্তাব আওয়াজ শোনে বের হয়ে আসলেন, বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর শপথ, সে যেরূপ দেখেছে আমিও অনুরূপ দেখেছি। অতঃপর আবু উবাইদ বলেন, আবু বকর হিকমী আমাকে বলেছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ আনসারী এ সম্পর্কে বলেছেনঃ

أحمد الله ذا الجلال وذا الإكـ      رام حمداً على الأذان كثيراً

إذ أتاني به البشير من اللــ        ـه فأكرم به لدي بشيراً

في ليال والى بهن ثلاث                      كلما جاء زادني توقيرا

অর্থঃ {আযানের জন্য আমি আল্লাহর অনেক প্রশংসা করছি, যিনি বড়ত্বের ও সম্মানের অধিকারী। যখন আমার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে এ নিয়ে সুসংবাদ দাতা আসল, তিনি আমাকে এর মাধ্যমে সুসংবাদ দাতা হিসিবে সম্মানিত করেন। লাগাতার তিন রাতে তিনি আমার কাছে আসেন, যখনই তিনি আসেন আমার সম্মান বৃদ্ধি করেন।}”

ইবনে মাজাহঃ (৭০৬), শায়খ আলবানী হাদীসটি হাসান বলেছেনঃ সহিহ ইবনে মাজাহঃ (৫৮০),

আর (الصلاة خير من النوم) এর সংযোজন হয়েছে বেলাল – রাদিআল্ল্লাহু আনহু- এর পক্ষ থেকে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুমতি প্রদান করেন। বেলাল – রাদিআল্লাহু আনহু-  থেকে বর্ণিত, “তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সালাতের সংবাদ দিতে আসেন, অতঃপর তাকে বলা হয়, তিনি ঘুমন্ত। ফলে তিনি বলেনঃ (الصلاة خير من النوم) (الصلاة خير من النوم) এরপর থেকে ফজরের আযানে এটা প্রচলিত হয়।ইবনে মাজাহঃ (৭১৬), শায়খ আলবানী হাদীসটি সহিহ বলেছেনঃ সহিহ ইবনে মাজাহঃ (৫৮৬)

এর মাধ্যমেই আমরা আযানের ঘটনা জানতে পারলাম, যা এখনো আমাদের কর্ণসমূহ আন্দোলিত করে। এটা মহান নিআমত, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানাই, তিনি এর শোকর আদায় করার তাওফীক দান করুন। এবং আযান যেন আমাদের জন্য সংরক্ষণ করেন, যেন আমরা এর মাধ্যমে পূর্ব-পশ্চিম জয় করতে সক্ষম হই। সকল প্রশংসা আল্ল্লাহ তাআলার জন্য নিবেদিত।

সূত্রঃ ইসলাম ‌হাউস

Advertisements

ইসলাম ও দাস প্রথা

ইসলাম ও দাস প্রথা


ইসলামের ওপর তথাকথিত প্রগতিবাদীদের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ উত্থাপিত হয়ে থাকে দাস প্রথা তার একটি। মার্কসবাদীরা মানুষকে ইসলাম থেকে বিমুখ করার হীন উদ্দেশ্যে এ হাতিয়ারটিকে সাময়িকভাবে ব্যবহার করে। তাদের দাবী ইসলাম সাময়িকভাবে পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনে সক্ষম হয়েছিল সন্দেহ নেই। কিন্তু তাই বলে তা সর্বকালের জন্যে মানবতার একমাত্র আদর্শ হতে পারে না। কারণ ইসলাম দাস প্রথাকে স্বীকার করে। অথচ এ ছিল ইতিহাসের গতিধারায় এক পর্যায়ের অনিবার্য ব্যবস্থা। ইসলাম যদি সর্বকালের মানুষের জন্যে জীবন বিধানরূপে স্রষ্টার পক্ষ থেকে মনোনীত হতো, তাহলে এ প্রথাটিকে কখনই স্বীকৃতি দিতো না। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, ইসলাম ছিল সাময়িক জীবন দর্শন। সাময়িকভাবে তা সফল ছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এখন তা অচল। প্রগতিশীলদের এরূপ প্রচারণার ফলে মুসলিম যুবমানস আজ বিপর্যস্ত। তারা ইসলাম সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে পড়েছে। বলা বাহুল্য, এটি ইসলাম থেকে মুসলিম যুব সমাজকে বিচ্ছিন্ন করার একমাত্র চক্রান্ত নয়। সাহিত্য, সংস্ড়্গৃতি ও শিক্ষার নানা আবরণে মুসলিম সমাজকে বিভ্রান্ত করার প্রয়াস পশ্চিমাদের নিয়মিত কর্মকাণ্ডের অন্তর্গত।

ইউরোপের নতুন সভ্যতার প্রশংসা ও গুণগান করতে গিয়েই আধুনিক শিক্ষিত সমাজ পাশাপাশি ইসলামের বিভিন্ন বিধি ব্যবস্থার ত্রুটি ও অসামঞ্জস্য শনাক্ত করার প্রয়াস চালায়। ইসলামের কথা আসতেই তারা দাস প্রথার কথা বেশ রং লাগিয়ে ফলাও করে প্রকাশ করেন। অথচ ইসলামই প্রথম ব্যবস্থা যা মানুষকে মানুষের গোলামী থেকে মুক্তিদানের বাস্তব পদক্ষেপ নিয়েছে। ইসলামের সাথে দাস প্রথার সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্যে আমাদেরকে ঐতিহাসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টিকে বিবেচনা করতে হবে।

বিংশ শতাব্দীর শেষ প্রান্তে এসে মানুষ যখন সভ্যতার শীর্ষে উপনীত হবার দাবী করছে তখন দাস প্রথা একটি প্রাচীন মানবেতর সমাজের চিত্র হিসেবে তাদের নিকট প্রতিভাত হয়। আজকের পটভূমিতে দাঁড়িয়ে যদি কেউ প্রাচীন যুগের দাস প্রথার কথা ভাবেন এবং দাস শ্রেণীর সাথে কি ধরনের ঘৃণ্য আচরণ করা হতো, তা যদি চিন্তা করা হয়, তবে এটিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক এক ব্যবস্থা বলে মনে হবে। আমরা হয়তো ভাবতেই পারবো না যে, কোন জীবন ব্যবস্থা এরূপ একটি প্রথাকে কিভাবে অনুমোদন দেয়। অথচ ইসলাম মানুষকে একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব ব্যতীত অন্য কারো দাসত্ব স্বীকার করতে নিষেধ করে। মুসলমানদের অনেকের ধারণা ইসলাম যদি খোলাখুলিভাবে দাস প্রথা নিষিদ্ধ করতো তাহলে কতই না সুন্দর হত।

তবে প্রথমেই বলে রাখা ভাল, দাস প্রথা পৃথিবীর প্রাচীন প্রতিটি সভ্যতায়ই বিদ্যমান ছিল। কিন্তু অন্যান্য সভ্যতায় দাস শ্রেণীর সাথে যে আচরণ করা হতো তার সাথে সাথে মুসলমানদের আচরণ বিচার করলেই ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও মানবিকতার উজ্জ্বল নিদর্শন পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ রোমান সমাজের কথা উল্লেখ করা যায়। রোমানরা দাসদেরকে মানুষ বলে গণ্য করতো না। দাস ছিল পণ্য সামগ্রী। তাদের কোন অধিকারের প্রশ্নই ছিল না। বরং তাদেরকে সারাক্ষণ নানা কাজে লিপ্ত রাখা হতো। অন্যান্য সমাজের অবস্থাও ছিল অনুরূপ।

দাস প্রথার উদ্‌ভব কিভাবে হলো তার কোন প্রামাণ্য দলিল খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে এতটুকু বলা যায় যে, সম্্‌ভবত যুদ্ধজয়ের সামগ্রী রূপেই দাস শ্রেণীর উদ্‌ভব হয়েছিল। অথচ এসব যুদ্ধের পিছনে কোন নীতি বা আদর্শের বিষয় ছিল না। বরং কোন জাগতিক স্বার্থ উদ্ধার করার জন্যেই তাদের সকল যুদ্ধ বিগ্রহ পরিচালিত হতো। রোমান জাতির যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল তাদের বিলাসবহুল জীবনের সামগ্রী যোগান দেয়া। আনন্দদায়ক সুখ সামগ্রী অর্জনের জন্যে তারা বিভিন্ন জাতিকে অধীন করে রাখতে চাইতো। এসব যুদ্ধে যারা বন্দী হতো, তাদেরকে নিতান্ত অপরাধী গণ্য করতো। তাই তাদের কোন অধিকারই স্বীকৃত ছিল না। অত্যন্ত নির্মমভাবে তাদেরকে হত্যা করা হতো। আশুরী, মিসরী ও ইহুদী জাতি যুদ্ধবন্দীদের সাথে এরূপ আচরণই করতো।

কিছুদিন পর তাদের এই নীতিতে কিছুটা পরিবর্তন আসে। যুদ্ধবন্দীদেরকে হত্যা করার পরিবর্তে তাদেরকে দাস বানাবার নীতি প্রচলিত হলো। কিন্তু তাদের উপর চলতো অমানুষিক নির্যাতন। দাসদেরকে কঠোর পরিশ্রম করতে বাধ্য করা হতো। মাঠে কাজ করার সময় তারা যাতে পালাতে না পারে সেজন্যে পাহারার ব্যবস্থা থাকতো অথচ তাদের হাতে পায়ে লোহার শিকল ও বেড়ি পরানো হতো। তাদের আহারের ব্যবস্থা ছিল অতি নিম্নমানের। কোন মতে বেঁচে থাকার মত খাবারই তাদেরকে দেয়া হতো। তা- ও দেয়া হতো কাজ নেয়ার স্বার্থে। তারা যাতে কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারে সেজন্যেই এ খাবারটুকু দেয়া হতো। এ খাবারটুকু যে তাদের প্রাপ্য তা তারা মনে করতো না। অথচ মজার ব্যাপার হলো- পশুপাখি ও গাছপালার যত্ন নেয়া তাদের নিকট খুব প্রয়োজনীয় ছিল। কাজের সময়ও তাদের প্রতি নির্যাতন চালানো হতো। কাজের শেষে তাদেরকে রাখা হতো অন্ধকার এক কুঠরীতে, তাও শিকল পরিয়ে। রোমানদের সমাজে এক অদ্‌ভুত চিত্তবিনোদনের রীতি প্রচলিত ছিল। দাসদেরকে বল্লম ও তরবারি দিয়ে যুদ্ধে নামিয়ে দিয়ে প্রভুরা সে দৃশ্য দেখতো। স্বয়ং সম্রাট এ যুদ্ধ উপভোগ করার জন্যে মাঝে মাঝে উপস্থিত হতেন। দাসরা মরণপণ লড়াইয়ে লিপ্ত হতো। তরবারি ও বল্লম নিয়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়তো প্রতিপক্ষের উপর। এতে উভয়ই ক্ষত-বিক্ষত হতো। এভাবে এক সময় একজন নিহত হতো নির্মমভাবে। প্রভুরা আনন্দে করতালি বাজিয়ে বিজয়ী দাসকে অভিনন্দন জানাতো আর অট্টহাসিতে ফেটে পড়তো।

আইনের দৃষ্টিতে দাসদের অবস্থা কি তা আলোচনা করার কোন প্রয়োজন নেই। কেননা দাসদের হত্যা করার, শাস্তি দেয়ার বা নির্যাতন করার ব্যাপারে পূর্ণ অধিকার ছিল প্রভুদের। এমনকি কোথাও কোন অভিযোগ করারও সুযোগ ছিল না। পারস্য, ভারত ও অন্যান্য দেশেও দাসদের অবস্থা এরূপই ছিল। সামান্য কিছু তারতম্য থাকলেও মোটামুটি সবদেশেই দাসদের জীবন ছিল মানবেতর। তাদের জীবনের কোন মূল্য ছিল না। কেউ তাদের হত্যা করলে তার কোন বিচার হবার ব্যবস্থা ছিল না।

ইসলাম যখন আবির্ভূত হয় তখন সারা দুনিয়ায় দাস জীবনের চিত্র ছিল এরূপ। ইসলাম এসেই দাস শ্রেণীকে মানবীয় মর্যাদা দান করে। ইসলাম দাসদের ব্যাপারে প্রভুদের সতর্ক করে দিয়ে বললো, তোমরা একই আদমের সন্তান। অতএব, তোমরা ভাই ভাই। ইসলাম মানুষের মর্যাদার মাপকাঠি করলো তাকওয়াকে। নিছক দাস হবার কারণে কেউ নিচু মর্যাদার ব্যক্তি হতে পারে না। ইসলাম মনিবদেরকে দাসদের সাথে সদ্ব্যবহার করতে নির্দেশ দিলো। ইসলাম শিক্ষা দিলো মুনিব ও দাসদের সম্পর্ক হবে আত্মীয়তা ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক। ইসলামে দাসদেরকে নিছক পণ্য সামগ্রী বলে বিবেচনা করা হয় না। বরং তাদেরকে মানবীয় মর্যাদায় ভূষিত করা হয়। ইসলামের এ নীতি বাস্তবায়িত হয়েছিল পুরোপুরি। এমনকি ইসলাম বিদ্বেষী ইউরোপীয় লেখকরাও স্বীকার করেছেন যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে দাস শ্রেণী যে উচ্চ মানবিক মর্যাদা লাভ করেছিল ইতিহাসে তার নজির পাওয়া যায় না। তখন দাসরা ছিল মনিবদের মতই মুক্ত ও ভয়শূন্য।

ইসলামে দাসদের আইনগত নিরাপত্তাও ছিল। কথা বা কাজে তাদের অধিকার হরণ করার অনুমতি ছিল না। কিন্তু তাই বলে একটি মাত্র ঘোষণার মাধ্যমে দাস প্রথা উচ্ছেদ করার কোন সুযোগ ছিল না। তবে দাসদের মুক্তির ব্যাপারে ইসলাম দুটি প্রধান ব্যবস্থা নেয়। যথা- মনিবদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুক্তিদানের ব্যবস্থা এবং মুক্তিপণের বিনিময়ে স্বাধীনতা প্রদান।

প্রথমতঃ মনিবদের বলা হলো, স্বেচ্ছায় দাসদের মুক্তি দিতে। ইসলাম এজন্যে মনিবদেরকে নানাভাবে অনুপ্রাণিত করে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং অনেক দাসকে মুক্তি দিয়েছেন। সাহাবায়ে কেরাম মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণে বহু দাস কিনে মুক্তি দেন।

ইসলাম কোন কোন গুনাহের কাফ্‌ফারা হিসেবে দাস মুক্তিদানের নির্দেশ দেয়। যেমন অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, শপথ, ইচ্ছাকৃত রোযা ভঙ্গ ইত্যাদি। এভাবে উৎসাহদানের কারণে এত বিপুলসংখ্যক দাস মুক্তি লাভ করেছিল যে, ইসলাম আসার আগে বা পরে এর কোন নজির পাওয়া যায়নি। একমাত্র মুসলমানরাই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিভিন্ন পন্থায় অসংখ্য দাসকে মুক্তি দিয়েছে।

দাসদের মুক্তিদানের দ্বিতীয় ব্যবস্থা হলো মুক্তিপণ বিনিময়। ক্রীতদাস যদি অর্থের বিনিময়ে মালিক থেকে মুক্তি প্রার্থনা করে তাহেল মালিক তা মেনে নিতে নীতিগতভাবে অস্বীকার করতে পারতো না। মালিক যদি অস্বীকার করতো তা হলে বিচারালয়ের মাধ্যমে দাস নিজ অধিকার আদায় করে নিতে পারতো। ইউরোপে এ ব্যবস্থা অনুমোদিত হয় সাতশ’ বছর পরে।

সরকারী তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে দাসমুক্তির ব্যবস্থা করা হয়। ইসলামের এদু’টি ব্যবস্থার কারণে দাস শ্রেণীর ইতিহাসে বিরাট বিপ্লব সাধিত হয়। মানব জাতির ইতিহাস এ দ্বারা সাতশ’ বছর এগিয়ে যায়। তবে একটি প্রশ্ন থেকে যায়। ইসলাম যখন দাসদের মুক্তির ব্যাপারে এতবড় পদক্ষেপ নিল, এমনকি বাইরের কোনরূপ সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ ছাড়াই অসংখ্য দাস মুক্তি পেয়ে গেল, তখন একই সঙ্গে দাস প্রথাকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি কেন? এরূপ করলে তা মানব জাতির চরম কল্যাণ সাধিত হতো। এ প্রশ্নের উত্তর খুব সোজা। তখনকার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্ড়্গৃতিক দিকগুলো খতিয়ে দেখলেই বিষয়টি পরিষ্ড়্গার হবে। ইসলাম দাসপ্রথা উচ্ছেদের সোজাসুজি নির্দেশ না দিয়ে বরং তা ক্রমবিলোপের ব্যবস্থা করে। ইসলামের এ ব্যবস্থা যদি পরবর্তীকালে অব্যাহতভাবে অনুসরণ করা হতো তাহলে অনতিকাল পরেই দাসপ্রথার বিলুপ্তি বাস্তবায়িত হতো।

কিন্তু ইসলাম যখন দুনিয়াতে আগমন করে, তখন দাস প্রথা ছিল গোটা দুনিয়ায় স্বীকৃত একটি রীতি। এ সময় কেউ তা বাধা দেবার বা পরিবর্তন করার কথা চিন্তা করতো না। তাই হঠাৎ করে এ প্রথা বিলোপের ঘোষণা দেয়া কোন প্রকারেই সম্্‌ভব ছিল না। ঠিক এমনই অবস্থা ছিল মাদকদ্রব্যের বেলায়। তৎকালীন আরব সমাজে তা এতই প্রচলিত ছিল যে, আকস্মিকভাবে তা নিষিদ্ধ করার কথা ঘোষণা করলে তা হতো বাস্তবতার খেলাপ। ইসলাম মানব প্রকৃতির কোন পরিবর্তন সাধন করতে চায়নি। বরং সেটিকে সংশোধিত করে উন্নততর করতে চেয়েছে। তাও সময় সুযোগ দিয়ে করতে চেয়েছে। কোনরূপ জোর জবরদস্তি করা ইসলামের পছন্দ নয়। বরং স্বাভাবিক দুর্বলতা কাটানোর সুযোগ দিয়ে মানুষকে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেয়ার সময় দেয়াই ইসলামের রীতি।

ইসলাম দাস শ্রেণীকে মুক্ত করেই ক্ষান্ত হয়নি। বরং তাদেরকে স্বাধীন মানুষের সমানই মর্যাদা দিয়েছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ ফুফাতো বোন যয়নব রা· কে বিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরই মুক্ত দাস সাহাবি জায়েদের সাথে। বেলাল রা· যিনি ছিলেন আবু বকর রা·- এর মুক্ত দাস। তাকে মুসলমানদের প্রথম মুয়াযি্‌যন নিযুক্ত করা হয়। ওমর রা· তাঁর নাম উচ্চারণ করার সময় বলতেন, মান্যবর বেলাল।

ইসলাম মানবজাতির জন্যে শান্তির পয়গাম। জীবনের সকল পর্যায়ে সকল শ্রেণীর জন্যেই শান্তির বার্তা শোনায় ইসলাম। ইতিহাসের এক পর্যায়ে যে দাস প্রথার উদ্‌ভব হয়েছিল ইসলাম তা বাস্তব উপায়ে বিলুপ্ত করার ব্যবস্থা নিয়েছিল। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানবজাতির মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই ইসলামের নীতি। ঘৃণিত দাস প্রথা বিলোপে এটিই মূলত কার্যকর ব্যবস্থা।

সূত্র:ইসলাম হাউস

সুস্থ থাকার ২০ সূত্র

সুস্থ থাকার ২০ সূত্র


একেবারে ফিট থাকতে গেলে কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। সুস্থ শরীর তার সঙ্গে শান্তিময় জীবন লাভ করতে কে না চায়। কিন্তু বিশৃঙ্খলার আড়ালে জীবনটাই এলোমেলো হয়ে যায়। থাকে না শান্তি, থাকে না স্ব্বস্তি। সুস্থ থাকার কিছু সূত্র আছে। সেগুলো কী তা জেনে নিই।

v প্রতিদিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে দুই অথবা তিন কি.মি. হাঁটুন। এরপর গোসল করে প্রার্থনা করুন। এতে মন এবং প্রাণ সতেজ থাকবে।

v সব সময় সোজা হয়ে বসুন।

v যখনই খাবার খাবেন তখন ভালো করে চিবিয়ে খাবার গ্রহণ করুন। এতে পাচন ক্রিয়া ঠিক থাকবে।

v মোটা হওয়ার প্রধান কারণ হলো তৈলাক্ত এবং মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া। তাই এ ধরনের খাবার খুব কম খান।

v সম্ভব হলে সপ্তাহে একদিন উপোস করে শরীরে খাবারের সমতা বজায় রাখুন।

v গাড়ি থাকলেও খুব বেশি গাড়ি চালাবেন না। বেশিরভাগ সময় হেঁটেই কাজ সারুন। এতে পায়ের মাংসপেশির ব্যায়াম হবে। আপনি দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে পারবেন।

v বেশি পরিমাণে সবুজ শাক-সবজি আর ফলমূল খান।

v ঘরের সব কাজ নিজেই করার চেষ্টা করুন।

v ব্যস্ত থাকাটা শরীর ও মন—দুয়ের পক্ষে ভালো। তাই কাজে যতটা সম্ভব ব্যস্ত থাকুন।

v আপনার রুচি ও ব্যক্তিত্ব অনুয়ায়ী পোশাক পরিধান করুন।

v শরীরের নিয়মিত যত্ন নিন। শরীরের সৌন্দর্য বজায় রাখুন।

v গরমের দিন রাতে শোয়ার আগে গোসল করুন, এতে ঘুম ভালো হবে।

v রাতে শোয়ার আগে ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। শরীরের প্রত্যেকটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রোম ছিদ্রের মধ্য দিয়ে শ্বসন প্রক্রিয়া চালায়। সে কারণে শোয়ার আগে ঢিলেঢালা পোশাক পরে ঘুমানো উচিত।

v চুলের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখুন। কারণ চুল হলো সৌন্দর্যের অঙ্গ। সম্ভব হলে সপ্তাহে একদিন হার্বাল শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধৌত করুন।

v প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট ধ্যান করুন। এতে মানসিক শান্তি পাবেন। তার ওপর মনের জোরও বাড়বে।

v ক্রোধ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলুন।

v কথার ওপর সংযম রাখুন। আপনার কথায় কেউ যেন মানসিক দুঃখ না পায়, সেটা মাথায় রেখে কথা বলুন।

v রাতে শোয়ার সময় মনে কোনো চিন্তা রাখবেন না। সুস্ব্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য গভীর ঘুম অত্যন্ত জরুরি।

v পেশাগত কোনো সমস্যা থাকলে সে সমস্যাকে না জিইয়ে রেখে তা মেটানোর চেষ্টা করুন।

%d bloggers like this: