সহিহ কোরআন শিক্ষা (কায়দা, আমপাড়া) ই-বুক

 

মহান রব্বুল আলামীন আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তার এবাদত বন্দেগীর উদ্দেশ্যে। সেই এবাদত হতে হবে বিশুদ্ধ । এবাদতকে শুদ্ধ করতে হলে শুদ্ধভাবে কোরআন পাঠ জানতে হবে। আমি যে বইটি আপনাদের সাথে শেয়ার করব সেটি পড়ে অবশ্যই আপনি আপনার কোরআন পাঠকে শুদ্ধতর করতে পারবেন।

 

বইটিতে আপনি কি কি বিষয় পাচ্ছেন।

০১। কুরআন শরীফ তিলাওয়াত- এর মর্যাদা, মাহাত্ম ও ফযীলত।

০২। হরফে তাহাজ্জী বা আরবী বর্ণমালা।

০৩। মাখরাজ শিক্ষাঃ ও মাখরাজ সমূহের বিবরণ।

০৫। কতিপয় হরফের উচ্চারণের পার্থক্য।

০৬। তাজভীদঃ

০৭। মুরাক্কাবঃ

০৮। হরকত এর পরিচয় ও ব্যবহার

 

 ডাউনলোড

সূত্র:নেট

 

পর্দা করা ফরজ

 

হিজাব হলো প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারীদের ঘরে কিংবা ঘরের বাইরে যেকোনো কারণে ১৪ জন মুহরিম ব্যক্তি ছাড়া অন্য যেকোনো পুরুষের সাথে কথা বলা, দেখা করা অথবা যেকোনো প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সম্পাদনের সময় ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী পোশাকে নিজেকে আবৃত করে রাখা। এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে­ ‘হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদিগের নারীগণকে বলেন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে; ফলে তাদেরকে উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সূরা আল আহজাব, আয়াত ৫৯)। ইসলামের আবির্ভাবের পর রাসূল সাঃ কর্তৃক মুসলিম পুরুষ ও নারীদের পোশাক-আশাকের ক্ষেত্রে এসেছিল সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা, যা আজো মুসলমান সমাজে প্রচলিত রয়েছে এবং থাকবে। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর প্রত্যেক জাতি ও দেশে এর প্রভাব ছড়িয়ে রয়েছে। আরবীয় মহিলাদের ছিল ফুলহাতা জামা, কোমর থেকে পা পর্যন্ত পাজামা কিংবা সায়ার মতো পোশাক, মাথার চুল ও বক্ষ আচ্ছাদনের জন্য অস্বচ্ছ কাপড়ের ওড়না আর পুরুষদের জন্য ছিল নিুাঙ্গে লুঙ্গি বা পাজামার মতো পোশাক, আর ঊর্ধ্বাঙ্গে ছিল পাঞ্জাবি, পিরহান বা কামিজ, মাথায় ছিল টুপি এবং তার ওপর পাগড়ি। স্ত্রী, পুরুষ উভয়েই পায়ে পরতেন চামড়ার মোজা, তার ওপর চামড়ার জুতা। এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নূর ও সূরা আল আহজাবের মধ্যে।

হিজাবের ব্যাপারে শুধু নারীদের জন্যই নয়, পুরুষদের জন্যও রয়েছে কঠোর নির্দেশনা। সুনির্দিষ্টভাবে মুসলিম সমাজে এক সময় বোরকার প্রচলন ছিল না। ঐতিহাসিকদের মতে, বোরকা পরার রেওয়াজ ছিল সিরিয়ার মেস্টারিয়াক খ্রিষ্টানদের মধ্যে। তা থেকে আব্বাসীয় খলিফাদের সময় এই প্রথার বিস্তার ঘটে মুসলিম সমাজে। ক্যাথলিক মেয়েদের এখনো গির্জায় ঢোকার সময় চোখের ওপর পর্যন্ত ঢেকে নিতে হয় জাল দিয়ে। এভাবে সব ধর্মের মানুষেরই পোশাক-আশাকের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকার কথা। হিজাব ব্যবহার করার জন্য মুসলিম নারীদের পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাই এটা তাদের জন্য ফরজ। এ ফরজ কাজটি করার জন্য কাউকে বাধ্য করা যাবে কি যাবে না, এ ব্যাপারে বিধিনিষেধ জারি করার ক্ষেত্রে পৃথিবীর কোনো আদালতের এখতিয়ার আছে কি না সেটাই আগে ভেবে দেখা দরকার। একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের একজন সুস্থ বিবেকবান নাগরিকের সে দেশের আইন ও আদালতের প্রতি আনুগত্য এবং শ্রদ্ধাশীল থাকার বিকল্প নেই। যেহেতু আমার প্রথম পরিচয় আমি একজন মুসলমান, সেহেতু আমি আমার মুসলমান সত্তাকে টিকিয়ে রাখতে পৃথিবীর অন্য কোনো কিছুর সাথে আপস কিংবা বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের বাজি ধরা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে একজন প্রকৃত মুসলমানের কাজ হলো­ আল্লাহর বিধান অনুসারে নামাজ পড়া, রোজা রাখা, জাকাত ও হজ আদায় করা (সামর্থøবানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)। হিন্দুরা তাদের ধর্মীয় বিধান অনুসারে পূজাপার্বণের অনুষ্ঠানগুলো পালন করবে। খ্রিষ্টানরা বড়দিনের অনুষ্ঠান আর বৌদ্ধরা মাঘী পূর্ণিমা পালন করবে তাদের ধর্মীয় রীতি-নীতি অনুসারে, এটাই স্বাভাবিক। ধর্মীয় এই অনুষ্ঠানগুলো পালনের ক্ষেত্রে কাউকে জোর করা যাবে কি যাবে না এ বিষয়ে আগবাড়িয়ে কোনো বিধিনিষেধ বা রুলনিশি জারি করা কতখানি যুক্তিসঙ্গত, এটাও ভেবে দেখতে হবে। কেউ নামাজ পড়বে কি পড়বে না, অথবা কেউ পূজা দেবে কি দেবে না এ বিষয়ে আদালত কী বললেন অথবা কী বললেন না তা যেকোনো ধর্মবিশ্বাসীর ভাবার বিষয় নয় বলেই দাবি করেন নানা ধর্মের ধর্মপ্রাণ মানুষ। কারণ ধর্মকে ঘিরেই আদালত পরিচালিত হতে পারে এবং বিশ্বের বহু দেশে পরিচালিত হচ্ছেও, কিন্তু আদালতকে ঘিরে ধর্ম পরিচালিত হওয়ার কোনো নজির কিংবা নিয়ম এখনো কোথাও দেখা যায়নি। এই স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে আদালত আর ধর্মীয় বিশ্বাসকে অহেতুক মুখোমুখি দাঁড় করানোর কোনো যুক্তি আছে বলে মনে হয় না। ঠিক হিজাবের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নেই। তাই যারা আদালতকে এই হীন কাজে ব্যবহার করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মাধ্যমে এ দেশের জনসাধারণের আশা-ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল আদালতের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করে আদালত ও মুসলমানদের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন, বিষয়টি তাদেরকেই ভেবে দেখতে হবে। কারণ মুসলমানরা যেমন অতিতেও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আইন-আদালত সর্বোপরি দেশের স্বার্থে নিজেদেরকে উৎসর্গ করতে কখনো পিছপা হয়নি। একইভাবে ধর্মীয় স্বার্থেও নিজেদেরকে উৎসর্গ করতে কখনো কুণ্ঠাবোধ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। এটা নীতিনির্ধারক মহলকে মনে রেখে দেশ পরিচালনা করতে হবে। অন্যথায় সরকার ও জনগণকে এই ভুলের মাশুল নানাভাবে দিতে হবে।

হিজাবের ব্যাপারে আদালত থেকে বিধিনিষেধ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র জারি হওয়ার পর থেকে আশঙ্কাজনকভাবে ইভটিজিং (যৌন সন্ত্রাস) বেড়ে গেছে। এর বিশ্লেষণও নানাভাবে করা যায়। প্রথমত, আল্লাহর দুনিয়ায় আল্লাহর আইনের বিরুদ্ধে দুনিয়ার আদালতের বিধিনিষেধের কারণে, এটা একটি আসমানী গজব হতে পারে। দ্বিতীয়ত, আদালতের রুলনিশি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিপত্র জারি করার কারণে মেয়েদের মধ্যে ধর্মীয় অনুশাসন হিজাব করা এখন অনেকটা মাই উইসব্যাপার হয়ে দাঁড়িছে। আর অভিভাবকদের মধ্যেও একটা হতাশা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ তারা এখন উভয় সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। এক দিকে ধর্মীয় অনুশাসন, অপর দিকে মানব রচিত আইনের শাসন। তারা এখন কোনটি পালন করবে? ধর্মীয় অনুশাসন না মানলে হবে আল্লাহ-দ্রোহিতা। এ অপরাধের দণ্ড দেবেন আল্লাহ নিজে। অন্য দিকে মানব রচিত আইনের শাসন না মানলে হবে আইন অমান্যকারী, এই অপরাধের জন্য হবে জেল-জরিমানা। যে কারণে অভিভাবকরা এখন অনেকটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় আছে। সেই সুযোগে এখন মেয়েরাও স্কুল, কলেজ, মার্কেট কিংবা রাস্তাঘাটে বের হচ্ছে নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো। এ যুগের মেয়েদের পোশাকের ধরন এখন এমন অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে যে, এর বিশ্লেষণ করতেও লজ্জাবোধ হয়। এমন পিনপিনে পাতলা কাপড় দিয়ে তারা পোশাক তৈরি করে, যা গায়ে পরা আর না পরার মধ্যে তেমন কোনো ব্যবধান লক্ষ করা যায় না। ওড়না তো পেঁয়াজের খোসার চেয়েও পাতলা হওয়ার ট্রেডিশন অনেক আগে থেকেই প্রচলিত হয়েছে। বুক ও পিঠের অনেকটা জায়গা খালি রেখে পোশাক পরে একটি মেয়ে রাস্তায় বের হলে ওই মেয়ের দিকে নজর দেবে না, এমন যুবক খুঁজে পাওয়া কি সম্ভব? এ অবস্থায় ইভটিজিং (যৌন সন্ত্রাস) বাড়তে থাকলে এটা কার দোষ? এক দিকে বলবেন মেয়েদের শালীন পোশাক পরাতে জোর করা যাবে না। আবার অন্য দিকে মেয়েদের অশালীন পোশাক গায়ে পরিয়ে রাস্তায় বের করে যুবসমাজের মধ্যে যৌন সুড়সুড়ি জাগিয়ে ইভটিজিং (যৌন সন্ত্রাস) উসকে দিয়ে আবার এটাকে থামাতে অহেতুক মায়াকান্নায় বুক ভাসাবেন, এটা কেমন কথা? এটা তো স্ববিরোধী কথা। ধর্মীয় অনুশাসন অর্থাৎ হিজাবই পারে এই সামাজিক অনাচার ইভটিজিংয়ের হাত থেকে জাতিকে উদ্ধার করতে। শুধু ইভটিজিং (যৌন সন্ত্রাস) কেন, ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমেই খুঁজতে হবে জীবনের সব অশান্তি ও অনাচারের হাত থেকে উদ্ধারের পথ। হিজাবের বিরুদ্ধে আদালতের বিধিনিষেধ আর শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিপত্র জারির বিষয়টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি সরকারের ভেতর থেকে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলেই অনেকে মনে করেন। কারণ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে এ দেশের মুসলমানদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছিলেন, তারা ক্ষমতায় গেলে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কোনো কাজ করবেন না। তাই সরকারের ভেতর থেকেই ষড়যন্ত্র হচ্ছে তাদেরকে বেকায়দায় ফেলার। তারই অংশ হিসেবে নানা অজুহাতে মুসলমানদের আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত হানার মাধ্যমে মুসলমান এবং বর্তমান মহাজোট সরকারকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। তাদেরকে মুসলমানদের কাছে ওয়াদা ভঙ্গকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই ষড়যন্ত্রকারীদের লক্ষ্য বলে অনেকে ধারণা করছেন।

এ দেশের মুসলমানদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও চাওয়া-পাওয়াকে পদদলিত করে কিংবা তাদের আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত হেনে আজ পর্যন্ত কোনো দল কখনো সরকার গঠন করতে পারেনি এবং কোনো সরকার টিকে থাকতেও পারেনি। এ কথা যদি কেউ ভুলে যায়, তাহলে তাদের জন্য অনুশোচনা ছাড়া আর কী-ই বা থাকতে পারে। তাই সরকারকেই ভাবতে হবে বর্তমানে মুসলমানদের ধর্মীয় বিষয়গুলো নিয়ে যারা অতি বাড়াবাড়ি করছেন তাদের আসল উদ্দেশ্য কী? এই কার্যক্রম কি মুসলমানদের বিরুদ্ধে, নাকি সরকারের বিরুদ্ধে।

গুগল থেকে এসএমএস পাঠান

 

আমরা এসএমএসের গুরুত্ব নিশ্চয়ই বুঝি, ই-মেইল কবে না কবে পড়বে, তবে জানবে খবর। প্রবাসী যাদের আপনার প্রায়ই প্রয়োজন হয় তাদের গুগল থেকে মেসেজ দিতে পারেন, তবে সমস্যা হলো প্রতিজনের জন্য আলাদা ই-মেইল অ্যাকাউন্ট লাগবে ও মেসেজ পাবে ১০-৩০ মিনিট পর, এবং বড় ঝামেলা হলো তার মোবাইল কোম্পানিটি গুগলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ কিনা। বাংলাদেশে মোবাইল অপারেটর ‘রবি’ এবং বাংলালিংক  এই সুবিধাটি দিচ্ছে, অন্য অপারেটরের কথা আমি জানি না । একটু কূটকৌশলে গুগলের ক্যালেন্ডার সার্ভসকে এই এসএমএসের বাহক তৈরি করে নিয়েছি আমি।

পদ্ধতি :

১. যাকে পাঠাতে চান তার মোবাইল নম্বরটা গুগলের ক্যালেন্ডার সার্ভিস সাপোর্ট করে কিনা, গুগলের ক্যালেন্ডার সেটিংস/হেল্প থেকে জেনে নিন।

২. তার নামে একটি neural network খুলুন, এর সঙ্গে সঙ্গে আপনি গুগলের ক্যালেন্ডার সার্ভিস পাবেন ফ্রি।

৩. ক্যালেন্ডার সেটিংস থেকে মোবাইলকে আইডেনটিফাই ও সার্ভিস অ্যাকটিভ করার জন্য একটি কোড আপনার কাঙ্ক্ষিত জনের কাছে যাবে, তাকে ই-মেইলে বা অন্য কোনো উপায়ে গুগল থেকে পাওয়া কোড নম্বরটি আপনাকে পাঠাতে বলুন এবং কোডটি পাওয়ার পর মোবাইল ভেরিফিকেশন সেকশনে নির্দিষ্ট ঘরটিতে নম্বরটি বসিয়ে সেভ করুন।

৪. ক্যালেন্ডারের রিমাইন্ডার দেয়ার সেটিংসগুলো ঠিক করুন, এখানে ৫ মিনিট আগে রিমাইন্ড দেয়ারও সুযোগ আছে, জরুরি হলে তাই সেট করুন। দিন তারিখ সময় ঠিক করে, মেসেজ অংশে আপনার বক্তব্য উল্লেখ করে সেভ করুন, ব্যস হয়ে গেল।

৫. পরে যখনই তাকে মেসেজ দেয়া প্রয়োজন হবে তার জন্য খোলা আপনার সেই জি-মেইল অ্যাকাউন্টে লগইন করে তার ক্যালেন্ডার সার্ভিসে চলে যান এবং মেসেজ পাঠাতে থাকুন।
একটু ঝামেলা থাকলেও ফ্রি এসএমএসের চার্জ/ফ্রি টাইম/ ক্রেডিট ইত্যাদির ঝামেলা নেই। যেহেতু রিমাইন্ডার সার্ভিস নিয়মিত কাউকে মেসেজ দিতে চাইলে এর বিকল্প নেই, এক মেসেজ সে যতবার খুশি পাঠাবে।

রোবট যেভাবে কাজ করে

 

রোবট কীভাবে কাজ করে, আমরা অনেকেই জানি না। আসুন জেনে নিই রোবটের কর্মপদ্ধতি। আপনি রোবটকে বললেন, যাও আমার জন্য এক গ্লাস পানি নিয়ে এসো। আর রোবটটি আপনার কথামত আপনাকে খাবার ঘর থেকে একটি গ্লাস নিয়ে সেই গ্লাসে জগ থেকে পানি ঢেলে আপনার শোয়ার ঘরে নিয়ে আসবে।

এই পানি আনার পদ্ধতিকে প্রযুক্তির ভাষায় বলা হয় algorithm. সোজা কথায় একটি কাজকে ভেঙে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা যা কিনা যন্ত্রের বুঝতে সুবিধা হয়, এটিকেই algorithm বলে। সাধারণত এই কাজটি কম্পিউটার নিজে নিজে করতে পারে না আর রোবট নিজে নিজে করতে পারে। কম্পিউটারের algorithm করে দেয় একজন প্রোগ্রামার। রোবটকে চালাতে কি তাহলে কোনো প্রোগ্রামের প্রয়োজন নেই? এ প্রশ্নের উত্তর হলো, অবশ্যই আছে এবং সেই প্রোগ্রামিংয়ের নাম n neural network. এই প্রোগ্রামিংয়ের বিশেষত্ব হলো, এর মাধ্যমে কোন যন্ত্রকে মানুষের মস্তিষ্কের মতো কাজ করানো হয়। যেমন ছোটকালে আমাদের চেনানো হতো বিভিন্ন আসবাবপত্র, বই, অক্ষর ইত্যাদি। neural network-এর মাধ্যমে রোবট কোনো চিত্রকে শনাক্ত করতে পারে এবং সেই অনুসারে কাজ করতে পারে। যারা যন্ত্রকৌশল বিভাগের ছাত্র তারা শেষ বর্ষে হয়তো রোবটিক্স সম্পর্কে জানতে পারবেন। আর যদি আপনি স্নাতক ডিগ্রি নিতে চান তাহলে neural network সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

 

সূত্র: পত্রিকা

সংযমী জীবন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

সিগারেট ও মদ ত্যাগ করে খাবার গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করলে মলাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি এক-চতুর্থাংশ কমে যায়। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য দেয়া হয়েছে। ডেনমার্কের গবেষকরা দেখেছেন­ পান, শারীরিক কসরত, কোমরের সঠিক মাপ, সিগারেট ও মদ্যপান কমানো এবং স্ব্যাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণের ফলে অন্ত্রে ক্যান্সারের ঝুঁকি ২৩ শতাংশ কমে যায়। ডেনিস ক্যান্সার সোসাইটির একটি শাখা গবেষণা পরিচালনা করে। সোসাইটির পক্ষ থেকে বলা হয়, জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন মলাশয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ মলাশয়ের ক্যান্সারে মারা যায়। এতে প্রতি বছর আক্রান্ত হয় প্রায় ১২ লাখ মানুষ।

হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সন্তান প্রার্থনা ও আমাদের শিক্ষা


বিবাহিত নর-নারীর জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া হচ্ছে সন্তান লাভ। সন্তান হচ্ছে মা-বাবার বড় সম্পদ। যে দম্পতির কোনো সন্তান নেই দুনিয়ায় তারা অতীব অসহায়। পবিত্র কোরআনে সন্তান সম্পর্কে বলা হয়েছে– ‘ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য।’ (সূরা আল কাহাফ : ৪৬)মানুষ ধনসম্পদ ও সন্তান লাভের আশায় কোনো পদ্ধতিই বাদ রাখে না। তাই কেউ কেউ মাঝেমধ্যে ভুল পথে হাঁটেন। হালাল উপায় বাদ দিয়ে ধরেন হারাম পথ। সন্তান লাভের আশায় মাজার, ফকির-দরবেশ, তাবিজ, বদতদবিরবাজের কাছে গিয়ে আকুতি মিনতি করে ও টাকাকড়ি নষ্ট করে। আমাদের সমাজের সন্তানবিহীন পিতামাতারা হজরত ইবরাহিমের (আ.) সন্তান লাভের কাহিনী থেকে শিক্ষা নিতে পারেন।

সন্তান লাভের জন্য ইবরাহিমের (আ.) দোয়া শতবছরের কাছাকাছি বয়সী বৃদ্ধ ইবরাহিম (আ.), কিন্তু আজও কোনো সন্তান নেই। তাঁর দাওয়াতি কাজ কে আঞ্জাম দেবে এ প্রশ্ন যখন বার বার মনের মধ্যে দোল খাচ্ছে, তখন ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করলেন : হে আল্লাহ আমাকে একজন সুসন্তান দান কর।’ (সূরা আস-সফ্ফাত : ১০০) ইবরাহিম (আ.) শুধু সন্তানই কামনা করেননি। তিনি আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেছেন : হে রব আমাকে নেক, উত্তম ও সত্ সন্তান দান কর। নবীরা সবাই আল্লাহর কাছে সুসন্তান কামনা করেছেন। কোরআনের কোনো আয়াতে এমন দেখা যায় না যে, তারা শুধু সন্তান কামনা করেছেন। হজরত জাকারিয়া (আ.) বৃদ্ধ বয়সে সুসন্তানের জন্য দোয়া করেছেন। হজরত যাকারিয়া (আ.) যখন মরিয়মকে (আ.) বায়তুল মোকাদ্দাসের বিশেষ একটি কামরায় লালন-পালন করার জন্য রেখে আসতেন, খাবার দিয়ে আসতেন এবং মাঝে মাঝে মরিয়মকে দেখতে যেতেন, সেখানে তিনি অনেক অমৌসুমী ফল দেখতে পেতেন। তিনি অবাক কণ্ঠে মরিয়মকে প্রশ্ন করতেন : হে মরিয়ম! বেমৌসুমী এই ফল তুমি কোথায় পেলে? মরিয়ম জওয়াব দিলেন :
এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অগণিত রিজিক দান করেন।একথা শুনে জাকারিয়ার (আ.) মনে এই ভাবনা উদয় হলো, যে আল্লাহ এক মৌসুমের ফল অন্য মৌসুমে দিতে পারেন সেই আল্লাহ আমাকে এই বার্ধক্য বয়সেও সন্তান দিতে পারেন। আমার এখন বাচ্চা হওয়ার মৌসুম নেই। কিন্তু আল্লাহ চাইলে তো আমাকে যখন তখন বাচ্চা দিতে পারেন। তখন তিনি মরিয়মের কক্ষে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করলেন :
হে আমার প্রভু, আমাকে সুসন্তান দান কর।’ (সূরা আল-ইমরান : ৩৮) উক্ত আয়াতে জাকারিয়া (আ.) নেক সন্তানের প্রার্থনা করেছেন। তিনি দুনিয়ার অন্য কিছুর কাছে সন্তান প্রার্থনা করেননি। সন্তান প্রার্থনা করেছেন একমাত্র বিশ্বজাহানের রব আল্লাহর কাছে। নবীদের সন্তান চাওয়ার ক্ষেত্র যেরকম ছিল সঠিক; তেমনি সন্তান চাওয়ার উদ্দেশ্যও ছিল সত্। তারা বদকার সন্তান কামনা করেননি; যারা দুনিয়ায় খুন-খারাবি করবে, হত্যা লুণ্ঠনে ব্যস্ত থাকবে; বরং তারা চেয়েছেন সুসন্তান, যারা দুনিয়ায় আল্লাহর বাণী প্রচার করবে। মানুষদের সত্ কাজের আদেশ দেবে, অসত্ কাজে বারণ করবে। আর তাই আল্লাহতায়ালাও তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রার্থনা কবুল করলেন। ইবরাহিমকে (আ.) খবর দিলেন, তুমি যেভাবে সুসন্তান চেয়েছ, আমিও তোমাকে সেভাবে উত্তম সন্তান দান করলাম :আমি ইবরাহিমকে সুসংবাদ দিলাম, অত্যন্ত ধৈর্যশীল, ভদ্র, গম্ভীর ও মর্যাদাবান সন্তানের।ইবরাহিম (আ.) বার্ধক্য বয়সে সুসন্তান পেয়ে আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া আদায় করলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি আল্লাহর পরীক্ষায় স্বীয় প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর ওয়াস্তে কোরবানি করে বিজয়ী হলেন।

আমাদের করণীয়

* আমাদের যাদের সন্তান নেই, তাদের সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। আল্লাহ চাইলে যেকোনো বয়সে সন্তান দিতে পারেন।

* শুধু সন্তান চাইলেই হবে না, আল্লাহর কাছে নেকসন্তান কামনা করতে হবে।

* সন্তান পাওয়ার আশায় কোনো মাজার, কবর, ফকির-দরবেশ, তাবিজ গ্রহণ কিংবা বদকারের কাছে যাওয়া যাবে না এবং অবৈধ উপায় গ্রহণ করা যাবে না।

* আল্লাহ সন্তান দান করলে শোকরিয়া আদায় করে সুন্দর নাম রাখতে হবে।

* সন্তানকে দ্বীন-ইসলাম শিক্ষা দিতে হবে।

* সন্তানকে তাবলিগে দ্বীনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

* মানবতা ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে সন্তানকে নিয়োজিত করতে হবে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে জীবন, কর্ম ও দাম্পত্যের প্রতিটি বাঁকে সঠিক পথ দান করুন।

সঠিক নিয়তে পুণ্য অনেক

আল্লাহ রহমান ও রাহীম। অতি দয়ালু, নেহায়েত মেহেরবান। তার দয়া ও রহমতের কোনো শেষ নেই। বান্দার কোনো কোনো ছোট আমলেও আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট হয়ে যান। এমনকি তার রহমতের সাগরে জোয়ার আসে। তিনি তখন বান্দাকে দিয়ে দেন অনেক পুরস্কার এবং উন্মুক্ত করে দেন তাঁর দানের ভা ার।

হাদিস শরীফে এমন অনেক আমলের বর্ণনা পাওয়া যায়, যা করতে সহজ, কিন্তু এর বিশাল প্রাপ্তি ও পুরস্কারের কথা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন। প্রেরণা যুগিয়েছেন এসব আমলের প্রতি যত্নবান হতে।

এসবের একটি হচ্ছে : বিশুদ্ধ নিয়ত

নিয়ত অর্থ সংকল্প। এটি মনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আমল। এতে নেই কোনো কষ্ট-ক্লেশ, নেই কোনো মেহনত-মুজাহাদা। প্রত্যেক কাজে, তা দ্বীনী কাজ হোক কিংবা দুনিয়াবী, শুরুতে নিয়তকে শুদ্ধ করা কর্তব্য। সব কাজ মাওলার সন্তুষ্টির জন্য করার সংকল্পই হচ্ছে বিশুদ্ধ নিয়ত। এই নিয়ত মুমিন বান্দার ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রায় সবৈধ কাজকেই নেকির কাজে পরিণত করতে পারে।

হাদিস : হজরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই সব আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে, যার নিয়ত সে করবে। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরত করবে তার হিজরত আল্লাহ ও তার রাসূলের জন্যই হবে। আর যে দুনিয়া লাভের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিয়ের উদ্দেশ্যে হিজরত করবে তার হিজরত ওই বিষয়ের জন্যই হবে, যার জন্য সে হিজরত করেছিল। (সহীহ বুখারি হাদিস ১; সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯০৭) ব্যাখ্যা : এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদিস। এখানে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই শিক্ষা দিয়েছেন যে, প্রত্যেক আমলের সওয়াবের জন্য নিয়ত জরুরি। শুধু আমল নয়; বরং প্রত্যেক মানুষকে তার নিয়তের উপরই প্রতিদান দেয়া হবে। বোঝানোর জন্য নবীজী হিজরতের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা বলেছেন। একজন মুহাজির তার হিজরতের পূর্ণ প্রতিদান পায়। পক্ষান্তরে অন্য ব্যক্তি বাহ্যত একই আমল করার পরও বঞ্চিত হয়। এর নিগূঢ় রহস্য মাত্র তিন অক্ষরের নিয়ত শব্দের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসূলের সাহায্যের নিয়তে হিজরত করবে তার হিজরত হবে মকবুল ও প্রতিদানযোগ্য। আর সে পাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অশেষ সওয়াব। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পার্থিব কোনো উপকার যেমন ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা প্রেয়সী নারীকে বিয়ে করার নিয়তে স্বজন ও স্বদেশ ত্যাগ করে বাহ্যত তা হিজরত হলেও তা হবে ব্যর্থ ও প্রতিদানের অযোগ্য। একই কষ্ট ও মুজাহাদা করার পরও মুহাজিরদের পুরস্কার থেকে সে হবে বঞ্চিত।
ফায়েদা : এই হাদিস থেকে নিয়তের গুরুত্ব ও ফজিলত জানা গেল। উত্তম নিয়তের কারণে মানুষ আমলের সওয়াব পাবে, পক্ষান্তরে নিয়তের ভ্রান্তি ও ভ্রষ্টতার কারণে সে হবে সওয়াব থেকে বঞ্চিত।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠ মনে শাহাদাতের প্রার্থনা করবে আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদা দান করবেন। যদিও সে স্বীয় বিছানায় মৃত্যুবরণ করে। (সহীহ মুসলিম, হাদিস ১৯০৯)আরেকটি হাদিসে তাবুক যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত সাহাবিদের উদ্দেশ করে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই মদিনায় এমন কিছু মানুষ রয়েছে, (তাবুক পর্যন্ত) প্রতিটি পথে প্রান্তরে; প্রতিটি টিলা-টক্করে যারা তোমাদের সঙ্গেই ছিল। তারাও তোমাদের মতো জিহাদের সওয়াব লাভ করবে। কারণ পূর্ণ নিয়ত থাকা সত্ত্বেও অসুস্থতা বা অন্য কোনো ওযর তাদের জিহাদে অংশগ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। (সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯১১)। এই উভয় হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, শুধু নিয়তের আমলটির কারণে যে কোনো মহত্ ও ফজিলতপূর্ণ আমলের সওয়াব তাদের মতোই পাওয়া যাবে যারা কষ্ট-সাধনার মাধ্যমে নিজেরা এই আমলগুলো সম্পাদন করেছেন। অথচ সে ব্যক্তি পূর্ণ ইখলাসের সঙ্গে ওই আমলের শুধু নিয়তই করেছিল। আর কিছুই করতে পারেনি। অতএব যে কোনো উত্তম ও কল্যাণমূলক কাজের জন্য ইখলাসের সঙ্গে বেশি বেশি নিয়ত করা উচিত। সঙ্গে সঙ্গে বেঁচে থাকা উচিত ভ্রষ্ট নিয়ত এবং ভ্রান্ত লক্ষ্য মনে পোষণ করা থেকেও।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন সবার আগে একজন শহীদকে ডাকা হবে এবং তার উপর আল্লাহর দেয়া নেয়ামতগুলো একে একে স্মরণ করানো হবে। অতঃপর জিজ্ঞাসা করা হবে, তুমি কি এসব নেয়ামত ভোগ করেছিলে? সে স্বীকার করে নেবে। বলবে, হ্যাঁ, এসব নেয়ামত আমি ভোগ করেছি। তখন আল্লাহ বলবেন, ওই সব নেয়ামতের শুকরিয়ায় তুমি কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি আপনার রাস্তায় লড়াই করে শাহাদাত বরণ করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ; তুমি তো এই জন্য লড়াই করেছ, যেন তোমাকে বীর উপাধি দেয়া হয়। তা তো দেয়া হয়েই গেছে। অতঃপর আল্লাহতাআলার নির্দেশে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
এরপর দ্বিতীয় ব্যক্তিকে আনা হবে, যে নিজে ইলম শিখেছে, কুরআন পড়েছে এবং অপরকে শিক্ষা দিয়েছে। তাকেও পূর্ববর্তী ব্যক্তির মতো আল্লাহতাআলার নেয়ামতগুলো স্মরণ করানো হবে এবং সে তা স্বীকার করে নেবে। আল্লাহতাআলা প্রশ্ন করবেন, এর প্রতিদানে তুমি কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি তোমার জন্য ইলম শিখেছি, কুরআন পড়েছি এবং অপরকে শিখিয়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ; বরং তুমি তো এজন্য ইলম শিখেছ যাতে লোকে তোমাকে আলেম বলে। তা তো বলা হয়েছে। অতঃপর তাকে আল্লাহর নির্দেশে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

তৃতীয় আরেক ব্যক্তিকে হাজিরা করা হবে যে ছিল বিত্তশালী যাকে আল্লাহতাআলা প্রচুর সম্পদ ও ঐশ্বর্য দান করেছিলেন। পূর্বোক্ত দুই ব্যক্তির মতো তাকেও আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে প্রশ্ন করা হবে যে, তুমি কী আমল করেছ? সে বলবে, মাওলা! ব্যয়ের জন্য তোমার পছন্দনীয় এমন কোনো খাত বাদ যায়নি, যে খাতে তোমারই সন্তুষ্টির জন্য আমি দান করিনি। আল্লাহতাআলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ। বরং তুমি তা করেছ শুধু এজন্যই, যাতে লোকেরা তোমাকে দানবীর উপাধি দেয়। তা তো দেয়া হয়েছে। অতঃপর আল্লাহর নির্দেশে তাকেও জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯০৫)এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, সত্ কাজ করার পরও শুধু নিয়ত বিশুদ্ধ না থাকায় কী নির্মম ও করুণ পরিণতি হতে পারে। বস্তুত সব কাজে নিয়ত বিশুদ্ধ রাখা জরুরি। ইখলাসের সঙ্গে কোনো সত্ কাজের জন্য পরিশুদ্ধ নিয়ত করলে কোনো কারণে এ কাজটি করতে না পারলেও শুধু নিয়তের কারণে ওই কাজের উপর আমল করার সওয়াব পাওয়া যাবে। আবার ভ্রষ্ট নিয়তের কারণে বড় ধরনের উত্তম ও নেক আমলেরও সামান্য মূল্য থাকবে না। আল্লাহতাআলা আমাদের সব নেক আমলের জন্য ইখলাসপূর্ণ ও বিশুদ্ধ নিয়তের তাওফিক দান করুন।

%d bloggers like this: